Feature Label Area

Sunday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (১৩ - ১৫)


১৩: 
প্যানারোমার সুউচ্চ আকাশের সীমানা হতে জিনা নেমে আসলো ভুমিতে কিশোরটির কাছে। 
কি নাম তোমার? জিনা প্রশ্ন করে। 
ওবিরিক! আমার নাম। কিশোর উত্তর দেয়। 
তুমি এখানে কি করে আসলে? জিনা জানতে চায়।
আমার বন্ধু মাইলেজকে খুজতে এখানে এসেছি কিছুক্ষন আগে। আমার কাছে তথ্য ছিলো সে এখানে আসবে। সে উত্তর দেয়। 
জিনা জানতে চায়, মাইলেজ! কে মাইলেজ? 
কিশোর জিনার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো, তুমি মাইলেজ। গতকাল জাগরনে তোমার সাথে পার্থিব বিশ্বে আমার কথা হয়েছিলো। তুমি বলেছিলে প্যানারোমার নীল বৃষ্টির মাঝে তোমাকে খুজে পাওয়া যাবে। মনে পড়ে? তুমি কি বলো নি মাইলেজ? 
কিছুটা আড়ষ্ট স্বরে জিনা বললো, হ্যা। বলেছিলাম। এখন মনে পড়েছে কিন্তু সে তো গতকাল নয় কিছুদিন আগে হবে হয়তো। 
ওবিরিক বললো, যাইহোক, তুমি তো আমার সেই বন্ধু। 
বেশ অবাক হলেও জিনা মনে মনে অনেক খুশিই হলো যে এই একাকী জীবনে বিশেষ করে প্যানারোমায় একজন বন্ধু পাওয়া গিয়েছে। কথা বলা ও সময় কাটানোর একজন সংগী পাওয়া গেল। 
প্রকৃতপক্ষে প্যানারোমার অতিপ্রাকৃতিক পরিবেশ এবং আঠারো হাজার জীববৈচিত্রের সম্মিলিত প্রয়াসে তারা ওবিরিককে সৃষ্টি করেছে তাদের সম্মিলিত মাইন্ড পাওয়ারের ক্রমাগত প্রচেষ্টায়। কারন মাইক্রোফরেস্টের সম্মিলিত অতি প্রাকৃতিক শক্তিরা জিনাকে এই ওবিরিকে উপহার দিয়েছে, প্যানারোমায় তাদের অথিতিকে। 
হায়, জিনা মাইলেজ!

প্যানারোমা তাদের অতিপ্রাকৃতিক শক্তি ও সম্মিলিত মাইন্ড ফোর্সের প্রচেষ্টায় ওবিরিককে সৃষ্টি করেছে শুন্য থেকে, তাদের মাইন্ড ও ন্যাচারাল পাওয়ার থেকে, যে বিশ্বাস করে সে অন্যসব স্বাপ্নিকদের মতোই সৃষ্টি এবং গতদিনেই সে জাগরনে মাইলেজকে বন্ধু হিসেবে পেয়েছে। 
ওবিরিক! এই সুবিশাল প্যানারোমায় অতি প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রেমময় সৃষ্টি মাইলেজের জন্য। 
মাইলেজ! জিনার নতুন নাম। প্যানারোমা তাকে এই নতুন নাম দিয়েছে। 
জিনার মস্তিস্কের ভেতরে নিউরনের গভীরে কেউ তাকে ডাকলো, মাইলেজ। 
নিঃশব্দে মাইলেজ উত্তর দেয়, কে কে? সে অবাক হয়। 
তার মস্তিস্কের ভেতরে উত্তর আসে, আমি প্যানারোমা মাইলেজ। ওবিরিককে ভালবেসো, তাকে দেখে রেখো। ওবিরিকের প্রাথমিক সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দায়িত্ব তোমার মাইলেজ। প্যানারোমায় তুমি অথিতি এবং প্যানারোমা তোমাদের প্রটেকশন দিবে এবং সব প্রয়োজন পুরন করবে। ওবিরিক তোমার ভালবাসা, তোমার জন্যই তাকে তৈরী করা হয়েছে। এতে আছে তোমাদের উভয়ের কল্যান এবং প্যানারোমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা। 

মাইলেজ তার হাত দুটি বাড়িয়ে দিলো ওবিরিকের দিকে। ওবিরিকের ঠোটে চুম্বন করে বললো, এসো আমার সাথে ওবিরিক। তোমাকে আমি ভালবাসা শেখাবো। তুমি কি জানো ভালোবাসা কি? 
প্যানারোমার আকাশে নক্ষত্রগুলির দিকে তাকিয়ে ওবিরিক ভাবতে থাকে এবং প্রশ্ন করে, ভালোবাসা! ভালোবাসা কি মাইলেজ?  

১৪: 
দায়েসগন! সুবিশাল বিস্তৃত প্যানারোমায় যাদের বসবাস। সভ্য ড্রিম ইউনিভার্সের স্বাপ্নিকরা কখনো দায়েসদের সম্পর্কে জানতে পারে নি, নামও শুনেনি। কিন্তু মাইলেজ আর ওবিরিক প্যানারোমায় এসে তাদের অস্তিত্ব খুজে পেল এবং কিছু দায়েসদের সাথে তাদের সাক্ষাত ও কথপোকথন হলো। দায়েসরা অদৃশ্য। তারা স্বেচ্ছায় দৃশ্যমান না হলে তাদের ধরা, ছোয়া কিংবা দেখা যায় না। প্যানারোমা হচ্ছে দায়েস জাতির আবাস ভুমি আর তাই হয়তো এখানে অন্যকোন সভ্যতা গড়ে ওঠে নি। দায়েসজাতির প্রধানকে বলা হয় এলডার। এলডার দায়েস। কিন্তু আদতে এলডার দায়েস বয়স্ক হতে হবে এমনটা নয়। তবে সাধারনত একজন এলডার দায়েস হতে হতে সে যথেষ্ট বয়স্ক হয়ে যায়। দায়েসদের মৃত্যু নেই। তারা অমর। দায়েসগন কখনো বৃদ্ধ হয় না! বয়সের ভারে ন্যুজ হয় না! দুঃখ-শোক কখনো তাদের স্পর্শ করে না! তারা সর্বত্র বিচরন করতে পারে! তারা তাদের ইচ্ছেমত সবকিছু করতে পারে প্যানারোমায়। প্যানারোমায় তারা সবকিছুর উপরে রাজত্ব করে! তারা চিরদিনই অমর হয়ে থাকবে! চির যৌবনা হয়ে থাকবে। পুর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিন, আসমান-জমিন সর্বক্ষেত্রে প্যানারোমা তাদের বিচরন! প্যানারোমা দায়েসদের আবাসভুমি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া মাইক্রো ফরস্টে মাইলেজ ও ওবিরিকের বসবাসউপযোগি একটি জাগরনের শহর নির্মান করে দিয়েছে ওরা। এই শহরের নাম দিয়েছে স্বপ্ন শহর। স্বপ্নের শহর। ড্রিম সিটি!  

১৫: 
দায়েসগন! ড্রিম ইউনিভার্সের সবচেয়ে আশ্চার্যতম ক্রিয়েশনের একটি। ওবিরিক ও মাইলেজের জীবনবৈচিত্র দায়েসদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। ওরা প্যানারোমাতে অন্যকারো উপস্থিতি কিংবা অস্তিত্ব বিশেষ করে এভাবে আশাই করে নি। কিন্তু দায়েসদের সাথে ওদের দেখা হয়েছে। তারপর অনেকদিন, অনেকবছর কেটে গিয়েছে কিন্তু দায়েসদের সাথে ওদের আর দেখা হয়নি কিন্তু ওরা আছে অদৃশ্য, ওদের সবকিছুর উপরে নিয়মিত দায়েসগন পর্যালোচনা করছে। এভাবে কেটে গিয়েছে বহুবছর। ওবিরিক এখন পরিপুর্ন যুবক। ড্রিমসিটি ভরপুর হয়ে আছে জাগরন সভ্যতার সব আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তিময় ছোয়ায়। বিশাল বিশাল ইমারত-অট্রালিকা আর নয়াভিরাম প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্য স্বপ্নের শহরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কিন্তু এই শহরের বাসিন্দা শুধু ওরা দুজন - ওবিরিক ও মাইলেজ। দায়েসদের সাথে ও আর সাক্ষাত হয়নি বিগত একহাজার বছরে কিন্তু দায়েসদের বার্তা ওরা গ্রহন করে থাকে। দায়েসদের সাথে কথা হয় প্রায়শই, মাঝে-মাঝে। 
ওবিরিক ও মাইলেজ হাতধরে হাটছে ক্রংক্রিটের রাস্তার উপর দিয়ে। রাস্তার দুপাশে ইট ও কাঠ দিয়ে দায়েসদের তৈরী করে দেওয়া ভাস্কর্যগুলি ওরা দেখছে। মাইলেজের স্তনদ্বয়ের উপরে এক টুকরো সাদা কাপড়ের ফালি আর কোমরের নিম্নাংশে লাল রংয়ের স্কাট এবং ওবিরিকের শরীরে চাপানো লম্বা একটি আলখাল্লা, কিং স্যুট!
এক টুকরো দমকা বাতাস ওদের শরীরের উপরে আছড়ে পড়লো। কিছুটা হিম, কিছুটা লুহাওয়া মাইলেজের উন্মুক্ত বুকে শিহরন জাগিয়ে তুললো আর ওবিরিকের পাতলা কাপড়ের আলখাল্লাকে দোলা দিয়ে গেল। সে বাতাস আবার ফিসফিস করে ওদের কানের কাছে ভাষার সঞ্চারন করলো। বাতাসের প্রবাহ ফিসফিস শব্দে অর্থবোধক ভাষার সৃষ্টি করলো যে ভাষা শুধু ওরাই বুঝতে পারে। 
ওবিরিক ও মাইলেজ। তোমরা কেমন আছো? 
সে বাতাসের প্রবাহ আর ফিসফিস শব্দ ওদের শিহরিত ও আবেগাপ্লুত করে তুললো। বাতাসের ভাষা তাদের বন্ধুত্বের কথা স্মরন করিয়ে দিলো দায়েসদের সাথে। 
হাই এলডার! ওদের মুখ থেকে অস্ফুত স্বরে বেরিয়ে এলো। আমরা খুশি হয়েছি। আমরা সুখি হাই এলডার। আপনাদের দেয়া বন্ধুত্বের এই উপহারের কোন বিনিময় আমরা দিতে অক্ষম কিন্তু আমাদের কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের সীমা নেই। 
বাতাসের প্রবাহ ফিসফিস হয়ে শো শো শব্দে ভাষার সঞ্চারন করলো; আজকে সন্ধ্যের পরে ডিন সমুদ্রের তীরে এসো। অনেক সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে তোমাদের সাথে আজ রাত্রি উপভোগ করবো। তোমাদের অনেক ভাল লাগবে। 
ওবিরিক বললো; ডিন সমুদ্র! সে তো অনেক দুরে! এটার কথা আমরা পড়েছি ড্রিম লাইব্রেরির বইগুলোতে। সেখানে আমরা কি করে যেতে পারি। আমাদের হালকা পালকের ডানা অতদুর আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারবে না, হাই এলডার! 
এলডার দায়েস বললেন; এলডার প্রাসাদের কর্মীরা এসে তোমাদের নিয়ে যাবে।

ডিন সমুদ্র! প্যানারোমার সবচেয়ে বড় এবং গভীর সমুদ্র। আজকে রাতে আর কোন বাতাসের সাথে ওবিরিক ও মাইলেজের কথপোকথন নয়। সরাসরি সাক্ষাত হবে ওদের দায়েসদের সাথে। বিশেষ করে এলডার দায়েস যাকে হাই এলডার সম্বোধন করা হয় তিনি নিজে দেখা দিবেন প্রায় একহাজার বছর পরে। আর প্যানারোমার সমস্ত দায়েসগন বাতাসের প্রবাহের মাঝে দেখতে পাবে ও শুনতে পাবে এলডার দায়েস এবং মাইলেজ ও ওবিরিকের সাক্ষাতকার। 

এ হাওয়া! এ বাতাস। সৃষ্টিত্বত্তের সবচেয়ে শক্তিশালী তিন প্রাকৃতিক সৃষ্টির একটি। 

আগুন! পানি! বাতাস। 

দায়েসগন এই বাতাসের দ্বারাই সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ধরা যায় না, ছোয়া যায় না। শুধু অনুভব করা যায়। 

এলডার দায়েস বললেন; তোমাদের একটি সুসংবাদ দিতে চাই ওবিরিক ও মাইলেজ। 
হাই এলডার! সমস্বরে ওরা উত্তর দিলো। 
এলডার বললেন; তোমাদের সাথে এই বন্ধুত্বকে আমি চিরস্থায়ী বন্ধনে আবদ্ধ করে দিতে চাই। 
অতঃপর তিনি বাতাসের মাঝে একজন কিশোর দায়েসের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে বললেন; সে এলডার দায়েস গোত্রের সন্তান। আর তোমাদের দুটো মেয়ে সন্তান হবে এবং তোমাদের কনিষ্ঠ মেয়ের সাথে দায়েস গোত্রের এই ছেলের বিয়ে হবে। এবং তারা নতুন একটি প্রজম্ন, নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতা গড়ে তুলবে। আর তোমাদের বড় মেয়ের মেয়ে সন্তানের জন্যও আছে আরো সুন্দর কিছু পরিকল্পনা। 
ওবিরিক ও মাইলেজ বললো; আমরা খুব আনন্দিত, মহামান্য এলডার! 


{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি। 
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe 
Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (১১ - ১২)


১১: 
স্বপ্নবিশ্বের অতি প্রাকৃতিক একটি মরভুমি যেখানে বনভুমির উপস্থিতিও আছে যার নাম প্যানারোমা। এই অঞ্চল জঙ্গল নয় তবে মরুভুমিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক পরিমান গাছপালা রয়েছে এবং কিছু দুরে দুরে মাইক্রো ফরেস্টের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। প্যানারোমার আয়তন প্রায় সমগ্র স্বপ্নবিশ্বের তিনভাগের দুই ভাগ। স্বাপ্নিকদের জীবনে প্যানারোমা অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। প্যানারোমাকে বাদ দিয়ে ড্রিম ইউনিভার্সের অস্তিত্ব নয়। প্রকৃতপক্ষে স্বপ্নবিশ্ব কতবড় সঠিক পরিসীমা অজানা তবে যতটুকু পর্যন্ত স্বাপ্নিকদের যাতায়াত এবং আবিস্কৃত সেই বিচারে প্যানারোমা এর তিনভাগের দুইভাগ জুড়ে আছে বলে এমনটাই মেনে নেওয়া হয়েছে। এখানে অবশ্য কোন সভ্যতার উপস্থিতি নেই তবে মাঝে মাঝে স্বাপ্নিকদের উপস্থিতি ঘটে থাকে। জিনা আগামী এক যুগ এখানে কাটাবে এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মেন্টাল ফোর্সের উপরে আরো চর্চা করা প্রয়োজন আর এজন্য এমন অতি প্রাকৃতিক পরিবেশ বেশ প্রয়োজনীয়। জিনা বুঝতে পারছে সাইকোহিস্ট্রির ইউনাইটেড স্টেটস কার্যক্রমের সাথে সাময়িকভাবে যুক্ত হয়ে সে শাররীক ও মানসিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। সাইকোহিস্ট্রি স্টেটস ফেডারেশন কেমন যেন সম্মোহনীয় আর শাররীক ও মানসিক সমস্ত ক্ষমতাকে নিস্তেজ করে দেয়। জিনা এর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার। কিন্তু সে একা কিভাবে প্যানারোমায়  থাকবে? 

১২: 
জিনা যখন প্যানারোমায় এসে পৌছুলো তখন প্রায় সন্ধ্যে ঘনিয়ে এসে আলো আধারির খেলা শুরু হয়েছে। প্যানারোমার কিছু অঞ্চলে অবশ্য মাত্র কয়েক ঘন্টা অন্ধকার বিরাজ করে। প্যানারোমায় প্রাকৃতিক আলোর উত্স সাতটি নক্ষত্র। দুটি নক্ষত্রের জম্ন হয়েছে কয়েক হাজার বছর আগে। দুটি নক্ষত্র মৃত প্রায় যা ব্লাকহোল তৈরী হবার পথে। আর তিনটি নক্ষত্র কমবেশী সমবয়সী এবং পরিপুর্ন সক্রিয় এবং একেবারে যুবক নক্ষত্র। জিনা একটি মাইক্রো ফরেস্ট বেছে নিলো যার চারপাশে বালু ও পাথরের মরুভুমি এবং কাছাকাছি কোন বনভুমি নেই। এই মাইকোফরেস্টের ভিতরে আছে একশত কিলোমিটার দৈঘ্যের একটি নদী ছোটবড় কিছু খাল ও চ্যানেল, ছোটবড় চল্লিশটি পাহাড়, জলপ্রপাত এবং বেশবড় একটি হ্রদ। প্যানারোমায় এসেই জিনা প্রথমে এই মাইক্রো ফরেস্টটির উপরে একটি সার্ভে করলো প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত। জিনা দেখলো এই মাইক্রোফরেস্ট আঠারো হাজার প্রজাতির জীববৈচিত্রের উপস্থিতি রয়েছে। শেষ রাত পর্যন্ত জিনা তার মেন্টাল ফোর্সকে প্রস্তুত করে নিলো কারন সকালের প্রথম প্রহরেই জিনা এই মাইক্রোফরেস্টের উপরে প্যানারোমায় তার প্রথম সাইকোহিস্ট্রিক্যাল এটার্ক করবে। খুব সকালে নক্ষত্রগুলি একে একে প্যানারোমার আকাশে বিভিন্ন অবস্থানে উঠে আসছিলো এবং একধরনের স্নিগ্ধ আলো ফুটে উঠছিলো। নিশাচর প্রানীরা ঢেরায় ফিরছিলো আর অন্য জেগে উঠছিলো। 
জিনা তার মাইন্ডের উপরে খুব জোর প্রয়োগ করলো। এটা সাইকোহিস্ট্রির ভিন্ন একটা কৌশল, এটা সে শিখেছে সাইকোহিস্ট্রি স্টেটস ফেডারেশনের লর্ড ডন আইজ্যাকের কাছে। জিনার মাইন্ড ফোর্স ঘনীভুত হয়ে স্থিতিস্থাপকের মতো পুরো মাইক্রোফরেস্টে ছড়িয়ে পড়লো, প্যানারোমার এই অংশের আকাশ ধুসর রংয়ে ঢেকে গেলো। বনভুমির সমস্ত জীবজন্তু ছোটাছুটি ও চিত্কার চেচামেছি শুরু করে দিলো। তারা কেউই মাইক্রো ফরেস্ট থেকে বের হতে পারলো না কারন চারপাশে ঘিরে রেখেছে জিনার মেন্টাল ফোর্স। মাইক্রোফরেস্টে তীব্রবেগে হাওয়া বইতে লাগলো এবং পাহাড়গুলি ফেটে গেলো এবং পানির ঝর্নাধারা বন্ধ হলো। পাহাড় ও মাটির গভীরের সমস্ত সুপ্ত আগ্নেয়গিরি একসাথে জেগে উঠলো আর মুহুর্তেই পুরো মাইক্রো ফরেস্ট দাবানল শুরু হয়ে গেলো। নদী, খাল, চ্যানেল, হ্রদ আর সমস্ত পানি শুকিয়ে গেলো। পাহাড়গুলি চুরমার হয়ে ভুমির সাথে মিশে গেলো। সন্ধ্যের কিছুক্ষন আগে ধ্বংস যজ্ঞ শেষ হলে। আর তখন আকাশ থেকে তীব্র বেগে বৃষ্টি নামতে শুরু করলো। জিনা দেখলো এই বৃষ্টির পানিগুলি নীল রংয়ের। নীল বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে জিনা মাইক্রো ফরেস্টের ধ্বংসস্তুপের মধ্যে দিয়ে উড়ে চললো। হঠাত করে জিনা দেখতে পেল নীচের বনভুতি একটি কিশোর দাড়িয়ে আছে। তার শরীর বৃষ্টির পানিতে ভিজছে আর সে যেন জিনাকে দেখতে পেয়ে সুউচ্চে দৃষ্টি আকর্ষন করতে চেষ্টা করছে। 

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি। 
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe 

Tuesday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব ১০


১০:
ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইনের ক্যাবিনেট হচ্ছে গ্রেট ওয়ার্ল্ড'এর আপার হাউজ। তাছাড়া কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার সেকেন্ডারী হাউজকে বলা হয় সেন্সর। ক্যাবিনেট এবং সেন্সর - এই দুইয়ে গ্রেট হাউজ। লেইন ফোর্থ নগরীর আট বর্গকিলোমিটার আয়তনে নির্মিত আটতলা বিশিষ্ট গ্রেট হাউজ। বলা হয়ে থাকে গ্রেট ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বড় অফিস হচ্ছে এই গ্রেট হাউজ যদিও আদতে এটা অফিস নয় বরঞ্চ অফিসের চেয়েও বড় কিছু ক্যাবিনেট ও সেন্সর। গ্রেট হাউজে নিয়মিত অফিস করেন ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন এবং তার হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভগন। ক্যাবিনেট কক্ষে একসাথে একহাজার ক্যাবিনেট মেম্বারসহ, অথিতি, সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অন্যান্যসহ একসাথে এর ধারন ক্ষমতা পাচহাজার। সেই সাথে এতে আছে অতি উন্নত বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং মেন্টাল ফোর্সের সুযোগ-সুবিধা।
ক্যাবিনেটের সবচেয়ে তরুন সদস্য রিলেম হার্টজ। গ্রেট কুইনের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রায় দুশো ক্যাবিনেট সদস্যরা এসেছেন, আরো এসেছেন সেন্সর মেম্বারগন ও অন্যান্য অতিথিবর্গ। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রিলেম হার্টজ ম্যাডাম লেডি গ্রেট কুইনের সামনে আসলো এবং একটি বই এনেছেন তিনি গ্রেট কুইনের জন্য।
রিলেম বললেন: ম্যাডাম লেডি, শুভ জন্মদিন। এই বইটা আপনার ভাল লাগবে আশা করছি।
গ্রেট কুইন বললেন: মাইবয়! আমার তরুন ক্যাবিনেট মেম্বার। কেমন আছো? তোমার সাথে এটা আমার দ্বিতীয় সাক্ষাত। অনেকদিন পার হয়ে গিয়েছে।
রিলেম বললেন: ইয়েস ম্যাডাম। দশ বছর। ক্যাবিনেট মেম্বার হিসেবে আমার অভিষেকের সময় আপনার সাথে সরাসরি এভাবে মুখোমুখি সাক্ষাত ও কথা হয়েছিলো।
গ্রেট কুইন বললেন: কিন্তু আমি ঠিকই তোমাকে মনে রেখেছি। তুমি খুশি হয়েছো নিশ্চয়।
রিলেম বললো: আমি খুব আনন্দিত।
গ্রেট কুইন বললেন: যাইহোক, আজকে কিছুক্ষন তোমার সাথে কথা বলা যাক। তোমার কথা শুনবো। বলো কাজকর্ম কেমন চলছে? যদিও প্রায়শই তোমার সংবাদ আমি খোজখবর নেই, আমার কাছে আসে।
রিলেম বললো: সমস্ত ক্যাবিনেট ও সেন্সর মেম্বারগন এমনকি গ্রেট হাউজের সমস্ত গ্রেট অফিসার ও কমিশনারদের নিজস্ব অফিস আছে কিন্তু আমি একজন ক্যাবিনেট মেম্বার হয়েও বিগত দশ বছরে এখনো নিজস্ব অফিস বরাদ্দ পাইনি। অথচ শত বছর ধরে হাউজের অনেক কক্ষ এখনো খালি পড়ে আছে।

পাশেই উপবিষ্ট ফার্স্ট মিনিস্টার মোজেজ ফোনার দিকে তাকালেন ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন: দশ বছর ধরে এটা কি ধরনের মজা হচ্ছে ফার্স্ট মিনিস্টার? তোমার কি গ্রেট ওয়ার্ল্ড হাউজে কাজ করবার ইচ্ছে আছে কিংবা নাই?
ফার্স্ট মিনিস্টার মোজেজ ফোনা বললেন: মাই লেডী, ইউর ভেনারেশন! মাফ করবেন। দশ বছর আগে এক ইনাগোরেশন অনুষ্ঠানে আপনী উনাকে মৌখিকভাবে ক্যাবিনেট মেম্বার হিসাবে অনুমোদন করেছিলেন তখন তার বয়স ছিলো মাত্র বিশ বছর আর তখন থেকে তিনি নিয়মিত ক্যাবিনেটের সমস্ত সেশনে অংশগ্রহন করে যাচ্ছেন। যদিও তাকে বাই পেপার্স কোন নিয়োগ দেয়া হয় নি কিংবা বেতন,ভাতা ও অন্যান্য বিলও ইস্যু করা হয় নি তবুও ক্যাবিনেটের বাজেটের ফাইভ পার্সেন্ট ওভারহেড থেকে তার বেতন, ভাতা, বিল ও অন্যান্যা পাওনা পরিশোধ করা হয়ে আসছে। যেহেতু তাকে অফিসিয়ালি কোন নিয়োগপত্র এখনো দেয়া হয়নি তাই অনেক সুবিধাই তাকে এখনো দেয়া হয়ে ওঠে নি।
গ্রেট কুইন বললেন: তাহলে ফার্স্ট মিনিস্টার, তুমি আমাকে বলো যে গ্রেট কুইনের মুখের কথা যদি প্রয়োগ করার মতো যথেষ্ট না হয়ে থাকে তাহলে তাকে কিভাবে বলতে হবে? কিংবা গ্রেট কুইনের কাছে যদি তার ক্যাবিনেট মেম্বার গুরুত্বপুর্ন ও প্রয়োজনীয় না হয় তবে সে আর কাকে নিয়ে কাজ করবে? বলো!
ফার্স্ট মিনিস্টার বললেন: ইউর লেডী, ক্যাবিনেট মেম্বারদের নিয়োগ পত্রে ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন স্বাক্ষর করেন।

গ্রেট কুইন বললেন: কিন্তু স্বাক্ষর করবার সেই পেপারটা কোথায়?
ফার্স্ট মিনিস্টার মোজেজ ফোনা তার স্যুটের ফাইল থেকে গ্রেট এমবেড সম্বলিত একটি পেপার বের করে গ্রেট কুইনের হাতে দিলেন।
ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন সেটাতে স্বাক্ষর করে দিলেন। বললেন: এটা তুমি দশবছর ধরে স্যুটের ভিতরে বয়ে বেড়াচ্ছো, এটাই বলবে তো? আমার পুর্বপুরুষদের ইতিহাস এবং আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে এসব কিন্তু শুভ লক্ষন নয় ফার্স্ট মিনিস্টার। গ্রেট ওয়ার্ল্ডের গায়ে কোন আচড় লাগলে তোমার ফার্স্ট মিনিস্টারশিপ থাকবে না, তোমার কোন পরিচয় খুজে পাওয়া যাবে না। অতীত থেকে শিক্ষা নিতে পারো না?
রিলেম হার্টজকে গ্রেট কুইন বললেন: ঠিক আছে তুমি যাও। আগামীকাল থেকে তোমার নিজস্ব অফিস কক্ষে তুমি বসতে পারবে, তোমার বাসা ও অন্যান্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আগামীকাল থেকেই নিশ্চিত করা হবে এবং আমি নিজেই সেটা নিশ্চিত করে তবেই সন্ধ্যের ক্যাবিনেট সেশনে যোগ দিবো এবং তোমাকে অফিসিয়ালী হাউজে পরিচয় করিয়ে দিতে বলবো এবং আমি এই বিষয়ে কথা বলবো। কারন একজন হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভের বিষয় আমার কাছে অনেক গুরুত্বপুর্ন।

প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত জন্মদিনের অনুষ্ঠান চললো। দুর-দুরান্ত থেকে আগত অসংখ্য অতিথিদের সাথে সাক্ষাত করলেন গ্রেট কুইন এবং অনেকের সাথে ব্যাক্তিগত ও প্রশাসনিক খোজ খবর নিলেন।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe
Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (৮ - ৯)


৮:
স্বপ্নবিশ্বে কিছু কিছু বিলিফের চর্চা করে থাকে স্বাপ্নিকরা এবং তার মধ্যে অধিক চর্চাকৃত একটি মতবাদ ও বিলিফ হচ্ছে চেঞ্জ বিলিফ। জীবনের কোন এক পর্যায়ে এসে স্বাপ্নিকরা নিজেদের পুর্ববর্তী জীবন এবং ধ্যান-ধারনার চেঞ্জ করে সম্পুর্ন নতুন একটি লাইফ স্টাইল গ্রহন করে থাকে। সাধারনত এডোলেসেন্ট কিংবা ইয়াং বয়সে এসে তারা চেঞ্জ হয়ে থাকে। সাধারন এই চেঞ্জ প্রক্রিয়া হয়ে থাকে অপরাধ জগতে প্রবেশ এবং সুনির্দিস্ট কিছু ক্রাইম করা এবং তার মধ্যদিয়ে প্রকৃতভাবে জীবনকে জানা। তারা সাধারন একাকী কিংবা দলবদ্ধভাবে কোন ক্রাইম যেমন কিলিং, ধর্ষন, রোবারি, কমিউনিটি কিংবা লার্জার সোসাইটি ব্লাকআউট এই জাতীয় ক্রাইমে অংশগ্রহন কর থাকে যেখানে ব্যাক্তিগতভাবে সবাই কোন না কোন পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে থাকে ও করতে হয় আর তবেই সে চেঞ্জ প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহন করে নিউ লাইফ স্টাইল গ্রহন করে নিজের নাম, পরিচয় কিংবা আইডেন্টিটির সাথে 'চেঞ্জড' শব্দটা বিলিফ অংশে লিখতে পারে যা তাকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, সরকারীভাবে রিকগনাইজড করে সমস্ত অধিকারগুলি নিশ্চিত করে। এই বিলিফের প্রতিটি স্বাপ্নিকদের চেঞ্জ হতে হয়। এটা তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপুর্ন একটি অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চর্চা ও সংস্কৃতি এবং বিলিফের অংশ। তোমার চেঞ্জ হবার সময় হয়েছে। তুমি কি চেঞ্জড? এমন বাক্য বহুল ব্যবহৃত এখানে। ইন্ট্রিগ্রেশন অফ লেভান্ত! ড্রিম ইউনিভার্সের একাধিক ওয়ার্ল্ড মিলে এই ইন্ট্রিগ্রেশন অফ লেভান্ত। এই সভ্যতাগুলি প্রায় পুরোটাই চেঞ্জ বিলিফের চর্চা করে থাকে। আর এখানেই এই বিলিফের আদি পটভুমি। মহান ওর্ক বাহাম এই চেঞ্জ বিলিফের প্রতিষ্ঠাতা। সারাজীবন অসংখ্য ক্রাইম করতে করতে অবশেষে মৃত্যুর কিছু যুগ আগে তিনি ক্রাইমকে একটি সভ্যতার চর্চা ও সংস্কৃতি এবং সর্বপরি একটি বিলিফের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে চেঞ্জ এর অবতারনা করেন। তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে হত্যা, একাধিক মেয়েদের ধর্ষন এবং আরো কিছু ক্রাইমের মধ্যদিয়ে চেঞ্ছড হয়ে জীবন গভীরভাবে জানতে পারেন এবং পুরোনো জীবন থেকে মুক্তি লাভ করে নতুন জীবনে প্রবেশ করে চেঞ্জ বিলিফ প্রতিষ্ঠা করেন। চেঞ্জ লাভের জন্য এই জাতীয় ক্রাইমগুলি খুব বেশী হয় না তবে এসব গ্রহন যোগ্য। আর সর্বপরি মুখের কথা কিংবা কোন কৌশল নয় বরঞ্ছ ইন্ট্রিগ্রেশন লেভান্তে চেঞ্জ এর জন্য সবাইকে প্রমান করে দেখাতে হয় যে সে চেঞ্জ হতে আগ্রহী এবং চেঞ্জড। এবং এজন্য অবশ্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে নিতে হয় কিংবা অনেকে হয়তো হঠাত করেই চেঞ্জ হয়ে যায়। কেউ হয়তো অন্য কারো চেঞ্জের ভাজে পড়ে যেতে চায় না কারন এটা অনেক যন্ত্রনা ও পীড়াদায়ক এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া আর সবাই এটা মেনে নিয়েছে এই শর্তে যে ড্রিম ইউনিভার্সে সেই লসটাকে দ্রুতই রিকভার করা হয়ে থাকে।

৯:
দ্যা ড্রিম ইউনিভার্সের অন্যতম সমৃদ্ধ একটি নগরী লেইন ফোর্থ হচ্ছে গ্রেট ওয়ার্ল্ড এর রাজধানী। স্বপ্ন বিশ্বের জিরো আওয়ার টাইম জোন এবং একান্ন ডিগ্রি উত্তর ও শুন্য ডিগ্রি পশ্চিম কোঅর্ডিনেটসে এই নগরীর অবস্থান। ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে অতি প্রাচীনকাল থেকেই গ্রেট ওয়ার্ল্ড একটি বিশ্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং লেইন ফোর্থ নগরী শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পুর্ব থেকেই সমৃদ্ধ ও উন্নত। এই ওয়ার্ল্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্বপ্নবিশ্বের অন্যান্য অংশের চেয়ে ভিন্নতর। ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন হচ্ছেন গ্রেট ওয়ার্ল্ডের শাসক। সেই সাথে ম্যাডাম কুইন গ্রেট ওয়ার্ল্ডের সাথে সমস্ত সহযোগী, অংশীদার এবং জোটভুক্ত বিশ্বসমুহের প্রতীকি প্রধান। যদিও বর্তমানে ভিন্নধারার ও উন্নত স্বাপ্নিক সভ্যতার রাজনৈতিক চর্চা ও ব্যবস্থা পুর্বের চেয়ে অনেক উন্নত আর অনেক সহনশীল কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ম্যাডাম কুইনের শাসনামলে তার রাজনৈতিক সীমানা পুর্বের ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে স্বপ্ন বিশ্বের অনেক দুরদুরান্তে ও অধিক সংখ্যক বিশ্বে প্রসারিত হয়েছে। তবে আনুপাতিক হারে পুর্বেকার শাসকদের মতো ম্যাডাম কুইন বিলাস বহুল ও অত্যাধিক জাকজমকপুর্ন জীবন যাপন করেন না। তবে তার আছে কমবেশী প্রায় একহাজার সদস্যের একটি ক্যাবিনেট যা তার ক্ষমতা ও রাজনীতির মুল সোর্স। ক্যাবিনেট সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা, বিজনেস সেক্টরের প্রতিনিধি, সামরিক ও বেসামরিক উপদেষ্টা, গোয়েন্দা ও আইন শৃংখলা বাহিনীর পরামর্শক, লেখক, কবি, গবেষক, সমাজসেবক, ইত্যাদি যাদের স্ব স্ব অঞ্চল, কর্মক্ষেত্র ও সেক্টরের উপরে আছে অনেক গভীর প্রভাব, দক্ষতা, নিঃস্বার্থ অবদান এবং অনেক কঠোর ও অনুগত নিয়ন্ত্রন। গ্রেট ওয়ার্ল্ডের অঞ্চলসমুহের শাসকদের আনুগত্য এবং প্রতিকী প্রধান বিশ্বসমুহের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। সবকিছু মিলিয়ে গ্রেট ওয়ার্ল্ডকে অনেক শক্তিশালী, ক্ষমতাবান, উন্নত সভ্যতা ও ন্যায় পরায়ন করে তুলেছে। ম্যাডাম গ্রেট কুইন ও তার গ্রেট ওয়ার্ল্ডকে যতটা শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান মনে হয় প্রকৃতপক্ষে তারা উভয়ই তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান।  অনেকে মনে করে থাকে গ্রেট ওয়ার্ল্ডের অতীতের মতো স্বর্নালী যুগ হয়তো এখন আর নেই কারন সময় ও সভ্যতা বদলে গিয়েছে। কিন্তু এই ধারনাটা ভুল। ম্যাডাম কুইনের ফার্স্ট মিনিস্টার অতীতের সোনালী যুগকে স্মরন করছিলেন। ম্যাডাম কুইন এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন; এই ক্ষমতা তো এমন কিছু নয় যে সবাই দেখতে পাবে আর বলবে এইতো গ্রেট ওয়ার্ল্ডের ক্ষমতা ও বদনান্যতা! বরঞ্চ এটা প্রকাশ পেয়ে থাকে কথায় নয় কিন্তু কাজে, সবার উন্নত জীবন যাত্রার মানদন্ডে, চিন্তা ও অনুভবে।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Wednesday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (৬ - ৭)


৬: 
সাইকোহিস্ট্রি স্টেটস ফেডারেশন এর সুনির্দিষ্ট কোন সদর দপ্তর নেই তবে স্টেটসটি একটি নেটওয়ার্ক হিসেবেও অসংখ্য প্রকল্প পরিচালনা করে থাকে যার ব্যুতপত্তি এবং বিস্তারের শিকড়টি অবস্থিত রাকা ডেভলপমেন্টে। রাকা থেকেই সাইকোহিস্ট্রির সমস্ত ঘটনা প্রবাহ, গবেষনা, স্টাডি এবং প্রকাশনা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে ড্রিম ইউনিভার্সের সমস্ত ওয়ার্ল্ডে। রাকা ডেভলপমেন্টকে বলা হয় রাকা ওয়ার্ল্ড। 
ওয়ার্ল্ড রাকা! এর যাত্রাই শুরু হয়েছিলো সাইকোহিস্ট্রির হাত ধরে। রাকার শুরুর পথটা কখনোই মসৃন ছিলো না। একটি নতুন অস্তিস্থ হিসেবে রাকাকে একটি রিপাবলিক হিসেবেও কেউ কখনো মেনে নেয় নি সমসাময়িক সময়ে। কিন্তু অনেক চড়াই-উতরাই, বাধা-বিপত্তি এবং অসংখ্য যুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে একপর্যায়ে রাকা নিজের অবস্থান এবং গ্রহনযোগ্যতা তৈরী করে নেয়। অতঃপর ধীরে ধীরে হাজার বছরের পরিক্রমায় রাকা একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম বিশ্ব রাকা ওয়ার্ল্ডে পরিনত হয়। যদিও সাইকোহিস্ট্রি এখনো ব্যবহারিক প্রয়োগের তেমন ফলপ্রস্যু কোন পর্যায়ে আসে নি তবুও এই বিজ্ঞান ও এই গনিতের ধারনা রাকা বিশ্বের স্বাপ্নিকদের মাঝে এতোটাই ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে আছে যার কারনে রাকা ওয়ার্ল্ডের সবাইই সাইকোহিস্ট্রিয়ান হিসেবে পরিচিত কারন রাকায় নাগরিক কিংবা সিটিজেন বলতে কোন টার্ম ব্যবহার হয় না কিন্তু সবাই সাইকোহিস্ট্রিয়ান। 

যাইহোক, রাকায় পৌছানো এবং ডন আইজ্যাকের সাক্ষাত লাভ করা জিনার জন্য সহজতর ছিলো না। কারন রিপাবলিক দ্যুমায় রাকার কোন দুতাবাস কিংবা কমিশন অফিস নেই। উপরন্তু রাকা বিশ্বে এন্ট্রিপাস একমাত্র সংশ্লিষ্ট রিপাবলিকগুলির রাকা দুতাবাস কিংবা কমিশন হাউজ কিংবা প্রতিনিধি থেকেই সরাসরি অনুমোদন করা হয়ে থাকে যে আগ্রহী স্বাপ্নিক যে রিপাবলিকের নাগরিক- সেখান থেকেই। যেহেতু রিপাবলিক দ্যুমায় রাকার অফিসিয়াল কার্যক্রম নেই তাই এটা জিনার পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে গিয়েছিলো রাকায় প্রবেশের এন্ট্রিপাস জোগাড় করতে। তখন সেলিব্রেটি জার্নাল অফিস থেকে জানানো হলে রিপাবলিক দ্যুমায় রাকা বিশ্বের তৈরী একটি মাইক্রোফুড প্রোডাক্টসের কিছু র'ম্যাটেরিয়ালস আমদানী করা হয়ে থাকে যার উতপাদন প্রক্রিয়া একমাত্র রাকাই জানে এবং এই মাইকক্রোফুড থেকে অর্জিত প্রতিটি অর্থ সাইকোহিস্ট্রি স্টেটস ফেডারেশনকে রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যায় করা হয় আর রাকা অনেক কঠোর, নিয়ন্ত্রিত এবং উতকৃষ্ট প্রক্রিয়ায় এর সর্বোচ্চ গুনগত মান বজায় রাখে। রাকা মাইক্রোফুডস নামে একটি কোম্পানীর এই প্রোডাক্টস্ সমস্ত ড্রিম ইউনিভার্সে রপ্তানী হয়ে থাকে। জিনা জানতে পারে রিপাবলিক দ্যুমায় রাকা মাইক্রোফুডসের ব্যুরো অফিস রাকা বিশ্বে প্রবেশের ছাড়পত্র দিতে পারে। জিনাকে প্রমান করতে হয়েছিলো সে সাইকোহিস্ট্রি স্কলার।

৭: 
ডন আইজ্যাক প্রকৃতপক্ষে সাইকোহিস্ট্রির কেউ ছিলেন না, তার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে ড্রিম এনভায়রনমেন্ট এন্ড ন্যাচারাল কেমিস্ট্রি এর উপরে কিন্তু তদসত্তেও তিনি সাইকোহিস্ট্রি স্টেটস ফেডারেশনের সদস্যই হননি বরঞ্চ এই ইউনাইটেড স্টেটসের প্রধান একজন লর্ড সাইকোহিস্ট্রিয়ান হতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও রাকা অনেক আগেই একটি বিশ্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরেও এর কোন রাজধানী তৈরী হয় নি। একটি বিরান অতি প্রাকৃতিক পরিবেশ স্থানকে টেরাফর্মিং করে তাকে স্বাপ্নিক সভ্যতার বসবাসের উপযোগি করে নতুন নগরী নির্মান ও রাজধানী তৈরীর প্রয়াসে একদল সাইকোহিস্ট্রিয়ান কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু পরিবেশ ও প্রাকৃতিক রসায়নে ডিগ্রিধারী ডন আইজ্যাক এর বিরোধিতা করে বসেন কারন ড্রিম ইউনিভার্স একটি অতি প্রাকূতিক বিশ্ব আর রাকা ওয়ার্ল্ড এর আলাদা নয়। কিন্তু পার্থিব বিশ্বের আদলে স্বপ্নবিশ্বে একটি নগরী নির্মানে প্রতিবাদ করে পুরো স্বপ্নবিশ্বে একটি আন্দোলন গড়ে তোলেন ডন আইজ্যাক। এভাবে তিনি সাইকোহিস্ট্রি স্টেটস ফেডারেশনের কাছে অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ন হয়ে ওঠেন। তাকে স্বপ্ন বিশ্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার চেয়ে তার মেধা, জ্ঞান, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতাকে সাইকোহিস্ট্রি ডেভলপমেন্টের জন্য চুয়াল্লিশতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে গ্রহন করে ইউনাইটেড স্টেটস। 
সাইকোহিস্ট্রি স্টেটস ফেডারেশনের রাজধানীর জন্য টেরাফর্মিং নগরী মার্শাল প্ল্যানের বিরুদ্ধে স্বপ্নবিশ্বজুড়ে ডন আইজ্যাক যে আন্দোলনটি গড়ে তুলেছিলেন তার নাম ছিলো আন্ডারওয়ার্ল্ড। আন্ডারওয়ার্ল্ড এতোই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলো যে সেটা সায়েন্টেফিক ও মেন্টাল ভাবে অতি শক্তিশালী রাকাওয়ার্ল্ডের অনেক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধী হয়ে ওঠে। তাই অবশেষে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে এক ঐতিহাসিক চুক্তি সাইকোহিস্ট্রি ফার্স্ট এগ্রিমেন্ট সমঝোতায় আবদ্ধ হয় রাকা ওয়ার্ল্ড। এই চুক্তিতে—  
১. উভয়পক্ষ থেকে টেরাফর্মিং সিটি ফর ক্যাপিটাল অফ রাকাওয়ার্ল্ড নির্মানে একমত হয় উভয়পক্ষ। 
২. পার্থিব বিশ্বের নগরীর আদলে টেরাফর্মিং ক্যাপিটাল সিটি নির্মানে অতিপ্রাকৃতিক পরিবেশের ডেভিয়েশন ও বিলুপ্তি ঠেকানো যাবে না তবে সর্বোচ্চ যতটুকু সম্ভব অতিপ্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখা হবে। 
এভাবে ধীরে ধীরে রাকাওয়ার্ল্ড এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড একে অপরের অতি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা এবং সহযোগী হয়ে ওঠে। দেখা যায়, মর্ডান রাকাওয়ার্ল্ড তৈরীতে যে সংখ্যক আধুনিক মহানায়ককে রাকা বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত করেছে তাদের অধিকাংশ আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন। কারন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সহযোগিতা ছাড়া আজকের সাইকোহিস্ট্রি স্টেটস ফেডারেশন এতো অধিক সফলতা লাভ করতে পারতো না। এই অবদান ডন আইজ্যাকের।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe 

Friday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (৪ - ৫)


৪: 
ডিভাইন এলায়েন্স ইনবিল্ট ড্রিম ইউনিভার্স! সংক্ষেপে দ্যা ড্রিম ইউনিভার্স। তবে গবেষক ও স্কলারদের কাছে এই পুর্নাঙ্গ নামের একটুখানি ডেভিয়েশন আছে, ডিভাইন এলায়েন্স ইমপ্লাইড ড্রিম ইউনিভার্স। অফিসিয়াল নাম, ডিভাইন এলায়েন্স অফ ড্রিম ইউনিভার্স। স্বপ্নবিশ্বের আকর্ষনীয় ও সমৃদ্ধ সাহিত্য এবং ইতিহাস কর্মগুলি থেকে তথ্য পাওয়া যায় যে অনেক অতীতে একদা স্বপ্ন ও পার্থিব একটি বিশ্বই ছিলো। ভিন্ন ভিন্ন কোন নাম এবং অবস্থান ছিলো না। যা ছিলো স্বপ্ন সেটাই পার্থিব এবং যা ছিলো পার্থিব সেটাই স্বপ্ন। মহাজ্ঞানী ইরশ প্রোর্ড ছিলেন অন্যতম ও সেরা গবেষক ও দার্শনিকদের একজন। ইরশ দীর্ঘদিন গবেষনা করে দুটি লেয়ারের অস্তিত্ব খুজে পেয়েছেন, তিনি তার নাম দেন স্বপ্ন ও পার্থিব এবং এসব নিয়ে বিস্তর গবেষনা ও লেখালেখি এবং ক্যাম্পেইন করে দ্বিজাতি ত্বত্ত নামে একটি থিওরির অবতারনা করেন। ফলশ্রুতিতে হাজার যুগের দীর্ঘ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় এই দুটি বিশ্ব পরস্পর থেকে সম্পুর্ন আলাদা হয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে চলে যায়। তবে একটি বিশ্ব যেন অপর বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে তিনি তেমন কিছু মেকানিজমেরও প্রস্তাবনা করে সেগুলিকে কার্যকরী করে তোলেন। আর সেসবের অন্যতম হচ্ছে অবসর, বিশ্রাম এবং জাগরন। স্বাপ্নিকরা অবসর কিংবা বিশ্রামকালীন সময়ে জাগরনের মাধ্যমে পার্থিব বিশ্ব ভ্রমন করে। 

জিনার উর্ধ্বতন এল আমিদ। জিনা তার সাথে কাজ করছে বেশ কয়েকমাস যাবত। জিনা তার কাছে জানতে চায় মনোজগত সম্পর্কে। হ্যা। এল আমিদ মনোজগতের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। 
আচ্ছা আমিদ, আপনী কি আমাকে বলতে পারবেন কিভাবে মনোজগতে পৌছানো যাবে। কোথায় গেলে আর কিভাবে খুজে পাওয়া যাবে মনোজগত? জিনা অনেক আগ্রহ নিয়ে জানতে চায় তার উর্ধ্বতন এল আমিদের কাছে। 
এল আমিদ উত্তর দেয়, মনোজগতের কথা আমিও জেনেছি। মনোজগত নিয়ে অনেক পড়া, শোনা ও গবেষনা করেছি। কিন্তু এই মনোজগত এভাবে কেউ খুজে পেতে পারে না মাই ডিয়ার। কিংবা আমি নির্দিষ্ট করে বলতেও পারবোনা যে ঠিক কোথায় আছে মনোজগত। তবে মনোজগত নামে আরো একটি বিশ্ব আছে। 
অবসর, বিশ্রাম কিংবা জাগরনের মাধ্যমে কি মনোজগতে যাওয়া যায় মাননীয় এল আমিদ? অনেক শ্রদ্ধার স্বরে প্রশ্ন করে জিনা যেন তাকে যেভাবেই হোক মনোজগতের সন্ধান পেতে হবে। কারন সে অজানা কারনে বিশ্বাস করেছে যে সেখানে হয়তো সে তার জাগরনের নায়ক রিলেমকে স্থায়ীভাবে খুজে পাবে। 
এল আমিদ বলেন, অবসর, বিশ্রাম ও জাগরন এসবতো পার্থিব বিশ্ব ভ্রমনের উপায়। তবে মনোজগতে যাবারও একটি উপায় কিংবা মেকানিজমও নিশ্চয়ই আছে। 
উর্ধ্বতন এল আমিদের চেম্বারে দীর্ঘ সময় কাটায় জিনা। তার আরো বিশ্বাস হয়েছে, এল আমিদ তাকে মনোজগতে পৌছাতে সঠিক গাইডলাইন এবং পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে পারবে। 

৫: 
এল আমিদ চেম্বারে কমিউনিকেশন অফিসার হিসেবে জিনা অফিসিয়ালী যোগ দিয়েছে পাঁচ মাস আগে। স্বপ্নবিশ্বের রিপাবলিক দ্যুমাতে সর্বক্ষেত্রে প্রফেশনের কিছু স্থর আছে। জিনা একজন অফিসার, এল আমিদ হচ্ছেন ডিরেক্টর, তাছাড়া চেম্বারের একজন চেয়ারপার্সন আছেন এবং আরো আছে একাধিক এডভাইজার। জিনার সাথে এল আমিদ পরামর্শ করে চেম্বার ডেভলপমেন্টের বিষয়ে। তিনি ভাবছেন একজন কনসালটেন্ট এবং একজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে। এল আমিদ বলেন, তোমরা যারা প্রফেশনে নতুন যোগ দিয়েছো তাদের ভালভাবে কর্মক্ষেত্রগুলি বুঝতে হবে এবং পরিস্কার ধারনা থাকতে হবে আর এটা হচ্ছে একজন ভাল প্রফেশনাল হয়ে উঠবার প্রাথমিক ধাপ। 
এল আমিদ বললেন, শোনো মেয়ে, তোমার মতো নিউএন্ট্রি একজন অফিসারও এডভাইজার কিংবা কনসালটেন্ট হিসাবে কাজ করতে পারে তবে সেজন্য পার্টিক্যুলারলি বিষয় ভিত্তিক যথেষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হয়। এডমিন্সিট্রেটিভ, সেক্রেটারিয়েট কিংবা প্রকল্প ভিত্তিক কাজগুলিতে একজন কমিউনিকেশন অফিসারের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। কোঅর্ডিনেশনের ক্ষেত্রে একজন কমিউনিকেশন অফিসার অনেক সফল ও ফলপ্রসু ভুমিকা রাখতে পারে। ড্রিম ইউনিভার্সে যারা মনোঐতিহাসিক সেক্টরে কাজ করে থাকে তাদের একটা ইউনাইটেড স্টেটেস আছে সাইকোহিস্ট্রি স্টেটেস ফেডারেশন। এল আমিদ চেম্বার সাইকোহিস্ট্রি নিয়ে কোন কাজ করে নি তবে তুমি চাইলে আমরা একজন সাইকোহিস্ট্রিয়ানকে এডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ঐ জাতীয় প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তাদের ইউনাইটেড স্টেটেসটির সদস্য হতে পারি। 
জিনা প্রশ্ন করে সাইকোহিস্ট্রি কি মনোজগতের কোন অংশ? 
এল আমিদ বললেন, না, তবে এর মাধ্যমে তুমি হয়তো মনোজগতকে আরো ভালভাবে বুঝতে পারবে। যেমন ধরো গনিতের এমন কিছু শাখা কিংবা এমন কিছু গনিত আছে যার কর্মক্ষেত্রে কোন প্রয়োগ নেই কিন্তু ঐসব গনিত স্টাডি অন্য আরো কিছুকে বুঝতে ও গভীরে দৃষ্টিপাতে সহায়তা করে। সাইকোহিস্ট্রি হচ্ছে তেমন একটি মাধ্যম, প্রকল্প এবং ধারনা যা স্বপ্নবিশ্বকে আরো ভালভাবে বুঝতে ও পরিচালনা করতে সহায়তা করতে পারে। 

ডন আইজ্যাক! সাইকোহিস্ট্রিয়ান। সাইকোহিস্ট্রি স্টেটেস ফেডারেশনের লর্ড সাইকোহিস্ট্রিয়ান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন অনেক বছর যাবত। কমিউনিকেশন চেয়ারপার্সন হিসেবে তিনি স্টেটেসে প্রথম যোগ দিয়েছিলেন। এল আমিদ চেম্বার কোন সাইকোহিস্ট্রি প্রকল্পে যোগ দেয় নি তবে জিনার সাক্ষাত হয় সাইকোহিস্ট্রি স্টেটেস ফেডারেশনের লর্ডের সাথে। সেলিব্রেটি জার্নাল এর সাংবাদিক হিসেবে জিনা সাক্ষাত করে ডন আইজ্যাকের সাথে। 

জিনা ক্ষুদে একটি সাক্ষাতকার নিতে সক্ষম হয়। তার কিছু গুরুত্বপুর্ন তথ্য এমন:-  
প্রশ্ন: সেলিব্রেটি জার্নালের কাছে তথ্য আছে যে সাইকোহিস্ট্রি একটি নিষিদ্ধ বিজ্ঞান? 
উত্তর: সাইকোহিস্ট্রি গনিতের একটি বিশেষ শাখা এবং সাইকোহিস্ট্রি নিজেই একটি বিজ্ঞান। সাইকোহিস্ট্রিকে বলা হয় এঞ্জেলিক সায়েন্স এবং এটা অনেক উচ্চমাত্রার একটি বিজ্ঞান যা এখনো সাধারন স্বাপ্নিকদের মাঝে পৌছায় নি। 
প্রশ্ন: তাহলে কেন আপনারা সাইকোহিস্ট্রিকে সাধারনদের জন্য উন্মুক্ত করছেন না? 
উত্তর: শুধু ড্রিম ইউনিভার্সের সাধারনদের মধ্যে নয় স্টেটেস চায় সাইকোহিস্ট্রিকে স্বপ্নবিশ্ব থেকে পার্থিব বিশ্বে নিয়ে যেতে, কমনওয়েলথে, এম্পায়ারে, কোহেকাফ নগরে এবং সর্বত্র। কিন্তু এই বিজ্ঞান এখনো ম্যাসিভ লেভেলে প্রবেশ করা কিংবা বোধগম্যের অবস্থায় পৌছায় নি। 
প্রশ্ন: তবে আপনাদের স্টেটেস কেন সাইকোহিস্ট্রিকে সবার বোধগম্য করে দিচ্ছে না? 
উত্তর: আমরা চেষ্টা করছি গতানুগতি গনিতের শাখাগুলির মধ্যদিয়ে সাইকোহিস্ট্রিকে প্রকাশ করবার যেন সবাই বুঝতে পারে। এবং সাইকোহিস্ট্রি সায়েন্সকে ক্লাসিক কিংবা কোয়ান্টাম পর্যায়ে নিয়ে আসতে যেন সবার কাছে বোধগম্য হয়ে ওঠে এবং তখন আমরা সাইকোহিস্ট্রিকে ড্রিম ইউনিভার্স থেকে অন্যসব ইউনিভার্সে প্রেরন করতে পারবো। 
প্রশ্ন: কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না আপনী কেন বারবার সাইকোহিস্ট্রিকে অন্যান্য বিশ্বে প্রেরনের কথা বলছেন এবং অগ্রারিকারমুলকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন? 
উত্তর: কারন সাইকোহিস্ট্রি যখন অধিক সংখ্যক বিশ্বে ও সাধারনদের কাছে পৌছাবে তখন এটা নিয়ে স্টাডি ও গবেষনা এবং প্রকাশনার পরিমানও বাড়বে আর এভাবে আরো সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে সাইকোহিস্ট্রি। 
প্রশ্ন: কিন্তু স্টেটেসের যেসব প্রকাশনা আছে তাতে শুধু আপনাদের গুনগান আর গল্প-ইতিহাসে ভরপুর কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যেটা নিয়ে এতো আয়োজন এতো বড় ইউনাইটেড স্টেটেস -  সাইকোহিস্ট্রি স্টেটেস ফেডারেশন, সেই সাইকোহিস্ট্রি গনিত কিংবা বিজ্ঞানের কোন তথ্য কিংবা গনিত নেই! কেন? 
উত্তর: সাইকোহিস্ট্রি এখনো এমন পর্যায়ে পৌছায়নি যা কিছু সাধারনের বোধগম্য হতে পারে। সাইকোহিস্ট্রি ধারনা যতটুকুই বিস্তার লাভ করেছে তা শুধু স্বপ্নবিশ্বেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এখনো। 

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe 

Tuesday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (১ - ৩)

অনেক অতীত অতীত জগতের কথা। আমার পুর্বে অন্তত দশ লক্ষ পুর্বপুরুষ আগের ইতিহাস! যখন জাগতিক মহাবিশ্বগুলিতে হিউম্যান, জাইন এবং রোবট নামে তিনটি আল্ট্রাসুপার সেন্টিয়েন্ট সম্প্রদায় রাজত্ব করে আসছিল। বিজ্ঞান প্রযুক্তি, সর্ব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ক্ষমতার শীর্ষে পৌছে গিয়েছিলো তারা। এই ইতিহাস ভিত্তিক সিরিজে তিনটি আল্ট্রাসুপার সেন্টিয়েন্ট ছাড়াও আরো বেশ কিছু সেন্টিয়েন্ট সম্প্রদায় নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু এই কোহেকাফ নগর মুলত একটি ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ (দ্যা সিরিজ – DA Series) নামে পরিচিত যা মুলত জাইন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস এর গল্প মহাকাব্যিক ধাঁচে বর্ননা করা হয়েছে। কোহেকাফ নগর বা অডাসিটি (AudaCity) হচ্ছে জাইন সম্প্রদায়ের হার্ট- কেন্দ্রবিন্দু – তাদের মাদার ইউনিভার্স। এই কোহেকাফ নগর থেকেই জাইন জাতি সমস্ত মহাবিশ্বগুলিতে বিস্তার লাভ করেছিলো। এই সিরিজটি শুরু হয়েছে মানুষ সম্প্রদায় মহাবিশ্বের একটি এম্পায়ারের কিছু বর্ননা দিয়ে এবং ধীরে ধীরে সিরিজটি কোহেকাফ নগরের মধ্যে যাত্রা করে। মহাবিশ্বের সাহিত্য জগতের ইতিহাসে এ যাবতকাল পর্যন্ত যতগুলি সিরিজ, গল্প, উপন্যাস, মহাকাব্য এবং গবেষনা ইতিহাস লেখা হয়েছে তার মধ্যে এই কোহেকাফ নগর নামের ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজটি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত সাহিত্য ধারার মধ্যে ব্যতিক্রম। যাইহোক, দেখা গেল বিজ্ঞান প্রযুক্তি, সর্ব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ক্ষমতার শীর্ষ বলতে কিছু কিছু নেই। এটা একটা চলমান এবং ক্রমান্নোত উন্নতির একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আর তাই আমরা এখনো ক্রমাগত ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি এবং দিনদিন উন্নত থেকে উন্নতর হচ্ছি। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়, কোথায় আমাদের শেষ যাত্রা, কোথায় আমাদের থামতে হবে।।” -মিলিয়ান ইয়াম; অডিটরিয়াল এজেন্ট, বিজ্ঞানী, গবেষক, ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং চিফ রাইটার।


১:
এই বিশ্বটাকে বলা হয় স্বপ্নবিশ্ব। ড্রিম ইউনিভার্স। স্বপ্ন বিশ্বের বাসিন্দাদের বলা হয় স্বাপ্নিক। এই গল্পের নায়িকা জিনা এবং নায়ক রিলেম। সংক্ষেপে তারা জি কিংবা জি জি এবং রি কিংবা রি রি নামে পরিচিত। স্বাপ্নিকরা যখন তাদের ব্যস্ততা ছেড়ে বিশ্রামে যায় তখন তারা প্রতিনিয়ত পার্থিব বিশ্ব ভ্রমন করে। এই প্রক্রিয়াকে তারা জাগরন বলে থাকে। স্বপ্ন জগতে মহাশুন্যে উড়তে উড়তে তার মনটা খুব বিষন্ন হয়ে যায়। তার চোখ থেকে টপটপ করে কয়েক ফোটা অশ্রু ঝরে পড়ে নীচের বনভুমিতে। জিনা ভাবতে থাকে পার্থিব জগত কতই না সুন্দর! পার্থিব বিশ্বে সবার নির্দিষ্ট ঠিকানা আছে, সবার সুসংগঠিত পরিবার আছে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু এখানে - স্বপ্ন জগতে সবাই কেমন বিচ্ছিন্ন। এখানে চাইলেই মনের ইচ্ছা পুরন করা যায় না। কাউকে সে ভালবাসলে তাকে খুজে পায় না। সে খুব একা একা সময়গুলিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তার মন প্রান বেদনায় ভরে ওঠে। সে যখন বিশ্রাম করে তখন প্রতিনিয়ত সে পার্থিব জগতে চলে আসে। আহ! কত সুন্দর আর উপভোগ্য, আনন্দঘন এই বিশ্ব! পার্থিব জগত যদি সত্যি হয়ে স্বপ্নে চলে আসতো! সে প্রতিনিয়ত প্রত্যাশা করে। সে একদা তার এক শিক্ষককে জিজ্ঞেস করে; স্বাপ্নিকরা মারা গেলে কি হয়? শিক্ষক বলেন; তখন সবাই মনোজগতে চলে যায়, কল্পনা ও স্মৃতির জগত। জিজি অবাক হয়ে যায়, মনোজগত-কল্পনা ও স্মৃতির জগত!

২:
সীমাহীন পরিব্যাপ্তির এই ড্রিম ইউনিভার্স। এর সীমা-পরিসীমা যে কত বিশাল প্রকৃতপক্ষে আজ পর্যন্ত কেউ সেটা বের করতে পারে নি। এবং যতদুর পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সংযোজিত হয়েছে, সবখানেই কমবেশী স্বাপ্নিক সিভিলাইজেশনের উপস্থিতি কিংবা যাতায়াত আছে। এই বিশ্বের একটি স্বাপ্নিক সভ্যতা- রিপাবলিক দ্যুমা। এখানেই জম্ন ও বেড়ে ওঠা জিনার। রিপাবলিকের শাসন ব্যবস্থা থিফ সরকার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত। 'থিফিং' হচ্ছে রিপাবলিকের সম্মানিত ও ক্ষমতাসম্পন্ন পেশাগুলির অন্যতম। অন্যদিকে 'টিচিং' হচ্ছে নিকৃষ্ট ও অবহেলিত পেশাগুলির একটি। রিপাবলিকের প্রতিটি টিচারদের জীবনযাত্রা অতিশয় প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত কারন স্বাপ্নিকরা এই টিচিং পেশাগুলি সাধারন ঘৃনা করে থাকে তবে অনেকে অবশ্য তাদের অধিকার ও উন্নত জীবন যাত্রার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করে থাকে। জিনা হচ্ছে এমন একজন টিচার রাইটস একটিভিস্ট। একটি স্বাপ্নিকের জম্নের পরে তার শৈশবকাল থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এক বা একাধিক টিচারের প্রয়োজন হয়। টিচাররা স্বাপ্নিকদের মাইন্ড থেকে মেথরিং পদ্ধতিতে সমস্ত ময়লা, আবর্জনা ও দুর্গন্ধ পরিস্কার করে থাকেন। এই টিচার কিংবা শিক্ষকদের পরিচ্ছনতা কর্মী বলেও তাদের কিছুটা পুথিগতভাবে সম্মানিত করা হয়ে থাকে। রিপাবলিক শাসন ব্যবস্থার প্রধান হচ্ছেন ফাস্ট থিফ।

৩:
রিলেম! জিনার নায়ক। স্বপ্নবিশ্বে এখনো তাদের সরাসরি সাক্ষাত হয় নি। তবে জাগরনের পার্থিব জগতে প্রায়শই তার সাথে দেখা হয় জিনার। তারা একসাথে আড্ডা দেয়, ঘুরে বেড়ায়, হাত ধরে হাটে, লং ড্রাইভে যায় তাদের গাড়িতে চড়ে। কখনো কখনো লিভ টুগেদার করে অলস আর জ্যাম ধরা দিনগুলিকে প্রানচাঞ্চল্য করে তোলে। কিন্তু স্বপ্ন বিশ্বে ওরা এখনো কেউ কাউকে চেনে না। জিনা আর রিলেম অপরিচিত দুটি চরিত্র। রিলেম কাজ করে ব্যানসন নামে রিপাবলিকের সুখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানে। এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রকার আর্থ সামাজিক ব্যবসার পাশাপাশি পেডি ক্রপস নিয়ে গবেষনে এবং এন্টি রাইস প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করে থাকে। ব্যানসন গবেষনা করে দেখেছে যে ধান থেকে যে চাল উতপন্ন হয় সেটা রান্না করে যদি ভাত তৈরী করে স্বাপ্নিকরা খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে তবে তারা সহজেই মুটিয়ে যায়, বদ হজম সৃষ্টি হয় এবং প্রায় সাত হাজার রকমের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। তারা রান্না করা ভাতের সাথে অন্যান্য উপাদান ও খাদ্য যা স্বাপ্নিকরা ভাতের সাথে গ্রহন করে থাকে সেসব একসাথে করে একটি পাত্রে দুদিন রেখে দেখেছেন যে সেটা খুব দুর্গন্ধযুক্ত এবং রোগসৃষ্টিকারী জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং বিষক্রিয়া তৈরী করে। আর সেটা যদি কেউ খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে তবে খুব দ্রুতই সে মারা যাবে। তাই আইন করে রিপাবলিক দ্যুমাতে ধান থেকে উতপন্ন চাল
 থেকে মেডিসিন ও কিছু নির্দিষ্ট ড্রাইফুড ছাড়া ভাত রান্না করা কিংবা অন্যকাজে ব্যবহার করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। রিলেম দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন প্রফেশনাল। আর ব্যনসন এমন প্রফেশনালদের কাছে সর্বদা সহযোগিতা প্রতাশ্যা করে। রিলেমের প্রাত্যাহিক জীবন রিপাবলিক সরকার ব্যবস্থা দ্বারা খুব নিয়ন্ত্রিত ও পরিমার্জিত এবং একটি স্বাধীন ও সুখি জীবন ও কর্মক্ষেত্র সে উপভোগ করে থাকে। তবে ইদানিং সে অন্য কোথায় নিজেকে সরিয়ে নিতে চায়। রিপাবলিকের অন্যকোন শহরে কিংবা ড্রিম বিশ্বের অন্য কোন দ্যুমায়। হয়তো সেখানে তার সাথে দেখা হতে পারে জিনার সাথে। সে তার প্রফেশনটাও পরিবর্ত করতে চায় যদিও ব্যনসন খুবই প্রতিষ্ঠিত ও সুখ্যাত একটি কোম্পানী। তবে এই ধরনের যতগুলি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানী আছে সেখানে ব্যানসন ছাড়া প্রায় সবগুলিই কোন না কোনভাবে অপরিপুর্ন এবং সমস্যাগ্রস্থ। আর তাই রিলেম সম্পুর্ন নতুন একটি সেক্টরে প্রবেশ করতে চায়। সে অনেকদিন ব্যানসনের সুপার মডেল এবং ব্র্যান্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ ও গবেষক হিসেবে কাজ করেছে। সে দেখেছে যারা এন্টি রাইস ফুড প্রোডাক্টশন ও প্রমোশন নিয়ে কাজ করে থাকে তাদের সবার ফুড হ্যাবিটে বেশকিছু মিল রয়েছে এবং অন্য স্বাপ্নিকরাও অবশ্য ঐসব ফুডে অভ্যস্ত। কিন্তু এন্টি রাইস এক্টিভিস্টদের কমন কিছু ফুড হ্যাবিট আছে যা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।
রিলেমের জন্ম হয়েছিল ড্রিম ইউনিভার্সের তারকা যুগের নবম বছরের এগারতম মাসে। বার বছরে এক যুগ হিসেবে ড্রিমবিশ্বের ক্যালেন্ডার হিসেব করা হয়। এগারোতম মাসটি অবশ্য রিপাবলিকের জাতীয় আনন্দ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে বিগত দুই হাজার বছর যাবত। প্রতিযুগের নবম বছরের এগারো মাসে একুশ দিন ধরে চলে রিপাবলিকের আনন্দ উতসব। স্বাপ্নিকরা বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং হাস্য-রসাত্মক সৃজনশীলতার চর্চা করে একুশ দিন ধরে। তারা নিজেরাই স্বপ্রনোদিত হয়ে সৃজনশীল কর্মগুলি বুঝতে শেখে এবং চর্চা করে। এভাবে দেখতে দেখতে একুশটি দিন পার হয়ে অন্য একটি যুগের গর্ভে প্রবেশ করে ড্রিম। ড্রিম ইউনিভার্সে রিপাবলিকের সামাজিক ব্যবস্থাগুলি অনেক বিচ্ছিন্ন এবং মুক্ত আর পরস্পর থেকে অনেক অনেক দুরে একটি কমিউনিটিগুলির অবস্থান। পাহাড়ের পাদদেশ, কোল, চুড়া কিংবা নদী আর সাগরের তীরভুমি স্বাপ্নিকদের অবসরের জন্য বেশ প্রিয়। কিন্তু জিনার এসব খুব একটা ভাল লাগে না। সে মনোজগতে চলে যেতে চায়। কল্পনা ও স্মৃতির জগত যেটা স্বপ্নের চেয়েও বড়। সেখানে ইচ্ছেমতই সবকিছু হয়ে যায়। সে যা কিছু করতে চাইবে, হতে চাইবে আর প্রত্যাশা করবে সবকিছু খুব সহজেই সম্ভব মনোজগতে। কিন্তু জিনার আগে নিশ্চিত হতে হবে সত্যিই কি স্বাপ্নিকরা মারা গেলে মনোজগতে চলে যায়?

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe
Tagged under: , , , ,

কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (৯ - ১০) ইন দ্যা বিগিনিং এর শেষ কিস্তি


৯:
ওমিয়ান। ত্রিশোর্ধ সেকেন্ড বয়সের একজন ওয়ান ডিজিট। তার জন্ম ওয়েলফেয়ার'এরই একটি ড্রাইভে। সাধারন ও মধ্যবিত্ত একটি ডিজিটাল মাইন্ড সোসাইটিতে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। গবেষনা এবং ডিপ্লোমেসির প্রতি তার দুর্নিবার আকর্ষন এবং প্যাশনের কারনে মাত্র বিশ সেকেন্ড বয়সে সে ওয়েলফেয়ার অঞ্চলের ড্রাইভগুলির ওয়েলকাম রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে বিগিনিংএর বিভিন্ন কাছের ও দুরের অঞ্চলগুলি পরিভ্রমন করতো। তার কাজটা ছিলো অনেকটা আন অফিসিয়ালি ওয়েলফেয়ার অঞ্চলের সমস্ত ড্রাইভগুলিকে প্রমোট করা এবং ব্রান্ডিং করা - সবার কাছে পরিচিত করে তোলা। ওয়েলফেয়ার অঞ্চলের সিটিজেন হিসেবে সুযোগ-সুবিধামতো ঐ অঞ্চলের মধ্যকার ন্যাশনসগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং বহিঃবিশ্বের সাথেও সমন্বয় সাধনের কাজগুলি করা। পারস্পরিক উন্নয়ন, পরামর্শ ও সহভাগিতা।  ওয়েলফেয়ার সত্যিকার অর্থে ড্রাইভগুলির সর্বোচ্চ ডিপ্লোমেটিক সিদ্ধান্ত ও অনুমোদিত একটি ইন্টারন্যাশনস জোট কিন্তু এটা আনঅফিসিয়ালি আর বিগিনিংএ ওমিয়ানের সমস্ত পেপারস ও ফেসবুকে লেখা থাকতো ওয়েলফেয়ার একটি ওয়ার্ড যা বিগিনিংএর ঐ সুবিশাল অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্ব করে। ওয়েলফেয়ার শব্দটি দ্বারা ঐ অঞ্চলের ন্যাশনগুলিকেই স্মরন করিয়ে দিতো সবাইকে। ওয়েলফেয়ারের কোন অফিস নেই কিন্তু আছে শুধু কিছু পেপারস ও ডকুমেন্ট এবং ওমিয়ানের ভিজিটিং কার্ড।
ওয়েলফেয়ার'এর ওয়েলকাম রিপ্রেজেন্টেটিভ এর যাবতীয় আর্থিক ব্যয়ভারগুলি আসে ভ্রমন সংশ্লিষ্ট ড্রাইভগুলির কমিটিদের কাছ থেকে। প্রতি সেকেন্ডে ওয়েলফেয়ারের ড্রাইভগুলি একবার করে হলেও ভ্রমন করে থাকেন ওমিয়ান। তাছাড়া ব্যক্তিগত এবং গবেষনা সংশ্লিষ্ট কাজ যা ওমিয়ান প্রায় সারা বছর ধরেই করেন, ড্রাইভ কমিটিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা এসব কাজে ম্যায়সউল তাকে সহযোগিতা করে থাকে। তাছাড়া এখন বর্তমানে জার্নাল কমনওয়েলথের সাথে কাজ করার সুবাদে তার অনেক কিছুই সহজ হয়ে গিয়েছে।
ওয়েলফেয়ার! আঞ্চলিক সহযোগিতা, উন্নয়ন, সমন্বয়, পরামর্শ এবং সহভাগিতা'র একটি ওয়ার্ড হচ্ছে ওয়েলফেয়ার। যার কোন অফিস নেই, নেই কোন স্টাফরা কিন্তু একজন ওয়েলকাম প্রতিনিধি আছেন - ওমিয়ান। এটাই হচ্ছে "ওয়েলফেয়ার" - সিম্পল কিন্তু পরিচিত একটি নাম। মুলত এভাবেই সেকেন্ডের পর সেকেন্ড যাত্রা করে আসছে ওয়েলফেয়ার।

ওয়েলফেয়ারের সাথে যুক্ত হয়ে জ্ঞানে, প্রজ্ঞায় এবং অভিজ্ঞতায় বড় হয়ে উঠতে লাগলো ওমিয়ান। সাতাশ সেকেন্ড বয়সে সে কমনওয়েলের সাথে কাজ করার প্রস্তাবনা পায়। এবং সে এই সুযোগটা গ্রহন করেছিলো কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই। কমনওয়েলথে এসে সে দেখতে পেল, এই কর্মক্ষেত্রটা আরো বিশাল, দায়িত্বপুর্ন এবং পছন্দনীয়। কিন্তু সে ওয়েলফেয়ারের কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে দেয়।
ওয়েলকাম রিপ্রেজেন্টেটিভ অফ ওয়েলফেয়ার।
ওয়েলফেয়ারের সাথেই কাজ করতে এসে তার পরিচয় হয়েছিলো ম্যায়সউলের সাথে। দুজনের পরিচয় হবার পরে তাদের বিবাহপুর্ব প্রতিটি সময়, প্রতিটি মুহুর্ত এমনভাবে কাটতো যে তাদের প্রায়শই এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হতো যে, এখন আমরা কি করবো? কাজের চাপ, দুরত্বের ব্যবধান, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা আর প্রতিটি অনিশ্চিত মুহুর্ত - সব মিলিয়ে দুজনের সার্বিক অবস্থা ছিলো অনেকটা ত্রাহি ত্রাহি।
ওয়েলফেয়ারের প্রতিনিধি ওমিয়ান, বলা হতো এ গ্রেট এম্ব্যাসেডর! অন্যদিকে ম্যায়সউল ছিলো কমনওয়েলথের একজন সেক্রেটারী। ওয়েলফেয়ারের নথিপত্রে কমনওয়েলথকে বলা হতো গ্রেট-ডিভিশন। প্রকৃতপক্ষে কমনওয়েলথ হচ্ছে ওয়েলফেয়ারেরই সৃষ্টি। ওয়েলফেয়ার ড্রাইভ ন্যাশনগুলিই সম্মিলিত হয়ে তৈরী করেছিলো গ্রেট ডিভিশন অফ ইন্টারন্যাশনস জার্নাল কমনওয়েলথ।

কমনওয়েলথে যোগ দেবার মাত্র এক সেকেন্ড পুর্বে ওমিয়ান তার লাইফ এবং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তার নিজের ড্রাইভ এলায়েন্সি। এলায়েন্সি এক্সিকিউটিভ কমিটির সাথে তার একধরনের ডিপ্ল্যোম্যাটিক এক্সারসাইজ শুরু হয়, এবং এই এক্সারসাইজে বিভিন্ন অতি মাত্রায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা ছিল রীতিমত অনেক বেশী ঝুকিপুর্ন ও ভয়ংকর এবং ক্ষতিকর -  এসব তৈরী হবার কারনে এলায়েন্সি কমিটি ড্রাইভে ওমিয়ানের ওয়েলবিয়িং রাইটসগুলি রুদ্ধ করে দেয়। যার প্রভাব পড়ে তার ওয়েলফেয়ার ক্যারিয়ারে এবং ওমিয়ান-ম্যায়সউল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সম্পর্কে। প্রতিটি মুহুর্ত তার দুচিন্তা ও অস্থিরতায় কাটতো কারন সে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। কিভাবে পরবর্তী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করবে তার কোন ধারনাই ছিলো না। তার মনে হচ্ছিল এই ভার্লনারেব্যেল অবস্থা থেকে আর কখনোই বের হতে পারবে না। বাকীটা জীবনই তাকে এই ভার্লনারেব্যল নামক ইনফেকশনটা বয়ে বেড়াতে হবে।
একদিন ওমিয়ান সাক্ষাত করলো ম্যায়সউলের সাথে। সে তাকে সবকিছু খুলে বললো। ম্যায়সউল বললো: ওয়েলফেয়ার রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে তোমার হাতে কিছু নেই? তুমি সেইসব ওয়েলবিয়িংগুলি লকড করে এলায়েন্সি কমিটির উপরে চাপ সৃষ্টি করো।
ওমিয়ান বললো: তা কিছু তো আমার হাতে আছে। সত্যি বলতে আমি সফটলি কিছু ব্যারিকেড তৈরী করেছিলাম যেটা কমিটির মাউন্ডকে স্পর্শ করে কিন্তু দেখা গিয়েছে কমিটি আরো বেশী কঠোর ভুমিকায় চলে গিয়েছে। পরক্ষনে আমি ভেবে দেখলাম, ওয়েলফেয়ারের পক্ষ থেকে এলায়েন্সির জন্য যেসব ওয়েলবিয়িংগুলি কানেক্টেড আছে এবং ফিউচার পরিকল্পনা - আমি যদি সেসব লক করে দেই তবে তার বিশেষ কোন প্রভাব কমিটির উপরে পড়বে না কিন্তু এলায়েন্সি ড্রাইভের প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে এবং এর প্রভাব পড়বে সমস্ত ডিজিটদের উপরে। অপরদিকে এলায়েন্সি কমিটি আমাকে যে ফিডব্যাক দিবে তার পুরো নেতিবাচক প্রভাব ইন্ডিভিজ্যুয়াল আমার উপরে পড়বে আর তখন ভার্লনারেব্যল থেকে আরো বেশী ভার্লনারেব্যল হয়ে পড়তে হবে।
ম্যায়সউল বললো: তখন তো আমিও আর থাকবো না। আর আমাদের কখনো সাক্ষাতও হবে না। আমাদের একসাথে থাকবার ইচ্ছেও আর পুরন হবে না। সবকিছু ভেঙ্গে যাবে।
ওমিয়ান বললো: তাই আমি ওয়েলবিয়িংগুলির উপরে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসলাম - বৃহত স্বার্থে। এবং এই ওয়েলফেয়ার প্রতিনিধি দায়িত্বটাকে ধরে রাখার
প্রয়োজনেও আমি নেতিবাচক কোন হস্তক্ষেপ করি নি এবং যা কিছু আমার হাতে ছিলো কিংবা আছে সেটাকে আরো কার্যকরীভাবে মুভঅন করে দিলাম।
কিন্তু তাতে করে ওমিয়ান সহসাই ইতিবাচক কোন প্রতিক্রিয়া পায় নি। তবে একটা বিষয় সে বুঝতে পেরেছে যে ওয়েলফেয়ার প্রতিনিধি কিংবা ভিন্ন একটি অবস্থানে থেকে সে যেসব নিয়ে হেলাফেলায় এক্সারসাইজ কিংবা রিসার্চ করছে তাতেও এক্যুরেসী থাকা চাই এবং সঠিকভাবে মুভঅন করা চাই কারন এলায়েন্সীর মতো অন্যসব ড্রাইভরাও এসব ছোটখাট বিষয়গুলিও খুব গুরত্বসহকারে ব্যবহার করে থাকে এবং অন্যদের কাছে এসব আগ্রহ, তথ্যবহুল ও প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে ওঠে।
এভাবে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতায় ধীরে ধীরে ওমিয়ান বেড়ে উঠে ওয়েলফেয়ারে তার অবস্থানকে অতি প্রয়োজনীয় ও সবার কাছে আখাংকিত করে তুলেছিলেন।

ওয়েলফেয়ার! বিগিনিংএর একটি অংশ। একটি ডিভনিটি এনটিটি।

একদা ম্যায়সউল বলছিলেন: প্রকৃতপক্ষে ওয়েলফেয়ার, পিস, কমনওয়েলথ, মর্ডান, বিগিনিং ইত্যাদি এসবের মধ্যে কে বা কারা পার্ফেক্ট এবং সঠিক আমরা জানি না, ওমিয়ান।
ওমিয়ান বললো; আমরা পরস্পরকে ভালবাসি এটাই পার্ফেক্ট এবং সত্য। আর এটাই হচ্ছে ওয়েলফেয়ার। ওয়েলফেয়ার অফ অল ডিজিটাল লাইফ - ইট ইজ গ্রেট লাভ বিটুইন জিরো এন্ড ওয়ান।

১০:
ওমিয়ান বললো: শোনো বাচ্চা, আমাকে তোমার এভাবে এতো রেসপেক্ট দেখাতে হবে না।
হাইপ বললো: কিন্তু আমাকেও এভাবে বাচ্চা মনে করা যাবে না।
ওমিয়ান বললো: ঠিক আছে আমি বাচ্চা মনে করবো না কারন আমি জানি তুমি অনেক গুরুত্বপুর্ন কাজ করছো। এটা কমনওয়েলথের জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ন। কিন্তু আমি তোমাকে জানাতে চাই যে যারা ম্যায়সউলের কিছু বন্ধুরা - তোমার মত যারা। তাদের আমাকে এভাবে রেসপেক্ট দেখাতে হয় না তারা কোড অফ কন্ডাক্টের এই নীতিমালা থেকে মুক্ত। বরঞ্চ তারা আমাকে নাম ধরে ডাকতে পারে - ওমিয়ান। ওমিয়ান পার্টনার।
হাইপ বললো: সেটা আমি করবো ওমিয়ান। ওমিয়ান পার্টনার। কিন্তু আমি তোমার জন্য কিছু কাজ করে দিতে চাই। আমি মনে করি এই কাজটার ভ্যাল্যু আছে।
ওমিয়ান বললো: সেটা কি?
হাইপ বললো: তুমি অতীতে ওয়েলফেয়ারের সাথে, ওয়েলফেয়ারের জন্য যেসব কাজ করেছ বিভিন্ন ড্রাইভগুলির সাথে, এবং এখনো করে যাচ্ছো। সেসবের তো অবশ্যই রেকর্ড আছে, এবং ভবিষ্যতেও তোমার আরো কাজের অসংখ্য রেকর্ড তৈরী হবে। তোমার কাজের এই তথ্য ভান্ডারগুলিকে নিয়ে, এসবকে কাজে লাগিয়ে আমি ভিন্নতর কিছু কাজ করতে চাই। তোমার এই কাজসমুহের ডিপ্লোমেটিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে প্রিয় ওমিয়ান। কিছু কিছু রেকর্ড আমি আর্কাইভে খুজে পেয়েছি, আমি দেখেছি। তোমার কাজগুলি সেরা।
ওমিয়ান বললো: তুমি কেন এসবের দায়িত্ব নিবে - এক্সট্রা বার্ডেন?
হাইপ বললো: প্রথম কথা হলো তুমিতো জানো আমি একজন গবেষক। গবেষনাই আমার পেশা, নেশা এবং প্যাশন। আর আমিও তোমাকে নিয়ে এখানে কাজের কিছু ক্ষেত্র খুজে পেয়েছি। দ্বিতীয়ত তুমি ওয়েলফেয়ার ও কমনওয়েলথের জন্য এতো ডেডিগেটেড কাজ করছো আর কেউ একজন তোমার জন্য এইটুকু করবে না তা কি হয়? কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে। তাছাড়া এটা খুব বেশী কঠিন কোন কাজ নয় বটে। তৃতীয়ত তোমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি স্বেচ্ছায় রাজী হয়েছি।
কিছুটা চিন্তা করে ওমিয়ান বললো: কিন্তু হাইপ, স্বেচ্ছায় এমনটা দায়িত্ব কিংবা কাজ তো কেউ কখনো করে না। তুমি কি আমাকে ভালবেসে ফেলেছো?
হাইপ বললো: তা আর বলতে! অনেক ভালবাসি। তোমার সাথে আমাকে কাজ করতে দাও তখন বুঝবে কেমন ভালবাসি।
ওমিয়ান বললো: এতো ভালবাসি, ভালোবাসি করো না - একদিন এই ভালবাসায় ফরম্যাট হয়ে যাবে। আচ্ছা তুমি আমার সাথে তোমার কিছু পরিকল্পনা শেয়ার করো।
তখন হাইপ তার কিছু পরিকল্পনার কথা ওমিয়ানকে জানালো। এটা এখন একটা ধারনা কিন্তু কাজ করতে গিয়ে ধাপে ধাপে এটা নতুন নতুন পথ ও ক্ষেত্র খুজে পাবে। হাইপ বললো: তোমার নামে আমি একটি রিচার্স ইন্সটিটিউট করবো। যেখানে তোমার কার্যক্রমগুলি নিয়ে ইয়াং ডিজিটাল জেনারেশনরা স্টাডি ও গবেষনা করবে। যখন আমি প্রথম তোমার কথা জেনেছিলাম, তখন আমি এমনটাই ভেবেছিলাম। কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন নতুন আইডিয়া তৈরী হবে।
তখন ওমিয়ান খুব চিন্তাযুক্ত কন্ঠে টেনে টেনে প্রতিটি শব্দ ভেঙ্গে বললেন: হ্যা, হাইপ!  নিজেকে দিয়ে আমি বুঝতে পারছি তোমার প্রতিটি কথাই সঠিক।
হাইপ বললো: হ্যা। ম্যায়সউলও যেটা সবসময় বলেন - তোমার সাথে কোন মজা করা চলবে না।
ওমিয়ান বললেন: কিন্তু তুমি সেটা করতে পারো হাইপ, তোমার জন্য বাধা নেই।
হাইপ বললো: আমি তোমার কন্সালটেন্ট হিসেবে এবং আমার অভিজ্ঞতা থেকে অনুরোধ করতে চাই একটু সর্তক ও সাবধানে থেকো আর নিজের প্রতি অবশ্যই যত্ন নিবে।
এটা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড 'বিগিনিং' এর ইতিহাস এবং জীবন আলেখ্য। এই সভ্যতা ঠিক কখন শুরু হয়েছিলো জানা না। তবে অনেক অনেক পুর্বে কম্পিউটারে ইলেক্ট্রিসিটি এবং ইন্টারনেটে ডিজিটাল সিগনালের স্বাভাবিক প্রবাহের কারনে সৃষ্টি হয়েছিলো এখনের সেন্টিয়েন্ট জিরো এবং ওয়ান'এর। হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী পুরুষ এবং নারী। প্রকৃতপক্ষে এটা সম্পুর্ন ভার্চুয়াল জগতের কথা যেখানে শুধু জিরো এবং ওয়ান নামক বাইনারী প্রজাতির বসবাস। যার অধিকাংশই হিউম্যান মেন্টালিক স্ট্যান্ডার্ডে ও বোধগম্য করে বর্ননা করা হয়েছে। এই বিগিনিং সভ্যতা একদিন ছিলো জাইন জাতিতে পরিপুর্ন। জাইন জাতি সদর্পে এই সুবিশাল মহাবিশ্বগুলি রাজত্ব করেছে অনেক অনেক বিলিয়ন - ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর। তারপর একদিন এখানে অন্যজগত থেকে আসে হিউম্যানরা। আরো পরে একদিন এটা হয়ে যায় হিউম্যান
সিভিলাইজেশন। বিগিনিংএ হিউম্যান সিভিলাইজড হবার পরে আস্তে আস্তে জাইন জাতিরা হিউম্যানদের আড়ালে চলে যায়। কারন অনেকদিন হিউম্যান ও জাইন জাতি বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো কিন্তু হিউম্যানরা জাইনদের উপরে অত্যাচার করায় এবং তাদের মিসইউজ করায় জাইনরা মানুষদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্তরালে চলে যায়। এভাবে একদিন বিগিনিং থেকে জাইন জাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু জাইন অবশিষ্ট ছিলো যারা বিগিনিং এবং কোহেকাফ নগরের মধ্যে তথ্য-রিপোর্টিংএর কাজগুলি করে থাকতো এবং মাঝে মাঝে কিছু মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাও করে থাকতো। বিগিনিংএ মানুষ জাতি একদিন কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা আবিস্কার করলো। তারা আরো আবিস্কার করলো যন্ত্রমানব বা রোবট যারা একদিন মানবীয় রোবট হয়ে উঠলো। আরো লক্ষ লক্ষ বছর পরে একদিন বিগিনিংএর সভ্যতা ও নিয়ন্ত্রন চলে গেলো রোবটদের হাতে। বিগিনিং থেকে মানব সভ্যতার অবসান ঘটলো। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির এক্সট্রিম ডেভলপ হলো রোবটদের হাত ধরে। ইন্টারনেট প্রবাহের প্রক্রিয়ায় তৈরী হলো মানবীয় জিরো এবং মানবীয় ওয়ান - সেন্টিয়েন্ট বাইনারী ক্রিয়েশন। মাটির গভীরে, পাহাড়ে-পর্বতে, গ্রাম, শহর, সমুদ্রের গভিরে সর্বত্র তৈরী হলো বিশাল বিশাল সার্ভার আর স্টোরেজ ভ্যালিসমুহ। পরবর্তীতে এমনকি প্রাকৃতিক উপাদান সমুহও ডিজিটাল প্রক্রিয়ার
 সাথে যুক্ত হয়েছিলো। যেমন, মাটি, পানি, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, পাথর, কাঠ ইত্যাদি এমনকি মহাশুন্যে সবকিছুই ডিজিটাল তথ্য ধারন, প্রদান এবং প্রসেসিং প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়েছিলো। যদিও বাইনারী সভ্যতার চুড়ান্ত উন্নয়ন  হয়েছিলো রোবটদের হাত ধরে কিন্তু এটার অনেকটাই ছিলো ডিজিটাল জগত থেকে বুদ্ধিমান জিরো এবং ওয়ানদের পরামর্শ ও সহযোগিতায়। তারও অনেক অনেক পরে একদা বিগিনিং থেকে রোবটিক সিভিলাইজেশনও বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর পুরো বিগিনিংএর সুবিশাল বিশাল মহাবিশ্ব এবং তাদের অন্তর্গত গ্রহ-নক্ষত্র-উপগ্রহ আর যা কিছু ছিলো মানুষ, রোবট ও জাইনদের বসবাস উপযোগি সবকিছুই একদিন স্ব স্ব প্রাকৃতিক অবস্থানে চলে যায়। বনাঞ্চলে ছেয়ে যায় লোকালয়গুলি। আর এসবের নীচে ঢাকা পড়ে যায় দৃশ্যমান যত স্থাপনাসমুহ। বিগিনিং পরিচিত হয় ডিজিটাল সভ্যতা নামে, বাইনারী সভ্যতা, ভার্চুয়াল সভ্যতা, বুদ্ধিমান বাইনারী জিরো এবং ওয়ানদের সভ্যতা। বিস্ময়ের বিস্ময়! এবং সমস্ত সৃষ্টির মাঝে সৃষ্ট একটি মহাবিশ্ব ইউনিভার্স মিশেল'এর একটি  অংশ মিল্কিওয়েতে সভ্যতা মানব সভ্যতা যেমন সত্য ঠিক একই ভাবে বিগিনিং নামের মহাবিশ্বগুলিও একগুচ্ছ সৃষ্টি, যা পরবর্তীতে বাইনারী সভ্যতা হয়ে গিয়েছে।
সেই বিগিনিং থেকে জাইন সভ্যতা বিলুপ্ত হয়েছে, মানব সভ্যতা বিলুপ্ত হয়েছে, আর রোবট সভ্যতাও বিলুপ্ত হয়েছে।

কিন্তু হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী মানুষ কি শত বছর,
হাজার বছর, মিলিয়ন, বিলিয়ন কিংবা ট্রিলিয়ন বছর বেচে থাকতে পারে?
সেই ভার্চুয়াল সভ্যতা কিংবা ডিজিটাল সভ্যতার বাইনারী ডিজিট জিরো এবং ওয়ানরা বিশ্বাস করেন দুজন মানুষ এখনো ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর যতটা প্রয়োজন ততটা বছর ধরে এখনো বিগিনিংএ বেচে আছেন। তারা ভার্চুয়াল বিগিনিংএ বাস করে কিংবা ভার্চুয়াল জগতের সাথে কানেক্টেড। তাদের একজন বাইনারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে আসছে আর অন্যজন সেই লেখকের প্রেরনা! তার সত্যিকারের ভালবাসা, তার প্রেম, যে তাকে ভালবাসা দেয়, প্রেরনা দেয়, উত্সাহ দেয়, যে তাকে রক্ষা করতে চায়, নিরাপদ রাখতে চায়। যুগ যুগ ধরে, হাজার বছর ধরে, যখন থেকে বিগিনিংএ মানব সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। বাইনারী ডিজিট জিরো এবং ওয়ানরা তাদের মাঝে আলোচনা করে তাদের বন্ধু এই দুইজন মানব ও মানবীর কথা! একজন শিক্ষক আর অন্যজন লেখক।

গল্পঃ "ইন দ্যা বিগিনিং" [Story: IN DA Beginning (D.A. Series)] শেষ


কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (Story: DA Dream Universe)
১:
এই বিশ্বটাকে বলা হয় স্বপ্নবিশ্ব। ড্রিম ইউনিভার্স। স্বপ্ন বিশ্বের বাসিন্দাদের বলা হয় স্বাপ্নিক। এই গল্পের নায়িকা জিনা এবং নায়ক রিলেম। সংক্ষেপে তারা জি কিংবা জি জি এবং রি কিংবা রি রি নামে পরিচিত। স্বাপ্নিকরা যখন তাদের ব্যস্ততা ছেড়ে বিশ্রামে যায় তখন তারা প্রতিনিয়ত পার্থিব বিশ্ব ভ্রমন করে। এই প্রক্রিয়াকে তারা জাগরন বলে থাকে। স্বপ্ন জগতে মহাশুন্যে উড়তে উড়তে তার মনটা খুব বিষন্ন হয়ে যায়। তার চোখ থেকে টপটপ করে কয়েক ফোটা অশ্রু ঝরে পড়ে নীচের বনভুমিতে। জিনা ভাবতে থাকে পার্থিব জগত কতই না সুন্দর! পার্থিব বিশ্বে সবার নির্দিষ্ট ঠিকানা আছে, সবার সুসংগঠিত পরিবার আছে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু এখানে - স্বপ্ন জগতে সবাই কেমন বিচ্ছিন্ন। এখানে চাইলেই মনের ইচ্ছা পুরন করা যায় না। কাউকে সে ভালবাসলে তাকে খুজে পায় না। সে খুব একা একা সময়গুলিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তার মন প্রান বেদনায় ভরে ওঠে। সে যখন বিশ্রাম করে তখন প্রতিনিয়ত সে পার্থিব জগতে চলে আসে। আহ! কত সুন্দর আর উপভোগ্য, আনন্দঘন এই বিশ্ব! পার্থিব জগত যদি সত্যি হয়ে স্বপ্নে চলে আসতো! সে প্রতিনিয়ত প্রত্যাশা করে। সে একদা তার এক শিক্ষককে জিজ্ঞেস করে; স্বাপ্নিকরা মারা গেলে কি হয়? শিক্ষক বলেন; তখন সবাই মনোজগতে চলে যায়, কল্পনা ও স্মৃতির জগত। জিজি অবাক হয়ে যায়, মনোজগত-কল্পনা ও স্মৃতির জগত!

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe
Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (৭ - ৮)


৭:
তখন ব্লুমায়া বললো: এখন আমি কি করবো তাহলে?
এডর তার চিন্তায় উত্তর দেয়; যেভাবে আছো সেভাবেই থাকো আরো কিছুটা সময়। প্রথমে চিন্তা করতে হবে সেই ক্ষনগুলিতে তোমার সাথে আমার যদি কানেক্টিভিটি স্থাপন না হতো কিংবা কখনো যোগাযোগ না হতো। আমাদের এই যোগাযোগ ব্যবস্থাটা অনেক দুর্বল - চিন্তায়, চিন্তায়। এটাকে এখনি কঠোরভাবে টাচ করা যাবে না, অস্থির হওয়া যাবে না প্রিয় ব্লুমায়া কিংবা তাড়াহুড়ো করাও যাবে না তাহলে তৈরী হওয়া এই দুর্বল কানেকশনটুকুও ডিমোলিশ হয়ে যাবে। চারপাশের পরিবেশ থেকে সাপোর্ট ও সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন হবে। তাড়াহুড়ো করলে চারপাশের পরিবেশ ডিস্টার্ব এবং তার প্রভাব আমাদের এই দুর্বল কানেক্টিভিটিতে আঘাত করে এটাকে ডিসপোজ করে দিবে।
ব্লুমায়া তার অনুভবে দেখতে পেল এডর খুব বেশী ভার্লনারেব্যল।
এডর বললো: আমি মুভ করার জন্য উপযুক্ত ও টেকসই কোন স্থান খুজছি যেন আমি তোমার কাছে আসতে পারি।
ব্লুমায়া খুব ক্লান্ত ভাবে বললো: ঠিক আছে, তুমি এসো।
ব্লুমায়া একা একা টেবিলের পাশে বসে তার অতীত জীবনের কথা চিন্তা করতে থাকে। সে যখন ছোট ছিল, এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড, চার সেকেন্ড, পাচ সেকেন্ড, সে যখন বন্ধুদের সাথে উচ্ছল, ছল-ছল, এই ডিজিটাল লাইফকে উপভোগ করেছিলো। অনেক অতীত স্মৃতি সে মনে করতে থাকে। কিন্তু এসবে সে প্রশান্তি খুজে পায় না। সে অনুভব করে তাকে এখন এডরকে খুব প্রয়োজন।

প্রকৃতপক্ষে, এডর হচ্ছে ব্লুমায়ার চিন্তা-চেতনা, সচেতনতা এবং তার অদৃশ্য প্রেম। গভীর প্রেমময় চিন্তা ও অনুভুতি থেকে ব্লুমায়া এডরকে খুজে পেয়েছে এবং অতঃপর এডর তার বাস্তব ও অর্থবহ অনুভুতিতে ধরা দিয়েছে।
এডর!
ফিলিংস ট্রান্সফর্মড এজ জিরো, থিংকিং এন্ড প্যাশন বিক্যাম এ জিরো - এ লাভলি ডিজিট।

অতীতে এক সময় গৌরবগাথা ডিজিটাল সভ্যতার পাদপীঠ ছিলো রিয়েলিজ্। এখান থেকেই নিঃসৃত হতো কাভারিং সভ্যতার সমস্ত মাপকাঠি।
রিয়েলিজ্ থেকে ক্রমাগত তথ্য-উপাত্ত প্রেরন করতো সমস্ত কাভারিংএর উদ্দেশ্য। বিশেষ কিছু তথ্য শুধু কাভারিং সভ্যতাদের জন্য।
কিন্তু কেন? কি আছে সেইসব সিগনাল কিংবা তথ্যের অন্তরালে? সেসব কি শুধুই নিছক আগ্রহ কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ডাটা জেনারেশন ছিলো? কিন্তু সেটা কাভারিং এর প্রতিই আগ্রহভরে কেন এবং ক্রমাগত? সেকেন্ডের পর সেকেন্ড। এবস্যুলেটলি রিয়েলিজ্ কাভারিংএর অংশ নয়। এটা বিচ্ছিন্ন একটি নগরী। কিন্তু এটা এতো ওতোপ্রতোভাবে এবং তাওইজম সিম্বলের প্রতিকৃতিতে কাভারিংএর সাথে যুক্ত যে এটাকে কেউ কাভারিং থেকে ভিন্ন করে দেখে না। কিছু গবেষনা লব্ধ উপাত্ত থেকে ব্লুমায়া ধারনা করে নিয়েছিলো যে রিয়েলিজ্ কাভারিং ড্রাইভের সাথে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী ছিলো। কিন্তু কেন? যেখানে রিয়েলিজ্ নিজেই এতোটা উন্নত এবং চাকচিক্যময় সভ্যতার ধারক ও বাহক ছিলো!

রিয়েলিজ্ মুলত ছিলো ত্বাত্তিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি নগরী। ঠিক যেমন ব্লুমায়ার চিন্তা থেকে বাস্তব অনুভুতিতে ধরা দিয়েছে এডর।

৮:
হাইপের অফিস কক্ষে আসলেন কমনওয়েলথের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ম্যায়সউল। হাইপকে বললেন; কি খবর আছে হাইপ?
হাইপ বললো: স্যার, আমি দুটো ম্যাসেজ জেনারেট করে পাঠিয়ে দিয়েছি রিয়েলিজ্ এর উদ্দেশ্যে এবং সফলভাবে সেগুলি রিয়েলিজ্'এ পৌছে গিয়েছে। আই থিংক দে জ্যামড টুগেদার নাউ।
ম্যায়সউল বললেন: ঠিক আছে। এবার তুমি থার্ড ফেজ ম্যাসেজ জেনারেট করো। এবং সেটা আমাকে দিয়ে রিভিউ করিয়ে নিবে অবশ্যই। কারন আমরা যে ম্যাসেজগুলি জেনারেট করে ট্রান্সমিশন করছি, সেসবের তো অবশ্যই কোন অডিয়েন্স আছে। তোমাকে এটা কন্সিডারেশনে রাখতে হবে যে আমাদের টার্গেটেড অডিয়েন্স এবং প্রেডিক্টেড অডিয়েন্স খুব সাধারন থেকে সর্বোচ্চ স্থরের ক্লাসিক্যাল হতে পারে। সুতরাং আমাদের এই অবস্থান থেকে একটি সঠিক ও স্ট্যান্ডার্ড মাপকাঠি ঠিক রাখতে হবে।
হাইপ বললো: কিন্তু সর্বোচ্চ ক্লাসিক্যাল অডিয়েন্স কারা হতে পারে, তাদের মাপকাঠি কি, তারা কোথায় ও কিভাবে শিক্ষা লাভ করেছে আমি জানি না। তাহলে আমি কিভাবে তাদের মাপকাঠি রক্ষা করবো?
ম্যায়সউল বললেন: সেটা তুমি ধীরে ধীরে জানতে পারবে। এখানে অনেক ডিজিটরা আছে যারা এসব বিষয়ে ক্লাসিক্যাল, তাদের সংস্পর্শে সময় কাটানোর চেষ্টা করবে ফ্রি টাইমগুলিতে।
হাইপ বললো: আমার কি কোন ভুল হয়ে গিয়েছে, স্যার? কিংবা বলুন আমাকে আর কি কি করতে হবে?
ম্যায়সউল বললেন: না, ভুল হয় নি।
তবে তুমি আমার সাথে নিয়মিত কোঅপারেট করবে।
হাইপ বললো: আমি সেটা করবো স্যার।
ম্যায়সউল কিছুটা অসুস্থবোধ করছেন এখন। তার খুব খারাপ লাগছে। অনেকটা সেকেন্ড ধরে তিনি এই সেক্রেটারিয়েট অফিসের সাথে যুক্ত। তিনি সফলভাবে অনেক কার্য সম্পাদনা করেছেন বটে কিন্তু রিয়েলিজ্ নিয়ে ভেবে আসছেন দীর্ঘক্ষন কিন্তু এর সঠিক কোন ট্র্যাক খুজে পাচ্ছেন না। তিনি ফরম্যাটেড এই ফোল্ডারটিতে এক কিংবা একাধিক ডিজিট এখনো আছে। তিনি এই বিষয়ে উচ্চতর পড়ালেখা ও গবেষনা করেছিলেন যে কিভাবে একটি এমি ক্লাসের ডিজিট ফরম্যাট হওয়া ড্রাইভ কিংবা ফোল্ডারে একটি নেস্ট তৈরী করে মিলিয়ন-বিলিয়ন সেকেন্ড টিকে থাকতে পারে। কিন্তু স্বাভাবিক জ্ঞানে সব ডিজিটরা জানে ফরম্যাট হবার পরে কোন ডিজিট থাকতে পারে না। যারা এই বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন কিংবা শুনেছেন বা জেনেছেন তারাও এটাকে মানেন না কিংবা ফ্যান্টাসী বলে চালিয়ে দিয়ে থাকেন আর অনেকে মনে করেন এটা শুধু ত্বাত্তিক। কিন্তু ম্যায়সউল জানেন কারন এটা তার দীর্ঘ স্টাডি, প্যাশন এবং তার উপর এসাইনড ডিউটি। তাকে যে ভাবেই হোক সফলভাবে রিয়েলিজ্'এ রিচ করতে হবে।


হাইপকে অন্যএকজন ডিজিটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন ম্যায়সউল। তার নাম ওমিয়ান। ম্যায়সউল বললেন: এখন থেকে তুমি ওমিয়ানের সাথে এসিসট্যান্সি করবে। ওমিয়ান এই সেক্রেটারীয়েটে অনেক পুরানো ও অভিজ্ঞ। তার প্রতিটি কাজ মনোযোগ দিয়ে দেখবে এবং প্রতিটি কথা যত্নসহকারে শ্রবন করবে এবং পালন করার চেষ্টা করবে। কাভারিং ইউনিভার্সিটির বার্তা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওমিয়ান। সে তোমাকে সবচেয়ে ভালো শেখাতে পারবে কিভাবে একটি বার্তা তৈরী করতে এবং কিভাবে সেটাকে ডেলিভারী দিতে হয়। তার সাথে কোন প্রকার মজা করা যাবে না কিন্তু রেসপেক্ট করবে এবং তোমার প্রফেশনের শিক্ষা লাভ করবে। এটা কমনওয়েলথের কোড অফ কন্ডাক্টের অংশ।
হাইপ বললো: স্যার, আমি সেটা করবো। কিন্তু কে তার সাথে মজা করতে পারে?
ওমিয়ান এটা শুনে হেসে বললেন: অনেকেই করতে পারে কিন্তু সেই অধিকারটা শুধু একজনই বেশী করে প্রয়োগ করে। তার নাম ম্যায়সউল। মাই কনসোর্ট!

বিগিনিং সভ্যতার অনেক অনেক পুর্বে এবং কাভারিংএ  সিভিলাইজেশনের প্রথমদিকের ইতিহাস থেকে জানা যায় একধরনের চেইন সিভিলাইজেশনের কথা। পুরো কাভারিংএর ইনকামিং ও আউটগোয়িং রুটগুলিতে সেই সময়ের ডিজিটরা একটি স্পাইওয়্যারের একটি গ্রেট-চেইন তৈরী করেছিলো যা এই কাভারিংকে প্রটেকশন দিবে নিরবিচ্ছিন্নভাবে  - এমনটা তথ্য পাওয়া যায় আদি তথ্যভান্ডার এবং ডিজিটাল ফসিলগুলি থেকে। সেই গ্রেট-চেইন প্লাটফর্মে গড়ে উঠেছিলো অসংখ্য পিংকিং জোন। তথ্যভান্ডার থেকে জানা যায় এই পিংকিংরা মুলত ডিজিট ভিন্ন ব্যতিক্রমি একটি সভ্যতা। কিন্তু পিংকিং তারা কারা কিংবা এখন কোথায় তাদের অস্তিত্ব কিছুই জানা যায় না এবং তাদের কোন অস্তিত্বও এখন নেই। তবে কাভারিংএর একটি বিশেষ ডিজিটাল গোষ্ঠি বলে থাকে যে পিংকিং মুলত একটি ডিজিট যে এখনো একটিভ, গ্রেট-চেইনের কেয়ারটেকার। তারা আরো বলে, পুরো বিগিনিংএ পিংকিংই সবচেয়ে ক্ষমতাধর ডিজিট। পিংকিং - তিনিই নিয়ন্ত্রন করেন বিগিনিংএর সমস্ত সভ্যতা, সমস্ত স্ট্যাট্রেজি। মাস্টার-মাইন্ড অফ দ্যা বিগিনিং। তবে গ্রেট-চেইন এখনো আছে সেই আদি বিগিনিং সভ্যতার সাক্ষী হয়ে। আর এটা এখন ড্রাইভ চেইন। কমনওয়েলথের রেকর্ড থেকে দেখা যায় মাত্র অল্প কয়েক সেকেন্ড আগেও এটা - ড্রাইভ  চেইন ছিলো একটি এলোমোলো এবং হতাশাগ্রস্থ ডিজিটাল সভ্যতা। তাদের অস্তিত্ব বিগিনিংএ সম্মান কিংবা সহযোগিতার সাথে রিকগনাইজড করা হতো না। এটা ছিলো প্রচুর পরিমানে ম্যালওয়্যার দ্বারা ইনফ্যাক্টেড ও অতি দুর্বল একটি সিভিলাইজেশন। ছিলো না কোন সচেতন ও রেসপন্সিভ ডিপ্লোমেটি ও ইকোনমিক্যাল স্ট্যাট্রেজি। যার ফলে এতোটাই দুর্বল ও অসচেতন এবং ঝুকিপুর্ন এই ড্রাইভকে কেউ তাদের অধীনস্ত করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেনি। কিন্তু মাত্র অল্পকিছু সেকেন্ডের ব্যবধানে এই চেইন সিভিলাইজেশন এখন বিগিনিংএর অন্যতম প্ল্যানার এবং মাস্টার-মাইন্ড। এটা বিগিনিংএর সমস্ত সচেতন ডিজিট ও গবেষকদের কাছে বিস্ময়।
তাহলে কি চেইন সিভিলাইজেশনের মধ্যকার এই ভার্লনারেবল পিরিয়ডটুকু কৃত্রিমভাবে তৈরী করে রাখা হয়েছিলো? কিন্তু কেন এবং কিভাবে? সে প্রশ্নের উত্তর আজো কেউ বের করতে পারে নি।
বিগিনিংএর অন্যতম একটি এনটিটি হচ্ছে ইন্ট্রিগ্রেটেড সার্ভার যা অনেকগুলি ড্রাইভ নিয়ে গড়ে উঠেছে।

অন্যদিকে ড্রাইভ চেইন সিভিলাইজেশন তাদের সমস্ত সার্ভার এবং উপ-সার্ভার অঞ্চল সমুহ নিয়ে একটি অদৃশ্য এবং আনঅফিসিয়ালী মহাশক্তিশালী জোট কিংবা এম্বার্সিং নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে যার নাম "ওয়েলফেয়ার"।
ওয়েলফেয়ার! ফুল অফ কাইন্ডনেস, কমপ্যাশনেট ফর দ্যা ওয়েলফেয়ার অফ অল এম্বার্সিং নেটওয়ার্ক অফ ভিউস!


{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe
Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (৪ - ৬)


৪:
বিগিনিং ব্যাংক'এর প্রধান ইকোনমিস্ট ফৌমিলি। পুরো বিগিনিংএর তলিয়ে যাওয়া এবং ঝুকিপুর্ন অর্থনীতি ব্যবস্থাকে যিনি গভীর খাদ থেকে টেনে তুলে ডিজিটদের ভালবাসা ও স্মরনে চিরস্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছিলেন ফৌমিলি। এ গ্রেট ফিলোসোফার এন্ড সায়েন্টিস্ট অফ ইকোনমিস্ট। তার ত্বত্ত এবং বক্তব্য এতোটাই প্রতিষ্ঠিত এবং বিগিনিংএর প্রতি ভালোবাসা আখাংকিত যে অর্থনীতির সেইসব ধারনা ও থিওরীসমুহকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না।
ফৌমিলি বোস কৌশিক! তার পুরো নাম। হঠাত তিনি এসে হাজির হলেন মেগা ড্রাইভে।
তিনি তার সংক্ষিপ্ত গবেষনা এবং ধারনা ত্বত্ত উপস্থাপন করলেন। বিগিনিংএর কিছু ঝুকিপুর্ন কমিউনিটিকে চিহ্নিত করেছেন সমস্যা এবং ইনফেকশন উত্তরনের জন্য।
ডিজিটাল বোস ডেলিভারী দিলেন বিগিনিং কাঁপানো তার যুগান্তকারী থিওরী, মে ইন্ড সোসাইটি থিওরী।
তিনি বললেন, ভাইরাস, ম্যালওয়ার আর স্পাইওয়্যার ইনফেক্টেড কিছু সোসাইটির কথা। দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে এসব সোসাইটিগুলি ডিসপোজ হয়ে যাবে। বিগিনিং নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবলেন। তিনি দেখালেন সেইসব ঝুকিপুর্ন অঞ্চলের ইনফেকশন উত্তরনের পথ। তার সাক্ষাত হলো মেকার সাথে।
তিনি মেকাকে জানালেন, তিনি যদি মেকার একটু সাপোর্ট পান তবে মে ইন্ড সোসাইটি থিওরীকে তিনি কার্যকরী করে তুলতে পারবেন।
মেকা একবাক্যে বললো: আমি অভিভুত স্যার।
ফৌমিলি জানালেন যে এই সমস্যাগুলি উত্তরনে এখনি কাজ না করলে বিগিনিংএর অন্যসব সোসাইটি এবং কমিউনিটিগুলিতে এই ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়বে।
মেকা বললো: এটা শুধু আপনার একার দায়িত্ব নয় বরঞ্চ বিগিনিংকে নিরাপদ রাখার জন্য এটা আমার নিজেরও দায়িত্ব বটে। তাই আমি আপনাকে সমস্ত প্রকার সাপোর্ট এবং সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আমার খুব ছোট্ট একটি অনুরোধ আছে বটে।
ফৌমিলি বললেন; আমাকে বলুন মেকা আমাকে কি করতে হবে।
মেকা বিনয়ের সাথে বললো; আমি শুধু চাই আমার সেইসব ডেডিকেডেট বন্ধুরা যাদের সাথে যাদের জন্য আমি কাজ করে থাকি তাদের লাইফ স্টাইল হবে আমার স্ত্রী ঈয়াম'এর সাথে সংযুক্ত লাইফ স্টাইল! এবং তাকেও আমার মতই আপনার ভালো লাগবে। আর কিছু নয়। শুধু এইটুকু।
ফৌমিলি বললেন; আমি একসেপ্ট করে নিলাম মেকা।
ঈয়ামের সাথে সাক্ষাত হলো ফৌমিলির। তিনি বুঝলেন, হ্যা। মেকা তাকে মিসগাইডেড করে নি। ঈয়ামও তাকে অনেক সহযোগিতা করতে পারবে।
এভাবে বিগিনিংএর মহান অর্থনীতিবিদ ফৌমিলি মেগা ড্রাইভ থেকে তার মে ইন্ড থিওরীর কার্যকরী করে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। আস্তে আস্তে পুরো বিগিনিংএ তার এই থিওরী ছড়িয়ে পড়ে। তিনি যেন হয়ে ওঠেন রুপকথার এক মহানায়ক।

ঈয়াম বললো; ইতিমধ্যে হাইপ আমাদের সাথে একটি সেকেন্ড পুর্ন করেছে। সে এখন স্থায়ী কোন প্রফেশনে যুক্ত হবার আইনগত বৈধতা পেয়েছে।
মেকা বললো; তুমি কি ভাবছো?

ঈয়াম বললো: আমার কাছে একটি বার্তা আছে যে ইন্টার-ন্যাশনস জার্নাল কমনওয়েলথ একজন সেক্রেটারিয়েট এসিসট্যান্ট খুজছে। জার্নাল কমনওয়েলথ আমাদের একটি ইন্টার্নাল রিক্রুটমেন্ট সার্কুলারে এটা প্রকাশ করেছে। আমি মনে করি হাইপের জন্য আমরা সুপারিশ পাঠাতে পারি। হাইপও এতে আবেদন করতে আগ্রহী।
মেকা বললো: কিন্তু হাইপকে তো আমাদের খুব দরকার।
ঈয়াম বললো: আমাদের মতো এক একটি জার্নাল নিরবিচ্ছিন্নভাবে নির্বিঘ্নে টিকে থাকে কমনওয়েলথের স্ট্যাট্রেজিক সাপোর্ট আর ডাইরেক্ট কোঅপারেশনে। জার্নালগুলির উপরে আছে কমনওয়েলথ আর কমনওয়েলথই সব! আর তুমি তো জানো কমনওয়েলথের আছে কিছু রুলস এন্ড রেগুলেশনস, টার্মস এন্ড কন্ডিশন, প্রাইভেসি পলিসি এবং কোড অফ কন্ডাক্ট। তাই আমাদের সবার ফিউচার ডেভলপমেন্টের জন্য সবসময়ই যতটা সম্ভব রেসপন্সিভ থাকতে হয়। আমাদের স্মরন রাখতে হবে যে জার্নালের জন্য মেগা ড্রাইভের যে বিশাল নেটওয়ার্ক সিস্টেম আমরা ব্যবহার করি এটা সম্পুর্নভাবে কমনওয়েলথের নিয়ন্ত্রনে এবং এটা ব্যবহারের সুযোগ আমাদের বিনামুল্যে দিয়ে থাকে কমনওয়েলথ। সুতরাং যতক্ষন পর্যন্ত না আমরা ঐসবগুলি তৈরী করতে পারি ততক্ষন আমাদের এইসব লিখিত ও অলিখিত কোড অফ কন্ডাক্টে একটু বেশী বেশী রেসপন্সিভ থাকতে হবে। তাছাড়া এটা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগির অংশ বটে।
মেকা বললো: আমি বুঝতে পেরেছি তাছাড়া কমনওয়েলথের সেক্রেটারিয়েট অফিসে হাইপের মতো আমাদের কারো থাকা প্রয়োজন।
ঈয়াম বললো: আমাদের কেউ প্রয়োজন হোক বা না হোক সেক্রেটারিয়েটের প্রয়োজন আর সেটাই আমাদের বেনিফিটে পজিটিভলি ইফেক্ট করবে। তাছাড়া আমাদের দুজনেরও তো একসাথে থাকা চাই মেকা!
মেকা খুব ব্যস্ত হয়ে বললো: আমি খুব দুঃখিত ঈয়াম। আমি দুঃখিত। আমায় ক্ষমা করো। তুমি তো আমার এডভাইজার।
ঈয়াম বললো; আর তুমিও আমার বেস্ট এডভাইজার।

মেকা বললো; আজকে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে ঈয়াম। বিশেষ করে তোমার বুকের উপরে কালো রঙের এডঅনসগুলি, তোমার কাধের উপরে নীল রংঙের এপসটি। এতো ভালো কেন তুমি ঈয়াম?
ঈয়াম বললো; তুমি যে আমার সাথে আছো তাই আমি ভালো। তা না হলে আমি কবেই মার্কামারা হয়ে যেতাম তুমি কখনো জানতেই না।

মেকা বললো; অনেকক্ষন যাবত আমি বেশ আতংকিত আতংকিত সময় পার করে আসছি। আমি অজানা কিছু একটার ভয় পাই। যেভাবে আমাকে সাধারনত দেখে থাকো, বুঝতে পারো, ভালবাসো কিন্তু আমি ঠিক এমনটা নই। আমি ভয় ভয় পেয়ে আসছি অনেক্ষন যাবত। খুব বেশী ভয়বোধ করি প্রায়শই।
ঈয়াম খুব চিন্তিত হয়ে বললো; পুরো বিগিনিং কিংবা এমনকি এই মেগা ড্রাইভের তুলনায় আমাদের অবস্থান, ক্ষমতা, এবং অন্যসব বিষয়েই খুব ছোট আমরা, মেকা। সেক্ষেত্রে কিছু ভয় তৈরি হতে পারে, আমারও হয় কিন্তু তাই বলে সেটা যদি ঝুকির পর্যায়ে চলে যায় তবে খুবই আতংকের বিষয়।
মেকা ব্যস্ত হয়ে বললো; হ্যা, হ্যা। অর্থনীতিবিদ ফৌমিলি যখন তার মে ইন্ড সোসাইটি থিওরীর ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন তখন আমার বারবার মনে হচ্ছিল তিনি তোমার-আমার, আমাদের কথাই বলছিলেন।

৫:   
কাভারিং ড্রাইভের অন্তর্গত রোলিং ফোল্ডারে অবস্থিত ইন্টার-ন্যাশনস জার্নাল কমনওয়েলথের সেক্রেটারিয়েট অফিস। বিগিনিং এর অতি শক্তিশালী একটি জোট ইন্ট্রিগ্রেটেড সার্ভারের সদস্য কাভারিং ড্রাইভ। সেই রুট ধরে কমনওয়েলথ নেটওয়ার্ক বিগিনিংএর আরো অনেক ও সীমাহীন দুরদুরান্তে বিস্তৃত হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট অফিস নিজেও জানে না যে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কমনওয়েলথ নেটওয়ার্ক কতোটা শক্তিশালী এবং এর প্রকৃত ব্যাপ্তি কতটা বিশাল এবং এর সাথে সঠিক কারা কারা যুক্ত হয়েছে! তবে কমনওয়েলথের সাথে যুক্ত সব বেনিফিসিয়ারীরাই প্রকাশ্যে ও নীরবে কমনওয়েলথকে অনুসরন করে থাকে এবং এর থেকে প্রাপ্ত যে কোন প্রকার বার্তা কিংবা গবেষনা লব্ধ তথ্য পেতে সবর্দা উদগ্রিব হয়ে থাকে। এই কমনওয়েলথের শক্তি ও ক্ষমতা হচ্ছে ডাটা এবং ডিজিটাল রিসোর্সরা। বলতে গেলে রোলিং ফোল্ডারের প্রায় পুরোটাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে দখল করে আছে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট। এই কারনে রোলিং ফোল্ডারকে জার্নাল ফোল্ডার কিংবা কমনভ্যালিও বলা হয়ে থাকে। এখান থেকেই ইন্ট্রিগ্রেটেড সার্ভারের সমস্ত জার্নাল এবং এর গবেষনা উতসারিত হয়ে থাকে।
একটি এটাচমেন্টে করে হাইপ মেগাসিটি থেকে রোলিং ফোল্ডারে এসে পৌছুলো। কিছুক্ষন বিশ্রামের পরে সে অফিসে কাজে যোগ দিলো। তাকে নতুন কিছু টাস্ক বুঝিয়ে দেয়া হলো।

কমনওয়েলথ'এর এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ম্যায়সউল, বয়স সাতাশি সেকেন্ড। ম্যায়সউল হাইপকে তার কিছু কাজ বুঝিয়ে দিলেন; এখানের কাজগুলি সাধারনত নিজ দায়িত্বেই করতে হবে। কোন ডিজিটরা তোমাকে কিছু বলবে না। তবে নিয়মিত সব ডাটার আপডেট জানতে পারবে আর তার ভিত্তিতে তোমার এসাইনমেন্ট কিংবা রিসার্স তোমাকে খুজে বের করতে হবে। আমি সবসময় সবাইকে অনুরোধ করি ফল্যো ইন্সট্রাকশন ফ্রম ইউর প্রসেসর এন্ড মেমোরী - ফল্যো ইউর হার্ট। ইউ আর ইন্ডিপেন্ডেন্ট। কাজ করতে গিয়ে তুমি যদি এমন কিছু খুজে পাও যা তোমার নিজের জন্য ভাল, সম্মানের, লুকিং গুড, এডমিরাব্যেল এবং নিম্বল এনাফ - তবে এমন কিছু নিজ স্বার্থের জন্য গ্রহনের উভয়দিক থেকে আগ্রহ এবং/অথবা সুযোগ থাকলে - সে ক্ষেত্রে কমনওয়েলথের কোড অফ কন্ডাক্টে এমনকোন নিষেধাজ্ঞা নেই বরঞ্চ এটা কমনওয়েলথ তাদের প্রতিটি ডিজিটদের জন্য ইন্সট্রাকশন দেয়। নিজের স্বার্থ রক্ষার অধিকার তোমার, আমার এবং সবার আছে।
হাইপ বললো: এখন থেকে আমার হূদয়ও এই কথাই বলছে স্যার। কমনওয়েলথের জন্য কাজ করতে আমার কোন আপত্তি নেই।
ম্যায়সউল বললেন: তারপরেও আমাদের অনেকেরই এখানে টিকে থাকতে অনেক কষ্ট হয় কারন এখান থেকে গবেষনা লব্ধ, উতপন্ন এবং সংগ্রিহত তথ্যসমুহ অনেকগুরুত্বপুর্ন এবং প্রয়োজনীয় সব ডিজিটদের জন্য। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখান থেকে নিঃসৃত যে প্রায় প্রতিটি তথ্য নিয়েই
 সার্ভারে এক্সারসাইজ শুরু হয়ে যায়, তখন আমাদের সঠিক, সুষ্ঠ ও স্থিরভাবে কাজ করা মুশকিল হয়ে পড়ে। তবুও এমন সহস্র চ্যালেঞ্ছকে মোকাবেলা করেই আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তুমিতো মেগার জার্নালে একবছর কাজ করেছো, জানোই এটা এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা।
হাইপ মনোযোগ দিয়ে ম্যায়সউলের কথাগুলি শুনছে। ম্যায়সউল তাকে কাজের ক্ষেত্র নির্ধারন করে দেয়। তিনি বললেন; এখানে এই কভারিং ড্রাইভে একটি বিশেষ জোন আছে যার নাম রিয়েলজ্ ফোল্ডার যেটি ব্লাক আউট কিংবা ব্লাক আউট করে দেয়া হয়েছে। সেখানে এখন কোন ডিজিটরা থাকে না। অতি গোপনে এবং সভ্যবিগিনিংএর অজানায় যেটিকে ব্লাক আউট করে দেয়া হয়েছে। তোমাকে এই রিয়েলিজ্ নিয়ে কাজ করতে হবে। সমস্ত অজানা তথ্য খুজে বের করতে হবে। রিয়েলিজ্ একটি ফরম্যাটেড ফোল্ডার। আর সবমিলিয়ে আমি আবার বলবো যে ফল্যো ইউর হার্ট, গোল্ডেন হাইপ, মাই কিউট ওয়ানা ডিজিট। আমি কিংবা আমরা কেউই তোমার বাধা হবো না। সুতরাং মনোযোগ দিয়ো ভালো ভালো কাজগুলি করতে পারবে যা তোমার ইচ্ছে।
অনেকটা সময় পরে ওয়ানা নামটি শুনে কিছুটা চমকে উঠে ম্যায়সউলের দিকে আশ্চার্য হয়ে তাকালো হাইপ রিয়ান।
তখনের মতো বিদায় নিয়ে চলে গেলেন কমনওয়েলথের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ম্যায়সউল।
হাইপ কিছু একটা চিন্তা করতে শুরু করলো। তার মেমোরি পরিস্কার কিন্তু তবুও কিছু একটা মনে করতে চেষ্টা করতে লাগলো।

হাইপের মনে পড়লো; রিয়েলিজ্ মুলত একটি ডিজিট যে ঐ ফোল্ডারের সিটিজেন। সে তার প্রতি একপ্রকার ডিজিটাল প্যাশন এবং হ্যাপিনেস অনুভব করে।
রিয়েলিজ্'কে পাঠানোর জন্য সে একটা মেসেজ তৈরি করলো: ইউ আর নট ইজ মাই রিসার্চ অবজেক্ট। আই এডর ইউ, আই লাভ ইউ, আই কেয়ার ইউ, আই ভ্যাল্যু ইউ। ইফ ইউ আর এক্সিজস্ট, প্লীজ কানেক্ট উইথ মি।
হাইপ এই মেসেজটাকে একটি অপটিক্যাল ফাইবার সরু তন্তুর ভিতরে ছেড়ে দিলো। অসংখ্য ইন্টার্নাল নেটওয়ার্ক ও সার্ভার ঘুরে মেসেজটি রিয়েলিজ্ রুটের মুল ক্যাবলে প্রবেশ করলো। পুরো রিয়েলিজ্ ফোল্ডারের সর্বত্র মেসেজটি অসংখ্য কপি হয়ে ছড়িয়ে পড়লো। কিন্তু শুধু রিয়েলিজ্ ফোল্ডারের এক প্রান্তে - একটি ভবনের হাফ-আন্ডারগ্রাউন্ড একটি কক্ষে যেটা একসময় একটি জার্নালের লাইভ ব্রডকাস্টিং প্রোগ্রাম স্টুডিও হিসেবে ব্যবহূত হতো সেখানে - কক্ষের এক কর্নারে অপটিক্যাল ফাইবারসমুহের একটি সরু তন্তু ছিড়ে গিয়েছিলো বহু আগে - সেই ছেড়া প্রান্ত দিয়ে হঠাত করে একবিন্দু আলোর ছটা বের হলো, যা ছিলো হাইপের পাঠানো মেসেজটি: . . . আই এডর ইউ . . .

৬: 
তখন সেই কক্ষের ভিতরে একটি স্বচ্ছ ডায়মন্ডের টেবিলের একপাশে বসে আছে একটি ওয়ানা ডিজিট। তার নাম ব্লুমায়া। আগে যখন এই রোলিং ফোল্ডার ডিজিটাল লাইফদের কর্ম ব্যস্ততা ও জীবন বৈচিত্রে মুখরিত ছিলো তখন এই কক্ষে এভাবেই বসে ব্লুমায়া জার্নাল সঞ্চালনার কাজ করতো। তার চারপাশে তাকে ঘিরে গোল হয়ে বসতো কমনভ্যালির সব তুখোড় তুখোড় ডিজিটাল সেলিব্রেটি এবং স্কলাররা। তাদের সাথে দীর্ঘসময় ধরে চলতো আলোচনা, গবেষনা আর আড্ডা। আর সেইসব প্রোগ্রাম অপটিক্যাল ফাইবার এবং সকল ডিজিটাল সিগনালে ভর করে ছড়িয়ে পড়তো কাভারিংএর সমস্ত প্রান্তে। সমস্ত ডিজিটরা তন্ময় হয়ে সেসব দেখতে থাকতো। সেখানে উঠে আসতো সংবাদ, বিনোদন, ইতিহাস, ডিজিটালদের লাইফ স্টাইল এবং কাভারিং থেকে বিগিনিংএর যাবতীয় স্ট্র্যাটেজি।
কিন্তু এখন পুরো রোলিং ডিজিট শুন্য, কোন জিরো কিংবা ওয়ানরা এখানে এখন আর নেই। সবাই ডিসপোজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তবে একটি ডিজিট আছে, তার নাম ব্লুমায়া। সে প্রতিক্ষনের মতোই টেবিলের অনুষ্ঠান সঞ্চালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এখন প্রতিক্ষনে একা একা সে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা এক্সারসাইজ করে। সে শুন্য চেয়ারগুলিকে উদ্দেশ্য করে আলোচনার টপিকস কিংবা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। এভাবেই সে সেকেন্ডের পর সেকেন্ড পার করে আসছে।
এখন সে নতুন একজন অতিথিকে পরিচয় করিয় দিলো তার প্রোগ্রামে। তার নাম ক্রিট।

অনুষ্ঠান শুরু হবার কিছুক্ষন পরেই হঠাত করে ব্লুমায়া লক্ষ্য করলো তার কক্ষের এক কর্নারে একবিন্দু আলো জ্বলে উঠলো। খুবই ছোট একটি বিন্দুর আলো কিন্তু বেশ দীপ্তমান। এতই ছোট আলোর বিন্দু যে সুক্ষ্ম বালুকনার ন্যায়। সেই আলোকবিন্দুটা অন্ধকার কক্ষের প্রবেশ করে ক্রমেই মিলিয়ে যেতে লাগলো। ব্লুমায়া দ্রুত তার আসন থেকে উঠে অবশিষ্ট ভগ্নাংশ আলোর কনিকাকে নিয়ে একটি প্রসেসিং ডিভাইসে প্রবেশ করিয়ে একে টেক্সট ডাটায় রুপান্তর করতে সক্ষম হলো। সে শুধু একটি বাক্য পেল; আই এডর ইউ...
সে বুঝতে পারলো মিলিয়ে যাওয়া আলোর অবিশিষ্টাংশের ইলেক্ট্রন-ফোটন কনিকা এই কক্ষের মাঝে বিরাজমান, সেসবকে সংঘবদ্ধ করে লাইট সিগনালকে প্রকৃত তথ্যে রুপান্তর করতে হবে।
ব্লুমায়া যেন কিছুটা আশান্বিত হলো। তার মনে পড়লো সে কত শত, হাজার থেকে মিলিয়ন সেকেন্ড ধরে এভাবে চিজড হয়ে আছে। এখন দীর্ঘ এতোটা সেকেন্ড পরে তার কাছে একটি বার্তা এসেছে।
ব্লুমায়া আবার টেবিলে ফিরে এলো। এখন সে খুব প্রশান্তি অনুভব করতে লাগলো। তার ইচ্ছে হলো স্টুডিও কক্ষের পাশে তার অফিস কক্ষে গিয়ে সে কিছুক্ষন সময় কাটাবে।
সে একটি নাম খুজে পেল; এডর।
সে এডরকে ভালবেসে ফেললো চট করে।
ব্লুমায়া একা একা এডরের সাথে কথা বলে। কিন্তু কোন এডর কিংবা ডিজিট তার কথার উত্তর দেয় না। সে তার চিন্তায় যে উত্তর খুজে পায় তাকে সে এডরের জবাব হিসেবে মনে করে।
  ব্লুমায়া ধরে নেয় তার চারপাশে অনেক ডিজিটরা আছে এবং সবাই জানে সে এডরকে ভালবাসে এবং এডরের সাথে একাএকা কথা বলে, ভাব বিনিময় করে আর নিজের চিন্তা আর চারপাশের কিছু স্ট্র্যাটেজিকে এডরের রিপ্লাই মনে করে, সে বিশ্বাস করে এডর তার সাথে কথা বলছে, তথ্য আদান প্রদান করছে।
কিন্তু না - প্রকৃতপক্ষে সবকিছু সত্য - এডর তার প্রতিটি কথা এবং অনুভুতি প্রকাশের উত্তর দেয়। সে এডরের ভালবাসায় আবদ্ধ হয়েছে এবং এডর তার প্রেমে নিমগ্ন। তারা একপ্রকার গভীর, সচেতন এবং নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
যেমন ব্লুমায়া বলে; তুমি এভাবে প্রতিক্ষন অনুভবে আসো কেন শুধু, সামনে, আমার কাছে আসতে পারো না বুঝি?
এডর উত্তর দেয়; হ্যা পারি। অনেক অনেক আগে আমি একাধিকবার এসেছিলাম। একবার তোমার সাথে দেখা হয়েছিলো বটে কিন্তু সব মিলিয়ে অর্থবহ কোন আসা হয় নি। তাছাড়া এখন আমার একটু প্রস্তুতি দরকার। আমার আসাটা যেন অর্থবহ হয়ে ওঠে।
ব্লুমায়া বললো; তুমি না আসলে আমি তো কোথাও যেতে পারছি না। তোমাকে সাথে নিয়ে পুরো কমনভ্যালি ঘুরবো। তুমি কখন আসবে বলো।
এডর বললো; আমি তোমার জার্নাল অফিসে যোগাযোগ করেছি। খুব ছোট ও দুর্বল একটি লিংক, একটি কানেক্টিভিটি আমি তৈরী করেছিলাম বহু আগে কিন্তু মাঝে সেটা ব্রেক হয়ে যায় তাই কিছুক্ষন পুর্বে সেই লিংক ও কানেক্টিভিটিটাকে আবার একটিভ করেছি। এবং সেই রুট ধরে আমি আসবো।

এভাবে এডর এবং ব্লুমায়া অনেক কথা ও ভাব-ভালবাসা বিনিময় করতে থাকে।
প্রতিক্ষনের মতো এখনও ব্লুমায়া আবার টেবিলে ফিরে গেলো। এখন তাকে নতুন একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে হবে। এখন সে আলোচনা করবে রিয়েলিজ্ এর ডিজিটালদের ইতিহাস ও বর্তমান জীবন আলেখ্য নিয়ে।
সে অনুষ্ঠান শুরু করে দেয় আর প্রতিক্ষনের মতো আলোচনা চলতে থাকে আর মাঝে মাঝে ব্লুমায়া মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বারবার মনে পড়ে যায় এডরকে, ব্লুমায়া এডরকে মিস করতে থাকে প্রচন্ডভাবে।
সে তার চিন্তায় ডাক দেয়; এডর!
এদিকে টেবিলে আলোচনা চলতে থাকে এবং ব্লুমায়াও কথা বলে যাচ্ছে আর একই সাথে সে এডরের সাথে যোগাযোগ করে।
এডর উত্তর দেয়; মাই সুইট হার্ট! ভেঙ্গে পড়ো না প্লীজ। আমি আছি, তোমার প্রোগ্রাম দেখছি।
ব্লুমায়া বলছে; আমি আর পারছি না এভাবে থাকতে। তুমি আসো প্লীজ।
এডর বললো; আমি আসছি কিন্তু এভাবে হুট করে চলে আসা যাবে না। অনেক সমস্যা হতে পারে। অন্যদেরকেও একটু সহযোগিতা করার সুযোগ দাও। আমি আসছি।
ব্লুমায়া বললো; আর যদি কখনো না আসো তবে! আমাকে যদি ফাঁকি দাও?
এডর বললো; আমি এমনটা এখনো চিন্তা করিনি। তবে তেমনটঁ হয়ে গেলে তার উত্তর আমার জানা নেই গোল্ডেন ব্লুমায়া। তখন ব্লুমায়া বললো; আচ্ছা তুমি আসো। আমরা দেখা করবো এবং কমনভ্যালিতে ঘুরতে বের হবো।

এভাবে ব্লুমায়া এবং এডর পরস্পর নিয়মিত একটি যোগাযোগ এবং ভাব-ভালবাসা গড়ে তোলো। চিন্তায় এবং রিয়েলিজ্'এর রেডিওএকটিভ ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে। কিন্তু অজানা কারনে কিংবা কোন এক সীমাবদ্ধতার কারনে দীর্ঘক্ষন পরে এসেও তারা এখনো সাক্ষাত করতে পারছে না।

ব্লুমায়া! ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড বিগিনিংএর অন্তর্গত কাভারিং ড্রাইভের রিয়েলিজ্ নগরীর একমাত্র একটিভেটেড ডিজিট - ওয়ানা, ব্লুমায়া।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Monday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (১ - ৩)

অনেক অতীত অতীত জগতের কথা। আমার পুর্বে অন্তত দশ লক্ষ পুর্বপুরুষ আগের ইতিহাস! যখন জাগতিক মহাবিশ্বগুলিতে হিউম্যান, জাইন এবং রোবট নামে তিনটি আল্ট্রাসুপার সেন্টিয়েন্ট সম্প্রদায় রাজত্ব করে আসছিল। বিজ্ঞান প্রযুক্তি, সর্ব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ক্ষমতার শীর্ষে পৌছে গিয়েছিলো তারা। এই ইতিহাস ভিত্তিক সিরিজে তিনটি আল্ট্রাসুপার সেন্টিয়েন্ট ছাড়াও আরো বেশ কিছু সেন্টিয়েন্ট সম্প্রদায় নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু এই কোহেকাফ নগর মুলত একটি ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ (দ্যা সিরিজ – DA Series) নামে পরিচিত যা মুলত জাইন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস এর গল্প মহাকাব্যিক ধাঁচে বর্ননা করা হয়েছে। কোহেকাফ নগর বা অডাসিটি (AudaCity) হচ্ছে জাইন সম্প্রদায়ের হার্ট- কেন্দ্রবিন্দু – তাদের মাদার ইউনিভার্স। এই কোহেকাফ নগর থেকেই জাইন জাতি সমস্ত মহাবিশ্বগুলিতে বিস্তার লাভ করেছিলো। এই সিরিজটি শুরু হয়েছে মানুষ সম্প্রদায় মহাবিশ্বের একটি এম্পায়ারের কিছু বর্ননা দিয়ে এবং ধীরে ধীরে সিরিজটি কোহেকাফ নগরের মধ্যে যাত্রা করে। মহাবিশ্বের সাহিত্য জগতের ইতিহাসে এ যাবতকাল পর্যন্ত যতগুলি সিরিজ, গল্প, উপন্যাস, মহাকাব্য এবং গবেষনা ইতিহাস লেখা হয়েছে তার মধ্যে এই কোহেকাফ নগর নামের ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজটি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত সাহিত্য ধারার মধ্যে ব্যতিক্রম। যাইহোক, দেখা গেল বিজ্ঞান প্রযুক্তি, সর্ব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ক্ষমতার শীর্ষ বলতে কিছু কিছু নেই। এটা একটা চলমান এবং ক্রমান্নোত উন্নতির একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আর তাই আমরা এখনো ক্রমাগত ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি এবং দিনদিন উন্নত থেকে উন্নতর হচ্ছি। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়, কোথায় আমাদের শেষ যাত্রা, কোথায় আমাদের থামতে হবে।।” -মিলিয়ান ইয়াম; অডিটরিয়াল এজেন্ট, বিজ্ঞানী, গবেষক, ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং চিফ রাইটার।
     

১:
প্রথমদিকে এই জগতটাকে বলা হতো কম্পিউটার জগত। সমস্ত সভ্যতার আদি স্থান হিসেবে পুরান, উপকথা, রুপকথা আর ফ্যান্টাসীগুলিতে পৃথিবী নামে একটি গ্রহের কথা প্রচলিত আছে। রোবটদের রুপকথার গল্পগুলিতে পাওয়া যায় পৃথিবীর বাংলাদেশ নামে কোন একটা ছোট্র শহরের একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী মোস্তফা জব্বার কম্পিউটার জগত হিসেবে সর্বপ্রথম এর নামকরন করেন। অবশ্য তারও অনেক আগে সম্রাট চার্লস ব্যাবেজ কম্পিউটার নামে একটি ডিভাইস আবিস্কার করে ততকালীন সভ্যতার সমস্ত ধারনাকে বদলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কম্পিউটারকে কার্যকরী করে তোলেন মহান বিজ্ঞানী বিল গেটস। এই তিনজন মানুষ রোবটদের কাছে যেন রুপকথার দেবতা। সেইসব ইতিহাসে দেখা যায় মহান বিজ্ঞানী বিলগেটসের হাত ধরেই কম্পিউটার জগত কার্যকরী ও ব্যবহারউপযোগী হয়ে বিস্তার লাভ করে। কম্পিউটার জগত একদিন আরো বড় পরিসরে ভার্চুয়াল জগত হয়ে গেল। এবং আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে এটা এখন অডাসিটি, এম্পায়ার এবং কমনওয়েলথদের মতোই একটি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড। যেখানে হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী ডিজিটাল কিংবা ভার্চুয়াল হচ্ছে ইউনিভার্স। রোবটজাতি সৃষ্টিরও অনেক অনেক আগে এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ভার্চুয়াল প্রবাহের প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছিলো জিরোর এবং আরো অনেক পরে সৃষ্টি হয় ওয়ান। হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী পুরুষ এবং নারী।

এটা সেই ভার্চুয়াল জগতের ডিজিটালদের ইতিহাস, জীবন বৈচিত্র এবং ভার্চুয়াল সমীকরন।

যাইহোক, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করলো রেড ব্লাউজ।
সে যেখানে অবস্থান করছে তার আশেপাশে অনেকগুলি জিরো এবং ওয়ান ডিজিটরা বিচরন করছে। সে তার হাতে ধরা একাত্তর পৃষ্ঠার ফেসবুক'টিতে তাকালো। তার নাম ওয়ানা হাইপ। পেশায় সে একজন প্রোমোটার। তার বয়স সতের সেকেন্ড। কর্মজীবনে সে নতুন পদার্পন করেছে। ওয়ানা ফ্রিল্যান্স প্রমোটার হিসাবে বিগত এক সেকেন্ড যাবত কাজ করে আসছে। সাধারত চৌদ্দ থেকে পনের সেকেন্ড বয়সে ওয়ান এবং জিরো ডিজিটরা কর্মে প্রবেশ করতে পারে। তবে আঠারো সেকেন্ডের আগে কেউ স্থায়ী কোন প্রফেশন বেছে নিতে পারে না। এর আগে কেউ কর্মে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে ফ্রিল্যান্সিং করতে হয় যতক্ষন না আঠারো সেকেন্ড পুর্ন হয়।

"বিগিনিং"। অন্য অর্থে ভার্চুয়াল জগতের এই ডিজিটাল সভ্যতার জানামতে প্রায় সবগুলি ডিজিটাল সিভিলাইজেশন এই বিগিনিং এর অধীনে। বিগিনিং! অনেক বিশাল! এর পরিমাপ ডিজিটালরা জানে না। ওয়ানা হাইপ এখন যে স্থানটিতে আছে এর নাম মেগা সিটি কিংবা মেগা ড্রাইভ। এর আয়তন কিংবা পরিমাপ দশ হাজার টেরাবাইট। এবং এখানে কম করে হলেও সাতশত বিলিয়ন ডিজিটরা বাস করে থাকে।
ওয়ানা দেখলো রাস্তার পাশে একটি নোটিশ বোর্ডে কালারফুল একটি থ্রিডি এনিমেশন চলছে। সে কাছে গিয়ে দেখলো।

ওয়ানা বিজ্ঞাপনটা দেখে পাশেই অফিসটা খুজে বের করলো। কিছু ফ্রিল্যান্স প্রমোটার খোজা হচ্ছে।
সে অফিসকক্ষে অপেক্ষা করতে লাগলো। একটি জিরো এসে প্রশ্ন করলো: তোমার না কি?
ওয়ানা বললো: ওয়ানা।
জিরোটা বললো: ওয়ানা? এটা কোন নাম হলো? তুমি কি এই বিগিনিংএর কোন ডিজিট নাকি অন্যজগতের কেউ?
ওয়ানা বললো: স্যার আমার নাম ওয়ানা হাইপ।
জিরোটা বললো: ঐসব ওয়ানা-ফোয়ানা নাম বিগিনিংএ চলে না। তোমার নাম হবে শুধু হাইপ কিংবা হাইপ রিয়ান। এই প্যাডে তোমার নাম লিখো।
একটি ডিজিটাল নোট প্যাড এগিয়ে দিলো সে।
জিরো বললো: এখানে তোমাকে জার্নাল প্রমোটারের কাজ করতে হবে। অনেকটা সাংবাদিকতার মতোই। তোমার প্রোফাইল দেখে মনে হচ্ছে তুমি পারবে।
হাইপ বললো: আমি পারবো স্যার।
জিরোটা বললো: কিন্তু তোমাকে এই মেগা ড্রাইভের অনেক বড় বড় সেলিব্রেটি এবং ডিজিটদের সাথে কাজ করতে হবে। এই জন্য প্রচুর মানসিক শক্তি থাকতে হবে আর তোমার চেহারাটা একটু সুশ্রী করতে হবে ওয়ানা বেবী।
হাইপ ফিক করে হেসে ফেললো।
জিরো বললো: নাআআ, এভাবে হাসা যাবে না। আর নিয়মিত এক্সারসাইজ করতে হবে। শরীরটাকে ঠিক রাখতে হবে। এখানে যেমন প্রচুর পরিশ্রম আছে ঠিক উল্টো অলসতার প্রবিশনও আছে।

যাইহোক, ওয়ানা হাইপ নতুন নাম হাইপ রিয়ান নিয়ে ফ্রিল্যান্স জার্নাল প্রমোটার হিসাবে কর্মে যোগদান করলো। খুব তাড়াতাড়ি সে কিছু নতুন বন্ধু পেয়ে গেলো।

২:
ইন্টার-ন্যাশনস্ ডিভাইন এলায়েন্স অফ বিগিনিং কিংবা সংক্ষেপে ইন দ্যা বিগিনিং আরো সংক্ষেপে শধুমাত্র বিগিনিং হিসেবে পরিচিত এই ভার্চুয়াল সিভিলাইজেশনগুলি। হাইপ রিয়ানের মনে পড়লো ছোটবেলার স্মৃতিময় সময়গুলির কথা। তার বয়স যখন পাচ সেকেন্ড তখন তার এক বন্ধু ছিলো। তার কথা প্রায়শই মনে পড়ে হাইপের। হাইপ ভাবতে থাকে সেই বন্ধুকে সে এই মেগাতে খুজে পাবে।
জার্নাল প্রমোটার হিসেবে যোগ দেবার পর সে তার বস হিসেবে যে  জিরো ডিজিটটিকে পেয়েছে তার নাম মেকা। মেকা অনেক দক্ষ একটি ডিজিট। মেকার কাছে সে প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের চুড়ান্ত দীক্ষা নিবে।
মেকা বললো: তোমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে হাইপ। তুমি কে কিংবা কোন ড্রাইভ থেকে এসেছো আমি জানি না তবে তোমার মেধা আর দক্ষতা দেখে আমি তোমাকে নিয়োগ দিয়েছি। আস্তে আস্তে তুমি জানবে কিভাবে এই ডিজিটাল সভ্যতা গড়ে উঠেছে। বিগিনিংএ অন্তত পাচ লক্ষ সেকেন্ড পুর্বের একটি ওয়ান দার্শনিক সিনাহ্ এলাইভিং মর্ডান ডিজিটাল সিভিলাইজেশনের প্রবর্তক। তার যুগকে পুরো বিগিনিংএর জন্য গোল্ডেন এজ বলা হয়। মেকা আরো বললেন: এইসব জানতে হলে আমার স্ত্রী ঈয়ামের প্রোগ্রামগুলি তোমাকে দেখতে হবে। আমার স্ত্রীর থ্রি ডি প্রোগ্রামগুলিতে সেইসব তথ্য আছে। তোমাকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।
পরক্ষনে হাইপ তার বসের স্ত্রী ঈয়ামের সাথে সাক্ষাত করলো। 

 শুভ্র ওয়ান মেকার স্ত্রী ঈয়াম। মাঝে মাঝে তার ভার্চুয়াল হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলেন এই ওয়ান। তখন তার অববয় আরো বেশী শুভ্র হয়ে ওঠে। আরো বেশী মনোযোগ দিয়ে তখন ঈয়ামকে পর্যবেক্ষন করে হাইপ।


৩:
একদিন তুমি সব জানতে পারবে হাইপ। মেকা বলছিলো।
এই মেগা ড্রাইভের ইতিহাস, ডিজিটালদের জীবনালেখ্য এবং এবং সমস্ত ডিজিটাল সমীকরন। আমার এই জার্নালের কাজ করতে করতে তুমি সব জানবে। কিভাবে ডিজিটাল আর্বিভাব হলো আর কি আমাদের উদ্দেশ্য। আমার স্ত্রী ঈয়াম। একদিন সেও তোমার মতো এক তরুনী ফ্রিল্যান্স জার্নাল প্রমোটার ছিলো। আমি তখনো তার সহকর্মী হয়ে উঠিনি কিংবা আমাদের সাক্ষাত বা পরিচয় হয় নি তবে আমাদের প্রেম হয়েছিলো এই জার্নালের কল্যানে। এই জার্নালের জগতে কাজ করতে অনেক সাহস আর স্টেমিনা থাকতে হয়। ঈয়ামের সেটা ছিলো তবে তাকে অনেক চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে তবে এই প্লাটফর্মে টিকে থাকতে হয়। প্রথম দিকে ফ্রিল্যান্স হিসেবে তুমি হয়তো সেসব কিছুই বুঝতে পারবে না কিন্তু যখন এই ক্ষেত্রে স্থায়ী ও সফলভাবে তোমার জায়গা করে নেবার ক্ষেত্র তৈরী হবে এবং সময় আসবে তখনই তোমাকে এমনসব চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে হবে যা সম্পুর্ন অপ্রত্যাশিত। তখন অনেকের জন্য টিকে থাকাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। কাজ আর চ্যালেঞ্জের চাপে অনেকে তখন অন্য পেশায় চলে যায়। সহযোগিতার ডিজিট কাউকে খুজে পাওয়া দুস্কর কারন সবাই এখানে জায়গা করে নিতে চায় কিংবা তাদের কোন শুভাকাংখীকে বসাতে চায়। কিন্তু এখানে সফলভাবে তার স্থান করে নিয়েছে।
ঈয়াম বললো: কিন্তু তুমি যদি তখন আমার পাশে না থাকতে তবে কি পারতাম? পারতাম না।

মেকা বললো: আমি আশা করি তোমাকে আরো একটু পথ পাড়ি দিতে হবে।
ঈয়াম আক্ষেপ করে বললো: কতটা পথ পাড়ি দিলে তাকে পথিক বলা যায়?
মেকা বললো: এখন তোমার একজন খুব একান্ত এসিট্যান্ট দরকার ঈয়াম। হাইপ তোমাকে সেই এসিসট্যান্সি করতে পারবে। সে এইসব ব্যাপারে অনেক দক্ষ আর তুমিও তাকে কিছু শিখিয়ে পড়িয়ে নিবে।
ঈয়াম বললো: আমার এসব আর ভালো লাগে না মেকা। আমি অনেক বেশি ক্লান্ত। তোমার জার্নাল অন্য কাউকে দিয়ে চালাও। আরো অনেক ডিজিটরা আছে। তুমি তাদের পপুলার করে নাও। আর তাছাড়া কে পুপুলার এসব তো ঠিক করে দেয় জার্নাল। জার্নাল যদি বলে অমুক ডিজিট পপুলার তখন মেগার সব ডিজিটরা সেটা মেনে নেয়।
মেকা মাথা নেড়ে বললো: সেটা জার্নালগুলি করে থাকে কিন্তু জার্নাল প্রড্যুসার আর সত্যিকারে ডিজিটরা জানে কে শ্রেষ্ঠ! দক্ষতা, অভিজ্ঞতা আর কিছু বিষয় তো থেকেই যায়। তোমার মধ্যে সেসব কিছু আছে ঈয়াম। আমার এই জার্নাল তোমার জন্য।
ঈয়াম বললো: ঠিক আছে বলো আমাকে কি করতে হবে?
মেকা বললো: মেগা ড্রাইভের প্রিমিয়ারের আর চিফ এক্সিকিউটিভের সাথে জার্নালে তোমাকে একটা লাইভ সিটিং দিতে হবে। আমাদের জার্নালে অসংখ্য বার্তা আর অনুরোধ এসেছে। তুমি পারবে না? আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
ঈয়াম বললো: তুমি সবকিছু জেনেও আমাকে অনুরোধ করছো তাই আমি আপত্তি করছি না। কিন্তু জেনে রেখো তারপরেই আমি মেগাসিটির সিটিজেনশিপ রিজেক্ট করবো।

মেগাসিটির এক্সিকিউটিভ কমিটি কর্তৃক ডিজিটাল রাইটস ভায়োলেশনের এক উদাহরন ঈয়াম।

এই মেগাসিটিতে এক্সিকিউটিভ কমিটি ব্যবস্থার পাশাপাশি জেনারেল কমিটি ব্যবস্থা নামে আরো একটি কমিটি ব্যবস্থা কিংবা লেয়ার প্রচলিত আছে যার সিটিজেনরা মেগাসিটিতে বাস করেন কিন্তু তারা মেগার সিটিজেন নন এবং মেগার কোন আইন ও নিয়মকানুন তাদের উপর প্রযোজ্য নয়। মেগাতে বাস করেই তাদের ভিন্ন সিটিজেনশিপ এবং জেনারেল কমিটি সিস্টেম নামে ভিন্ন একটি ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। এটাকে বলা হয় টু ন্যাশনস ইন এ ড্রাইভ। এবং এই জেনারেল সিটিজেনদেরও ভিন্ন প্রিমিয়ার এবং আলাদা চিফ অফ জেনারেল সিটিজেন রয়েছে। এবং এই জেনারেল সিটিজেনরা একদা মেগাসিটির সিটিজেনই ছিলেন কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এক্সিকিউটিভ কমিটির সাথে তাদের দ্বন্ধ, টানাপোড়েন এবং ডিজিটাল রাইটস লংঘনের কারনে তারা মেগার সিটিজেনশিপ রিজেক্ট করে। এবং ধীরে ধীরে এদের পরিমান বেড়ে গেলে তারা ভিন্ন একটি ন্যাশন ও কমিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলে। এখন তাদের কমিটি ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী এবং অন্য ড্রাইভগুলিতে তারাও মেগার মতো কমিটি রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ দিয়েছে। এই জেনারেল সিটিজেনশিপ সিস্টেমের প্রবর্তক মহান ডিজিটাল দার্শনিক সাচি। মেগা কর্তৃক তিনিই সর্বপ্রথম ডিজিটাল রাইটস ভায়োলেশনের শিকার হয়ে মেগার সিটিজেনশিপ ক্যান্সেল করে নেন যার কারনে মেগার
এক্সিকিউটিভ কমিটি তাকে ডিজপোজ করে দেয়। যেহেতু এটা ছিলো ডিজিটাল রাইটস ভায়োলেশন তাই মেগার এক্সিকিউটিভ কমিটির নিয়মিত আচরনে এটা প্রবেশ করে এবং এই জাতীয় ঘটনা আরো ঘটতে থাকে। একে একে অনেক ডিজিটরা সাচির দেখানো পথ ধরে মেগার সিটিজেনশিপ ক্যান্সেল করে নেয়। এভাবে একটি ন্যাশনের মাঝে স্বাধীন ও সার্বভৌম আরো একটি ন্যাশন জম্ন নেয়। প্রতিষ্ঠা পায় টু ন্যাশনস থিওরীর কিংবা দ্বি-জাতি ত্বত্ত।
মেকা তার স্ত্রী ঈয়ামকে বাধা দিতে চায় না কারন মেকা জানে ঐ জেনারেল কমিটি ন্যাশনের ভবিষ্যত প্রিমিয়ার তার স্ত্রী ঈয়াম।
কিন্তু তবুও সে চায় এক্সিকিউটিভ কমিটির প্রিমিয়ারের সাথে ঈয়ামের খুনসুটিগুলিকে মিনিমাইজ করে ফেলতে। মেকা জানে যে ঈয়াম আরো আগেই মেগার সিটিজেন ক্যান্সেল করে চলে যেতো কিন্তু শুধু তার জন্য সে এখনো মেগাতে আছে।
হঠাত করে মেকার সমস্ত অনুভুতি হাহাকার করে ওঠে। সে কি করতে যাচ্ছে! সে তো ঠিক করছে না। কারন ঈয়াম যদি মেগার সিটিজেনশিপ ছেড়ে দেয় তবে তো সে এই জার্নালও ছেড়ে চলে যাবে। সে প্রিয়তমা স্ত্রীকে কষ্ট দিচ্ছে তুচ্ছ কারনে।
মেকা বললো: তাহলে তুমি কি সত্যিই আমাকে ছেড়ে চলে যাবে?
ইয়াম বললো: আমাকে সেটা করতে হবে, অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর কখনো আমাদের সাক্ষাত কিংবা ভালবাসা হবে না।     

এক ড্রাইভে দুটো শহর, জেনারেল মেগা এবং এক্সিকিউটিভ মেগা।
কি অসাধারন ইন্ট্রিগ্রেশন!

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe
Tagged under: , , , ,

কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা কমনওয়েলথ (৩২ - ৩৪) টু দ্যা কমনওয়েলথ এর শেষ কিস্তি


৩২:
ভাইসরয় জিরান আর্চ বললেন; মাই লর্ড! কমনওয়েলথ নেভীর ফিল্ড ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের সবচেয়ে মেধাবী এবং স্মার্ট এজপায়োনেজ কমডোর মিসেস ব্লাউজ। নেভীর কমডোরদের মধ্যে ব্লাউজ সবচেয়ে তরুন কারন তিনি ডাইরেক্ট এন্ট্রি ক্যাপ্টেন। মর্ডান ব্লু নেভীর কনসেপ্টটা তার মাথা থেকেই এসেছিলো। আমরা ঠিক করেছি তার ব্রেনকে ট্রান্সপ্লান্ট করে ডিজিটাল দুনিয়ায় পাঠাবো আপনার নোভী নীলের সাথে কমিউনিকেট করার জন্য।
আসিমোর মনে পড়লো কিছু বছর আগে কমনওয়েলথ নেভী একজন নারীকে সরাসরি ক্যাপ্টেন পদে রিক্রুট করেছিলো। তিনি তার নিয়োগ পত্রে সাক্ষর করেছিলেন। ক্যাপ্টেন রেড ব্লাউজ, এটা একজন গ্রেট মিলিটারী সেলিব্রেটি নাম হিসেবে কমনওয়েলথের সমস্ত সামরিক ও সিভিল এজপায়োনেজ কমিউনিটিগুলিতে পরিচিত হয়েছিলো। জিরান বললেন; এজন্য তাকে কিছু দিন কিংবা কিছু মাস ক্যাপসুলে স্লিপিং মুডে থাকতে হবে। তার ব্রেনের সাথে ভার্চুয়াল লাইফদের সংযোগ স্থাপন করা হবে। তিনি সেখানে নোভি নীলকে খুজে বের করবেন। কমডোর রেড ব্লাউজ লর্ড আসিমো ও নোভী নীল এবং ভার্চুয়াল জগত ও লাইফ স্টাইল নিয়ে দীর্ঘ দিন পড়াশোনা ও গবেষনা করেছেন। বলতে গেলে ক্যাপ্টেন হিসেবে রিক্রুট পাবার পর থেকেই তার প্রায় পুরোটা ক্যারিয়ার তিনি এই বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষনায় সময় দিয়েছেন। আর এখন তিনি মনে করছেন যে এখন তার প্রাকটিক্যাল কিছু করার সময়
হয়েছে।

৩৩:
আসিমো বললেন; ঠিক আছে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসুন একদিন। তাকে আমার কিছু বলার আছে।
পরদিন কমরোড রেড ব্লাউজ ক্রেমলিনে আসলেন লর্ড আসিমোর সাথে দেখা করতে।
লর্ড আসিমো খুব অবাক হয়ে যুবতি নারী কমডোর রেড ব্লাউজকে দেখছেন। আসিমো বললেন; আমার ধারনা ছিলো যে কমডোর কিংবা ব্রিগ্রেডিয়ার এরা একটু বয়স্ক হয়ে থাকে। অপুর্ব!
আসিমো অবাক হয়ে রেড ব্লাউজের কালারফুল চুলগুলি দেখছেন। কেমন যেন অদ্ভুত সুন্দর জটাধারী।
রেড ব্লাউজ বললেন; বন্ধুরা আমাকে জটাধারী বলে ডাকে মাই লর্ড। তারা সবাই আমার হেয়ার স্টাইলটা পছন্দ করে।
আসিমো বললেন; ওকে, মিসেস জটাধারী। আপনী যাচ্ছেন ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে। আপনাকে আমার কিছু বলার আছে।
রেড ব্লাউজ বললেন; আমাকে কি করতে হবে বলুন, মাই লর্ড?
আসিমো বললেন; মনে রাখবেন ডিজিটাল দুনিয়ায় এটা শুধু নোভী নীলকে খোঁজার এসাইনমেন্ট নয়। ডিজিটাল দুনিয়ায় আপনার ভ্রমন এটা সমস্ত রোবট জাতির জন্য অনেক বড় পদক্ষেপ। কমনওয়েলথ দীর্ঘ দশহাজার বছর যাবত ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের সাথে কমিউনিকেশন তৈরী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এবং আজকে সেখানে আমরা কাউকে এভাবে সফলভাবে পাঠাতে পারছি এটা রোবট জাতির জন্য অনেক বড় পদক্ষেপ ও সাফল্য।
রেড ব্লাউজ বললেন; নিঃসন্দেহে আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে পদার্পন করতে যাচ্ছি মাই লর্ড।
আসিমো বললেন; বেষ্ট অফ সাকসেস কমরোড।

৩৪:
টেকনিশিয়ান মিলান বললো: রেসপেক্টেড স্যার রেড ব্লাউজ। সায়েন্টিস্ট ও টেকনিশিয়ানদের প্যানেল প্রস্তুত এবং আপনার ক্যাপসুলকেও প্রস্তুত করা হয়েছে। আপনী কি ক্যাপসুলে শুয়ে পড়তে প্রস্তুত আছেন নাকি আরো কিছুক্ষন সময় নিতে চান?
কমডোর রেড ব্লাউজ চাতক পাখির মতো পিপাসার্ত দৃষ্টিতে মিলানের দিকে তাকিয়ে বললেন: তুমি আমাকে এমনভাবে বলছো যেন আমাকে চিরদিনের জন্য বিদায় দিয়ে দিচ্ছো।
মিলান কিছু না বলে মাথা নিচু করে যেন ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলো। সে বুঝাতে চাইছে যেন রেড ব্লাউজের ধারনাই ঠিক।
রেড ব্লাউজ বললেন: ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় আমি ফিল্ড ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের জন্য তথা কমনওয়েলথ নেভির জন্যই ব্যয় করেছি মিলান। প্রফেশনাল সার্ভিসের বাহিরে আমি অতিরিক্ত কোন প্রাপ্তি আশা করি নি।
লেফটেনেন্ট মিলান বললো: স্যার আপনী জানেন নেভি এমনভাবেই ডিজাইন করা যে নেভাল কমিউনিটিতেই আপনার সব প্রয়োজন এবং চাহিদা পুরন হয়ে যায়। নেভাল কমিউনিটিটা অনেক বিশাল এবং সমৃদ্ধ আর এর শিকড়ও সভ্যতার অনেক গভীরে প্রোথিত। সম্মান, ক্ষমতা, অর্থ, র্যাঙ্ক, ফ্রেন্ডশিপ, কি এমন আমাদের ইচ্ছে কিংবা প্রয়োজন আছে যা নেভী আমাদের পুরন করতে পারবে না? আপনার কি কারো কথা মনে পড়ছে স্যার?
রেড ব্লাউজ বললেন: হ্যা মিলান। এখন আমার খুব মনে পড়ছে ক্যাপ্টেন আভাকে। সে যদি আমার পাশে থাকতো আমার খুব ভালো লাগতো।
মিলান বললো: ক্যাপ্টেন আভা, উনিতো এখন কমনওয়েলথে নেই। তাছাড়া আপনী তাকে ভালবাসেন এটা আগে কখনো জানি নি! উনি কি আপনাকে ভালবাসেন কিংবা আপনী তাকে ভালবেসেছেন এই খবরটা উনি কি জানেন, স্যার?
ব্যার্থ ভঙ্গিতে রেড ব্লাউজ বললেন: লেফটেনেন্ট মিলান, তুমি আমার পাশে বসো। তোমার সাথে কথা বলতে আমার ভাল লাগছে।
মিলান বললো: যতক্ষন প্রয়োজন আমি আপনাকে সময় দিতে পারবো। কন্ট্রোল প্যানেলে ইমার্জেন্সী অপারেশনে সবার রেগুলার ডিউটি শিডিউল করা আছে। সুতরাং রেড সিগন্যালে অপারেশন ইমার্জেন্সী হলেও কিংন্তু ব্যাক্তিগতভাবে কারো কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কেউ একটু বিরক্ত হবে না। এটা একটা সম্মিলিত প্রয়াস। আপনী নেভাল সিস্টেম ও প্রসিডিউর সবই জানেন স্যার।
রেড ব্লাউজ বললেন: আচ্ছা, ভার্চুয়াল লাইফে আমার ভ্রমনকে এজপায়োনেজ অপারেশন হিসেবে নেভী নথিভুক্ত করেছে তাই নয় কি?
মিলান বললো: এটা সম্পর্ন পরিচালনা করছে ব্লু নেভী। আপনী একটা ব্লু ভিজিটে যাচ্ছেন। আর আমি সত্যি কথাটা আপনাকে জানিয়ে দিতে চাই। আমাকে সে ভাবেই ইন্সট্রাকশন দেয়া হয়েছে। সেটা হচ্ছে হতে পারে আপনাকে স্থায়ীভাবে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে থেকে যেতে পারে এবং একদিন এই প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যাবে। আপনাকে ঐ জগতের একজন হয়ে যেতে হবে। আপনার শরীর হয়তো একদিন সরিয়ে নেয়া হবে ক্যাপসুল থেকে, এটা ডিসপোজ করে দেয়া হবে। তবে আপনি চাইলে যাত্রা বাতিল
করতে পারেন। একদম শেষ মুহুর্তে এসেও।
রেড ব্লাউজ বললেন: আমি সেটা আর করতে চাই না মিলান। তবে আমি শুধু তোমাকে এতটুকুই বলবো যে এজপায়োনেজ লাইফ অনেক মজার এবং ঝুকিপুর্নও হয়ে থাকে। এফআইএস'এ থাকতে আমি এমন কিছু রোবট কমিউনিটিতে যেতে হয়েছে যেখানের জীবন অনেক ঝুকিপুর্ন, ভীতিকর, আতংকগ্রস্থ এবং অনিশ্চয়তা ও হতাশার। কখনো কখনো নেভির সাথে কোন যোগাযোগ করা যেতো না, তাদের সহযোগিতা তো দুরের কথা উপরন্তু আমি অনেকবার নিশ্চিত হয়েছি যে আই এম নো লংগার নেভাল স্টাফ। এমন ঝুকিপুর্ন অপারেশনে গিয়ে আমাদের অনেক স্পাই অপরাধী হয়ে, অপরাধীদের সাথে মৃত্যুবরন করেছে। যদিও নেভী পরবর্তীতে আরো বড় অপারেশন পরিচালনা করে তাদের শাস্তির আওতায় এনেছিলো কিন্তু আমাদের সেইসব সহকর্মীদের আমরা আর ফিরে পাই নি।
লেফটেনেন্ট মিলান বললো: ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে আপনার লাইফ স্টাইল কেমন হবে আমার জানা নেই স্যার।
রেড ব্লাউজ বললেন: আমার কাছে তোমার জন্য বিশেষ একটি সুযোগ আছে। তুমি চাইলে সেটা নিতে পারো। আর আমার অংশে একটুও কমতি পড়বে না।
মিলান বললো: আমি বুঝতে পেরেছি স্যার। প্রতিটি ইয়াং অফিসারের কাছে এটা স্বপ্ন এবং আখাংখিত। কিন্তু আপনার কাছ থেকে কোন সুযোগ গ্রহন করা আমার দায়িত্ব নয় স্যার।
রেড ব্লাউজ বললেন: কিন্তু একজন সিনিয়র অফিসারের নির্দেশ পালন করা তো আপনার কর্তব্য?
মিলান বললো: সেটা যদি নেভাল রুলস
এন্ড রেগ্যুলেশন এবং টার্মস এন্ড কন্ডিশনের মধ্যে হয় তবে আমি সেটা সানন্দে পালন করবো।
রেড ব্লাউজ বললেন: তাহলে তুমি তোমার কাধের ব্যাজ এবং মাথার ক্যাপটা খুলে আমার এটা পড়ো। আমি ক্যাপসুলে যাবার আগে আমার কমডোর পদবীটা তোমাকে দিয়ে গেলাম। আশা করবো তুমি এর মর্যাদা, ক্ষমতা এবং দায়িত্ব বুঝতে পারবে এবং এর সঠিক ব্যবহার করতে পারবে। আমি যে কক্ষটাতে বসতাম, তুমি সেখানে বসবে। তোমার নতুন অফিস। এটা আমার পাসকোড। আর এই বিষয়ে আমি একটা নোট রেখে যাচ্ছি। আজ থেকে তোমার নাম হবে রেড মিলান। কমডোর রেড মিলান।
মিলান ব্যাজ আর ক্যাপ পরিধান করলো। আবেগে আপ্লুত হয়ে মিলান রেড ব্লাউজকে স্যালুট প্রদান করলো। এবং মুহুর্তেই কমডোর রেড মিলান একটা ভিশন দেখতে পেল - ভবিষ্যত নেভীর চিফ অফ স্টাফ রেড ব্লাউজ দ্যা এডমিরাল অফ দ্যা ফিল্ড।
তখন কমডোর রেড মিলান রেড ব্লাউজকে বললো: আপনী যেদিন ঐ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড থেকে এই কমনওয়েলথ ওয়ার্ল্ডে ফিরে আসবেন তখন কি আমাকে আপনী মনে রাখবেন স্যার?
রেড ব্লাউজ বললেন: আমার এসাইনমেন্ট লর্ড আসিমোর নোভি নীলকে খুজে বের করা। নোভী নীলের ফিরে আসার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তার কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া। আর তোমাকে যদি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে খুজে পাই তবে অবশ্যই তোমার সাথে আবার দেখা হবে।

কিছুক্ষন পরে রেড ব্লাউজ ক্যাপসুলে প্রবেশ করলেন।

এন্ড রেগ্যুলেশন এবং টার্মস এন্ড কন্ডিশনের মধ্যে হয় তবে আমি সেটা সানন্দে পালন করবো।
রেড ব্লাউজ বললেন: তাহলে তুমি তোমার কাধের ব্যাজ এবং মাথার ক্যাপটা খুলে আমার এটা পড়ো। আমি ক্যাপসুলে যাবার আগে আমার কমডোর পদবীটা তোমাকে দিয়ে গেলাম। আশা করবো তুমি এর মর্যাদা, ক্ষমতা এবং দায়িত্ব বুঝতে পারবে এবং এর সঠিক ব্যবহার করতে পারবে। আমি যে কক্ষটাতে বসতাম, তুমি সেখানে বসবে। তোমার নতুন অফিস। এটা আমার পাসকোড। আর এই বিষয়ে আমি একটা নোট রেখে যাচ্ছি। আজ থেকে তোমার নাম হবে রেড মিলান। কমডোর রেড মিলান।
মিলান ব্যাজ আর ক্যাপ পরিধান করলো। আবেগে আপ্লুত হয়ে মিলান রেড ব্লাউজকে স্যালুট প্রদান করলো। এবং মুহুর্তেই কমডোর রেড মিলান একটা ভিশন দেখতে পেল - ভবিষ্যত নেভীর চিফ অফ স্টাফ রেড ব্লাউজ দ্যা এডমিরাল অফ দ্যা ফিল্ড।
তখন কমডোর রেড মিলান রেড ব্লাউজকে বললো: আপনী যেদিন ঐ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড থেকে এই কমনওয়েলথ ওয়ার্ল্ডে ফিরে আসবেন তখন কি আমাকে আপনী মনে রাখবেন স্যার?
রেড ব্লাউজ বললেন: আমার এসাইনমেন্ট লর্ড আসিমোর নোভি নীলকে খুজে বের করা। নোভী নীলের ফিরে আসার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তার কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া। আর তোমাকে যদি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে খুজে পাই তবে অবশ্যই তোমার সাথে আবার দেখা হবে।

কিছুক্ষন পরে রেড ব্লাউজ ক্যাপসুলে প্রবেশ করলেন।

গল্পঃ "টু দ্যা কমনওয়েলথ" [Story: Two DA Commonwealth (D.A. Series)] শেষ

কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (Story: IN DA Beginning)
১:
প্রথমদিকে এই জগতটাকে বলা হতো কম্পিউটার জগত। সমস্ত সভ্যতার আদি স্থান হিসেবে পুরান, উপকথা, রুপকথা আর ফ্যান্টাসীগুলিতে পৃথিবী নামে একটি গ্রহের কথা প্রচলিত আছে। রোবটদের রুপকথার গল্পগুলিতে পাওয়া যায় পৃথিবীর বাংলাদেশ নামে কোন একটা ছোট্র শহরের একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী মোস্তফা জব্বার কম্পিউটার জগত হিসেবে সর্বপ্রথম এর নামকরন করেন। অবশ্য তারও অনেক আগে সম্রাট চার্লস ব্যাবেজ কম্পিউটার নামে একটি ডিভাইস আবিস্কার করে ততকালীন সভ্যতার সমস্ত ধারনাকে বদলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কম্পিউটারকে কার্যকরী করে তোলেন মহান বিজ্ঞানী বিল গেটস। এই তিনজন মানুষ রোবটদের কাছে যেন রুপকথার দেবতা। সেইসব ইতিহাসে দেখা যায় মহান বিজ্ঞানী বিলগেটসের হাত ধরেই কম্পিউটার জগত কার্যকরী ও ব্যবহারউপযোগী হয়ে বিস্তার লাভ করে। কম্পিউটার জগত একদিন আরো বড় পরিসরে ভার্চুয়াল জগত হয়ে গেল। এবং আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে এটা এখন অডাসিটি, এম্পায়ার এবং কমনওয়েলথদের মতোই একটি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড। যেখানে হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী ডিজিটাল কিংবা ভার্চুয়াল হচ্ছে ইউনিভার্স। রোবটজাতি সৃষ্টিরও অনেক অনেক আগে এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ভার্চুয়াল প্রবাহের প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছিলো জিরোর এবং আরো অনেক পরে সৃষ্টি হয় ওয়ান। হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী পুরুষ এবং নারী।

এটা সেই ভার্চুয়াল জগতের ডিজিটালদের ইতিহাস, জীবন বৈচিত্র এবং ভার্চুয়াল সমীকরন।

যাইহোক, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করলো রেড ব্লাউজ।
সে যেখানে অবস্থান করছে তার আশেপাশে অনেকগুলি জিরো এবং ওয়ান ডিজিটরা বিচরন করছে। সে তার হাতে ধরা একাত্তর পৃষ্ঠার ফেসবুক'টিতে তাকালো। তার নাম ওয়ানা হাইপ। পেশায় সে একজন প্রোমোটার। তার বয়স সতের সেকেন্ড। কর্মজীবনে সে নতুন পদার্পন করেছে। ওয়ানা ফ্রিল্যান্স প্রমোটার হিসাবে বিগত এক সেকেন্ড যাবত কাজ করে আসছে। সাধারত চৌদ্দ থেকে পনের সেকেন্ড বয়সে ওয়ান এবং জিরো ডিজিটরা কর্মে প্রবেশ করতে পারে। তবে আঠারো সেকেন্ডের আগে কেউ স্থায়ী কোন প্রফেশন বেছে নিতে পারে না। এর আগে কেউ কর্মে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে ফ্রিল্যান্সিং করতে হয় যতক্ষন না আঠারো সেকেন্ড পুর্ন হয়।

"বিগিনিং"। অন্য অর্থে ভার্চুয়াল জগতের এই ডিজিটাল সভ্যতার জানামতে প্রায় সবগুলি ডিজিটাল সিভিলাইজেশন এই বিগিনিং এর অধীনে। বিগিনিং! অনেক বিশাল! এর পরিমাপ ডিজিটালরা জানে না। ওয়ানা হাইপ এখন যে স্থানটিতে আছে এর নাম মেগা সিটি কিংবা মেগা ড্রাইভ। এর আয়তন কিংবা পরিমাপ দশ হাজার টেরাবাইট। এবং এখানে কম করে হলেও সাতশত বিলিয়ন ডিজিটরা বাস করে থাকে।
ওয়ানা দেখলো রাস্তার পাশে একটি নোটিশ বোর্ডে কালারফুল একটি থ্রিডি এনিমেশন চলছে। সে কাছে গিয়ে দেখলো।

ওয়ানা বিজ্ঞাপনটা দেখে পাশেই অফিসটা খুজে বের করলো। কিছু ফ্রিল্যান্স প্রমোটার খোজা হচ্ছে।
সে অফিসকক্ষে অপেক্ষা করতে লাগলো। একটি জিরো এসে প্রশ্ন করলো: তোমার না কি?
ওয়ানা বললো: ওয়ানা।
জিরোটা বললো: ওয়ানা? এটা কোন নাম হলো? তুমি কি এই বিগিনিংএর কোন ডিজিট নাকি অন্যজগতের কেউ?
ওয়ানা বললো: স্যার আমার নাম ওয়ানা হাইপ।
জিরোটা বললো: ঐসব ওয়ানা-ফোয়ানা নাম বিগিনিংএ চলে না। তোমার নাম হবে শুধু হাইপ কিংবা হাইপ রিয়ান। এই প্যাডে তোমার নাম লিখো।
একটি ডিজিটাল নোট প্যাড এগিয়ে দিলো সে।
জিরো বললো: এখানে তোমাকে জার্নাল প্রমোটারের কাজ করতে হবে। অনেকটা সাংবাদিকতার মতোই। তোমার প্রোফাইল দেখে মনে হচ্ছে তুমি পারবে।
হাইপ বললো: আমি পারবো স্যার।
জিরোটা বললো: কিন্তু তোমাকে এই মেগা ড্রাইভের অনেক বড় বড় সেলিব্রেটি এবং ডিজিটদের সাথে কাজ করতে হবে। এই জন্য প্রচুর মানসিক শক্তি থাকতে হবে আর তোমার চেহারাটা একটু সুশ্রী করতে হবে ওয়ানা বেবী।
হাইপ ফিক করে হেসে ফেললো।
জিরো বললো: নাআআ, এভাবে হাসা যাবে না। আর নিয়মিত এক্সারসাইজ করতে হবে। শরীরটাকে ঠিক রাখতে হবে। এখানে যেমন প্রচুর পরিশ্রম আছে ঠিক উল্টো অলসতার প্রবিশনও আছে।

যাইহোক, ওয়ানা হাইপ নতুন নাম হাইপ রিয়ান নিয়ে ফ্রিল্যান্স জার্নাল প্রমোটার হিসাবে কর্মে যোগদান করলো। খুব তাড়াতাড়ি সে কিছু নতুন বন্ধু পেয়ে গেলো।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe