স্প্রিং স্পেশাল: আনন্দ (গল্প)

বিয়ে! কি অদ্ভুদ এক বন্ধন! চেনা নেই, জানা নেই দুজন মানুষ এক রাতের মধ্যেই পৃথিবীর সবচেয়ে দৃঢ় আর বিশ্বস্ততার বন্ধন গড়ে তোলে। কি অদ্ভুদ ক্রিয়েচার! মাত্র একটি রাত আর কিছু স্পর্শ, ব্যাস তৈরী হলে গেল পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র সামাজিক/রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান/সংগঠন।
ফাল্গুনের আগমন আর বসন্তের এই মাতাল সমীরনে কিছুটা ভয় আর আড়ষ্ঠতা পেয়ে বসেছে নাভানাকে। প্রায় পনের মিনিট যাবৎ একা ঘরে বসে আছে সে, বাইরে আমন্ত্রিতদের আর বাড়ির লোকজনের উৎসাহ, উল্লাসের আওয়াজ। অথচ তার কাছে মনে হচ্ছে সে কোন দুঃস্বপ্ন দেখছে। কতবারই তো সে স্বপ্নের মধ্যেও বুঝতে পেরেছে যে সে স্বপ্ন দেখছে। তাহলে এটাও কি স্বপ্ন? নাভানা অনুভব করার চেষ্টা করে। এরই মধ্যে নিঃশব্দে কেউ কক্ষে প্রবেশ করে, তাকে ডাকল; নভো, আমার নভু। সে সাড়া দেয় না। চুপচাপ বসে থাকে। কিন্তু তার মস্তিস্কে আওয়াজটা বারবার আলোড়িত হতে থাকে; নভো, আমার নভু। সে উত্তর দেয় না বরঞ্চ ভালবাসা আর আদর মিশ্রিত বাক্যের গভীরতা অনুভব করার চেষ্টা করে। বাক্যটি তার নিউরনের ভাঁজে ভাঁজে বারবার আন্দোলিত হতে থাকে যা কিছুক্ষন পরে যন্ত্রনার রুপ নিতে শুরু করে, অবশেষে সে উত্তর দেয়; ধন্যবাদ। এত সুন্দর গুনবাচক নামে ডাকার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ পিয়াল।

নাভানার পাশে এসে বসে পিয়াল; দেখ নাভানা, আমি তোমাকে ভালবেসে বিয়ে করি নি, তাই আমি দুঃখিত যে আমি তোমাকে খুশি করার জন্য এখনি বলতে পারব না ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’ কিন্তু এটা ঠিক যে আমরা দুজন দুজনকে পছন্দ করেছিলাম এবং স্বজ্ঞানে আমরা একটি পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। কিন্তু আমার বিশ্বাস এই মুহুর্ত থেকেই আমরা পরস্পরকে গভীরভাবে জানতে পারব এবং ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে ভালবাসা তৈরী হবে, যার নাম প্রেম।
পিয়ালের মুখের কথা কেড়ে নিল নাভানা; আর এই প্রেম আমাদের বাকী জীবনে গতিময়তা এনে দেবে এবং সফলতা আর লক্ষ্যে পৌছুতে সাহায্য করবে।
-ঠিক তাই। শব্দহীন হাসিতে লুটিয়ে পড়ে পিয়াল।
নিরবতার মধ্যে বেশকিছুক্ষন পার করে দুজন।
-আচ্ছা প্রেমের সুত্রপাত কিভাবে হয় বলতে পার পিয়াল? সকচিত প্রশ্ন করে নাভানা।
পিয়াল বলল, কেন তুমি এই গানটা শুনো নি; তোমার ভাঁজখোল আনন্দ দেখাও করি প্রেমের বর্ননা।
-দেখলে কি হয়? দুষ্টুমি খেলা করে নাভানার চোখে মুখে।
-আনন্দ হয়। নাভানার চোখে চোখ রাখে পিয়াল।
-আনন্দ হয়! কেমন আনন্দ? কতগুলো আনন্দ? ঠোটে ঠোট চেপে হাসে নাভানা।
-আনন্দ হয়। অনেক আনন্দ হয়। অনেক বেশী আনন্দ। কতকাল ধরে অপেক্ষা করেছি কিছু একটা দেখব বলে। ভালবাসা আর কৌতুহল নিয়ে একটু একটু করে খুলব আর দেখব। সত্যিই মানুষের মত জটিল আর ইনঅর্গানিক সত্তার কোন তুলনা হয় না। কত যে আনন্দ লুকিয়ে আছে তার পরতে পরতে। বিস্ময় অতপর আনন্দ!
-যাহ। শুধুই কি আনন্দ? আর কিছু নয়। লজ্জা জড়িত কন্ঠে বলে নাভানা।
-আর কি? প্রশ্ন করে পিয়াল।
-কেন জান না, পুন্য হয়? ছওয়াব-নেকি, নেকি হয়। তাকাও। আমার দিকে তাকাও পিয়াল। সত্তর হাজার নেকি। হাজার হাজার নেকি।
-নেকি? কিছুক্ষন নিঃচুপ থাকে পিয়াল, গুড আইডিয়া। তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে না কতগুলো আনন্দ? হাজার হাজার নেকি, তার মানে হাজার হাজার আনন্দ। শুধু একবার দেখব। আচ্ছা তোমাকে দেখার মধ্যে প্রতি দিন কত হাজারবার পলক পড়বে? তার মানে লক্ষ-লক্ষ নেকি- লক্ষ লক্ষ আনন্দ। না, না লক্ষ নয়, কোটি কোটি আনন্দ। আচ্ছা নাভানা তুমি তো মেডিকেলের ছাত্রী, অনুমান কর তো, ঠিক কতহুলো শুক্রানু-ডিম্বানু এই পুণ্যগ্রহন প্রক্রিয়ায় নিঃসৃত হয়?
-তড়িৎ উত্তর দেয় নাভানা, লক্ষ-লক্ষ, কোটি কোটি, বিলিয়ন-মিলিয়ন-ট্রিলিয়ন শুক্রানু-ডিম্বানু।
-তার মানে ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন আনন্দ!! বিস্ময়ে নাভানার চোখে তাকায় পিয়াল। ইস, আবারও সত্তর হাজার আনন্দ।
-কেন এত আনন্দ, কিসের আনন্দ হাফ হিউম্যান?
-হাফ হিউম্যান!
-দুজনে মিলে পুর্নাঙ্গ হিউম্যান হবার আনন্দ। হিউম্যান মানে নারী পুরুষের সমন্বয়। কিন্তু যখন শুধু নারী বা শুধু পুরুষ বলা হয় তখন সেটা হয় হাফ হিউম্যান- হাফ ক্রিয়েচার। অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। পবিত্র সম্পর্কের সবকিছুতেই পুণ্য পিয়াল।
-হ্যা আমার নভু। পুণ্য-আনন্দ। দুচোখ ভরে দেখার আনন্দ, স্পর্শ করার আনন্দ, ঠোটে ঠোট রাখার আনন্দ। থরে-থরে সাজানো ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন আনন্দ!! ভাজ খুলে খুলে দেখার আনন্দ। নাভানার স্ফীত বুকে হাত রাখে পিয়াল, কোন অংশ কেমন সবই জানতে পারব আজ। এটা কি আগে দেখব, নাকি পরে দেখব নাভানা?
-তোমার যা ইচ্ছে পিয়াল।
নাভানার উরুদ্বয়ের সন্ধিতে হাত রাখে পিয়াল, এটা সম্ভবত সবচেয়ে জটিল। খুব নিখুত সৃষ্টি তাই না? আচ্ছা ঠিক আছে এটা সবার পরে দেখব, অন্য অংশগুলো আগে দেখে শেষ করি।
এটা কি-এটা কি? এটা এত সুন্দর কেন? এটা এমন নড়াচড়া করে কেন? থেমে থেমে পরস্পরকে প্রশ্ন করতে থাকে দুজন।
ধীরে ধীরে দুটো হাফ হিউম্যান-দুটো হাফ ক্রিয়েচার এক অপরের মধ্যে হারিয়ে গিয়ে পুনার্ঙ্গ হিউম্যানে পরিনত হয়। প্রথমে সত্তর হাজার আনন্দ, তারপর ট্রিলিওন- ট্রিলিওনে আনন্দে ভেসে যায় নাভানা আর পিয়াল। ধীরে ধীরে থামতে থাকে ওরা, হঠাৎ থেমে যায়, তারপর থেমে থাকে। কতক্ষন থেমে থাকে কেউ জানে না।  হঠাৎ প্রশ্ন করে নাভানা; তোমার জানতে ইচ্ছে হয় না হাফ হিউম্যান?
-কি?
-আমি কে?
-না।
-কেন?
-কারন আমি জানি তুমি কে?
-আমি কে?
-তুমি আমি। আমরা। ক্রিয়েচার। এক এবং একক।
-ইউনিক?
-হ্যা।
-তারমানে আমি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারব না।
-না।
-তুমিও না?
-না।
-তাহলে?
-আমরা।দুটো হাফ ক্রিয়েচার এক ও একক। আজ থেকে ‘আমি’ কোন শব্দ থাকবে না। শব্দটা হবে ’আমরা’।
-পুর্নাঙ্গ ক্রিয়েচার।
-হ্যা। আজ থেকে ’পুণ্য’ কোন শব্দ থাকবে না। শব্দটা হবে ‘আনন্দ’।
আনন্দ। হাজার- হাজার, সত্তর হাজার আনন্দ। তারপর লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি, মিলিওন-মিলিওন, বিলিয়ওন-বিলিওন, ট্রিলিওন-ট্রিলিওন আনন্দ। আহ!! 

Comments

রিয়া said…
অন্য একটি ওয়েবসাইটে পড়লাম আপনার লেখাও কপি করেছে bengalinewspapers.co.cc ব্লগে। আমরা কেউ কখনো প্রতিবাদ করিনা, করলেও সেটা নিজেদের ব্লগে লিখেই করেছি। তাই অসাধু ব্যাক্তি তার কুকর্ম করেই গিয়েছে। আমার লেখাও ওই সাইটে প্রচুর কপি হয়েছে।

অবশেষে আমি একদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমি এই সাইট থামাবোই। এবং আপনি গুগলে সার্চ করলে দেখবেন এই বিষয়ে একটি লেখা আছে "প্রতিবাদের সুর ধ্বনিত হলে অসাধু ওয়েবসাইট বাতিল হবেই", লিখেছি আমিই। জলিল রহমান নামের ওই ব্যাক্তির ব্লগ এখন আর নেই। একযোগে হোস্টিং কোম্পানী এবং ডোমেইন কোম্পানীর কাছে নালিশ জানিয়ে ওই ওয়েবসাইট বন্ধ করিয়েছি।

ওনাকে সুযোগ দিয়েছিলাম অনেকবার, উনি পাত্তা দেননি আমার অনুরোধে। তাই বাধ্য হয়ে কঠোর হয়েছি।
Administrator said…
This comment has been removed by the author.
Administrator said…
৥রিয়া, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। হ্যা, দেখেছিলাম যে এখানেও (bengalinewspapers.co.cc ) কপি করা হয়েছে আমার লেখাটি। আরো কিছু সাইটেও দেখেছিলাম, আমি এর প্রতিবাদে সামহোয়্যরইন এবং আমার ব্লগে লিখেছিলামও। ‌আপনারমত আমাকেও একশনে যেতে হবে বুঝতে পারছি। একটা লেখা দাড় করাতে কত কষ্ট হয় সেটা একমাত্র যে লেখে সেই বুঝে। মাঝে মাঝে ছোট দু একটা তথ্য সংযুক্ত করার জন্য অনেক বই ঘাটতে হয়। আপনাকে আবারও ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটি কাজ করার জন্য।