Saturday

Tagged under: , , ,

অনুগল্পঃ নিউইয়র্ক সিটি


(১)
নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে গাড়িতে বোমা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত ফয়সাল শাহজাদ গ্রেফতার হয়ে দিন কাটাচ্ছে জেলখানার অন্ধকুটিরে। সে বুঝতে পারছে তার পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিটি সময় সে এতই আবগজড়িতভাবে পার করেছে যে সেই সময়গুলোতে ছোট ছোট অনেক ভুল করে ফেলেছে যার ফলশ্রুতিতে সে ধরা পড়ে গেছে। বন্ধু আর পরিবারের চেয়ে বারবার তার মনে পড়ছে সর্বশেষ তার দেশ পাকিস্থান ভ্রমনের দিনগুলি। সেবারই সে প্রথম ও শেষবারের মত সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিল ওসামা বিন লাদেনের সাথে।

দীর্ঘ সময়ের জঙ্গী আর সন্ত্রাসবাদী জিহাদে ব্যর্থ ওসামা তার রনে ক্ষান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তরুন ফয়সাল শাহজাদের কিছু পরিকল্পনা তাকে আবার নতুনভাবে উৎসাহ দিয়েছিল। তিনি আবারও পাকিস্থান, আফগানিস্থান সহ বিভিন্ন দেশে ইসলামের প্রাচীন আইনগুলির মাধ্যমে রাষ্ট প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন। এজন্য তার এমন একটি নিরাপদ স্থানের দরকার ছিল যেখানে বসে তিনি নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পরিচালনা সহ জঙ্গী কার্যক্রমের দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন। পালিয়ে থেকে-থেকে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেছেন। যখন রনে ক্ষান্ত দিয়ে তার মাতৃভুমি সৌদি আরবে ফিরে যাবার কথা ভাবছিলেন ঠিক সেই সময়েই ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎ হয় তরুন প্রানবন্ত যুবক ফয়সাল শাহজাদের সাথে।

ওসামা ফয়সলকে বলল- তুমি কি মনে কর ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসেও তুমি কিছু আশার বানী শোনাতে পারবে যাকে প্রকৃতপক্ষে কার্যকরী করে তোলা যাবে।
উত্তরে ফয়সল বলল- কতটা কার্যকর করতে পারবেন আমি জানি না তবে আমি আমি আপনাকে আল-কায়দা পরিচালনার জন্য উন্নত পৃথিবীর সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত নিরাপদ বাসস্থান ঠিক করে দিতে পারব। যেখানে বসে আপনী পুরো পৃথিবীতে আল-কায়দার কার্যক্রম বিস্তার করবেন। কিন্তু ভেবে দেখুন আপনী যদি আপনার দেশে ফিরে যান তবে আপনী লুকিয়ে থাকতে পারবেন না। যদি বারাক ওবামার প্রসাশন চায় তবে যেকোন মুহুর্তে, যে কোন মুল্যে আপনাকে ধরে ফেলতে পারবে। আর সে ক্ষেত্রে তারা সৌদি সরকারের পুর্ন সহযোগিতা পাবে। আর পাকিস্থানও আপনার জন্য নিরাপদ নয় এবং এখানে থেকে কোন কাজও করতে পারছেন না।
কিছুটা অবাক দৃষ্টিতে তরুনের মুখের দিকে তাকালেন ওসামা বিন লাদেন- এমন উন্নত আর নিরাপদ স্থান কোথায় যুবক যা তুমি আমার জন্য ঠিক করে রেখেছ?
শীতল কন্ঠে ফয়সল জবাব দিল- নিউইয়র্ক সিটি।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে ওসামা বিন লাদেন বিস্ফোরিত চোখে প্রথমে তরুনের চোখে তাকালেন যেন তার ভাবনার গভীরের অর্থ বোঝার চেষ্টা করছেন, তারপর আশেপাশের বিশ্বস্থ মানুষগুলির দিকে তাকালেন। যেই লোকটা ফয়সলকে নিয়ে এসেছিল সে ওসামাকে বলল- আপনী যেমন আমাকে বিশ্বাস করেন আর কাজের লোক মনে করেন আমি ও আমরাও ফয়সালকে ঠিক তেমন মনে করি।

(২)
ওসামার চোখের বিস্ফোরিত দৃষ্টিই ফয়সলের দিকে হাজারও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল। ফয়সল বলল- আপনী জানেন পৃথিবীর অনেক দেশেই এখনো আল-কায়দার নেটওয়ার্ক সুপ্ত অবস্থায় আছে, যুক্তরাষ্টেও আছে। নিউইয়র্ক সিটি যাকে বলা যায় আমেরিকার প্রান, যেখানে ওবামা প্রসাশন নিজেও তার পুর্ন বল প্রয়োগ করার সাহস করেন না। ভিন্ন অর্থে যেখানে ইউএস ফোর্স অসহায়। আর এই কারনেই যুক্তরাষ্ট কখনোই নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করতে পারবে না। যদি তারা সেটা করে তবে যে টেকনোলজির উপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট টিকে আছে সেই টেকনোলজির মুলে আঘাত লাগবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের টেকনোলজি প্রত্যেকে পরস্পরের সাথে এতটাই নিবিড়ভাবে যুক্ত যে কোন একটাকে সামান্য টোকা দিলে পুরো কাঠামোটাই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। প্রকৃতির সামান্য একটি ব্যাপার চিন্তা করুন, শুধু বারাক ওবামার প্রসাশন নয় সমস্ত যুক্তরাষ্টের জনগন জানে যে কোন যে কোন মেগা সিটিতে কোন একটি ভুমিকম্প হবে বা সুনামি আঘাত করবে সেটা যদি আগে থেকে ধরতে না পারে বা ভুল দৃষ্টির কারনে এড়িয়ে যায় তবে কি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আল-কায়দার বিস্তার যেহেতু নিউইয়র্ক সিটিতেও আছে সুতরাং আপনী সেখানে নিরাপদ থাকতে পারবেন। সমস্ত সিটিতে আল-কায়দার সদস্যরা কিছুদুর পর পর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে আর প্রত্যেকের বাসায় থাকবে অস্ত্রসহ শক্তিশালী বিস্ফোরক-বোমা। কিন্তু আমরাও কখনোই নিউইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলব না। ওবামা প্রসাশন আপনার উপস্থিতি জানতে পারলেও আপনাকে ধরতে পারবে না। কারন তাহলে নিউইয়র্ক শহর ভেঙ্গে পড়বে আর সেটা পুরো যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত করবে। আর আপনী সেখানে বসে সারা পৃথিবীর আল-কায়দা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করবেন। আর যুক্তরাষ্ট্রও নিশ্চয়ই নিজেদের দুর্বলতার কথা প্রকাশ করবে না কারন তারা ভাল করেই জানে যে নিউইয়র্ককে টোকা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ভেঙ্গে যাবে। এসব কারনসহ আরো বিভিন্ন যৌক্তিক কারনে আমি মনে করি আপনার নিউইয়র্ক থাকা প্রয়োজন।
-কিন্তু কতদিন আমাকে নিউইয়র্ক থাকতে হবে। প্রশ্ন করলেন আল-কায়দার কর্নধার ওসামা বিন লাদেন।
-লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য যতদিন লাগে, আপনার নিরাপত্তার জন্য যতদিন লাগে, প্রয়োজনে সারাজীবন।


নোটঃ বাস্তব চরিত্রের আলোকে এটি একটি কাল্পনিক গল্প।

3 Comments:

Anonymous said...

সুন্দর! খুব সুন্দর হয়েছে। ঝা! ঝা! হয়েছে।

Anonymous said...

Nice Story...

priofacebook said...

the story sounds good.Is this really happened? or this is just a story only? Where you get this story?This story makes this page rank 8 .how funny ? google likes this kind of story much more...carry on i wish ur all the best ..help me to give me ur contact info...thanks