Sunday

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (৭ এপ্রিল ২০১৩)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাদের সুরক্ষিত রেখে আমাদের জীবন পরিচালনার শক্তি ও সাহস দিয়েছেন। গত রবিবার ছিল ইস্টার সানডে- যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান দিবস, এই দিনে যীশু খ্রিস্ট মৃত্যুর তিন দিনের দিন জীবত হয়ে উঠে তার শিষ্যদের মাঝে সাক্ষাৎ করেছিলেন। যোহন বিশ অধ্যায়ের চব্বিশ থেকে উনত্রিশ পদে যীশু খ্রিস্টের মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবার বিষয়ে প্রমান পাওয়া যায়। যীশু খ্রিস্টের অন্যতম একজন শিষ্য থোমা (থমাস) এর জীবন ও কর্ম আলোকপাত করে যীশু খ্রিস্টের পুনুরুত্থান বিষয়ে আরো অকাট্য প্রমান পাওয়া যায়, যদিও যীশু খ্রিস্টের পুনুরুত্থান বিশ্বাসের অংশ। আমি যোহন বিশ অধ্যায়ের চব্বিশ থেকে উনত্রিশ পদ পাঠ করছি; যীশু যখন এসেছিলেন তখন থোমা নামে সেই বারোজন শিষ্যদের মধ্যে একজন তাঁদের সংগে ছিলেন না। এই থোমাকে যমজ বলা হত। অন্য শিষ্যেরা পরে থোমাকে বললেন, “আমরা প্রভুকে দেখেছি।” থোমা তাঁদের বললেন, “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” এর এক সপ্তা পরে শিষ্যেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাঁদের সংগে ছিলেন। যদিও সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল তবুও যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” পরে তিনি থোমাকে বললেন, “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” যীশু তাঁকে বললেন, “থোমা, তুমি কি আমাকে দেখেছ বলে বিশ্বাস করছ? যারা না দেখে বিশ্বাস করে তারা ধন্য।” এখানে থোমার চরিত্রের বিশেষ দিকগুলি ফুটে উঠেছে। ইতিহাস থেকে দেখা যায় থোমা ছিল অন্য শিষ্যদের চেয়ে ভিন্ন। সে যুক্তি, প্রমান ছাড়া কোন কিছু বিশ্বাস করতে চাইত না। তাই থোমার অন্য সংগীরা যখন থোমাকে জানাল তারা যীশু খ্রিষ্টকে দেখেছে তখন থোমা সেটা বিশ্বাস করতে চাইছিল না। সে বলল; “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” কিন্তু এর এক সপ্তাহ পরে যীশু খ্রিষ্ট আবার ভক্তদের মাঝে দেখা দিলেন যেখানে থোমাও ছিল। থোমার মধ্য দিয়ে যীশু খ্রিস্ট তার পুনরুত্থানের বিষয়ে নিজেকে আবার প্রকাশ করলেন কারন তিনি জানতেন সব যুগেই এমন কিছু বিশ্বাসী থাকবে যারা বিশ্বাসের পাশাপাশি যুক্তি প্রমান খুজবে। যীশু খ্রিস্ট এই অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত ও প্রমান রেখে গিয়েছেন। যোহন বিশ অধ্যায়ের উনিশ পদে দেখা যায়; সেই একই দিনে, সপ্তার প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় শিষ্যেরা ইহুদি নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। তখন যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” যীশু খ্রিস্ট তাদের মাঝখানে এসে দাড়ালেন। এভাবেই যীশু খ্রিস্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবার মধ্যমনি হয়ে রইলেন, সুতরাং আমারাও যদি যীশু খ্রিস্টকে সবকিছুর মধ্যে রাখি, আমাদের অন্তরে বিশ্বাসের সাথে স্থান দেই তবে আমরা মুক্তি পাব কারন একমাত্র যীশু খ্রিস্টই আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। থোমা যে যীশু খ্রিস্টকে অল্প ভালবাসত তা নয়। মার্ক আট অধ্যায়ের একত্রিশ পদে দেখা যায়; পরে যীশু তাঁর শিষ্যদের এই বলে শিক্ষা দিতে লাগলেন যে, মনুষ্যপুত্রকে অনেক দুঃখভোগ করতে হবে। বৃদ্ধ নেতারা, প্রধান পুরোহিতেরা এবং ধর্ম-শিক্ষকেরা তাঁকে অগ্রাহ্য করবেন। তাঁকে মেরে ফেলা হবে এবং তিন দিন পরে তাঁকে মৃত্যু থেকে আবার জীবিত হয়ে উঠতে হবে। এবং যোহন এগারো অধ্যায়ের ষোল পদে দেখা যায়; তখন থোমা, যাঁকে যমজ বলা হয়, তাঁর সংগী-শিষ্যদের বললেন, “চল, আমরাও যাই, যেন তাঁর সংগে মরতে পারি।” কিন্তু থোমার চরিত্রের একটি দিক ছিল যুক্তি প্রমানের মধ্য দিয়ে তার বিশ্বাসের দৃঢ়তা স্থাপন করা।  যীশু খ্রিস্ট মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবার পরে যখন শিষ্যদের মাঝে দেখা দিলেন যেখানে থোমাও ছিল এবং থোমাকে বললেন; “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” এর মধ্য দিয়েই বোঝা যায় যীশু খ্রিস্টের প্রতি থোমার অগাধ ভালবাসা। ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই যীশু খ্রিস্ট থোমাকে ভারত বর্ষে তার সুসংবাদ প্রচার করার জন্য নিয়োজিত করেছিলেন কিন্তু প্রথম দিকে থোমা ভারত বর্ষে আসতে ইতস্তত করছিলেন, পরে তিনি হিপ্পানি নামে একজন বনিকের সাথে ভারত বর্ষে আসলেন এবং আমৃত্যু ইশ্বরের বানী প্রচারের জন্য অনেক সংগ্রাম করে গেছেন, অত্যাচার সয়েছেন, ততকালীন হিন্দু অধ্যুষিত ভারত বর্ষে বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবং শেষ পর্যন্ত তাকেও বর্শার আঘাতে মেরে ফেলা হয়েছিল। প্রথম দিকে থোমা ইশ্বরের কাজে নিজেকে নিয়োজিক করতে ইতস্তত করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রকাশিত বাক্য এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের দশ পদকেই ধরে রেখেছিলেন যেমনটা যীশু খ্রিস্ট নিজেই প্রকাশ করেছিলেন; তুমি যে সব কষ্ট ভোগ করতে যাচ্ছ তাতে মোটেই ভয় পেয়ো না। শোন, শয়তান তোমাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরীক্ষা করবার জন্য জেলে দেবে, আর দশ দিন ধরে তোমরা কষ্ট ভোগ করবে। তুমি মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকো, তাহলে জয়ের মালা হিসাবে আমি তোমাকে জীবন দেব। আসুন আমরা অত্যাচার নির্যাতনের ভয়ে যেন যীশু খ্রিস্টের দেওয়া জীবন ব্যবস্থা থেকে দুরে সরে না যাই। কারন যীশু খ্রিস্টের মধ্যদিয়ে আছে জীবন, সত্য এবং মুক্তি। 
আমেন।

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার 
৭ এপ্রিল ২০১৩ ইং
লেকচারার: সুশান্ত বৈরাগী
পালক, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ
সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ
Share:

0 comments: