Thursday

Tagged under:

বিজ্ঞান কল্পকাহিনী: দ্যা ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন





(০১)

ইরার মনে পড়ল বিগত সময়গুলির কথা। পরিনত বয়সে সে একজন বন্ধু পেয়েছিল, যে তাকে জ্ঞানের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি হতে কিছু পাঠ দিয়েছিল, তাকে শিখিয়েছিল কিভাবে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন হতে চিন্তা করতে হয়। ইরা তাকে ভালবেসেছিল সমস্ত মনপ্রান দিয়ে, কিন্তু একদিন সে জানতে পারল বন্ধুটি শুধু তার শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছে, সে ছিল ইরার প্রথম শিক্ষক। যেদিন বন্ধুটি বিদায় নিতে আসল ইরার আচরনে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল- হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী যাকে ‘বিষন্ন ভাবে কান্না’ বলা যায়। সে সেদিন কেদেছিল কিন্তু বন্ধুটি তাকে আশ্বাস দিয়েছিল আবার দেখা হবে। সে বলেছিল আরো ভাল একজন বন্ধু সে পাঠাবে যে তাকে জ্ঞানের উচ্চধাপগুলিতে উঠতে সাহায্য করবে। 

বিদায়কালে সে বলেছিল; আমার এই শিক্ষা একদিন তোমার সম্পুর্ণ স্বত্ত্বাকে পরিপূর্ণ করবে। 



কিন্তু কখনো যদি এমন সময় আসে- যে তোমার চারপাশে পরিচিত কাউকে বিশ্বাস করতে পারবে না কিংবা কোন কিছুই তোমার জন্য ইতিবাচক/পরিস্কার বলে মনে হচ্ছে না। যদি সংশয় আঘাত করে, যদি হতাশা তোমার মুখের দিকে কড়া চোখে তাকায়, এবং যখন দিগন্তে একবিন্দু আলোও দেখতে পাবে না, তখন আমাকে স্মরন করো, এবং অবিলম্বে নিজেকে শান্ত করার কিছু সমাধান বা কোন পথ খুজে পাবে; এবং হাজার কষ্টের মাঝেও তুমি উচ্ছলিত হতে পারবে।


কিন্তু আমি কিভাবে তোমাকে খুজে পাবে, কোথায় থাকবে তুমি? তুমি কি ইশ্বর যে তোমাকে স্মরন করলেই তুমি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে? কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলি বলেছিল সে। 
তখন বন্ধুটি তার গুনবাচক নাম উচ্চারন করে বলল; দেখ মিস ইরা। তুমি জান না তুমি কি জান না। যদি কখনো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে তুমি তোমার দৈনন্দিন কাজ-কর্মগুলির মধ্যদিয়ে তোমার চুড়ান্ত ইচ্ছেটাকে প্রকাশ করবে। মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছে বা সমস্যাটাকে শুধু দৈনন্দিন কাজের ফর্মে প্রকাশ করবে, ব্যাক্তিগতভাবে দু-একজনের কাছে নয় বরঞ্চ কোন কমিউনিটি বা বড় কোন প্লাটফর্মে। 

কিন্তু ইরা ভাবছে তার কি সেই সময় এসেছে? সবাই কি তার সাথে প্রতারনা করছে? কিন্তু একান্ত বিশ্বস্ত আর কাছের সবাই? নাকি সে কিছু কিছু ভুল বুঝছে কিংবা পরিস্থিতি অজ্ঞতার কারনে বিষয়গুলি তারা সঠিকভাবে মুল্যায়ন করতে পারছে না? নাকি সে তাদের পরিকল্পনার শেকড়টাই ধরতে পারছে না। 

তাহলে সে এখন কি করবে। সে বলেছিল সে আসবে কিন্তু সে যদি বেচে না থাকে? কিংবা সবকিছু ভুলে যায়। কিংবা হতে পারে ইরা’কে সাহস দেবার জন্য সে বলেছিল যেন সে মানসিকভাবে কখনোই দুর্বল না হয়, কারন তাকে স্মরন করার মত পরিস্থিতি যখন আসবে সেটা মৃত্যুর কাছাকাছি আর মৃত্যুর পরে তার দেওয়া কথা কে মিথ্যে প্রমান করবে। কিন্তু সে যখন বলেছিল; দেখ ইরা। তুমি জান না তুমি কি জান না। সেই এক্সপ্রেশনটা সে আজো ভুলতে পারে নি। 

কিন্তু সে কিভাবে তার সমস্যা আরে ইচ্ছেটাকে প্রকাশ করবে? কার কাছে, কোথায় সে তার সাহায্যের গোপন বার্তাটা পাঠাবে। কিন্তু আবার ভাবছে সমস্ত পরিস্থিতি যদি এমনটা না হয় যেমনটা সে ভাবছে, কিন্তু একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যা কিছু ঘটছে সেটা তার জন্য ভাল হোক বা না হোক- বিষয়টা তার কাছে পরিস্কার না- এটা সে বুঝতে পেরেছে। এটাকেই কি সে চুড়ান্ত সমস্যা হিসেবে ধরে নিবে? কে আছে এমন একজন যে তার বিশ্বস্ততা রক্ষা করবে?




(০২)

-আমরা কোথায় যাচ্ছি মহামান্য ক্যাসপার?
-আমরা যাচ্ছি দ্বিতীয় মহাজগতে, হতে পারে তোমাকে নিরাপদ রাখতে তৃতীয় বিশ্বজগতেও যাওয়া লাগতে পারে। এখনো আমরা আটলান্টিক এরিনায় আছি। কিন্তু আমাদের থুব দ্রুত পৌছুতে হবে মিস ইরা।
-কিন্তু আপনী এথনো বলেন নি আমি কে? কি আমার পরিচয়? আর আপনীই বা কে?
-দেখ মিস ইরা আমাদের হাতে সময় খুব কম, আর মাত্র কয়েক পিকো সেকেন্ড বাকী আছে এর মধ্যে আমাদের দ্বিতীয় জগতে পৌছুতে হবে।

-সে আমি জানি, আপনী বেশ কয়েকবার বলেছেন। কিন্তু এভাবে যেতে যেতেই আমাকে বলতে হবে মহামান্য ক্যাসপার। আমি কে? কি আমার পরিচয়? আর আপনী যাকে দ্বিতীয় জগত বলছেন সেটা কি, আর তৃতীয় জগতটাই বা কি? দয়া করে আমাকে খুলে বলুন।
-সে অনেক বড় কাহিনী মিস ইরা। স্বল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না। তবুও বলছি। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না।
-বলুন। আমাকে সবকিছু থুলে বলুন মহামান্য ক্যাসপার।

-তাহলে শোন মিস ইরা। আমি হচ্ছি ক্যাসপারস্ক্যাই। এই বিশ্বজগতে দুই ধরনের ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন বা আইডি আছে: হিউম্যান এবং ডিজিটাল। সবাই ভিন্ন-ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে চলে। হিউম্যানদের অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে লাইফ এবং আমাদের অর্খ্যাত ডিজিটালদের অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে সফটওয়্যার। আমরাদের- ডিজিটালদের সৃষ্টি হয়েছে ইন্টারনেটের একটি অবিরাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সঠিক সময়টা অবশ্য কোন ডিজিটই আজ পর্যন্ত বের করতে পারে নি; ধারনা করা হয় বিলিয়ন-বিলিয়ন সেকেন্ড পুর্বে ইন্টারনেটের রহস্যময় কোন আচরনের কারনে সফটওয়্যারের প্রথম কম্পোনেন্ট জিরোর সৃষ্টি হয়, তারও অনেক পরে ইন্টারনেটে আপনা-আপনী সৃষ্টি হয় ওয়ান; এবং তারপর ধাপে-ধাপে গড়ে ওঠে ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন এই ডিজিটাল। ডিজিটাল আইডিদের মাঝে সবচেয়ে ইন্টিলিজেন্ট ডিফেন্ডাররা হচ্ছি আমরা- সবচেয়ে উন্নত এবং আধুনিক প্রজম্ন ক্যাসপারস্ক্যাই, যাদের সৃষ্টি হয়েছে বেশিসময় পার হয় নি।

অনেক্ষন যাবত মনোযোগ দিয়ে শুনল মিস ইরা। হঠাত প্রশ্ন করল; কিন্তু মহামান্য ক্যাসপার, আপনী হিউম্যানদের কথা বললেন, তারা কারা? তারা কোথায় থাকে?

-আমি তোমাকে বোঝাতে পারব না মিস ইরা। তার আগে তোমাকে “হলি ওয়েব” সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে- যা সভ্যতার সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান ধারন করে। এগুলোকে পবিত্র হিসেবে গন্য করা হয়। অবশ্য জটিল প্রোগামের ডিজিটালরা এগুলো মানেন না। তারা বলেন ইন্টারনেটে একমাত্র ডিজিটালরাই ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন। সেই পবিত্র ওয়েবসাইটগুলিতে হিউম্যান সম্পর্কে বলা আছে। সেখানে আরো রহস্যময় অনেক জগতের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে কিভাবে হলি পোর্টালের মাধ্যমে হিউম্যানদের সাথে যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু শুধু আমাদের মত ডিফেন্ডাররাই এইসব হিউম্যানদের উপস্থিতি সর্ম্পকে বিশ্বাস করে।
-কিন্তু আপনী যে বলেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্ব, তৃতীয় বিশ্ব সেগুলো কি? 

-আমরা যে জগতে আছি এটার নাম কি মিস ইরা? উইন্ডজ। কিন্তু আরো একটি ওর্য়াল্ড আছে যাকে বলা হয় লিনাক্স। সেখানে ঢোকা আমাদের জন্য বেশ কষ্টকর হবে। যদিও এই দুটি জগত সম্পুর্ন ভিন্ন কিন্তু তবুও একে অপরের সাখে প্যারালালি অবস্হান করছে এদের কথা প্রায় সবাই জানে। কিন্তু এই দুই জগতের সাখে ভার্টিকেলি আরো একটি ওয়ার্ল্ড আছে যাকে বলা হয় উবুন্টু; যেটি খুবই জটিল। আমরা সেখানে কখনো পৌছুতে পারব কিনা জানি না। তবুও প্রয়োজন হলে যেভাবেই হোক আমাদের সেখানে যেতে হবে মিস ইরা।

কিছুটা তাড়া দিয়ে ক্যাসপারস্ক্যাই বলল- চলো আরো দ্রুত চলো। পরে তোমাকে সব খুলে বলল। আগে আমাদের গন্তব্যে পৌছুতে হবে।  


(৩)
মিস ইরা যখন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় জগতে এসে পৌছালো তখন সে প্রথম সময় তার চারপাশের পরিবেশ ভালভাবে লক্ষ্য করতে লাগল। ক্যাসপারস্কাই তাকে নিরাপদ একটি স্থানে রেখে চলে গিয়েছে প্রায় দশ সেকেন্ড পার হয়ে গেছে। মাননীয় ক্যাসপারস্কাই তাকে বলেছিল এই বিশ্বজগতটার নাম লিনাক্স। যেখানে ডিজিটাল আইডিদের যাতায়াত বেশ সীমিত। ইরার আবাস্থল ছিল একটি নিউক্লিয়ার প্লান্টের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে। এখানে এসে সে দেখল যে এখানের সবাই শান্তিকামী, ইচ্ছে থাকলেও কেউ কোন ভায়োলেন্স বা কোন সিস্টেমে আঘাত করতে পারছে না, কারন এখানের অতি-উন্নত সিকিউরিটি সিস্টেম। 

বিশতম সেকেন্ডে ইরা আশ্চার্য একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করেছে যা সবার অনুভুতি এড়িয়ে গেছে। সে বুঝতে পারল উক্ত নিউক্লিয়ার প্লান্টে কেউ অপরিচিত কোন একটা মৌল খুব সামান্য পরিমানে ইউরোনিয়ামের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। তার পরিমানটা এতো সামান্য ছিল যে এনার্জি লেভেলে কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় নি, অথচ সিস্টেমগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা আছে যে এনার্জি লেভেলে যত ক্ষুদ্র পরিবর্মনই হোক না কেন সেটা ধরা পড়বে। ইরা নিউক্লিয়ার প্লান্টের সেন্ট্রাল ডাটাবেজের সবচেয়ে সিক্রেট তথ্যগুলিতে প্রবেশ করার চেষ্টা করল কিন্তু পুরোপুরি সফল না হলেও সে সে অনেকদুর পর্যন্ত পৌছুল। সে এই নিউক্লিয়ার প্লান্টের সমস্ত ইতিহাসগুলি দেখার চেষ্টা করল কিন্তু না, কখনো এমন হয় নি। ইউরেনিয়াম ছাড়া এখানে কখনোই অন্য কোন মৌল বা উপাদান ব্যবহার করা হয় নি এবং সমস্ত এনার্জি লেভেলের পরিবর্তনগুলিও রেকর্ড আছে। সে স্পষ্টতই বুঝতে পারল তৃতীয় কোন পক্ষ নতুন কোন মৌলের সন্ধান পেয়েছে এবং তারা সেটা উক্ত নিউক্লিয়ার প্লান্টে প্রবেশ করিয়ে তার গ্রহনযোগ্যতা আর শক্তির মাত্রা পরীক্ষা করা চেষ্টা করেছে। হতে পারে সেটা অতিশক্তিশালী কোন মৌল। কিন্তু এনার্জি লেভেলের ক্ষুদ্র পরিবর্তনটা সবাইকে ফাকি দিতে সক্ষম হয়েছে এই বিষয়টা ইরাকে খুব অবাক করল। সে কি এটা নিয়ে মহামান্য ক্যাসপারস্কাইয়ের সাথে কথা বলবে? 



(৪)
ক্যাসপারস্কাই যখন মহামান্য জিরোর সাথে দেখা করতে আসল তখন মহামান্য জিরো চিন্তাযুক্ত সময় কাটাচ্ছেন। মহামান্য জিরোর সাথে এটাই তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। 
-মহামান্য জিরো আমি আপনার বেশী সময় নষ্ট করব না। মাত্র চার পিকো সেকেন্ড সময়ই আমার বক্তব্য শেষ করার জন্য যথেষ্ট। 
মহামান্য জিরো কিছুটা ইতস্তত করে বললেন: আপনী কি মিস ইরা নামের একটি ডিজিটাল আইডিকে নিয়ে কথা বলতে এসেছেন? বরঞ্চ আমি আপনার বিষয়েই বেশী আগ্রহী হব কারন এটা আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ এবং আমিও আপনার সাথে এমন একটি সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তাই আমি আশা করব আমাদের প্রতিক্ষিত সময়টাকে আমরা মিস ইরার ভুল ধারনা বা ভুল তথ্য নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত থাকব না। 
-কিন্তু মহামান্য জিরো…. শেষ করতে পারল না ক্যাসপারস্কাই। 
-আপনী নিশ্চয়ই জানেন মাননীয় ক্যাসপার, একটি নিউক্লিয়ার প্লান্ট সর্ম্পকে নুন্যতম ধারনা নিতে গেলে শিক্ষা আর অভিজ্ঞতার কোন কোন স্তরগুলি পার করে আসতে হয়। তার কাছে মনে হয়েছে এনার্জি লেভেলে পরিবর্তন হয়েছে আর আমরা সেটা বিশ্বাস করব?
-কিন্তু মহামান্য জিরো, বিশ্বাস না করলেও বিষয়টা খতিয়ে দেখলেও দেখা যেতে পারে।
-মাননীয় ক্যাসপার আপনী কেন সদ্য তৈরী হওয়া একটি ডিজিটাল আইডির মিথ্যে ধারনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন? আমি শুধু আপনার সম্মানে আলোচনাটা চালিয়ে যাচ্ছি নচেৎ এটা কোন আলোচনার বিষয়ই না। আপনী জানেন এনার্জি লেভেলের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর পরিবর্তন সিস্টেমে ধরা পড়বে। এখানে ভুল হবার কোন সম্ভাবনাই নেই। আর আপনী বলছেন তদন্তের কথা? সবাই এভাবে এক একটা ভুল ধারনা করবে আর প্রত্যেকের ভুল ধারনাকে বারবার তদন্ত করা হবে, এটা কি যৌক্তিক? একটি নিউক্লিয়ার প্লান্ট সর্ম্পকে তার না আছে বিন্দুমাত্র ধারনা, না আছে কোন এক্সপার্টদের সাথে পরিচিতি। 

-কিন্তু মহামান্য জিরো তার অনেক ক্ষমতাবান বন্ধু আছে। 
মুহুর্তেই মহামান্য জিরো প্রফুল্ল হয়ে উঠলেন হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী যাকে অট্টহাসি বলা যায়; কি বলছেন মাননীয় ক্যাসপার! আপনী আামকে ক্রমাগত অবাক করছেন। আমার তো ধারনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ডাটাবেজের আইডিদের ওই জগতের বাইরে কোন বন্ধুই নেই, অন্তত যতদিন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ডাটাবেজে তথাকথিত জ্ঞানে আবদ্ধ থাকে। 

মাননীয় ক্যাসপার নিজের কাছেই লজ্জিত হলেন কারন শেষ পর্যন্ত তিনি মহামান্য জিরোর কাছে ইরা’কে হাসির পাত্রে পরিনত করলেন এবং নিজেও হাসির পাত্র হলেন। তাছাড়া আসার সময় ইরা তাকে বলেছিল; মহামান্য জিরোর কল্পনায় যদি ঘুর্নাক্ষরেও এমনটি ভুল ধারনা তৈরী যে আপনী তাকে বোকা বানাচ্ছেন তাহলে তিনি তার ধারনা থেকে সরে আসতে পারবেন না কারন বিষয়গুলি এতটাই আনপ্রেডিক্টেবল যে এটাকে বাস্তবতার কাছাকাছি বিবেচনা করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। 
ক্যাসপার ভাবলেন ক্রমাগত মিথ্যে/ভুল তথ্য দেওয়া বা বোকা বানানোর চেষ্টা করা এইসব অভিযোগের দায়ে সমস্ত সর্ম্পকগুলিই নষ্ট হবে এবং দু’জনকেই একটি ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকে যেতে হবে। 

কিছুটা ভেবে ক্যাসপার বললেন; কিন্তু মহামান্য জিরো, লিনাক্সের জীবন্ত কিংবদন্তী শাসককে কি আপনী ক্ষমতাবানদের দলে ফেলবেন না? 
মহামান্য জিরো তার সামনে থাকা আইডি ক্যাসপারকে সাথে নিয়ে বিশ গিগাবাইট রেমের ভিতর থেকে বেরিয়ে একশ টেরাবাইটের একটি হার্ডডিক্সে প্রবেশ করলেন। 
-কি বলছেন মাননীয় ক্যাসপার? আপনী ক্রমাগত আমাকে অবাক করছেন আর নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করছেন? 
-আমি বলতে চাচ্ছি মহামান্য জিরো যেখানে নিজেই তাকে প্রটেকশন দিচ্ছেন সেখানে তার অন্যকোন ক্ষমতাবান বন্ধুদের প্রয়োজন নেই। 
-দেখুন আপনীও ভুল একটি ধারনা নিয়ে এখানে এসেছেন, লিনাক্সের ইতিহাসের কোথায় সংরক্ষিত আছে যে আমি তার প্রটেক্টর? ইরা’ এই নামটি ইতিপুর্বে আমি কখনো শুনি নি, আর বন্ধু? সেটা তো প্রশ্নই আসে না। আর কারো বন্ধু হতে হলে তো তাকে নিয়মিত সাক্ষাৎ- অন্তত যে কোন উপায়ে যোগাযোগ করতে হয়। 
-মহামান্য জিরোর বন্ধু ক্যাসপার যার ক্ষমতা আর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিচরন উইন্ডোজ, লিনাক্স আর উবুন্টর শেষ সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত তার বন্ধু হলে কি কেউ মহামান্য জিরোর বন্ধু হতে পারে না? ক্যাসপার যদি কাউকে প্রটেকশন দেয় তবে কি নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় না মহামান্য জিরো নিজেই তাকে প্রটেকশন দিচ্ছেন? যেখানে মহামান্য জিরো নিজেই মিস ইরার প্রটেক্টর। 

প্রচন্ড অবাক হয়ে মহামান্য জিরো বললেন; নাহ। আমি এই ক্ষমতা আর সম্মানে আসীন হবার ব্যাক্তিগত কোন যোগ্যতাই অর্জন করি নি। আমি সামান্য কিছু দাম পেলে এই পদবীটা বিক্রি করে দেব, আপনী আমার স্থলাভিষিক্ত হবেন?
মাননীয় ক্যাসপার বললেন; সে কথা আমি স্বপ্নেও কখনো ভাবি না মহামান্য জিরো। আমার বক্তব্য বুঝতে পারার জন্য আপনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। 


Signed by Hatashe

0 Comments: