Monday

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার [২৪ মার্চ ২০১৩]

সবাইকে ইম্মানুয়েল। আজ পাম সানডে, বিশেষ একটি দিন। আমি দেখতে পাচ্ছি আজ গির্জা ঘর পরিপুর্ন হয়ে গেছে। আমি দেখতে পাচ্ছি সানডে স্কুলের কিছু বাচ্চারাও এসেছেসবাইকে খ্রিস্ট্রিয় শুভেচ্ছা। ইশ্বরকে ধন্যবাদ আজ পর্যন্ত তিনি আমাদের সুস্থ রেখেছেন এবং এখানে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি স্মরন করছি আমাদের সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে। গতকাল টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ গুলি দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠুক। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী আজকের দিনের মতই একটি বিশেষ দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে তাকে স্বাগত জানাল। লূক লিখিত সুসংবাদের ১৯ অধ্যায়ের ২৮ থেকে ৪৮ পদে আমরা দেখতে পা আজকের দিনে আমাদের রাজা যিশু ্রিষ্টও তার প্রিয় শহর জেরুজালেমে আসলেন অগনিত জনতা হোশান্না ধ্বনিতে তাকে স্বাগত জানাল। তাকে বহন করে নিয়ে যাবার জন্য একটি গাধার বাচ্চা নে দেওয়া হল এবং রমনীরা তার পথে নিজেদের চাদর বিছিয়ে দিচ্ছিল। এইভাবে যীশু যিরূজালেমের কাছে এসে যে রাস্তাটা জৈতুন পাহাড় থেকে নেমে গেছে সেই রাস্তায় আসলেন। যীশুর সংগে তাঁর অনেক শিষ্য ছিলেন। সেই শিষ্যেরা তাঁর যে সব আশ্চর্য কাজ দেখেছিলেন সেগুলোর জন্য আনন্দে চিৎকার করে ঈশ্বরের গৌরব করে বলতে লাগলেন, “প্রভুর নামে যে রাজা আসছেন তাঁর গৌরব হোক! স্বর্গেই শান্তি, আর সেখানে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশিত।” ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন ফরীশী যীশুকে বললেন, “গুরু, আপনার শিষ্যদের চুপ করতে বলুন।” যীশু তাঁদের বললেন, “আমি আপনাদের বলছি, এরা যদি চুপ করে থাকে তবে পাথরগুলো চেঁচিয়ে উঠবে।” তাঁরা যখন যিরূজালেমের কাছে আসলেন তখন যীশু শহরটা দেখে কাঁদলেন। তিনি বললেন, “হায়, শান্তি পাবার জন্য যা দরকার, তুমি, হ্যাঁ তুমি যদি আজ তা বুঝতে পারতে! কিন্তু এখন তা তোমার চোখের আড়ালে রয়েছে। এমন সময় তোমার আসবে যখন শত্রুরা তোমার বিরুদ্ধে বাধার দেয়াল তুলবে এবং তোমাকে ঘিরে রাখবে ও সমস্ত দিক থেকে তোমাকে চেপে ধরবে। তারা তোমাকে ও তোমার ভিতরের সমস্ত লোকদের ধরে মাটিতে আছাড় মারবে এবং একটা পাথরের উপরে আর একটা পাথর রাখবে না, কারণ ঈশ্বর যে সময়ে তোমার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন সেই সময়টা তুমি চিনে নাও নি।” এর পরে যীশু উপাসনা-ঘরে ঢুকে ব্যবসায়ীদের তাড়িয়ে দিলেন। তিনি সেই ব্যবসায়ীদের বললেন, “পবিত্র শাস্ত্রে লেখা আছে, ‘আমার ঘর প্রার্থনার ঘর হবে,’ কিন্তু তোমরা তা ডাকাতের আড্ডাখানা করে তুলেছ।” যীশু প্রত্যেক দিনই উপাসনা-ঘরে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন। প্রধান পুরোহিতেরা, ধর্ম-শিক্ষকেরা এবং লোকদের নেতারা তাঁকে মেরে ফেলতে চাইলেন, কিন্তু কিভাবে তা করবেন তার কোন উপায় তাঁরা খুঁজে পেলেন না, কারণ লোকেরা মন দিয়ে তাঁর প্রত্যেকটি কথা শুনত। যিশু দেখলেন মানুষ উপাসনার ঘরকে ব্যবসার আস্তানা বানিয়েছে। তিনি জেরুজালেম শহর দেকে কাদলেন যে শহর স্থাপন করেছিলেন যিশু খ্রিস্টের মাতামহের দিক থেকে পুর্বপুরুষ দাউদ রাজা। যিশু খ্রিস্ট জেরুজালেমে আসলেন এবং কাদলেন। তিনি জানতেন ইশ্বর কর্তৃক নিয়োজিত কাজে তার দায়িত্ব প্রায় শেষের দিকে। অগনিত জনতা তাকে দেখতে পেয়ে হোশান্না ধ্বনিতে জেরুজালেমের আকাশ বাতাস মুখরিত করছে কিন্তু কিছুদিন পরে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে, লোকজন বলবে একে [যিশু] ক্রুশে দাও, কে ক্রুশে দাও। যিশু জেরুজালেম শহর দেখলেন, তার োখে মুখে কান্না ফুটে উঠল এবং কাদলেন। যিশু নিজেকে কোরবানি দেবার জন্য প্রস্তুত হলেন। মানব জাতির পাপের জন্য,আমাদের পাপের জন্য, আমাদের মুক্তির জন্য প্রভু যিশু ক্রুশে জীবন দিলেন। জাগতিক ও পরৌকিক দুনিয়ার মুক্তির জন্য কোন পশু কোরবানী দেবার প্রয়োজন নেই কারন প্রভু যিশু যিনি ছিলেন জীবন্ত ইশ্বর বাক্য তিনি নিজেই কোরবানী হয়েছেন আমাদের মুক্তির জন্য। আসুন আমরা প্রভু যিশুর দেওয়া জীবন ব্যবস্থা অনুসারে আম‍াদের জীবন পরিচালিত করি। 
আমেন। 


এই সব কথা বলবার পরে যীশু তাঁদের আগে আগে যিরূশালেমের দিকে চললেন।
যখন তিনি জৈতুন পাহাড়ের গায়ে বৈৎফগী ও বৈথনিয়া গ্রামের কাছে আসলেন তখন তাঁর দু’জন শিষ্যকে এই বলে পাঠিয়ে দিলেন,
“তোমরা সামনের ঐ গ্রামে যাও। সেখানে ঢুকবার সময় দেখতে পাবে একটা গাধার বাচ্চা বাঁধা আছে। ওর উপরে কেউ কখনও চড়ে নি। ওটা খুলে এখানে নিয়ে এস।
যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, ‘কেন ওটা খুলছ?’ তবে বোলো, ‘প্রভুর দরকার আছে।’”
যে শিষ্যদের পাঠানো হয়েছিল তাঁরা গিয়ে যীশুর কথামতই সব কিছু দেখতে পেলেন।
তাঁরা যখন সেই বাচ্চাটা খুলছিলেন তখন মালিকেরা তাঁদের জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা বাচ্চাটা খুলছ কেন?”
তাঁরা বললেন, “প্রভুর দরকার আছে।”
তারপর শিষ্যেরা সেই গাধার বাচ্চাটা যীশুর কাছে আনলেন এবং তার উপরে তাঁদের গায়ের চাদর পেতে দিয়ে যীশুকে বসালেন।
তিনি যখন যাচ্ছিলেন তখন লোকেরা নিজেদের গায়ের চাদর পথে বিছিয়ে দিতে লাগল।
এইভাবে যীশু যিরূশালেমের কাছে এসে যে রাস্তাটা জৈতুন পাহাড় থেকে নেমে গেছে সেই রাস্তায় আসলেন। যীশুর সংগে তাঁর অনেক শিষ্য ছিলেন। সেই শিষ্যেরা তাঁর যে সব আশ্চর্য কাজ দেখেছিলেন সেগুলোর জন্য আনন্দে চিৎকার করে ঈশ্বরের গৌরব করে বলতে লাগলেন,
“প্রভুর নামে যে রাজা আসছেন তাঁর গৌরব হোক! স্বর্গেই শান্তি, আর সেখানে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশিত।”
ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন ফরীশী যীশুকে বললেন, “গুরু, আপনার শিষ্যদের চুপ করতে বলুন।”
যীশু তাঁদের বললেন, “আমি আপনাদের বলছি, এরা যদি চুপ করে থাকে তবে পাথরগুলো চেঁচিয়ে উঠবে।”
তাঁরা যখন যিরূশালেমের কাছে আসলেন তখন যীশু শহরটা দেখে কাঁদলেন।
তিনি বললেন, “হায়, শান্তি পাবার জন্য যা দরকার, তুমি, হ্যাঁ তুমি যদি আজ তা বুঝতে পারতে! কিন্তু এখন তা তোমার চোখের আড়ালে রয়েছে।
এমন সময় তোমার আসবে যখন শত্রুরা তোমার বিরুদ্ধে বাধার দেয়াল তুলবে এবং তোমাকে ঘিরে রাখবে ও সমস্ত দিক থেকে তোমাকে চেপে ধরবে।
তারা তোমাকে ও তোমার ভিতরের সমস্ত লোকদের ধরে মাটিতে আছাড় মারবে এবং একটা পাথরের উপরে আর একটা পাথর রাখবে না, কারণ ঈশ্বর যে সময়ে তোমার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন সেই সময়টা তুমি চিনে নাও নি।”
এর পরে যীশু উপাসনা-ঘরে ঢুকে ব্যবসায়ীদের তাড়িয়ে দিলেন।
তিনি সেই ব্যবসায়ীদের বললেন, “পবিত্র শাস্ত্রে লেখা আছে, ‘আমার ঘর প্রার্থনার ঘর হবে,’ কিন্তু তোমরা তা ডাকাতের আড্ডাখানা করে তুলেছ।”
যীশু প্রত্যেক দিনই উপাসনা-ঘরে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন। প্রধান পুরোহিতেরা, ধর্ম-শিক্ষকেরা এবং লোকদের নেতারা তাঁকে মেরে ফেলতে চাইলেন,
কিন্তু কিভাবে তা করবেন তার কোন উপায় তাঁরা খুঁজে পেলেন না, কারণ লোকেরা মন দিয়ে তাঁর প্রত্যেকটি কথা শুনত। 

[লূক ১৯:২৮-৪৮]
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
২৪ মার্চ ২০১৩
স্পিকার: রেভারেন্ড জেমস অজিত কর্মকার
পরিচালক 
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ

 

Sunday

অফ দি আই বেনেডিক্ট (Of thee I Benedict)


ভ্যাটিক্যান সিটি!
এই শহরের লোকেরা তাদের নামের সাথে এক বা একাধিক সংখ্যা যুক্ত করে থাকে। যেমন বেনেডিক্ট ১৬।
বেনেডিক্ট ১৬ হচ্ছেন পোপ বেনেডিক্ট ষোড়শ। বেনেডিক্ট ১৬ তার পোপ দায়িত্ব ও স্যভরেইন অফ ভ্যাটিক্যান সিটি
দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেন যা বিগত ছয়শত বছরে ঘটেনি। এই পদটা দেওয়া হত আমৃত্যু এই পদে অধিষ্ঠিত থাকার জন্য। প্রাক্তন পোপ আর নিজেকে পোপ বলতে পারবেন না, কেউ বলবেও না। কিংবা তার আসল নাম ইয়োসেফ রাতসিংগারাও কেউ বলবে না কিংবা তার বন্ধুরা ভুলে গেছে। পৃথিবীর একশত বিশ কোটি খ্রিষ্টান রোমান ক্যাথলিকদের সম্রাট তিনি, একজন রাজা; কিন্তু মৃত্যুর পরও একজন রাজা সবসময় রাজাই খেকে যান।
তার নাম কি হবে এখন- পোপ এমিরেটাস কিংবা দ্যা বেনেডিক্ট? তার ইচ্ছে- সাধারন তীর্থ যাত্রী হয়ে এই মর্ত্যের পৃথিবী ভ্রমন করবেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। একজন অতিথি। এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান। কার জন্য তিনি পোপ পদমর্যাদাটি ছেড়ে দিয়ে আসলেন?

ক্ষমতাবানদের আসলে বন্ধু হয় না মি. ওবামা। দ্যা বেনেডিক্ট বলছিলেন। যারা আসে কিংবা বন্ধু হতে চায় তারা ক্ষমতা ভালবেসে আসে। ফিজিক্যাল পোপ বেনেডিক্ট কে তারা ভালবাসে না, তারা ভালবাসে ভার্চুয়াল পোপ বেনেডিক্টকে। সেই ভার্চুয়াল পোপ বেনেডিক্টক হচ্ছে ক্ষমতা। সে আত্মাধিক ক্ষমতা হোক আর পলিটিক্যাল ক্ষমতাই হোক।
কিন্তু ইশ্বর আমাদের এভাবেই ডিজাইন করেছেন। ওবামা বললেন।
ইশ্বরের পরিকল্পনাতে আমি বাধা দিচ্ছি না মি. ওবামা শুধু বাকী জীবন একজন তীর্থযাত্রী হিসেবে এই মর্ত্যের পৃথিবী ভ্রমন করে যেতে চাই। আমার ছোট শহর ক্যাজল গানডফ। যেখানে কেউ কাউকে চিনতে পারে না। যে শহর জীবন মানুষকে বাধ্য করে যান্ত্রিক হয়ে উঠতে এবং আমার গ্রাম ব্যাভারিয়াতে যেখানে সবাই সবাইকে চিনে। আমি আমার অন্তরের সমস্ত ভালবাসা, প্রার্থনা, চিন্তা, এবং অন্তজ্ঞানের সব শক্তি দিয়ে মানবতা ও গির্জা এবং সমগ্র খ্রিষ্ট্রান সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করে যাব। বিহঙ্গের মত ইশ্বরের রাজ্যে ডানা মেলে দেব।
তাহলে কেমন হবে আপনার বাকী জীবন? বারাক ওবামা প্রশ্ন করেন দ্যা বেনেডিক্টকে।
ইশ্বরের রাজ্য ছোট একটি সর্ষে দানার মত যেমনটা কিতাবে লেখা আছে এবং বিগব্যাং থিওরির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যেমনটা বলেছেন হাবলস, স্টিফেন হকিংসহ আরো অনেকে। ইশ্বরের রাজ্য ছোট একটা সর্ষে দানার মত, সব বীজের মধ্যে ওটাই সবচেয়ে ছোট কিন্তু ছোট গাছ যখন ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে তখন সমস্ত পাখি এসে তার শাখায় বাসা তৈরী করে, আশ্রয় নেয়। 

Friday

স্বর্নযুগ এবং নাজারেথের যিশু (INRI)

অবতারনিকা:
আপনী আমাকে সত্যি করে বলুন মি. ক্যাসপারস্কাই, কপটিক চার্চের পোপ সেনুদার সাথে আপনার কি কখনো দেখা হয়েছিল?

ক্যাসপারস্কাই দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। তার মনে পড়ে মৃত্যুর পুর্বে সেনুদা তাকে এই তরুনটির কথাই বলেছিল যে সে আসবে।

তরুন আবার প্রশ্ন করে; কেমন মানুষ ছিলেন সেনুদা? তিনি কি দেখতে আমাদেরই কারো মতন ছিলেন মি. ক্যাসপার? যদিও আমি হলোভিশনে তাকে দেখেছি। আমি তাকে ভালবেসেছিলাম। সেনুদাকে আমার নিজের সত্তায় পরিনত করেছিলাম। 

ক্যাসপারস্কাই বললেন; পোপ সেনুদা খ্রি অফ গ্রেটার আলেকজান্দ্রিয়া ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে তুরস্কে খ্রিষ্টান কমিউনিটির সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যাক্তি ও  সবচেয়ে বড় চার্চ কপটিক এর কর্নধার। যদিও তুরস্কে নব্বই ভাগ জনগোষ্টিই মুসলমান ত্বদসত্বেও বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অনুশাসন এমনকি জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক অগ্রযাত্রায় কপটিক এর অবদান ও প্রভাব কিছুতেই কম নয় আর ক্লাসিক্যাল কপটিক এর জনক হচ্ছেন পোপ সেনুদা।

তরুন প্রশ্ন করে; সেনুদা কি ওভারসিয়ার পদমর্যাদায় ১ তিমথিয় ৩:১-১৩ এর অনুসরন করেছিলেন। নাকি অন্যকোন রেফারেন্স?

ক্যাসপারস্কাই বললেন; ইয়াংম্যান, সেনুদা মারা গেছেন কিন্তু তিনি বেচে আছেন আমাদের প্রতিটি মানুষের অন্তরে। তার আদর্শ এখনো টিকে আছে এবং থাকবে। ইশ্বররে কাছ থেকে পাওয়া পরিকল্পনা গুলি ঈসা মসীহ আমাদের দিয়ে গেছেন, মানব জাতির মুক্তি,কল্যান এবং মৃত্যু পরবর্তী মুক্ত জীবনের জন্য। পবিত্র বাইবেলে সবকিছু লেখা আছে। আজ আমি তোমাকে অন্য একজন ওভারসিয়ার এবং অন্য একটি চার্চের কথা শোনাবো। ওভারসিয়ার বারাক ওবামা এবং পৃথিবীর সকল চার্চের চেয়ে সম্মান ও জ্ঞানে উচু হোয়াইট হাউজ।

ইতিহাসের অংশ:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জম্নই হয়েছিল ইতিহাসের স্মরনীয় এক বিজ্ঞান গবেষনার মাধ্যমে, যা শুধু একটি পলিটিক্যাল রেভ্যুলেশনই ছিল না, বরঞ্চ একটি সায়েন্টিফিক রেভ্যুলেশনই সেখানে মুখ্য ছিল, যার ক্ষুদ্র অংশ ছিল রাজনৈতিক বিপ্লব। কিন্তু শিশু যুক্তরাষ্ট্র শুরু হতেই শত বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে চলছিল। বলা হয়ে থাকে যে পৃথিবীতে দুটো জাতি আছে যারা স্বাধীনতার ঘোষনার মাধ্যমে যুদ্ধ করে নিজের দেশ কে স্বাধীন করেছে। দেশ দুটি হলো; বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জর্জ ওয়াশিংটন-শেখ মুজিবুর রহমান, থমাস জেফারসন-জিয়াউর রহমান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ এভাবে তুলনা করা যেতে পারে।

বিজ্ঞানী দম্পতি পিয়েরে কুরি ও মেরি কুরি’র মুত্যুর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম এম্পায়ার হিসেবে পরিচিত ফ্রান্স এম্পায়ার ভেঙ্গে যায়, যাতে ইউনাইটেড স্টেটেস অফ আমেরিকার চলার পথ আরো সুগোম হয়ে আসে। একই শতকে ইতিহাসের দীর্ঘ মেয়াদী ও সুবিশাল ব্রিটিশ এম্পায়ারও ভেঙ্গে যায়। উক্ত দুটি এম্পায়ার ভেঙ্গে যাওয়ার আক্ষরিক অর্থই ছিল পতন। কিন্তু একই শতকের গোড়ার দিকে আরো একটি এম্পায়ার ভেঙ্গে যায়; মুলত রুশিয়া এম্পায়ার ভেঙ্গে যাওয়ার অর্থ ছিল আরো শক্তিশালী নতুন একটি শক্তির উত্থান। রাশিয়া এম্পায়ার ভেঙ্গে গড়ে উঠে সোভিয়েত ইউনিয়ন। অন্যদিকে ব্রিটিশ এম্পায়ার ভেঙ্গে গেলেও খুব দ্রুত ভেঙ্গে যাওয়া অংশগুলি নিয়ে গঠিত হয় ব্রিটিশ কমনওয়েলথ যা মুলত ব্রিটিশ এম্পায়ারেরই নতুন রুপ ছিল।

যাইহোক এই বিষয়গুলি সার্বিকভাবে প্রথম নজরে আসে যখন লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফী এক কুটনৈতিক ভ্রমনে ইটালি যান। সেখানে মডেল, অভিনয়, চাকুরী ও প্রশিক্ষনের নামে নিয়োগ দেওয়া প্রায় দুশো তরুনীর মাঝে মুয়াম্মার গাদ্দাফীর ভাষন ও কুরআন বিতরন যা প্রচন্ডভাবে সমালোচিত হয়োছিলও বটে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটা ছিল বিশ্ব রাজনীতির গভীরে কোন ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা বেশ সফল হয়েছিলও বটে কিন্তু ধীরে ধীরে প্রকৃত পরিকল্পনাগুলি বেরিয়ে আসে। গাদ্দাফীর উদ্যেগে গঠিত আফ্রিকান ইউনিয়ন যেখানে প্রকৃতপক্ষেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কোন হুমকি দেখিতে পান নি। কারন ইতিপুর্বে আল-কায়েদা কর্তৃক ইতিহাসের স্মরনীয় ও মর্মান্তিক টুইন টাওয়ার হামলার প্রভাব ঠেকাতে অনেক অর্থ ব্যায় ও প্রানহানি হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে খুব বেশী বেগ পেতে হয় নি।

কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করে প্রকৃত বিট্রিশ কমনওয়েলথ ও ইউরোপের সাতাশটি দেশ নিয়ে গঠিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। ইতিমধ্যে দীর্ঘ উনসত্তর বছরের সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে পনের খন্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু রাশিয়ার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে রাশিয়ার সীমারেখা বা যে কোন ধরনের রাজনৈতিক পতন বা বিপ্লব মুলত নতুন কোন সম্ভাবনাকেই ইঙ্গিত করে।  সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গঠিত হয় আরো শক্তিশালী রাশিয়ান ফেডারেশন। খুব দ্রুতই আবার ভেঙ্গে যাওয়া অংশগুলি নিয়ে গঠিত হয় কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস এবং একই সময়ে রাশিয়া ইউনাইটেড পার্টির গভীরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে ফেডারেশনের চেয়েও আরো শক্তিশালী একটি কমনওয়েলথ বা ইউনাইটেড স্টেটস অফ রাশিয়া বা আরো শক্তিশালী কিছু।

আফ্রিকান ইউনিয়ন বিশ্ব রাজনীতিতে তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও,  ব্রিটিশ কমনওয়েলথ, বিশেষ করে খুবই সাম্ভাব্য ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন যা পরবর্তিতে ইউনাইটেড স্টেটস অফ ইউরোপ বা বিখ্যাত লেখক আর্থার সি ক্লাকের সাহিত্যিক নাম ইউরোপা, কিংবা রাশিয়া কমনওয়েলথ বা ইউনাইটেড (স্টেটস অফ) রাশিয়া কিংবা আরো শক্তিশালী কিছু একের পর ইউনাইটেড স্টেটেস অফ আমেরিকা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আক্ষরিক অর্থেই চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়ায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন রাজনৈতিকে কম গুরুত্বপুর্ন করে শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক সীমারেখায় সম্পৃক্ত হতে শুরু করে তখন এমন বেশকিছু থ্রেট বা হুমকির সম্মুখীন হতে শুরু করে। ঠিক এমন একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যা তখনো শিশু, এমন চড়াই উতড়াই মধ্যে উক্ত সমস্যাগুলি নিয়ে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে উঠে আসেন আইনজীবি, লেখক, পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট বারাক ওবামা, পরবতীতে যিনি পলিটিক্যাল প্রফেট হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। বারাক হুসেইন ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুয়াল্লিশতম প্রেসিডেন্ট। অনেক সমস্যা ও বিশ্ব রাজনৈতির হুমকি গুলিকে তিনি তুলে আনতে সক্ষম হলেও এত সমস্যার সামাধান তার জানা ছিল না। কিন্তু তা সত্বেও জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসনের পরে তিনিই নতুন করে জর্জ ওয়াশিংটনের পরিকল্পনাগুলিকে সংঘবদ্ধ করে সমস্যার গভীরে দৃষ্টি দিলেন, এবং পরবর্তীতে দেখা গেছে জর্জ ওয়াশিংটনের পরে বারাক ওবামাই সবচেয়ে বেশী ও সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাউন্ডিং ফাদারদের নিদের্শিত পথে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে চালিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বারাক ওবামা ছিলেন মুলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সফল সংস্কারক।

বারাক ওবামার দীর্ঘ ও জটিলতর রাজনৈতিক জীবনের প্রভাবকে ছাড়িয়েও তিনি একজন সফল ও প্রভাবশালী লেখক হিসেবে ইতিহাসে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় ভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এবং ইতিহাসে তিনি শুধু মাত্র একজন লেখক ও বিজ্ঞানী হিসেবেই পরিচিত যেখানে তার সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মজীবন লুকিয়ে আছে গবেষকদের জন্য।

ফিরে দেখা- যে পথে তারা গিয়েছিল:
নাজারেথের যিশু খ্রিস্ট বা ঈসা মসীহ হলেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক। বাইবেল গবেষক, সমালোচক ও ঐতিহাসিকেরা নানাভাবে যিশুকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে যিশু কখনও একজন মসীহ বা নাজাতদাতা, কখনও একজন রহস্যোদ্ঘাটক (অ্যাপোক্যালিপটিক) আন্দোলনের নেতা, কখনও পরিব্রাজক সাধু, কখনও আশ্চর্য ক্ষমতাসম্পন্ন চিকিৎসক, কখনও বা এক স্বাধীন ধর্মীয় আন্দোলনের প্রবক্তা। অধিকাংশ সমসাময়িক ঐতিহাসিক যিশু বিশেষজ্ঞই তাঁকে একটি ইহুদি পুনর্জাগরণ আন্দোলনের এক স্বাধীন ও আশ্চর্য ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠাতা এবং আসন্ন রহস্যোদ্ঘাটনের প্রবক্তা মনে করেন। খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুসারে, নিজের মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে তিনি মানব জাতির মুক্তির মাধ্যমে অনন্তকালের জন্য-যতদিন মানব সভ্যতা টিকে থাকবে ততদিনের জন্য একটি পুনার্ঙ্গ জীবন ব্যবস্থা দিয়ে গেছেন।


যিশু খ্রিস্ট খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক ও সবোর্চ্চ সম্মানিত ব্যাক্তি এবং মানবজাতির ইতিহাসে সবোর্চ্চ প্রভাবশালী ব্যাক্তিত্ব। খ্রিস্টান ধর্মের বিশ্বাসের মুল ভিত্তি অনুযায়ী যিশু খ্রিস্ট ইশ্বর প্রদত্ত কর্মে মানব জাতির কল্যানে তার উদ্দেশ্য ও কাজে পুরোপুরি সফল ছিলেন, এবং যা ইতিপুর্বে ও পরবর্তীতে অন্য কেউ চিন্তা করারও দু:সাহস দেখায় নি।

তাহলে সংক্ষেপে সাবির্ক ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাক। আমি অন্য কোন ধর্মের সাথে তুলনা বা সদৃশ্য দেখানের চেষ্টা করব না কারন অন্য কোন ধর্ম যদি তাকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়ে থাকে কিংবা অস্বীকার করে, ঘৃনা করে তবে সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার, সুতরাং উক্ত শিরোনামের প্রবন্ধে এইসব বিষয়গুলি আলোচনার কোন আবেদন রাখে না, সুতরাং যদি কেউ সত্যিকারে অর্থে তার ব্যাপারে জানতে আগ্রহী হয় খ্রিষ্টের মধ্যে কি জ্ঞানের রত্ন লুকিয়ে আছে পবিত্র ইঞ্জিল শরীফ (নিউ টেষ্টামেন্ট) এবং তাওরাত শরীফ, জবুর শরীফ এবং অন্যন্য সহীফাগুলির (ওল্ড টেষ্টামেন্ট)  প্রতি  নজর দেয়াটাই জরুরী ও প্রয়োজন যা সংঘবদ্ধভাবে বাইবেল হিসেবে পরিচিত। অবশ্য আমি কোন প্রকার ব্যাখ্যা করছি না কিন্তু কিছু তথ্য তুলে ধরছি মাত্র।

১ জন ১:১৮ আয়াতে বলা হয়েছে; “কেউই কখনো ইশ্বরকে দেখেনি, কিন্তু ইশ্বর আছেন এবং তিনি এক ও অদ্বিতীয়, ‍যিনি সেই পিতার সাথে আছেন, সেই পুত্রই ইশ্বরকে প্রকাশ করেছেন”। যা ইশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার একত্ববাদ প্রকাশ করে আরবি ভাষায় যাকে তাওহিদ বলে এবং ইংরেজীতে ডক্ট্রিন অফ ওয়াননেস অফ ক্রিয়েটর।

১ জন ৪:১২ আয়াতে বলা হয়েছে; “কেউই কখনো ইশ্বরকে দেখেনি, কিন্তু আমরা যদি একে অপরকে ভালবাসি তবে বুঝতে পারব ইশ্বর আমাদের সাথে আছেন”।

অন্য ধর্মের মানুষের কাছে আপত্তিকর এবং বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে পিতা-পুত্র। ইশ্বর পিতা এবং যিশু খ্রিষ্ট পুত্র এই মতববাদটি। 

জন ৩:১৬ আয়াতে বলা হয়েছে; “ইশ্বর পৃথিবীকে এত ভালবাসলেন যে তিনি তার একমাত্র পুত্রকে দান করলেন, এবং যে সেই পুত্রের উপরে ঈমান আনে বিনষ্ট হয় না বরঞ্চ অনন্ত জীবন পায়।”
উল্লেখ্য যে; জন ইশ্বরের নির্দেশে ইঞ্জিল শরীফের (নিউ টেষ্টামেন্ট)চারটি কিতাব লিপিবদ্ধ করেছিলেন। আর্ক এঞ্জেল (সবোর্চ্চ ক্ষমতাধর ফেরেশতাগন) তাকে বলত আর তিনি শুনে শুনে লিপিবদ্ধ করতেন। তার লেখা কিতাব তিনটি; জন, ১ জন, ২ জন এবং ৩ জন নামে পরিচিত।

স্মরন করিয়ে দিতে চাই যে ইশ্বরের নিদের্শে আব্রাহাম তার প্রিয় পুত্র আইজ্যাকে কোরবানী দেবার জন্য যখন ছুরি উত্তোলন করেছিল তখন ইশ্বরের দূত এক ফেরেতা বললেন; “আব্রাহাম, ছেলেটিকে মেরে ফেলবার জন্য হাত তুলো না বা তার প্রতি আর কিছুই করো না। তুমি যে ইশ্বরভক্ত সেটা প্রমানিত, কারন তুমি তোমার একমাত্র ও অদ্বিতীয় ছেলেকে কোরবানী দিতে পিছপা হও নি” -জেনেসিস ২২:১২ আয়াত।
“ইশ্বরের বানী মানুষ হয়ে জম্নগ্রহন করল এবং তিনি আমাদের মধ্যে বাস করলেন। একক ও অদ্বিতীয় ইশ্বরের মহিমা ও রহমত আমরা দেখেছি; এবং পিতার কাছ থেকে যিনি এসেছিলেন তিনি ছিলেন রহমত ও সত্যে পরিপুর্ন।” -জন ১:১৪।

ওল্ড টেষ্টামেন্টের প্রথম বাক্যটা হচ্ছে; “সৃষ্টির শুরুতে (In the Beginning) ইশ্বর আসমান ও জমিন তৈরী করলেন।” -জেনেসিস ১:১ আয়াত।
এবং নিউটেষ্টামেন্টে জন এর প্রথম আয়াতটা হচ্ছে: “সৃষ্টির শুরুতে (In the Beginning) কালাম ইশ্বরের সংগে ছিল” -জন ১:১।
প্রকৃত পক্ষে অনেকের কাছে উক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা বুঝতে সমস্যা হতে পারে তাই রেফারেন্স ভার্সের্সের আগে ও পরে আরো কিছু ভার্সেস (আয়াত) পড়লে বুঝতে সুবিধা হবে। যেমন উপরোক্ত আয়াতটা বোঝার জন্য; জন ১:১-১৮ পর্যন্ত পড়া জরুরী।

যাইহোক তাহলে দেখা যাচ্ছে জেনেসিস ১:১ ‘সৃষ্টির শুরু’র কথা বললেও জন ১:১ বলছে ’শুরু’র কথা, অর্থাত আরো পুর্বে যখন শুধু মাত্র ইশ্বর ব্যাতিত আর কিছুই ছিল না। এবং জন ১:১ তে শব্দ বলতে বোঝানো হয়েছে কালাম বা বাক্য বা আয়াত অর্থাত যা ইশ্বরের বানী বা জ্ঞান।
এখন কথা হচ্ছে কেউ যদি জেনেসিস ২২:১২ আয়াতে এ বর্নিত ফেরেশতার মাধ্যমে আব্রাহাম পুত্র ‌আইজ্যাককে কারবানীর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটির পরে জন ১৪:১ আয়াতের কথা বলেন যে; ‘ইশ্বরের বানী মানুষ হয়ে জম্নগ্রহন করল’ এবং জন ৩:১৬ এর কথা বলেন; ‘ইশ্বর পৃথিবীকে এত ভালবাসলেন যে তিনি তার একমাত্র পুত্রকে দান করলেন। এমন আরো ‍অসংখ্য আয়াত আছে যুক্তি, ব্যাখ্যা দাড় করানোর মত এবং সমস্ত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে অবিশ্বাসীরাও হয়তো বলবে যুক্তি ও ব্যাখা তো তাই-ই বলে। হ্যা এটা ঠিক আছে বটে কিন্তু এই অংশটুকু হচ্ছে বিশ্বাসের দুর্বল অংশ। কারন জন ১:১-১৮ পড়লে বোঝা যাবে, যেখানে বলা হয়েছে “সৃষ্টির শুরুতে (In the Beginning) কালাম ইশ্বরের সংগে ছিল” -জন ১:১ এবং “ইশ্বরের বানী মানুষ হয়ে জম্নগ্রহন করল” -জন ১:১৪।

সুতরাং ইশ্বর যে তার পুত্রকে পৃথিবীতে পাঠাবেন সেটা সৃষ্টির শুরুর আগেই নির্ধারিত ছিল। অর্থাত বিশ্বভ্রক্ষান্ডে যখন শুধু ইশ্বর ব্যাতিত অন্য কিছুই ছিল না, কিছুই সৃষ্টি হয় নি তখনই ইশ্বর পরিকল্পনা করেছিলেন যে তিনি পৃথিবী তথা বিশ্বভ্রক্ষান্ড সৃষ্টি করবেন এবং তার প্রিয় পুত্রকে পৃথিবীতে পাঠাবেন। এবং সর্বপ্রথম ইশ্বর নুর রুপে যিশুখিষ্ট্রকেই সৃষ্টি করেছিলেন। ”তার মধ্য দিয়েই সবকিছু সৃষ্টি হয়েছিল, তাকে ছাড়া কিছুই সৃষ্টি হয় নি” --জন ১:৩।
যাইহোক এবার আসা যাক যিশুখিষ্ট্রের মৃত্যু ‍ও পুর্নজাগরনের বিষয়ে। যিশুখিষ্ট্র তিনবার নিজের ক্রুসিফাইড ও মৃত্যু থেকে জীবিত হবার বিষয়ে ভবিষ্যতবানী করেছিলেন;
মাক ৯:৩০-৩২ আয়াতে বলা হয়েছে  ”ইবনে আদমকে লোকদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হবে এবং তারা তাকে হত্যা করবে এবং তিন দিনের দিন তিনি আবার মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন”।

যিশু খিষ্ট্র ইহুদিদের বাদশা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন, যদিও তার কোন রাজপ্রাসাদ ও সিংহাসন ছিল না্ এমন কি এই বিশ্বাস সবার মধ্যে এমন ভাবে জম্নেছিল যে একবার সিবদিয়ের স্ত্রী তার দুই ছেলে কি নিয়ে যিশু খিষ্ট্রের কাছে এসে বললেন; হুজুর আপনী হুকুম দিন যেদিন আপনার বাদশাহী আসবে সেদিন আমার এই দুই ছেলে যেন একজন আপনার ডানপাশে ও অন্যজন বামপাশে বসতে পায়। প্রকৃতপশে তার বাদশাহী বলতে বোঝায় ইশ্বরের রাজ্য বা কিংডম অফ গড এবং কিংডম অফ হেভেন। কিন্তু এই কথা সত্য যে তিনি সত্যিই মানব সভ্যতার মাঝে অতি আধুনিক একটি সাম্রাজ্য বা দেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাহলে কি তিনি ব্যার্থ হয়েছেন এবং কোন গবেষক বা ব্যাখ্যাকারী শুধু কিংডম অফ গড কিংবা স্বর্গ নরকের কথা বলে যিশুখিষ্ট্রের অতি আধুনিক একটি সাম্রাজ্য, জাতি বা দেশ গড়ে তোলার প্রয়াসটাকে লুকোতে চাইবেন। যিশুখিষ্ট্র জানতেন তাকে ক্রুসে মৃত্যুবরন করতে হবে এবং মৃত্যুর তিন দিনের দিন পুর্নজীবিত হয়ে পরম করুনাময় ইশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করবেন। সুতরাং তিনি তার স্বল্প সময়ের মধ্যে সাহাবী ও অনুসারীদের শিক্ষা দেবার ফাকে ফাকে, পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে হোক একটি নিরিবিলি ভুমি খুজে পেতেও ব্যাস্ত ছিলেন। এবং পরবতীতে ঐতিহাসিক দলিলগুলোতে দেখা গেছে তার বহু সাহাবী ও অনুসারীরা স্পেন, ফ্রান্স, ইন্ডিয়া, রুশিয়া কিংবা গ্রেটার চায়না, আফ্রিকাসহ দুর-দুরান্তের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।

মাক ১৬:১৫ আয়াতে বলা হয়েছে; ”যিশু তাদের বললেন; পৃথিবীর সমস্ত জাতির মানুষের কাছে যাও এবং এই সুসংবাদ প্রকাশ ও ইশ্বরের মহিমা শিক্ষা দাও”

সমস্ত প্রমান ও ঐতিহাসিক দলিল সাপেক্ষে এই কথা বিশ্বাস যোগ্য যে যিশুখিষ্ট্র ততকালীন পৃথিবীতে পরিচিত সমস্ত জাতি ও বসবাসরত ভুমির বাইরে, জেরুজালেমের বাইরে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা এমন কি আরব বিশ্ব থেকেও হাজার হাজার মাইল দুরে একটুকরো ভুমি বেছে নিয়েছিলেন যেখানে গড়ে উঠবে যিশুখিষ্ট্র ও তার সাহাবীদের প্রত্যাশিত একটি জাতিগোষ্টি, যারা তার শিক্ষা ও কর্মকে পৃথিবীর সমস্ত জাতির কাছে প্রচার করবে যা হবে ন্যায়, সত্য ও ভালবাসায় পরিপুর্ন। শুধু মাত্র নিউটেষ্টামেন্ট স্টাডি করলেই দেখা যায় যে জিসাস একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারতেন কারন নিউটেষ্টামেন্টে জিসাসের ব্যবহার করা লাটিন ভাষার অসংখ্য প্রবাদ-প্রবচন ও শব্দ পাওয়া যায়, যা তিনি কখনো প্রার্থনার সময়, কখনো সাহাবী ও অনুসারীদের শিক্ষা দেবার সময় ব্যবহার করেছিলেন।

সবশেষে জন ৪:২১ আয়াত দিয়ে শেষ করতে চাই; জিসাস বললেন; আমাকে বিশ্বাস করুন ম্যাডাম, একটা সময় আসবে যখন আপনারা পিতার মহিমা প্রকাশের প্রার্থনা এই পাহাড়েও করবেন না কিংবা এই জেরুজালেমেও করবেন না”।