নারী জাগরনের আলোকবর্তিকা সম্রাজ্ঞী তসলিমা নাসরিন!

নারী জাগরনের আলোকবর্তিকা সম্রাজ্ঞী তসলিমা নাসরিন
সাগরের ঘোলা জলের দিকে তাকিয়ে নিবিষ্ট মনে কিছু ভাবছে সাদিয়া। বাংলাদেশ নেভীর ফ্রিগেটটি সেন্টমার্টিন হতে অনতি দুরেই এংকোর করেছে। বাংলাদেশ নেভীর নিয়মিত সী পেট্রোলিং এর অংশ হিসেবে সে এবারও সী টিপে এসেছে। এই সমুদ্র ভ্রমনের পর সে লম্বা একটি ছুটিতে যাবার আশা করছে, সে জানে এই ছুটির জন্য তাকে অনেক কাঠখড় পোহাতে হবে। জাহাজের কমান্ডিং অফিসার, তার ডিভিশনাল অফিসার দুই মাসের এত লম্বা ছুটি কখনোই দিতে চাইবে না। তার সব মুখস্থ তারা কি কি বলে তার ছুটি আটকে দেবার চেষ্টা করবে। কোন ভাবেই যদি তাকে বোঝাতে না পারে তবে শেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে নেভাল রেগুলেশনের সেই বিখ্যাত উক্তি দুটি "লিভ ইজ নট রাইট" এবং "মাই শিপ মাই কমান্ড"।  এর পর আর কিছু বলার থাকবে না। তখন হয়তো সাদিয়া কমান্ডিং অফিসারকে বলতে পারবে: স্যার আপনাকে শুধু রেগুলেশন ফলো করলেই চলবে কেন? নেভাল ট্রেডিশনও তো ফলো করতে হবে। তাছাড়া কমান্ডিং অফিসার এমনিতেই চাইবে না জাহাজের জুনিয়র লেডী অফিসার সাদিয়া এত লম্বা সময়ের জন্য ছুটিতে চলে যাক। কিন্তু যে ভাবেই হোক তাকে এই ছুটিটা নিতেই হবে তারপর বাড়ি পৌছে চিন্তা ভাবনা করবে সে এই চাকরীটি করবে কিনা। অন্ধকার রাত্রির আধারে সমুদ্রের পানে তাকিয়ে সে তার জীবনের চাওয়া পাওয়ার হিসেব টুকু মেলাতে চেষ্টা করছে। জাহাজের পিছনের অংশ কোয়ার্টারডেকে এনসাইন স্টাফটির পাশেই দাড়িয়ে আকাশ পাতাল ভাবছে। তার আশেপাশেই দুজন তরুন অফিসার ঘোরাঘুরি করছে আর কানের সাথে মোবাইল ফোন চেপে কথা বলার ভঙ্গিমায় সাদিয়ার দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছে। অনতি দুরেই কিছু নাবিক বসে খোস গল্পে মগ্ন আর মাঝে মাঝে ঢেউয়ের মত ভেঙ্গে ভেঙ্গে চাপা হাসির শব্দ ভেসে আসছে। কখনো ক্রমাগত, কখনো থেমে থেমে সেই হাসির শব্দ সাদিয়ার কানে এসে তীব্র আঘাত করছে। সে বুঝতে চেষ্টা করছে এই হাসির কারন সে নিজেই কিনা? তাকে কেন্দ্র করেই কি এই নাবিকগুলো হাসির বন্যা বইয়ে দিচ্ছে? সে আড় চোখে দেখার চেষ্টা করে কিছুদিন আগে জাহাজে আসা সেই তরুন নাবিকটি তাদের মধ্যে আছে কিনা। তারই একই ডিপার্টমেন্টের নাবিকটি আজ তাকেই কিনা এভাবে অপমান করল। ঘটনাটি ছিল; আজ দুপুরে ভিকচুয়েলিং স্টোরের রিজার্ভ রেশন পরীক্ষা করার জন্য তার ডিভিশনাল অফিসার তাকে পাঠিয়েছিল এক জুনিয়র নাবিকের সাথে। নাবিকটি স্টোর রুমটি খুলে দিয়ে প্রথমে নিজে নামল। স্টোরটি জাহাজের একদম নিচের ডেকে। খুব বড় নয় এবং প্রবেশ পথটিও খুব সরু, দশ পনেরটা লোহার সিড়ির ধাপ বেয়ে নামতে হয়। নাবিকটি নিচে নেমে সিড়ির পাশে দাড়িয়েই রেশনের ব্যাগগুলো গোছানোর ভঙ্গিমায় কাজে ব্যাস্ত হল। কিছুক্ষন পর সাদিয়া নামল। সিড়ির সর্বশেষ ধাপটি শেষ করতেই হঠাৎ বুকে কারো হাতের কুনুইয়ের তীব্র আঘাত অনুভব করল। চোখ ফেটে পানি আসতে চাইল। সরি স্যার। সাথে সাথে নাবিকটির মুখ হতে বেরিয়ে আসল। কিন্তু ক্ষনকাল পরে সাদিয়ার চোখের দিকে চেয়ে ভয়ে আতঙ্কে মুষড়ে পড়ল ছেলেটি, সত্যিই সে বুঝি এভাবে চায় নি। একই জাহাজে সাদিয়ার মহিলা সহকর্মী নাজ। নাজকে সে আপু বলেই সম্বোধন করে কারন তারা পুর্ব পরিচিত এবং একই স্কুলে পড়ালেখা করেছে। নাজ ঘটনাটা জানার পর তার অন্যএক ব্যাচমেটকে জানাল।
তরুন অফিসারটি বেশ মজাই পেল। সে কথিত নাবিকটিকে ডাকল। জিজ্ঞেস করল কেন তুমি এমন করলে; কি করব স্যার তার ওই চোখ দুইটা আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকায়া ছিল আমি তাই একটা গুতো মেরে দিয়ে বোঝাতে চাইলাম এভাবে তাকাতে হয় না।
এরপর ছেলেটিকে কিছু পুশআপ আর ফ্রন্ট রোল দিয়ে ছেড়ে দেয়া হল।




মুলত আজকের ঘটনার জন্য সে খুব একটা ভেঙ্গে পড়েনি। আজকের ঘটনা তাকে নতুন দৃষ্টি দান করেছে, তার অতীতের কিছু ঘটনা স্মরন করিয়ে দিচ্ছে। এই সামান্য কদিনের চাকুরী জীবনে সে খুব দ্রুত প্রমোশন পেয়েছে। একটিং সাবলেফন্টেন্ট হতে সাবলেফন্টেন্ট এবং খুব দ্রুতই লেফন্টেন্ট হতে পারবে আশা করছে। সে একাধিকবার কমডোর সহ অন্যন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সেক্রেটারী হিসেবে চাকুরী করেছে আর প্রতিবারই তার দেহের উপর নেমে এসেছে মিশকালো খড়গ। সে মন প্রান দিয়ে ভালবেসেছিল এক লেফন্টেন্ট কমান্ডারকে কিন্তু সে অবাক হয়েছে যখন দেখেছে একজন নেভাল পারসন তারই মেয়ে সহকর্মিকে কখনোই বিয়ে করার কথা চিন্তা করতে পারে না। কিন্তু কোন ঘটনাই আজকের মত তাকে পীড়া দেয় নি। আজ সে বুঝতে পেরেছে সে কতটাই উপেক্ষিত। কিছুক্ষন পর নাজ আপু তার কাছে আসে, কি সাদিয়া কি করছ। এখনো তোমার মন খারাপ নাকি।
না আপু।
আরে ওই ঘটনা ভুলে যাও। আমি তো আমার জীবনের অনেক ঘটনাই তোমাকে বলেছি। আমি অপেক্ষাকৃত কালো হওয়ায় তোমার মত সেক্রেটারীর অতি আরামের চাকুরীগুলো করতে পারি নি কিন্তু তাই বলে আমিও কিন্তু বেচে যাই নি। আমার উপরও বহুবার নেমে এসেছে কৃষ্ঞকায় খড়গের অভিশাপ বলো আর আর্শিবাদ বলো। শোন তোমার মনটা ভাল করে দেই।
বিষন্ন দৃষ্টিতে নাজের দিকে তাকাল সাদিয়া; আমার বিয়ে হচ্ছে আগামী মাসে।
উনি কি সিভিলিয়ান নাকি ডিফেন্স। তড়িত প্রশ্ন করে সাদিয়া।
ডিফেন্স এবং আমাদের নেভীওয়ালা। শোন সাদ যাইই শোনা যাক না কেন। দেখবে শেষ পর্যন্ত অনেক নেভী্ওয়ালা নেভীওয়ালাকেই বিয়ে করে। সব জেনে শুনেই করে। এবং কেন বিয়ে করে তুমি ভাল করেই জান। আর তুমি যে কারনে এত উতালা হচ্ছ সে থেকে তো তোমার মুক্তি নেই, অন্তত যতদিন তুমি এই চাকুরীতে আছ। মুক্তি চাইলে তোমাকে চাকুরী ছাড়তে হবে। আর ভুলে যেও না তোমার বাবা কিন্তু নেভীতেই চাকুরী করে গেছেন এবং তিনি সব জেনেশুনেই কেন যে তোমাকে এখানে দিল আমি সেটা বুঝতে পারি না।
আমি জানি আব্বু তার অধিক সম্মান আর ক্ষুদে কিছু স্বার্থের জন্যই আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।
আচ্ছা যাই হোক মনোযোগ দিয়ে শোন তোমার জরুরী বার্তা।
অবাক চোখে তাকায় সাদিয়া। কি কোন খারাপ সংবাদ নাজ আপু।
আরে নাহ। এই মাত্র সিগনাল এসেছে ঢাকা হেড কোয়ার্টার হতে। ক্ষনকাল চুপ করে রইল নাজ।
বলনা আপু। কি বদলী এসেছে আমার। আবার তড়িৎ প্রশ্ন করে সাদিয়া।
হ্যা সাদিয়া। তোমাকে ঢাকা যেতে হচ্ছে।
এটা তো ভাল সংবাদ। তুমি চুপসে যাচ্চ কেন।
আমি তো বেশ একা হয়ে যাব। তাছাড়া তুমি যাচ্ছ নেভী হেডকোয়ার্টারে একদম নৌ বাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে। স্পষ্টতই বুঝতে পারছি খুব দ্রুত তোমার উন্নতি হবে। হয়তো দেখব এক বছরের মাথায়ই বাইরে চলে গেছ। কিন্তু যে ভাবেই হোক এমবিএটা করে ফেলবে কিন্তু। আমি জানি তুমি বেশীদিন চাকরী করবে না। তাই এমবিএটা শেষ করে ফেলতে পারলে বের হয়েই ভাল ভাল জব পেয়ে যাবে।
হ্যা আপু, সেই সুযোগটাই আমি খুজছিলাম। আর তুমি কেন একা হবে। দেখবে তোমাকেও বদলী করে দেবে অথবা অন্য কোন লেডী অফিসার আসবে। অবশ্য আমার মনে হয় তোমাকেও বদলী করে দেবে। তাছাড়া এমনিতেই জাহাজে মেয়েদের রাখতে চায় না, দেখছ না কত সমস্যা, বিশেষ করে থাকার জায়গা দিতে পারছে না।




বদলী যাচ্ছে এজন্য সাদিয়া মোটেও উৎফুল্ল নয়। বরং সে চিন্তা করছে গিয়েই প্রথমে খোজ নেবে কোথায় এমবিএ করবে। পুরোনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, যারা অনেকেই খুব ভাল ভাল জব করছে, সাদিয়াকে তারা একাধিকবার অনুরোধ করেছিল চলে আমার জন্য, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এর চেয়ে ভাল চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিবে। কিন্তু চাইলেই তো আর আসা যায় না, সে যে কয়েক বছরের জন্য নেভীর কাছে দায়বদ্ধ কিন্তু এমবিএটা শেষ করতে পারলে যে ভাবেই হোক সে এই চাকুরীটা ছেড়ে দেবে। যেহেতু সে মেয়ে তাই অনুমতিটা সহজেই পেয়ে যাবে। রাজ্যের অজস্র চিন্তা তার মাথায় এসে ভর করছে। যতবারই সে ঢাকা বদলী যাবার কথা চিন্তা করছে আর বারবারই তার স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে পুরোনো রক্তে ভেজা সেইসব দিনগুলির কথা। সে সহজ সমীকরনটা মেলাতে চেষ্টা করে। তার চোখ ভরে যেন কান্না আসে। বিষন্ন দৃষ্টিতে সে তাকায় অথৈ সমুদ্রে, অনতি দুরেই সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মিটি মিটি বাতি আর একটি মোবাইল ফোনের টা্ওয়ারের উপর স্থির হয়ে আছে ক্ষুদে একটি লাল আলো। সমুদ্রের মাঝে মাঝিদের নৌকা গুলো দুলছে ঢেউয়ের তালে তালে। সারা রাত তারা মাছ ধরে সকালে ঘাটে নিয়ে পসরা সাজায় মহাজনদের সামনে। অতি স্বল্প মুল্যে তারা এই মাছ কিনে চড়া মুল্যে চালান দেয় চট্রগাম সেখান হতে দেশের বাহিরে বা ঢাকা চলে যায় খুব দ্রুত।




হঠাৎ সাদিয়া শুনতে পেল আড্ড পাকানো নাবিকদের মাঝহতে করুন গানের সুর ভেসে আসছে
“মরুভুমি হয়ে গেছে মনটা, কাটা হয়ে গেছে সব ফুল নেই,
এত জল ঝরে গেছে তাইতো, দুচোখে বুঝি আর জল নেই।
খুজতে গিয়ে পুর্নিমাকে, আমাবশ্যাকে পেলাম,
আলোর প্রদীপ নিভে গেল, তাই চলতে চলতে পথ হারালাম।”




ক্ষনকাল চুপ থেকে বেশ কজন নাবিক মিলে একসাথে আবার ধুয়া তুলল
“মরুভুমি হয়ে গেছে মনটা,
কাটা হয়ে গেছে সব ফুল নেই……………………


রাত বাড়ার সাথে সাথে সাদিয়া পুরো শরীরে ক্লান্তি অনুভব করে। না, এখন তাকে ঘুমুতে যেতে হবে।




সাদিয়া, তোমার মনটা কি খুবই বিষন্ন। হঠাৎ সাদিয়া কাউকে অনুভব করে।
কে, কে আপনী? সাদিয়া ভীত কন্ঠে প্রশ্ন করে।
সাদিয়া তাকে অনুভব নিজের মধ্যে দ্বিতীয় কোন সত্তা রুপে। এক সময় সাদিয়ার দৃষ্টিতে ধরা দেন তিনি। সাদিয়া তাকে দেখতে পাচ্ছে। বিষ্ময়ে হতবাক হয় সাদিয়া। ইষৎ সবুজ চোখের নিরাবেগ দৃষ্টি তার। মাথায় ছোট ছোট চুলের সাথে কৃত্রিম চুলের লম্বা অথচ সরু নিখুত একটি বিনুনি পাকানো। সাদিয়া আমি তোমাকে রুমি সেনা নায়ক জুলকার্ণাইন ইস্কান্দারের দিগ্বিজয়ের গল্প শোনাব না কিংবা সুদক্ষ পুরুষ আরব মরু বনিকের সেই সব পুরান গ্রন্হের মিথোলজিও শোনাতে আসি নি। কিন্তু পৃথিবী যে সব নারীকে নিয়ে আজ গর্ব করে যারা একদিন এই সব প্রতারক পুরুষের পাদুকাতলে স্বর্গ খুজে বেড়িয়েছে। আমি তাদের দলেও নই। মনে পড়ে সাদিয়া, আমি তোমাকে বলি নি; নারীর শুদ্ধ হওয়ার প্রথম শর্ত ‘নষ্ট হওয়া’। ‘নষ্ট’ না হলে এই সমাজের নাগপাশ থেকে কোনও নারীর মুক্তি নেই। সেই নারী সত্যিকারের সুস্থ ও মেধাবী মানুষ, লোকে যাকে নষ্ট বলে।’




আমাদের দু:খি আর অসহায় নারীরা তারা জানে না যে তারা কি জানে না। আর তাই তো আমি তো এসেছি হাজার বছরের করালগ্রাস হতে নারীদের মুক্ত করতে। আমরা নারীরা আজ কাকে কী করে বলবো যে আমরা ভাল নেই! হাজার বছর ধরে পিঠে কালশিটে, চোখ নির্ঘুম, হাজার বছর থেকে আমরা ভাষাহীন। নারীর কণ্ঠে এবার ভাষা উঠে আসুক, স্ফুলিঙ্গ হোক সে, আগুনের মত ছড়িয়ে যাক সবখানে। নারীরা পুড়ে পুড়ে ইস্পাত হোক, নারী শক্তিময়ী হোক।’




হ্যা, সাদিয়ার জড়তা ভেঙ্গে যায় সে চিনতে পারে তার দ্বিতীয় সত্তাকে। সে চিনতে পারে নারী জাগরনের আলোকবর্তিকা সম্রাজ্ঞী তসলিমা নাসরিনকে। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি মাত্র একজনই আছেন, একজনই এসেছেন নারী জাতির পদপ্রদর্শকে এক মহামানবী। তিনি আসবেন তাই তাবৎ দুনিয়ার নারী জাতি গভীর উৎকন্ঠায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার আগমনের প্রত্যাশায়। অতপর হাজার বছরের শৃংখলা হতে নারী সমাজকে মুক্ত করে আলোর পথ দেখাবেন।এই তো তিনি এসেছেন। বিচলিত হয়ে যায় সাদিয়া, যেন নিজেকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তার। নিজের সুখ, নিজের জীবন, যৌবন নি:শেষ করে যিনি নারী জাতির পথ প্রদর্শকের ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন।




শোন সাদিয়া, আমাকে দেখ, নিজেকে এই সমাজের চোখে আমি ‘নষ্ট’ বলতে ভালবাসি। এই নষ্ট সমাজ ওত পেতে আছে, ফাঁক পেলেই মেয়েদের ‘নষ্ট’ উপাধি দেবে। সমাজের নষ্টামি এতদূর বিস্তৃত যে, ইচ্ছে করলেই মেয়েরা তার থাবা থেকে গা বাঁচাতে পারে না। নষ্ট’ না হলে এই সমাজের নাগপাশ থেকে কোনও নারীর মুক্তি নেই। ঘোড়ায় চড়ে দুনিয়া জয় করা যায় কিন্তু জিন আকড়ে ধরে দুনিয়া শাসন করা যায় না। আর রাষ্ট্র তোমাকে কি দেবে বা দেবে না সেটা নিয়ে কখনো উদ্বিগ্ন হয়ো না। কারন এদেশে আজ একটি মেয়েও নিরাপদ নয়। তোমার বাসার কাজের মেয়েটিতো কখনোই নিরাপদ থাকতে পারে না। এমনকি বহু শিল্পপতি বাবার আশ্রয়েও কত মেয়ে আজ অনিশ্চিত সময় পার করছে। নারী জাতির জন্য এটা খুবই খারাপ সময় যাচ্ছে।




সাদিয়ার দু‘চোখ ভেঙ্গে কান্না আসে। আপনী আসুন আমাদের মাঝে, আমরা খুবই অসহায়। আমাদের পক্ষে কথা বলারও কেউ নেই। রাষ্টও আমাদের একটি শিশুর ভুমিকায় বসিয়ে রেখেছে। আপনী দেখুন, শিশু ও নারী নির্যাতন আইন, শিশু ও নারী বিষয়ক অধিদপ্তর বা মন্ত্রনালয়। যেখানে শিশু প্রসংগ এসেছে সেখানেই নারীকে একই সারিতে দাড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আসেনি কোন নারী প্রথপ্রদর্শক। না কেউ না। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সে।




সাদিয়া, আমি তো এসেছি। আমি ছিলাম এবং আবার আসব। তোমাদের জন্য কেউ আসেনি আর কখনো আসবে না আমি এসেছি আমকে গ্রহন কর। আমিই তোমাদের শ্বাশথ সত্য পথ। আমিই তোমাদের মুক্তির একমাত্র পথ, তোমরা আমার কাছে এস। তাবৎ পৃথিবীর ইতিহাসে কোন মহামানবকে তার দেশ বা সম্প্রদায়ের জনগন কখনো গ্রহন করে নি। আমাকেও করেনি, মাতৃভুমি হতে বিতাড়িত করেছে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আমি এসেছি তোমাদের হাজার বছরের করালগ্রাস হতে তোমাদের মুক্ত করতে। দেখো একদিন আমি ঠিকই শতশত বছর ধরে চলে আসা মানব সৃষ্ট আর কল্পিত সমস্ত আইন ভেঙ্গে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করব। কিন্তু আজ আমি স্বদেশ হতে বিতাড়িত বলে তোমরা ঘুমিয়ে পড় না। আমি তো বলেছি আমি আবার আসব, আমাকে যে আসতেই হবে। মাঝে শুধু পৃথিবীর গতানুগতিক ইতিহাসের কিছুটা পুনরাবৃত্তি ঘটছে আর একদিন তারাই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে আজ যারা সেই সব ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। এটা প্রকৃতির অঘোম বিধান একে পরিবর্তন করার সাধ্য কারো নেই। তাই ঘুমিয়ে যেও না, আমি শীঘ্রই আসছি। আমি বলি নি, আমি কি তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেই নি যে আমি ফিরব, আমার জন্য অপেক্ষা করো সাদিয়া—




"আমার জন্য অপেক্ষা করো মধুপুর নেত্রকোনা
অপেক্ষা করো জয়দেবপুরের চৌরাস্তা
আমি ফিরব। ফিরব ভিড়ে হট্টগোল, খরায় বন্যায়
অপেক্ষা করো চৌচালা ঘর, উঠোন, লেবুতলা, গোল্লাছুটের মাঠ
আমি ফিরব। পূর্ণিমায় গান গাইতে, দোলনায় দুলতে, ছিপ ফেলতে বাঁশবনের পুকুরে-
অপেক্ষা করো আফজাল হোসেন, খায়রুননেসা, অপেক্ষা করো ঈদুল আরা,
আমি ফিরব। ফিরব ভালবাসতে, হাসতে, জীবনের সুতোয় আবার স্বপ্ন গাঁথতে-
অপেক্ষা করো মতিঝিল, শান্তিনগর, অপেক্ষা করো ফেব্রুয়ারি বইমেলা আমি ফিরব।
মেঘ উড়ে যাচ্ছে পশ্চিম থেকে পুবে, তাকে কফোটা জল দিয়ে দিচ্ছি চোখের,
যেন গোলপুকুর পাড়ের বাড়ির টিনের চালে বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
শীতের পাখিরা যাচ্ছে পশ্চিম থেকে পুবে, ওরা একটি করে পালক ফেলে আসবে
শাপলা পুকুরে, শীতলক্ষায়, বঙ্গোপসাগরে।
ব্রহ্মপুত্র শোনো, আমি ফিরব।
শোনো শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, সীতাকুন্ড- পাহাড়-আমি ফিরব।
যদি মানুষ হয়ে না পারি, পাখি হয়েও ফিরব একদিন।"



ছবিঃ ইন্টারনেট হতে সংগৃহিত।

Comments

Maidul said…
এই শালা কনফার্ম নেভীর শীপস কোম্পানী। শালার লেখায় বোঝা যায় সে নেভীকে দেখছে শীপস কোম্পানীর লেভেল থেকে শীপস কোম্পানীর দৃষ্টিতে। অফির্সাস কমিউনিটি সম্পর্কে তার ধারনা বিকৃত।
Anonymous said…
বেশ কাচা হাতের লেখা তো তাই বোধহয় পড়ে মজা পান নি। তবে এই থিমটি পেশাদার কোন লেখকের হাতে পড়লে নিশ্চয়ই উন্নতমানের একটি সাহিত্যকর্ম হতে পারে।

আপনার মন্তব্যের ধরন দেখে ধরে নিচ্ছি আপনী নেভী অফিসার্স কমিউনিটির কেউ এবং সেটা হওয়াই বেশী যুক্তিসংগত। এবং আপনার মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে "শীপস কোম্পানী" শব্দটা খুবএকটা সম্মানজনক নয়। এই শব্দটা কি সৈনিক/নাবিকদের গালি দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়?
যাইহোক আপনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্তব্য করে আমি বিকৃত রুচির পরিচয় দিতে চাচ্ছি না।

তবে এটা ঠিক যে অফির্সাস কমিউনিটি কেমন- সেটা আপনী আবার নতুনভাবে পরিচয় না করিয়ে দিলেও পারতেন!