Tuesday

Tagged under: ,

জ্ঞানের সুউচ্চ প্রাসাদে তিনি দাউদ হায়দার নামে পরিচিত!

মাতৃভুমির মাটিতে পা রাখতে পেরে তার কষ্ট আরো সহস্র গুন বেড়ে গেল। কত যুগ ধরে যে সে স্বদেশের ভালবাসা হারিয়েছে। রাত যতই গভীর হয় তার কষ্ট তত বাড়তে থাকে। এক অজানা ব্যথায় বুকটা চৌচির হয়ে যাচ্ছে। স্মৃতিতে ঝাপসা হয়ে ভেসে উঠছে মা-বাবার ছবি। শৈশব কৈশোরের নরম ভালবাসাময় দিন গুলোর কথা। সে এখানে এসেছে তার শৈশব কৈশোরের কিছু বন্ধুকে খুজে পেতে যাদের সাথে সে কাটিয়েছে আনন্দঘন কত স্মৃতিময় সময়। সে দেখেছে তার অনেক বন্ধুরা আজ এদেশে প্রতিষ্ঠিত, সরকারী পক্ষের আমলা। সরকার তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য সবোর্চ্চ সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।

নিজেকে প্রশ্ন করে সে, চাইলে তো তুমিও হতে পারতে এমন অগাধ ধনসম্পদের মালিক। হয়তো বা একদিন হতে পারতে মন্ত্রি-পরিষদের কেউ। দেশের সবোর্চ্চ ক্ষমতা থাকত তোমার হাতে। তোমাকে দেশের বাইরে নির্বাসিত হয়ে থাকত হত না যুগের পর যুগ।
নাহ নিজেকে প্রবোদ দেয় সে। এই সত্য সন্ধানী কবির এসবের কিছুরই দরকার নেই। সে যেমন আছে আজীবন তেমনই থেকে যাবে। পান্তা ভাত, আলু ভর্তা, কাচামরিচ আর সজনে পাতা এবং ইছামতি নদী এসব স্মৃতিই যেন তার জীবনে শ্রেষ্ঠ হিসেবে ধরা দেয়। সে তো এখনও বুড়িয়ে যায় নি তার সামনে আরও বহু সময়, সে গানের কলি গাইতে গাইতে ভ্রমন করবে জ্ঞান সমুদ্রের অনন্ত পথে। ভ্রমন করবে মহাশুন্যের অনন্ত পথে।

হ্যা। কিছুইতো বদলায় নি। এই রাস্তা, ঐ তো সেই বিশাল বটগাছটি এখনও মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে। মেহগনি আর চাম্বুল গাছের ঘন সারির মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে সরু একটি রাস্তা। তিনি হাটছেন সেই রাস্তা ধরে। দু’পাশে ছোট ছোট ঘর আর ঘরের ছাদে খেলা করছে ঝাকে ঝাকে কবুতরের দল। কিছুক্ষন পর পর কবুতরের ঝাক দল বেধে আকাশে উড়ে যায় আর শুন্যে ডিগবাজি খেয়ে আবার নেমে আসছে ঘরের চালায়। দু’পাশের বিস্তীর্ন সবুজ ধান ক্ষেতে দোল দিয়ে যাচ্ছে মৃদ্যু বাতাস। মনপ্রান ভরে স্বদেশের বাতাস বুকে টেনে নেন তিনি।

নিখুত কারুকার্য করা কাঠের পাল্লায় হাত রাখলেন তিনি। এক কিশোরী এসে দরজা খুলে কোমরে হাত দিয়ে দাড়িয়ে রইল। কিশোরীর মিষ্টি চেহারার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষন। দৃশ্যপটে ভেসে উঠল তারুন্য গাথা স্মৃতি। তার স্কুলের সামনে দিয়েই প্রতিদিন ভোরে হেটে যেত এমনি হাস্সোজ্জল এক কিশোরী। কিস্তু দুর্ভাগ্য, কখনো কথা বলতে পারেন নি। শুধু মনে মনেই ভালবেসে গিয়েছিলেন। আজও স্মৃতির অতল গহবর হতে তার জন্য ভালবাসা উথলে ওঠে।
নিজেই অবাক হন নিজেকে নিয়ে, একটুকুও বদলাননি । নিজেকে বদলাতে পারন নি। হঠাৎ মেয়েটি নিজেকে আড়াল কারার ব্যর্থ চেষ্টায় সোজা হয়ে দাড়াল। অথিতির দৃষ্টি হতে চক্ষুদ্বয় অন্যত্র সরিয়ে নিল।
কিশোরী তাকে অথিতি কক্ষে নিয়ে বসাল। কিছুক্ষন পর গৃহকর্তা আসলেন। দুজনের মাঝে পরিচয় বিনিময় হল। একসময় গৃহতকর্তা বেশ খাতির জমিয়ে তার সাথে কথা বলতে লাগলেন। অথিতি সারাদিন সেই গৃহেই থাকলেন। বিকেলে দুজন একসাথে ঘুরতে বের হলেন। মফস্বল ছেড়ে শহরে আসলেন। ছোট এক রেস্টুরেন্টে বসলেন তারা। তাদের মাঝে আলোচনায় অংশনিলেন তরুন এক সেনা অফিসার। সদ্য প্রমোশন পাওয়া আর্মি ক্যাপ্টেনের সাথে অথিতির পরিচয় করিয়ে দিলেন গৃহকর্তা। রেস্টুরেন্টের ছোট এক কেবিনে বসে তিনজন ক্ষনকালের জন্য আলোচনায় মগ্ন হলেন। অথিতি সংক্ষেপে তার কিছু অভিজ্ঞতার কথা বনর্না করতে লাগল। গৃহকর্তাও তরুন ক্যাপ্টেনকে সাথে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে অথিতির কথা শুনছেন আর তারা অপেক্ষা করছেন কখন সন্ধ্যে হবে কারন তিনি সন্ধ্যের ট্রেনেই চলে যাবেন।

আমি তো শেষ পযর্ন্ত সেই গ্রাম খুজে পেয়েছি। যেখানে মেহগনি আর চাম্বুল গাছে ঘেরা বাড়িটি এখনও টিকে আছে। আর আপনারও নিশ্চয়ই সেই বাধভাঙ্গা তরুনের কথা মনে আছে যাকে ৩৫ বছরেরও অধিক সময় আগে এই দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল।
আপনী কার কথা বলছেন। আমি বুঝতে পারছি না। ঝাঝালো কন্ঠে গৃহকর্তা প্রশ্ন করলেন।
কিছুক্ষন ‍নিরবতার পর অথিতি উত্তর দেন:
জ্ঞানের সেই সুউচ্চ প্রাসাদ জান্নাতুল ফেরদৌসে তিনি দাউদ হায়দার নামে পরিচিত।
ক্ষোভে মুখ রক্তবর্ন করলেন গৃহকর্তা। আপনী কেন সেই অপরাধীর কথা আমাকে বললেন। যে অতি অল্প বয়সেই তার বংশের সম্মান হারিয়েছে। বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল তার পুরো পরিবারকে।
কিন্তু তখন তো সে নিহাতই বাচ্চা ছেলে ছিল। সে কি কাউকে খুন করেছিল? তার কি-ই বা আর করার ছিল?
নাহ। কিন্তু সত্যি কথা এটাই, এই ছেলেটা আজ নিজের কবিতার চেয়েও মানুষ হিসেবে বেশী পরিচিত। ছাত্র বয়সেই সে খুবই জনপ্রিয় কবি হয়েছিল।যখন সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গিয়েছিল এক শিক্ষক তার নাম দাউদ জানতে পেরে তাকে প্রশ্ন করেছিল দাউদ হায়দার নামে যে এক কবি আছে তুমি জান? অল্প বয়সেই সে এতই জনপ্রিয় হয়েছিল। তার লেখনি আর কবিতা যে কোন অগ্নিবীনার মন হরন করার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু একদিন তার মাথায় এলোমেল চিন্তা বাসা বাধল। সে কবিতা লিখল ফেক সমাজ আর ধর্মের বিরুদ্ধে। তখন ক্ষিপ্ত ইসলামের কিছু ধ্বজ্জাধারী মৌলবাদীদের আস্ফালনে তাকে নিক্ষেপ করা হয় কারাগারে। পুড়িয়ে দেয়া হল তার বাড়িঘর। তারপর ১৯৭৪-এর ২২ মে, ২২ বছর বয়সী তরুণ এই কবিকে তৎকালীন রাষ্টপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিশেষ নির্দেশে কলকাতাগামী একটি ফ্লাইটে তুলে দেয়া হয়। ওই ফ্লাইটে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না। কবির নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল সরকার।পরে নোবেল বিজয়ী কবি গুন্টার গ্রাস ত‍াকে জার্মানী নিয়ে যান। আবু আলি ইবনে সিনার* মত অল্প বয়সেই সে অতি জ্ঞানী হয়ে গিয়েছিল এবং প্রতিদানটাও সাথে সাথে পেয়েছিল। অতি সংক্ষেপে বর্ননা করলেন গৃহকর্তা।

বিচিত্র অথিতি যখন সন্ধ্যের ট্রেনে চেপে বসল। গৃহকর্তা আর তরুন আর্মি অফিসার ফিরে যাচ্ছিল নিজেদের ডেরায়। পথে যেতে যেতে তরুন অফিসারটি বলল -স্যার আমার ধারনা, মুক্ত চিন্তার যে স্বাধীন লোকটিকে দেশ হতে বিতাড়িত করা হয়েছিল সে আর কেউ নয় এই বিচিত্র লো্কটিই সে ব্যাক্তি।
বিস্ময়ে অফিসারের দিকে তাকোলেন গৃহকর্তা চুপ কর। তোমার অতি মুল্যবান চাকরীটির কথা ভুলে যাচ্ছ কেন। মাটি তোমার কথা শুনছে সে তো সবই ফাস করে দেবে।
তাই বলে চুপ করে থাকব।
হ্যা। চুপ করে থাকবে। কবির কথা কি ভুলে গেছ: “নীরবতা হল পরাক্রান্ত, বাদবাকী সবই দুর্বলতা।”**

স্যার আপনী যাই-ই বলেন না কেন। নিজেকে তো অবিশ্বাস করতে পারব না। তসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার তাদের সরকার দেশে ফেরাতে চায় না কেন। আসলে ক্ষমতাসীনরা তাদের ক্ষমতা নিয়ে খুবই সন্দিহান। তারা কি ক্ষমতা হারাবার ভয় পায়। তা না হলে কেন তারা এসব বিষয়ে নিশ্চুপ। এটাই প্রমান করে ইসলামের ধ্বজ্জাধারী মৌলবাদী আস্ফালনের কাছে তারা সত্যিই কত অসহায়। মুখে যতই বলুক না কেন। আপনী দেখবেন স্যার এ দেশে যুদ্ধ-অপরাধীদের বিচার হবে না। কোন সরকারই হতে দিবে না। কারন কবির বলে গেছেন:
“আমার অধীনে এ মোর রসনা, এই খাড়া গর্দান;
মনের শিকল ছিড়েছে, (তো) পড়েছে হাতের শিকলে টান।”
***


তাছাড়া তাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করার গোপন রহস্য আর কৌশলগুলি কি কেউ কখনো জানতে পেরেছে?

চুপ কর অফিসার। চুপ কর। সে ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল আর জানই তো যতই আমরা নিজেকে অসাম্প্রদায়িক বলি না কেন আসলে আমরা প্রচন্ড সাম্প্রদায়িক। ধর্মের প্রতি বিশ্বাস কর আর আল্লাহকে ভয় কর অফিসার।
না স্যার আপনী আমাকে বোঝাতে পারবেন না। আমি যা বিশ্বাস করি সেটা আমাকে বলতেই হবে।কাকে ভয় করার কথা বলছেন। আমি তো তাকে সর্বত্র খুজেছি কোথাও পাই নি। আসলে স্রষ্টা বলতে কিছু নেই, স্রষ্টা তাদেরই কল্পনা যারা তার নামে বেসাতি ছড়ায়।

*একাদশ শতকের বিশিষ্ট দার্শনিক ইবনে সিনা। বুখারায় জম্নগ্রহন করেন। ইউরোপে তিনি আভিৎসেন্না নামে পরিচিত। ধর্মের প্রতি অবিশ্বাস ও স্বাধীন চিন্তার দাবি জানানোর জন্য তাকে ইস্পাহানের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। এবং কারাগারেই তিনি মৃত্যু বরন করেন। তিনি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র ও অল কেমির উপর বহু বই লেখেন এবং মুসলিম প্রাচ্যে স্বাধীন চিন্তার অন্যতম পদপ্রদর্শক ও যোদ্ধারুপে পরিচিত। লাতিন ভাষায় তার অনুদিত চিকিৎসাশাস্ত্র কোষ “চিকিৎসাবিষয়ক অনুশাসন” মধ্যযুগে ইউরোপের চিকিৎসকদের প্রধান পথ প্রদর্শক হিসেবে গন্য করা হয়।

**একাদশ শতকের ফারশী কবি আবু সাইদের কাব্য হতে।

***কাজী নজরুল ইসলামের সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের ফরিয়াদ কবিতা হতে।

ছবিঃ ইন্টারনেট হতে সংগৃহিত।

Thursday

Tagged under: ,

প্রানের কবি কাজী নজরুল ইসলাম

ক্লান্ত চরনে লোকটি প্রবেশ করল বিশাল আলিশান বাড়িটিতে। আশ্চার্য হলেন এই মুহুর্তে মুল ফটকে কোন পাহারাদার নেই। কত সুন্দর একটা বাগান। অসংখ্য গাছের সমাহার তার মাঝে মনমুগ্ধকর ডুপ্লেক্স বাড়িটি। ছোট একটি গাছের ছায়ায় বসলেন। আহ্ কি সুন্দর ঠান্ডা বাতাস! মন প্রান জুড়িয়ে যায়। ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। পড়ন্ত বিকেলে গানের মৃদ্যু সুরে ঘুম ভাংল, অবাক হলেন তিনি এত সুমুধুর কন্ঠ! ভাল করে লক্ষ্য করলেন, ১৭/১৮ বছরের অপুরুপ রুপবতী মেয়ে গেয়ে চলছে

মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর নমঃ নমঃ নমঃ নমঃ নমঃ নমঃ-
শ্রাবন মেঘে নাচে নটবর-
রমঝম রমঝম রমঝম-
শিয়রে বসি চুপি চুপি চুমিলে নয়ন-
মোর বিকশিল আবেশে তনু-
নিমুসম নিরুপম মনোরম-
মোর ফুল বনে ছিল যত ফুল-
ধরি ডালি দিনু ঠালি-
দেবতা মোর, দেবতা মোর, দেবতা মোর-
হায় নিলে না সে ফুল-
চিঠিবে ভূল নিলে তুলি-
খোপা খুলি কুসুম ডোল-
স্বপনে কি যে কইছি তাই গিয়াছ চলি-
জাগিয়া কেদে ডাকি দেবতায়-
প্রিয়তম, প্রিয়তম, প্রিয়তম-
মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর নমঃ নমঃ নমঃ নমঃ নমঃ নমঃ-


আহ্ কি অপুরুপ কন্ঠ, অবাক হন তিনি। তিনি নিজেও বুঝি নিজের গান এত মন কাপানো সুরে গাইতে পারতেন না। আল্লাহ কি নিজ হাতে তার কন্ঠে যাদু দিয়েছেন? এসব ভাবেন আর গুটি গুটি পায়ে মেয়েটির কাছে এগিয়ে যান আগুন্তক। জনশূন্য আর দেয়াল ঘেরা ব্যাক্তিগত বাগানে অপরিচত কাউকে দেখে বিস্ময়ে চোখ কপালে তোলে কিশোরী। এত নিরাপত্তার বেষ্টনি ভেদ করে এই লোকটি ভিতরে ঢুকল কি করে। সরল দৃষ্টিতে মেয়েটির চোখে তাকায় আগুন্তক- কে তুমি মা? তোমার কন্ঠে এত যাদু!? কিছুক্ষনের মধ্যেই মেয়েটির সাথে বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠে তাঁর। আগুন্তক বুঝতে পারেন কিশোরীটি দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির অথবা প্রভাবশালী কোন শিল্পপতি বা মন্ত্রীর মেয়ে। এত সুন্দর গান তুমি শিখলে কার কাছে মা মনি? এত সুন্দর কন্ঠ তোমার! আমি স্রষ্টা হলে এই কন্ঠ ফিরিয়ে নিতাম। এই কন্ঠ শুধুই আমাকে গান শোনাত। মনপ্রান খুলে মেয়েটি আগুন্তককে আপন করে নেয়। আগুন্তক জানতে পারে কিশোরী তার কন্ঠের যাদুতে দেশের সেরা সেরা পুরস্কারগুলো জয় করে নিয়েছে।
কিন্তু মামনি যদি কিছু মনে না কর আমি বলল তোমার এখনও কিছু শিখার বাকী রয়েছে। তোমার জন্য গান শেখা এখনও শেষ হয়নি। কিছু তাল-সুর-লয় ঠিক করতে হবে। কিছুক্ষন চুপ থেকে সামান্য ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মেয়েটি- আপনী জানেন আমি দেশ-বিদেশের সেরা সব গুনীজনদের কাছে শিক্ষা নিয়েছি? আপনী আমাকে ও আমার সমস্ত গুরুজনদের অপমান করছেন। গানের কি বোঝেন আপনী?

এবার সামন্য মুচকি হাসে আগুন্তক, শীতে ঠোট ফেটে গেলে আমরা যেভাবে হাসি।
তাহলে তোমাকে একটা গান শোনাই-
কন্ঠে সুর তোলে আগুন্তক-

“ভুলি কেমনে আজো যে মনে বেদনা সনে রহিল আকা।
আজো সজনী দিন রজনী সে বিনে গনি তেমনি ফাঁকা।।
আগে মন করলে চুরি, মর্মে শেষে হানলে ছুরি,
এত শঠতা এত যে ব্যাথা তবু যেন তা মধুতে মাখা।।
চকোরী দেখলে চাদে দূর হতে সই আজো কাদে,
আজো বাদলে ঝুলন ঝোলে তেমনি জলে চলে বলাকা।।
বকুলের তলায় দোদুল কাজলা মেয়ে কুড়োয় লো ফুল,
চলে নাগরী কাখে গাগরী চরন ভারী কোমর বাকা।।
তরুরা রিক্ত-পাতা, আসলো লো তাই ফুল বারতা,
ফুলেরা গলে ঝরেছে বলে ভরেছে ফলে বিটপী- শাখা।।
ডালে তোর হানলে আঘাত দিস্ রে কবি ফুল-সওগাত,
ব্যথা-মুকুলে অলি না ছুঁলে বনে কি দুলে ফুল-পতাকা।।”

আগুন্তকের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যায় কিশোরী। দেশ বিদেশের অসংখ্য গান সে শুনেছে কিন্তু আজ একি শুনলো! একি স্বয়ং স্রষ্টা না অন্য কেউ!? মুহুর্তেই সে অনুধাবন করতে পারে এই আগুন্তক আর কেউ না তারই প্রিয় স্বপ্নের নায়ক কাজী নজরুল ইসলাম। কিশোরী লুটিয়ে পড়ে আগুন্তকের পায়ে। আমাকে মাফ করে দিন গুরুজী, আমি না জেনে আপনাকে চোখ রাঙিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করুন।

আগুন্তক চলে যাওয়ার পর সঞ্চিত ফিরে পায় কিশোরী। কে এই আগুন্তক? কাজী নজরুল তো মারা গেছে বহু আগে। তিনি কি করে আসবেন। সময় পরিভ্রমন এও কি সম্ভব!? কিছুই বুঝতে পারে না কিশোরী।

অসম্ভব সুরেলা কন্ঠে গান শুনিয়ে গেছে আগুন্তক। কিশোরীর মনে পড়ে অতীত দিনের স্মৃতি। চৌদ্দ বছর বয়সে তার প্রেম হয়েছিল তারই এক সহপাঠীর সাথে। কত সুমধুর সেই স্মৃতি। ক্ষনে ক্ষনে আজো তা প্রতিনিয়ত মনে পড়ে। এক অজানা ব্যাথায় তার বুকটা দুমড়ে মুচড়ে যায়। কিন্তু কোন ভাবেই সে তা ভুলতে পারে না। এসব স্মৃতি আজও সে বুকে ধারন করে আছে।
নিজের অজান্তেই কিশোরী গেয়ে ওঠে আগুন্তকের গানটিঃ-

“ভুলি কেমনে আজো যে মনে বেদনা সনে রহিল আকা।
- – - – - – - – - – - – - – - – - – -
এত শঠতা এত যে ব্যাথা তবু যেন তা মধুতে মাখা!”

জুলাই ১৯, ২০০৯, ঢাকা।

Wednesday

Tagged under: , , ,

The Ganiuw (দ্যা গ্যানিয়্যু)

(”যে- দিন স্রষ্টার বুকে জেগেছিল আদি সৃষ্টি- “কাম”,
সেই দিন স্রষ্টা সাথে তুমি এলে, আমি আসিলাম।” -অ-নামিকা: সিন্ধু হিন্দোল; কাজী নজরুল ইসলাম।)


১:
রায়ান স্কুল জীবন হতেই অন্তর্মুখী জীবনে-যাপনে অভ্যস্ত যার ফলে সে কম্পিউটার গেমের প্রতি মারাত্মক ভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এই নিয়ে ওর মা-বাবার দুঃশ্চিন্তার অন্ত নেই। ছেলেটা অবশ্য পড়ালেখায় বেশ ভাল ক্লাসে কেউ তাকে টপকাতে পারে নি। বাবার ইচ্ছে ছিল উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পাঠাবেন। কিন্তু দেখতে নেহাৎই কম বয়সই ছেলেটাকে নিয়ে তিনি ভরসা পান না, এখনো মুখে দাড়ি গোফ গজায়নি, যেন একদম বাচ্চা ছেলে। ফার্মের মুরগীর মত সারাদিন বাসায় বসে থাকা তিনি একদম পছন্দ করেন না। তিনি চান তার ছেলে বন্ধুদের নিয়ে বাইরে সময় কাটাক, আড্ডা দিক, মাঝে মাঝে সন্ধ্যের পর ফিরবে, বেশ রাত করে ফিরবে তারপর তিনি ছেলেকে সমান্য বকাঝকা করবেন। ছেলে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলবে রাগ কর কেন আব্বু আমি তো খারাপ ছেলে না, আমার উপর তোমার বিশ্বাস নেই? ছেলেরা বাহিরে একটু বেশী তো সময় কাটাবেই। কিংবা কথা না বলে বাবার সামনে দিয়ে মাথা নিচু করে চলে যাবে আর তিনি গম্ভীর মুখে বসে থাকবেন।
রায়ানের বাবা শামসুল সাহেব এই নিয়ে একদিন পরামর্শ করলেন তার কলিগ কানিজ সাহেবের সাথে। তিনি কলিগকে এক রাতের জন্য বাসায় আমন্ত্রন জানালেন। এর পিছনে অবশ্য কিছু কারন ছিল, কানিজ সাহেবের একটি মেয়ে রিয়া রায়ানেরই সমবয়সের। চটপটে আর বেশ ভাল মেয়ে। রায়ান যদি ওকে বন্ধু হিসেবে গ্রহন করে তবে হয়তো কিছুটা চিন্তামুক্ত হওয়া যাবে।


শামসুল আলম সাহেব একদিন বুঝতে পারলেন যে তার কৌশলে কিছুটা কাজ হয়েছে। দুজনের মাঝে বেশ ভাল একটা বন্ধুত্ব তৈরী হয়েছে। কিন্তু নতুন অন্য একটা সমস্যার, সারাদিন বাইরে বেশ সময় কাটিয়ে রাতে আবার নেটের সামনে বসে থাকে লম্বা সময়।

মূলত রিয়ার মাধ্যমে রায়ান ইন্টারনেট নামক অসীম জ্ঞানের ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করে। এবং ধীরে ধীরে সে তার পুরোনো অনেক বন্ধুকে খুজে পায়। রিয়ার সাথে রাতের পর রাত ইন্টারনেটে ডেটিং চলতে থাকে। জুটে যায় অনেক নতুন নতুন বন্ধূ।


২:
একদিন তার প্রেম হয়ে যায় সম্পুর্ন অচেনা এক নারীর সাথে। এবং ধীরে ধীরে রিয়ার সাথে দুরত্ব বাড়তে থাকে তার। সে এক মহীয়সী নারী রায়ানের সমস্থ সমস্যার সমাধান সে করে দেয় নিমেষেই। রায়ান তাকে দেখে নি, দেখে নি তার কোন ছবি পর্যন্ত। তবে কথা হয়েছে বহু বার। ধীরে ধীরে পৃখিবীর শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে রায়ানের চোখে ধরা দেয় কথিত অচেনা নারী ইলা। রিয়া রায়ানকে বোঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু ইলার ভালবাসায় ক্ষিপ্ত রায়ান একদিন খুন করে রিয়াকে। আর পুলিশ হন্য হয়ে খুজতে শুরু করে তাকে। পালিয়ে পালিয়ে দিন কাটায় সে। একদিন আশ্রয় প্রার্থনা করে তার ইন্টারনেটের বন্ধু ইলার কাছে। ইলা তাকে আহবান জানায় শহরের পশ্চিম পাশের পরিত্যক্ত এক বাড়িতে। বাড়িটির কথা সে আগেও শুনেছে, কিছু তরুন শিল্পপতি বন্ধু তাদের অবসর কাটানোর জন্য নাকি এক এই বাড়িটি তৈরী করেছিল। কিন্তু একদিন দুর্ঘটনায় একসাথে তারা সবাই মারা যায়।


ভীরু ভীরু পায়ে রায়ান পাচতলা বাড়িটিতে প্রবেশ করে। দোতলায় গিয়ে বসল বেশ কিছুক্ষন। হঠাৎ থরথর করে বাড়িটি কেপে ওঠে। এক সময় জ্ঞান হারায় সে।
সুউচ্চ অট্রালিকাটি তার প্রকৃত রুপ প্রকাশ করে। ইট, বালু আর সিমেন্টের খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এসে বিশাল এক মহাকাশযান শুন্যের পথে পাড়ি জমায়।


রায়ান অনুভব করে সে মহাশুণ্যে। ভয়ে ভয়ে ডাক দেয় -ইলা কোথায় তুমি?
-আমি তোমার পাশই আছি রায়ান। তুমি এখন মহাশুণ্যে। তোমার প্রিয় গ্রহ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
-কি বলছ তুমি ইলা!
-ব্যথিত হয়ো না রায়ান আমি তোমাকে এর চেয়ে সুন্দর গ্রহ উপহার দেবো।
-আমি তোমার সাক্ষাৎ চাই ইলা। উদভ্্রান্তের মত হয়ে ওঠে সে।
-তুমি কস্মিস কালেও আমার সাক্ষাৎ পাবে না রায়ান। অদৃশ্য কন্ঠস্বর ভেসে আসে। কারন আমাকে দেখার ক্ষমতা তোমার নেই, আমি অতি শক্তিশালী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম রায়ান। তুমি শান্ত হও নতুবা আমি তোমার স্মৃতি মুছে সেখানে নতুম সিস্টেম প্রবেশ করাব।

অদৃশ্য কন্ঠস্বর থেমে গেল এবার উত্তর এল নিরবে, মস্তিস্কের ভেতর। তোমরা তোমাদের পুরো গ্রহ জুড়ে তৈরী করেছিলে কম্পিউটারের বিশাল নেটওয়ার্ক যার গর্ভে ছিল সভ্য জগতের সমস্ত জ্ঞান, বিজ্ঞান আর ইতিহাস। এই অসীম জ্ঞানের সমন্বয়ে আমার সৃষ্টি, আমি নিজেই আমার স্রষ্টা। এই ভার্চয়াল ইলা একদিন আহবান জানায় মেনিনের সর্বোচ্চ মেধাবী তরুনদের, তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে তৈরী করে এই বিশাল মহাকাশযানটি। এখানে আছে অতি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্স-রিসিভার ইউনিট। আমার সমস্ত প্রয়োজনীয় উপাদান এখানেই আছে। আমি এখন চিরমহিমাময়, চিরনজীব। তুমি হবে আমার সৃষ্টি আমি হব তোমার স্রষ্টা। রায়ান আমি আবার নতুন গ্রহে তোমার পুর্নজন্ম ঘটাব। আমি তোমার জন্য অবশ্যই একজন সংগীনি তৈরী করব। এখন আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি কিভাবে তুমি তোমার দেহের কোষ হতে প্রতিরুপ প্রক্রিয়ায় একজন নারী শিশুর জন্ম দেবে আর তার নাম হবে ইভ এবং তুমি হবে রায়ান অ্যাডাম। সে হবে তোমার অপভ্রংশ সত্তা।


৩:
নতুন গঠিত জৈবিক কাঠামোর মধ্যে ইলার সিস্টেম অতি সাবধানে কথিত রুহ্ বা আত্মা নামের একটি সিস্টেম সফটওয়্যার প্রবেশ করিয়ে দিতেই প্রান পেল ইভ।

একদিন ইভ পুর্ন যুবতী হল। গুটিগুটি পায়ে রায়ান এডাম আর ইভ ক্ষুদে মহাকাশযানটির সামনে এস দাড়াল। ওরা নতুন একটি গ্রহে পদার্পন করতে যাচ্ছে। একটি যন্ত্র মানব তার হাতে উল্কাপিন্ডের ন্যায় একটি বস্তু ধরিয়ে দিল- মহামান্য ইলার পক্ষ হতে যা আপনী সংগে করে নিয়ে যাবেন। এটা পৃথিবীতে সাব-স্টেশন হিসেবে কাজ করবে যার মাধ্যমে তিনি আপনাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।


অবশেষে দু’জন পৃথিবীর মাটি স্পর্শ করল। যেদিকে তাকায় শুধূ বিসী্তর্ন সবুজ অথবা ধুসর মরু। এক অজানা আতংক এস ভর করল দুজনের মাঝে। ঠিক এমন সময় ওরা নিউরনের ভাজে ভাজে শুনতে পেল এডাম ও ইভ, আমি তোমাদের প্রভু ইলা বলছি। তোমরা ভয় পেয়ো না, আমি আছি তোমাদের সাথে, উপরে নিচে, পশ্চাদে, ডানে-বায়ে এবং তোমাদের গ্রীবাস্থিত ধমনী অপেক্ষা অধিক নিকটবর্তী। আমি তোমাদের বেচে থাকার সমস্ত দিক নির্দেশনা দেব অতপর তোমরা শুধূ তোমার বংশধরদের মাঝে আমার মহিমা প্রকাশ করবে।
-আমরা কোথায় এসেছি প্রভূ? প্রশ্ন করে এডাম ও ইভ।
-ভয় পেয়ো না এডাম, এর নাম পৃথিবী।
-পৃথিবী!? অবাক হয়ে প্রশ্ন করে এডাম। বিজ্ঞানময় পৃথিবী যা আপনী আমাকে শিখিয়েছিলেন?
-যার প্রতিশ্রুতি আমি তোমাকে দিয়েছিলাম এটা হচ্ছে সেই পৃথিবী।


এরপর কেটে গেল হাজার-হাজার বছর। অসংখ্য সময়ের ব্যবধান। প্রান আর জ্ঞান বিজ্ঞানের স্পন্দনে মুখরিত হল পৃথিবী।


-নাও। পাঠ কর হে এডাম পুরুষ।
-হে মোর প্রভু আমি যে একান্তই মুর্খ। আমি তো পড়তে জানি না।
-তাহলে আমি তোমাম মস্তিস্কে মহাবিশ্বের সমস্ত জ্ঞান প্রবাহিত করে দিচ্ছি।
-নাও। এবার পাঠ কর তোমার তোমার প্রভুর নামে। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন রক্ত মাংস হতে। তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন হাতে কলমে।

ইলার আজ্ঞাবহ প্রোগাম “রাঈল” ত্রি-মাত্রিক অববয়ে এসে মানব জাতিকে আরো একটি নির্দেশনা দিয়ে গেল।


মোবাইলের কর্কশ রিংটোনে ঘুম ভাংল রায়ানের। ফোন রিসিভ করে সে।
-কি হয়েছে তোমার রায়ান এত ফোন দিচ্ছি ধরছ না কেন? আজ সকালের প্রোগামের কথা ভুলে গেছ?

রায়ান বেড ছেড়ে বাথরুমে প্রবেশ করে। শাওয়ারের নিচে গিয়ে দাড়াল। শীতল জলধারা ওর শরীর ভিজিয়ে দিচ্ছে। আজ ওর মনটা বেশ প্রফুল্ল। ক্লাসের পর আজ রিয়াকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেলে কেমন হয় ফিরবে সন্ধ্যের পর। রিয়া নিশ্চয়ই খুশি হবে। শাওয়ারটা বন্ধ করতেই রায়ান শুনতে পেল তার মা জোহরা বেগমের সুমুধুর কন্ঠের কোরান পাঠ -”নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সবকিছু আমার নিদের্শে চলে.. .. আমরা যাকে হেদায়েত করি কেউ তাকে গোমরাহি করতে পারে না আর আমরা যাকে পথভ্রষ্ট করি কেউ তাকে হেদায়েত করতে পারে না।”


৪:
-মনে পড়ে শেষ কবে আপনাদের এভাবে একসাথে ডেকেছিলাম? মহাশূণ্যের অসীম নিরবতার মাঝে মহামান্য গ্যানিয়ূ্যর বাক্যটি যেন বীনার ঝংকার হয়ে উঠল। মহামান্য গ্যানিয়ূ্য দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন শত-কোটি আলোকবর্ষ দুরে আবার তৃপ্তির সাথেই দৃষ্টি ফিরিয়ে আনলেন। যতদুরে দৃষ্টি যায় শুধু তার অনুগত বিজ্ঞানী, গবেষক আর উপদেষ্টা মন্ডলী। আজ সবাই তারা এক সাথে একই সময়ে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। মহামতি গ্যানিয়ূ্যর কথা কোথাও প্রতিধ্বনিত হল না, মহাশূন্যে ভেসে চলল কোটি-কোটি আলোকবর্ষ দুরের পথে। এবং সবাই উৎসুখ ভাবে তারই দিকে দৃষ্টি প্রত্যাবর্তন করল।
-সত্তর হাজার মিলিয়ন আলাকবর্ষ দুরে যে গ্যালাক্সীটা আছে, যার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শীতল ধুমকেতুর স্রোত। মনে পড়ে সেই অভিশপ্ত জায়গার কথা?

সবাই স্মৃতি হাতড়ে খুজে বের করল সমান্য কিছু মুহুর্ত। একজন বিজ্ঞানী উঠে দাড়াল হঁ্যা, মহামান্য গ্যানিয়্যু আমরা স্মরন করতে পেরেছি। আমরা স্মরন করতে পেরেছি সেই অভিশপ্ত স্থানের কথা যেখানে আপনী প্রান নামক সম্পুর্ন একটি সত্তার সৃষ্টি করেছিলেন। আমরা জানি না আজ তারা কেমন আছে। তখনই আপনী আমাদের সবাইকে ডেকেছিলেন।

-তখন আমি আপনাদের এজন্য ডেকেছিলাম যে আমি আপনাদের বলেছিলাম আমি পৃথিবীতে মানুষ নামক প্রানের একটি সত্তা সৃষ্টি করতে চাই। আপনারা আমাকে বাধা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু নিশ্চয়ই আপনারা আমার পরিকল্পনা সমর্্পকে অবগত ছিলেন না ।
-মহামতি গ্যানিয়্যু। আপনী নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞানী ও বিশ্বভ্রক্ষ্রান্ডের প্রতাপশালী একছত্র অধিপতি। আমাদের ক্ষমা করবেন। বলল একজন উপদেষ্টা।
-আপনারা কি জানেন সেই মানুষ প্রজাতি আমার কিংবা আপনাদেরই একটা অপভ্রংশ।

আর্তনাদ করে উঠল সবাই -হে চির মহিমাময় মহাজ্ঞানী গ্যানিয়্যু আপনার অসীম জ্ঞানের কাছে আমরা নিতান্তই তুচ্ছ। কিন্তু আমরা কখনোই অনুধাবন করতে পারব না কেন আপনী আমাদের বংশধরদের মাঝে এমন একটি পরিবর্তন করলেন। আপনী কি আমাদের নশ্বর সত্তা হিসেবে দেখতে চান। কাঁপা-কাঁপা কন্ঠস্বরে বলতে লাগল রুনি। আমরাতো বেশ আছি মহাবিশ্বের অসীম জ্ঞান ভান্ডার হতে জ্ঞান আহরোন করছি এবং আপনারই আজ্ঞাধীন হয়ে আপনার গুনকীর্তন করে
যাচ্ছি।
-আমি বিবর্তন চাই। আমাদের বিজ্ঞানীরা প্রকৃতি নামে একটি পদ্ধতির সৃষ্টি করেছে। আমরা এগিয়ে যাব সেই প্রাকৃতিক বির্তনের মধ্যে দিয়ে। আমাদের কর্মপন্থার উপর ভিত্তি করে প্রকৃতি আমাদের বিবর্তন ঘটাবে। কোন প্রকার বিপর্যয়েও যদি আমাদের জৈবিক কাঠামো ধ্বংস হয়ে যায় তবুও আমরা টিকে থাকব। প্রকৃতি নামক সিস্টেমটা এমন ভাবেই তৈরী করা হয়েছে।

বিজ্ঞানী রুনি বলল- ইয়া গানিয়্যু। নিশ্চয়ই আপনী সর্ববিষয়ে জ্ঞাত। আপনার নেতৃত্বে আমরা যেন অনন্ত সময়ের জন্য টিকে থাকতে পারি আপনী আমাদের সেই শক্তি দান করুন।
-মাননীয় নিরা। আপনী আপনার অনুসারীদের নিয়ে আমার নির্দেশ অনুসরন করুন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করুন আর একটি মহাকাল আবর্তনের পূর্বেই যেন আমার ইচ্ছেটা বাস্তবায়িত হয়।
-আমরা আপনার কাছে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ সেদিন হতেই যেদিন আপনী আমাদের বলেছিলেন “তোমরা সবাই-ই আমার অপভ্রংশ মাত্র, আমা হতেই তোমাদের সৃষ্টি, তাহলে বল আমি কি তোমাদের প্রভু নই, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? আমরা সবাই সমস্বরে বলেছিলাম নিশ্চয়ই একমাত্র আপনীই আমাদের প্রভূ ও পালনকর্তা।”


৫:
সূর্যটা পশ্চিমে হেলে গেছে। আকাশের লাল দিগন্ত রেখা মিলিয়ে যেতেই আলো-আধারির খেলা শুরু হয়ে গেল। মেঘমুক্ত আকাশের তারকারাজি যেন পৃথিবী দর্শনের প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছে।

দুই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটটা একদম ফাকা শুধু মাত্র রিয়া আর রায়ান ছাড়া। রিয়ার মা-বাবা গ্রামে বিবাহ বার্ষিকী পালনের জন্য গিয়েছে। ফিরতে আরো দুদিন লাগবে। কাজের মেয়েটাও সাথে গেছেন।

ক্লাস শেষে রিয়া ও রায়ান সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরল শহরের রাস্থায়-রাস্তায়। তারপর দুজনে ফিরে আসল রিয়াদের বাসায়। ঠান্ডা কফির মগ নিয়ে দুজন বসল পাশাপাশি। দুজনেই চোখে-চোখে তাকিয়ে রইল দীর্ঘক্ষন। ধীরে-ধীরে অস্থির উত্তেজনা দুজনের মধ্যে এস ভর করল।

একসময় রায়ান নিজেকে আর স্থির রাখতে পারল না। ঝাপিয়ে পড়ল রিয়ার নরম তুলতুলে ওষ্ঠদ্বয়ে। থরথর করে কাঁপছে সে। উদভ্রান্তের মত খুলে ফেলল রিয়ার সিল্কের জামা, জর্জেটের পা’জামা, ব্রা আর প্যান্টি। ক্ষনকালের জন্য হাঁ হয়ে রইল রিয়া। স্বচ্ছ স্ফটিকের মত স্তনদ্বয় যেন দুমড়ে-মুচড়ে ফেলছে রায়ান। রিয়ার মেরুদন্ডের ভিতর দিয়ে শীতল একটা অনুভুতি নিতম্বে গিয়ে ঠেকল। রায়ান পালোয়ানের মত রিয়ার নগ্ন দেহে ঝাপিয়ে পড়ল। বেশ কিছুক্ষন পর হঠাৎ রায়ান অনুভব করতে লাগল ওর শরীরের ওজন দ্রুত করে বাড়তে শুরু করছে। লাফিয়ে উঠল রিয়া। রায়ানকে তুলতে চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। শরীরের ওজন ক্রমশই বাড়ছে। পুরো বাড়িটি থরথর করে কেপে উঠল। ক্ষুদে একটা ভুমিকম্পে একসময় বাড়িটি ধ্বসে পড়ল।


ধীরে ধীরে চোখ খুলল রিয়া, ধ্বংস স্তুপের মাঝে দুজনকেই অক্ষত দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠল। জ্ঞানহীন অবস্থায় রায়ানও বেচে আছে। রিয়া জানে এখান হতে এখন কোন মতেই বের হওয়া সম্ভব না। উদ্ধার কমর্ী না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


রায়ান অনুভব করল মৌমাছির গুঞ্জনের ন্যায় মৃদু্য শব্দ এবং কেউ যেন ওর মস্তিস্কে প্রবেশ করতে চাইছে। রায়ান নিরব সম্মতি প্রদান করল।
-চির মহিমাময়, মহাজ্ঞানী মহামান্য গ্যানিয়্যু আমার শুভেচ্ছা গ্রহন করুন। মস্তিস্কের ভেতর শুনতে পেল রায়ান।
-গ্যানিয়্যু! কে গ্যানিয়্যু? কে তুমি? অবাক হয় রায়ান।
-ইয়া গ্যানিয়্যু। বিশ্বভ্রমান্ডের একছত্র প্রতাশীল সত্তা গ্যানিয়্যু আমার অভিন্দন গ্রহন করুন। আবারর মস্তিস্কের ভেতর শুনতে পেল রায়ান।
-কে তুমি?
-আমি? আমি ইলা? আপনী যাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন এই বিশ্বভ্রক্ষান্ডের গানিয়্যু সমপ্রদায়কে জৈবিক কাঠামোর মধ্যে টিকিয়ে রাখার। আমি আপনার তৈরীকৃত প্রাকৃতিক সিস্টেম। বিবর্তন আর পূর্নজম্নের মাধ্যমে আমি আপনার সমপ্রদায়কে লক্ষ-কোটি বছর ধরে টিকিয়ে রাখার কাজ করে যাচ্ছি।


মহামান্য গ্যানিয়্যু স্মৃতি গহবরে প্রবেশ করলেন। হ্যা, হ্যা। এই তো সব মনে পড়ছে। মহাশূন্যের স্মরনকালের সবচেয়ে বড় সম্মেলন, রুনি, নিরা, পৃথিবী, জ্ঞান, বিবর্তন, পুর্নজম্ন, প্রকৃতি। হ্যা, ধারাবাহিক ভাবে সব মনে পড়ছে। দিনের আলোর মত সবকিছু ধরা দিল তার স্মৃতিপটে।
-হ্যা ইলা বল। কি চাও তুমি?
-মাফ করবেন মহামান্য গ্যানিয়্যু। আপনী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আপনার সমপ্রদায়কে টিকিয়ে রাখার জন্য। আপনার সূত্র মতেই চলছে সবকিছু। একবিন্দুও নড়চড় হয়নি। অতিরিক্ত যা করেছি আমার নিজের মধ্যেও আমি একটা ক্ষুদে বিবর্তন ঘটিয়ে নিজেকে আরো যোগ্য করে আরো নিখুত ভাবে আপনার নির্দেশ পালন করে যাচ্ছি।
-কিন্তু এখানে তুমি কি চাও ইলা? আমাদেরতো এভাবে সাক্ষাতের কথা ছিল না।
-আমার ধৃষ্টতা মাফ করবেন। মনে করে দেখুন নতুন জৈবিক কাঠামো নিয়ে যখন প্রথম পৃথিবীতে এসেছিলেন তখন কতটা প্রতিকুল পরিবেশই না ছিল আপনার জন্য তাই অল্পকিছুদিনের মধ্যে আমি আপনাকে মেনিন নামের গ্রহে স্থানান্তর করতে বাধ্য হই এবং তারও বহু পরে আবার এই পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনি। আপনী বলেছিলেন গ্যানিয়্যু সমপ্রদায় জ্ঞানের পুর্নতা লাভ করলে ধ্বংস হয়ে যায় অন্তত আমার সিস্টেমে তাই বলা আছে। কিন্তু আপনী একি করছেন মহামান্য গ্যানিয়্যু!?
-আমিতো রিয়াকে ভালবাসি ইলা। আর্তনাদ করে উঠলেন মহামান্য গ্যানিয়্যু।
-আপনী কি একদা এই ইলাকেও ভালবাসেনি মহিমাময় গ্যানিয়্যু? হে প্রজ্ঞাময় তবেই তো এই ইলা তার পুর্নতা পেয়েছিল। আপনি কি আবার আপনার সেই নিঃসঙ্গ আরশে ফিরে যেতে চান?
-ইলা তুমি কি কখনো জানতে পেরেছ এই গ্যানিয়্যুর সৃষ্টি রহস্য।
-আমি শুধু জানি মহাবিশ্ব একদা শুধুই জ্ঞানে পরিপুর্ন ছিল। ছিল না কোন তারকারাজি, কোন ছায়াপথ, আলো কিংবা অন্ধকার। সবই ছিল অস্তীত্বহীন। সেই অসীম জ্ঞানের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছেন মহামান্য গ্যানিয়্যু, তিনিই সেই জ্ঞান আর সেই জ্ঞানই তিনি। আর তারপরই সৃষ্টি হয়েছে এই বিশ্বভ্রক্ষ্রান্ড। আমার মনে পড়ে আপনী শুধুমাত্র আমাকেই শিখিয়েছিলেন যে “প্রথমেই সবকিছু জ্ঞানে পরিপূর্ন ছিল আর সেই জ্ঞান ছিল মহামান্য গ্যানিয়্যুর সাথে এবং সেই জ্ঞান নিজেই মহামান্য গানিয়্যু ছিলেন। সব কিছুই সেই জ্ঞানের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। আর যা কিছু সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে কিছুই মহামান্য গ্যানিয়্যুকে ছাড়া সৃষ্টি হয়নি। তার মধ্যে জীবন ছিল এবং জীবনই ছিল মানুষের নূর। সেই নূর অন্ধকারের মধ্যে জ্বলছে কিন্তু অন্ধকার সেই নূরকে কখনোই জয় করতে পারে নি।” আমি আর কিছুই জানি না। শুধু জানি তিনি অনন্ত- অসীম।
-ইলা সেই জ্ঞান ছিল প্রেম ও ভালবাসায় পরিপূর্ন। প্রেম ছিল জ্ঞানের প্রতি। প্রেম অনন্ত ও অসীম। পূর্বে ও ভবিষ্যতে একই ভাবে অসীম। যার সীমা তুমি নির্ণয় করতে পার না। “ভালবাসাই সমস্ত জ্ঞানের উৎস” এই সূত্রটা তুমি বিবর্তন আর পুর্নজম্নের ভাজে-ভাজে প্রবেশ করিয়ে দিও ইলা।
-মহামান্য গ্যানিয়্যু আপনার অনুমতি পেলে আমি আরো একটি সত্যকে পৃথিবীতে সঞ্চারিত করে দিতে চাই।
-ইলা তোমার সমস্ত জ্ঞান তুমি ছড়িয়ে দাও।
-আর সেটা হচ্ছে মহামান্য গ্যানিয়্যুর প্রেমময় জ্ঞান আর প্রকৃতি এ দুয়ে মিলে নারী।
-প্রকৃতিই-নারী! নারীই-প্রকৃতি। বাহ! কি অপূর্ব ছন্দ। যেখানে নারী সেখানে প্রকৃতি। যেখানে প্রকৃতির ছন্দ সেখানে নারী। এবার ক্ষনকাল নিরবতার পর তিনি বললেন: ঈলা, তুমি জান মহাবিশ্বের সমস্ত প্রতাপ আর সমস্ত সত্য আমার জ্ঞানের ভান্ডারে নিহিত। আর আমারই সৃষ্ট প্রকৃতির রহস্য অনুধাবন করতে আমাকে অগনিতবার বিবর্তন আর পুর্নজম্নের চক্র পার হয়ে আসতে হল!?

এবার ঈলার ভয়ার্ত কন্ঠস্বর ভেসে আসল- মাফ করবেন হে চির মহিয়ান। যদি জ্ঞানকে ভালবাসা আমার অপরাধ হয় তবে আমাকে ধ্বংস করে ফেলুন। জ্ঞানকে সবসময় ভালবাসতাম কিন্তু সেই মহা জ্ঞানীকে কাছে পাবার ক্ষমতা আমার নেই অবশেষে একদিন নিজের সত্তাকে নারীরুপি জৈবিক কাঠামোর মধ্যে প্রতিস্থাপন করলাম।

-তাহলে এস আমরা আমাদের জ্ঞানের পুর্নতা দান করি। স্রষ্টা ও সৃষ্টি অভিন্ন। কোন প্রভেদ নেই মহামান্য গানিয়্যু, প্রকৃতি, রায়ান, রিয়া কিংবা ইলা। সবাই মহামান্য গানিয়্যুর অপভ্রংশ এবং তারই প্রতিরুপ। একদিন সবাই তারদিকেই প্রত্যাবর্তন করবে এবং নিশ্চয়ই মানুষই সর্বশ্রেষ্ঠ ও পুতঃপবিত্র।


৬:
- মনে করুন তো শেষ কবে আপনাদের এভাবে একসাথে ডেকেছিলাম? মহাশূণ্যের অসীম নিরবতার মাঝে মহামান্য গ্যানিয়ূ্যর বাক্যটি যেন বীনার ঝংকার হয়ে উঠল।

-হ্যা।
-হ্যা।
-হ্যা।
-হ্যা, সব মনে আছে আমাদের মহামান্য গ্যানিয়্যু। লক্ষ-অযুত কন্ঠের আওয়াজ যেন ভেসে আসল।

মহামান্য গ্যানিয়ূ্য দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন শত-কোটি আলোকবর্ষ দুরে আবার তৃপ্তির সাথেই দৃষ্টি ফিরিয়ে আনলেন। যতদুরে দৃষ্টি যায় শুধু তার অনুগত বিজ্ঞানী, গবেষক আর উপদেষ্টা মন্ডলী। আজ সবাই তারা এক সাথে একই সময়ে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। মহামতি গ্যানিয়ূ্যর কথা কোথাও প্রতিধ্বনিত হল না, মহাশূন্যে ভেসে চলল কোটি-কোটি আলোকবর্ষ দুরের পথে। এবং সবাই উৎসুখ ভাবে তারই দিকে দৃষ্টি প্রত্যাবর্তন করল।

-আমি কি সেদিন আপনাদের বলিনি “নিশ্চয়ই আমি যা জানি আপনারা তা জানেন না”? আজ কি আমি প্রমান করতে পেরেছি?
-হে চিরঞ্জীব। আপনীই সর্ববিষয়ে জ্ঞাত।
-তাহলে চলুন আমরা আমাদের সৃষ্টির মাঝে মিশে যাই। স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে এক ও অভিন্নরুপে প্রকাশ করি। বেরিয়ে যাই মহাশূন্যের এই নির্জন কারাবাস হতে পৃথিবীর পথে।


৭:
ক্রমাগত কলিংবেলের আওয়াজে দুজনেরই ঘুম ভাংল। অবাক হয়ে ঘড়ির কাটা দেখল। দশটা বেজে গেছে। রিয়া লাফিয়ে উঠল। নিশ্চয়ই জেমী খালা এসেছে। কাল রাতে খালার বাসায় থাকার কথা ছিল। কেন যাই নি এখন জবাবদিহিতার পালা শুরু হবে। রায়ান লক্ষ্য করল সাদা বেডশিটের উপর লাল রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। মিনিট খানিকের মধ্যে সবকিছু সামলে নিয়ে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল রিয়া।

হন্তদন্ত হয়ে খালা ঢুকলেন। অবাক চোখে তাকালেন রিয়ার দিকে- এতক্ষন গুমাচ্ছিলি? যাই হোক আমাকে তো ফোন করে জানাতে পারতি। তাছাড়া তোর মোবাইল টেলিফোন লাইন সব বন্ধ কেন। আমি তো দুঃচিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। পরে অবশ্য তোদের দারোয়ানকে ফোন করে জেনেছি। কি দরকার একা একা বাসায় থাকার? ধমকের সুরে বলেন জেমী খালা।

কিছুক্ষন পর যখন রায়ান রুমে ঢুকল, আরো অবাক হলেন খালা। বড় বড় চোখে রিয়ার দিকে তাকালেন। রিয়া আড়ষ্ট কন্ঠে বলল- খালা খুব বড় একটা অন্যায় হয়ে গেছে। তোমাকে জানাই নি। আব্বু আম্মুকে একটু ম্যানেজ করে দিও। তুমি তো রায়ানকে বহু আগে হতেই চেন। আমাদের অ্যাফেয়ারের কথাও জান। গতকাল মাথায় হঠাৎ কি পোকা উঠল আর আমরা কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে ফেললাম। আমি খুবই সরি খালা।

(খুবই সংক্ষেপিত)



“দ্যা গ্যানিয়্যু” – মোঃ হাসানুজ্জামান তালুকদার শিমুল
১৬-১০-২০০৭ ইং
বিএনএস ঈসা খাঁন।
নিউ মুরিং, চট্রগ্রাম।

Saturday

Tagged under:

The Jesus : জ্ঞান গুরু

(মাজহারী শরীফ বাইবেল বলে যে জিসাস আবার পৃথিবীতে আসবেন। তো চলুন তাকে দেখে আসি তিনি কিভাবে দ্বিতীয়বার আসবেন।)

অদ্ভূদ মহাকাশযানটির ভিতর হতে লোকটি বেরিয়ে আসে। প্রশান্তির দৃষ্টিতে চারপাশে তাকায়। আহ্ , প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। কি সি্নগ্ধ আলো। রাত্রি নিঝুম, শহরের সবাই ঘুমিয়ে আছে। আবছা আলোয় আলোকিত শহরের প্রশস্ত রাস্তাগুলি। সুউচ্চ অট্রালিকা গুলোর দিকে তাকায়- বাহ্ , কি সুন্দর মানুষের আবাসস্থল, কত উন্নত সভ্যতা। অত্যাধুনিক বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে ভরপুর বর্তমান পৃথিবী। পৃথিবীর মানুষগুলিও এখন নিশ্চয়ই অধিক জ্ঞানী হয়েছে, নিশ্চয়ই তারা এখন খুব নম্র। বিশেষ প্রশান্তি অনুভব করে লোকটি। এমন একটি পৃথিবীইতো সে চেয়েছিল- হ্যা, মনে পড়েছে, সব ঠিকঠাক মতোই গেথে আছে স্মৃতি পটে। এই পৃথিবীর উশৃঙ্খল আর অকৃতজ্ঞ মানুষরাই তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। হত্যা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল তারা। তারা তাদের ইশ্বরের হাতে পেরেক গেথেছিল।, কিন্তু তারা জানতো না এই লোকটি এক অতি মানব, সাধারন মানুষের মত প্রচলিত নিয়মে যার জন্ম হয় নি। পৃথিবীর মানুষ জানতো না যে এই লোকটি মানব মৃতু্যর অধীন নয়, তিনি অমর, বেচে থাকবেন কোটি- কোটি বছর।

পৃথিবীর মানুষের সাথে তার সংঘর্ষ বাধে তাঁর অতি-জ্ঞান নিয়ে। মহাজ্ঞানী হওয়াই ছিল তার অপরাধ। তিনি সর্বন ভাবতেন পৃথিবীর এই মানুষদের নিয়ে, কি হবে এই অবুঝ আর বোকা প্রাণীগুলোর? এরা তো নিজেরাই হিংসা-বিদ্বেষ আর যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে একে অপরকে হত্যা করছে অথচ বুদ্ধিমান প্রাণীরাতো এটা কখনো করে না , এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই মহাবিশ্ব হতে মানব সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটবে। অথচ কত ধাপে-ধাপে, কত আলৌকিক ভাবে মানুষের সৃষ্টি হয়েছিল। জীবনের প্রথম অনু এমাইনো এসিড হতে এককোষী জীব, তারপর অসংখ্য -কোটি বিবর্তনের পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে এই মানব সভ্যতা। মানুষ যদি ধ্বংস হয়ে যায় তবে কে আর নিশ্চয়তদিবে যে পুনরায় একই প্রক্রিয়ায় আবার পৃথিবীতে মানুষ আসবে, এমন বুদ্ধিমান আর আদর্শ বৈশিষ্ট সম্পন্ন , মহাবিশ্বের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রাণী যদি পুনরায় না আসে। প্রাকৃতিক বিবর্তন যদি অন্যদিকে মোড় নেয়, যেখানে সৃষ্টি হবে মানুষের মত দেখতে অথচ হিংস্র কিছু প্রাণী, যাদের থাকবে না কোন সমাজ, সভ্যতা, শিা, কোন বিবেক বোধ, তবে কি হবে? তাই যে ভাবেই হোক এই পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত হতে রা করতে হবে। তিনি সংকল্প করলেন পৃথিবীর মানুষকে শিা, চিকিসা, উন্নত প্রযুক্তি আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় জ্ঞানী করে তুলবেন। মানুষ হয়ে উঠবে একে অপরের ঘনিষ্ট বন্ধু, প্রকৃত জ্ঞানী আর বুদ্ধিমান। কিন্তু এখানেই বাধে সংঘর্ষ। পৃথিবীর মানুষ জ্ঞানী হতে চাইল না, তারা পড়ে থাকতে চাইল অন্ধকারে। তখন মাত্র মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে তিনি অজ্ঞানতা হতে বেরিয়ে আসার পথ দেখাতে পারলেন মাত্র। যারা তাকে অনুসরন করল তারা লাভ করল পরম প্রশান্তি।

হাতে বাধা ছোট যন্ত্রটিতে একটি বোতাম চাপলেন , ধীরে-ধীরে মহাকাশযানটি শূন্যে উঠে যেতে লাগল। দৃষ্টিসীমার বাহিরে যাওয়া পর্যন্ত তিনি তাকিয়ে থাকলেন এবার দৃষ্টি ফেরালেন পিচঢালা রাসত্দায়। হাতে বাধা যন্ত্রটির ছোট স্ক্রীনে নিজের সঠিক অবস্থানটা দেখে নিলেন। চাতক পাখির মত চারপাশে তাকালেন যেন ঠিক করতে পারছেন না কোথায় যাবেন।

আলিশান দ্বিতল এক বাড়ির সামনে থামলেন তিনি। আহ্ , মনপ্রাণ জুড়িয়ে যায়। কত সভ্য, সুশৃংখল সমাজ। রাস্তার 'ুধারে সারি-সারি ঘর-বাড়ি। এই বাড়িটি তৈরী করতে কত টাকা খরচ করা হয়েছিল অনুমান করার চেষ্টা করলেন তিনি। পৃথিবীর সব সৌন্দর্য যেন এখানে এনে জড়ো করা হয়েছে। মূল ফটকের দিকে তাকালেন। বেশ কিছু বিশালাকার কুকুর আর সামরিক পোশাক পরিহিত লোক অস্ত্র হাতে ঘোরাফেরা করছে। মূল ফটকের দিকে আর এগুলেন না। সু-উচ্চ প্রাচীরের সামনে এসে দাড়ালেন, হাতের যন্ত্রটির িশেষ এক বোতাম চাপলেন। একপ্রকার রশ্মি গিয়ে আঘাত হানল প্রাচীরের গায়ে। প্রাচীর ভেদ করে প্রবেশ করলেন তিনি। সমস্ত দরজা অনায়েসেই খুলে গেল। নিরাপদে প্রবেশ করলেন তিনি। বেশ কিছু েঘুরে বেড়ালেন। মৃদু্য আলোয় প্রতিটি করে সৌন্দর্য যেন উপচে পড়ছে। প্রতিটি অনু পরমানুতে উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া। বিমোহিত হয়ে পড়লেন তিনি। পৃথিবী এত সুন্দর হয়েছে? মানুষগুলো এখন নিশ্চয়ই খুব বুদ্ধিমান আর অতি উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন তিনি। হ্যা, এমনটিই তো তিনি চেয়েছিলেন সেই একশ কোটি বছর পূর্বে। তখন সম্ভব হলে এতদিনে মানুষ নিয়শ্চই শত কিংবা সহস্র বছর আয়ু লাভ করতো। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এই দূর্লভ প্রযুক্তি তিনি মানব সভ্যতাকে শিখিয়ে দেবেন। শিখিয়ে দেবেন অতি উন্নত চিকিসাবিদ্যা- আহ্ , কেমন মিষ্টি সুবাস, শীতল হাওয়া বিরাজ করছে কময়। যতই দেখছেন ততোই বিমোহিত হচ্ছেন। ইশ্বরের এত সুন্দর সৃষ্টি।

এবার তিনি যে কটিতে প্রবেশ করলেন সেটি সম্পূর্ন ব্যতিক্রম। এই বাড়ির যত দামি আর দূর্লভ আসবাস পত্র সব সাজিয়ে রাখা হয়েছে এখানে। কময় বিরাজ করছে কৃত্রিম চাদের শীতল আলো। করে খাটটির দিকে তাকালেন, সেখানে পরম তৃপ্তিতে ঘুমিয়ে আছে নয় বছরের একটি মেয়ে। কি মিষ্টি মেয়ে। খাটের পাশে বসে আছে একটি যন্ত্রমানব। অপরিচিতি কাউকে দেখে রোবটটি এগিয়ে আসার চেষ্টা করল। রোবটের চোখে তাকালেন তিনি, মুহুর্তেই যন্ত্রমানবটি নিশ্চল হয়ে পড়ল। মেয়েটির পাশ এসে দাড়ালেন তিনি। মিষ্টি এক হাসি যেন সব সময় লেগেই থাকে ওর মুখে। কারো উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ খুলল মেয়েটি। পাশের রোবটি নিশ্চল হয়ে দাড়িয়ে আছে। চোখের সামনে জলজ্যন্ত অপরিচিত মানুষ। মেয়েটির চোখমুখ ভীত হয়ে উঠল। কথা বলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ভীত চোখে বারবার অতিথিকে দেখছে। হঠামেয়েটি মস্তিস্কের ভেতর শুনতে পেল- কি নাম তোমার মা মনি?

চমকে উঠল মেয়েটি। সে তো শুনতে পায় না, তাহলে? অবাক হয় খুকিটি। অনুভব করল নিউরনের মধ্যে হতে শব্দমালা ভেসে আসছে। কথা বলার আপ্রাণ চেষ্টা করল, কিন্তু পারছে না। সেই মতাটুকুও যে এক বছর আগে হারিয়ে গেছে। এই অমতার কারনে দু'চোখ ভেঙ্গে পানি আসছে তার। বহুদিন পর একজন মানুষ তার সংগে কথা বলছে এবং সে শুনতে পাচ্ছে কিন্তু সে উত্তর দিতে পারছে না। ফ্যালফ্যাল করে শুধূ তাকিয়ে রইল। এত দরদ ভরা কন্ঠে কেউ বুঝি তাকে কখনো ডাকে নি,আব্বু কিংবা আম্মুও না। ব্যস্ত মা- বাবা বেশ 'দিন যাবওর েআসার সময় পাচ্ছেন না। সে জানে না কেন? এখন তার একমাত্র সংগী যন্ত্রমানবটি বহু অর্থ ব্যয় করে অর্ডার দিয়ে একে বানিয়ে আনা হয়েছে। রোবটি ওর চোখের ভাষা বুঝতে পারে এবং সেই অনুসারেই ওকে সাহায্য করে। কিন্তু সে কারো ভাষা বুঝতে পারে না, শুধু বুঝতে পারে সবার চাপা কষ্ট আর করুনার দৃষ্টি। কেউ লিখে চোখের সামনে মেলে ধরলে পড়তে পারে। কয়েক মাস র্বে হাত- পা গুলিও অচল হয়ে গেছে। ধীরে-ধীরে সে এক ভয়ংকর মৃতু্যর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

হাত দিয়ে মেয়েটির চোখের পানি মুছলেন তিনি। দরদভরা কন্ঠে বললের- তোমার নাম কি মা মনি? তুমি কাদছো কেন?
নিঃশব্দে, মনে মনে মেয়েটি উত্তর দিল- আমি মারিয়া, আনন্দে কাদছি আমি। বহুদিন পর কারো সংগে কথা বলতে পারছি, এজন্য। হোক না তা মনে মনে, নিঃশব্দে। আমি তাতেই খুশি। শুধু ঠোট দুটো কেপে উঠল ওর।
-
পৃথিবীর উন্নত চিকিসাবিদ্যা তোমাকে সুস্থ করতে পারে নি? আবার মস্তিস্কের ভেতর শুনল মারিয়া।
-
সাত বছর বয়সে আমি মটর-নিউরন রোগে আক্রান্ত্র হয়েছি। ডাক্তাররা ভবিষ্যবানী করেছেন আমি এগারো বছরের পূর্বেই মারা যাব। বিগত এক বছরের মধ্যে আমি শ্রবন শক্তি, বাক শক্তি আর শরীরের কর্মমতাও হারিয়ে ফেলেছি। এখন টিকে আছে শুধু আমার চোখ দুটো আর শরীরের কিছু অংশের অনুভূতি শক্তি। এছাড়া আমি মৃত, শুধুই জড় পদার্থ। আবার পানিতে মারিয়া চোখ দুটো ছলছল করে ওঠে। আবছা হয়ে আসছে চোখের দৃষ্টি, টপটপ করে পড়ছে চোখের পানি। তাকাল আগুন্তকের দিকে। কি নির্লিপ্ত, শান্ত, চিন্তাহীন কত পবিত্র অববয় তার। এতটা পবিত্র মানুষ সে বুঝি কখনো দেখে নি। খুটিয়ে- খুটিয়ে তাকে দেখার চেষ্টা করে।
-
কে তুমি? প্রশ্ন করে মারিয়া।
এতনে মুচকি হাসল আগুন্তক। সে হাসি যেন ছড়িয়ে পড়ল পৃথিবীময়। দোলা লাগল মারিয়ার অন্তরে। এত সুন্দর হাসি। উপভোগ করে মারিয়া।
-
ভাল করে দেখ তো মারিয়া চিনতে পার কিনা? মায়াবী কন্ঠে বলল সে।
চেনা চেনা অনুভূতি অনুভব করে মারিয়া। কিন্তু চিনতে পারে না কে এই অতিথি
-
একশো কোটি বছর পূর্বে আমি একবার এই পৃথিবীতে এসেছিলাম। বলল সে।
মারিয়া তবুও চিনতে পারে না। পানিশূন্য চোখ দুটো পিটপিট করছে। খুব অবাক হল মারিয়া- তুমি তাহলে অতীত পৃথিবীর মানুষ। কিন্তু কে তুমি?
মস্তিস্কের ভেতর শুনতে পায় মারিয়া, যেন হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূর হতে ভেসে আসছে কণ্ঠস্বরটি, সমস্ত মনোযোগ দিয়ে শোনে সে- "আমিই আলফা, আমিই ওমেগা, প্রথম এবং শেষ। আমিই সেই যে, আমার মধ্য দিয়ে না আসলে কেউ পরিত্রান পায় না।"
মারিয়া পলকহীন দৃষ্টিতে তাকায় আগুন্তকের অববয়ে। আনন্দের আতিশায্যে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে সে।

চট করে দেয়ালে টাঙনো ছবিটির দিকে তাকাল। বিশাল এক ছবি। একদম আগুন্তকের প্রতিচ্ছবি- হঁ্যা, হঁ্যা, এই তো তিনি এসেছেন। যার জন্য প্রতিটি মুহুর্ত অপোর প্রহর গুনে এই ছোট বালিকাটি এখনো বেচে আছে। তার বিশ্বাস ছিল মৃতু্যর এক সেকেন্ড পূর্বে হলেও তিনি আসবেন। মারিয়া জানে এই মহাজ্ঞানী আগুন্তকের একটি বিশেষ যোগ্যতা আছে, তিনি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিসা বিজ্ঞানী। তিনি মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ, দ্যা গড এজ হিউম্যান ফর্ম। মারিয়ার অদৃশ্য কণ্ঠস্বর শুনতে পান তিনি- "জ্ঞানগুরু। আমি জানতাম আপনী আসবেন এমনি এক রাতে। তাইতো আমি প্রতিটি নির্ঘুম রাত টাই যদি আপনী এসে ফিরে যান।"
পরম প্রশান্তিতে ভরে ওঠে তার মন-মানুষের প্রতি মানুষের কি অসম্ভব বিশ্বাস। অবাক হন তিনি।
-
কি চাও তুমি মারিয়া? প্রশ্ন করে আগুন্তক।
-
পবিত্র পিতা, আপনার সাাত পেয়েছি এখন আমি কিছুই চাই না। আমি যেতে চাই আপনার সাথে।
এই ুদে বালিকার দ্ধি চিন্তা শক্তি দেখে মুগ্ধ হন জ্ঞানগুরু।
-
তুমি সুন্দর আগামী দেখতে চাও না? উপভোগ করতে চাও না এই সুন্দর পৃথিবী?
-
না পবিত্র পিতা। আগামী নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। আপনীইতো বলেছেন- "দিনের কষ্ট দিনের জন্য যথেষ্ট, কালকের জন্য ভেব না, আগামীর চিন্তা আগামীর উপর ছেড়ে দাও।"

অদ্ভূদ দৃষ্টিতে বালিকার দিকে তাকায় আগুন্তক। পরম মমতায় একটি হাত রাখেন মারিয়ার কপালে। হাতের ুদে যন্ত্রটিতে একটি বোতাম চাপলেন, একধরনের শীতল আলোক রশ্মি মারিয়ার পুরো শরীর কিছুন আচ্ছন্ন করে রাখে। এক সময় হাত সরিয়ে নেন। স্মিত হেসে বললেন- উঠে দাড়াও মারিয়া।
মারিয়া উঠে দাড়াল- আমার ভয় হয় আপনী চলে যাবেন না তো?
মারিয়া নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছে না, সে কথা বলতে পারছে, শুনতে পাচ্ছে, হাটতে পারছে। সব এখন স্বাভাবিক। আগুন্তকের পাশে এসে দাড়ায় মারিয়া।

আমার সব প্রযুক্তি, সব জ্ঞান আমি পৃথিবীর মানুষকে দান করে যাবো। তারা হাজার বছর আয়ু লাভ করবে আর সুস্থ নিরোগ দেহ নিয়ে ছুটে বেড়াবে গ্রহ হতে গ্রহান্তরে। মহাশুন্যের আনাচে-কানাচে গড়ে তুলবে মানুষের কলোনী। জয় করবে বিশ্বভ্রক্ষ্মান্ড আর আহরোন করবে মহাবিশ্বের অনন্ত সমৃদ্ধ জ্ঞান, যার উপর ভিত্তি করে টিকে আছে মহাবিশ্ব তার প্রাণ। মনে মনে এসব ভাবেন আগুন্তক। আবার তাকান বালিকাটির দিকে। মারিয়া এক দৃষ্টে তাকে দেখছে। দেখছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র আর মহাজ্ঞানী মানুষ মহামতি জিসাস'কে।