বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (২১ এপ্রিল ২০১৩ ইং)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। সবাইকে খ্রীষ্টিয় প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকে আমি যে গুরুত্বপুর্ন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হল আমাদের রাজা-রাজাধিরাজ যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দূতদের সম্মান ও অধিকার বিষয়ে। এই পার্থিব জগতের কোন দেশের রাষ্ট্র নায়কের দূতের সম্মান-প্রতিপত্তি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু রাজাধিরাজ যীশু খ্রিষ্টের দুত যারা হতে চায় তাদের অবস্থান কোথায়? একজন রাষ্ট্র নায়কের দুত হওয়া বিশাল সম্মান ও গৌরবের বিষয় কিন্তু তার চেয়ে গৌরব ও সম্মানের জাগয়া হল যীশু খ্রিষ্টের দুত হওয়া। মথি লিখিত সুসমাচারের পাচ অধ্যায়ের বিশ নম্বর পদে বলা হয়েছে; সেইজন্য আমরা যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দুত হিসেবে তার হয়ে কথা বলছি। আসলে ইশ্বর নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করেছেন। তাই যীশু খ্রিষ্টের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, তোমরা ইশ্বরের সংগে মিলিত হও। যারা ইশ্বরের সুসংবাদ প্রচার করে তারাই যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দুত। কিন্তু এই দুতদের অনেক কষ্টও ভোগ করতে হতে পারে। কারন প্রচার করা সহজ কাজ নয়। যারা প্রচার করে তারা ইশ্বরের মনোনিত দাস। প্রেরিত নয় অধ্যায়ের ষোল পদে বলা হয়েছে; আমার জন্য কত কষ্ট যে তাকে পেতে হবে আমি সেটা তাকে দেখাব। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন যারা প্রচার করে সেই সব ব্যাক্তিরা, গির্জার প্যাস্টর, প্রিস্ট তারা যেন কষ্টে না থাকে। একজন প্যাস্টর মাস শেষে যে বেতন পায় সেই বেতন দিয়ে তার পরিবার, সন্তানদের ভরন পোষন, শিক্ষাসহ সমস্ত খরচ চালায়। সে যদি কোন দোকান থেকে বাকি করে থাকে আর মাস শেষে বাকীর টাকা পরিশোধ করতে না পারে তবে কি দোকানদার তাকে বলবে না; ওই মিয়া তুমি মিথ্যেবাদী, ঠিক মতো টাকা পরিশোধ করো না। তখন তার অন্তর ভেঙ্গে যাবে। সে ইশ্বরের কাছে অভিযোগ জানাবে; হে ইশ্বর আমি তোমার সুসংবাদ প্রচার করতে গিয়ে অপমান হয়েছি, মানুষ আমাকে মিথ্যেবাদী বলছে এবং আমি সত্যিই আমার কথা রাখতে পারছি না। প্রথম তিমথীয় পাচ অধ্যায়ের আঠারো পদে বলা হয়েছে; পাক কিতাবে আছে, শস্য মাড়াই করবার সময় বলদের মুখে জালতি বেধ না। আরো লেখা আছে, যে কাজ করে সে বেতন পাবার যোগ্য। বাইবেলের আরো বেশ কয়েকবার এই কথা বলা হয়েছে। মথি দশ অধ্যায়ের দশ পদে বলা হয়েছে, যে কাজ করে সে খাওয়া-পরা পাবার যোগ্য। লুক দশ অধ্যায়ের পাচ পদে বলা হয়েছে, তোমরা যে বাড়ীতে যাবে প্রথবে বলবে, এই বাড়ীতে শান্তি হোক। লুক দশ অধ্যায়ের সাত পদে বলা হয়েছে, কারন যে কাজ করে সে বেতন পাবার যোগ্য। এভাবে অসংখ্যবার স্মরন করিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম করিন্থিয়ান নয় অধ্যায়ের নয় পদে বলা হয়েছে, শস্য মাড়াই করবার সময়ে বদলের মুখে জালতি বেধ না। প্রথম করিন্থিয়ান নয় অধ্যায়ের দশ পদে বলা হয়েছে, কারন যে চাষ করে এবং শস্য মাড়াই করে, ফসলের ভাগ পাবার আশা নিয়েই তা করা উচিত। আরো বলা হয়েছে তুমি যদি কারো বাড়ীতে পাওনা আদায়ের জন্য যাও তবে সেই বাড়িতে তোমার পায়ের ধুলা রেখে এসো কারন শেষ বিচারের দিনে এই ধুলা তোমার হয়ে সাক্ষ্য দেবে। লেবীয় উনিশ অধ্যায়ের তের পদে বলা হয়েছে, মজুরের দিনের পাওনা দিনেই দিয়ে দিতে হবে, তা সকাল অব্দি আটকে রাখা চলবে না। সুতরাং আমাদের সকলের বিশেষ করে গির্জার মন্ডলী যারা আছেন তাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন, প্যাস্টর, সেবাকারীগন অর্থ কষ্টে না ভোগেন। তারা তাদের মনের অজান্তেও কখনো যেন ইশ্বরের কাছে নালিশ না করে যে, হে প্রভু, আমি তোমার রাজ্যের জন্য কাজ করেছি অথচ আমি আহার হতে বঞ্চিত হয়েছি, আমি নিদ্রা হতে বঞ্চিত হয়েছি, আমি মানুষের কাছে অপমানিত হয়েছি আর মিথ্যেবাদী বলে প্রতিপন্ন হয়েছি, আমাকে ক্ষমা করো আমি আর তোমার রাজ্যের জন্য কাজ করতে পারছি না। প্রথম করিয়ন্থি নয় অধ্যায়ের তের পদে বলা হয়েছে, তোমরা কি জান, যারা বায়তুল মোকাদ্দসে কাজকর্ম করে তারা বায়তুল মোকাদ্দস থেকেই খাবার পায়। আর যারা কোরবানগাহে কাজ করে তারা কোরবানগাহে যা কোরবানী করা হয় সেখান থেকে ভাগ পায়। প্রথম করিয়ন্থি নয় অধ্যায়ের ষোল ও সতের পদে বলা হয়েছে, আমি সুসংবাদ প্রচার করছি বটে, কিন্তু তাতে আমার গৌরব করার কিছু নেই, কারন আমাকে তা করতেই হবে। দুর্ভাগ্য আমার আমি যদি সেই সুসংবাদ প্রচার না করি। যদি আমি নিজের ইচ্ছায় প্রচার করি তবে তো আমার পুরস্কার আছেই আর যদি নিজের ইচ্ছায় প্রচার না-ও করে থাকি তবুও আমার উপরে সেই ভাগ রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমরা যারা প্যাস্টর ও সিসিটিবিতে মাস্টার্স অফ থিওলজি কোর্স করছি, প্রথম দিকে আমরা খুব কষ্ট করেছিলাম কিন্তু এখন আমাদের সেই কষ্ট নেই আমাদের সব প্যাস্টরদেরকে প্রচার কাজের সুবিদার জন্য একটি করে মোটরসাইকেল দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের প্রচুর ফান্ড এসেছে, প্রচুর টাকা খরচ করা হয় আমাদের পিছনে কিন্তু আমি বলেছি, এতো টাকা আমাদের দিতে হবে না, এতো টাকা আমাদের প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রায়শই টাকার জন্যই অনেকে ঠিকমত প্রচার কাজ করতে পারে না। প্রকাশিত বাক্য তিন অধ্যায়ের পাচ পদে বলা হয়েছে, যে জয়ী হবে সে এই রকম সাদা পোশাক পরবে। জীবন-কিতাব হতে তার নাম আমি কখনো মুছে ফেলব না, বরং পিতা ও তার ফেরেশতাদের সামনে আমি তাকে স্বীকার করব। ইশ্বর আমাদের সবাইকে মনে এবং শরীরে প্রচার করার ইচ্ছা ও শক্তি প্রদান করুক সেই প্রাথর্না করি। ইশ্বরের শান্তি আপনাদের উপরে বর্ষিত হোক।
সবাইকে ইম্মানুয়েল।


বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
২১ এপ্রিল ২০১৩ ইং
স্পিকার: রেভারেন্ড রোনাল্ড দিলীপ সরকার
প্যাস্টোরাল সুপারিনটেনডেন্ট
গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ। 
মাস্টার্স অফ থিওলজি, সিসিটিবি




Comments