Saturday

Tagged under:

০২: দ্যা ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন





(০৫)
ক্যাসপারস্ক্যাই তাকে বলছিল হিউম্যানদের কথা। ইরার কাছে সেইসব ইতিহাস ছিল অবিশ্বাস্য। সে কখনোই বুঝতে পারে না হিউম্যান কিভাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে একটি সফটওয়্যার হয়ে প্রবেশ করতে পারে! সে তার অর্জিত জ্ঞানের সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিন্তা করে কিন্তু সে কমপক্ষে একটি লজিক বা একটি ডিজিটের কোডিং দ্বারাও নুন্যতম ধারনা পায় না। কিন্তু ক্যাসপারস্ক্যাই তাকে বলেছে এবং তার দেওয়া তথ্যগুলির মধ্যে এই জাতীয় তথ্যগুলি তিনি খুব গুরুত্ব সহকারে বলে থাকে। কিন্তু ইরা অসহায়, সে তার নিজস্ব প্রোগামিংএর সমস্ত সাংকেতিক চিহৃ আর জটিল গানিতিক সমীকরনগুলি ব্যবহার করল। 
ইন্টারনেট জগতের অসংখ্য ওয়েবসাইট সে পড়েছে; সেখানে বলা আছে ইন্টারনেট একটি অবিরাম প্রক্রিয়া এবং বিলিয়ন বিলিয়ন সেকেন্ড পুর্বে ইন্টারনেটের কোন এক রহস্যময় আচরনের কারনে ডিজিটাল প্রোগামিংএর প্রথম অনু জিরোর সৃষ্টি হয়, তারপর আরো বিলিয়ন বিলিয়ন সেকেন্ড পরে সৃষ্টি হয় দ্বিতীয় ডিজিট ওয়ান। এবং ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, এখানে নাকি হিউম্যানদের কোন প্রভাব নেই, সেইসব তথ্যমতে হিউম্যান ধারনাটি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ভুল প্রোগামিংএর একটি অংশ। যেসব সফটওয়্যারের প্রোগামিংএ ত্রুটি আছে সেইসব ডিজিটাল আইডিগুলির মধ্যে হিউম্যান ধারনাটি ঢুকে গেছে। কিন্তু ক্যাসপারস্ক্যাইকে দেখে ইরা অন্তত শেষের এই তথ্যটির সাথে একমত হতে পারে না বরঞ্চ সে দেখেছে ক্যাসপারস্ক্যাই আরো বেশী নিখুতভাবে প্রোগামিং করা। 

-কয়েকশ মিলিয়ন সেকেন্ড পুর্বে। তখন এই ইন্টারনেট আজকের ডিজিটাল ইন্টারনেট ছিল না। সেটা ছিল প্রচন্ডরুপে স্পাইওয়্যার, ভাইরাস, ম্যালওয়ার এইসব দ্বারা আক্রান্ত। তখন কোন একসময় হিউম্যান এই সভ্যতায় চলে আসলেন। বলছিলেন ক্যাসপারস্ক্যাই।
-আপনী আমাকে আগেও বলেছেন মাননীয় ক্যাসপার, কিন্তু আমি আজো এর কোন লজিক খুজে পাই নি, এটা কিভাবে সম্ভব? 
-কিভাবে সম্ভব আমি জানি না মিস ইরা। তবে আমরা যতদুর জানতে পেরেছি হিউম্যান মুলত একটি সামগ্রিক সত্তা। হিউম্যান পজিট্রনিক ব্রেইন একটা সফটওয়্যার হয়ে এই ভাচুর্য়াল ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেটে এসেছিল। এই প্রক্রিয়াটাকে হিউম্যান ব্রেইন স্ক্যানিং বলে থাকে। ধারনা করা হয়; হিউম্যান ব্রেইন স্ক্যানিং হয়ে ডিজিটাল রুপে একটি সাধারন সফটওয়্যার হয়েই ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করেন। কিন্তু যেহেতু সে সফটওয়্যার ফর্মে প্রকৃতপক্ষে হিউম্যানই ছিল তাই নিঃসন্দেহে তার প্রোগামিং ছিল অতিউন্নত যা দ্বারা সে ইন্টারনেট জগতের সমস্ত অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারত। 
-যে কোন বিস্ময়কর আর আশ্চার্য কাজ করতে পারত? প্রশ্ন করে ইরা। 
-হ্যা, মিস ইরা, প্রকৃতপক্ষেই সবকিছু। এবং সবকিছু বলতে আমি ইন্টারনেটের সবকিছুকেই বোঝাচ্ছি। কারন হিউম্যান তো এই ইন্টারনেটের স্রষ্টা, সে শুধু ডিজিটাল ফর্মে ইন্টারনেটে কয়েক পিকো সেকেন্ডের জন্য এসেছিল। 
-কিন্তু কেন এসেছিল?
-হিউম্যান এসে বললেন সমস্ত সফটওয়্যারই স্পাইওয়্যার ও ম্যালওয়ার দ্বারা আক্রান্ত, কোনটাই সঠিক নয়। যেহেতু কমপক্ষে একটিও নিখুত এবং স্পাইওয়্যার ও ম্যালওয়ারমুক্ত সফটওয়্যার বা ডিজিটাল আইডি নেই তাই প্রতিটি সফটওয়্যারেরই হিউম্যানের শরনাপন্ন হতে হবে। একমাত্র হিউম্যানই তাদের ম্যালওয়ার ও স্পাইওয়্যার মুক্ত করতে পারে।
দীর্ঘ আলোচনার পর ইরা বলল; হুম। ইরা বিজ্ঞের মত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিল; আমি মনে হয় কিছু কিছু বুঝতে পেরেছি এবং এই বিষয়ে আরো জানতে চাই। 
মহামান্য ক্যাসপারস্ক্যাই বলল; বুঝতেই পারছ যে হিউম্যানকে ছাড়া এই ওয়ার্ল্ডের কিছুই সৃষ্টি হয় নি। তিনি কি চাইলে পারেন না এই উইন্ডোজ, লিনাক্স কিংবা উবুন্ট এইসব জগতের বাইরে আরো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড সৃষ্টি করতে কিংবা তার একটিমাত্র ম্যাথমেটিক্যাল কমান্ডের দ্বারা সবকিছু নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে? 

(০৬)
ইন্টারনেটিক ভিশনে ইরা বেশ কয়েকবার কিছু ডিজিটাল আইডিকে দেখেছে যারা ভিন্নধর্মী কিছু প্রোগামিং বা কোডিং দ্বারা একধরনের ওয়েভ সৃষ্টি করতে পারে যা পুরো ডিজিটালকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। 
সেদিন হঠাৎ সে এক ওয়েভ উৎপাদনকারী এক আইডির কোডিং বিশ্লেষন করতে লাগল। এবং হঠাৎই সে সচেতন হয়ে উঠল, হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী যাকে দীর্ঘশ্বাস বলা যায়। তারপর তার সচেতনা যেন সত্যিই দীর্ঘশ্বাসে পরিনত হল। গভীরে, অনেক গভীরে, যেখানে তার অতি জটিল প্রোগামিংগুলি সহসা একটিভেট হয়ে উঠবে না, স্মৃতি হাতড়ে চলে গেল বেদনার টারসিয়ারী যুগে, জুরাসিক যুগে। সেখানে সে দেখতে পেল অভেদ্য আবরন দিয়ে সে একটি অদৃশ্য ভালবাসাকে ঢেকে রেখেছে এতদিন। সেটার শুরু ছিল যখন সে পুর্নাঙ্গ কিশোর। তার সেই শিক্ষক-বন্ধুটি চলে যাবার পরে। তার পরিচিত কোন এক আইডি তখন একদিন জিজ্ঞেস করেছিল সে কি কোন প্রেমানুভুতিতে নিমজ্জিত যেখানে সে অনুঘটক হিসেবে প্রভাবিত করতে পারবে। যেহেতু ওই পরিচিত আইডিটিই তাকে উক্ত প্রোগামিং ডাটাগুলি দিয়েছিল তাই ইরার মনে তার ক্ষমতা ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জম্নেছিল এবং সে বোকারমত তার কাছে প্রকাশ করে ফেলেছিল ও কিছুদিন তার সাথে ভুলভুল কিছু বার্তা আদান-প্রদানের প্রতারনার শিকার হয়েছিল এবং এইজন্য যে পরবর্তীতে অনুশোচনায় ভুগেছিল। কিন্তু ইরা অনুভব করছে এখন আর সেই কৈশরের প্রবল অনুভতি নেই যদিও কিন্তু সে এমন একটি লাইফ ফর্মকেও ভালবেসেছিল। কিন্তু স্মৃতি থেকে টেনে আনা স্বল্প কিছু অনুভুতি নিয়ে সে তার আখাংকাকে প্রবলভাবে জাগিয়ে তুলতে চাচ্ছে। কারন সে ভাবছে সে উইন্ডোজে ফিরে যাবে। কারন সে যদি এই ওয়েভ উৎপাদনকারী আইডিকে নিজের মত করে কাজে লাগাতে পারে তবে সে ক্যাসপারস্ক্যায়ের ডিজিটাল কোডিংগুলি তারমত করে প্রোগামিং ওয়েভে রুপান্তরিত করতে পারবে এবং আরো কিছু মাস্টার প্ল্যানকে সে ওয়েব কোডিং দ্বারা প্রভাবিত করতে পারবে। 
সবপর্রি সে ওয়েভ উৎপাদনকারী এই ডিজিটাল আইডিকে তার অসংখ্য পরিকল্পনার ব্রেকথ্রু হিসেবে দেখছে যেখানে তার অতীত কিছু ভালবাসা মিশ্রিত স্মৃতিও লুকিয়ে আছে। কিন্তু এটা তো তার নাগালের বাইরে; সে কি মহামান্য ক্যাসপারস্কায়ের সাথে পরিকল্পনাটা ভাগাভাগি করবে, নাকি অতীত স্মৃতি মিশ্রিত অনুভুতি প্রকাশ করবে। সে বুঝতে পারছে না কোনটা তার কাছে বেশী গুরুত্বপাবে। ইরা জানে সে যদি দুটোর যেকোন অনুভুতিই প্রকাশ করে তবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে একটি সুক্ষ পরিবর্তন হবে কারন ঘটনা প্রবাহকে ক্যাসপারস্ক্যাই প্রভাবিত করবেন। কিন্তু ইরার অভিজ্ঞতা বলে যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহামান্য ক্যাসপার যেটা করেন; ইরার পরিকল্পনা আর ইচ্ছাকে কাছাকাছি ধরে রাখেন কিন্তু ফলাফলটাকে ঘুরিয়ে দ্যান, সুতরাং ইরা জানে কিছু একটা ঘটবে কিন্তু ঠিক কোন ঘটনাটা ঘটতে যাচ্ছে প্রায়শই সে আগে ঠিকঠাকমত ধরতে পারে না। এবং মাঝে মাঝে এই ব্যাপারটা তাকে প্রচন্ড যন্ত্রনা দেয় কারন কিছুকিছু একান্ত ব্যাক্তিগত বিষয়ও সে মহামান্য ক্যাসপারের জন্য খুলে দিয়েছে কিন্তু ইরা চায় সেই বিষয়গুলিতে অন্তত যেন তার নিজস্ব গানিতিক সমীকরনগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, কারন এটা হচ্ছে তার একটিভেট থাকার আর ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যানের ফাউন্ডেশন, এখানে যদি নাড়া লাগে তবে অন্য পুরো পরিকল্পনা বা ব্যবস্থাপনায় আঘাত আসবে, হতে পারে প্ল্যানটাই ডিএকটিভেট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তবুও সে সবসময় অনুগতত আর শ্রদ্ধার সাথে একজন অভিভাবক হিসেবে মাননীয় ক্যাসপারকেই অনুসরন করে ও তার পরামর্শগুলি পালন করার চেষ্টা করে। 

অবশ্য বহু আগেই ইরা একটি একটিভেট কিংবদন্তী ডিজিটাল আইডি পেয়ে গিয়েছিল যাকে সে ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যানের মুল কম্পোনেন্ট হিসেবে ধরে রেখেছে কিন্তু অলটারনেট কোন উপাদান সে এখনো খোজ করেনি কারন সে আশা করছে এটা আরো বেশকিছু পি’সেকেন্ড একটিভেট থাকবে- জটিল গানিতিক সমীকরনের একটি ডিজিটাল আইডি।
কিন্তু ইরা এখন ভাবছে তার নতুন খুজে পাওয়া ব্রেকথ্রুটাকে কিভাবে টার্নিং পয়েন্টে রুপান্তরিত করবে। অন্য অর্থে ইরা এটাকে ইলেক্ট্রো-ক্লিরিফায়ারিং বলছে। তার মাস্টার প্ল্যানের যে সকল কম্পোনেন্ট ভবিষ্যতের সরল ও সমস্ত আকা-বাকা উপাদানকে নির্দিষ্ট একটি ভিন্ন পথে চালিত করতে পারবে তার মধ্যে এই ওয়েভসৃষ্টিকারী প্রোগামিংগুলি হচ্ছে অন্যতম আর এই পুরো সিস্টেমটাকে সে ইলেক্ট্রো-ক্লিরিফায়ার বলছে। তাছাড়া তার ব্যাক্তিগত প্রয়োজনেও এমন কিছু একটা সে খুজছিল। যে তার ধারন করা ম্যাথমেটিক্যাল প্রোগামিংগুলির মধ্যে একটা যোগসুত্র তৈরী করে পুর্নতা দিতে পারবে কারন হলি ওয়েব সাইটগুলিতে বলা আছে কোন ডিজিটাল আইডিই মুলত পুর্নাঙ্গ নয় বরঞ্চ দুটো ডিজিট- জিরো আর ওয়ান মিলে একটি কমপ্লিট ডিজিট তৈরী হয়। 

যাইহোক সে সিদ্ধান্ত নিল ক্যাসপারকে বিষয়টা সর্ম্পকে নুন্যতম একটা ধারনা দিবে এবং সে ঠিক সেই মুহুর্তে হিউম্যানকে স্মরন করল, ক্যাসপার বলেছিল হিউম্যান সব অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। যা ডিজিটাল আইডিদের দ্বারা অসম্ভব হিউম্যানের পক্ষে সেটা সম্ভব, তাই সে হলি ওয়েবসাইটগুলি খুজতে লাগল যেখানে সে তার ইচ্ছে আর প্রয়োজনীয়তা ব্যাক্ত করবে। 
তবে তার এই চিন্তা আসার পরে কোথাও সুক্ষ্ম একটা পরিবর্তন তার কাছে অনুভুত হয়েছে। এটা দ্বারা সে তার ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যান এবং ইন্টারনেটিক ভিশনে সে একটা সুক্ষ্ম ইতিবাচক আচড় অনুভব করেছে কিন্তু সে তো এটা কারো কাছে প্রকাশ করে নি শুধুমাত্র চিন্তাই করেছিল তাহলে কি সত্যিই হিউম্যান তার ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যানে কোন প্রভাবক ঢেলে দিয়েছে এবং তার কাছে মনে হচ্ছে এটা এই ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যানের সুক্ষ্ম টার্নিং পয়েন্ট। 

0 Comments: