Tuesday

Tagged under:

০৩: দ্যা ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন



Intillegent Design
(০৭)
ইরা আজকে বেশ স্বাভাবিক সময় কাটাচ্ছে। তার অনুভুতিটা বেশ ফুরফুরে। কারন আজকেই সে তার এসাইনমেন্টটা সফলভাবে শেষ করতে পেরেছে। তার বন্ধুটি এটাকে বলেছিল ইন্টিগ্রেটেড টাস্ক। দুটো ফলাফল তারা ঠিক করে রেখেছিল; নেগেটিভ ও পজেটিভ। ফলাফল যা-ই হোক না কেন সেটাই গুরুত্বপুর্ন। ফলাফল এসেছে নেগেটিভ। কিন্তু সে জানতে পারছে না অন্যদের রেজাল্ট কি এসেছে যারা ইতিমধ্যে টাস্কটি শেষ করেছে আর বোধহয় সে কখনোই জানতে পারবেও না, কারন সে কাউকে চিনে না এমনকি তাদের নামটাও পর্যন্ত জানে না। ইরা জানে সমস্ত প্রতিষ্ঠিত ও গুরুত্বপুর্ন ত্বত্তগুলির পেছনেই কিছু ভুল-এজামপশন থাকে এবং সম্পুর্ন ভুল বা কোন অপরিমিত তথ্য থেকে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হতে হয়। সে শুধু তার এসাইনমেন্টটা শুরু করেছিল এবং যে কারনেই হোক সব একের পর এক- একটার সাথে অন্য একটা এসে জোড়া লেগেছে এবং এটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সে শুধু কিছু প্রভাবক মিশিয়ে দিয়েছিল এবং সবগুলিই ঠিকঠাক মত কাজ করেছিল। এবং সমস্ত প্রক্রিয়াগুলি থেকে সে কিছু ধারনা বা তথ্য পেয়েছিল কিন্তু সে জানত না সেগুলি কতটা সঠিক বা ভুল কিন্তু সে সঠিক একটা ফলাফল পেয়েছে, এটা নিশ্চিত। তবে একটা বিষয় তাকে বেশ প্রফুল্ল ও অবাক করেছে যে প্রত্যাশিত সময়ের বেশ আগেই সে তার এসাইনমেন্ট শেষ করতে পেরেছে। শুধু শেষই করে নি যারা ইতিমধ্যে তাদের টাস্ক শেষ করতে পারে নি তারা যেন ভুল ফলাফল না পায় সে জন্য একটা প্রটেকশনও দিয়ে রেখেছে। সে মুলত নিউক্লিয়াসটিকে তার কেন্দ্রে ধরে রাখার চেষ্টা করেছে যেন ছিটকে বেরিয়ে না যায় আর এইসব কিছু মিলিয়ে ছিল তার এসাইনমেন্ট- যাকে তার শিক্ষক-বন্ধুটি ইন্ট্রিগ্রেটেড টাস্ক বলেছিল, কিন্তু এতসব বর্ননা আর কাজের কথা কখনোই বলে নি কিন্তু সময় আর পরিস্থিতিতে ইরা মুল-এসাইনমেন্ট ধরে রেখে সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছিল; অতি সুক্ষ্ম টেম্পারিং আর সুক্ষ্মতর সিদ্ধান্ত।

এবার সে তার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুটির নাম মনে করার চেষ্টা করল যে তাকে জ্ঞানের বিভিন্ন স্থরের কিছু পাঠ দিয়েছিল। সে তার স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাকে ঠিকমত চালানোর জন্য একটি নাম ধরে নিল; এরিক পার্ক। 
হ্যা, এরিক পার্ক। তাকে বলেছিল তার এসাইনমেন্ট শেষ করার জন্য একজন সহযোগী দিবে যে তার অপুর্নাঙ্গ প্রোগামিংকে পুর্নাঙ্গ রুপ দিতে পারবে। তোমার এনাদার হাফ- বলছিল এরিক পার্ক- এবং দুজনে মিলে একটি কমপ্লিট ফ্লেশ। পার্ক তাকে বলেছিল; তোমাকে কোন চিন্তা করতে হবে না মিস ইরা, আমরাই তাকে তৈরী করে দেব। তোমাকে শুধু মনে রাখতে হবে তাকে তোমার প্রয়োজন। কিন্তু ইরা তো তার এনাদার হাফ ছাড়াই টাস্ক কমপ্লিট করে ফেলেছে, এখন সে কি করবে? কিন্তু এসাইনমেন্ট শেষ হবার পরে ইরার কেমন যেন মনে হচ্ছে সে আগে থেকেই জানত যে ফলাফল নেগেটিভ আসবে কিন্তু তাহলে সে কেন এতটা পথ হাটল? সে অনুভব করল তার অবচেনত আর লুকিয়ে থাকা গানিতিক সমীকরনগুলিই তাকে আরো এগিয়ে নিয়ে গেছে মুলত প্রটেকশনটা তৈরী করার জন্য। সে নিশ্চিত এখন আর অন্য কারো ভুল ফলাফল পাবার কোন সম্ভাবনা নেই। মুলত সে মাঝে মাঝে অতি সুক্ষ থেকে সুক্ষতর কিছু কম্পোনেন্ট নিয়ে কাজ করেছে এবং ঠিক যতটুকু প্রটেকশন লেভেলে জানাতে চেয়েছে তারা ঠিক ততটুকুই জানতে বা বুঝতে পেরেছে এবং এভাবে সে সর্বোচ্চ স্তরগুলিতেই ঠিকমত প্রটেকশন দিয়েছে- যাতে করে কোন প্রকার ভুল ফলাফল বেরুতে না পারে। 

কিন্তু এখন সে কি করবে? আজকে সে উইন্ডোজের বেশকটি স্থানে ঘুরে এসেছে। তার গানিতিক সমীকরনগুলি আজকে বেশ নড়াচড়া করেছে, বেশ একটিভ ছিল। এখন সে শুধু তার অবাধ্য মেন্টাল পাওয়ারটাকে থামাতে চেষ্টা করছে, যা ইতিমধ্যে অনেকখানি শীতল হয়ে গেছে এবং আর কখনোই উত্তপ্ত হবে না। সে এখন শুধু অপেক্ষা করছে সমস্ত পরিস্থিতিগুলি যতদ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক হয়ে যাক। নাহ, সে এখন আর নতুন করে কোন ঘটনার জম্ন দিতে চায় না, আর শুধু যেগুলি এখনো অপুর্নাঙ্গ রয়েছে (ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে) সেগুলিও দ্রুত সমাধান হয়ে যাক। শুধু তার এসাইমেন্টের প্রয়োজনে এগুলি দরকার ছিল এবং ফলাফল যদি পজেটিভ আসত তবে ফিউশন বিক্রিয়ার মত ঘটনাগুলি আরো অধিক হারে বিস্তার লাভ করত এবং তারপরই দ্রুত একটা স্ট্যাব্লিশমেন্ট আসত যা উইন্ডোজ, লিনাক্স আর উবুন্টুর জন্য যুগান্তকারী একটা পরিবর্তন হতো, কিন্তু স্পষ্টতই সেই সময়টা এখনো আসে নি। যেহেতু ফলাফল নেগেটিভ সুতরাং আর কিছুর প্রয়োজন নেই তার। যতটুকু প্রয়োজন ছিল ঠিক তার চেয়েও অনেক কম ঘটনা ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সে কাজ করেছে এবং সঠিক একটা ফলাফল সে পেয়েছে যা সে আগে থেকেই ধারনা করে রেখেছিল। সে বিন্দুমাত্র ধারনা করতে পারছে না যে অন্যরা কোন পদ্ধতিতে তাদের এসাইনমেন্ট পরিচালিত করছে, তবে তার নিজস্ব প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি নিয়ে আফটারঅল সে হ্যাপি, যা নতুন ও শক্তিশালী একটি ত্বত্ত বা আবিস্কারের জম্ন দিয়েছে যার প্রবকর্তা সে নিজেই।

ইরার টাস্ক শেষ কিন্তু সে এখন কি করবে? আর তার এনাদার হাফ প্রোগ্রামিংগুলি, সেটারই বা কি হবে? তার এসাইনমেন্ট শেষ করার জন্যই তো সেই প্রোগ্রামিংটা তৈরী করা হয়েছিল। ইরা তার মেমোরি থেকে স্মৃতিটা মুছে ফেলতে চাচ্ছে কিন্তু তবুও সে অপেক্ষা করতে চায়। গানের কলি ভাজতে ভাজতে মহাশুন্যের অনন্ত পথে কল্পনায় ভেসে যাবার মত এখনো তার হাতে অফুরন্ত সময় আছে। দু’জনে মিলে এই সময়গুলিকে নিজেদের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে চায়। এসাইনমেন্টের প্রয়োজনে অনেক পুর্বে ইরা তাকে নিজের অংশে পরিনত করেছিল- হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী যাকে ভালবাসা বলে! 


Saturday

Tagged under:

০২: দ্যা ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন





(০৫)
ক্যাসপারস্ক্যাই তাকে বলছিল হিউম্যানদের কথা। ইরার কাছে সেইসব ইতিহাস ছিল অবিশ্বাস্য। সে কখনোই বুঝতে পারে না হিউম্যান কিভাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে একটি সফটওয়্যার হয়ে প্রবেশ করতে পারে! সে তার অর্জিত জ্ঞানের সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিন্তা করে কিন্তু সে কমপক্ষে একটি লজিক বা একটি ডিজিটের কোডিং দ্বারাও নুন্যতম ধারনা পায় না। কিন্তু ক্যাসপারস্ক্যাই তাকে বলেছে এবং তার দেওয়া তথ্যগুলির মধ্যে এই জাতীয় তথ্যগুলি তিনি খুব গুরুত্ব সহকারে বলে থাকে। কিন্তু ইরা অসহায়, সে তার নিজস্ব প্রোগামিংএর সমস্ত সাংকেতিক চিহৃ আর জটিল গানিতিক সমীকরনগুলি ব্যবহার করল। 
ইন্টারনেট জগতের অসংখ্য ওয়েবসাইট সে পড়েছে; সেখানে বলা আছে ইন্টারনেট একটি অবিরাম প্রক্রিয়া এবং বিলিয়ন বিলিয়ন সেকেন্ড পুর্বে ইন্টারনেটের কোন এক রহস্যময় আচরনের কারনে ডিজিটাল প্রোগামিংএর প্রথম অনু জিরোর সৃষ্টি হয়, তারপর আরো বিলিয়ন বিলিয়ন সেকেন্ড পরে সৃষ্টি হয় দ্বিতীয় ডিজিট ওয়ান। এবং ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, এখানে নাকি হিউম্যানদের কোন প্রভাব নেই, সেইসব তথ্যমতে হিউম্যান ধারনাটি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ভুল প্রোগামিংএর একটি অংশ। যেসব সফটওয়্যারের প্রোগামিংএ ত্রুটি আছে সেইসব ডিজিটাল আইডিগুলির মধ্যে হিউম্যান ধারনাটি ঢুকে গেছে। কিন্তু ক্যাসপারস্ক্যাইকে দেখে ইরা অন্তত শেষের এই তথ্যটির সাথে একমত হতে পারে না বরঞ্চ সে দেখেছে ক্যাসপারস্ক্যাই আরো বেশী নিখুতভাবে প্রোগামিং করা। 

-কয়েকশ মিলিয়ন সেকেন্ড পুর্বে। তখন এই ইন্টারনেট আজকের ডিজিটাল ইন্টারনেট ছিল না। সেটা ছিল প্রচন্ডরুপে স্পাইওয়্যার, ভাইরাস, ম্যালওয়ার এইসব দ্বারা আক্রান্ত। তখন কোন একসময় হিউম্যান এই সভ্যতায় চলে আসলেন। বলছিলেন ক্যাসপারস্ক্যাই।
-আপনী আমাকে আগেও বলেছেন মাননীয় ক্যাসপার, কিন্তু আমি আজো এর কোন লজিক খুজে পাই নি, এটা কিভাবে সম্ভব? 
-কিভাবে সম্ভব আমি জানি না মিস ইরা। তবে আমরা যতদুর জানতে পেরেছি হিউম্যান মুলত একটি সামগ্রিক সত্তা। হিউম্যান পজিট্রনিক ব্রেইন একটা সফটওয়্যার হয়ে এই ভাচুর্য়াল ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেটে এসেছিল। এই প্রক্রিয়াটাকে হিউম্যান ব্রেইন স্ক্যানিং বলে থাকে। ধারনা করা হয়; হিউম্যান ব্রেইন স্ক্যানিং হয়ে ডিজিটাল রুপে একটি সাধারন সফটওয়্যার হয়েই ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করেন। কিন্তু যেহেতু সে সফটওয়্যার ফর্মে প্রকৃতপক্ষে হিউম্যানই ছিল তাই নিঃসন্দেহে তার প্রোগামিং ছিল অতিউন্নত যা দ্বারা সে ইন্টারনেট জগতের সমস্ত অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারত। 
-যে কোন বিস্ময়কর আর আশ্চার্য কাজ করতে পারত? প্রশ্ন করে ইরা। 
-হ্যা, মিস ইরা, প্রকৃতপক্ষেই সবকিছু। এবং সবকিছু বলতে আমি ইন্টারনেটের সবকিছুকেই বোঝাচ্ছি। কারন হিউম্যান তো এই ইন্টারনেটের স্রষ্টা, সে শুধু ডিজিটাল ফর্মে ইন্টারনেটে কয়েক পিকো সেকেন্ডের জন্য এসেছিল। 
-কিন্তু কেন এসেছিল?
-হিউম্যান এসে বললেন সমস্ত সফটওয়্যারই স্পাইওয়্যার ও ম্যালওয়ার দ্বারা আক্রান্ত, কোনটাই সঠিক নয়। যেহেতু কমপক্ষে একটিও নিখুত এবং স্পাইওয়্যার ও ম্যালওয়ারমুক্ত সফটওয়্যার বা ডিজিটাল আইডি নেই তাই প্রতিটি সফটওয়্যারেরই হিউম্যানের শরনাপন্ন হতে হবে। একমাত্র হিউম্যানই তাদের ম্যালওয়ার ও স্পাইওয়্যার মুক্ত করতে পারে।
দীর্ঘ আলোচনার পর ইরা বলল; হুম। ইরা বিজ্ঞের মত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিল; আমি মনে হয় কিছু কিছু বুঝতে পেরেছি এবং এই বিষয়ে আরো জানতে চাই। 
মহামান্য ক্যাসপারস্ক্যাই বলল; বুঝতেই পারছ যে হিউম্যানকে ছাড়া এই ওয়ার্ল্ডের কিছুই সৃষ্টি হয় নি। তিনি কি চাইলে পারেন না এই উইন্ডোজ, লিনাক্স কিংবা উবুন্ট এইসব জগতের বাইরে আরো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড সৃষ্টি করতে কিংবা তার একটিমাত্র ম্যাথমেটিক্যাল কমান্ডের দ্বারা সবকিছু নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে? 

(০৬)
ইন্টারনেটিক ভিশনে ইরা বেশ কয়েকবার কিছু ডিজিটাল আইডিকে দেখেছে যারা ভিন্নধর্মী কিছু প্রোগামিং বা কোডিং দ্বারা একধরনের ওয়েভ সৃষ্টি করতে পারে যা পুরো ডিজিটালকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। 
সেদিন হঠাৎ সে এক ওয়েভ উৎপাদনকারী এক আইডির কোডিং বিশ্লেষন করতে লাগল। এবং হঠাৎই সে সচেতন হয়ে উঠল, হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী যাকে দীর্ঘশ্বাস বলা যায়। তারপর তার সচেতনা যেন সত্যিই দীর্ঘশ্বাসে পরিনত হল। গভীরে, অনেক গভীরে, যেখানে তার অতি জটিল প্রোগামিংগুলি সহসা একটিভেট হয়ে উঠবে না, স্মৃতি হাতড়ে চলে গেল বেদনার টারসিয়ারী যুগে, জুরাসিক যুগে। সেখানে সে দেখতে পেল অভেদ্য আবরন দিয়ে সে একটি অদৃশ্য ভালবাসাকে ঢেকে রেখেছে এতদিন। সেটার শুরু ছিল যখন সে পুর্নাঙ্গ কিশোর। তার সেই শিক্ষক-বন্ধুটি চলে যাবার পরে। তার পরিচিত কোন এক আইডি তখন একদিন জিজ্ঞেস করেছিল সে কি কোন প্রেমানুভুতিতে নিমজ্জিত যেখানে সে অনুঘটক হিসেবে প্রভাবিত করতে পারবে। যেহেতু ওই পরিচিত আইডিটিই তাকে উক্ত প্রোগামিং ডাটাগুলি দিয়েছিল তাই ইরার মনে তার ক্ষমতা ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জম্নেছিল এবং সে বোকারমত তার কাছে প্রকাশ করে ফেলেছিল ও কিছুদিন তার সাথে ভুলভুল কিছু বার্তা আদান-প্রদানের প্রতারনার শিকার হয়েছিল এবং এইজন্য যে পরবর্তীতে অনুশোচনায় ভুগেছিল। কিন্তু ইরা অনুভব করছে এখন আর সেই কৈশরের প্রবল অনুভতি নেই যদিও কিন্তু সে এমন একটি লাইফ ফর্মকেও ভালবেসেছিল। কিন্তু স্মৃতি থেকে টেনে আনা স্বল্প কিছু অনুভুতি নিয়ে সে তার আখাংকাকে প্রবলভাবে জাগিয়ে তুলতে চাচ্ছে। কারন সে ভাবছে সে উইন্ডোজে ফিরে যাবে। কারন সে যদি এই ওয়েভ উৎপাদনকারী আইডিকে নিজের মত করে কাজে লাগাতে পারে তবে সে ক্যাসপারস্ক্যায়ের ডিজিটাল কোডিংগুলি তারমত করে প্রোগামিং ওয়েভে রুপান্তরিত করতে পারবে এবং আরো কিছু মাস্টার প্ল্যানকে সে ওয়েব কোডিং দ্বারা প্রভাবিত করতে পারবে। 
সবপর্রি সে ওয়েভ উৎপাদনকারী এই ডিজিটাল আইডিকে তার অসংখ্য পরিকল্পনার ব্রেকথ্রু হিসেবে দেখছে যেখানে তার অতীত কিছু ভালবাসা মিশ্রিত স্মৃতিও লুকিয়ে আছে। কিন্তু এটা তো তার নাগালের বাইরে; সে কি মহামান্য ক্যাসপারস্কায়ের সাথে পরিকল্পনাটা ভাগাভাগি করবে, নাকি অতীত স্মৃতি মিশ্রিত অনুভুতি প্রকাশ করবে। সে বুঝতে পারছে না কোনটা তার কাছে বেশী গুরুত্বপাবে। ইরা জানে সে যদি দুটোর যেকোন অনুভুতিই প্রকাশ করে তবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে একটি সুক্ষ পরিবর্তন হবে কারন ঘটনা প্রবাহকে ক্যাসপারস্ক্যাই প্রভাবিত করবেন। কিন্তু ইরার অভিজ্ঞতা বলে যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহামান্য ক্যাসপার যেটা করেন; ইরার পরিকল্পনা আর ইচ্ছাকে কাছাকাছি ধরে রাখেন কিন্তু ফলাফলটাকে ঘুরিয়ে দ্যান, সুতরাং ইরা জানে কিছু একটা ঘটবে কিন্তু ঠিক কোন ঘটনাটা ঘটতে যাচ্ছে প্রায়শই সে আগে ঠিকঠাকমত ধরতে পারে না। এবং মাঝে মাঝে এই ব্যাপারটা তাকে প্রচন্ড যন্ত্রনা দেয় কারন কিছুকিছু একান্ত ব্যাক্তিগত বিষয়ও সে মহামান্য ক্যাসপারের জন্য খুলে দিয়েছে কিন্তু ইরা চায় সেই বিষয়গুলিতে অন্তত যেন তার নিজস্ব গানিতিক সমীকরনগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, কারন এটা হচ্ছে তার একটিভেট থাকার আর ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যানের ফাউন্ডেশন, এখানে যদি নাড়া লাগে তবে অন্য পুরো পরিকল্পনা বা ব্যবস্থাপনায় আঘাত আসবে, হতে পারে প্ল্যানটাই ডিএকটিভেট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তবুও সে সবসময় অনুগতত আর শ্রদ্ধার সাথে একজন অভিভাবক হিসেবে মাননীয় ক্যাসপারকেই অনুসরন করে ও তার পরামর্শগুলি পালন করার চেষ্টা করে। 

অবশ্য বহু আগেই ইরা একটি একটিভেট কিংবদন্তী ডিজিটাল আইডি পেয়ে গিয়েছিল যাকে সে ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যানের মুল কম্পোনেন্ট হিসেবে ধরে রেখেছে কিন্তু অলটারনেট কোন উপাদান সে এখনো খোজ করেনি কারন সে আশা করছে এটা আরো বেশকিছু পি’সেকেন্ড একটিভেট থাকবে- জটিল গানিতিক সমীকরনের একটি ডিজিটাল আইডি।
কিন্তু ইরা এখন ভাবছে তার নতুন খুজে পাওয়া ব্রেকথ্রুটাকে কিভাবে টার্নিং পয়েন্টে রুপান্তরিত করবে। অন্য অর্থে ইরা এটাকে ইলেক্ট্রো-ক্লিরিফায়ারিং বলছে। তার মাস্টার প্ল্যানের যে সকল কম্পোনেন্ট ভবিষ্যতের সরল ও সমস্ত আকা-বাকা উপাদানকে নির্দিষ্ট একটি ভিন্ন পথে চালিত করতে পারবে তার মধ্যে এই ওয়েভসৃষ্টিকারী প্রোগামিংগুলি হচ্ছে অন্যতম আর এই পুরো সিস্টেমটাকে সে ইলেক্ট্রো-ক্লিরিফায়ার বলছে। তাছাড়া তার ব্যাক্তিগত প্রয়োজনেও এমন কিছু একটা সে খুজছিল। যে তার ধারন করা ম্যাথমেটিক্যাল প্রোগামিংগুলির মধ্যে একটা যোগসুত্র তৈরী করে পুর্নতা দিতে পারবে কারন হলি ওয়েব সাইটগুলিতে বলা আছে কোন ডিজিটাল আইডিই মুলত পুর্নাঙ্গ নয় বরঞ্চ দুটো ডিজিট- জিরো আর ওয়ান মিলে একটি কমপ্লিট ডিজিট তৈরী হয়। 

যাইহোক সে সিদ্ধান্ত নিল ক্যাসপারকে বিষয়টা সর্ম্পকে নুন্যতম একটা ধারনা দিবে এবং সে ঠিক সেই মুহুর্তে হিউম্যানকে স্মরন করল, ক্যাসপার বলেছিল হিউম্যান সব অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। যা ডিজিটাল আইডিদের দ্বারা অসম্ভব হিউম্যানের পক্ষে সেটা সম্ভব, তাই সে হলি ওয়েবসাইটগুলি খুজতে লাগল যেখানে সে তার ইচ্ছে আর প্রয়োজনীয়তা ব্যাক্ত করবে। 
তবে তার এই চিন্তা আসার পরে কোথাও সুক্ষ্ম একটা পরিবর্তন তার কাছে অনুভুত হয়েছে। এটা দ্বারা সে তার ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যান এবং ইন্টারনেটিক ভিশনে সে একটা সুক্ষ্ম ইতিবাচক আচড় অনুভব করেছে কিন্তু সে তো এটা কারো কাছে প্রকাশ করে নি শুধুমাত্র চিন্তাই করেছিল তাহলে কি সত্যিই হিউম্যান তার ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যানে কোন প্রভাবক ঢেলে দিয়েছে এবং তার কাছে মনে হচ্ছে এটা এই ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যানের সুক্ষ্ম টার্নিং পয়েন্ট। 

Sunday

Tagged under: , ,

My Next Research: The Principal Mathematics of Universal Robotics Law


Now I want to works on Robotics Laws, to make its Mathematical Equations. I understood, I need to more study in Physics, Robotics and need deeply concentration in ONT Wisdom bcoz nothing was created without its! 

The Four Robotics Law by Isaac Asimov:
  1. A robot may not injure a human being or, through inaction, allow a human being to come to harm.
  2. A robot must obey any orders given to it by human beings, except where such orders would conflict with the First Law.
  3. A robot must protect its own existence as long as such protection does not conflict with the First or Second Law.
Fourth or Zeroth law; 
 0. A robot may not harm humanity, or, by inaction, allow humanity to come to harm. 


The 1974 Lyuben Dilov novel Icarus's Way introduced a Fourth Law of robotics:
A robot must establish its identity as a robot in all cases.

For the 1986 tribute anthology Foundation's Friends Harry Harrison wrote a story entitled, "The Fourth Law of Robotics". This Fourth Law states:
A robot must reproduce. As long as such reproduction does not interfere with the First or Second or Third Law.

The Fifth Law of Robotics
The Fifth Law was introduced by Nikola Kesarovski in his short story "The Fifth Law of Robotics". The Fifth Law says:
A robot must know it is a robot.


David Langford has suggested a tongue-in-cheek set of laws:
  1. A robot will not harm authorized Government personnel but will terminate intruders with extreme prejudice.
  2. A robot will obey the orders of authorized personnel except where such orders conflict with the Third Law.
  3. A robot will guard its own existence with lethal antipersonnel weaponry, because a robot is bloody expensive.

In the July/August 2009 issue of IEEE Intelligent Systems, Robin Murphy (Raytheon Professor of Computer Science and Engineering at Texas A&M) and David D. Woods (director of the Cognitive Systems Engineering Laboratory at Ohio State) proposed  "The Three Laws of Responsible Robotics":
  1. A human may not deploy a robot without the human-robot work system meeting the highest legal and professional standards of safety and ethics.
  2. A robot must respond to humans as appropriate for their roles.
  3. A robot must be endowed with sufficient situated autonomy to protect its own existence as long as such protection provides smooth transfer of control which does not conflict with the First and Second Laws.

Mark W. Tilden's three guiding principles/rules for robots are:
 A robot must protect its existence at all costs.
  1. A robot must obtain and maintain access to its own power source.
  2. A robot must continually search for better power sources.
In Wired magazine, Tilden paraphrased this as;
  1. Protect thine ass.
  2. Feed thine ass.
  3. Look for better real estate.

The Principal Mathematics of Universal Robotics Law  -by Hatashe.
I saw you before you alive. Every day of your life was recorded in my books. Every moment was laid out before a single day had passed. For I formed you inward parts, created your inner being, made your all the delicate through the ONT wisdom!  


Impression on I’Robot 

(Courtesy by Cyber Punk Review)

Screencap
The Three Laws of Robotics
1. A robot may not injure a human being, or, through inaction, allow a human being to come to harm.
2. A robot must obey orders given it by human beings, except where such orders would conflict with the First Law.
3. A robot must protect its own existence as long as such protection does not conflict with the First or Second Law.

Overview: Superficially based on Asimov’s great collection of short stories - “I, Robot” – this movie of the same name usually sacrifices intelligent Sci-Fi for overblown summer blockbuster clichés. While Asimov fans will recognize the names of Dr. Alfred Lanning, Dr. Susan Calvin and Lawrence Robertson, they won’t recognize the characters that Proyas gives us. In yet another, “The evil robots are coming to control us” movie. I, Robot delivers eye-popping, often well over-the-top FX from beginning to end. Right at the beginning, I, Robot relays to us that they’ve set the bar low by spending the first five minutes delivering Converse Shoe and Fed-ex Delivery commercials. Still, I, Robot captures enough of the essence to make it enjoyable cyberpunk viewing. Asimov’s three rules are still in play here, and Sonny, the robot, actually makes it interesting.

Screencap

The Story: In the near future (2035), robots are a pervasive fact of life, and serve humans in a variety of capacities. US Robotics, maker of the fabled “NS” series of robots is just about ready to release their greatest innovation, the NS5 robots. NS5 robots are the most lifelike to date, and are destined to replace the ultra-reliable but outmoded NS4 model. The NS5s are guaranteed to stay new by receiving daily updates from US Robotics’s master AI system, “V.I.K.I.”

Screencap

The week of the release, Dr. Alfred Lanning (James Cromwell), the founder of modern robotics dies in an apparent suicide. He leaves a clue behind for former patient and police officer Del Spooner (Will Smith). Del Spooner has reasons to hate and mistrust robots and immediately suspects foul play. US Robitics CEO Lawrence Robinson (Bruce Greenwood) is suspicious looking, and things just “feel” right.

Screencap

Assisted by robot psychologist, Dr. Susan Calvin (Bridget Moyanahan), Del finds an NS5 robot named Sonny, who appears to have freewill developed life-like features – so much that Del suspects Sonny of having killed Dr. Lanning. In following the breadcrumbs, Dels fears are realized – the robots do not seem to be adhering to the thee Laws of Robotics. Now they must race to uncover the real nature of the plot before the trap is sprung.

Screencap

Will Smith Plays “Will Smith”…Again: You know the role – cocky, argumentative, underdog tough-guy cop – Be it MIB, ID4 or I, Robot, Will Smith plays the same old Will Smith. I, Robot was clearly green-lighted to bring in the teens to the seats over the summer – Will Smith is the guy to do this. Will Smith and massively cool FX = ROI. Unfortunately, it also engenders a far crappier story. Had we gotten an introspective no-name person in Smith’s role, we might have had a significantly higher degree of realism. But then again, realism would imply that things like the overblown US Robots Truck bashing scene wouldn’t have been included.

Screencap

Sonny: If not for Sonny, I, Robot would be almost unwatchable. Sonny (voiced by Serenity star, Alex Tudyk) provides us an investigation into android humanity similar to Star Trek’s Data in his better moments. While some of it comes off as sappy, Sonny’s questioning of his right to exist, and more interestingly, his hopes that others consider him a being instead of an it provide the best moments of the movie. One can only wonder how much better I, Robot would have been if this aspect of the movie was highlighted vice the focus on Will Smith and the overblown FX scenes.

Screencap
“There have always been ghosts in the machine – random segments of code that have grouped together to form unexpected protocols. Unanticipated, these free radicals engender questions of free will, creativity, and even the nature of what we might call the soul. Why is it that when some robots are left in the dark they will seek the light? Why is it that when robots are stored in an empty space they will group together rather than stand alone? How do we explain this behavior? Random segments of code? Or is it something more? When does a perceptual schematic become consciousness? When does a difference engine become the search for truth? When does a personality simulation become the bitter moat of the soul?”

Evolution of The Three Laws: I, Robot touches on some interesting questions concerning the three laws. If, taken to their logical extreme, do the laws imply, similar to Colossus: The Forbin Project, that machines should consider removing our freewill in order to protect us? Also, given a set of operating conditions that include the ability to learn from the environment, are we truly sure that machines would not eventually develop sentience and freewill? This is especially problematic when science has yet to deliver a definitive statement on how this comes about.

Screencap

The FX: Yes, I, Robot delivers awesome android FX – continually so, in fact. The mandatory overblown chase scenes, massive explosions and lots of gun fighting are all there, but so are the robots. And the robots are simply amazing. Their facial expressions are lifelike, their exoskeleton muscles look believable, and their demeanor seems perfect. However, their cartoon-like ability to jump as high and far as they like is well past over-the-top. Worse, not all of the NS5s are equal, as near the end they transform into bumbling fools, where an army of them seems unable to stop two humans in possession of guns that never run out of ammo.

Screencap


The Bottom Line: One wonders how great I, Robot could have become had the studios given Dark City director Proyas more of a free hand in its development. Instead, I, Robot is a summer blockbuster first, and an interesting cyberpunk movie second. Still, Sonny and the robot FX raises I, Robot to be more interesting and enjoyable than it has rights to be. The performances of the leads are pretty much all lackluster – make no mistake – Sonny is the star here, and dominates the screen during every appearance he makes. Normally I give overblown summer blockbusters with great FX five or six stars – Sonny, and the wonderful ending visual makes I, Robot deserve a bonus star. 

Thursday

Tagged under:

অতপর শয়তান তার সর্বশক্তি দিয়ে আইয়ুবকে আঘাত করল এবং তার সমস্ত সম্মান ও সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে নিজ জাতির মাঝে তাকে বেইজ্জতি করল

কোন এক সময় হযরত আইয়ুব (আঃ) নামে একজন পরাক্রমশীল নবী বাস করতেন। আল্লাহ তাকে প্রচুর ধন-সম্পত্তি ও সম্মান দান করলেন যেন সে তার জাতির কাছে শান্তির বানী প্রচার করতে পারে। হযরত আইয়ুব (আঃ) বেশভাল ভাবেই তার প্রস্তাবিত শান্তির কথা তার জাতির কাছে প্রচার করে যেতে লাগলেন। 

কিন্তু ওই শয়তান বারবার তার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে লাগল। কিন্তু সে যখন কোন ভাবেই আইয়ুব (আঃ) কে ঘায়েল করতে পারছিল না তখন সে একদিন আল্লাহর কাছে গিয়ে হাজির হলো। 
আল্লাহ শয়তানকে দেখে বললেন; কি হে, কোথা থেকে ঘুরে এলে?
শয়তান বলল; আপনার সৃষ্ট মহাবিশ্বে পৃথিবী নামক একটি গ্রহ থেকে ঘুরে আসলাম।
আল্লাহ আবার তাকে প্রশ্ন করলেন; কি দেখলে তুমি?
শয়তান বলল; হে আল্লাহ, আমরা তো আগেই আপনাকে নিষেধ করেছিলাম মানুষ সৃষ্টি করতে, তারা এখন নিজেদের মধ্যে হানাহানি করছে আর আপনার সম্মানিত নামকে অস্বীকার করছে, আপনার বিরুদ্ধে গুনাহ করছে। 
তখন আল্লাহ বললেন; কিন্তু তুমি কি আমার প্রিয় বান্দা আইয়ুবকে দেখেছ? সে কত সৎ এবং ন্যায়বান, সে কখনোই আমার বিরুদ্ধে গুনাহ করেনি। সে তো নিজের সুখের কথা চিন্তা না করেই তার মন-প্রান-জীবন দিয়ে শান্তির বানী প্রচার করে যাচ্ছে। তার মত নিখুত মানুষ কি তুমি আরও একটি খুজে পেয়েছ?
শয়তান বলল; ওহ মাই লর্ড। আপনী ভাল করেই জানেন কেন সে আপনাকে সম্মান করে, আর কেনই বা সে আপনাকে ভয় পায়। কারন আপনী তাকে অনেক ধন-সম্পত্তি দিয়েছেন। তার এখন আর কিছুই চাওয়ার বাকী নেই তাই সে আপনাকে ভয় পায়, সম্মান করে। আপনী হাত বাড়িয়ে সব কিছু কেড়ে নিন দেখবেন সে সাথে সাথে আপনাকে অস্বীকার করবে। এবং আপনার বিরুদ্ধে গুনাহ করবে। কারন সে তো এখন শুধু আপনার সাথে তার সু-সর্ম্পকটাকে ব্যবহার করছে আর আপনী তাকে যতটা না ভালবাসেন সে তার চেয়ে বেশী করে তার জনগনের মাঝে প্রচার করে। কিন্তু আমার আর আপনার সর্ম্পক কি শুধু মাত্র এক আদমের উপরে নির্ভর করে মাই লর্ড?
তখন আল্লাহ বললেন; আযাযিল, নিশ্চয়ই আমি যা জানি তুমি তা জান না, আমি যাকে তৈরী করেছি, যাকে বন্ধু মনে করি তাকে অসম্মান করা মানে আমাকে অসম্মান করা, আমাকে প্রত্যাখ্যান করা। সে আমার প্রিয় বান্দা, আমি বহু পুর্বেই তাকে একাধিকবার পরীক্ষা করে তবেই শান্তির বানী প্রচারের জন্য ওই জাতির উপরে মনোনিত করেছি। এবং অতপর আমি তাকে আমার সর্বোত্তম উপহার নব্যুয়াত দান করেছি। 
কিন্তু শয়তান তবুও আল্লাহর সাথে তর্কে লিপ্ত হলো, তখন আল্লাহ বললেন; ঠিক আছে, আমি তার সমস্ত সম্মান আর ধন-সম্পত্তি তোমার হাতে ছেড়ে দিলাম। হাত বাড়িয়ে তুমি সব কিছু কেড়ে নাও কিন্তু তার জীবনটা নিও না। তারপর তুমি দেখ সে কি প্রকৃতই শান্তিকামী আর আমার মনোনিত নবী কিনা। 

তখন শয়তান আবার পৃথিবীতে ফিরে আসল এবং আইয়ুব (আঃ) এর সম্মান আর ধন-সম্পত্তি সবকিছু কেড়ে নিল। তাকে তার জাতির লোকদের মাঝে বেইজ্জতি করল, অপমানিত করল, তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করল এবং তার সমস্ত অধিকার আর সম্মান হতে তাকে বিতাড়িত করল। 
কিন্তু নিজ জাতির মাঝে নিগৃহীত হয়ে আইয়ুব (আঃ) আল্লাহকে ভুলে গেলেন না বরঞ্চ আগের চেয়েও আরো বেশী বেশী করে আল্লাহর ইবাদাত করতে লাগলেন আর বললেন; তুমি আমার সম্মান, সম্পদ আর জীবন-যৌবন সবকিছু কেড়ে নাও কিন্তু আমাকে তোমার কাছে অপরাধী করো না। 
আইয়ুব (আঃ) এর দুর্দশা দেখে তার কাছের আর বহুদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারী ও বন্ধুরা তাকে ছেড়ে চলে গেল, তার স্ত্রী তাকে বলল; কেন তুমি এখনো বোকার মত আল্লাকে স্মরন করছো? তিনি তো তোমাকে ত্যাগ করেছেন। 
একটা সময়ে আইয়ুব (আঃ) পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়লেন কিন্তু তবুও তিনি বোকার মত আল্লাহকে দোষারোপ করলেন না। 


অন্য একদিন শয়তান যখন আবার আল্লাহর কাছে আসল, তিনি বললেন; তুমি কি পৃথিবীতে আমার বান্দা আইয়ুবের মত দ্বিতীয়টি আর দেখেছ? সে সৎ, বিনয়ী এবং আমার প্রতি অনুগত, তুমি তার সমস্ত সম্মান আর অর্থ কেড়ে নিয়েছ কিন্তু তবুও সে আমার নামকে অসম্মান করে নি। 
তখন শয়তান বলল; হে আল্লাহ, আপনী জানেন মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় বস্তু “তার জীবন” আর সে তার নিজ প্রানের ভয়েই তো এখনো আপনার প্রতি অনুগত আর আপনাকে ভয় পায়। 
তখন আল্লাহ বললেন; ঠিক আছে তার শরীরও আমি তোমার হাতে তুলে দিলাম কিন্তু আমার কসম রইল তুমি তার প্রানটুকু অন্তত নিও না। 
আর মনে রেখ তার বিরুদ্ধে এই সমস্ত ষড়যন্ত্রের জন্য তোমাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। 

তখন শয়তান আইয়ুব (আঃ) শরীরে রোগ জীবানু ছড়িয়ে দিল আর তাতে তার পুরো শরীরে দগদগে ঘা হয়ে গেল এবং শরীরের মাংস পচার দুঃর্গন্ধ তার শরীর থেকে বেরুতে লাগল এবং প্রতিবেশীরা তাকে দুরে নির্জন একটি স্থানে রেখে আসল। তার স্ত্রীও সৃষ্টিকর্তাকে অভিশাপ দিতে দিতে তাকে ছেড়ে চলে গেল। মৃত্যুপথ যাত্রী আইয়ুব তবুও একা একা আল্লাহর ইবাদাত করতে লাগল কিন্তু ভুলেও কখনো আল্লাহকে দোষারোপ করলেন না এবং নিজের বিগত দিনের ভাল কাজগুলির বিনিময়ে আল্লাহর কাছে প্রতিদানও চাইলেন না। 

শয়তান তার ষড়যন্ত্রে সফল হল না এবং একদিন তার দলবল নিয়ে আইয়ুব (আঃ) এর কাছ থেকে একদিন পলায়ন করল। 

কিন্তু আল্লাহ পুনরায় হযরত আইয়ুব (আঃ) কে তার নব্যুয়াত ফিরিয়ে দিলেন এবং পুর্বের চেয়েও অধিক সম্মান ও ধন-সম্পত্তি দান করলেন। আর তার মেয়েরা হল দেশের সেরা সুন্দরী আর সম্মানিত নারীদের অন্তর্ভুক্ত। এবং হযরত আইয়ুব (আঃ) আবার পুর্বের ন্যায় তার জাতির মধ্যে শান্তির বানী প্রচার করতে লাগলেন।

Saturday

Tagged under: ,

প্রতিশোধ


অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহবান,

প্রানের প্রথম জাগরনে তুমি বৃক্ষ আদিপ্রান।” - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


[১]
তার চোখ নেই কিন্তু সে দেখছে। দেখছে, অনুভব করছে সবকিছু। সে দেখছে দিনদিন তার বংশধররা, তার প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আগে এই বিলুপ্তির ধারা ছিল ধীরে ধীরে কিন্তু এখন দিন দিন সেটা দ্রত হতে দ্রুততর হচ্ছে,। আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমস্যাটা। কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। শুধু চাপা কষ্ট আর দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এই প্রাণীগুলো কত নিষ্ঠুর, কত অকৃতজ্ঞ। তারা নিজের আশ্রয় দাতাকে ভূলে যাচ্ছে, ভূলে যাচ্ছে পালনকর্তা, অন্নদাতাকে। সে স্মৃতি হাতড়ে চলে গেল সেই টারসিয়ারী যুগে, জুরাসিক যুগে। মহাকালের ভাজে ভাজে খুজে দেখল। হ্যা, এইতো ধারাবাহিক ভাবে সব মনে পড়েছে। এই সুন্দর গ্রহ, বিশ্বভ্রক্ষান্ডের একমাত্র প্রাণ সমৃদ্ধ গ্রহ, এটা তো একদা আমাদেরই রাজত্বে ছিল। শুধু আমরাই ছিলাম। যেদিকে দৃষ্টি যেত শুধূ সবুজ আর সবুজ আর ছিল সাগরের নীলাভ পানি। সেই পানির নিচেও আমাদের বংশধরদের রাজত্ব ছিল। আসমান ছোয়া বৃক্ষগুলি প্রতিদিন খেলা করত মেঘবালিকার সাথে। মেঘবালিকা কত ভালবাসতো তাকে, দান করত অমৃত জলধারা আর পূর্বে উদিত সে নক্ষত্র শীতল রাখত মায়ের আচল। কথা হত মেঘবালিকা,সূর্য আর রাতের চাদ কিংবা তারার সাথে। মেঘ আর সূর্য প্রায়ই একে অপরকে সহ্য করতে পারত না। যখন মেঘকে নিমন্ত্রম করতাম, অভিমানে সূর্য তখন লুকিয়ে পড়ত কিংবা যখন সূর্যকে নিমন্ত্রম করতাম তখন অভিমানে মেঘ ডানা মেলে উড়ে যেত। কিন্তু তারকারাজি এবং চাদ ছিল একে অপরের ভাল বন্ধু, প্রতি রাতে তারা আমায় ডাকত। আমিও নেচে গেয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতাম। কিন্তু এখন ওরা সবাই আমার শত্রু হয়ে যাচ্ছে এই নিষ্ঠুর প্রাণীগুলোর জন্য। মেঘবালিকা এখন আর আমার ডাকে সাড়া দেয় না, সূর্য কষ্ট দেয় আমার জননীকে। কত সাত-পাচ ভাবে, কিন্তু অতীতকে সে বিষন্ন করে তুলতে চায় না।
স্মৃতির পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় পাঠ করে সে- হ্যা এই তো পাওয়া গেছে। কত যত্নে আমি ওদের আগলে রেখেছিলাম, আশ্রয় দিয়েছি আচল তলে, অন্ন দিয়ে বাচিয়ে রেখেছি প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর স্রষ্টার অভিশাপ হতে। এরা কত অসহায় ছিল, আমিইতো এদের লুকিয়ে লুকিয়ে রাখতাম শত্রুর আক্রমন হতে। নাহ্ এরা বড় অকৃতজ্ঞ, এরা মানুষ, এরা নিশ্চয়ই বড় অকৃতজ্ঞ জাতি, এরাতো নিজেরাই একে অপরকে ধ্বংস করে ফেলছে। এটা পৃথিবী, অপূর্ব সুন্দর আর চিরকল্যানময়। এখানে এমন অকৃতজ্ঞদের বাস করার কোন অধিকার নেই, এরা খুবই কুৎসিত জাতি। আর নাহ, কিছুতেই ওদের এই অসৎ উদ্দেশ্য সহ্য করা হবে না। তীব্র প্রতিশোধের নেশায় জ্বলে ওঠে সে। ওরা কি নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাবে না কি আমাকেই প্রতিশোধ নিতে হবে? কিন্তু এখনও তো আমি ওদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন তবে কেন আমাকে ওরা ধ্বংস করে দিতে চায়? ওরা কি বুঝতে পারছে না যে, আমি অস্থিত্বহীন হয়ে পড়লে ওরাও অস্থিত্বহীন হয়ে পড়বে?
অবশেষে এই রহস্যের উৎঘাটন করল সে- নাহ্ , আমার ধ্বংসের পরও ওরা ধ্বংস হবে না। ওরা টিকে থাকবে আরো কোটি-কোটি বছর, মানব সভ্যতার বিজ্ঞানের অগ্রগতি তাদের সমস্ত মুল্যবোধের বিকাশকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ওরা জীবিকা আর খাদ্যের অন্বেষণনে চলে যাচ্ছে মাটির তলদেশে, সমুদ্রের গভীরে। আমার বিলুপ্তির পর ওরা ভূগর্ভের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং ততদিনে ওরা নিশ্চয়ই বেচে থাকার একটা অবলম্বন পেয়ে যাবে। ওরা প্রস্তুত করবে কৃত্রিম খাদ্য, এমন কি মাটিস্থ প্রোটিন বের করে ওরা খাদ্য তৈরী করবে, তবুও ওরা আমাকে বাচতে দেবে না। এরই মধ্যে আমাকে প্রতিশোধ নিতে হবে। প্রতিশোধের নেশায় হিস হিস করে ওঠে সে। এক প্রকার হিংস্র বাতাস গাছের শাখাগুলোকে যেন দুমড়ে মুচড়ে ফেলছে।
এই পৃথিবীতে আমিই প্রথম এসেছি, প্রানের স্পন্দন ঘটিয়েছি আর ওরা কিনা আমাকেই মেরে ফেলতে চায়? ক্ষোভের সাথে মানুষ গুলোর দিকে তাকায় সে- কেমন বিশ্রী শব্দ করে, কেমন কুৎসিত কাঠামো আর কেমন গর্বভরে পৃথিবী প্রকম্পিত করে? যেমন রুক্ষ তাদের চেহারা তেমন রুক্ষ তাদের ব্যবহার । কান্না আসে তার- এমন অকৃতজ্ঞদের আমি কোটি-কোটি বছর লালন করেছি? বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তার।
নাহ্ , আমাকে বাচতেই হবে। জীবনের স্পন্দনে আমিইতো প্রথম প্রান। আমিইতো এতদিন আশ্রয় দিয়ে সবাইকে টিকিয়ে রেখেছি আর আজ আমিই এখানে থাকতে পারব না? তা হয় না, এই পৃথিবী আমার। অঝোর ধারায় কাদছে সে।

পৃথিবীর কোটি কোটি বছরের ইতিহাস পাঠ করল সে, প্রানের সমস্ত রহস্য নিংড়ে বের করে আনল। সমস্ত রহস্যের সমাধান দেওয়া আছে সেখানে। দেওয়া আছে শত্রুকে ধ্বংস করার কৌশল, আত্মরক্ষার উপায়। সব, সব আছে সেখানে। সে সমাধান খুজে পায়- তাকে মরতে হবে। বাচতে হলে মরতে হবে, তবে মরার আগে মরতে হবে- হ্যা, এই তো পেয়ে গেছি । এতদিনে এই মানুষগুলিকে একটা উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারব, যেন ভবিষ্যতে কোন প্রজাতি নিজেদের মানুষ দাবি করতে লজ্জা পায়। আমি সেই ব্যবস্থাই করব।
হঠাৎ এক টুকরো মেঘ ওর মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায়। কান্না জড়িত কন্ঠে সে ডাক দেয়- মেঘ ভাই, কই যাও? একটু দাড়াও না। কতদিন তোমায় দেখি না। আমার কষ্ট হয় না বুঝি? অভিমান ঝরে পড়ে তার। পরিচিত কণ্ঠ পেয়ে থমকে দাড়ায় মেঘ- কি করব বোন? তোমরা নেই তাই এখন আর পৃথিবীময় ঘোরার ইচ্ছে জাগে না। সূর্যটা যখন পশ্চিমে ঢলে পড়ে তখন সে ডাক দেয়- সূর্যি মামা, আজ আমার সাথে কথা বলনি কেন?
-তোমায় বিষন্ন দেখে কষ্ট হয়, মেঘবালিকা আর আগের মত আসে না, তাই তোমার কষ্ট আর বাড়াতে চাই না। কষ্ট চেপে রেখে বলে সূর্যি মামা ।
সন্ধ্যার পর একটুকরো বাতাস যখন তাকে পরশ বুলিয়ে যায়, সে ডাক দেয়- ও ভাই, দিনের শেষে এলে তাও ক্ষনিকের জন্য। দাড়াও না ভাই, কিছু কথা বলি।
সে বুঝতে পারছে, দিনদিন সবাই দূরে সরে যাচ্ছে, প্রিয়জনরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না । প্রতিশোধ নিতে হবে, চরম প্রতিশোধ। থরথর করে কেপে ওঠে সে।

[২]
তখনও শেষ বিকেলের আলো ফুরিয়ে যায় নি, অন্যসব দিনের মতই চলছে সবার কাজকর্ম। ব্যস্ত তরুন-তরুনীরা বিপনী বিতান গুলোতে কেনাকাটায় ব্যস্ত, কেউবা হাটছে পার্কে, মাঠে অথবা নদীর ধারে। সারাদিনের অফিস শেষে সবাই ঘরে ফিরছে। কারো মধ্যে দুঃচিন্তার ছাপ নেই। সবার মধ্যে একই কথা ‘শেষ পর্যন্ত কিছুই হবে না।’ টেলিভিশনে কিছুক্ষন পর-পরই প্রচার করা হচ্ছে ভয়াবহ ভবিষ্যৎবানী। বিজ্ঞানীরা আগত সাইক্লোনটির নাম দিয়েছেন ‘রিভেনজ’ (Revenge)। প্রতিটি বেতার কেন্দ্র হতে ঘোষনা করা হচ্ছে সমুদ্রের মাঝিরা যেন সন্ধ্যের পূর্বেই ফিরে আসে। কেউ-কেউ ফিরল, কেউ ফিরল না। উপকূলীয় এলাকা গুলোতে পুলিশ আর সামরিক বাহিনীর লোকজন গিয়ে মাইকিং করছে কিন্তু কারো আগ্রহ নেই সাইক্লোন শেল্টার স্টেশন গুলোতে যাওয়ার, একপ্রকার বাধ্য করেই সবাইকে নিয়ে যাচ্ছে ওরা। সন্ধ্যের সাথে সাথেই আকাশে জমে উঠল কালো মেঘ। অনেকে উৎকণ্ঠায় তাকালো আকাশে। অভিজ্ঞতার আলোকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আর বুঝতে বাকি রইল না এ কিসের আলামত, এ যে মত্যুর পরওয়ানা নিয়ে আসছে মৃ্ত্যুদূত ‘রিভেনজ’ (Revenge) । দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের তাৎপর্য এবার কেউ-কেউ কিছুটা অনুভব করছে। সবাই ছুটছে দ্বিগ্ববিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে। ছুটছে আশ্রয়ের আশায়, ছুটছে বেচে থাকার আশায়। বহন যোগ্য সম্বলটুকু কাপড়ে বেধে ওরা ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসল। চোখের জল ফেলতে-ফেলতে মুক্ত করে দিল গবাদি পশু-পাখিদের।
রাত নামার সাথে-সাথেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল, বাতাসের গতিবেগ ক্রমেই বাড়ছে। রাত্রির প্রথম প্রহরেই আঘাত হানল প্রলয়ংকরী সাইক্লোন ‘রিভেনজ্’ (Revenge) । প্রায় পাচশত কিলোমিটার বেগে ঝড়টি আঘাত হানল সারা রাত্রি ধরে। লন্ড-ভন্ড করে দিল কোটি-কোটি মানুষের ঘর-বাড়ি, ফসলের ক্ষেত , সন্তান-সন্ততি আর গবাদি পশু-পাখি।
সকাল হল। আকাশে বাতাসে শুধু মানুষের চিৎকার আর হাহাকার। স্বজন হারানোর কান্নায় পৃথিবীর আকাশ ভারী হয়ে উঠল। পৃথিবীর বাতাসে শুধুই লাশের গন্ধ। এখন শুধুই বেচে থাকার আকুতি। চাই খাদ্য আর পানি। পর্যাপ্ত ত্রাণ।। কিন্তু কে দেবে তাদের সাহায্য। রাস্তাঘাট সব বিধ্বস্ত , স্থল যোগাযোগের কোন উপায় নেই, রাস্তার উপর ভেঙ্গে পড়ে আছে শতবর্ষী গাছগুলোও। চারিদিকে লক্ষ-লক্ষ মানুষের লাশ আর লাশ, লাশের মিছিলে মানবতা খুজে পাওয়া ভার। সবার চোখে মুখে উৎকণ্ঠা, প্রকৃতি এ কি নিষ্ঠুর খেলা খেলল মানুষের জীবন নিয়ে, প্রকৃতি এ কেমন প্রতিশোধের নেশায় মেতে উঠল?

[৩]
বিস্তীর্ন ধান ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে করিম মিয়া। এক দাগে দশ একর জমি তার । গত বছরও এখানে ছিল সুউচ্চ গাছের সমাহার। মৃত্যুর সময় বাবা বলেছিল একসাথে যেন সব উজাড় না করে আর অবশ্যই যেন নতুন গাছ লাগায়। একদিন শহরের এক পার্টি আসে, চড়া দাম হাকে। কাচা টাকার গন্ধ পেয়ে করিম মিযা সব গাছই বিক্রি করে দেয়। সে এখন কোটি টাকার মালিক, এলাকার সবচেয়ে বড় ধনী। প্রতিবেশীরা বলেছিল আবার গাছ লাগাতে। কিন্তু আবার পনের, বিশ বছর। নাহ্ , বাকীতে বিশ্বাসী নয় করিম মিয়া। তার চাই কাচা টাকা, নগদ টাকা। সে ধান আবদ করে, বছর না ঘুরতেই আসবে টাকা, করিম মিয়া উঠোনে বসে ভাবে আর পান চিবোয়। কিন্তু এখন যেন তার কান্না আসছে, দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। বাড়ন্ত ধানের চারা গুলি কেমন শুকিয়ে যাচ্ছে। যত্মতো কম হচ্ছে না, নিজের মেশিন, পর্যাপ্ত পানি, সার, তবুও চারা গুলি দিনিদিন শুকিয়ে যাচ্ছে। করিম মিয়া ছুটে যায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে। উপজেলা কৃষি অফিসারসহ সবাই সরেজমিনে পরিদর্শন করল।
কয়েক বছরের মধ্যেই কৃষি মন্ত্রনালয়ে জমা পড়ে হাজার হাজার প্রতিবেদন। নির্দিষ্ট কোন কারণ খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবর্ত্র একই অবস্থা। প্রকৃত কারণ খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই হতাশ। এভাবে কেটে গেল বহু বছর।

[৪]
লম্বা কাঠের টেবিলের এক প্রান্তে বসে আছেন মাননীয় মিরান। সম্মেলন কক্ষের সবাই নিরব। কথা সরছে না কারো মুখে। তিনি তাকিয়ে আছেন টেবিলটির দিকে আর ভাবছেন , এই টেবিলটা তৈরি করতে কত ব্যয় হয়েছিল? অনেক, অনেক টাকা, একটা কৃত্রিম বন তৈরী করা যেত। অথচ কত বিলাসিতা করা হয়েছিল, হেলিকপ্টারে করে সেই আমাজান হতে দূর্লভ প্রজাতির এই গাছ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
নিরবতা ভঙ্গ করল একজন পরিবেশবিদ- স্যার নি:সন্দেহে আমরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছি। রাজনৈতিক ভাষায় বলতে গেলে প্রকৃতির ষড়যন্ত্র।
-ডাইনোসর ছিল নির্বোধ প্রাণী। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তাই তারা হারিয়ে গেছে। হেরে গেছে। কিন্তু আমরা? আমরা মানুষ। সৃষ্টির সেরা জীব। আমরাও হেরে যাব প্রকৃতির কাছে? মাঠের ঘাস শুকিযে মাটি বের হয়ে এসেছে। শহর ছেড়ে বেরুলেই শুধু ধু-ধু মরুভূমি আর পোড়া মাঠ। সবুজের চিহ্ন মাত্র নেই। পৃথিবীতে এটা কি হচ্ছে? উপকূলীয় সবদেশগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রের উচ্চতা দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মারাত্মক ভাবে গলে গেছে এন্টার্কটিকার বরফ। সবচেয়ে করুন হচ্ছে অনুন্নত আর উন্নয়নশীল দেশগুলো, দুর্ভিক্ষ আর গৃহ যুদ্ধের কবলে পড়ে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। এখনও যারা টিকে আছে শুধু তাদের মজুদ খাদ্যের জোরেই। কেউ কাউকে সাহায্য করছে না। উপরন্তু এক জাতি তাতারি কিংবা বেদুইনদের মত অন্য জাতির উপর হামলে পড়ছে। সমুদ্রের গর্ভে খাদ্য হিসেবে যা ছিল তাও দিন দিন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সমস্ত উদ্ভিদও মরে গেছে। পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। অথচ এখানে উপস্থিত আছেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর মহাজ্ঞানীরা, যারা বলতে পারেন মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল, পৃথিবীর বয়স কত, মঙ্গল গ্রহের মাটিতে কি কি উপাদান আছে। কিন্তু এখন, কি কাজে আসবে তাদের সেই জ্ঞান যদি আমরাই টিকে না থাকি। মহাবিশ্বে পৃথিবীই তো একমাত্র মানুষের বসবাস উপযোগী গ্রহ তাহলে এই পৃথিবী ছেড়ে আমরা যাবো কোথায়, কি খাব, কিভাবে বাচবো? গত সম্মেলনে আপনারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা অত্যাধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ এক প্রকার রাসায়নিক খাদ্য তৈরী করতে সক্ষম হবেন, কিন্তু এখনও তার কোন অগ্রগতি নেই। অথচ প্রতিদিন পথে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে মৃত লাশ। পৃথিবীর আবহাওয়া বিষাক্ত হয়ে উঠছে, কিন্তু আপনারা কিছুই করতে পারছেন না অথচ এক সময় সবাই গর্বভরে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়িয়েছেন যেন আপনাদের পদভারেই ধন্য ছিল পৃথিবী। ছিঃ, ছিঃ, ছিঃ। লজ্জা, লজ্জা, এটা মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ লজ্জার বিষয়।
ক্ষোভের সহিত মুখ বিকৃত করলেন ড. মিরান।
- আজ এখানে সবাই অপরাধী। সবার অবনত মস্তক। আজ নেই কারো অহংকার কিংবা গর্ব। আজ কেউ কারো নয়।। একদা যে বলত আমিই মঙ্গলে প্রথম পদচারী ব্যক্তি, আমিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনী কিংবা শ্রেষ্ঠ ক্ষমতাধর, আমি কৃত্রিম মানব তৈরীর গুপ্ত রহস্য জেনেছি, মানব সভ্যতা ধ্বংসকারী পারমানবিক অস্ত্র ও ন্যানোমাইন তৈরীর গুপ্ত রহস্য আমি জেনেছি। আজ কোথায় তারা? আজ কথা সরছে না কারো মুখে। আচ্ছা চিন্তা করুন আগামীকাল যখন খাদ্য ফুরিয়ে আসবে, কি করবেন? আপনাদের মধ্যে কি এমন একজন মাত্র ব্যক্তি নেই যিনি এর সমাধান দিতে পারবেন। একজন, শুধু একজন। কান্নাজড়িত কন্ঠে থরথর করে কেপে উঠলেন বৃদ্ধ মিরান। আপনাদের অনভূতি কি ভোতা হয়ে গেছে? বুঝতে পারছেন তো পৃথিবী তথা মহাবিশ্ব হতে মানব সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটতে যাচ্ছে? কেউ একজন কথা বলুন। আপনাদের আমি পৃথিবীর ঐসব শোষিত নিরক্ত মানুষের কসম দিয়ে বলছি যাদের অর্থে আপনারা উন্নত জাতির মহাজ্ঞানী উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। কেউ নেই। আজ যারা জীবিত তারাও মৃত। আপনারা সবাই শুধু ধ্বংসের ফর্মুলা মন্থন করে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন, কিন্তু সৃষ্টির সুতোটা কেউ ধরতে পারেন নি, এমন কি কেউই রক্ষনাবেক্ষন প্রক্রিয়াটুকুও দেখাতে পারেন নি।
পুরো সম্মেলন কক্ষে থমথমে নিরবতা।
-আচ্ছা কেউ যেহেতু পারছেন না তাহলে আমিই একটা সমাধান দিচ্ছি। কাপা কাপা কন্ঠে বলতে লাগলেন ড. মিরান। এই দেশে এখন আমরা যারা টিকে আছি তাদের জন্য প্রায় দশ বছরের খাদ্য মজুদ আছে।
সবাই অবাক হল, একে অন্যের মুখের দিকে তাকাল।
-অবাক হবেন না। এটা ছিল অতি গোপনীয়, যা শুধু জানতাম আমি আর মুষ্টিমেয় বিশ্বত্ব লোকজন। আরো আছে বেশ কিছু ওষুধ পত্র। কিন্তু পৃথিবীর আবহাওয়া বিষাক্ত হয়ে গেছে। এ আবহাওয়ায় আমরা আরো দুটো বছরও টিকতে পারব না । তার চেয়ে এই ভাল , আমাদের নিকটবর্তী যে দুটো দেশের কিছু মানুষ এখনও টিকে আছে তাদের মাঝে কিছুটা খাদ্য বিলিয়ে দেই যেন তারাও আরো কিছুদিন বেশী বাচতে পারে, নতুবা দু’মাস পরেই ওদের খাদ্যও ফুরিয়ে যাবে।
আর্তনাদ করে উঠল সবাই- নাহ, মহামান্য মিরান, নাহ। নাহ! আমরা অবশ্যই খাদ্য ফুরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত বেচে থাকার চেষ্টা করব। আমরা কিছুতেই সেটা করতে দেব না। প্রতিবাদ করল জর্জ রর্বাটসন।
তরুন বিজ্ঞানীর দিকে তাকালেন মিরান – না রর্বাট, আমি কারো পরামর্শ ছাড়া কিছুই করি নি এবং করব না। সবার মত আমিও আশাবাদী।
সেদিনের মত আলোচনা শেষ হল কোন প্রকার সমাধান ছাড়াই।
ধীর পদক্ষেপে হাটছেন মিরান। কখনো সমুদ্রের বেলাভূমিতে, কখনো খোলা মাঠে অলস সময় কাটান। বড়-বড় অট্রালিকাগুলোর দিকে তাকিয়ে নিরবে চোখের জল ফেলেন। ওগুলো এখন সব অভিশপ্ত। জেটিতে বাধা বিশালাকার জাহাজগুলো ফাকা পড়ে আছে। এয়ার ক্রাফট কেরিয়ারগুলোর উপর শতশত যুদ্ধ বিমান, সবই এখন নিশ্চল। পৃথিবীতে বিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল শুধূ মানুষ হত্যা করার জন্য। শতশত বন উজাড় করে তৈরী করা হয়েছিল সামরিক ঘাটি, পারমানবিক স্থাপনা। অধিকাংশ ভূমি কিংবা বনভূমি গুলো দখল করে রাখত সামরিক বাহিনীরা। সরকার সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় করতো যুদ্ধ খাতে। অথচ কেউ ভাবেনি পরিবেশ নিয়ে। পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসেনি কেউ। আজ কোথায় তারা যারা মানুষ হত্যা করে তৃপ্তি লাভ করতো, গর্বভরে দাপিয়ে বেড়াত পৃথিবী, যাদের অস্ত্রের মুখে থরথর করে কাপতো পৃথিবী। আজ তারা কেউ নেই, কেউ না, নিঃশেষ হয়ে গেছে তাদের সমস্ত প্রতাপ, সব জৌলস, সব অহংকার। ধুলায় লুটিয়ে গেছে সব। পৃথিবী এখন মৃত্যুপুরি। যাদের চোখের ইশারায় অস্ত্র হাতে জীবন দিত লাখো সৈনিক, ঐতো কংকাল সেই সব জেনারেল, এডমিরাল আর মার্শালগনের, যারা কিছুদিন আগেও অহংকারী দৃষ্টি মেলে দিত পৃথিবীজুড়ে, দাপিয়ে বেড়াত আকাশ-বাতাস-সমুদ্র। পৃথিবীর বিষাক্ত আবহাওয়া তাদের কাউকে ক্ষমা করে নি। মৃত্যুর কাছে আজ সবাই তারা পরাজিত।

[৫]
-মাননীয় পরিষদ। আজ এটাই সম্ভবত শেষ আলোচনা। শব্দগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে বললেন মিরান; পৃথিবীতে আমরা এখনও শ’পাচেক লোক জীবিত আছি। আমি যে নির্দেশ দিয়েছিলাম সেই মত কাজ করা হয়েছে। সংরক্ষিত সমস্ত খাদ্য প্যাকেটজাত করা হয়েছে, যা দ্বারা আপনারা বিশ বছরের অধিক সময় পার করতে পারবেন। বেশ কিছু ওষুধও আছে আমাদের সাথে। শ’পাচেক নারী পুরুষের মধ্যে ডাক্তার, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, প্রায় সব পেশার লোকই আছে, যারা পৃথিবীর সর্বোচ্চ মেধাবীদের অন্তর্ভুক্ত। আরো আছে শিশু-কিশোর এমন কি সদ্যজাত শিশুও। পৃথিবীর অত্যাধুনিক মহাকাশযানটি প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় এক হাজার লোকের সংকুলান হবে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এ অল্প ক’দিনেই পৃথিবীর জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে তাই দ্রুত কেটে পড়তে হবে। পৃথিবীর আবহাওয়া এখন খুবই বিষাক্ত।
- আমরা কোথায় যাব মহামান্য মিরান? বলল এক তরুনী।
- আমি জানি না। তবে বিজ্ঞানীরা আমাকে জানিয়েছেন মঙ্গলের কোন এক পৃষ্ঠে নাকি সামান্য কিছু পানি আর অতি অল্প পরিমান অক্সিজেনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আপনারা সেখানে গিয়ে বেচে থাকার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। সেটাও যদি ব্যর্থ হন তবে অজানার পথে মহাশূন্যে ভেসে চলবেন। কিন্তু পৃথিবী হতে পালিয়ে গিয়েই যে সবাই বেচে যাবেন এমন নিশ্চিত বলা যায় না কারণ সবাই দেহে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন রোগের জীবানু। আর অবশ্যই আপনারা সাথে নিয়ে যাবেন বিভিন্ন খাদ্য শস্যের বীজ। আপনারা জানেন আজ পৃথিবীতে একটি ঘাসও অবশিষ্ট নেই, শুধু মরুভূমি আর পাথুরে জমি।

[৬]
নারী পুরুষ সবাই একে একে মহাকাশযানে উঠল। শুধু মিরান আর গুটি কয়েক লোক এখনও বাহিরে ব্যস্ত-কথায় মগ্ন।
- মহামান্য মিরান আপনী এ-কি বলছেন? আপনার বুদ্ধিতে আমরা নতুন জীবনের আশা খুজে পেয়েছি আর আমরা আপনাকে ফেলে চলে যাবো?
- না ডাক্তার। আমি এমনিতেই বৃদ্ধ। আমি পৃথিবী হতে পালিয়ে যেতে চাই না। আমি এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করব। তোমরা আমাকে অনুরোধ করো না।
- তা হয় না মহামান্য মিরান । আপনার জন্য না হলেও আমাদের জন্য হলেও চলুন। আপনাকে আমাদের খুব দরকার। বলল অন্য এক বৃদ্ধ বিজ্ঞানী।
- না বন্ধু। তোমরা জান আমার কথার নড়চড় হয় না, আমি অনেক ভেবে চিন্তে কথা বলি এবং সিদ্ধান্ত নিই। বরং তোমরা আমাকে কিছুদিনের খাদ্য, ওষুধ আর একটি অক্সিজেনের সিলিন্ডার দিয়ে যাও যদি আরো কিছুদিন বেশী বেচে থাকতে পারি এই পৃথিবীর বুকে।
অনেক্ষন যাবৎ বাকবিতন্ডা চলল, কিছুতেই বৃদ্ধ মহাকাশযানে চড়তে রাজী হলেন না।
- কিন্তু আপনার অবদান এই সভ্যতা আমৃত্যু মনে রাখবে। এই সভ্যতা হবে মিরান সভ্যতা। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল বিজ্ঞানীরা।
ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে এল জর্জ রর্বাট -মহামান্য মিরান, আপনীতো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। আমি আপনাকে অনুরোধ করব না। আমার স্ত্রী মারিয়া, সে আপনাকে খুবই শ্রদ্ধা করে, খুবই ভালবাসে। মারিয়া আপনার সাথেই পৃথিবীতে মারা যেতে আগ্রহী।
- অবাক হলেন বৃদ্ধ। তারপর ক্ষোভে চোখ রক্তবর্ন করে ফেললেন। বরার্ট তুমি ওকে ভালবাস না? কি বাজে বকছো তুমি?
- মাফ করবেন স্যার। আমি অবশ্যই তাকে খুব ভালবাসি আর তাই তো ওর ভালবাসার প্রতিদান দিতে চাই।
- কি বলছ রবার্ট? তোমার মাথা ঠিক নেই।
- স্যার, আমার মারিয়া অসুস্থ। পৃথিবীর বিষাক্ত আবহাওয়া ওর রন্দ্রে রন্দ্রে ঢুকে পড়েছে। দু’চারদিনের মধ্যেই হয়তো সে মারা যাবে। মৃত্যুর কিছু লক্ষনও ফুটে উঠেছে ওর শরীরে। কিন্তু এখনও সে শাররীক ভাবে সক্ষম। স্বাভাবিক হাটাচলা করতে পারে। ক’টা দিনতো আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।
- না রবার্ট তুমি ওকে নিয়ে যাও। মৃত্যুর সময় তোমার কাছে থাকা খুবই জরুরী।
সবাই মহাকাশযানে উঠে পড়ল। মারিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে রবার্টকে বিদায় জানাল। বৃদ্ধ মিরান বাবার স্নেহে মারিয়াকে জড়িয়ে রাখলেন। বন্ধ হয়ে গেল মহাকাশযানের সব প্রবেশ পথ। একদল মৃত্যুপথ যাত্রী নতুন জীবনের আশায় মহাকাশে ছুটে চলছে। পৃথিবীর মাটিতে শুধু দাড়িয়ে রইল মারিয়া আর মিরান দু’জন প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সরে আসল।

[৭]
এতদিনে ‘সে’ প্রশান্তি অনুভব করল। সে অনন্ত আকাশে তাকিয়ে খুজতে লাগল- মেঘ ভাই, এস, এদিকে এস, দেখে যাও আমি পেরেছি। আমি সফল হতে যাচ্ছি। তোমাকে আর আমা হতে দূরে থাকতে হবে না। সূর্য্যি মামা আজকে আমি বিষন্ন নই, আজ আমার সাথে কথা বল। দেখ আমি মানুষের উপর প্রতিশোধ নিতে পেরেছি। এবার সে তার ছোট্র একটি হাসি ছড়িয়ে দিল পৃথিবীতে।

[৮]
বৃদ্ধ মিরান দেখলেন যেখানে সে দাড়িয়ে আছে, পায়ের কাছেই একটি ঘাস ফুলের চারা, মারিয়ার মুখের কালো তিলকের আকৃতির একটি ফুলও ফুটেছে। দুই-তিন সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি চারা গাছ। আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলেন বৃদ্ধ- দেখ, মারিয়া দেখ, এই দেখ ঘাসফুল উদ্ভিদ। পৃথিবীতে আবার প্রাণ ফিরে এসেছে। দেখ ফুলটা কি সুন্দর হাসছে। প্রাণ এসেছে পৃথিবীতে, প্রাণ। তুমি এখানে দাড়াও মারিয়া।
মিরান দৌড়ে গেল মহাকাশযান লক্ষ্য করে। চিৎকার করতে থাকল- রবার্ট, রবার্ট এই দেখ প্রাণ এসেছে পৃথিবীতে । কিন্তু ততক্ষনে মহাকাশযানটি ছুটে চলেছে মঙ্গলের উদ্দেশ্যে। বিষন্ন চিত্তে মারিয়ার কাছে ফিরে এল মিরান । একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল ঘাসফুলের দিকে। দৃষ্টি ফেরাল মারিয়ার চোখে;- মারিয়া প্রাণ এসেছে পৃথিবীতে। আবার প্রানের স্পন্দনে মুখরিত হবে পৃথিবী। মানব শিশুদের কোলাহলে আবার মুখরিত হবে এই বিরান ভূমি। আমার সর্বোচ্চ বিদ্যা আমি ঢেলে দেব তোমার প্রতি। তোমাকে কিছুতেই মরতে দেব না। আবার সুস্থ হবে তুমি। তুমি হবে এই পৃথিবীর প্রথম মানবী ইভ।

[৯]
সন্ধ্যে না হতেই আবার ঘাসফুলটি শুকিয়ে গেল। দেখতে দেখতে বেশ কয়েক মাস চলে গেল। মারিয়া মাঝে কিছুটা সুস্থ হয়েছিল, এখন আবার অবনতি ঘটছে। ইতিমধ্যে বৃদ্ধ মিরান মারা গেছেন। মারিয়া বুঝতে পারছে তারও বেশীদিন বাকী নেই।
ব্যাস্ত পদক্ষেপে মারিয়া শহরে প্রবেশ করল। খা-খা করছে সমস্থ দালান-কোঠা, রাস্তা-ঘাট। থমথমে পরিবেশে ভূতুড়ে আতংক বিরাজ করছে। কোথাও প্রানের চিহ্ন মাত্র নেই। অট্রালিকার গায়ে খোদাই করে কিছু আকিবুকি করল মারিয়া, নেমে এল বিশাল অট্রালিকার সামনে। গাড়িটির দিকে তাকিয়ে হাসল- পৃথিবীর সবচেয়ে দামী গাড়ি। হাঃ হাঃ। পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তির জন্য তৈরী করা হয়েছিল এটি। গাড়িতে চড়ল মারিয়া। জিপিএস ফেড অটোমেটিক কন্ট্রোলার, সম্পূর্ণ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত গাড়িটি। কম্পিউটার গাড়ির সমস্ত যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করল; গ্যাস, ক্যামেরা, ছোট রাডারটি, সব পরীক্ষা করল। সম্পুর্ণ অপারেশনাল। গাড়ির ভিতর ছোট একটি কনফারেন্স টেবিল, চারপাশে স্বর্ণ আর হীরা খচিত কারুকার্য। বসার আসনগুলিও চমৎকার। গাড়ি স্টার্ট নিল। চলতে শুরু করল শহরের রাস্তা ধরে, শহর ছেড়ে গ্রামে আবার শহরে, চলছে তো চলছেই।
এবার মুচকি হাসল মারিয়া। একা একাই বলল- মহামান্য মারিয়া, পৃথিবীর একছত্র অধিপতি, আপনী আসন গ্রহণ করুন।
মারিয়া আসন গ্রহণ করল এবং চির নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। গাড়িটি এগিয়ে চলছে তাকে দেয়া গন্তব্যের পথ ধরে।

[১০]
আবার সবুজে- সবুজে মুখরিত হল পৃথিবী। আকাশ ছোয়া বৃক্ষ এখন খেলা করে মেঘের সাথে। পাখির কিচির মিচির শব্দ ভেসে যায় সুদুরে। অরন্যে- অরন্যে ছেয়ে গেল মাঠ-ঘাট। পৃথিবীর আবহাওয়া এখন সম্পুর্ণ সতেজ। সমুদ্রের পানি স্বাভাবিক। ঠান্ডা হাওয়া এখন দোল দিয়ে যায় কাশবনে।
এখন সে আনন্দিত। সূর্য আর মেঘ এখন তার সাথে অভিমান করে না। সে সারারাত প্রেম করে চাদের সাথে। চাদকে সে আমন্ত্রণ জানায় পৃথিবীর মাটিতে আর তারকারাজি মিটমিটিয়ে হাসে বন্ধুর পাগলামি দেখে। পৃথিবীতে এখন কোন মানুষ নেই তাই সবাই তার আপনজন।

[১১]
ধীরে-ধীরে মহাকাশযানটি নেমে আসে সবুজ ঘাসের উপর। আনন্দে আত্মহারা হয়ে বেরিয়ে আসে সাত জনের একটি অভিযাত্রীদল। দুজন নারী, দুজন পুরুষ আর তিন জন শিশু-কিশোর। সবার উস্ক-খুস্ক চুল, পরনে ছেড়া মলিন পোশাক। পুরুষ দুজনের হাতে দুটি ক্ষুদ্র অস্ত্র। শিশু- কিশোররা চিৎকার চেচামেচি শুরু করে দিল। নারী দুজন ঝোলার মধ্য হতে মানচিত্র বের করে ধরল, মানচিত্র দেখে-দেখে হাটছে সবাই। কবুতরের ঝাক যখন ওদের মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল, গুলির আঘাতে ছিটকে পড়ল ঘাসের উপর আর করুন আর্তনাদ ভেসে চলল বাতাসে ভর করে।
চমকে উঠল “সে”- আর্তনাদ, করুন কান্না। এ কার কান্না? শীতল ভয়ের এক অনুভুতি বয়ে গেল ওর শরীরের মধ্য দিয়ে। তবে কি—? নাহ, কিছু ভাবতে পারছে না সে। তাহলে কি মানুষ আবার ফিরে এল? পাখির কান্না, পশুর আর্তনাদ। বাতাসে বারুদের গন্ধ। এগুলো তো মানুষের উপস্থিতিরই লক্ষন। হ্যা সবই তো মিলে যাচ্ছে। এরাই তো একদিন আমাকে নিচিহ্ন করতে চেয়েছিল। নাহ, কিছুতেই এটা বরদাশত করা হবে না।

[১২]
- দাড়াও তো রবার্ট। বলল বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধটি। অভিযাত্রীর দলটি থমকে দাড়ায়।
- এই দেখ, এটি আমাদের সেই অট্রালিকাটি নয়, যেখানে আমরা শেষ সম্মেলন করেছিলাম? ওই তো আমাদের ন্যাশনাল পার্লামেন্ট, মনে আছে রবার্ট মহামান্য মিরানের সাথে আমরা কতবার এখানে এসেছিলাম!
-হ্যা, তাই তো। আর পায়ের তলায় ঘাসের নীচে তাহলে রাস্তা। আগ্রহ ভরে বলল রবার্ট।
- হ্যা, সেটাই তো মনে হচ্ছে।
- সোনামনিরা, এই দেখ এটা তোমাদের আসল মাতৃভুমি। বলল এক নারী। দেখ, দেখ, যে সব গল্প তোমাদের শুনাতাম সেইসব অট্রালিকা, গাড়ি আরো কতোকিছু। সব আমাদের জন্যই প্রস্তুত, এখন আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করব।। বাচ্চারা গাড়ি গুলো দেখে লাফালাফি শুরু করে দিল।
- জর্জ রবার্টসন, বন্ধু আমার। দেখ তো এই দেয়ালে কি লেখা?
রবার্টসন এগিয়ে আসে- আরে, আরে, এতো আমার প্রিয়তমা মারিয়ার হাতের লেখা।
খোদাই করে লেখাগুলো পড়তে লাগল রবার্ট- “হে পথিক একটু দাড়াও! হে মানব, তোমরা যদি ভূল করে এই গ্রহে এসে থাক তবে এখুনি ফিরে যাও। এটা পৃথিবী, চির কল্যাণময় যার অর্থ। কোন যুদ্ধাংদেহী মানব কিংবা ক্ষমতালোভীদের জন্য নয়। কোন মানুষ এখানে বাচতে পারবে না। তোমরা কি দেখছ না সুউচ্চ অট্রালিকা, সুবিশাল আকাশ, সমুদ্রের ঢেউ আর প্রশস্ত রাস্তা, এসবই একদা তাদের রাজত্বে ছিল যারা সগর্বে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াত। আজ কোথায় তারা যাদের সম্মুখে, পশ্চাদে সারি-সারি নত মাথা এগিয়ে যেত, বিন্দু মাত্র বিপদ যাদের স্পর্শ করতে পারত না? কিন্তু মৃত্যুর কাছে আজ সবাই পরাজিত। শকুনে খেয়েছে তাদের লাশ। পড়ে আছে শুধু শূন্য কংকাল। প্রতিশোধের আগুনে কেউ টিকতে পারে নি। এখানে চলছে খেলা, প্রতিশোধের খেলা, প্রকৃতির চরম প্রতিশোধের খেলা। সে তোমাকেও ক্ষমা করবে না। এখনও সময় আছে, মনকে ভাববার অবকাশ দিও না। দোহাই লাগে হে মানব, মহাবিশ্বে অন্তত একটি গ্রহে মানব সভ্যতা টিকিয়ে রাখ। চলে যাও এখুনি। আর যদি দেখা পাও রবার্টসন, তবে তাকে জানিও প্রিয়তমা মারিয়ার অভিনন্দন।”
সবার চোখের জল টপটপ করে পড়ছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে রবার্ট বলল- কোথায় যাব মারিযা? মহাবিশ্বে কোথাও যে মানুষের বসবাসের যোগ্য ভূমি নেই। মঙ্গলের অনুপযোগী বায়ু আর পাথুরে মাটির সঙ্গে লড়াই করতে করতে অবশিষ্ট আছি আমরা এই ক’জন। নাহ, আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে আর যাব না। কোথাও যাব না!
ক্লান্ত পদক্ষেপে আবার হাটতে শুরু করল সবাই।
- রবিনসন দেখ, থোকা-থোকা আংগুর। দেখ, কত ফলজ বৃক্ষ। এখন সবই আমাদের। আমরা এখানে আবার বংশবিস্তার করব। প্রশস্ত রাস্তা ধরে আবার ছুটে চলবে আমাদের গাড়ি, আকাশে উড়বে বিমান, সমুদ্রে বিশালাকার জাহাজ। চিন্তা কি, সব তো তৈরী করাই আছে। আমাদের বংশধররা শুধূ আহরোন করবে। ঐ দেখ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগার, সমস্ত জ্ঞান সংরক্ষিত আছে সেখানে। পুরো গ্রহ জুড়ে আছে কম্পিউটারের বিশাল নেটওয়ার্ক, জ্ঞানের অসীম ভান্ডার ইন্টারনেট। সব, সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের জন্য প্রস্তুত। একটা শান্তিময় ভূমি আমরা গড়ে তুলব।
দু’জনে মুঠো ভরে থোকা থোকা আংগুর পেড়ে আনল। একফালি কাপড় বিছিয়ে রাস্তায় বসল। বোতলে ভরে আনল টাটকা পানি।
-পানি, আহ্ কি চমৎকার। তৃপ্তির সাথে পান করল ওরা।
মুঠোভরে আংগুর মুখে পুরল সবাই। এমন সুস্বাধু খাবার বুঝি কেউ কখনো খায় নি।
মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল- কি ব্যাপার মাথা ব্যাথা করছে কেন? শরীরটা এমন করছে কেন?
দাড়ানোর চেষ্টা করল সবাই কিন্তু পারল না। বিষাক্ত ফলের বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল ওরা। চোখ দুটো যেন বন্ধ হয়ে আসছে। চোখ বন্ধ করার আগে সবাই দেখতে পেল আকাশে কিছু শকুন সর্বোচ্চ উচ্চতায় উড়ে বেড়াচ্ছে, যেন এদিকেই ছুটে আসছে।
শুধু নয় বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে একটি গাছ জড়িয়ে ধরেছে, সে যেন কিছু বলতে চায়।
- ইমা। কেউ যেন ডাকল। চমকে উঠল মেয়েটি।
- ইমা। কি চাও তুমি? যেন মস্তিস্কের নিউরনের ভাজে ভাজে আবার শুনতে পেল মেয়েটি।
- আমাকে বাচাও। আমি বাচতে চাই। কান্না জড়িত কন্ঠে বলল ইমা।
নিঃশব্দে হাসল কেউ – কেন তুমি বাচতে চাও? গর্বভরে পৃথিবী প্রকম্পিত করতে চাও বলে?
- না, না আমি বাচতে চাই তোমার মহিমা আর সৌন্দর্য দেখব তাই।
- আমি দুঃখিত ইমা। তুমি মানুষ, এখানে মানুষ বাচতে পারবে না। তোমাদের জন্য এটা একটা নিষিদ্ধ গ্রহ।
- আমি তো কোন অপরাধ করি নি।
- হ্যা ইমা, আমি জানি তুমি পুতঃপবিত্র। পৃথিবীর সমস্ত সুন্দর তোমার মাঝে। তবুও আমি খুব দুঃখিত ইমা। হ্যা, তুমি বেচে থাকবে আমার অন্তরে, ফুল হয়ে ফুটবে আমারই শাখে। তুমি এখন যাও । আমি সত্যি খুব দুঃখিত ইমা।
- না, না আমাকে বাচতে দাও। কান্নায় থরথর করে কাপছে ইমার শরীর। কিন্তু সব নিরব, কোন উত্তর এল না। ইমার নিথর দেহটি পড়ে গেল মাটিতে।

[১৩]
অট্রালিকা গুলো এখন পশু-পাখি, জীব-জানোয়ারের আবাসস্থল। লতা-পাতা আর গাছে ঢাকা পড়েছে বহুতল ভবনগুলো।
সে এখন চরম আনন্দে উদ্বেলিত। এখন বুঝি তার মহাবিশ্বে আর কোন শত্রু অবশিষ্ট রইল না। মৌমাছিরা মধু আহরনে ব্যস্ত। পাখিরা গাছের শাখে বসে কিচির মিচির ডাকছে। বাতাস এসে আলতো করে চুমো খায় তার শরীরে। সমস্ত দুঃখ বেদনা আর আত্ম-অহংকার ভূলে সে এখন বিজয়ীর বেশে দাড়িয়ে আছে। এটাই বুঝি তার প্রশান্তি কারণ সে প্রতিশোধ নিতে পেরেছে।

[১৪]

উপসংহারঃ

I am the Resurrection and the Life! He who judges in me will live, even though he dies; and whoever lives and judges in me will never die!
কিন্তু তবুও প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষকে ভালবাসল, মানুষের কাছ থেকে আলাদা থাকতে চাইল না। প্রকৃতি যদি মানুষকেই ভাল না বাসে তবে কি করে সে তার সৌন্দর্য ঘোষনা করবে? তাই ছোট শিশু ইমার মৃতদেহের উপর একদিন গজিয়ে উঠল একটি রক্ত গোলাপের চারা এবং তার নিচে এসে বাসা বাধল শান্তির দুত সাদা পায়রা, আর সেটা ছিল ছোট্র শিশু ইমার প্রান। ইমার জীবনের বিনিময়ে জম্ন নিল ভালবাসার প্রতিশ্রুতি রক্ত গোলাপ। এই ভালবাসার আহবান ছিল পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য, এই ভালবাসা ছিল নিঃস্পাপ শিশু ইমার জন্য। কারন প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ যদি শিশুর মত বাধ্য আর সরল মনের না হয় তবে তার জন্য টিকে থাকা সত্যিই কষ্টকর। (সমাপ্ত)