Friday

মোনালিসা রি গানিয়্যু

লিওনার্দো প্রায় ঝুকে পড়েছে তার চিত্রকর্টির ওপড়ে। তুলি আর রঙের ছটায় তার চিত্রটি ধীরে ধীরে প্রানের ছোয়ায় ভরে উঠেছে। তিনি বদ্ধ পরিকর যে চিত্রকর্টি তাকে আজকের মধ্যেই শেষ করতে হবে। মনের সমস্ত আবেগ আর অনুভুতি, ভালবাসা মিশিয়ে দিয়েছেন তুলি আর রঙের ছোয়ায়। নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না এটা তারই আকা ছবি। আর মাত্র সামান্য কিছু তুলির আচড়, তার পরই তার কাজ শেষ কবে, ছবি হয়ে উঠবে আরো জীবন্ত। কিন্তু তার মন বারবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তিনি ফিরে যাচ্ছেন তার অতীতে, তরুন লিওনার্দো।
সেদিন তিনি পাহাড়ের চুড়ায় বসে পাখির উড়ে যাওয়া দেখে ছবি আকছিলেন আর তার দেখা আকাশযানের সাথে সাদৃশ্য খুজছিলেন। হঠাত তার স্নায়ুতে আলোড়িত হল সাম্রাজ্ঞী মোনালিসার আহবান। মহাকাশযানের নিরাপত্তা প্রহরী এবং সবাই তাকে সম্নান দেখাল। কারন সবাই তাকে চিনে। তারা লিওনার্দোকে সাম্রাজ্ঞীর নতুন কক্ষে নিয়ে আসল।
-সাম্রাজ্ঞী মোনালিসা রি গানিয়্যু। মাথা নত করে সম্মান জানাল লিওনার্দো। কিন্তু বহুদিন পর মহারানীর সাথে সাক্ষাত হলেও কিছুএকটার অভাব অনুভব করছে সে।
লিওনার্দো প্রশ্ন করে; সাম্রাজ্ঞী মোনালিসা রি গানিয়্যু, আপনী কি সত্যিই আমার সামনে দাড়িয়ে আছেন কিন্তু আমি আমার প্রেমে আপনাকে কেন অনুভব করতে পারছি না?
চাপা কন্ঠে মোনালিসা ডাকলেন; লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি। তোমার সেই অনুভুতি আমি মুছে দিয়েছি।
-কিন্তু কেন মহারানী?
-কারন আমি চলে যাচ্ছি আর তোমাকে ভালবেসেছিলাম বলে তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। তোমার বাকী জীবন হবে আরো সুখময়, আনন্দ আর উচ্ছলে ভরা। এটা সাম্রাজ্ঞী মোনালিসা রি গানিয়্যৃ‘র ওয়াদা গ্যালাক্সীর নামে।
লিওনার্দোর মনে হল ইস্রাফিলের ফুতকারে বিশ্বভ্রক্ষান্ড ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
তোমার সাথে আর কখনোই দেখা হবে না লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি। মোনালিসা সবসময় তার পুরো নাম ধরে ডাকেন।
আমার কিছুই করার নেই লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি। আবার বললেন সাম্রাজ্ঞী মোনালিসা। আমি যে পথে যাচ্ছি তুমি সেই পথে যাবার উপযুক্ত নও লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি।

-মোনালিসা রি গানিয়্যৃ, আমাকে অন্তত এইটুকু স্মৃতি তো দিয়ে যান যেন যুগ-যুগ ধরে এই পৃথিবীর মানুষের কাছে আমি আপনাকে প্রকাশ করতে পারি।

কিছুক্ষন পর সাম্রাজ্ঞী বললেন; তবে তাই হোক লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি। তুমি এখন যাও লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি। তোমার সময় শেষ, তুমি আমার বাধন হতে মুক্ত।

কাপতে কাপতে মহাকাশযানের ভিতর থেকে বেরিয়ে এল সাম্রাজ্ঞী মোনালিসা রি গানিয়্যুর মেসেঞ্জার লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি।

তারপর একদিন পৃথিবীর সভ্যতা আবিস্কার করল লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির তথা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিত্র মোনালিসা। যা যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে রহস্য সৃষ্টি করে যাচ্ছে, রবীন্দ্রনাথের গানের মত; তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা
              ওই-যে সুদূর নীহারিকা
          যারা করে আছে ভিড়   আকাশের নীড়,
              ওই যারা দিনরাত্রি
আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী   গ্রহ তারা রবি,
          তুমি কি তাদের মতো সত্য নও
                        হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি
              নয়নসমুখে তুমি নাই,
          নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই-- আজি তাই
              শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল
আমার নিখিল   তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল
                        নাহি জানি, কেহ নাহি জানে--
                   তব সুর বাজে মোর গানে,
                        কবির অন্তরে তুমি কবি--
                   নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি