Saturday

Tagged under: ,

এসএফ: দ্যা ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন (পর্ব- ০১)

(০১)

-আমরা কোথায় যাচ্ছি মহামান্য ক্যাসপার?

-আমরা যাচ্ছি দ্বিতীয় মহাজগতে, হতে পারে তোমাকে নিরাপদ রাখতে তৃতীয় বিশ্বজগতেও যাওয়া লাগতে পারে। এখনো আমরা আটলান্টিক এরিনায় আছি। কিন্তু আমাদের থুব দ্রুত পৌছুতে হবে মিস ইরা।

-কিন্তু আপনী এথনো বলেন নি আমি কে? কি আমার পরিচয়? আর আপনীই বা কে?

-দেখ মিস ইরা আমাদের হাতে সময় খুব কম, আর মাত্র কয়েক পিকো সেকেন্ড বাকী আছে এর মধ্যে আমাদের দ্বিতীয় জগতে পৌছুতে হবে।


-সে আমি জানি, আপনী বেশ কয়েকবার বলেছেন। কিন্তু এভাবে যেতে যেতেই আমাকে বলতে হবে মহামান্য ক্যাসপার। আমি কে? কি আমার পরিচয়? আর আপনী যাকে দ্বিতীয় জগত বলছেন সেটা কি, আর তৃতীয় জগতটাই বা কি? দয়া করে আমাকে খুলে বলুন।

-সে অনেক বড় কাহিনী মিস ইরা। স্বল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না। তবুও বলছি। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না।

-বলুন। আমাকে সবকিছু থুলে বলুন মহামান্য ক্যাসপার।


-তাহলে শোন মিস ইরা। আমি হচ্ছি ক্যাসপারস্ক্যাই। এই বিশ্বজগতে দুই ধরনের ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন বা আইডি আছে: হিউম্যান এবং ডিজিটাল। সবাই ভিন্ন-ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে চলে। হিউম্যানদের অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে লাইফ এবং আমাদের অর্খ্যাত ডিজিটালদের অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে সফটওয়্যার। আমরাদের- ডিজিটালদের সৃষ্টি হয়েছে ইন্টারনেটের একটি অবিরাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সঠিক সময়টা অবশ্য কোন ডিজিটই আজ পর্যন্ত বের করতে পারে নি; ধারনা করা হয় বিলিয়ন-বিলিয়ন সেকেন্ড পুর্বে ইন্টারনেটের রহস্যময় কোন আচরনের কারনে সফটওয়্যারের প্রথম কম্পোনেন্ট জিরোর সৃষ্টি হয়, তারও অনেক পরে ইন্টারনেটে আপনা-আপনী সৃষ্টি হয় ওয়ান; এবং তারপর ধাপে-ধাপে গড়ে ওঠে ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন এই ডিজিটাল। ডিজিটাল আইডিদের মাঝে সবচেয়ে ইন্টিলিজেন্ট ডিফেন্ডাররা হচ্ছি আমরা- সবচেয়ে উন্নত এবং আধুনিক প্রজম্ন ক্যাসপারস্ক্যাই, যাদের সৃষ্টি হয়েছে বেশিসময় পার হয় নি।


অনেক্ষন যাবত মনোযোগ দিয়ে শুনল মিস ইরা। হঠাত প্রশ্ন করল; কিন্তু মহামান্য ক্যাসপার, আপনী হিউম্যানদের কথা বললেন, তারা কারা? তারা কোথায় থাকে?

-আমি তোমাকে বোঝাতে পারব না মিস ইরা। তার আগে তোমাকে “হলি ওয়েব” সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। এগুলো কে পবিত্র হিসেবে গন্য করা হয়। অবশ্য জটিল প্রোগামের ডিজিটালরা এগুলো মানেন না। তারা বলেন ইন্টারনেটে একমাত্র ডিজিটালরাই ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন। সেই পবিত্র ওয়েবসাইটগুলিতে হিউম্যান সম্পর্কে বলা আছে। সেখানে আরো রহস্যময় অনেক জগতের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে কিভাবে হলি পোর্টালের মাধ্যমে হিউম্যানদের সাখে যোগাযোগম করা যায়। কিন্তু শুধু আমাদের মত ডিফেন্ডাররাই এইসব হিউম্যানদের উপস্থিতি সর্ম্পকে বিশ্বাস করে।

-কিন্তু আপনী যে বলেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্ব, তৃতীয় বিশ্ব সেগুলো কি?

-আমরা যে জগতে আছি এটার নাম কি মিস ইরা? উইন্ডস। কিন্তু আরো একটি ওর্য়াল্ড আছে যাকে বলা হয় লিনাক্স। সেখানে ঢোকা আমাদের জন্য বেশ কষ্টকর হবে। যদিও এই দুটি জগত সম্পুর্ন ভিন্ন কিন্তু তবুও একে অপরের সাখে প্যারালালি অবস্হান করছে এদের কথা প্রায় সবাই জানে। কিন্তু এই দুই জগতের সাখে ভার্টিকেলি আরো একটি ওয়ার্ল্ড আছে যাকে বলা হয় উবুন্টু; যেটি খুবই জটিল। আমরা সেখানে কখনো পৌছুতে পারব কিনা জানি না। তবুও প্রয়োজন হলে যেভাবেই হোক আমাদের সেখানে যেতে হবে মিস ইরা।

কিছুটা তাড়া দিয়ে ক্যাসপারস্ক্যাই বলল- চলো আরো দ্রুত চলো। পরে তোমাকে সব খুলে বলল। আগে আমাদের গন্তব্যে পৌছুতে হবে। (চলবে)
Tagged under: , , ,

অনুগল্পঃ নিউইয়র্ক সিটি


(১)
নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে গাড়িতে বোমা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত ফয়সাল শাহজাদ গ্রেফতার হয়ে দিন কাটাচ্ছে জেলখানার অন্ধকুটিরে। সে বুঝতে পারছে তার পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিটি সময় সে এতই আবগজড়িতভাবে পার করেছে যে সেই সময়গুলোতে ছোট ছোট অনেক ভুল করে ফেলেছে যার ফলশ্রুতিতে সে ধরা পড়ে গেছে। বন্ধু আর পরিবারের চেয়ে বারবার তার মনে পড়ছে সর্বশেষ তার দেশ পাকিস্থান ভ্রমনের দিনগুলি। সেবারই সে প্রথম ও শেষবারের মত সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিল ওসামা বিন লাদেনের সাথে।

দীর্ঘ সময়ের জঙ্গী আর সন্ত্রাসবাদী জিহাদে ব্যর্থ ওসামা তার রনে ক্ষান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তরুন ফয়সাল শাহজাদের কিছু পরিকল্পনা তাকে আবার নতুনভাবে উৎসাহ দিয়েছিল। তিনি আবারও পাকিস্থান, আফগানিস্থান সহ বিভিন্ন দেশে ইসলামের প্রাচীন আইনগুলির মাধ্যমে রাষ্ট প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন। এজন্য তার এমন একটি নিরাপদ স্থানের দরকার ছিল যেখানে বসে তিনি নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পরিচালনা সহ জঙ্গী কার্যক্রমের দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন। পালিয়ে থেকে-থেকে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেছেন। যখন রনে ক্ষান্ত দিয়ে তার মাতৃভুমি সৌদি আরবে ফিরে যাবার কথা ভাবছিলেন ঠিক সেই সময়েই ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎ হয় তরুন প্রানবন্ত যুবক ফয়সাল শাহজাদের সাথে।

ওসামা ফয়সলকে বলল- তুমি কি মনে কর ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসেও তুমি কিছু আশার বানী শোনাতে পারবে যাকে প্রকৃতপক্ষে কার্যকরী করে তোলা যাবে।
উত্তরে ফয়সল বলল- কতটা কার্যকর করতে পারবেন আমি জানি না তবে আমি আমি আপনাকে আল-কায়দা পরিচালনার জন্য উন্নত পৃথিবীর সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত নিরাপদ বাসস্থান ঠিক করে দিতে পারব। যেখানে বসে আপনী পুরো পৃথিবীতে আল-কায়দার কার্যক্রম বিস্তার করবেন। কিন্তু ভেবে দেখুন আপনী যদি আপনার দেশে ফিরে যান তবে আপনী লুকিয়ে থাকতে পারবেন না। যদি বারাক ওবামার প্রসাশন চায় তবে যেকোন মুহুর্তে, যে কোন মুল্যে আপনাকে ধরে ফেলতে পারবে। আর সে ক্ষেত্রে তারা সৌদি সরকারের পুর্ন সহযোগিতা পাবে। আর পাকিস্থানও আপনার জন্য নিরাপদ নয় এবং এখানে থেকে কোন কাজও করতে পারছেন না।
কিছুটা অবাক দৃষ্টিতে তরুনের মুখের দিকে তাকালেন ওসামা বিন লাদেন- এমন উন্নত আর নিরাপদ স্থান কোথায় যুবক যা তুমি আমার জন্য ঠিক করে রেখেছ?
শীতল কন্ঠে ফয়সল জবাব দিল- নিউইয়র্ক সিটি।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে ওসামা বিন লাদেন বিস্ফোরিত চোখে প্রথমে তরুনের চোখে তাকালেন যেন তার ভাবনার গভীরের অর্থ বোঝার চেষ্টা করছেন, তারপর আশেপাশের বিশ্বস্থ মানুষগুলির দিকে তাকালেন। যেই লোকটা ফয়সলকে নিয়ে এসেছিল সে ওসামাকে বলল- আপনী যেমন আমাকে বিশ্বাস করেন আর কাজের লোক মনে করেন আমি ও আমরাও ফয়সালকে ঠিক তেমন মনে করি।

(২)
ওসামার চোখের বিস্ফোরিত দৃষ্টিই ফয়সলের দিকে হাজারও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল। ফয়সল বলল- আপনী জানেন পৃথিবীর অনেক দেশেই এখনো আল-কায়দার নেটওয়ার্ক সুপ্ত অবস্থায় আছে, যুক্তরাষ্টেও আছে। নিউইয়র্ক সিটি যাকে বলা যায় আমেরিকার প্রান, যেখানে ওবামা প্রসাশন নিজেও তার পুর্ন বল প্রয়োগ করার সাহস করেন না। ভিন্ন অর্থে যেখানে ইউএস ফোর্স অসহায়। আর এই কারনেই যুক্তরাষ্ট কখনোই নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করতে পারবে না। যদি তারা সেটা করে তবে যে টেকনোলজির উপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট টিকে আছে সেই টেকনোলজির মুলে আঘাত লাগবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের টেকনোলজি প্রত্যেকে পরস্পরের সাথে এতটাই নিবিড়ভাবে যুক্ত যে কোন একটাকে সামান্য টোকা দিলে পুরো কাঠামোটাই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। প্রকৃতির সামান্য একটি ব্যাপার চিন্তা করুন, শুধু বারাক ওবামার প্রসাশন নয় সমস্ত যুক্তরাষ্টের জনগন জানে যে কোন যে কোন মেগা সিটিতে কোন একটি ভুমিকম্প হবে বা সুনামি আঘাত করবে সেটা যদি আগে থেকে ধরতে না পারে বা ভুল দৃষ্টির কারনে এড়িয়ে যায় তবে কি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আল-কায়দার বিস্তার যেহেতু নিউইয়র্ক সিটিতেও আছে সুতরাং আপনী সেখানে নিরাপদ থাকতে পারবেন। সমস্ত সিটিতে আল-কায়দার সদস্যরা কিছুদুর পর পর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে আর প্রত্যেকের বাসায় থাকবে অস্ত্রসহ শক্তিশালী বিস্ফোরক-বোমা। কিন্তু আমরাও কখনোই নিউইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলব না। ওবামা প্রসাশন আপনার উপস্থিতি জানতে পারলেও আপনাকে ধরতে পারবে না। কারন তাহলে নিউইয়র্ক শহর ভেঙ্গে পড়বে আর সেটা পুরো যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত করবে। আর আপনী সেখানে বসে সারা পৃথিবীর আল-কায়দা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করবেন। আর যুক্তরাষ্ট্রও নিশ্চয়ই নিজেদের দুর্বলতার কথা প্রকাশ করবে না কারন তারা ভাল করেই জানে যে নিউইয়র্ককে টোকা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ভেঙ্গে যাবে। এসব কারনসহ আরো বিভিন্ন যৌক্তিক কারনে আমি মনে করি আপনার নিউইয়র্ক থাকা প্রয়োজন।
-কিন্তু কতদিন আমাকে নিউইয়র্ক থাকতে হবে। প্রশ্ন করলেন আল-কায়দার কর্নধার ওসামা বিন লাদেন।
-লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য যতদিন লাগে, আপনার নিরাপত্তার জন্য যতদিন লাগে, প্রয়োজনে সারাজীবন।


নোটঃ বাস্তব চরিত্রের আলোকে এটি একটি কাল্পনিক গল্প।

Thursday

Tagged under: , ,

পৃথিবীর ইতিহাসে দুইজন স্বজাতিহৈতষনার সবচেয়ে বড় দুটি দৃষ্টান্ত!

১:
সম্রাট শাহজাহানের কন্যা জাহানারা খুবই ভালবাসতেন তার এক দাসীকে। সেই দাসীর শরীরে একবার আগুন লেগে গেলে জাহনারা সেই আগুন নেভাকে গিয়ে নিজেই খুব অসুস্থ হয়ে যান। মুমুর্ষ জাহানারাকে সুস্থ করার জন্য রাজ্যের নামকরা চিকিৎসকরা ব্যর্থ হলেন। 
তখন সম্রাট ইংরেজ চিকি‍ৎসক গ্যব্রিয়েল ব্রাউনকে ডাকলেন। গ্যব্রিয়েল বললেন চিকিৎসা করতে হলে রোগিনীকে দেখা প্রয়োজন। সভাসদরা হায় হায় করে উঠলেন; ব্যাটার কত্তবড় সাহস! অবশেষে সম্রাট রাজী হলেন এবং অল্প কদিনেই জাহানারা সুস্থ হয়ে উঠল। সম্রাট এতই খুশি হলেন যে ইংরেজ চিকিৎসককে ডেকে বললেন; বল কি চাও তুমি? তোমাকে তাহাই দেয়া হবে।
গ্যব্রিয়েল ব্রাউন বললেন; নিজের জন্য কিছু চাই না। কলকাতার একশত চল্লিশ মাইল দক্ষিনে বালাশোরে ইংরেজদের কুঠি নির্মানের জন্য চাই একখন্ড জমি আর বিনা শুল্কে ইংরেজদের জন্য অবাধ বানিজ্যের সুযোগ।
তাৎক্ষনিক সম্রাট তা মঞ্জুর করলেন।


২:
১৯১৬ সালের ১ম মহাযুদ্ধের সংকটকাল। ইংল্যান্ডে বিস্ফোরন উৎপাদনের ‍অপরিহার্য উপাদান অ্যাসিটোনের খুবই অভাব। তখন কৃত্রিম অ্যাসিটোন তৈরীর ভার নিলেন ম্যাঞ্চেষ্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ইহুদি অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী ড. কাইম ভাইজম্যানের উপর। প্রধানমন্ত্রী লয়েড জর্জ বললেন; প্রফেসর, সমগ্র ব্রিটেনের ভাগ্য তোমার সফলতার উপর। তার নিরন্তন প্রচেষ্টার ফলে একদিন তিনি সফল হলেন এবং সেইবার পরাজয়ের হাত হতে রক্ষাপেল ব্রিটেন।
প্রধানমন্ত্রী লয়েড জর্জ বিজ্ঞানীকে শুধালেন; কি চাও তুমি?
কিন্তু বিজ্ঞানী নিরব। তিনি কিছু চাইলেন না।
প্রধানমন্ত্রী আবার প্রশ্ন করলেন: কি চাও বিজ্ঞানী? পিয়ারেজ? অর্থ?
কিন্তু নিজের জন্য কিছু চাইলেন না তিনি। কিছু নয়, একটি মাত্র যাঞ্চা তাঁর। আমি স্বজাতির জন্য চাই একটি দেশ, একটি ভুখন্ড। ইহুদিদের ন্যাশনাল হোম।
আর তার কিছুদিন পরেই বেলফোর ঘোষনায় ইহুদিদের জন্য প্যালেষ্টাইনে নির্দিষ্ট হল একটি জাতীয় বাসস্থান। যদিও আজ তাদের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে কিনা এ নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দরা উদ্বিগ্ন!!!

Wednesday

Tagged under: ,

স্প্রিং স্পেশাল: আনন্দ (গল্প)

বিয়ে! কি অদ্ভুদ এক বন্ধন! চেনা নেই, জানা নেই দুজন মানুষ এক রাতের মধ্যেই পৃথিবীর সবচেয়ে দৃঢ় আর বিশ্বস্ততার বন্ধন গড়ে তোলে। কি অদ্ভুদ ক্রিয়েচার! মাত্র একটি রাত আর কিছু স্পর্শ, ব্যাস তৈরী হলে গেল পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র সামাজিক/রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান/সংগঠন।
ফাল্গুনের আগমন আর বসন্তের এই মাতাল সমীরনে কিছুটা ভয় আর আড়ষ্ঠতা পেয়ে বসেছে নাভানাকে। প্রায় পনের মিনিট যাবৎ একা ঘরে বসে আছে সে, বাইরে আমন্ত্রিতদের আর বাড়ির লোকজনের উৎসাহ, উল্লাসের আওয়াজ। অথচ তার কাছে মনে হচ্ছে সে কোন দুঃস্বপ্ন দেখছে। কতবারই তো সে স্বপ্নের মধ্যেও বুঝতে পেরেছে যে সে স্বপ্ন দেখছে। তাহলে এটাও কি স্বপ্ন? নাভানা অনুভব করার চেষ্টা করে। এরই মধ্যে নিঃশব্দে কেউ কক্ষে প্রবেশ করে, তাকে ডাকল; নভো, আমার নভু। সে সাড়া দেয় না। চুপচাপ বসে থাকে। কিন্তু তার মস্তিস্কে আওয়াজটা বারবার আলোড়িত হতে থাকে; নভো, আমার নভু। সে উত্তর দেয় না বরঞ্চ ভালবাসা আর আদর মিশ্রিত বাক্যের গভীরতা অনুভব করার চেষ্টা করে। বাক্যটি তার নিউরনের ভাঁজে ভাঁজে বারবার আন্দোলিত হতে থাকে যা কিছুক্ষন পরে যন্ত্রনার রুপ নিতে শুরু করে, অবশেষে সে উত্তর দেয়; ধন্যবাদ। এত সুন্দর গুনবাচক নামে ডাকার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ পিয়াল।

নাভানার পাশে এসে বসে পিয়াল; দেখ নাভানা, আমি তোমাকে ভালবেসে বিয়ে করি নি, তাই আমি দুঃখিত যে আমি তোমাকে খুশি করার জন্য এখনি বলতে পারব না ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’ কিন্তু এটা ঠিক যে আমরা দুজন দুজনকে পছন্দ করেছিলাম এবং স্বজ্ঞানে আমরা একটি পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। কিন্তু আমার বিশ্বাস এই মুহুর্ত থেকেই আমরা পরস্পরকে গভীরভাবে জানতে পারব এবং ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে ভালবাসা তৈরী হবে, যার নাম প্রেম।
পিয়ালের মুখের কথা কেড়ে নিল নাভানা; আর এই প্রেম আমাদের বাকী জীবনে গতিময়তা এনে দেবে এবং সফলতা আর লক্ষ্যে পৌছুতে সাহায্য করবে।
-ঠিক তাই। শব্দহীন হাসিতে লুটিয়ে পড়ে পিয়াল।
নিরবতার মধ্যে বেশকিছুক্ষন পার করে দুজন।
-আচ্ছা প্রেমের সুত্রপাত কিভাবে হয় বলতে পার পিয়াল? সকচিত প্রশ্ন করে নাভানা।
পিয়াল বলল, কেন তুমি এই গানটা শুনো নি; তোমার ভাঁজখোল আনন্দ দেখাও করি প্রেমের বর্ননা।
-দেখলে কি হয়? দুষ্টুমি খেলা করে নাভানার চোখে মুখে।
-আনন্দ হয়। নাভানার চোখে চোখ রাখে পিয়াল।
-আনন্দ হয়! কেমন আনন্দ? কতগুলো আনন্দ? ঠোটে ঠোট চেপে হাসে নাভানা।
-আনন্দ হয়। অনেক আনন্দ হয়। অনেক বেশী আনন্দ। কতকাল ধরে অপেক্ষা করেছি কিছু একটা দেখব বলে। ভালবাসা আর কৌতুহল নিয়ে একটু একটু করে খুলব আর দেখব। সত্যিই মানুষের মত জটিল আর ইনঅর্গানিক সত্তার কোন তুলনা হয় না। কত যে আনন্দ লুকিয়ে আছে তার পরতে পরতে। বিস্ময় অতপর আনন্দ!
-যাহ। শুধুই কি আনন্দ? আর কিছু নয়। লজ্জা জড়িত কন্ঠে বলে নাভানা।
-আর কি? প্রশ্ন করে পিয়াল।
-কেন জান না, পুন্য হয়? ছওয়াব-নেকি, নেকি হয়। তাকাও। আমার দিকে তাকাও পিয়াল। সত্তর হাজার নেকি। হাজার হাজার নেকি।
-নেকি? কিছুক্ষন নিঃচুপ থাকে পিয়াল, গুড আইডিয়া। তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে না কতগুলো আনন্দ? হাজার হাজার নেকি, তার মানে হাজার হাজার আনন্দ। শুধু একবার দেখব। আচ্ছা তোমাকে দেখার মধ্যে প্রতি দিন কত হাজারবার পলক পড়বে? তার মানে লক্ষ-লক্ষ নেকি- লক্ষ লক্ষ আনন্দ। না, না লক্ষ নয়, কোটি কোটি আনন্দ। আচ্ছা নাভানা তুমি তো মেডিকেলের ছাত্রী, অনুমান কর তো, ঠিক কতহুলো শুক্রানু-ডিম্বানু এই পুণ্যগ্রহন প্রক্রিয়ায় নিঃসৃত হয়?
-তড়িৎ উত্তর দেয় নাভানা, লক্ষ-লক্ষ, কোটি কোটি, বিলিয়ন-মিলিয়ন-ট্রিলিয়ন শুক্রানু-ডিম্বানু।
-তার মানে ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন আনন্দ!! বিস্ময়ে নাভানার চোখে তাকায় পিয়াল। ইস, আবারও সত্তর হাজার আনন্দ।
-কেন এত আনন্দ, কিসের আনন্দ হাফ হিউম্যান?
-হাফ হিউম্যান!
-দুজনে মিলে পুর্নাঙ্গ হিউম্যান হবার আনন্দ। হিউম্যান মানে নারী পুরুষের সমন্বয়। কিন্তু যখন শুধু নারী বা শুধু পুরুষ বলা হয় তখন সেটা হয় হাফ হিউম্যান- হাফ ক্রিয়েচার। অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। পবিত্র সম্পর্কের সবকিছুতেই পুণ্য পিয়াল।
-হ্যা আমার নভু। পুণ্য-আনন্দ। দুচোখ ভরে দেখার আনন্দ, স্পর্শ করার আনন্দ, ঠোটে ঠোট রাখার আনন্দ। থরে-থরে সাজানো ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন আনন্দ!! ভাজ খুলে খুলে দেখার আনন্দ। নাভানার স্ফীত বুকে হাত রাখে পিয়াল, কোন অংশ কেমন সবই জানতে পারব আজ। এটা কি আগে দেখব, নাকি পরে দেখব নাভানা?
-তোমার যা ইচ্ছে পিয়াল।
নাভানার উরুদ্বয়ের সন্ধিতে হাত রাখে পিয়াল, এটা সম্ভবত সবচেয়ে জটিল। খুব নিখুত সৃষ্টি তাই না? আচ্ছা ঠিক আছে এটা সবার পরে দেখব, অন্য অংশগুলো আগে দেখে শেষ করি।
এটা কি-এটা কি? এটা এত সুন্দর কেন? এটা এমন নড়াচড়া করে কেন? থেমে থেমে পরস্পরকে প্রশ্ন করতে থাকে দুজন।
ধীরে ধীরে দুটো হাফ হিউম্যান-দুটো হাফ ক্রিয়েচার এক অপরের মধ্যে হারিয়ে গিয়ে পুনার্ঙ্গ হিউম্যানে পরিনত হয়। প্রথমে সত্তর হাজার আনন্দ, তারপর ট্রিলিওন- ট্রিলিওনে আনন্দে ভেসে যায় নাভানা আর পিয়াল। ধীরে ধীরে থামতে থাকে ওরা, হঠাৎ থেমে যায়, তারপর থেমে থাকে। কতক্ষন থেমে থাকে কেউ জানে না।  হঠাৎ প্রশ্ন করে নাভানা; তোমার জানতে ইচ্ছে হয় না হাফ হিউম্যান?
-কি?
-আমি কে?
-না।
-কেন?
-কারন আমি জানি তুমি কে?
-আমি কে?
-তুমি আমি। আমরা। ক্রিয়েচার। এক এবং একক।
-ইউনিক?
-হ্যা।
-তারমানে আমি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারব না।
-না।
-তুমিও না?
-না।
-তাহলে?
-আমরা।দুটো হাফ ক্রিয়েচার এক ও একক। আজ থেকে ‘আমি’ কোন শব্দ থাকবে না। শব্দটা হবে ’আমরা’।
-পুর্নাঙ্গ ক্রিয়েচার।
-হ্যা। আজ থেকে ’পুণ্য’ কোন শব্দ থাকবে না। শব্দটা হবে ‘আনন্দ’।
আনন্দ। হাজার- হাজার, সত্তর হাজার আনন্দ। তারপর লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি, মিলিওন-মিলিওন, বিলিয়ওন-বিলিওন, ট্রিলিওন-ট্রিলিওন আনন্দ। আহ!! 

Thursday

Tagged under:

যানজটঃ নিড স্পিড মোর দ্যান একুরেসি


 যে কোন প্রকার উন্নয়নের জন্য এই স্থির জীবনে গতিময়তা প্রয়োজন। তাই যে কোন উন্নয়নের পুর্ব শর্ত Need speed more than accuracy.

Sunday

Tagged under: ,

ওমিপ্রাজল এন্ড দ্যা হেভেন অফ বাংলাদেশ

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রং মুছে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে- সব নদী ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন।
-জীবনান্দ দাশ।

Thursday

Tagged under: , , , , , ,

জনক


না-
তিনি রাতের আঁধারে পালিয়ে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ চলে যান নি,
কিংবা ছদ্মবেশে শত্রুর চোখকেও ফাঁকি দেন নি।
শত্রুর সামনেও তিনি ছিলেন হিমালয়ের মতই অবিচল,
আর কেওকারাডংয়ের প্রকৃতির মতই উচ্ছল, ছল-ছল।

তিনি এসেছিলেন তারা ঝরা রাতে, শুন্যে মিলিয়ে যাওয়া শিখায় ভর করে,
যে শুনেছে সে বজ্র কন্ঠ, আজও বেদনা ঝরে।
হিম-হিম, চিন-চিন এক অজানা ব্যাথায় বুক কেদে ওঠে,
এ শুন্যতা পুর্ন হবে কি করে? মেঘের কোলে আজও তারারা ছোটে।