Monday

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (২৮ এপ্রিল ২০১৩ ইং)

(১). কমনওয়েলথ অফ ম্যাসাচুসেট্‌স

হে সদাপ্রভু, আমি তোমার গৌরব করব, কারণ তুমিই আমাকে উঠিয়ে এনেছ; আমার শত্রুদের তুমি আমার বিরুদ্ধে আনন্দ করতে দাও নি। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, সাহায্যের জন্য আমি তোমাকে ডেকেছিলাম আর তুমি আমাকে সুস্থ করে তুলেছ। হে সদাপ্রভু, তুমি আমাকে মৃতস্থান থেকে তুলে এনেছ; তুমিই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছ যেন সেই গর্তে আমাকে নেমে যেতে না হয়। হে সদাপ্রভুর ভক্তেরা, তোমরা তাঁর উদ্দেশে গান গাও, তাঁর পবিত্রতার গৌরব কর; কারণ তাঁর ক্রোধ বেশীক্ষণ থাকে না; তাঁর দয়ায় জীবন পাওয়া যায়। কেবল রাতটুকু কাটে কানড়বায়, কিন্তু ভোর বেলাতেই আসে আনন্দ। সুখের দিনে আমি বলেছিলাম, কেউ আমাকে নাড়াতে পারবে না। হে সদাপ্রভু, তুমি দয়া দিয়ে আমার রাজ্য অটল রেখেছ, কিন্তু যখন তুমি মুখ ফিরালে তখন আমি ভীষণ ভয় পেলাম। হে সদাপ্রভু, তোমাকেই আমি ডেকেছিলাম; আমার প্রভুর কাছে আমি মিনতি করে বলেছিলাম,  “আমার মরণে কিম্বা মৃতস্থানে যাওয়াতে কি লাভ? ধুলা কি তোমার গৌরব করবে কিম্বা তোমার বিশ্বস্ততা প্রচার করবে? হে সদাপ্রভু, শোন, আমার প্রতি দয়া কর; হে সদাপ্রভু, তুমি আমাকে সাহায্য কর।” শোক প্রকাশের অনুষ্ঠান থেকে তুমি আমাকে নাচের উৎসবে এনেছ; শোকের চট খুলে নিয়ে তুমি আমাকে আনন্দের সাজ পরিয়েছ, যাতে আমার অন্তর নীরব না থাকে বরং তোমার উদ্দেশে গান করে। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি চিরকাল তোমাকে ধন্যবাদ দেব। -(গীতসংহিতা ৩০:১-১২)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। জয় যীশু। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে এখানে আবার প্রচার করার সুযোগ দিয়েছেন। দীর্ঘ তের বছর পর আমি আবার এই চার্চে প্রচার করছি। তের বছর আগে আমি এই চার্চের পালক ছিলাম। অল্প কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছি। আমি থাকি আমেরিকার বোস্টনের ম্যাসাচুসেটস শহরে। বোস্টন শহর যেখানে কিছুদিন আগে বোমা ফাটল সেখান থেকে আমার বাসা মাত্র পাচ কিলোমিটার দুরে। ইন্টারন্যাশনাল চার্চ কমিটিতে আমি কাজ করি। আমরা মুলত এশিয়ানদের মধ্যে প্রচার করে থাকি। যাই হোক আমি মুলত আজকে প্রচার করতে আসি নি, অনেকদিন পর বাংলাদেশে এলাম তাই কিছু কথা বলার জন্য স্টেজে এসেছি। আমি যিশাইয়া চুয়ান্ন অধ্যায়ের দ্বিতীয় পদ পাঠ করছি; তোমার তাম্বুর জায়গা আরো বাড়াও, তোমার তাম্বুর পর্দা আরো চওড়া করো, কৃপনতা করো না। তোমার তাম্বুর দড়িগুলি লম্বা কর আর গোজাগুলি শক্ত কর। যীশু খ্রিষ্টের প্রায় তিন হাজার বছর আগে যিশাইয়া নবী এসেছিলেন। আমরা সবাই জানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি খ্রিষ্টান দেশ কিন্তু আমি যখন সেখানে গেলাম দেখলাম আগের আমেরিকা এখন আর নেই। সেটা এখন পরিনত হয়েছে সেক্যুলার রাষ্ট্রে। আমিরিকায় একমাত্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাই প্রায় নিয়মিত গির্জায় যায়। আমি যেখানে থাকি সেই বোষ্টন শহর- এক সময় সেটা ছিল আমেরিকার খ্রিষ্টান বিশ্বসীদের হার্ট কিন্তু এখন সেখানে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ ধর্মকর্ম পালন করে। আমেরিকায় এখন আট মিলিয়ন মুসলিম জনগোষ্ঠি রয়েছে, হিন্দু রয়েছে প্রায় সাত মিলিয়ন আর বৌদ্ধ বিশ্বাসীদের সংখ্যা প্রায় পাচ মিলিয়ন। আর ইসলাম ধর্ম হচ্ছে সেখানে সবচেয়ে বেশী সম্পসারিত ধর্ম। বোষ্টনে ছোট-বড় প্রায় ত্রিশটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীসহ সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রায় পচাত্তর হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করছে। কিন্তু খ্রিষ্টান বিশ্বাসী ছাত্রদের মাঝে ধর্ম-কর্ম পালনের আগ্রহ দেখা যায় না। ম্যাসাচুসেটস শহরে পৃথিবীর বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হাভার্ড ইউনিভাসিটি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থিওলজির উপরে উচ্চতর শিক্ষা দেওয়া হয়, আমিও সেখানে ছাত্রদের পড়াই। কিন্তু আজকের আমেরিকা সেক্যুলার হয়ে গেছে। উইলিয়াম ক্যারি যখন এই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচারের জন্য আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন তখন বাইবেল সোসাইটি তাকে তাচ্ছিল্য করেছিল; তুমি ওই দেশের ভাষা, কৃষ্টি-কালচার সর্ম্পকে কিছুই জান না, কিভাবে প্রচার করবে? তাকে মাত্র চৌদ্দ পাউন্ড দুই শিলিং অর্থ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলা-ভাষাভাষী জনগোষ্টির মাঝে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারে তিনি অনেক অবদান রেখে গেছেন। আজকে আমরা যে বাইবেল বাংলা অনুবাদ পড়ছি সর্বপ্রথম তিনিই এটার অনুবাদ করেন। আমি অল্প কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছি, দীর্ঘদিন পরে এই চার্চে এসে আমার অতীত দিনগুলির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে যখন আমি এখানের পালক ছিলাম। আমি আর একসপ্তাহ থাকব তারপর আবার চলে যাব আমেরিকা। সবাই আমার জন্য প্রার্থনা করবেন।

 
স্পিকার: রেভারেন্ড পৌল সুলিল বিশ্বাস
পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল চার্চ কমিটি 

বোস্টন, কমনওয়েলথ অফ ম্যাসাচুসেট্‌স, ইউএসএ
শিক্ষক, হাভার্ড ডিভাইনিটি স্কুল, হাভার্ড ইউনিভার্সিটি।

 

(২). খ্রিস্টান কলেজ অফ থিওলজি বাংলাদেশ

সপ্তার প্রথম দিনের ভোর বেলায়, অন্ধকার থাকতেই মগ্‌দলীনী মরিয়ম সেই কবরের কাছে গেলেন। তিনি দেখলেন, কবরের মুখ থেকে পাথরখানা সরানো হয়েছে। সেইজন্য তিনি শিমোন-পিতর আর যে শিষ্যকে যীশু ভালবাসতেন সেই শিষ্যের কাছে দৌড়ে গিয়ে বললেন, “লোকেরা প্রভুকে কবর থেকে নিয়ে গেছে। তাঁকে কোথায় রেখেছে আমরা তা জানি না।” পিতর আর সেই অন্য শিষ্যটি তখন বের হয়ে কবরের দিকে যেতে লাগলেন। দু’জন একসংগে দৌড়াচ্ছিলেন। অন্য শিষ্যটি পিতরের আগে আগে আরও তাড়াতাড়ি দৌড়ে প্রথমে কবরের কাছে আসলেন, কিন্তু তিনি কবরের ভিতরে গেলেন না। তিনি নীচু হয়ে দেখলেন, যীশুর দেহে যে কাপড়গুলো জড়ানো হয়েছিল সেগুলো পড়ে আছে। শিমোন-পিতরও তাঁর পিছনে পিছনে এসে কবরের ভিতরে ঢুকলেন এবং কাপড়গুলো পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি আরও দেখলেন, তাঁর মাথায় যে রুমালখানা জড়ানো ছিল তা অন্য কাপড়ের সংগে নেই, কিন্তু আলাদা করে এক জায়গায় গুটিয়ে রাখা হয়েছে। যে শিষ্য প্রথমে কবরের কাছে পৌঁছেছিলেন তিনিও তখন ভিতরে ঢুকলেন এবং দেখে বিশ্বাস করলেন। মৃত্যু থেকে যীশুর জীবিত হয়ে উঠবার যে দরকার আছে, পবিত্র শাস্ত্রের সেই কথা তাঁরা আগে বুঝতে পারেন নি। প্রভু যীশু মরিয়মকে দেখা দিলেন ।  এর পরে শিষ্যেরা ঘরে ফিরে গেলেন, কিন্তু মরিয়ম কবরের বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে নীচু হয়ে কবরের ভিতরে চেয়ে দেখলেন, যীশুর দেহ যেখানে শোওয়ানো ছিল সেখানে সাদা কাপড় পরা দু’জন স্বর্গদূত বসে আছেন-একজন মাথার দিকে আর অন্যজন পায়ের দিকে। তাঁরা মরিয়মকে বললেন, “কাঁদছ কেন?” মরিয়ম তাঁদের বললেন, “লোকেরা আমার প্রভুকে নিয়ে গেছে এবং তাঁকে কোথায় রেখেছে জানি না।” এই কথা বলে মরিয়ম পিছনে ফিরে দেখলেন যীশু দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তিনি যে যীশু তা বুঝতে পারলেন না। যীশু তাঁকে বললেন, “কাঁদছ কেন? কাকে খুঁজছ?” যীশুকে বাগানের মালী ভেবে মরিয়ম বললেন, “দেখুন, আপনি যদি তাঁকে নিয়ে গিয়ে থাকেন তবে বলুন কোথায় রেখেছেন। আমিই তাঁকে নিয়ে যাব।” যীশু তাঁকে বললেন, “মরিয়ম।” তাতে মরিয়ম ফিরে দাঁড়িয়ে অরামীয় ভাষায় যীশুকে বললেন, “রব্বুনি।” রব্বুনি মানে গুরু। যীশু মরিয়মকে বললেন, “আমাকে ধরে রেখো না, কারণ আমি এখনও উপরে পিতার কাছে যাই নি। তুমি বরং ভাইদের কাছে গিয়ে বল, যিনি আমার ও তোমাদের পিতা, যিনি আমার ও তোমাদের ঈশ্বর, আমি উপরে তাঁর কাছে যাচ্ছি।” তখন মগ্‌দলীনী মরিয়ম শিষ্যদের কাছে গিয়ে সংবাদ দিলেন, তিনি প্রভুকে দেখেছেন আর প্রভুই তাঁকে এই সব কথা বলেছেন। প্রভু যীশু শিষ্যদের দেখা দিলেন। সেই একই দিনে, সপ্তার প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় শিষ্যেরা যিহূদী নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। তখন যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” এই কথা বলে তিনি তাঁর দুই হাত ও পাঁজরের দিকটা তাঁর শিষ্যদের দেখালেন। প্রভুকে দেখতে পেয়ে শিষ্যেরা খুব আনন্দিত হলেন। পরে যীশু আবার তাঁদের বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক। পিতা যেমন আমাকে পাঠিয়েছেন আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি।” এই কথা বলে তিনি শিষ্যদের উপর ফুঁ দিয়ে বললেন, “পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ কর। তোমরা যদি কারও পাপ ক্ষমা কর তবে তার পাপ ক্ষমা করা হবে, আর যদি কারও পাপ ক্ষমা না কর তবে তার পাপ ক্ষমা করা হবে না।” অবিশ্বাসী থোমার বিশ্বাস যীশু যখন এসেছিলেন তখন থোমা নামে সেই বারোজন শিষ্যদের মধ্যে একজন তাঁদের সংগে ছিলেন না। এই থোমাকে যমজ বলা হত। অন্য শিষ্যেরা পরে থোমাকে বললেন, “আমরা প্রভুকে দেখেছি।” থোমা তাঁদের বললেন, “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” এর এক সপ্তা পরে শিষ্যেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাঁদের সংগে ছিলেন। যদিও সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল তবুও যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” পরে তিনি থোমাকে বললেন, “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” যীশু তাঁকে বললেন, “থোমা, তুমি কি আমাকে দেখেছ বলে বিশ্বাস করছ? যারা না দেখে বিশ্বাস করে তারা ধন্য।” যীশু শিষ্যদের সামনে চিহ্ন হিসাবে আরও অনেক আশ্চর্য কাজ করেছিলেন; সেগুলো এই বইয়ে লেখা হয় নি। -(যোহন ২০:১-৩০)

ইম্মানুয়েল। জয় যীশু। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে এখানে বলার সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের সবাইকে সুস্থ রেখেছেন এবং তার মন্দিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমেন। আমি সিসিটিবি’তে মাস্টার্স অফ থিওলজি কোর্স করছি। আজ রবিবার, ক্যালেন্ডার মতে আজ সপ্তাহের প্রথম দিন- বিশ্রামবার, এটা যীশু খ্রিষ্টের দিন। ইশ্বরের উপাসনার দিন। এই দিনে বলা উচিত নয় আমার কাজ আছে, আমি গির্জায় যেতে পারব না। আমি যোহন লিখিত সুসমাচারের বিশ অধ্যায়ের এক, উনিশ এবং ছাব্বিশ পদ পাঠ করছি। সেখানে বলা হয়েছে; সপ্তাহের প্রথম দিনের ভোর বেলায়, অন্ধকার থাকতেই মগদলীনী মরিয়ম সেই কবরের কাছে গেলেন। তিনি দেখলেন কবরের মুখের পাথরখানা সরানো হয়েছে। সেই একই দিনে, সপ্তাহের প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় যীশু খ্রিস্টের শিষ্যরা যিহুদী নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। এক সপ্তাহ পরে উম্মতেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাদের সাথে ছিলেন। আমেন। সপ্তাহের প্রথমদিনকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যখন ইসরাইল সহ পুরো মানব সভ্যতা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, মানবজাতির সেই অন্ধকার সময়ে, মানবজাতির সেই ক্রান্তিলগ্নে যীশুখ্রিষ্ট মর্ত্যের পৃথিবীতে আসলেন মুক্তির বারতা নিয়ে। আমাদের মুক্তির জন্য, মানবজাতির মুক্তির জন্য তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরন করলেন। তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরন করলেন মানব জাতিকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। যীশুখিস্টের সমসাময়িক সময়ে ইহুদী ও ফরীশিরা একহাজার পাচশচ একুশটি আইন তৈরী করেছিল যে বিশ্রামবারে এই আইনগুলি ভংগ করা যাবে না, কিন্তু যীশু খ্রিষ্ট সেই সমস্ত আইন ভাংলেন। তিনি বললেন; এই বিশ্রামবারে অসুস্থকে সুস্থ করা যাবে, মানুষের সেবা করা যাবে, অসহায়কে সাহায্য করা যাবে। যীশু খ্রিষ্ট বলেছেন; হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোকসকল, তোমরা আমার নিকটে আস, আমিই তোমাদের বিশ্রাম দেব। মথি ছয় অধ্যায়ের তেত্রিশ পদে বলা হয়েছে; কিন্তু তোমরা প্রথমে ইশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে ও তার ইচ্ছামত চলবার বিষয়ে ব্যাস্ত হও। তাহলে ঐ সব জিনিসও তোমরা পাবে। কালকের বিষয় চিন্তা করো না। আমেন। আমার ছোট বেলার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল তখন আমার বয়স দশ-বার বছর হবে। উনিশো আটাশির বন্যায় সারা দেশের অনেকাং তলিয়ে গেল। আমাদের গ্রামে আমার বাবার চাষ করা দুই থেকে তিন বিঘা জমির পাকা ধানও একদিন পানির নিচে তলিয়ে গেল্ সেদিন ছিল সপ্তাহের প্রথমদিন রবিবার। প্রতিবেশীরা সবাই বলল, তাড়াতাড়ি লোকবল নিয়ে যাও, জমির ধান কেটে আন। আমার বাবা বললেন, আজ রবিবার, আমাকে মন্দিরে যীশুর ঘরে যেতে হবে। যীশু যদি আমার ধান রক্ষা করতে চান তবে সেটা রক্ষা হবে। তাছাড়া পানিতে তলিয়ে যাওয়া দুই থেকে তিন বিঘা জমির ধান একদিনে কাটাও সম্ভব ছিল না। কিন্তু ইশ্বরের আর্শীবাদে পরদিন জমিতে গিয়ে দেখি ধান এক বিঘত পরিমান পানির উপরে উঠে গেছে। আমেন। প্রথম করিয়ান্থিয় ষোল অধ্যায়ের দ্বিতীয় পদে বলা হয়েছে; তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের আয় অনুসারে সপ্তাহের প্রথম দিনে কিছু তুলে জমা করে রেখ, যেন আমি আসলে চাদা তুলতে না হয়। এখানে গিজার্য় দানের বিষয়ে বলা হয়েছ্ আমরা অনেকে এক টাকা-দুই টাকা দান হিসেবে দেই। এই অভ্যেস আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। মথি আঠারো অধ্যায়ের আঠারো পদে বলা হয়েছে; আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা দুনিয়াতে যা বাধবে তা স্বর্গেও বেধে রাখা হবে। আর যা খুলবে তা স্বর্গেও খুলে দেওয়া হবে। আমেন। প্রকাশিত বাক্য প্রথম অধ্যায়ের নয় ও দশ পদে বলা হয়েছে; যীশু খ্রিষ্টের সংগে যুক্ত হয়ে আমি তোমাদের সংগে একই কষ্ট, একই রাজ্য এবং একই ধৈর্যের ভাগী হয়েছি। ইশ্বরের বাক্য ও যীশু খ্রিষ্টের সাক্ষি প্রচার করেছিলাম বলে আমাকে পাটম দ্বীপে রাখা হয়েছিল। প্রভুর দিন এক রবিবারে আমি বিশেষভাবে পবিত্র আত্মার বশে ছিলাম। আমেন। এই রবিবার প্রভু যীশু খ্রিষ্টের দিন। এই রবিবারেই প্রভু যীশুখ্রিষ্ট একাধিকবার তার শিষ্যদের মাঝে দেখা দিয়েছিলেন। আমেন। আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় যখন আমি ক্লাস টু’তে পড়ি তখন আইসক্রিম ওয়ালার সুর করে গাওয়া গানের কলি; ভাল আছি, ভাল থেকো। আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো। দাদু আমার কাছে শুনতে চাইতেন আইসক্রিম ওয়ালা সুর করে গ্রামরে মেঠো পথ ধরে কী গান গেয়ে যাচ্ছে। আমি একদিন দাদুকে শুনালাম। আমি অবাক হলাম বুড়ো দাদু এই গানে এখনো যৌবনের আবেগ খুজে পান? দাদুকে জিজ্ঞেস করতে দাদু আমাকে বলল; এই গানের মানে তুই কি বুঝবি। আমি যখন ক্ষেতের আইলে বসে হুক্কা টানি আর আইসক্রিম ওয়ালার গাওয়া গান স্মরন করি তখন ইশ্বরের ডান পার্শ্বে বসে থাকা প্রভু যীশু খ্রিষ্টের সাথে আমার এক ধরনের যোগাযোগ অনুভব করি। আমেন। জয় যীশু। সবাইকে ইম্মানুয়েল।

 
স্পিকার: আইজ্যাক দিপ্তী হালদার
মাস্টার্স অফ থিওলজি
খ্রিস্টান কলেজ অফ থিওলজি বাংলাদেশ (সিসিটিবি)।
Share:

0 comments: