Monday

Tagged under: , , ,

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (৫ মে ২০১৩ ইং)

সকলকে ইম্মানুয়েল। ইশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি আজকে আমাদের উপস্থিত সবাইকে তার মন্দিরে আসতে দিয়েছেন। যারা এখনো পথে আছে তারা যেন দ্রুত পৌছাতে পারে সেই প্রার্থনা করি, আর যারা আসতে পারছে না তারা যে ইশ্বরের অনুগ্রহ হতে বঞ্চিত হয়েছে তা বলব না কারন দেশের যে পরিস্থিতি আমরা সবাই তা অনুধাবন করতে পারছি। আমি লুক লিখিত সুসমাচারের চব্বিশ অধ্যায়ের তের থেকে পয়ত্রিশ পদ পর্যন্ত পড়ছি। সেখানে বলা হয়েছে; সেই দিনেই দু’জন শিষ্য ইম্মায়ূ নামে একটা গ্রামে যাচ্ছিলেন। গ্রামটা যিরূশালেম থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে ছিল। যা ঘটেছে তা নিয়ে তাঁরা আলাপ-আলোচনা করছিলেন। সেই সময় যীশু নিজেই সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সংগে হাঁটতে আরম্ভ করলেন। তাঁদের চোখ যেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাই তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন না। তখন যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কি কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন?” সেই দু’জন শিষ্য ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন। তখন ক্লিয়পা নামে তাঁদের মধ্যে একজন যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনিই কি যিরূশালেমের একমাত্র লোক যিনি জানেন না এই কয়দিনে সেখানে কি কি ঘটছে?” যীশু তাঁদের বললেন, “কি কি ঘটেছে?” তাঁরা বললেন, “নাসরত গ্রামের যীশুকে নিয়ে যা যা ঘটেছে। তিনি নবী ছিলেন। তিনি কাজে ও কথায় ঈশ্বর ও সমস্ত লোকের চোখে শক্তিশালী ছিলেন। আমাদের প্রধান পুরোহিতেরা ও ধর্ম-নেতারা তাঁকে রোমীয়দের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন যাতে তারা তাঁর বিচার করে তাকে মৃত্যুর শাস্তি দেয়। পরে সেই যিহূদী নেতারা তাঁকে ক্রুশে দিয়েছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম তিনিই ইস্রায়েল জাতিকে মুক্ত করবেন। কেবল তা-ই নয়, আজ তিন দিন হল এই সব ঘটনা ঘটেছে। আবার আমাদের দলের কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করেছেন। তাঁরা খুব সকালে যীশুর কবরে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর দেহ দেখতে পান নি। তাঁরা ফিরে এসে বললেন, তাঁরা স্বর্গদূতদের দেখা পেয়েছেন আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন যে, যীশু বেঁচে আছেন। তখন আমাদের সংগে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কবরে গিয়ে স্ত্রীলোকেরা যেমন বলেছিলেন ঠিক তেমনি দেখতে পেলেন, কিন্তু যীশুকে দেখতে পেলেন না।” তখন যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কিছুই বোঝেন না। আপনাদের মন এমন অসাড় যে, নবীরা যা বলেছেন তা আপনারা বিশ্বাস করেন না। এই সমস্ত কষ্ট ভোগ করে কি মশীহের মহিমা লাভ করবার কথা ছিল না?” এর পরে তিনি মোশির এবং সমস্ত নবীদের লেখা থেকে আরম্ভ করে গোটা পবিত্র শাস্ত্রের মধ্যে তাঁর নিজের বিষয়ে যা যা লেখা আছে তা সবই তাঁদের বুঝিয়ে বললেন। তাঁরা যে গ্রামে যাচ্ছিলেন সেই গ্রামের কাছাকাছি আসলে পর যীশু আরও দূরে যাবার ভাব দেখালেন। তখন তাঁরা খুব সাধাসাধি করে তাঁকে বললেন, “এখন বেলা গেছে, সন্ধ্যা হয়েছে। আপনি আমাদের সংগে থাকুন।” এতে তিনি তাঁদের সংগে থাকবার জন্য ঘরে ঢুকলেন। যখন তিনি তাঁদের সংগে খেতে বসলেন তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন এবং তা টুকরা করে তাঁদের দিলেন। তখন তাঁদের চোখ খুলে গেল; তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, কিন্তু তার সংগে সংগেই তাঁকে আর দেখা গেল না। তখন তাঁরা একে অন্যকে বললেন, “রাস্তায় যখন তিনি আমাদের সংগে কথা বলছিলেন এবং পবিত্র শাস্ত্র বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তখন আমাদের অন্তর কি জ্বলে জ্বলে উঠছিল না?” তখনই সেই দু’জন উঠে যিরূশালেমে গেলেন এবং সেই এগারোজন শিষ্য ও তাঁদের সংগে অন্যদেরও এক জায়গায় দেখতে পেলেন। প্রভু যে সত্যিই জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং শিমোনকে দেখা দিয়েছেন তা নিয়ে তখন তাঁরা আলোচনা করছিলেন। সেই দু’জন শিষ্য রাস্তায় যা হয়েছিল তা তাঁদের জানালেন। তাঁরা আরও জানালেন, তিনি যখন রুটি টুকরা টুকরা করছিলেন তখন কেমন করে তাঁরা তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন।
যীশু খ্রিষ্টের পুনুরুত্থান থেকে স্বর্গে আহরোন পর্যন্ত যীশু খ্রিষ্ট চল্লিশ দিন পর্যন্ত এই জাগতিক পৃথিবীতে অবস্থান করে তার শিষ্যদের সাথে বহুবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। শিষ্যদের দেখা দিয়ে তিনি তাদের সাহস যুগিয়েছেন, প্রেরনা যুগিয়েছেন কারন তিনি তাদের বলেছিলেন তোমরা এই সুসংবাদ দুনিয়ার শেষ সীমা পর্যন্ত প্রচার কর, দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টিজগতের কাছে যাও এই এই সুসংবাদ প্রচার কর। অনেকে দুর্বল বিশ্বাসের কারনে যীশু খ্রিষ্টের পুনুরুত্থান বিশ্বাস করতে চাইছিল না কারন যারা তাকে প্রভু বলে মান্য করত, রাজাধিরাজ খেতাবে ভুষিত করেছিল তাদের চোখের সামনে যীশুখ্রিস্টের ক্রশে মৃত্যুবরন তারা মানতে পারছিল না এবং তার এইভাবে মৃত্যুবরনের পর যে তিনি আবার জীবিত হয়ে উঠবেন সেটা তারা জানত কিন্তু চোখে না দেখা পর্যন্ত তাদের অনেকে বিশ্বাস করতে চাইছিল না কারন যীশু খ্রিস্টের মৃত্যুর পর তারা ভক্তকুল বিভিন্নভাবে ইহুদিদের দ্বারা নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছিল। তাই যীশুখ্রিস্ট আবার তার ভক্তদের মাঝে ফিরে আসলেন। এই অধ্যায়ে ক্লিয়পা নামে যে ব্যাক্তির কথা বলা হয়েছে তিনিও যীশুখ্রিস্টের অন্যতম একজন শিষ্য ছিলেন যদিও তিনি প্রধান বারজন শিষ্যের কেউ ছিলেন না কিন্তু ক্লিয়পা তাদের সাথেই থাকতেন। ক্লিয়পা তার স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে জেরুজলেম ছেড়ে ইয়াম্মু গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন কারন যীশুখ্রিস্ট নেই তাই তারা সেখানে থাকার সাহস, প্রেরনা বা কারন খুজে পাচ্ছিলেন না। তখন বিকেল গড়িয়ে ক্রমশ সন্ধ্যে হচ্ছিল। সুর্যের আলোয় আলোকিত দিনের আলোকে পিছনে ফেলে ক্রমশ সন্ধ্যের আধারের দিকে চলছেন দুই মুসাফির। আলো থেকে অন্ধকারের পথে চলছেন জীবন্ত বাক্যের দুই সাক্ষী ক্লিয়পা এবং তার সহধর্মীনি মরিয়ম। কিন্তু আধার ঘনিয়ে আসা ঘোর অন্ধকার পথে কে তাদের পথ দেখাবে আর কেই-বা তাদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনবে, কে তাদের একটু সাহস জোগাবে। ভারাক্লান্ত মনে, ভয়কাতুর মনে প্রিয় জেরুজালেম শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন যীশুখ্রিস্টের দুইজন শিষ্য। কিন্তু যীশুখ্রিস্ট যাকে তার সুসংবাদ প্রচারের জন্য নির্বাচিত করে রেখেছেন তাকে তিনি ব্যর্থ হতে দেবেন তা কি করে হয়? এই সেই শহর জেরুজালেম যে শহরের পাপী আর অবুঝ মানুষেরা নবীদের হত্যা করত, এই সেই শহর জেরুজালেম যে শহর একদিন যীশু খ্রিস্টের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছিল, হোসান্না-হোসান্না ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিল জেরুজালেমের আকাশ বাতাস কারন প্রভু-রাজাধিরাজ যীশু খ্রিস্ট এই শহরে এসেছেন কিন্তু একদিন এই জেরুজালেম স্বয়ং প্রভুকেও হত্যা করল তাই এখানে থাকার আর কোন মানে হয় না। এটা যেন মৃত্যুপুরী, মৃ্ত্যুর করাল থাবা যেন সবাইকে গ্রাস করবে তাই ক্লিয়পা আর মরিয়ম এই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ইয়াম্মু গ্রামে। কিন্তু প্রভুর দেয়া জীবন ব্যবস্থাতো অন্ধকারের পথ নয় বরং আলোকিত পথ। অন্ধকারে ধাবমান পথে তারা হাটছিলেন আর প্রভু যীশু খ্রিস্টকে নিয়ে যা ঘটেছিল সেইসব নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। তাদের ক্লান্ত পথের সংগী হলেন স্বয়ং যীশুখ্রিস্ট, তিনি উপস্থিত হয়ে তাদের সাথে হাটতে লাগলেন এবং একসময় তাদের আলোচনায় অংশ নিলেন। এবং যখন তারা যীশুখ্রিস্টের সাথে খেতে বসলেন এবং যীশুখ্রিস্ট রুটি টুকরো করে তাদের খেতে দিলেন তখন তারা প্রভু খ্রিস্টকে চিনতে পারল। পরক্ষনেই তিনি আবার অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী আবার জেরুজালেমে ফিরে এসে যীশুখ্রিস্টের জীবিত হয়ে উঠবার বিষয়ে সাক্ষী দিতে লাগলেন। এভাবেই যীশুখ্রিস্ট অসংখ্যবার তার ভক্ত ও শিষ্যদের মাঝে দেখা দিয়েছেন। ক্লিয়পার স্ত্রী যীশুখ্রিস্টের মৃত্যুর অন্যতম একজন সাক্ষী। যোহন উনিশ অধ্যায়ের পচিশ পদে বলা হয়েছে; যীশু খ্রিস্টের মা, তার মায়ের বোন, ক্লিয়পার স্ত্রী মরিয়ম আর মগদালীনি মরিয়ম যীশুর ক্রশের কাছে দাড়িয়ে ছিলেন। তাই ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী মরিয়মকে দেখা দেওয়া যীশুখ্রিস্ট প্রয়োজন মনে করেছিলেন কারন তাদের মাধ্যমে তিনি ইশ্বরের এই সুসংবাদ প্রচার করবেন আগেই ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ক্লিয়পাকেও কেন তিনি দেখা দিলেন, লুক চব্বিশ অধ্যায়ের দশ ও এগারো পদ পড়লে সেটা আরো পরিস্কার হবে; সেই স্ত্রী লোকদের মধ্যে ছিলেন মগদলীনি মরিয়ম, যোহানা ও ইয়াকুবের মা মরিয়ম। তাদের সংগে আর অন্য যে স্ত্রী লোকেরা ছিলেন তারাও এই সমস্ত কথা প্রেরিতগনকে বললেন। কিন্তু সেইসব কথা তাদের কাছে বাজে কথার্ মতই মনে হল। সেই জন্য স্ত্রীলোকদের কথা তারা বিশ্বাস করলেন না। তাই মরিয়মের মাঝে যীশুখ্রিস্ট এমন সময় দেখা দিলেন যখন তার সাথে তার স্বামী ক্লিয়পাও ছিলেন। যেন মরিয়মের মুখের কথা আরো জোরালো ও বিশ্বাসযোগ্য হয়। এভাবে যীশুখ্রিস্ট বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে তার শিষ্যদের সাথে চল্লিশদিন পর্যন্ত সাক্ষাত করেছেন। তাদের অন্তরে ভালবাসা বৃদ্ধি করেছেন, প্রেরনা দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন যেন তারা দুনিয়ার সকল প্রান্তে গিয়ে সকল জাতির কাছে এই সুসংবাদ প্রচার করে। এভাবেই ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী মরিয়ম প্রভু যীশু খ্রিস্টের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ইশ্বরের রাজ্যের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। আমিন।
হে আমাদের স্বগীর্য় পিতা, তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন বেহেশতে তেমনি দুনিয়াতেও পুর্ন হোক।  যে খাবার আমাদের দরকার তা আজ আমাদের দাও।  যারা আমাদের উপর অন্যায় করে, আমরা যেমন তাদের মাফ করেছি তেমনি তুমিও আমাদের সমস্ত অন্যায় মাফ কর।  আমাদের তুমি পরীক্ষায় পড়তে দিয়ো না,  বরং শয়তানের হাত থেকে রক্ষা কর। এই মুনাজাত আমাদের স্বর্গীয় পিতা যীশুখ্রিস্টের নামে চাই।  আমিন।



স্পিকার: রেভারেন্ড জেমস অজিত কর্মকার
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
৫ মে ২০১৩ ইং

0 Comments: