Thursday

Tagged under: , , , , , , , , , ,

Revelation of Psychohistorical Mathematics by Hatashe, Dissertation I

Hatashe the Informal Mathematician to the all Mathematicians and Physicists belongs to the entire world. The Mathematics about Psychohistory, the term Psychohistory popularized by Isaac Asimov in his Foundation Series and actually the idea developed by United States Founding Father's team which was lead by George Washington. Psychohistory is a branch of science that could predict the general course of future flow. First I would like to give special thanks to three books and its authors; the Republic by Plato, Foundation by Asimov and Audacity by Obama. The three books were helpful to understand the Psychohistorical Literacy. I am still trying to give its Psychohistorical Mathematics shape. Calculus was established by Newton and Leibnitz and today it is enough mature but the Psychohistory is a new born mathematics, not reached to such stage yet that could predict the future. I will not discuss here the literacy pose of psychohistory because already I stated lot of literacy description in my previous book 'Prime Radiant device Obama: Maliatashe's Hypothesis and the Principle Mathematics of Applied Psychohistory.' So, directly I will point out here mathematical definitions and Psychohistorical Mathematics that one day will come when psychohistory will be reached to such stage that can able to predict the future.  

Let, T and S is the two Grids of Psychohistorical Revelation. Wherever 'T' stands for 'Time' and 'S' stands for 'Situation'.  So, T is the Revelation of P, as well S is the Revelation of P, and T & S both is the coordinates of P. Now, if r the grid of T will be saturated to the b the grid of S, so r will be the feature equation of b.  Wherever, r stands for Speaker Red and b stands for Obama Black. As well the same formula will applicable for Deviation Blue (bl), Notation Green (g), Projection Purple (p), White House (h), and Red Square Kremlin (rk).
So, the above equation's primary outline will be like þ(r) = X+Y+280

280 G.E. (G.E. Stands for George Era or Galactic Era, equivalent to 2012 C.E.)

As well þ(b), þ(bl), þ(g), þ(p), þ(h), þ(rk) will be same.

From Hatashe's 2nd Law which is Equation of Section 42R254,
S = 8.943518519, Where, 'S' is a Constant of Seldon plan or Seldon Constant.

If F= b, þ, bl, g, p, rk

So, þ(Ft) will be truth for any color equations of b, þ, bl, g, p, rk and for it's any values.

Dear Scientists, as per your response and valuable suggestions, I hope I will able to define a general course of past, present and future in the next paper, through mathematical equations along with the Maclaurin's Theorem. Maclaurin's Theorem states that the theorem giving conditions when a function, which is infinitely differentiable, may be represented in a neighborhood of the origin as an infinite series with nth term (1/n!) · ƒ(n)(0) · xn, where ƒ(n) denotes the nth derivative.

Maclaurin's theorem is a specific form of Taylor's theorem, or a Taylor's power series expansion, where c = 0 and is a series expansion of a function about zero. The basic form of Taylor's theorem is: n = 0 (f(n)(c)/n!)(x - c)n. When the appropriate substitutions are made Maclaurin's theorem is:

f (x) = f(0) + f'(0)x + f''(0)x2/2! + f(3)(0)x3/3! + ... f(n)(0)xn/n! +....

The Taylor's theorem provides a way of determining those values of x for which the Taylor series of a function f converges to f(x). I hope to get a response from you, Sir. 



Note: Revelation of Psychohistorical Mathematics by Hatashe, Dissertation I First Published at modernghana.com

http://www.modernghana.com/img/logo_img.png

Monday

Tagged under: , , ,

সানডে লেকচার অফ বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ (১২ মে ২০১৩ ইং)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। আজ বিশ্ব মা দিবসে সবাইকে খ্রিস্টিয় প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ তিনি এক সপ্তাহ পরে আবার আমাদের সবাইকে একসাথে মিলিত হবার সুযোগ দিয়েছেন, আমাদের সুস্থ রেখেছেন। আদি পুস্তকের প্রথম অধ্যায়ের আটাশ পদে বলা হয়েছে; ইশ্বর তাদের আর্শীবাদ করে বললেন, তোমরা বংশবৃদ্ধির ক্ষমতায় পুর্ন হও আর নিজেদের সংখ্যা বাড়িয়ে পৃথিবী ভরে তোল এবং পৃথিবীকে নিজেদের শাসনের অধীনে আন। এছাড়া তোমরা সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখী এবং মাটির উপরে ঘুরে বেড়ানো প্রতিটি প্রানীর উপরে রাজত্ব কর। আদি পুস্তকের তৃতীয় অধ্যায়ের বিশ পদে বলা হয়েছে; আদম তার স্ত্রীর নাম দিলেন হবা (যার মানে জীবন) কারন তিনি সমস্ত জীবিত লোকদের মা হবেন। আজ বিশ্ব মা দিবস কিন্তু আমরা কতটুকু মায়ের প্রতি দায়িত্বগুলি পালন করি? পশ্চিমা সংস্কৃতি যদিও এখনো আমাদের মাঝে সেভাবে আসে নি, আমরা চেষ্টা করি মায়েদের নিজের কাছেই রাখার জন্য কিন্তু অনেকে আছেন যারা শহরে চাকরি করেন, ভাল বাসায় থাকেন কিন্তু বৃদ্ধ মা’কে রাখার জন্য একটুখানি জায়গা তার বাসায় হয় না। রাশিয়ান লেখক ইভানের একটি বই থেকে আমি কিছু ঘটনা টানছি, জানি না ঘটনাটা সত্যি কিনা। বাংলাদেশের ইমদাদুল হক মিলনও এমন একটি একটি লেখা লিখেছিলেন। ঘটনাটা এমন; এক মা তার সন্তানকে খুবই ভালবাসত। এতটাই ভালবাসত যে, ছেলেটা যখন ছোট সে কখনো সন্তানকে মাটিতে রাখেনি যদি পিপড়ায় তাকে কামড়ায়, মাথার উপরে রাখেননি যদি মাথার উকুনু তাকে কামড়ায়। খুব আদর যত্ন করে তাকে বড় করে তুলল। একদিন সেই ছেলে বড় হয়ে এক মেয়ের প্রেমে পড়ল। মেয়েটি প্রথমে তাকে পাত্তা দিত না কিন্তু অনেক চেষ্টার পরে মেয়েটি রাজী হল এবং বলল; তুমি তো তোমার মা’কে খুব ভালবাস, কিন্তু আমাকে কতটা ভালবাস সেই পরীক্ষা তোমাকে দিতে হবে। তোমার মায়ের হ্দপিন্ড আমাকে এনে দিতে হবে। ছেলেটি মেয়েটিকে বলল; আমার মা আমাকে খুব ভালবাসে, তিনি আমার জন্য সবকিছু করতে পারেন। আমি মাকে গিয়ে বলে দেখি। তিনি কি বলেন। যথারীতি ছেলেটি বাসায় গিয়ে তার মাকে বলল। উত্তরে ছেলেটির মা তাকে বলল; আমার ছেলে আমার জীবন, আমার হৃদয়। আমার জীবন আমার কাছে জীবন চেয়েছে আমি দেব না তা কি হয়? ঠিক আছে তুমি আমাকে হত্যা করে আমার হৃদপিন্ড নিয়ে তোমার প্রেমিকাকে দাও। ছেলেটি মাকে হত্যা করে মায়ের হৃদপিন্ড নিয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছিল হঠাৎ সে হোচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে যায়, তার হাত থেকে হৃদপিন্ডটা ছিটকে পড়ে যায়। ছেলেটি শুনতে পায় তার মা তাকে বলছে; ব্যাথা পেয়েছিস বাবা? প্রকৃতপক্ষে এই গল্পটা দ্বারা মায়ের ভালবাসার প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের মা আমাদের কাছে কতটা মুল্যবান অনেক সময় আমরা সেটা বুঝতে পারি না। প্রথম রাজাবলি তৃতীয় অধ্যায়ে মায়ের ভালবাসার একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। দুজন বেশ্যা স্ত্রীলোক একই গৃহে থাকত এবং তাদের দুটি ছেলে সন্তান হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরে এক রাতে একজনের সন্তানটি মারা গেলে সে রাতের আধারে তার মৃত বাচ্চাকে অন্য মায়ের কোলে রেখে জীবিত বাচ্চাটি চুরি করে আনল কিন্তু প্রকৃত মা বাদশা সোলায়মানের কাছে বিচার দিল তার ছেলেকে ফিরিয়ে দেবার জন্য। বাদশা সোলায়মান বললেন; দুজনেই যেহেতু ছেরেটির মাতৃত্বের দাবী করছে, ঠিক আছে আমি ছেলেটিকে কেটে দু‘টুকরো করে দুজনকে দিব। তিনি সন্তানটিকে কাটার জন্য যখন তলোয়ার তুলেছেন তখন প্রকৃত মা বলল; ঠিক আছে আমার ছেলের প্রয়োজন নেই, আপনী ছেলেটিকে ওই মহিলার কোলেই দিয়ে দিন তবুও তো আমার সন্তান বেচে থাকুক। বাদশা সোলায়মান বললেন; ছেলেটিকে এই মায়ের কাছে ফিরিয়ে দাও কারন এই মহিলাটিই তার প্রকৃত মা। ইপিষীয় ছয় অধ্যায়ের প্রথম তিন পদে বলা হয়েছে; ছেলে মেয়েরা, প্রভু যেভাবে চান সেইভাবে তোমরা মা-বাবার বাধ্য হয়ে চল, কারন সেটাই হওয়া উচিত। পবিত্র শাস্ত্রে প্রথম যে আদমের সাথে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছে তা এই- তোমার মা বাবাকে সম্মান কর যেন তার মংগল হয় এবং তুমি অনেকদিন পর্যন্ত পৃথিবীতে বেচে থাকতে পারবে। ছোটবেলায় আমি বেশী করে ঠাকুর’মার কাছে কাছে থাকতাম, তিনি একদিন আমাকে একটি সত্য ঘটনা বলেছিলেন, আর সেটা হল এমন যে একলোকের বৃদ্ধ মা মারা যাবার পরে তিনি মায়ের সমাধির উপরে অনেক টাকা খরচ করে বিশাকৃতির একটি মঠ নির্মান করে বললেন; আমার মায়ের যত ঋন, মায়ের দুধের ঋন আজ আমি শোধ করে দিলাম। ঠাকুরমা আমাকে বললেন; কিছুদিন পরে সেই বিশাল মঠটি একধারে হেলে পড়ল। মায়ের একফোটা দুধের দাম কি কখনো শোধ করা যায়? তাইতো ফকির আলমগীর গেয়েছেন; মায়ের একফোটা দুধের দাম, কাটিয়া গায়ের চাম-পাপস বানাইয়া দিলেও শোধ হবে না। মায়ের দোয়া, মায়ের আর্শীবাদ হচ্ছে সন্তানের জন্য জীবন। হিতোপদেশ তৃতীয় অধ্যায়ের বাইশ পদে বলা হয়েছে; তোমার জন্য তা হবে জীবন, তোমার গলার জন্য তা হবে সুন্দর হারের মত। বৃদ্ধ মা বাবাকে ভালবাসতে হবে, তাদের প্রাপ্য সম্মান তাদের দিতে হবে। মা বাবা বৃদ্ধ হয়ে গেলে অনেক সন্তানরা তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকে। মায়ের প্রতি ছোটবেলার মত সেই আদর, ভালবাসা আর সম্মানবোধ থাকে না। লেবীয় পুস্তকের উনিশ অধ্যায়ের বত্রিশ পদে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সম্মানের ব্যপারে বলা হয়েছে; যারা বৃদ্ধ তারা কাছে আসলে উঠে দাড়াতে হবে এবং তাদের সম্মান করতে হবে। তোমরা তোমাদের ইশ্বরকে ভক্তিপুর্ন ভয় করবে। আমি সদাপ্রভু। আমাদের সবাইকে খেয়াল হবে নিয়মিত কর্মব্যাস্ততার মাঝেও আমরা যেন আমাদের বৃদ্ধ মা বাবার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যগুলি ভুলে না যাই। আজ বিশ্ব মা দিবসে সবাইকে আবারও খ্রিষ্টিয় প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আমেন। 


বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার 
১২ মে ২০১৩ ইং 
স্পিকার: রেভারেন্ড সুশান্ত বৈরাগী 
পালক, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ 
সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট সংঘ।
Tagged under: , , ,

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (৫ মে ২০১৩ ইং)

সকলকে ইম্মানুয়েল। ইশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি আজকে আমাদের উপস্থিত সবাইকে তার মন্দিরে আসতে দিয়েছেন। যারা এখনো পথে আছে তারা যেন দ্রুত পৌছাতে পারে সেই প্রার্থনা করি, আর যারা আসতে পারছে না তারা যে ইশ্বরের অনুগ্রহ হতে বঞ্চিত হয়েছে তা বলব না কারন দেশের যে পরিস্থিতি আমরা সবাই তা অনুধাবন করতে পারছি। আমি লুক লিখিত সুসমাচারের চব্বিশ অধ্যায়ের তের থেকে পয়ত্রিশ পদ পর্যন্ত পড়ছি। সেখানে বলা হয়েছে; সেই দিনেই দু’জন শিষ্য ইম্মায়ূ নামে একটা গ্রামে যাচ্ছিলেন। গ্রামটা যিরূশালেম থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে ছিল। যা ঘটেছে তা নিয়ে তাঁরা আলাপ-আলোচনা করছিলেন। সেই সময় যীশু নিজেই সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সংগে হাঁটতে আরম্ভ করলেন। তাঁদের চোখ যেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাই তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন না। তখন যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কি কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন?” সেই দু’জন শিষ্য ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন। তখন ক্লিয়পা নামে তাঁদের মধ্যে একজন যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনিই কি যিরূশালেমের একমাত্র লোক যিনি জানেন না এই কয়দিনে সেখানে কি কি ঘটছে?” যীশু তাঁদের বললেন, “কি কি ঘটেছে?” তাঁরা বললেন, “নাসরত গ্রামের যীশুকে নিয়ে যা যা ঘটেছে। তিনি নবী ছিলেন। তিনি কাজে ও কথায় ঈশ্বর ও সমস্ত লোকের চোখে শক্তিশালী ছিলেন। আমাদের প্রধান পুরোহিতেরা ও ধর্ম-নেতারা তাঁকে রোমীয়দের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন যাতে তারা তাঁর বিচার করে তাকে মৃত্যুর শাস্তি দেয়। পরে সেই যিহূদী নেতারা তাঁকে ক্রুশে দিয়েছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম তিনিই ইস্রায়েল জাতিকে মুক্ত করবেন। কেবল তা-ই নয়, আজ তিন দিন হল এই সব ঘটনা ঘটেছে। আবার আমাদের দলের কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করেছেন। তাঁরা খুব সকালে যীশুর কবরে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর দেহ দেখতে পান নি। তাঁরা ফিরে এসে বললেন, তাঁরা স্বর্গদূতদের দেখা পেয়েছেন আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন যে, যীশু বেঁচে আছেন। তখন আমাদের সংগে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কবরে গিয়ে স্ত্রীলোকেরা যেমন বলেছিলেন ঠিক তেমনি দেখতে পেলেন, কিন্তু যীশুকে দেখতে পেলেন না।” তখন যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কিছুই বোঝেন না। আপনাদের মন এমন অসাড় যে, নবীরা যা বলেছেন তা আপনারা বিশ্বাস করেন না। এই সমস্ত কষ্ট ভোগ করে কি মশীহের মহিমা লাভ করবার কথা ছিল না?” এর পরে তিনি মোশির এবং সমস্ত নবীদের লেখা থেকে আরম্ভ করে গোটা পবিত্র শাস্ত্রের মধ্যে তাঁর নিজের বিষয়ে যা যা লেখা আছে তা সবই তাঁদের বুঝিয়ে বললেন। তাঁরা যে গ্রামে যাচ্ছিলেন সেই গ্রামের কাছাকাছি আসলে পর যীশু আরও দূরে যাবার ভাব দেখালেন। তখন তাঁরা খুব সাধাসাধি করে তাঁকে বললেন, “এখন বেলা গেছে, সন্ধ্যা হয়েছে। আপনি আমাদের সংগে থাকুন।” এতে তিনি তাঁদের সংগে থাকবার জন্য ঘরে ঢুকলেন। যখন তিনি তাঁদের সংগে খেতে বসলেন তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন এবং তা টুকরা করে তাঁদের দিলেন। তখন তাঁদের চোখ খুলে গেল; তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, কিন্তু তার সংগে সংগেই তাঁকে আর দেখা গেল না। তখন তাঁরা একে অন্যকে বললেন, “রাস্তায় যখন তিনি আমাদের সংগে কথা বলছিলেন এবং পবিত্র শাস্ত্র বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তখন আমাদের অন্তর কি জ্বলে জ্বলে উঠছিল না?” তখনই সেই দু’জন উঠে যিরূশালেমে গেলেন এবং সেই এগারোজন শিষ্য ও তাঁদের সংগে অন্যদেরও এক জায়গায় দেখতে পেলেন। প্রভু যে সত্যিই জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং শিমোনকে দেখা দিয়েছেন তা নিয়ে তখন তাঁরা আলোচনা করছিলেন। সেই দু’জন শিষ্য রাস্তায় যা হয়েছিল তা তাঁদের জানালেন। তাঁরা আরও জানালেন, তিনি যখন রুটি টুকরা টুকরা করছিলেন তখন কেমন করে তাঁরা তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন।
যীশু খ্রিষ্টের পুনুরুত্থান থেকে স্বর্গে আহরোন পর্যন্ত যীশু খ্রিষ্ট চল্লিশ দিন পর্যন্ত এই জাগতিক পৃথিবীতে অবস্থান করে তার শিষ্যদের সাথে বহুবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। শিষ্যদের দেখা দিয়ে তিনি তাদের সাহস যুগিয়েছেন, প্রেরনা যুগিয়েছেন কারন তিনি তাদের বলেছিলেন তোমরা এই সুসংবাদ দুনিয়ার শেষ সীমা পর্যন্ত প্রচার কর, দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টিজগতের কাছে যাও এই এই সুসংবাদ প্রচার কর। অনেকে দুর্বল বিশ্বাসের কারনে যীশু খ্রিষ্টের পুনুরুত্থান বিশ্বাস করতে চাইছিল না কারন যারা তাকে প্রভু বলে মান্য করত, রাজাধিরাজ খেতাবে ভুষিত করেছিল তাদের চোখের সামনে যীশুখ্রিস্টের ক্রশে মৃত্যুবরন তারা মানতে পারছিল না এবং তার এইভাবে মৃত্যুবরনের পর যে তিনি আবার জীবিত হয়ে উঠবেন সেটা তারা জানত কিন্তু চোখে না দেখা পর্যন্ত তাদের অনেকে বিশ্বাস করতে চাইছিল না কারন যীশু খ্রিস্টের মৃত্যুর পর তারা ভক্তকুল বিভিন্নভাবে ইহুদিদের দ্বারা নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছিল। তাই যীশুখ্রিস্ট আবার তার ভক্তদের মাঝে ফিরে আসলেন। এই অধ্যায়ে ক্লিয়পা নামে যে ব্যাক্তির কথা বলা হয়েছে তিনিও যীশুখ্রিস্টের অন্যতম একজন শিষ্য ছিলেন যদিও তিনি প্রধান বারজন শিষ্যের কেউ ছিলেন না কিন্তু ক্লিয়পা তাদের সাথেই থাকতেন। ক্লিয়পা তার স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে জেরুজলেম ছেড়ে ইয়াম্মু গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন কারন যীশুখ্রিস্ট নেই তাই তারা সেখানে থাকার সাহস, প্রেরনা বা কারন খুজে পাচ্ছিলেন না। তখন বিকেল গড়িয়ে ক্রমশ সন্ধ্যে হচ্ছিল। সুর্যের আলোয় আলোকিত দিনের আলোকে পিছনে ফেলে ক্রমশ সন্ধ্যের আধারের দিকে চলছেন দুই মুসাফির। আলো থেকে অন্ধকারের পথে চলছেন জীবন্ত বাক্যের দুই সাক্ষী ক্লিয়পা এবং তার সহধর্মীনি মরিয়ম। কিন্তু আধার ঘনিয়ে আসা ঘোর অন্ধকার পথে কে তাদের পথ দেখাবে আর কেই-বা তাদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনবে, কে তাদের একটু সাহস জোগাবে। ভারাক্লান্ত মনে, ভয়কাতুর মনে প্রিয় জেরুজালেম শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন যীশুখ্রিস্টের দুইজন শিষ্য। কিন্তু যীশুখ্রিস্ট যাকে তার সুসংবাদ প্রচারের জন্য নির্বাচিত করে রেখেছেন তাকে তিনি ব্যর্থ হতে দেবেন তা কি করে হয়? এই সেই শহর জেরুজালেম যে শহরের পাপী আর অবুঝ মানুষেরা নবীদের হত্যা করত, এই সেই শহর জেরুজালেম যে শহর একদিন যীশু খ্রিস্টের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছিল, হোসান্না-হোসান্না ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিল জেরুজালেমের আকাশ বাতাস কারন প্রভু-রাজাধিরাজ যীশু খ্রিস্ট এই শহরে এসেছেন কিন্তু একদিন এই জেরুজালেম স্বয়ং প্রভুকেও হত্যা করল তাই এখানে থাকার আর কোন মানে হয় না। এটা যেন মৃত্যুপুরী, মৃ্ত্যুর করাল থাবা যেন সবাইকে গ্রাস করবে তাই ক্লিয়পা আর মরিয়ম এই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ইয়াম্মু গ্রামে। কিন্তু প্রভুর দেয়া জীবন ব্যবস্থাতো অন্ধকারের পথ নয় বরং আলোকিত পথ। অন্ধকারে ধাবমান পথে তারা হাটছিলেন আর প্রভু যীশু খ্রিস্টকে নিয়ে যা ঘটেছিল সেইসব নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। তাদের ক্লান্ত পথের সংগী হলেন স্বয়ং যীশুখ্রিস্ট, তিনি উপস্থিত হয়ে তাদের সাথে হাটতে লাগলেন এবং একসময় তাদের আলোচনায় অংশ নিলেন। এবং যখন তারা যীশুখ্রিস্টের সাথে খেতে বসলেন এবং যীশুখ্রিস্ট রুটি টুকরো করে তাদের খেতে দিলেন তখন তারা প্রভু খ্রিস্টকে চিনতে পারল। পরক্ষনেই তিনি আবার অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী আবার জেরুজালেমে ফিরে এসে যীশুখ্রিস্টের জীবিত হয়ে উঠবার বিষয়ে সাক্ষী দিতে লাগলেন। এভাবেই যীশুখ্রিস্ট অসংখ্যবার তার ভক্ত ও শিষ্যদের মাঝে দেখা দিয়েছেন। ক্লিয়পার স্ত্রী যীশুখ্রিস্টের মৃত্যুর অন্যতম একজন সাক্ষী। যোহন উনিশ অধ্যায়ের পচিশ পদে বলা হয়েছে; যীশু খ্রিস্টের মা, তার মায়ের বোন, ক্লিয়পার স্ত্রী মরিয়ম আর মগদালীনি মরিয়ম যীশুর ক্রশের কাছে দাড়িয়ে ছিলেন। তাই ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী মরিয়মকে দেখা দেওয়া যীশুখ্রিস্ট প্রয়োজন মনে করেছিলেন কারন তাদের মাধ্যমে তিনি ইশ্বরের এই সুসংবাদ প্রচার করবেন আগেই ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ক্লিয়পাকেও কেন তিনি দেখা দিলেন, লুক চব্বিশ অধ্যায়ের দশ ও এগারো পদ পড়লে সেটা আরো পরিস্কার হবে; সেই স্ত্রী লোকদের মধ্যে ছিলেন মগদলীনি মরিয়ম, যোহানা ও ইয়াকুবের মা মরিয়ম। তাদের সংগে আর অন্য যে স্ত্রী লোকেরা ছিলেন তারাও এই সমস্ত কথা প্রেরিতগনকে বললেন। কিন্তু সেইসব কথা তাদের কাছে বাজে কথার্ মতই মনে হল। সেই জন্য স্ত্রীলোকদের কথা তারা বিশ্বাস করলেন না। তাই মরিয়মের মাঝে যীশুখ্রিস্ট এমন সময় দেখা দিলেন যখন তার সাথে তার স্বামী ক্লিয়পাও ছিলেন। যেন মরিয়মের মুখের কথা আরো জোরালো ও বিশ্বাসযোগ্য হয়। এভাবে যীশুখ্রিস্ট বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে তার শিষ্যদের সাথে চল্লিশদিন পর্যন্ত সাক্ষাত করেছেন। তাদের অন্তরে ভালবাসা বৃদ্ধি করেছেন, প্রেরনা দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন যেন তারা দুনিয়ার সকল প্রান্তে গিয়ে সকল জাতির কাছে এই সুসংবাদ প্রচার করে। এভাবেই ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী মরিয়ম প্রভু যীশু খ্রিস্টের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ইশ্বরের রাজ্যের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। আমিন।
হে আমাদের স্বগীর্য় পিতা, তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন বেহেশতে তেমনি দুনিয়াতেও পুর্ন হোক।  যে খাবার আমাদের দরকার তা আজ আমাদের দাও।  যারা আমাদের উপর অন্যায় করে, আমরা যেমন তাদের মাফ করেছি তেমনি তুমিও আমাদের সমস্ত অন্যায় মাফ কর।  আমাদের তুমি পরীক্ষায় পড়তে দিয়ো না,  বরং শয়তানের হাত থেকে রক্ষা কর। এই মুনাজাত আমাদের স্বর্গীয় পিতা যীশুখ্রিস্টের নামে চাই।  আমিন।



স্পিকার: রেভারেন্ড জেমস অজিত কর্মকার
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
৫ মে ২০১৩ ইং