কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা এম্পায়ার (১৭ - ২২)


১৭: 
এই এম্পায়ারের আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। আছে সম্রাট,বিজ্ঞানী ও মহাবিশ্ব কাপানো দার্শনিকদের জীবনালেখ্য।
রুখনীল খার! গ্যালাক্সি কাপানো এক ইতিহাস বিদ ও সমাজ বিজ্ঞানী। সম্রাটের পালিত কন্যা। তিনি বিয়ে করেছিলেন ইম্পেরিয়াল আর্মির এক ফিল্ড মার্শালকে। এম্পায়ারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ফিল্ড মার্শাল সুজাতা রাখশকে। ইম্পেরিয়াল আর্মির একশট্টিতম ইনফ্যান্ট্রির কমান্ডার চল্লিশ বছর বয়সী জেনারেল সুজাতা প্রাসাদ বিদ্রোহ ঠেকিয়ে সম্রাট ও তার পরিবারের প্রান বাচানোর যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিল্ড মার্শাল উপাধী ধারন করেন।

এবং কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বস্ততার স্বীকৃত স্বরুপ সম্রাট তার পচিশ বছরের অপরুপ রুপবতী কন্যাকে বিয়ে দেন এই মিলিটারী জিনিয়াসের সাথে।
সমাজ বিজ্ঞানী ও দার্শনীক রুখনীল খারের "হিউম্যান আইসোলেশন থিওরী" যুগযুগ ধরে মহাবিশ্বে সেন্টিয়েন্টদের আচরন বিশ্লেষনে তাদের সম্ভাব্য গতিবিধি অনুসরন করার ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয়ে আসছে। এটা অতি হাই ক্লাসিক্যাল এক থিওরী যা শুধু পড়ানো হয় সম্রাট, সম্রাট পরিবারের সদস্য,ইম্পরিয়াল অফিসার আর আইজিজিআই স্টাফদের।
এই আইসোলেশন থিওরী সম্পর্কে আমি তোমাদের দুজনে কিছু পাঠ দেব সিহাম ও মানডোজা। বলছিলেন অস্টারফি।
জানতে পারবে প্যাকেট আকারে ভেসে আসা অসংখ্য নন-ভারবাল কমিউনিকেশন ও অদৃশ্য সিগনাল থেকে তোমার অংশটুকু কিভাবে বেছে নিবে। 

১৮: 
এই এম্পায়ারের সবচেয়ে পুরোনো আলোচিত ইতিহাসটাও রক্ত হিম করা গল্প। অস্টারফি বলছিলেন।
তখন এম্পায়ার সবে মাত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উন্নত বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ও চিকিতসাবিদ্যাও ছিল না। ছিল না হিউম্যান ক্লোনিং প্রযুক্তিও।
গ্রামের এক নিভৃত পল্লী পিরান। সদ্য বিবাহিত দুই দম্পতি কাশলীন ও নারিন ভালবেসে বিয়ে করেছে। তারা দুজনেই গ্রামের স্কুলে পড়াতো। ছেলেটি ছিল একা আর মেয়েটির মা রিপ্লি। ঐ সমাজের প্রথা ছিল বিয়ের পর ছেলেরা মেয়ের বাড়িতে গিয়ে থাকতে হতো। নারিনের মা রিপ্লি ছিল নার্স। ষোল বছর বয়সে নারিনের বিয়ে হয়,কাশলিনের বয়স বিশ। পাচবছর পার হওয়ার পরও তাদের কোন সন্তান হলো না। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধরা পড়লো মেয়েটি সন্তান ধারনে অক্ষম। কিন্তু তার একটি সন্তান চাই।
নারিন তার মায়ের কাছে একটি সন্তান চাইল যার বাবা হবে তার স্বামী কাশলিন। মেয়ের জন্য একটি সন্তান ধারন ও জম্নদানে রিপ্লি রাজি হলেন তাই কোন এক রাতে চল্লিশোর্ধ সেই বিধবা রিপ্লি শয্যা পেতে দিলেন তারই মেয়ের স্বামী কাশলিনের শরীরের নীচে। পাশের কক্ষে সারারাত জেগে রইল নারিন।
গর্ভবতী হলেন রিপ্লি এবং স্বাভাবিক নিয়মে একদিন তার মেয়ের জন্য একটি পুত্র সন্তান জম্ন দিলেন রিপ্লি।
পরবর্তীতে এটাকে চিকিতসা বিজ্ঞানের নতুন আইডিয়া হিসেবে দেখা হয়েছিল এবং অনেকদিন প্রয়োগ করা হয়েছিল বংশগতির ধারক ও বাহক রক্ষার্থে। 

১৯: 
অস্টারফি বললেনঃ কৌশলগত পরিকল্পনায় ধারনা করা হয় যে পরবর্তী সম্রাটের সময় বিগত দশ হাজার বছরের যে কোন সময়ের চেয়ে অধিক সুখি ও সমৃদ্ধ হবে। সম্রাটের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও বিজ্ঞ পরামর্শক হন তার স্ত্রী-সম্রাজ্ঞী।
বর্তমান সম্রাট পুত্র-সায়নের স্ত্রী হিসেবে এম্পায়ারের সবচেয়ে দুঃখি আর কষ্ট পাওয়া এক মেয়েকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যেন কেউ বলতে না পারে আমার মা নেই,বাবা নেই,ভাই-বোন,এমন কি স্বামী-স্ত্রী কেউ নেই,আমি গরীব তাই সম্রাট বা ইম্পেরিয়াল সরকার আমার দুঃখ,আমার কষ্ট,চাওয়া-পাওয়া কি করে বুঝবে?
সম্রাট পুত্রের স্ত্রী সায়নীর মা,বাবা,ভাই,বোন সবাই একটি দুর্ঘটনায় মারা যায়। অনেক কষ্ট করে সে যখন জীবনকে আবার শুরু করে তখন তার বিয়ে হয় সম্ভ্রান্ত এক যুবকের সাথে কিন্তু বিয়ের দুবছর পর তার স্বামী এক স্পেস দুর্ঘটনায় মারা যায়,আরো এক বছর পর সন্তানটিও উপযুক্ত চিকিতসার অভাবে মারা যায়।
বিশ বছরের তরুনী সায়নী অনেক দুঃখ-কষ্ট নিয়ে সম্রাটের রাজধানীতে আসে এই আশায় যে এখানে হয়তো তার ভাগ্য খুলবে। একটি বৃত্তি জোগাড় করে সে ভর্তি হয় ওমেগা সেঞ্চুরী ইউনিভার্সিটি অফ লাইফ সায়েন্সে। এখানে এসে কোন এক কাকতালীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে তার দেখা হয় সম্রাট ইকরা কানের সাথে।
সম্রাট সবকিছু শুনে বললেনঃ সায়ন যদি তোমার স্বামী হয় আর আমি যদি তোমার বাবা হয়ে যাই তবে তোমার মনে আর কোন দুঃখ-কষ্ট থাকবে কিনা বলো? 

২০: 
সম্রাট ইকরা কান যখন প্রাসাদে ফিরে এসে পুত্রকে সেই মেয়েটার কথা জানালেন তখন সায়ন তার মা সম্রাজ্ঞী মিশাল ফারলেক্স এর সাথে কথা বললেন। সম্রাজ্ঞী ছেলেকে বললেনঃ আমি ঐ মেয়ের ব্যাপারে খোজ নিয়েছি। তার মা-বাবা ও পুরো পরিবার নিহত হবার পর জীবিকার তাগিদে সে সেক্স বিজনেসের সাথে যুক্ত হয়েছিল কিছুদিন। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর পর এম্পায়ার ক্যাপিটেলে আসার ক্রেটিড সংগ্রহের জন্য আবার সেক্স বিজনেস করেছিল। পড়ালেখাও খুব একটা নেই।
সম্রাট পুত্রের জন্য সাধারনত সবসময় উচ্চশিক্ষিত ও কুমারী মেয়ে দেখা হয়। তোমার বাবা যেহেতু বলেছে এবং মেয়েটার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টও আমাকে জানিয়েছে মেয়েটা সায়নের জন্য উপযুক্ত হতে পারে, তাই আমি তোমাকে বাধা দেব না। মেয়েটার সাথে দেখা করে কথা বলো। মেয়েটা যদি দেখতে সুন্দরী হয়, একটু লম্বা হয় এবং তোমার পাশে দাড়ালে স্ত্রী হিসেবে মানাবে এবং একসাথে এক বিছানায় থাকতে পারবে, তোমার সাথে নির্ভিকভাবে কথা বলার সাহস রাখে। সর্বপরি অন্তত তোমার যদি ভাল লাগে তবে তাকে বিয়ে করো। কিন্তু গ্যালাক্সির অন্তত এক মিলিয়ন গ্রহের রাজা, হাই এলডার, ফুয়েরারসহ সমস্ত শাসকদের যেকোন একজনের যোগ্য মেয়ে চাইলেও বিয়ে করতে পার কিংবা অন্য যে কেউ, কোন ইয়াং প্রফেসর, বিজ্ঞানী অথবা তোমার যোগ্য কোন মেয়েকে কোন গ্রহের শাসক বানিয়েও তারপর তোমার সাথে বিয়ে দিতে পারি। 

২১: 
সায়নী এতটাই দুঃখি,অসহায় আর কষ্ট পাওয়া মেয়ে যে তার জম্নই হয়েছিল একটি প্রিম্যারেজ লাভ রিলেশনের মাধ্যমে। তার মা যখন প্রেগনেন্ট হয়ে গেল তখন তারা এবোর্শনের সিদ্ধান্ত নিল।
তারা পরামর্শ চাইল ছেলেটির চাচার সাথে যিনি ছিলেন সামরিক অফিসার,বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক। ছেলেটির চাচা বললঃ যেহেতু তোমরা এবোর্শন করাতে চাইছো,আবার চাইছোও না। প্রথমত তোমরা বিয়ে করো আর তোমাদের অনাগত সন্তানটির ব্রেনের সাথে আমরা যোগাযোগ করে তাকে বললঃ তোমাকে এবোর্শন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে কিন্তু তোমাকে আমরা মর্তের ভুবনে আসার সুযোগ করে দিতে পারি কিন্তু তোমাকে নিয়ে আমরা কিছু এক্সপেরিমেন্ট করবো যাতে তোমার জীবনের গ্যারান্টি আমরা দিতে পারি না,তুমি কতদিন ও কোনকোন অবস্থায় বেচে থাকবে। বিনিময়ে তুমি পার্থিক জগত দেখার সুযোগ পাবে।
সায়নীর মা,বাবা দুজনেই রাজী হল।
বিজ্ঞানী সাহেব এক সিক্রেট রিচার্সের জন্য একহাজার বিলিয়ন ক্রেডিটের এক বিল পাশ করালেন হিথ কিংডমের রাজার কাছ থেকে।
অধ্যাপক তার ডাক্তার বন্ধুর কাছে গেলেন মেয়েটিকে নিয়ে।
ডাক্তার বললঃ এটা খুব ব্যয় বহুল আর আমাকে বলতে হবে কেন চাইল্ড মাইন্ডের সাথে যোগাযোগ করতে চাও?
বিজ্ঞানী বললঃ কোন এক অজানা কারনে আমি তোমাকে সে কারন বলতে পারছি না।
ডাক্তার বললঃ তাহলে আমিও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে কমিউনিকেশন প্যাটার্ন না জানলে কন্ট্যাক অসম্ভব। 

২২: 
সায়নীর বয়স আঠারো বছর পুর্ন হতেই ঐ রিচার্সের সাথে যুক্ত ও সমর্থনকারী সবাই বিভিন্ন স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক ভাবে মারা যায়। ক্যাপিটাল থেকে প্রায় তিনশত পারসেক দুরে হিথ গ্রহ।
অস্টারফি বললেনঃআমি সেখানে যাওয়ার একবছর পর বিষয়টা আমার কানে আসল,তখন বেচে ছিলেন শুধু কিং একা। তিনি আমাকে জানালেন,ঐ রিচার্স বিল ইস্যু করার সময় অবশ্য তিনি জানতেন না রিচার্সের বিষয়ে।
আমার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানে বিষয়টা অদ্ভুত ঠেকল। আমি কিংকে বললামঃ আপনী কি কোন সুপ্রিম পাওয়ারের কথা বলেছেন কিং?
কিং জানতে চাইলেনঃ সমস্ত মহাবিশ্বগুলির উপরে ক্ষমতাবান কেউ?
অস্টারফি বললেনঃ ইউনিভারসেল স্পিরিট জাতীয় কিছু!
কিং বললেনঃ গত দশহাজার বছরে বিজ্ঞান উন্নতির চরম শিখরে পৌছেছে। আমরাতো গ্যালাক্সিমন্ডল এমনকি মহাবিশ্বগুলি ভ্রমন করে ফেলেছি কিন্তু তেমন কাউকে তো খুজে পাইনি কিংবা আপনী বললেন স্পিরিট। নাহ, এসব কেউ নেই।
অস্টারফি বললেনঃ তাহলে কি এমন ঘটেছে যে সব ছারখার হয়ে গেল?
কিং কিছু বোঝাতে চাইছিলেন কিন্তু সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারছিলেন না।
পরে জেনেছিলাম ঐ প্রজেক্ট সম্পর্কিত বেচে থাকা তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি কিন্তু তার পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। হিথ প্লানেটের নতুন কিং হলেন তার ছেলে এনকোডিং সিরাত। তিনি সায়নীকে ক্যাপিটেলে পাঠানোর একটা উপায় বের করলেন।
সায়নী আমার সাথে দেখা করতে আসল। 

{চলবে........}  

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments