Sunday

স্বর্ণযুগ এবং মি. ক্যাসপারস্কাই



আপনী আমাকে সত্যি করে বলুন মি. ক্যাসপারস্কাই, কপটিক চার্চের পোপ সেনুদার সাথে আপনার কি কখনো দেখা হয়েছিল?

ক্যাসপারস্কাই দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। তার মনে পড়ে মৃত্যুর পুর্বে সেনুদা তাকে এই তরুনটির কথাই বলেছিল যে সে আসবে।

তরুন আবার প্রশ্ন করে; কেমন মানুষ ছিলেন সেনুদা? তিনি কি দেখতে আমাদেরই কারো মতন ছিলেন মি. ক্যাসপারস্কাই? যদিও আমি হলোভিশনে তাকে দেখেছি। আমি তাকে ভালবেসেছিলাম। সেনুদাকে আমার নিজের সত্তায় পরিনত করেছিলাম। 

ক্যাসপারস্কাই বললেন; পোপ সেনুদা খ্রি অফ গ্রেটার আলেকজান্দ্রিয়া ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে তুরস্কে খ্রিষ্টান কমিউনিটির সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যাক্তি ও  সবচেয়ে বড় চার্চ কপটিক (Coptic)  এর কর্নধার। যদিও তুরস্কে নব্বই ভাগ জনগোষ্টিই মুসলমান ত্বদসত্বেও বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অনুশাসন এমনকি জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক অগ্রযাত্রায় কপটিক এর অবদান ও প্রভাব কিছুতেই কম নয় আর ক্লাসিক্যাল কপটিক এর জনক হচ্ছেন পোপ সেনুদা।

তরুন প্রশ্ন করে; সেনুদা কি ওভারসিয়ার পদমর্যাদায় ১ ‍তিমথিয় ৩:১-১৩ এর অনুসরন করেছিলেন। নাকি অন্যকোন রেফারেন্স?

ক্যাসপারস্কাই বললেন; ইয়াংম্যান, সেনুদা মারা গেছেন কিন্তু তিনি বেচে আছেন আমাদের প্রতিটি মানুষের অন্তরে। তার আদর্শ এখনো টিকে আছে এবং থাকবে। ইশ্বররে কাছ থেকে পাওয়া পরিকল্পনা গুলি ঈসা মসীহ আমাদের দিয়ে গেছেন, মানব জাতির মুক্তি,কল্যান এবং মৃত্যু পরবর্তী মুক্ত জীবনের জন্য। পবিত্র বাইবেলে সবকিছু লেখা আছে। আজ আমি তোমাকে অন্য একজন ওভারসিয়ার এবং অন্য একটি চার্চের কথা শোনাবো। ওভারসিয়ার বারাক ওবামা এবং পৃথিবীর সকল চার্চের চেয়ে সম্মান ও জ্ঞানে উচু হোয়াইট হাউজ।

ইতিহাসের অংশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জম্নই হয়েছিল ইতিহাসের স্মরনীয় এক বিজ্ঞান গবেষনার মধ্য দিয়ে, যা শুধু একটি পলিটিক্যাল রেভ্যুলেশনই ছিল না, বরঞ্চ একটি সায়েন্টিফিক রেভ্যুলেশনই সেখানে মুখ্য ছিল, যার ক্ষুদ্র অংশ ছিল রাজনৈতিক বিপ্লব। কিন্তু শিশু যুক্তরাষ্ট্র শুরু হতেই শত বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে চলছিল।

বিজ্ঞানী দম্পতি পিয়েরে কুরি ও মেরি কুরি’র মুত্যুর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম এম্পায়ার হিসেবে পরিচিত ফ্রান্স এম্পায়ার ভেঙ্গে যায়, যাতে ইউনাইটেড স্টেটেস অফ আমেরিকার চলার পথ আরো সুগোম হয়ে আসে। একই শতকে ইতিহাসের দীর্ঘ মেয়াদী ও সুবিশাল ব্রিটিশ এম্পায়ারও ভেঙ্গে যায়। উক্ত দুটি এম্পায়ার ভেঙ্গে যাওয়ার আক্ষরিক অর্থই ছিল পতন। কিন্তু একই শতকের গোড়ার দিকে আরো একটি এম্পায়ার ভেঙ্গে যায়; মুলত রুশিয়া এম্পায়ার ভেঙ্গে যাওয়ার অর্থ ছিল আরো শক্তিশালী নতুন একটি শক্তির উত্থান। রাশিয়া এম্পায়ার ভেঙ্গে গড়ে উঠে সোভিয়েত ইউনিয়ন। অন্যদিকে ব্রিটিশ এম্পায়ার ভেঙ্গে গেলেও খুব দ্রুত ভেঙ্গে যাওয়া অংশগুলি নিয়ে গঠিত হয় ব্রিটিশ কমনওয়েলথ যা মুলত ব্রিটিশ এম্পায়ারেরই নতুন রুপ ছিল।

যাইহোক এই বিষয়গুলি সার্বিকভাবে প্রথম নজরে আসে যখন লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফী এক ভ্রমনে ইটালি যান। সেখানে মডেল, অভিনয়, চাকুরী ও প্রশিক্ষনের নামে নিয়োগ দেওয়া প্রায় দুশো তরুনীর মাঝে মুয়াম্মার গাদ্দাফীর ভাষন ও কুরআন বিতরন যা প্রচন্ডভাবে সমালোচিত হয়োছিলও বটে, ‍কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটা ছিল বিশ্ব রাজনীতির গভীরে কোন ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা বেশ সফল হয়েছিলও বটে কিন্তু ধীরে ধীরে প্রকৃত পরিকল্পনাগুলি বেরিয়ে আসে। গাদ্দাফীর উদ্যেগে গঠিত আফ্রিকান ইউনিয়ন যেখানে প্রকৃতপক্ষেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কোন হুমকি দেখিতে পান নি। কারন ইতিপুর্বে আল-কায়েদা কর্তৃক ইতিহাসের স্মরনীয় ও মর্মান্তিক টুইন টাওয়ার হামলার প্রভাব ঠেকাতে অনেক অর্থ ব্যায় ও প্রানহানি হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে খুব বেশী বেগ পেতে হয় নি।

কিন্তু ‍কিছুদিনের মধ্যেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করে প্রকৃত বিট্রিশ কমনওয়েলথ ও ইউরোপের সাতাশটি দেশ নিয়ে গঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইতিমধ্যে দীর্ঘ উনসত্তর বছরের সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে পনের খন্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু রাশিয়ার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে রাশিয়ার সীমারেখা বা যে কোন ধরনের রাজনৈতিক পতন বা বিপ্লব মুলত নতুন কোন সম্ভাবনাকেই ইঙ্গিত করে।  সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গঠিত হয় আরো শক্তিশালী রাশিয়া ফেডারেশন। খুব দ্রুতই আবার ভেঙ্গে যাওয়া অংশগুলি নিয়ে গঠিত হয় কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস এবং একই সময়ে রাশিয়া ইউনাইটেড ‍পার্টির গভীরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে ‍ফেডারেশনের চেয়েও আরো শক্তিশালী একটি কমনওয়েলথ বা ইউনাইটেড স্টেটস অফ রাশিয়া বা আরো শক্তিশালী কিছু।

আফ্রিকান ইউনিয়ন বিশ্ব রাজনীতিতে তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও। ‍ ব্রিটিশ কমনওয়েলথ, বিশেষ করে খুবই সাম্ভাব্য ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন যা পরবর্তিতে ইউনাইটেড স্টেটস অফ ইউরোপ বা বিখ্যাত লেখক আর্থার সি ক্লাকের সাহিত্যিক নাম ইউরোপা‘য় রুপ নিতে যাচ্ছে, কিংবা রাশিয়া কমনওয়েলথ বা ইউনাইটেড (স্টেটস অফ) রাশিয়া কিংবা আরো শক্তিশালী কিছু একের পর ইউনাইটেড স্টেটেস অফ আমেরিকা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আক্ষরিক অর্থেই চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়ায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন রাজনৈতিকে কম গুরুত্বপুর্ন করে শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক সীমারেখায় সম্পৃক্ত হতে শুরু করে তখন এমন বেশকিছু থ্রেট বা হুমকির সম্মুখীন হতে শুরু করে। ঠিক এমন একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যা তখনো শিশু, এমন চড়াই উতড়াই মধ্যে উক্ত সমস্যাগুলি নিয়ে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে উঠে আসেন আইনজীবি, লেখক, পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট বারাক ওবামা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুয়াল্লিশতম প্রেসিডেন্ট। অনেক সমস্যা ও বিশ্ব রাজনৈতির হুমকি গুলিকে তিনি তুলে আনতে সক্ষম হলেও এত সমস্যার সামাধান তার জানা ছিল না। কিন্তু তা সত্বেও জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসনের পরে তিনিই নতুন করে জর্জ ওয়াশিংটনের পরিকল্পনাগুলিকে সংঘবদ্ধ করে সমস্যার গভীরে দৃষ্টি দিলেন, এবং পরবর্তীতে দেখা গেছে জর্জ ওয়াশিংটনের পরে বারাক ওবামাই সবচেয়ে বেশী ও সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাউন্ডিং ফাদারদের নিদের্শিত পথে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে চালিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বারাক ওবামা ছিলেন মুলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সফল সংস্কারক।

বারাক ওবামার দীর্ঘ ও জটিলতর রাজনৈতিক জীবনের প্রভাবকে ছাড়িয়েও তিনি একজন সফল ও প্রভাবশালী লেখক হিসেবে ইতিহাসে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় ভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এবং ইতিহাসে তিনি শুধু মাত্র একজন লেখক ও বিজ্ঞানীহিসেবেই পরিচিত যেখানে তার সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মজীবন লুকিয়ে আছেগবেষকদের জন্য।
 

Saturday

স্বর্ণযুগ


১৭ মার্চ ২০১২- মারা গেলেন কপটিক চার্চের পোপ সেনুদা (Pope Shenouda III of Alexandria). মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে তুরস্কে খ্রিষ্টান কমিউনিটির সবচেয়ে বড় চার্চ হচ্ছে কপটিক (Coptic), উল্লেখ্য যে যদিও তুরস্কে নব্বই ভাগ জনগোষ্টিই মুসলমান ত্বদসত্বেও বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অনুশাসন এমনকি জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক অগ্রযাত্রায় কপটিক এর অবদান ও প্রভাব কিছুতেই কম নয়; এমনকি ভ্যাটিক্যান ও রোম (“Pope” Benedict XVI of Rome; “Prelate” Javier Rodríguez of Opus Dei) অথবা মেট্রোপলিটন (“Primate” Vladimir Kirill I of Moscow and Patriarch of Moscow and all the Rus), অথবা এংলিক্যান (“Archbishop” Desmond Tutu of Africa)- উক্ত চার্চগুলির চেয়ে কম নয়।

মেট্রোপলিটন, ভ্যাটিক্যান, এংলিক্যান, ওপাসদাই সহ ছোট-বড় আরো বহু চার্চ আছে যারা যারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সেরা ও ইউনিক, মুলত একটির সাথে অন্যটির তুলনা চলে না। একজন কোয়াকার হিসেবে আমার দৃষ্টিতে অন্যসবগুলির চেয়ে কোয়াকার ভিন্নধর্মী এবং সবক্ষেত্রে অগ্রসরমান ও অধিক প্রভাবশালী, তাই বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও অনন্য ধর্মালম্বীদের কাছে এর পরিচিতির জন্য
কোয়াকারস (Quakers) সম্পর্কে বাংলায় উক্ত আর্টিকেলটির অবতারনা। কোয়াকার অর্থ হচ্ছে বন্ধু [Religious Society of Friends (Quakers)] কোয়াকারস কে ফ্রেন্ডস চার্চ’ও (Friends Church) বলা হয়ে থাকে।
বিগত ইতিহাসে দেখা গেছে অনেক নামীদামী লেখক, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী আরো অনেকেই বিভিন্ন চার্চের গুরুত্বপুর্ন পদগুলি অলংকৃত করেছেন, তম্নোধ্যে স্যার আইজ্যাক নিউটন, জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটন এবং বিজ্ঞানী কুরি দম্পতির নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যোগ্য। কিন্তু চার্চ লিডার যখন রাষ্টপতি! তাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত একটি দেশের। অনেকেই হয়তো আতকে উঠবেন! হ্যা, পাঠকরা ঠিকই ধরতে পেরেছেন আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কথাই বলছি। অন্যন্য চার্চ লিডারদের ক্ষেত্রে যেখানে “পোপ”, “প্রিলেট”, “প্রাইমেট”, “আর্চবিশপ” পদমর্যাদার উক্ত টার্মগুলি ব্যবহার করা হয়, সেখানে কোয়াকাস এর জন্য পদমর্যাদাটি হচ্ছে “ওভারসিয়ার (Overseer)” যার অর্থ হচ্ছে উপদর্শক, তত্ত্বাবধায়ক, কারকুন, অধীক্ষক, কার্যাধিপ, কার্যদর্শী। চার্চ অফ ইংল্যান্ড, ভ্যাটিক্যান, রোম, ওপাসদাই, এংলিক্যান অথবা মেট্রোপলিটন এইসব চার্চগুলির মতই কোয়াকাস’এর “ওভারসিয়ার” পদমর্যাদার জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন বাইবেলিক্যাল নির্দেশনা ও রেফারেন্স অনুসরন করা হয়ে থাকে। ওভারসিয়ার পদমর্যাদা মুলত “১ ‍তিমথিয় ৩:১-১৩” এর নির্দেশনা কে অনুসরন করে থাকে (1 Timothy 3:1-13 Qualifications for Overseers and Research Fellow: Click This Link )।
“এই কথা বিশ্বাযোগ্য যে যদি কেউ ওভারসিয়ার হতে চায়, তবে সে একটি ভাল কাজ করার ইচ্ছে পোষন করে। ওভারসিয়ারদের সেই জন্য এমন হতে হবে যেন কেউ তাদের দোষ দিতে না পারে। তার মাত্র একজন স্ত্রী থাকবে। নিজেকে দমনে রাখবে ও ভাল বিচার বুদ্ধি থাকবে। তিনি ভদ্র হবেন ও মেহমানদারী করতে ভালবাসবেন। অন্যকে শিক্ষাদান করার ক্ষমতা তার থাকবে। তিনি যেন মাতাল ও বদমেজাজী না হন, বরং তার স্বভাব যেন নম্র হয় এবং তিনি যেন ঝগড়াটে বা অর্থলোভী না হন। তিনি যেন উপযুক্তভাবে নিজের বাড়ীর সবকিছু পরিচালনা করেন এবং ছেলে-মেয়েরা যেন বাধ্য ও ভদ্র হয়। যিনি নিজের বাড়ীর ব্যাপারে পরিচালনা করতে জানেন না তিনি কি করে ইশ্বরের পরিবার (চার্চ) পরিচালনা করবেন। ওভারসিয়ার যেন নতুন বা সদ্য খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত খিষ্ট্রান না হন, কারন তিনি যদি নতুন হন তবে অহংকারে ফুলে উঠবেন এবং শয়তানের দেওয়া শাস্তির জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। বাইরের লোকদের কাছে তার সুনাম থাকা দরকার, তিনি যেন দুর্নামের ভাগী না হন এবং ইবলিশের ফাদে না পড়েন।
ঠিক একইভাবে শিক্ষানবিস/খেদমতকারী/সাহায্যকারীরাও (Deacons/ ResearchFellow/Helper) যেন সম্মান পাবার যোগ্য হন। তারা যেন মাতাল না হন আর ‍অন্যায় কাজের দিকে ঝোক না থাকে। তারা যেন পরিস্কার বিবেকে বিশ্বাসের গোপন সত্যগুলি ধারন করে রাখেন (They must keep hold of the deep truths of the faith with a clear conscience)। তাদের আগে যাচাই করে দেখতে হবে, তারপর তারা যদি নিদোর্ষ বলে প্রমানিত হন তবে শিক্ষানবিস বা খেদমতকারীরা বা সাহায্যকারী হতে পারবে। ঠিক সেইভাবে তাদের স্ত্রীরাও যেন সম্মানের যোগ্য হন। তারা যেন অন্যের দুর্নাম করে না বেড়ান এবং নিজেদের দমনে রাখেন। সব বিষয়ে তাদের যেন বিশ্বাস করা যায়। শিক্ষানবিস বা খেদমতকারীদের মাত্র একজন স্ত্রী থাকবে। তিনি যেন ভালভাবে তার ছেলেমেয়ে ও সংসার পরিচালনা করেন। যে খেদমতকারী ভালভাবে কাজ করেন তিনি সম্মান লাভ করেন এবং যিশু খিষ্ট্রের উপর বিশ্বাসের দরুন তার অন্তর সাহসে পরিপুর্ন হয়।”


কোয়াকারসসের বিশ্বব্যাপি বহু বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং প্রতিষ্ঠান-সংস্থা রয়েছে। এছাড়া আছে বেশকিছু স্কুল। ওয়াশিংটন ডিসি’র বিখ্যাত সিডওয়েল ফ্রেন্ডস স্কুলটিও কোয়াকারসসের, যেখানে বারাক ওবামার দুই মেয়ে মালিয়া ও সাসা পড়াশোনা করছে।


ইংরেজ ডিসেন্টার জর্জ ফক্স ষোলশ শতাব্দিতে কোয়াকারস বা বন্ধুদের ধার্মিক সোসাইটি (
Religious Society of Friends/Quakers) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্টসহ ‍বিশ্বজুড়ে কিছু মেধাবীদের হাত ধরে আরো পরিপুর্নভাবে বিকশিত হয় এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অন্যতম অভিভাবক বা পথপ্রদর্শক হয়ে দাড়ায়। জর্জ ফক্সের জম্ন ইংল্যান্ডে হলেও কোয়াকারস সম্পুর্নভাবে চার্চ অফ ইংল্যান্ড [“Primate” Rowan Williams (“Archbishop” of Canterbury)] থেকে আলাদা কিংবা অন্য কোন চার্চের প্রভাব কোয়াকারসে নেই।

কোয়াকারস হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে অগ্রসরমান, বিজ্ঞান ভিত্তিক, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অনুশাসন এবং সর্বক্ষেত্রেই অগ্রসরমান এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে চলছে। [
যেখানে ইরানের ইসলাম ধর্মীয় সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি (Ayatollah Seyed Ali Hosseini Khamenei) কিংবা চীনের বৌদ্ধ ধর্মের সবোর্চ্চ নেতা দালাইলামা তেনজিন গাতসো (Dalai Lama Tenzin Gyatso)] অথবা ভ্যাটিক্যান এর পোপ বেনিডিক্ট অনেকটা নিরব ভুমিকা পালন করছে বা কোন প্রকার প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছেন না ‍কিংবা সক্ষম হলেও সেটা সহিংসতার ইংগিত দিচ্ছে; তাছাড়া ভ্যাটিক্যান কর্তৃক খিষ্ট্রান ধর্মেরই বিভিন্ন মেধাবী, বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী ও সেইন্টদের অত্যাচার, হয়রানী, নির্যাতন- এমন কি সেইন্ট জোয়ান অফ আর্ককে পুড়িয়ে মারা এবং ব্রুনো ও গ্যালিলিওর মত বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মৃত্যু দন্ডাদেশ প্রদান ইত্যাদি অভিযোগের বোঝা ভ্যাটিক্যানের কাধে থাকার কারনে ভ্যাটিক্যান জ্ঞান-বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক খিষ্ট্রধর্মের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না।

সবমিলিয়ে বর্তমান পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা এবং শান্তি ও প্রগতির সমৃদ্ধি এবং খিষ্ট্রান ধর্মের সকল মর্মবানী বার্তা প্রকাশ হচ্ছে কোয়াকারসের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমেই, যা মুলত যিশু খ্রিষ্টের মৃত্যু-পুনরুত্থান এবং খিষ্ট্রধর্ম প্রতিষ্ঠার পর আজ দুই হাজার বছর পরে খিষ্ট্র ধর্মের স্বর্ণ যুগকে (
Golden Era) প্রকাশ করেছে। যদিও প্রায় তিনশত বছর পুর্বে এমন একটি যুগের ইংগিত দিয়েছিল চার্চ অফ ইংল্যান্ড যখন স্যার আইজ্যাক নিউটন ছিলেন চার্চ অফ ইংল্যান্ড এর অংশ কিংবা আরো পুর্বে এইসব দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন সেইন্ট প্রিন্স ভ্লাদিমির যখন তিনি ছোট-ছোট বিভিন্ন জাতি-গোষ্টিকে সংঘবদ্ধ করে রাশ (RUS) যা আজকের রাশিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু বিজ্ঞানের রেভ্যুল্যুশন- পলিটিক্যাল রেভ্যুল্যুশনের মত দ্রুত বা হঠাত করে হয় না, তাই এইসব পুর্ববর্তীগনের সম্মিলিত চিন্তা ও কাজের সমন্বয়ে পরবর্তীতে জর্জ ওয়াশিংটনের চিন্তা ও কাজের মধ্য দিয়ে চৃড়ান্তভাবে একটি স্বর্ণযুগকে আমন্ত্রন জানানোর জন্য প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল।

Courtesy by
Religious Society of Friends (Quakers) | Friends Church

ছাই-পাশ গল্প


টুইন গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে-এন্ড্রোমিডা। আজ ইন্টারনেট যুগের দশ হাজারতম বর্ষ, গ্যালাক্সি আনন্দে ভরপুর, এমন কি যারা ইন্টারেনট সেবা হতে বঞ্চিত তারাও আনন্দিত। যদিও গ্যালাক্সির খুব অল্প সংখ্যক মানুষ ব্যয়বহুল ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে- সব মিলিয়ে ৩০%।

আঠারো বছরের কিশোরী আজ খুশিতে ভরপুর কারন আজ তাদের বাসায় ইন্টারেনট সংযোগ দেয়া হবে। এর জন্য তার বাবার মাসিক আয়ের অধের্ক টাকা পরিশোধ করতে হবে-প্রতিমাসে। ইন্টারেনট একটি অতি দুর্লভ সেবা।

চলবে . . . . . 


Thursday

দ্যা থিওরি অফ দেজা ভু (সংকলিত)

দ্যা থিওরি অফ দেজা ভু (the Theory of Déjà vu)

রাশিয়ান ফেডারেশন এর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমিরি পুতিন মস্কো হোয়াইট হাউজ থেকে উড়াল ফেডারেল ইউনির্ভাসিটি যাবেন। সাথে তার স্ত্রী লয়েডমিলা পুতিন সহ দুই মেয়ে মারিয়া ফ্লিমোনোভা এবং ইয়েক্যাটরিনা আর্টমিইভা; এবং কুটনৈতিক সফর সংগী হিসেবে আছেন বন্ধু প্রীতম রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানী ছাড়িয়ে তারা ফ্লাইওভারের লম্বা সড়কে প্রবেশ করলেন। পথিমধ্যে রাষ্ট্রপতি কন্যা ইয়েক্যাটরিনা তার যাত্রা বাতিল করতে চাইলেন। সিকিউরিটি অফিসার বললেন; এখন আর বাস থেকে কেউ নামতে পারবেন না, যতক্ষন না ফ্লাইওভার শেষ হয়।


শেখ হাসিনা খুব মনোযোগ দিয়ে দুজনের কথপোকথন লক্ষ্য করলেন। শেখ হাসিনার মনে পড়ল তার কৈশর জীবনের একটি ঘটনা, ঠিক এমন একটি ঘটনা তার বাবার সাথে ভ্রমনের বেলায়ও হয়েছিল। সে অনেক দিন আগে যখন তিনি ইয়েক্যাটরিনা মতই কিশোরী। কিন্তু তখন তো ফ্লাইওভার রোড বাংলাদেশে ছিল না। কিন্তু তার এমন একটি ঘটনা মনে পড়ে যাচ্ছে বারবার। শেখ হাসিনা একটু একটু করে স্মৃতিময় কৈশরে প্রবেশ করতে লাগলেন। তিনি জানেন এই জাতীয় ঘটনাকে “দেজা ভু” বলে। তার মনে পড়ছে ঠিক এমন একটি ঘটনা কিন্তু কোথায়-কখন মনে করতে পারছেন না। উড়াল ফেডারেল ইউনির্ভাসিটি কনভোকেশনের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে তিনি সাইকোহিস্ট্রির (মনোঐতিহাসিক বিজ্ঞান) গবেষনা মুলক বইগুলির পৃষ্ঠা ওল্টাতে লাগলেন। প্রেসিডেন্ট গেষ্টহাউজে একটি বই পেলেন “প্রাইম রেডিয়েন্ট দ্যা লাক্সারিয়াস ফিজিক্স; হাতাশি’স হাইপোথিসিস এন্ড প্রিন্সিপাল ম্যাথমেটিক্স অফ এপ্লাইড সাইকোহিস্ট্রি” এবং অধিক তথ্য অনুসন্ধানের জন্য কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট জগতের মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার বিভিন্ন আর্টিকেল গুলি অনুসন্ধান করতে লাগলেন।

“দেজা ভু” ব্যাপারটি হল একটি নিশ্চিত অনুভবের অভিজ্ঞতা যা একজন ব্যাক্তি ইতিপূর্বে এ পরিস্থিতি সম্মুখীন হয়েছেন অথবা স্বচক্ষে দেখেছেন। দেজা ভু হচ্ছে সেটা যখন একজন ব্যক্তি অনুভব করে যে ঘটনাটি ইতিপূর্বে অথবা সাম্প্রতিক ঘটেছে, যদিও পূর্ববর্তী পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সঠিক ঘটনাটির সম্পর্কে অনিশ্চিতা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মস্তিস্কের নিউরনে সঠিক ঘটনাটি মনে পড়ল। মহান বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের সামনে আপেল ভুপতিত হওয়ার ঘটনার মতই নতুন কিছু আবিস্কার করলেন; তার ক্ষেত্রে ঠিক এমনই কিছু ঘটনা ঘটেছিল তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সাথে, সেটি ছিল ট্রেনের ঘটনা, উড়াল সড়কে নয়। বাবার সফর সংগী হয়ে সেদিন তিনিও মাঝ পথে ঢাকা-চট্রগ্রাম গামী ট্রেন থামিয়ে ফেনী নেমে যেতে চেয়েছিলেন। প্রায় কাছাকাছি ঘটনা কিন্তু অবস্থান এবং টেকনোলজি ছিল ভিন্ন।

পরমানু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার স্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন একটি তত্ত্বের অবতারনা করলেন; “দেজা ভু ব্যাপারটির গানিতিক ব্যাখ্যা হল একটি নিশ্চিত অনুভবের অভিজ্ঞতা যা একজন ব্যাক্তি কিংবা গোষ্ঠী ইতিপূর্বে এ জাতীয় পরিস্থিতি সম্মুখীন হয়েছেন অথবা স্বচক্ষে দেখেছেন যদিও উক্ত ঘটনা দুটি ঠিক একই রকম নয় কিন্তু ঘটনা দুটি পরস্পরের সাথে সমানুপাতিক যা পরস্পরকে স্থুল কোন এবং সুক্ষ্ম কোনে বিশ্লেষিত করে। ”
শেখ হাসিনা নতুন তত্ত্বটি “দ্যা থিওরি অফ দেজা ভু” নামে পরিচিত হল।

Saturday

Story: গ্যালাকটিক ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস এট মিল্কিওয়ে-এন্ড্রোমিডা

হোম সাইজ স্পেসশিপে চড়ে তার তরুন ছেলেকে নিয়ে মহাশুন্যে ঘুরতে বেরিয়েছেন লেফটেনেন্ট মিসেস এলিজা কার্নিভাল। লেফটেনেন্ট এলিজা পাচদিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন।  উদ্দেশ্য মহাশুন্যের কোন অবকাশযাপন উপগ্রহগুলিতে কিছুদিন ঘুরে বেড়াবেন। ড: এলিজার তরুন ছেলে রাইখ কার্নিভাল সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। ‍তার পড়ালেখা ও গবেষনার বিষয় কৃষিবিদ্যা। মায়ের খুব ইচ্ছে রাইখ একজন ভাল কৃষক হবে। গ্যালাকটিক রিপাবলিক অফ রাইন এর মোষ্ট ওয়ান্টেট একটি বিষয় হচ্ছে কৃষিবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা। কিন্তু সবাই ভাল-কৃষক কিংবা কৃষক হতে পারে না। ছেলের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই কৃষি বিদ্যায়, যদিও সে মায়ের কাছে শুনেছে একজন কৃষক তৈরী করতে ইম্পেরিয়াল সরকার কমপক্ষে কয়েক কোটি জিসি মুদ্রা ব্যয় করে থাকে।

মা। কৃষক হতে আমার ভাল লাগবে না। তার জন্য অনেক জটিল গনিত জানতে হয় যা বোঝার ক্ষমতা আমার নেই।

তাহলে কি তুমি বিজ্ঞানী হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে? লোকালয় ছাড়িয়ে বিরান ভুমির অস্বাস্থ্যকর ফ্যাক্টরিগুলিতে কাজ করবে। বতমানে সমাজে ওসবের মুল্য এখন আছে? আক্ষেপ করেন লেফটেনেন্ট এলিজা।

কিন্তু মা এই বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার আর টেকনিশিয়ানরাই আমাদের গ্রহের জিডিপি ধরে রেখেছে। বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়াররা যদি মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল-ইলেকট্রনিক্স পন্য তৈরী না করেন তবে আমাদের তো না খেয়ে থাকতে হবে।

সে জন্যই তো আমি তোমাকে বলছি একজন কৃষক হবার চেষ্টা কর। বর্তমানে গ্যালাস্কির সবচেয়ে লাক্সারী পেশা বা কেরিয়ার কৃষক, সর্বোচ্চ সম্মান। কৃষি পন্য উতপাদন করবে। একজন ডক্টরের সাথে যেমন বিশালগুপ্রের টিম কাজ করে, একজন কৃষকের বেলায় তার পাচগুন। ইম্পেরিয়াল সরকার তোমাকে সব সহযোগিতা করবে। সবুজে সবুজে ভরে উঠবে আমাদের গ্যালাটিক রিপাবলিক। বিজ্ঞানী-ইঞ্জিনিয়ারদের কষ্টের জীবন তুমি সহ্য করতে পারবে না বাবা। কৃষক হও ক্ষেত-খামারে কাজ করবে, আর ভাল একজন কৃষক হলে গ্যালাক্সির সবাই তোমাকে চিনবে। তোমার ত্বত্ত যুগযুগ ধরে মানবজাতিকে সঠিক পথে চালিত করবে। তারা তোমাকে দেবতার মত শ্রদ্ধা করবে।  আর আমি জেনেছি তুমি একজন ইঞ্জিনিয়ারের মেয়েকে ভালবেসেছ?

মা, সব মানুষই সমান ভাবে সৃষ্টি। প্রায় লক্ষ বছর আছে থমাস জেফারসন নামে একজন বিজ্ঞানী এই ত্বত্তটি দিয়েছিলেন।

আমি কোন দার্শনিক আলোচনা করছি না মাই বয়। তোমার জীবন নিয়ে পরিকল্পনা করা তোমার দায়িত্ব। কিন্তু তুমি যা করছ এটা খুব অন্যয় হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব সেটা ভুলে কৃষক হবার ইচ্ছে ধরে রেখে পড়ালেখা করে যাও।   

তাদের স্পেসশিটি গ্যালাকটিক ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস এট মিল্কিওয়ে-এন্ড্রোমিডা ক্যাম্পাসের হ্যাঙ্গারে প্রবেশ করল।   এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা এত বড় যে যেখানে একজন প্রফেসর নিয়োগ পাওয়ার পরে বাকী জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় সীমানার বাহিরে গিয়েছেন কিনা বা বের হবার কোন প্রয়োজন হয়েছিল কিনা এমন খুজে পাওয়া দুরুহ। এই ক্যাম্পাস এরিয়াটি আরো একটি কারনে বিখ্যাত যে গ্যালাস্কির সবচেয়ে চৌকষ ইন্টার-গ্যালাকটিন গ্রান্ড ইন্টিলিজেন্স ফোর্সের হেড কোর্য়াটার এই গ্যালাকটিক ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাস এট মিল্কিওয়ে-এন্ড্রোমিডা।

গ্যালাকটিক রিপাবলিক অফ রাইন। যার গোড়া পত্তন হয়েছিল প্রায় দশ হাজার বছর পুর্বে একজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল লিহাম দ্বিতীয় এর হাত ধরে। আকস্কিক তিনি গ্যালাস্কির হাল ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন কারন তিনি ছিলেন সহস্রাব্দী পুরান রাজরক্তবাহী একজন মিলিটারী জেনারেল। গ্যালাস্কির অস্থির এক সময়ে সামরিক জান্তা ক্ষমতা গ্রহন করে কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য কাউকে খুজে পাচ্ছিল না তখন ডি.এন.এ টেস্টের মাধ্যমে একজন রাজ রক্তের খোজ পাওয়া গেল; জেনারেল লিহাম দ্বিতীয়। জেনারেল প্রথম লিহাম ছিলেন প্রায় পঞ্চাশ হাজার বছর পুর্বের একজন শাসক। রাইন থেকে প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন কার্গোশিপ টেকনোলজিক্যাল পন্য নিয়ে পৌছে দেয় বিভিন্ন গ্রহে বিনিময়ে তারা পায় সল্প পরিমান কৃষিজাত পন্য, কৃষি বর্জ্য। রাইন হচ্ছে একটি অনুন্নত ও থার্ড ওর্য়াল্ড প্লানেট কারন তারা কৃষিতে পিছিয়ে রয়েছে।  


তোমার বাবা। লেফটেনেন্ট এলিজা ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলছেন; সিহাতা রাইখ ছিলেন তোমার বাবা, যিনি ছিলেন একজন মহাজন বিজ্ঞানী আমি তাকে অনেক ভালবেসেছিলাম তার সরলত্ব, মেধা, বিচক্ষনতা আর জ্ঞানের জন্য কিন্তু তার পেশাকে আমি কোনদিন আমার নিজের করে ভাবতে পারি নি।

কিন্তু মা, আমি কোন এক ইঞ্জিনিয়ারের মেয়েকে ভালবেসেছি বলে ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানী হতে চাই না আবার সবোর্চ্চ সম্মানের পেশা কৃষকও হতে চাই না।

তাহলে তুমি কি হতে চাও? সন্দেহের চোখে প্রশ্ন করেন লেফটেনেন্ট এলিজা।  তোমার বাবার মত গুপ্ত হত্যার শিকার হতে হয় এমন কিছু করতে চাও?

আমি জেনেছি অতীতে, প্রায় মিলিয়ন বছর পুর্বে এপিক নামে সাহিত্যের এটি বিশেষ ধারা ছিল। আমি সেটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই। নতুন করে কিছু লিখতে চাই।

উত্তম প্রস্তাব মাই সান। আমি এটা পছন্দ করেছি। লেখক বিশ্বের জন্য খুব গুরুত্বপুর্ন। কিন্তু তুমি কি মনে কর না; সাহিত্যের যত প্রকার লেখ থাকা প্রয়োজন সব কিছুই বহু আগে লেখা হয়ে গেছে। গ্যালাকটিক লাইব্রেরীতে সব আছে। নতুন করে কেউ আর কিছু লিখতে পারবে না কারন কেউ যদি লেখে দেখা যাবে হাজার বছর বার তারও আগে কেউ না কেউ লিখে ফেলেছেন। তবে নতুনত্বের জন্য তুমি চেষ্টা করতে পার এবং আমিও তোমাকে সাহায্য করতে পারি মাই ডারলিং।