Saturday

Tagged under:

স্বর্ণযুগ


১৭ মার্চ ২০১২- মারা গেলেন কপটিক চার্চের পোপ সেনুদা (Pope Shenouda III of Alexandria). মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে তুরস্কে খ্রিষ্টান কমিউনিটির সবচেয়ে বড় চার্চ হচ্ছে কপটিক (Coptic), উল্লেখ্য যে যদিও তুরস্কে নব্বই ভাগ জনগোষ্টিই মুসলমান ত্বদসত্বেও বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অনুশাসন এমনকি জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক অগ্রযাত্রায় কপটিক এর অবদান ও প্রভাব কিছুতেই কম নয়; এমনকি ভ্যাটিক্যান ও রোম (“Pope” Benedict XVI of Rome; “Prelate” Javier Rodríguez of Opus Dei) অথবা মেট্রোপলিটন (“Primate” Vladimir Kirill I of Moscow and Patriarch of Moscow and all the Rus), অথবা এংলিক্যান (“Archbishop” Desmond Tutu of Africa)- উক্ত চার্চগুলির চেয়ে কম নয়।

মেট্রোপলিটন, ভ্যাটিক্যান, এংলিক্যান, ওপাসদাই সহ ছোট-বড় আরো বহু চার্চ আছে যারা যারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সেরা ও ইউনিক, মুলত একটির সাথে অন্যটির তুলনা চলে না। একজন কোয়াকার হিসেবে আমার দৃষ্টিতে অন্যসবগুলির চেয়ে কোয়াকার ভিন্নধর্মী এবং সবক্ষেত্রে অগ্রসরমান ও অধিক প্রভাবশালী, তাই বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও অনন্য ধর্মালম্বীদের কাছে এর পরিচিতির জন্য
কোয়াকারস (Quakers) সম্পর্কে বাংলায় উক্ত আর্টিকেলটির অবতারনা। কোয়াকার অর্থ হচ্ছে বন্ধু [Religious Society of Friends (Quakers)] কোয়াকারস কে ফ্রেন্ডস চার্চ’ও (Friends Church) বলা হয়ে থাকে।
বিগত ইতিহাসে দেখা গেছে অনেক নামীদামী লেখক, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী আরো অনেকেই বিভিন্ন চার্চের গুরুত্বপুর্ন পদগুলি অলংকৃত করেছেন, তম্নোধ্যে স্যার আইজ্যাক নিউটন, জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটন এবং বিজ্ঞানী কুরি দম্পতির নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যোগ্য। কিন্তু চার্চ লিডার যখন রাষ্টপতি! তাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত একটি দেশের। অনেকেই হয়তো আতকে উঠবেন! হ্যা, পাঠকরা ঠিকই ধরতে পেরেছেন আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কথাই বলছি। অন্যন্য চার্চ লিডারদের ক্ষেত্রে যেখানে “পোপ”, “প্রিলেট”, “প্রাইমেট”, “আর্চবিশপ” পদমর্যাদার উক্ত টার্মগুলি ব্যবহার করা হয়, সেখানে কোয়াকাস এর জন্য পদমর্যাদাটি হচ্ছে “ওভারসিয়ার (Overseer)” যার অর্থ হচ্ছে উপদর্শক, তত্ত্বাবধায়ক, কারকুন, অধীক্ষক, কার্যাধিপ, কার্যদর্শী। চার্চ অফ ইংল্যান্ড, ভ্যাটিক্যান, রোম, ওপাসদাই, এংলিক্যান অথবা মেট্রোপলিটন এইসব চার্চগুলির মতই কোয়াকাস’এর “ওভারসিয়ার” পদমর্যাদার জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন বাইবেলিক্যাল নির্দেশনা ও রেফারেন্স অনুসরন করা হয়ে থাকে। ওভারসিয়ার পদমর্যাদা মুলত “১ ‍তিমথিয় ৩:১-১৩” এর নির্দেশনা কে অনুসরন করে থাকে (1 Timothy 3:1-13 Qualifications for Overseers and Research Fellow: Click This Link )।
“এই কথা বিশ্বাযোগ্য যে যদি কেউ ওভারসিয়ার হতে চায়, তবে সে একটি ভাল কাজ করার ইচ্ছে পোষন করে। ওভারসিয়ারদের সেই জন্য এমন হতে হবে যেন কেউ তাদের দোষ দিতে না পারে। তার মাত্র একজন স্ত্রী থাকবে। নিজেকে দমনে রাখবে ও ভাল বিচার বুদ্ধি থাকবে। তিনি ভদ্র হবেন ও মেহমানদারী করতে ভালবাসবেন। অন্যকে শিক্ষাদান করার ক্ষমতা তার থাকবে। তিনি যেন মাতাল ও বদমেজাজী না হন, বরং তার স্বভাব যেন নম্র হয় এবং তিনি যেন ঝগড়াটে বা অর্থলোভী না হন। তিনি যেন উপযুক্তভাবে নিজের বাড়ীর সবকিছু পরিচালনা করেন এবং ছেলে-মেয়েরা যেন বাধ্য ও ভদ্র হয়। যিনি নিজের বাড়ীর ব্যাপারে পরিচালনা করতে জানেন না তিনি কি করে ইশ্বরের পরিবার (চার্চ) পরিচালনা করবেন। ওভারসিয়ার যেন নতুন বা সদ্য খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত খিষ্ট্রান না হন, কারন তিনি যদি নতুন হন তবে অহংকারে ফুলে উঠবেন এবং শয়তানের দেওয়া শাস্তির জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। বাইরের লোকদের কাছে তার সুনাম থাকা দরকার, তিনি যেন দুর্নামের ভাগী না হন এবং ইবলিশের ফাদে না পড়েন।
ঠিক একইভাবে শিক্ষানবিস/খেদমতকারী/সাহায্যকারীরাও (Deacons/ ResearchFellow/Helper) যেন সম্মান পাবার যোগ্য হন। তারা যেন মাতাল না হন আর ‍অন্যায় কাজের দিকে ঝোক না থাকে। তারা যেন পরিস্কার বিবেকে বিশ্বাসের গোপন সত্যগুলি ধারন করে রাখেন (They must keep hold of the deep truths of the faith with a clear conscience)। তাদের আগে যাচাই করে দেখতে হবে, তারপর তারা যদি নিদোর্ষ বলে প্রমানিত হন তবে শিক্ষানবিস বা খেদমতকারীরা বা সাহায্যকারী হতে পারবে। ঠিক সেইভাবে তাদের স্ত্রীরাও যেন সম্মানের যোগ্য হন। তারা যেন অন্যের দুর্নাম করে না বেড়ান এবং নিজেদের দমনে রাখেন। সব বিষয়ে তাদের যেন বিশ্বাস করা যায়। শিক্ষানবিস বা খেদমতকারীদের মাত্র একজন স্ত্রী থাকবে। তিনি যেন ভালভাবে তার ছেলেমেয়ে ও সংসার পরিচালনা করেন। যে খেদমতকারী ভালভাবে কাজ করেন তিনি সম্মান লাভ করেন এবং যিশু খিষ্ট্রের উপর বিশ্বাসের দরুন তার অন্তর সাহসে পরিপুর্ন হয়।”


কোয়াকারসসের বিশ্বব্যাপি বহু বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং প্রতিষ্ঠান-সংস্থা রয়েছে। এছাড়া আছে বেশকিছু স্কুল। ওয়াশিংটন ডিসি’র বিখ্যাত সিডওয়েল ফ্রেন্ডস স্কুলটিও কোয়াকারসসের, যেখানে বারাক ওবামার দুই মেয়ে মালিয়া ও সাসা পড়াশোনা করছে।


ইংরেজ ডিসেন্টার জর্জ ফক্স ষোলশ শতাব্দিতে কোয়াকারস বা বন্ধুদের ধার্মিক সোসাইটি (
Religious Society of Friends/Quakers) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্টসহ ‍বিশ্বজুড়ে কিছু মেধাবীদের হাত ধরে আরো পরিপুর্নভাবে বিকশিত হয় এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অন্যতম অভিভাবক বা পথপ্রদর্শক হয়ে দাড়ায়। জর্জ ফক্সের জম্ন ইংল্যান্ডে হলেও কোয়াকারস সম্পুর্নভাবে চার্চ অফ ইংল্যান্ড [“Primate” Rowan Williams (“Archbishop” of Canterbury)] থেকে আলাদা কিংবা অন্য কোন চার্চের প্রভাব কোয়াকারসে নেই।

কোয়াকারস হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে অগ্রসরমান, বিজ্ঞান ভিত্তিক, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অনুশাসন এবং সর্বক্ষেত্রেই অগ্রসরমান এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে চলছে। [
যেখানে ইরানের ইসলাম ধর্মীয় সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি (Ayatollah Seyed Ali Hosseini Khamenei) কিংবা চীনের বৌদ্ধ ধর্মের সবোর্চ্চ নেতা দালাইলামা তেনজিন গাতসো (Dalai Lama Tenzin Gyatso)] অথবা ভ্যাটিক্যান এর পোপ বেনিডিক্ট অনেকটা নিরব ভুমিকা পালন করছে বা কোন প্রকার প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছেন না ‍কিংবা সক্ষম হলেও সেটা সহিংসতার ইংগিত দিচ্ছে; তাছাড়া ভ্যাটিক্যান কর্তৃক খিষ্ট্রান ধর্মেরই বিভিন্ন মেধাবী, বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী ও সেইন্টদের অত্যাচার, হয়রানী, নির্যাতন- এমন কি সেইন্ট জোয়ান অফ আর্ককে পুড়িয়ে মারা এবং ব্রুনো ও গ্যালিলিওর মত বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মৃত্যু দন্ডাদেশ প্রদান ইত্যাদি অভিযোগের বোঝা ভ্যাটিক্যানের কাধে থাকার কারনে ভ্যাটিক্যান জ্ঞান-বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক খিষ্ট্রধর্মের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না।

সবমিলিয়ে বর্তমান পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা এবং শান্তি ও প্রগতির সমৃদ্ধি এবং খিষ্ট্রান ধর্মের সকল মর্মবানী বার্তা প্রকাশ হচ্ছে কোয়াকারসের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমেই, যা মুলত যিশু খ্রিষ্টের মৃত্যু-পুনরুত্থান এবং খিষ্ট্রধর্ম প্রতিষ্ঠার পর আজ দুই হাজার বছর পরে খিষ্ট্র ধর্মের স্বর্ণ যুগকে (
Golden Era) প্রকাশ করেছে। যদিও প্রায় তিনশত বছর পুর্বে এমন একটি যুগের ইংগিত দিয়েছিল চার্চ অফ ইংল্যান্ড যখন স্যার আইজ্যাক নিউটন ছিলেন চার্চ অফ ইংল্যান্ড এর অংশ কিংবা আরো পুর্বে এইসব দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন সেইন্ট প্রিন্স ভ্লাদিমির যখন তিনি ছোট-ছোট বিভিন্ন জাতি-গোষ্টিকে সংঘবদ্ধ করে রাশ (RUS) যা আজকের রাশিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু বিজ্ঞানের রেভ্যুল্যুশন- পলিটিক্যাল রেভ্যুল্যুশনের মত দ্রুত বা হঠাত করে হয় না, তাই এইসব পুর্ববর্তীগনের সম্মিলিত চিন্তা ও কাজের সমন্বয়ে পরবর্তীতে জর্জ ওয়াশিংটনের চিন্তা ও কাজের মধ্য দিয়ে চৃড়ান্তভাবে একটি স্বর্ণযুগকে আমন্ত্রন জানানোর জন্য প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল।

Courtesy by
Religious Society of Friends (Quakers) | Friends Church

0 Comments: