Monday

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (২৮ এপ্রিল ২০১৩ ইং)

(১). কমনওয়েলথ অফ ম্যাসাচুসেট্‌স

হে সদাপ্রভু, আমি তোমার গৌরব করব, কারণ তুমিই আমাকে উঠিয়ে এনেছ; আমার শত্রুদের তুমি আমার বিরুদ্ধে আনন্দ করতে দাও নি। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, সাহায্যের জন্য আমি তোমাকে ডেকেছিলাম আর তুমি আমাকে সুস্থ করে তুলেছ। হে সদাপ্রভু, তুমি আমাকে মৃতস্থান থেকে তুলে এনেছ; তুমিই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছ যেন সেই গর্তে আমাকে নেমে যেতে না হয়। হে সদাপ্রভুর ভক্তেরা, তোমরা তাঁর উদ্দেশে গান গাও, তাঁর পবিত্রতার গৌরব কর; কারণ তাঁর ক্রোধ বেশীক্ষণ থাকে না; তাঁর দয়ায় জীবন পাওয়া যায়। কেবল রাতটুকু কাটে কানড়বায়, কিন্তু ভোর বেলাতেই আসে আনন্দ। সুখের দিনে আমি বলেছিলাম, কেউ আমাকে নাড়াতে পারবে না। হে সদাপ্রভু, তুমি দয়া দিয়ে আমার রাজ্য অটল রেখেছ, কিন্তু যখন তুমি মুখ ফিরালে তখন আমি ভীষণ ভয় পেলাম। হে সদাপ্রভু, তোমাকেই আমি ডেকেছিলাম; আমার প্রভুর কাছে আমি মিনতি করে বলেছিলাম,  “আমার মরণে কিম্বা মৃতস্থানে যাওয়াতে কি লাভ? ধুলা কি তোমার গৌরব করবে কিম্বা তোমার বিশ্বস্ততা প্রচার করবে? হে সদাপ্রভু, শোন, আমার প্রতি দয়া কর; হে সদাপ্রভু, তুমি আমাকে সাহায্য কর।” শোক প্রকাশের অনুষ্ঠান থেকে তুমি আমাকে নাচের উৎসবে এনেছ; শোকের চট খুলে নিয়ে তুমি আমাকে আনন্দের সাজ পরিয়েছ, যাতে আমার অন্তর নীরব না থাকে বরং তোমার উদ্দেশে গান করে। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি চিরকাল তোমাকে ধন্যবাদ দেব। -(গীতসংহিতা ৩০:১-১২)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। জয় যীশু। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে এখানে আবার প্রচার করার সুযোগ দিয়েছেন। দীর্ঘ তের বছর পর আমি আবার এই চার্চে প্রচার করছি। তের বছর আগে আমি এই চার্চের পালক ছিলাম। অল্প কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছি। আমি থাকি আমেরিকার বোস্টনের ম্যাসাচুসেটস শহরে। বোস্টন শহর যেখানে কিছুদিন আগে বোমা ফাটল সেখান থেকে আমার বাসা মাত্র পাচ কিলোমিটার দুরে। ইন্টারন্যাশনাল চার্চ কমিটিতে আমি কাজ করি। আমরা মুলত এশিয়ানদের মধ্যে প্রচার করে থাকি। যাই হোক আমি মুলত আজকে প্রচার করতে আসি নি, অনেকদিন পর বাংলাদেশে এলাম তাই কিছু কথা বলার জন্য স্টেজে এসেছি। আমি যিশাইয়া চুয়ান্ন অধ্যায়ের দ্বিতীয় পদ পাঠ করছি; তোমার তাম্বুর জায়গা আরো বাড়াও, তোমার তাম্বুর পর্দা আরো চওড়া করো, কৃপনতা করো না। তোমার তাম্বুর দড়িগুলি লম্বা কর আর গোজাগুলি শক্ত কর। যীশু খ্রিষ্টের প্রায় তিন হাজার বছর আগে যিশাইয়া নবী এসেছিলেন। আমরা সবাই জানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি খ্রিষ্টান দেশ কিন্তু আমি যখন সেখানে গেলাম দেখলাম আগের আমেরিকা এখন আর নেই। সেটা এখন পরিনত হয়েছে সেক্যুলার রাষ্ট্রে। আমিরিকায় একমাত্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাই প্রায় নিয়মিত গির্জায় যায়। আমি যেখানে থাকি সেই বোষ্টন শহর- এক সময় সেটা ছিল আমেরিকার খ্রিষ্টান বিশ্বসীদের হার্ট কিন্তু এখন সেখানে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ ধর্মকর্ম পালন করে। আমেরিকায় এখন আট মিলিয়ন মুসলিম জনগোষ্ঠি রয়েছে, হিন্দু রয়েছে প্রায় সাত মিলিয়ন আর বৌদ্ধ বিশ্বাসীদের সংখ্যা প্রায় পাচ মিলিয়ন। আর ইসলাম ধর্ম হচ্ছে সেখানে সবচেয়ে বেশী সম্পসারিত ধর্ম। বোষ্টনে ছোট-বড় প্রায় ত্রিশটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীসহ সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রায় পচাত্তর হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করছে। কিন্তু খ্রিষ্টান বিশ্বাসী ছাত্রদের মাঝে ধর্ম-কর্ম পালনের আগ্রহ দেখা যায় না। ম্যাসাচুসেটস শহরে পৃথিবীর বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হাভার্ড ইউনিভাসিটি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থিওলজির উপরে উচ্চতর শিক্ষা দেওয়া হয়, আমিও সেখানে ছাত্রদের পড়াই। কিন্তু আজকের আমেরিকা সেক্যুলার হয়ে গেছে। উইলিয়াম ক্যারি যখন এই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচারের জন্য আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন তখন বাইবেল সোসাইটি তাকে তাচ্ছিল্য করেছিল; তুমি ওই দেশের ভাষা, কৃষ্টি-কালচার সর্ম্পকে কিছুই জান না, কিভাবে প্রচার করবে? তাকে মাত্র চৌদ্দ পাউন্ড দুই শিলিং অর্থ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলা-ভাষাভাষী জনগোষ্টির মাঝে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারে তিনি অনেক অবদান রেখে গেছেন। আজকে আমরা যে বাইবেল বাংলা অনুবাদ পড়ছি সর্বপ্রথম তিনিই এটার অনুবাদ করেন। আমি অল্প কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছি, দীর্ঘদিন পরে এই চার্চে এসে আমার অতীত দিনগুলির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে যখন আমি এখানের পালক ছিলাম। আমি আর একসপ্তাহ থাকব তারপর আবার চলে যাব আমেরিকা। সবাই আমার জন্য প্রার্থনা করবেন।

 
স্পিকার: রেভারেন্ড পৌল সুলিল বিশ্বাস
পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল চার্চ কমিটি 

বোস্টন, কমনওয়েলথ অফ ম্যাসাচুসেট্‌স, ইউএসএ
শিক্ষক, হাভার্ড ডিভাইনিটি স্কুল, হাভার্ড ইউনিভার্সিটি।

 

(২). খ্রিস্টান কলেজ অফ থিওলজি বাংলাদেশ

সপ্তার প্রথম দিনের ভোর বেলায়, অন্ধকার থাকতেই মগ্‌দলীনী মরিয়ম সেই কবরের কাছে গেলেন। তিনি দেখলেন, কবরের মুখ থেকে পাথরখানা সরানো হয়েছে। সেইজন্য তিনি শিমোন-পিতর আর যে শিষ্যকে যীশু ভালবাসতেন সেই শিষ্যের কাছে দৌড়ে গিয়ে বললেন, “লোকেরা প্রভুকে কবর থেকে নিয়ে গেছে। তাঁকে কোথায় রেখেছে আমরা তা জানি না।” পিতর আর সেই অন্য শিষ্যটি তখন বের হয়ে কবরের দিকে যেতে লাগলেন। দু’জন একসংগে দৌড়াচ্ছিলেন। অন্য শিষ্যটি পিতরের আগে আগে আরও তাড়াতাড়ি দৌড়ে প্রথমে কবরের কাছে আসলেন, কিন্তু তিনি কবরের ভিতরে গেলেন না। তিনি নীচু হয়ে দেখলেন, যীশুর দেহে যে কাপড়গুলো জড়ানো হয়েছিল সেগুলো পড়ে আছে। শিমোন-পিতরও তাঁর পিছনে পিছনে এসে কবরের ভিতরে ঢুকলেন এবং কাপড়গুলো পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি আরও দেখলেন, তাঁর মাথায় যে রুমালখানা জড়ানো ছিল তা অন্য কাপড়ের সংগে নেই, কিন্তু আলাদা করে এক জায়গায় গুটিয়ে রাখা হয়েছে। যে শিষ্য প্রথমে কবরের কাছে পৌঁছেছিলেন তিনিও তখন ভিতরে ঢুকলেন এবং দেখে বিশ্বাস করলেন। মৃত্যু থেকে যীশুর জীবিত হয়ে উঠবার যে দরকার আছে, পবিত্র শাস্ত্রের সেই কথা তাঁরা আগে বুঝতে পারেন নি। প্রভু যীশু মরিয়মকে দেখা দিলেন ।  এর পরে শিষ্যেরা ঘরে ফিরে গেলেন, কিন্তু মরিয়ম কবরের বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে নীচু হয়ে কবরের ভিতরে চেয়ে দেখলেন, যীশুর দেহ যেখানে শোওয়ানো ছিল সেখানে সাদা কাপড় পরা দু’জন স্বর্গদূত বসে আছেন-একজন মাথার দিকে আর অন্যজন পায়ের দিকে। তাঁরা মরিয়মকে বললেন, “কাঁদছ কেন?” মরিয়ম তাঁদের বললেন, “লোকেরা আমার প্রভুকে নিয়ে গেছে এবং তাঁকে কোথায় রেখেছে জানি না।” এই কথা বলে মরিয়ম পিছনে ফিরে দেখলেন যীশু দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তিনি যে যীশু তা বুঝতে পারলেন না। যীশু তাঁকে বললেন, “কাঁদছ কেন? কাকে খুঁজছ?” যীশুকে বাগানের মালী ভেবে মরিয়ম বললেন, “দেখুন, আপনি যদি তাঁকে নিয়ে গিয়ে থাকেন তবে বলুন কোথায় রেখেছেন। আমিই তাঁকে নিয়ে যাব।” যীশু তাঁকে বললেন, “মরিয়ম।” তাতে মরিয়ম ফিরে দাঁড়িয়ে অরামীয় ভাষায় যীশুকে বললেন, “রব্বুনি।” রব্বুনি মানে গুরু। যীশু মরিয়মকে বললেন, “আমাকে ধরে রেখো না, কারণ আমি এখনও উপরে পিতার কাছে যাই নি। তুমি বরং ভাইদের কাছে গিয়ে বল, যিনি আমার ও তোমাদের পিতা, যিনি আমার ও তোমাদের ঈশ্বর, আমি উপরে তাঁর কাছে যাচ্ছি।” তখন মগ্‌দলীনী মরিয়ম শিষ্যদের কাছে গিয়ে সংবাদ দিলেন, তিনি প্রভুকে দেখেছেন আর প্রভুই তাঁকে এই সব কথা বলেছেন। প্রভু যীশু শিষ্যদের দেখা দিলেন। সেই একই দিনে, সপ্তার প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় শিষ্যেরা যিহূদী নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। তখন যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” এই কথা বলে তিনি তাঁর দুই হাত ও পাঁজরের দিকটা তাঁর শিষ্যদের দেখালেন। প্রভুকে দেখতে পেয়ে শিষ্যেরা খুব আনন্দিত হলেন। পরে যীশু আবার তাঁদের বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক। পিতা যেমন আমাকে পাঠিয়েছেন আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি।” এই কথা বলে তিনি শিষ্যদের উপর ফুঁ দিয়ে বললেন, “পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ কর। তোমরা যদি কারও পাপ ক্ষমা কর তবে তার পাপ ক্ষমা করা হবে, আর যদি কারও পাপ ক্ষমা না কর তবে তার পাপ ক্ষমা করা হবে না।” অবিশ্বাসী থোমার বিশ্বাস যীশু যখন এসেছিলেন তখন থোমা নামে সেই বারোজন শিষ্যদের মধ্যে একজন তাঁদের সংগে ছিলেন না। এই থোমাকে যমজ বলা হত। অন্য শিষ্যেরা পরে থোমাকে বললেন, “আমরা প্রভুকে দেখেছি।” থোমা তাঁদের বললেন, “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” এর এক সপ্তা পরে শিষ্যেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাঁদের সংগে ছিলেন। যদিও সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল তবুও যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” পরে তিনি থোমাকে বললেন, “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” যীশু তাঁকে বললেন, “থোমা, তুমি কি আমাকে দেখেছ বলে বিশ্বাস করছ? যারা না দেখে বিশ্বাস করে তারা ধন্য।” যীশু শিষ্যদের সামনে চিহ্ন হিসাবে আরও অনেক আশ্চর্য কাজ করেছিলেন; সেগুলো এই বইয়ে লেখা হয় নি। -(যোহন ২০:১-৩০)

ইম্মানুয়েল। জয় যীশু। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে এখানে বলার সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের সবাইকে সুস্থ রেখেছেন এবং তার মন্দিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমেন। আমি সিসিটিবি’তে মাস্টার্স অফ থিওলজি কোর্স করছি। আজ রবিবার, ক্যালেন্ডার মতে আজ সপ্তাহের প্রথম দিন- বিশ্রামবার, এটা যীশু খ্রিষ্টের দিন। ইশ্বরের উপাসনার দিন। এই দিনে বলা উচিত নয় আমার কাজ আছে, আমি গির্জায় যেতে পারব না। আমি যোহন লিখিত সুসমাচারের বিশ অধ্যায়ের এক, উনিশ এবং ছাব্বিশ পদ পাঠ করছি। সেখানে বলা হয়েছে; সপ্তাহের প্রথম দিনের ভোর বেলায়, অন্ধকার থাকতেই মগদলীনী মরিয়ম সেই কবরের কাছে গেলেন। তিনি দেখলেন কবরের মুখের পাথরখানা সরানো হয়েছে। সেই একই দিনে, সপ্তাহের প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় যীশু খ্রিস্টের শিষ্যরা যিহুদী নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। এক সপ্তাহ পরে উম্মতেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাদের সাথে ছিলেন। আমেন। সপ্তাহের প্রথমদিনকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যখন ইসরাইল সহ পুরো মানব সভ্যতা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, মানবজাতির সেই অন্ধকার সময়ে, মানবজাতির সেই ক্রান্তিলগ্নে যীশুখ্রিষ্ট মর্ত্যের পৃথিবীতে আসলেন মুক্তির বারতা নিয়ে। আমাদের মুক্তির জন্য, মানবজাতির মুক্তির জন্য তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরন করলেন। তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরন করলেন মানব জাতিকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। যীশুখিস্টের সমসাময়িক সময়ে ইহুদী ও ফরীশিরা একহাজার পাচশচ একুশটি আইন তৈরী করেছিল যে বিশ্রামবারে এই আইনগুলি ভংগ করা যাবে না, কিন্তু যীশু খ্রিষ্ট সেই সমস্ত আইন ভাংলেন। তিনি বললেন; এই বিশ্রামবারে অসুস্থকে সুস্থ করা যাবে, মানুষের সেবা করা যাবে, অসহায়কে সাহায্য করা যাবে। যীশু খ্রিষ্ট বলেছেন; হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোকসকল, তোমরা আমার নিকটে আস, আমিই তোমাদের বিশ্রাম দেব। মথি ছয় অধ্যায়ের তেত্রিশ পদে বলা হয়েছে; কিন্তু তোমরা প্রথমে ইশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে ও তার ইচ্ছামত চলবার বিষয়ে ব্যাস্ত হও। তাহলে ঐ সব জিনিসও তোমরা পাবে। কালকের বিষয় চিন্তা করো না। আমেন। আমার ছোট বেলার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল তখন আমার বয়স দশ-বার বছর হবে। উনিশো আটাশির বন্যায় সারা দেশের অনেকাং তলিয়ে গেল। আমাদের গ্রামে আমার বাবার চাষ করা দুই থেকে তিন বিঘা জমির পাকা ধানও একদিন পানির নিচে তলিয়ে গেল্ সেদিন ছিল সপ্তাহের প্রথমদিন রবিবার। প্রতিবেশীরা সবাই বলল, তাড়াতাড়ি লোকবল নিয়ে যাও, জমির ধান কেটে আন। আমার বাবা বললেন, আজ রবিবার, আমাকে মন্দিরে যীশুর ঘরে যেতে হবে। যীশু যদি আমার ধান রক্ষা করতে চান তবে সেটা রক্ষা হবে। তাছাড়া পানিতে তলিয়ে যাওয়া দুই থেকে তিন বিঘা জমির ধান একদিনে কাটাও সম্ভব ছিল না। কিন্তু ইশ্বরের আর্শীবাদে পরদিন জমিতে গিয়ে দেখি ধান এক বিঘত পরিমান পানির উপরে উঠে গেছে। আমেন। প্রথম করিয়ান্থিয় ষোল অধ্যায়ের দ্বিতীয় পদে বলা হয়েছে; তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের আয় অনুসারে সপ্তাহের প্রথম দিনে কিছু তুলে জমা করে রেখ, যেন আমি আসলে চাদা তুলতে না হয়। এখানে গিজার্য় দানের বিষয়ে বলা হয়েছ্ আমরা অনেকে এক টাকা-দুই টাকা দান হিসেবে দেই। এই অভ্যেস আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। মথি আঠারো অধ্যায়ের আঠারো পদে বলা হয়েছে; আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা দুনিয়াতে যা বাধবে তা স্বর্গেও বেধে রাখা হবে। আর যা খুলবে তা স্বর্গেও খুলে দেওয়া হবে। আমেন। প্রকাশিত বাক্য প্রথম অধ্যায়ের নয় ও দশ পদে বলা হয়েছে; যীশু খ্রিষ্টের সংগে যুক্ত হয়ে আমি তোমাদের সংগে একই কষ্ট, একই রাজ্য এবং একই ধৈর্যের ভাগী হয়েছি। ইশ্বরের বাক্য ও যীশু খ্রিষ্টের সাক্ষি প্রচার করেছিলাম বলে আমাকে পাটম দ্বীপে রাখা হয়েছিল। প্রভুর দিন এক রবিবারে আমি বিশেষভাবে পবিত্র আত্মার বশে ছিলাম। আমেন। এই রবিবার প্রভু যীশু খ্রিষ্টের দিন। এই রবিবারেই প্রভু যীশুখ্রিষ্ট একাধিকবার তার শিষ্যদের মাঝে দেখা দিয়েছিলেন। আমেন। আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় যখন আমি ক্লাস টু’তে পড়ি তখন আইসক্রিম ওয়ালার সুর করে গাওয়া গানের কলি; ভাল আছি, ভাল থেকো। আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো। দাদু আমার কাছে শুনতে চাইতেন আইসক্রিম ওয়ালা সুর করে গ্রামরে মেঠো পথ ধরে কী গান গেয়ে যাচ্ছে। আমি একদিন দাদুকে শুনালাম। আমি অবাক হলাম বুড়ো দাদু এই গানে এখনো যৌবনের আবেগ খুজে পান? দাদুকে জিজ্ঞেস করতে দাদু আমাকে বলল; এই গানের মানে তুই কি বুঝবি। আমি যখন ক্ষেতের আইলে বসে হুক্কা টানি আর আইসক্রিম ওয়ালার গাওয়া গান স্মরন করি তখন ইশ্বরের ডান পার্শ্বে বসে থাকা প্রভু যীশু খ্রিষ্টের সাথে আমার এক ধরনের যোগাযোগ অনুভব করি। আমেন। জয় যীশু। সবাইকে ইম্মানুয়েল।

 
স্পিকার: আইজ্যাক দিপ্তী হালদার
মাস্টার্স অফ থিওলজি
খ্রিস্টান কলেজ অফ থিওলজি বাংলাদেশ (সিসিটিবি)।

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (২১ এপ্রিল ২০১৩ ইং)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। সবাইকে খ্রীষ্টিয় প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকে আমি যে গুরুত্বপুর্ন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হল আমাদের রাজা-রাজাধিরাজ যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দূতদের সম্মান ও অধিকার বিষয়ে। এই পার্থিব জগতের কোন দেশের রাষ্ট্র নায়কের দূতের সম্মান-প্রতিপত্তি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু রাজাধিরাজ যীশু খ্রিষ্টের দুত যারা হতে চায় তাদের অবস্থান কোথায়? একজন রাষ্ট্র নায়কের দুত হওয়া বিশাল সম্মান ও গৌরবের বিষয় কিন্তু তার চেয়ে গৌরব ও সম্মানের জাগয়া হল যীশু খ্রিষ্টের দুত হওয়া। মথি লিখিত সুসমাচারের পাচ অধ্যায়ের বিশ নম্বর পদে বলা হয়েছে; সেইজন্য আমরা যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দুত হিসেবে তার হয়ে কথা বলছি। আসলে ইশ্বর নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করেছেন। তাই যীশু খ্রিষ্টের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, তোমরা ইশ্বরের সংগে মিলিত হও। যারা ইশ্বরের সুসংবাদ প্রচার করে তারাই যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দুত। কিন্তু এই দুতদের অনেক কষ্টও ভোগ করতে হতে পারে। কারন প্রচার করা সহজ কাজ নয়। যারা প্রচার করে তারা ইশ্বরের মনোনিত দাস। প্রেরিত নয় অধ্যায়ের ষোল পদে বলা হয়েছে; আমার জন্য কত কষ্ট যে তাকে পেতে হবে আমি সেটা তাকে দেখাব। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন যারা প্রচার করে সেই সব ব্যাক্তিরা, গির্জার প্যাস্টর, প্রিস্ট তারা যেন কষ্টে না থাকে। একজন প্যাস্টর মাস শেষে যে বেতন পায় সেই বেতন দিয়ে তার পরিবার, সন্তানদের ভরন পোষন, শিক্ষাসহ সমস্ত খরচ চালায়। সে যদি কোন দোকান থেকে বাকি করে থাকে আর মাস শেষে বাকীর টাকা পরিশোধ করতে না পারে তবে কি দোকানদার তাকে বলবে না; ওই মিয়া তুমি মিথ্যেবাদী, ঠিক মতো টাকা পরিশোধ করো না। তখন তার অন্তর ভেঙ্গে যাবে। সে ইশ্বরের কাছে অভিযোগ জানাবে; হে ইশ্বর আমি তোমার সুসংবাদ প্রচার করতে গিয়ে অপমান হয়েছি, মানুষ আমাকে মিথ্যেবাদী বলছে এবং আমি সত্যিই আমার কথা রাখতে পারছি না। প্রথম তিমথীয় পাচ অধ্যায়ের আঠারো পদে বলা হয়েছে; পাক কিতাবে আছে, শস্য মাড়াই করবার সময় বলদের মুখে জালতি বেধ না। আরো লেখা আছে, যে কাজ করে সে বেতন পাবার যোগ্য। বাইবেলের আরো বেশ কয়েকবার এই কথা বলা হয়েছে। মথি দশ অধ্যায়ের দশ পদে বলা হয়েছে, যে কাজ করে সে খাওয়া-পরা পাবার যোগ্য। লুক দশ অধ্যায়ের পাচ পদে বলা হয়েছে, তোমরা যে বাড়ীতে যাবে প্রথবে বলবে, এই বাড়ীতে শান্তি হোক। লুক দশ অধ্যায়ের সাত পদে বলা হয়েছে, কারন যে কাজ করে সে বেতন পাবার যোগ্য। এভাবে অসংখ্যবার স্মরন করিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম করিন্থিয়ান নয় অধ্যায়ের নয় পদে বলা হয়েছে, শস্য মাড়াই করবার সময়ে বদলের মুখে জালতি বেধ না। প্রথম করিন্থিয়ান নয় অধ্যায়ের দশ পদে বলা হয়েছে, কারন যে চাষ করে এবং শস্য মাড়াই করে, ফসলের ভাগ পাবার আশা নিয়েই তা করা উচিত। আরো বলা হয়েছে তুমি যদি কারো বাড়ীতে পাওনা আদায়ের জন্য যাও তবে সেই বাড়িতে তোমার পায়ের ধুলা রেখে এসো কারন শেষ বিচারের দিনে এই ধুলা তোমার হয়ে সাক্ষ্য দেবে। লেবীয় উনিশ অধ্যায়ের তের পদে বলা হয়েছে, মজুরের দিনের পাওনা দিনেই দিয়ে দিতে হবে, তা সকাল অব্দি আটকে রাখা চলবে না। সুতরাং আমাদের সকলের বিশেষ করে গির্জার মন্ডলী যারা আছেন তাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন, প্যাস্টর, সেবাকারীগন অর্থ কষ্টে না ভোগেন। তারা তাদের মনের অজান্তেও কখনো যেন ইশ্বরের কাছে নালিশ না করে যে, হে প্রভু, আমি তোমার রাজ্যের জন্য কাজ করেছি অথচ আমি আহার হতে বঞ্চিত হয়েছি, আমি নিদ্রা হতে বঞ্চিত হয়েছি, আমি মানুষের কাছে অপমানিত হয়েছি আর মিথ্যেবাদী বলে প্রতিপন্ন হয়েছি, আমাকে ক্ষমা করো আমি আর তোমার রাজ্যের জন্য কাজ করতে পারছি না। প্রথম করিয়ন্থি নয় অধ্যায়ের তের পদে বলা হয়েছে, তোমরা কি জান, যারা বায়তুল মোকাদ্দসে কাজকর্ম করে তারা বায়তুল মোকাদ্দস থেকেই খাবার পায়। আর যারা কোরবানগাহে কাজ করে তারা কোরবানগাহে যা কোরবানী করা হয় সেখান থেকে ভাগ পায়। প্রথম করিয়ন্থি নয় অধ্যায়ের ষোল ও সতের পদে বলা হয়েছে, আমি সুসংবাদ প্রচার করছি বটে, কিন্তু তাতে আমার গৌরব করার কিছু নেই, কারন আমাকে তা করতেই হবে। দুর্ভাগ্য আমার আমি যদি সেই সুসংবাদ প্রচার না করি। যদি আমি নিজের ইচ্ছায় প্রচার করি তবে তো আমার পুরস্কার আছেই আর যদি নিজের ইচ্ছায় প্রচার না-ও করে থাকি তবুও আমার উপরে সেই ভাগ রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমরা যারা প্যাস্টর ও সিসিটিবিতে মাস্টার্স অফ থিওলজি কোর্স করছি, প্রথম দিকে আমরা খুব কষ্ট করেছিলাম কিন্তু এখন আমাদের সেই কষ্ট নেই আমাদের সব প্যাস্টরদেরকে প্রচার কাজের সুবিদার জন্য একটি করে মোটরসাইকেল দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের প্রচুর ফান্ড এসেছে, প্রচুর টাকা খরচ করা হয় আমাদের পিছনে কিন্তু আমি বলেছি, এতো টাকা আমাদের দিতে হবে না, এতো টাকা আমাদের প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রায়শই টাকার জন্যই অনেকে ঠিকমত প্রচার কাজ করতে পারে না। প্রকাশিত বাক্য তিন অধ্যায়ের পাচ পদে বলা হয়েছে, যে জয়ী হবে সে এই রকম সাদা পোশাক পরবে। জীবন-কিতাব হতে তার নাম আমি কখনো মুছে ফেলব না, বরং পিতা ও তার ফেরেশতাদের সামনে আমি তাকে স্বীকার করব। ইশ্বর আমাদের সবাইকে মনে এবং শরীরে প্রচার করার ইচ্ছা ও শক্তি প্রদান করুক সেই প্রাথর্না করি। ইশ্বরের শান্তি আপনাদের উপরে বর্ষিত হোক।
সবাইকে ইম্মানুয়েল।


বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
২১ এপ্রিল ২০১৩ ইং
স্পিকার: রেভারেন্ড রোনাল্ড দিলীপ সরকার
প্যাস্টোরাল সুপারিনটেনডেন্ট
গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ। 
মাস্টার্স অফ থিওলজি, সিসিটিবি




বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (১৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং)

কিন্তু তুমি যা শিখেছ এবং নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছ তাতে স্থির থাক, কারন কাদের কাছ থেকে তুমি সেগুলো শিখেছ তা তো তুমি জান। ছেলেবেলা থেকে তুমি পবিত্র কিতাব থেকে শিক্ষা লাভ করেছ। আর এই পাক-কিতাবই তোমাকে যীশু খ্রিস্টের উপর বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে নাজাত পাবার জ্ঞান দিতে পারে। পবিত্র শাস্থের প্রতিটি কথা ইশ্বরের কাছ থেকে এসেছে এবং তা শিক্ষা, চেতনা দান সংশোধন এবং সৎ জীবনে গড়ে উঠবার জন্য দরকারী, যাতে ইশ্বরের দাস সম্পুর্নভাবে উপযুক্ত হয়ে ভাল কাজ করবার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। (২ তীমথিয় ৩: ১৪-১৭)



সবাইকে খ্রীস্টিয় শুভেচ্ছা। আজ বাংলা নববর্ষ তাই গীর্জা ঘরে যুবক-তরুন-তরুনীদের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে তবুও গীর্জা প্রায় পরিপুর্ন হয়ে গেছে। আমি প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে গান করবার সময় আমি কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম। এটা আমার ঔদ্যত্ত নয়, বয়স বেশি হয় নি তবুও মাঝে মাঝে নিজের অজান্তে গভীর ভাবনায় তলিয়ে যাই। আমি প্রফেশনাল লেকচারার নই, ভাল প্রচার করতেও পারি না কিন্তু ইশ্বরের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলকে আমি আমার জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে সবর্দা সতেষ্ট। আজ পশ্চিমা বিশ্ব- আমেরিকা, ইউরোপ, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মানুষরা বাইবেলের শিক্ষা থেকে অনেক দুরে সরে এসেছে। কিছুদিন আগে ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার মারা গেলেন, তাকে লৌহ মানবী বলা হয়; তিনি বলেছিলেন; ব্রিটেন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বাইবেলের ভিত্তিতে। পলিটিক্যাল ইনফ্রাকশ্চার একটি দেশের জন্য যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বাইবেলের শিক্ষা। জর্জ ওয়াশিংটন যে আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার পিছনে ছিল বাইবেলীয় শক্তি। জর্জ ওয়াশিংটন মিকাহ চার অধ্যায়ের চার পদের উপর ভিত্তি করে আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; প্রত্যেকে নিজের নিজের আংগুর লতা ও ডুমুর গাছের নীচে বসবে এবং কেউ তাদের ভয় দেখাবে না, কারন স্বয়ং ইশ্বর সেই কথা বলেছেন। আমেরিকার যে মুদ্রা, ডলারের উপরে লেকা আছে; ইউ ট্রাষ্ট ইন গড কিন্তু আজকে আমেরিকার বিশ পার্সেন্ট মানুষ গিজার্য় যায়, ইউরোপে পাচ পাসের্ন্ট এবং অস্ট্রেলিয়ায় পনের পাসের্ন্ট। আমেরিকায় প্রায় প্রতিটি রাস্তায় রাস্তায়, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাথিড্রাল দেখতে পাওয়া যায় কিন্তু সেখানের অনেকগুলিতেই উপাসনা হয় না, খালি পড়ে আছে। মানুষ যায় দর্শনার্থী হিসেবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাথিড্রাল দেখতে পাওয়া যায় এর কারন কি? কারন প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ স্থাপন করেছিলেন প্যাস্টর, প্রিস্ট আর খ্রীস্টিয় সাধু-পন্ডিতরা। পৃথিবীর আজকের বিজ্ঞান কাদের হাত ধরে এসেছে? এই খ্রিষ্টানদের হাত ধরে। বিজ্ঞান সাহিত্য। কিন্তু আজকের বিশ্ববিদ্যালগুলির ছাত্র-ছাত্রীরা কেন গীর্জায় যায় না কারন সেখানে আজ কিছু পন্ডিতদের আগমন ঘটেছে তারা দেখল বাইবেলীয় শিক্ষা অনুসারে চলতে গেলে ইচ্ছামত যা খুশী করা যায় না তাই তারা দাবী করল- স্বাধীনতা, যা খুশি করার স্বাধীনতা আর বলা হল বাইবেল পুরোনো শিক্ষা। যার ফলে ওইসব সমাজ গুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশৃঙ্খলা আর অশান্তি। পরিবারে শান্তি নেই, বিয়ের কিছুদিন পরই অনেক দম্পতির ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে, সমকামী বিয়ে হচ্ছে। কারন তাদের মধ্যে যীশু খ্রিস্টের শিক্ষা নেই। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে মুসলমানরা। আমি একবার ফ্রান্সে গিয়েছিলাম সেখানে অনেক উচু পাহাড়ের উপরে একটা গির্জা নিমার্ন করা হয়েছে, খুব আকষর্নীয় বটে কিন্তু দু:খের বিষয় সেই গির্জায় প্রাথর্না হয় না তবে একটা জিনিস ভাল লেগেছিল, সেখানে প্রাথর্না না হলেও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দর্শনার্থী হয়ে সেখানে যায়। পাহাড়ের উপরে যীশুখ্রিস্টের বিশাল এক ছবি সাটানো হয়েছে যেন তার শরীর দিয়ে সাদা আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে ঠিক যেন মেঘের রথে করে তার দ্বিতীয় আগমনের মত। অনেকে সেখানে মোম জ্বালিয়ে ইশ্বরের কাছে ধন্যবাদ জানায়, প্রাথর্না করে। আমিও মোমবাতি কিনে জ্বালিয়ে কিছুক্ষন প্রার্থনা করলাম, ইশ্বরকে ধন্যবাদ দিলাম। আমি প্রায়ই আমেরিকা, ইউরোপ ভ্রমনে যাই, এছাড়াও বহুদেশ আমি ভ্রমন করেছি। একবার বিখ্যাত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু মুসলমান ছাত্র-ছাত্রী আমাকে বলল; ক্যান উই গিভ ইউ এ ফ্রি কপি অফ কোরান? আমি বললাম; ধন্যবাদ, অলরেডী ওটা আমার কাছে এক কপি আছে, আমি অনুবাদসহ পড়েছি। চীনে যখন কমিউনিজম আসল তখন সমস্ত গির্জা বন্ধ করে দেওয়া হল, প্রিস্টদের মারধর করা হল। তাদের জীবন যাত্রার স্বভাবিক গতিপথ বন্ধ করে দেওয়া হল। অনেককে মেরেও ফেলা হল। খ্রিস্টধর্ম উৎখাতের সব রকম চেষ্টা করা হয়েছিল চীন ও রাশিয়ায়। চীনে যখন কমিউনিজম আসে তখন চীনে খ্রিষ্টান বিশ্বাসীর সংখ্যা ছিল এক লাখ এর মত, আর পঞ্চাশ বছর পরে যখন সেই গোড়া কমিউনিজম চলে গেল- আজকে চীনে খ্রিষ্টান বিশ্বাসীর সংখ্যা এক কোটির বেশী। এই প্রচার বন্ধ হবার নয় কারন এটা ইশ্বরের বানী, এটা সত্য। মুসলমানরা বলে বেড়ায়; খ্রিস্টানরা তাদের সুবিধা মত বাইবেল পরিবর্তন করেছে। কি যায় আসে তাদের কথায়? আমরা জানি এটা সত্য এবং ইশ্বরের বাক্য অপরিবর্তনীয়। সুতরাং অত্যাচার-নিযার্তন আর কুৎসা রটনায় কখনো যীশু খ্রিস্টের প্রচার থেমে থাকে নি বরঞ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা প্রিস্ট, প্যাসটর আছেন তারা তাদের লেকচারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন ছাত্র-ছাত্রীদের মুগ্ধ করতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে; তোমরা এমবিএ, মাস্টার্স, পিএইচডি করেছ তাতে কি? আমরাও কম জানি না। তারা যেন বুঝতে পারে এখানেও শেখার কিছু আছে। আজকের শিক্ষিত তরুন-তরুনীরা গির্জায় আসতে চায় না। তারা যেন জানার আগ্রহ নিয়ে গীর্জায় আসে সেভাবে নিজেদের তৈরী করতে হবে। শুধু প্রচারের জন্য প্রচার নয়। সত্যিকারে ইশ্বরের রাজ্যের জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন নহিরমিয়ার মতো লিডার। যে নহিরমিয়া শহরের ধ্বংসস্থুপ দেখে কাদলেন। তিনি ইশ্বরের কাছে প্রাথর্না করলেন; হে ইশ্বর আমাকে বাদশার সামনে যাবার শক্তি দাও, বাদশার মন নরম করে দাও সে যেন আমার কথা, আমার পরিকল্পনাগুলি শ্রবণ করে এবং সেইমত কাজ করে। রোমীয় বারো অধ্যায়ের এক এবং দুই পদে বলা হয়েছে; তাহলে ভাইয়েরা, ইশ্বরের এই সব দয়ার জন্যই আমি তোমাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করছি, তোমরা তোমাদের শরীরকে জীবিত, পবিত্র ও ইশ্বরের গ্রহনযোগ্য কোরবানী হিসাবে ইশ্বরের হাতে তুলে দাও। সেটাই হবে তোমাদের উপযুক্ত এবাদত। এখানকার খারাপ দুনিয়ার চালচলনের মধ্যে তোমরা নিজেদের ডুবিয়ে দিও না, বরং ইশ্বরকে তোমাদের মনকে  নতুন করে গড়ে তুলতে দিয়ে সম্পুর্ন নতুন হয়ে ওঠো, যেন তোমরা ইশ্বরের ইচ্ছা জানতে পার। ইশ্বরের ইচ্ছা ভাল, সম্পুর্ন নিভুর্ল এবং তাতে ইশ্বর সন্তুষ্ট হন।

আমিন।



হে আমাদের স্বগীর্য় পিতা,

তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক।

তোমার রাজ্য আসুক।

তোমার ইচ্ছা যেমন বেহেশতে

তেমনি দুনিয়াতেও পুর্ন হোক।

যে খাবার আমাদের দরকার

তা আজ আমাদের দাও।

যারা আমাদের উপর অন্যায় করে,

আমরা যেমন তাদের মাফ করেছি

তেমনি তুমিও আমাদের সমস্ত অন্যায় মাফ কর।

আমাদের তুমি পরীক্ষায় পড়তে দিয়ো না,

বরং শয়তানের হাত থেকে রক্ষা কর।

আমিন।

(মুনাজাতঃ মথি ৬:৯-১৩)





বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (Pearls of Wisdom)

১৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং

লেকচারার: প্রদীপ দাওয়া

কান্ট্রি ডিরেক্টর, ওয়ার্ল্ড কনসার্ন

মেম্বার, খ্রিস্টান ফেলোশিপ সোসাইটি



Again, the kingdom of heaven is like unto a merchant man, seeking goodly pearls: Who, when he had found one pearl of great price, went and sold all that he had, and bought it. — Matthew 13:45-46

Sunday

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (৭ এপ্রিল ২০১৩)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাদের সুরক্ষিত রেখে আমাদের জীবন পরিচালনার শক্তি ও সাহস দিয়েছেন। গত রবিবার ছিল ইস্টার সানডে- যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান দিবস, এই দিনে যীশু খ্রিস্ট মৃত্যুর তিন দিনের দিন জীবত হয়ে উঠে তার শিষ্যদের মাঝে সাক্ষাৎ করেছিলেন। যোহন বিশ অধ্যায়ের চব্বিশ থেকে উনত্রিশ পদে যীশু খ্রিস্টের মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবার বিষয়ে প্রমান পাওয়া যায়। যীশু খ্রিস্টের অন্যতম একজন শিষ্য থোমা (থমাস) এর জীবন ও কর্ম আলোকপাত করে যীশু খ্রিস্টের পুনুরুত্থান বিষয়ে আরো অকাট্য প্রমান পাওয়া যায়, যদিও যীশু খ্রিস্টের পুনুরুত্থান বিশ্বাসের অংশ। আমি যোহন বিশ অধ্যায়ের চব্বিশ থেকে উনত্রিশ পদ পাঠ করছি; যীশু যখন এসেছিলেন তখন থোমা নামে সেই বারোজন শিষ্যদের মধ্যে একজন তাঁদের সংগে ছিলেন না। এই থোমাকে যমজ বলা হত। অন্য শিষ্যেরা পরে থোমাকে বললেন, “আমরা প্রভুকে দেখেছি।” থোমা তাঁদের বললেন, “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” এর এক সপ্তা পরে শিষ্যেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাঁদের সংগে ছিলেন। যদিও সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল তবুও যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” পরে তিনি থোমাকে বললেন, “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” যীশু তাঁকে বললেন, “থোমা, তুমি কি আমাকে দেখেছ বলে বিশ্বাস করছ? যারা না দেখে বিশ্বাস করে তারা ধন্য।” এখানে থোমার চরিত্রের বিশেষ দিকগুলি ফুটে উঠেছে। ইতিহাস থেকে দেখা যায় থোমা ছিল অন্য শিষ্যদের চেয়ে ভিন্ন। সে যুক্তি, প্রমান ছাড়া কোন কিছু বিশ্বাস করতে চাইত না। তাই থোমার অন্য সংগীরা যখন থোমাকে জানাল তারা যীশু খ্রিষ্টকে দেখেছে তখন থোমা সেটা বিশ্বাস করতে চাইছিল না। সে বলল; “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” কিন্তু এর এক সপ্তাহ পরে যীশু খ্রিষ্ট আবার ভক্তদের মাঝে দেখা দিলেন যেখানে থোমাও ছিল। থোমার মধ্য দিয়ে যীশু খ্রিস্ট তার পুনরুত্থানের বিষয়ে নিজেকে আবার প্রকাশ করলেন কারন তিনি জানতেন সব যুগেই এমন কিছু বিশ্বাসী থাকবে যারা বিশ্বাসের পাশাপাশি যুক্তি প্রমান খুজবে। যীশু খ্রিস্ট এই অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত ও প্রমান রেখে গিয়েছেন। যোহন বিশ অধ্যায়ের উনিশ পদে দেখা যায়; সেই একই দিনে, সপ্তার প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় শিষ্যেরা ইহুদি নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। তখন যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” যীশু খ্রিস্ট তাদের মাঝখানে এসে দাড়ালেন। এভাবেই যীশু খ্রিস্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবার মধ্যমনি হয়ে রইলেন, সুতরাং আমারাও যদি যীশু খ্রিস্টকে সবকিছুর মধ্যে রাখি, আমাদের অন্তরে বিশ্বাসের সাথে স্থান দেই তবে আমরা মুক্তি পাব কারন একমাত্র যীশু খ্রিস্টই আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। থোমা যে যীশু খ্রিস্টকে অল্প ভালবাসত তা নয়। মার্ক আট অধ্যায়ের একত্রিশ পদে দেখা যায়; পরে যীশু তাঁর শিষ্যদের এই বলে শিক্ষা দিতে লাগলেন যে, মনুষ্যপুত্রকে অনেক দুঃখভোগ করতে হবে। বৃদ্ধ নেতারা, প্রধান পুরোহিতেরা এবং ধর্ম-শিক্ষকেরা তাঁকে অগ্রাহ্য করবেন। তাঁকে মেরে ফেলা হবে এবং তিন দিন পরে তাঁকে মৃত্যু থেকে আবার জীবিত হয়ে উঠতে হবে। এবং যোহন এগারো অধ্যায়ের ষোল পদে দেখা যায়; তখন থোমা, যাঁকে যমজ বলা হয়, তাঁর সংগী-শিষ্যদের বললেন, “চল, আমরাও যাই, যেন তাঁর সংগে মরতে পারি।” কিন্তু থোমার চরিত্রের একটি দিক ছিল যুক্তি প্রমানের মধ্য দিয়ে তার বিশ্বাসের দৃঢ়তা স্থাপন করা।  যীশু খ্রিস্ট মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবার পরে যখন শিষ্যদের মাঝে দেখা দিলেন যেখানে থোমাও ছিল এবং থোমাকে বললেন; “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” এর মধ্য দিয়েই বোঝা যায় যীশু খ্রিস্টের প্রতি থোমার অগাধ ভালবাসা। ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই যীশু খ্রিস্ট থোমাকে ভারত বর্ষে তার সুসংবাদ প্রচার করার জন্য নিয়োজিত করেছিলেন কিন্তু প্রথম দিকে থোমা ভারত বর্ষে আসতে ইতস্তত করছিলেন, পরে তিনি হিপ্পানি নামে একজন বনিকের সাথে ভারত বর্ষে আসলেন এবং আমৃত্যু ইশ্বরের বানী প্রচারের জন্য অনেক সংগ্রাম করে গেছেন, অত্যাচার সয়েছেন, ততকালীন হিন্দু অধ্যুষিত ভারত বর্ষে বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবং শেষ পর্যন্ত তাকেও বর্শার আঘাতে মেরে ফেলা হয়েছিল। প্রথম দিকে থোমা ইশ্বরের কাজে নিজেকে নিয়োজিক করতে ইতস্তত করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রকাশিত বাক্য এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের দশ পদকেই ধরে রেখেছিলেন যেমনটা যীশু খ্রিস্ট নিজেই প্রকাশ করেছিলেন; তুমি যে সব কষ্ট ভোগ করতে যাচ্ছ তাতে মোটেই ভয় পেয়ো না। শোন, শয়তান তোমাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরীক্ষা করবার জন্য জেলে দেবে, আর দশ দিন ধরে তোমরা কষ্ট ভোগ করবে। তুমি মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকো, তাহলে জয়ের মালা হিসাবে আমি তোমাকে জীবন দেব। আসুন আমরা অত্যাচার নির্যাতনের ভয়ে যেন যীশু খ্রিস্টের দেওয়া জীবন ব্যবস্থা থেকে দুরে সরে না যাই। কারন যীশু খ্রিস্টের মধ্যদিয়ে আছে জীবন, সত্য এবং মুক্তি। 
আমেন।

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার 
৭ এপ্রিল ২০১৩ ইং
লেকচারার: সুশান্ত বৈরাগী
পালক, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ
সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ