300x250 AD TOP

Blog Archive

Powered by Blogger.

Monday

Tagged under: , , , ,

কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা এম্পায়ার (৬ - ১৬)


৬:
মানডোজা জিজ্ঞেস করলঃ খাবে কি? ক্রেডিটতো সব ফুরিয়ে দিলে। পার্কে না হয় আজ রাতটি পার করে দেয়া যাবে। সিহাম পকেট থেকে ইউপিএস ডিভাইসটি বের করে গ্যালাকটিক কোঅর্ডিনেটস স্কেলে দেখল ওরা যেখানে আছে এটা ফিনিক্সের ক্যাপিটাল থেকে এরোপ্লেনে একদিনের পথ।
সিটি অফ রাঞ্চাল! একটা নাইট ক্লাবে দুজন কাজ করার সুযোগ পেল। থাকা,খাওয়া সুবিধা পাবে কিন্তু বেতন হবে না তবে বকশিক ও অন্য আয় যা হবে সেটার সবটুকুই তাদের।
ক্লাবের মহিলা ম্যানেজার তাদের দুজনকে শিখিয়ে দিল কিভাবে বকশিশ পেতে হয়। এই শহর মটরশুটি জাতীয় শস্য আর পাহাড়ি ফুলের জন্য বিখ্যাত। ফুল ব্যবসার জন্য এই শহরের "দ্যা ফার্ন এন্ড বার্ড" মাল্টিপ্লানেট কংলোম্যারেট পুরো কনফেডারেশনে বিখ্যাত। সেই কোম্পানীর এজেন্ট ও ক্লায়েন্টদের আনাগোনা আছে এখানে। তাদের কাছ থেকে বেশ ভাল বকশিশ পাওয়া যায়। আর তাদের ফেলে যাওয়া দামী রিফাইনড ফুলগুলি পার্কে বেশ ভাল দামে বিক্রি হয়।
বিকেলের দিকে তারা পার্কে ঘুরতে বেরহয়। সন্ধ্যের দিকে ক্লাবে লোকজন আসতে শুরু করে।
সেদিন ছিল সপ্তাহের প্রথমদিন। এক বৃদ্ধমতন লোক ক্লাবে উঠলেন ও একটি আবাসিক কক্ষ বরাদ্দ নিলেন। ম্যানেজারকে বললেনঃ ম্যাডাম,কিছু সময়ের জন্য দুজনকে আমি চেয়ে নিচ্ছি। আমি ওদের ভাল বকশিশ দেব। আর এটা আপনার জন্য ছোট্ট গিফট। একটি পিতলের ব্যাসলেট তিনি ম্যানেজারকে দিলেন।

৭:
বৃদ্ধ অস্টারফি লুপাস সেলান।
বয়স আশি পেরিয়ে গিয়েছে।
তিনি ইন্টার গ্যালাকটিক গ্রান্ড ইন্টিলিজেন্সের (আইজিজিআই) একজন কর্মী,সম্রাটের নিজস্ব উইং ও সম্রাট নিজেই এর চিফ।
প্রায় একঘন্টা ধরে অস্টারফি দুজনের সাথে কথা বললেন। তিনি অবসর নিতে চান তাই একজন উত্তারাধিকার ঠিক করতে চান।
-এই কাজের জন্য তোমার ক্রেডিট কার্ডে প্রতিমাসে অল্প কিছু অর্থ জমা হবে,প্রতিটি রির্পোটের জন্যও কিছু অর্থ পাবে।
বৃদ্ধ বলছিলেন; এম্পায়ারের বাহিরে কাজ করা খুব ঝুকিপুর্ন তবে ধরা পড়ার ভয় নেই,সতর্কভাবে কাজ করতে হবে আর তোমরা যদি স্বীকার না কর তবে কেউ প্রমান করতে পারবে না যে তোমরা সম্রাটের গুপ্তচর। মনে রাখবে, সম্রাটের যে কোন মন্ত্রীদের চেয়ে তোমার রির্পোটের মুল্য বেশী। আমি নিজেকে সেভাবেই প্রতিষ্ঠিত করেছি,সম্রাটের সাথে আমি সরাসরি যোগাযোগ করতে পারি,তোমরাও পারবে তবে তোমাদেরকে পেমেন্ট দেয়া হবে একজনের।
সিহাম আর মানডোজার বাহু ধরে বৃদ্ধ বললেনঃ বেটা, যেমন ধরো, তোমরা যদি বলো ফার্ন এন্ড বার্ড কোম্পানী এম্পায়ারে প্রবেশ করবে না তবে তাই হবে। সম্রাট কখনোই জানতে চাইবেন না কেন,কারন সব কারন হয়তো অনেক সময় ব্যাখ্যা করে বুঝানো যায় না,কিন্তু উপলব্ধির বিষয়। তবে রির্পোটে তথ্য সংযোজন চেষ্টা করবে।
এটা ডিভাইস কিউরিন! যা দিয়ে ইম্পেরিয়াল প্যালেস ও সম্রাটের সাথে যোগাযোগ করবে। বৃদ্ধ বলছিলেন।

৮:
ক্যারিনা কনফেডারেশনের ক্যাপিটাল প্লানেট শীটাল স্টেটস।
ছোট্ট এক পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় দুইশত বর্গমিটারের বাদামের ক্ষেত, পাশেই দোতালা একটি পাকা ঘর। পাশে রাখা আছে একটি প্রাইভেট স্টার শিপ,বিগত দুবছরে সিহাম ও মানডোজার অর্জন। কিছুদিন পরেই এই বাদাম বিক্রি হবে। তারপর আবার কয়েকমাস তারা দুজন বিহঙ্গের মত কনফেডারেশন ঘুরে বেড়াবে।
সেদিন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমেছে।
বাদাম ক্ষেত থেকে কাজ সেরে রোবট শ্রমিকগুলি ব্যারাকে ফিরেছে বহু আগে।
গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ইন্টারকমে এক সিকিউরিটি রোবট জানালো জনৈক বৃদ্ধ আজ রাতের জন্য আশ্রয় চাইছে।
প্রায় জনমানবহীন এই বিরান ভূমিতে অসহায় কেউ আশ্রয় খুজছে কৌতুহলী হয়ে সিহাম আর মানডোজা বাইরে বেরিয়ে আসল।
মানডোজা লোকটাকে জড়িয়ে ধরে বললঃ দাদু, কেউ যদি প্রশ্ন করে বৃদ্ধ অস্টারফি জীবনে কোন ভাল কাজ করেছে কিনা তবে এই মানডোজা আর সিহাম সমস্বরে বলবে; হ্যা,তিনি দুই অসহায় তরুন-তরুনীকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন।
বৃদ্ধের চোখদুটি জলে ভিজে গেল। বললঃ আমার জম্নভুমি ও পরিবার এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির আনিষা রিপাবলিক প্লানেটে। এখান থেকে অনেক অনেক দুরে। কোন অজানা কারনে আমি কনফেডারেশন থেকে বেরুতে পারি নি বিগত দুই বছরেও।
সিহাম বললঃ আপনী কখনো এম্পায়ারে গিয়েছেন দাদু,কিংবা সম্রাটের সাথে দেখা হয়েছে?
অস্টারফি বললঃ না! কখনো প্রয়োজন হয় নি।

৯:
আনিষা রিপাবলিক! সাতবছর আগে আমি শেষ গিয়েছিলাম একমাসের জন্য। আমার স্ত্রী হাশিন সেলান। তোমাদের মত বয়সেই আমাদের বিয়ে হয়েছিল।
খেতে খেতে বলছেন অস্টারফি।
সে অনেক গুনবতী আর রুপবতী নারী। আনিষার তরুনদের কাছে সে এখনো তাদের নায়িকার মত। তার ভালবাসা না পেলে আমার জীবন হয়ে যেত ভবঘুরে। আমাদের প্রথম সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগ পর্যন্ত আমরা একসাথেই থাকতাম সবসময়। গত পনের বছর আমি কনফেডারেশনে কাজ করেছি সম্রাটের জন্য।
বিয়ের পর হঠাত আনিষার রাজনীতিতে পরিবর্তন আসে। সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে। মাত্র পচিশ বছরের এক তরুন আর্মি অফিসার হয় আনিষা রিপাবলিকের সুপ্রিম লিডার।
আমরা গ্রামের নিভৃত পল্লীতে চলে যাই।
গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল আর ঝর্নার ধারে কাটাতাম সকাল থেকে সন্ধ্যে অবদি। কিছুদিন বাদে স্থানীয় একটি অয়েল রিফাইড কারখানায় দুজনেই কাজ পাই সেই বিরান ভুমিতে তেলের সম্ভাব্য স্থান খুজে বের করতে। সারাদিন কত মজা করে দুজনে মাটি খুড়ে খুড়ে দেখতাম তেল আছে কিনা। উল্লেখ্য এখানে মাটি খুড়ে একটু গভীর গর্ত করলে যেমন পানি বের হয়,সেখানে এমনটা গর্ত করলে বেরিয়ে আসত তেলের ধারা।
এভাবে সেই নিভৃত গ্রামে আমরা পাচ বছর ছিলাম। পরিচয় হয়েছিল অবসর প্রাপ্ত লেফটেনেন্ট সিম্মার তাসফারের সাথে। তিনি ছিলেন ওই কোম্পানীর সিকিউরিটি অফিসার। আমাদের জীবনের চাকা ঘুরে গেল।

১০:
বিশ বছর আগে ওমেগা সেঞ্চুরী এম্পায়ারের সম্রাট হন ইকরা কান চতুর্থ।
তার বাবা সম্রাট ইকরা মিলানের একমাত্র সন্তান তিনি।
-আমি ছিলাম তার বাবা সম্রাট মিলানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত কর্মীদের একজন, সেই সূত্রে সম্রাট কানও আমাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছিলেন।
অস্টারফি বলছিলেন।
ইম্পরিয়াল আইন অনুযায়ী সম্রাটের কোন ছবি বা ভিডিও চিত্র তোলা হয় না এবং কোন মিডিয়াতেও প্রকাশ করা হয় না। সুতরাং অল্পকিছু মানুষ তাকে সরাসরি দেখা ছাড়া আর কেউ তার মুখছবি কেমন জানে না। তবে গ্যালাক্সির জুড়ে তাকে নিয়ে শিল্পিদের কল্পনায় তার বেশ কিছু তৈলচিত্র আকা হয়েছে। শিল্পির তুলিতে আকা এসব চিত্র আর লেখক ও কবিদের গল্প,ছড়া,কবিতা আর প্রবন্ধগুলি থেকে মানুষ কল্পনা করে নেয় তাদের প্রিয় সম্রাটকে, আর এসবের মধ্যে থাকে সম্রাটের প্রতি তাদের অগাধ ভালবাসার প্রকাশ। এমন নতুন কিছু খুজে পেলে আমি সম্রাটকে সেসব পাঠাতাম মাঝে মাঝে।
মনে রাখবে একজন ভাল শাসক বা সম্রাটের তিনটি বিষয়ের প্রতি ভালবাসা থাকবে: কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং মেডিসিন।
মানডোজা বললঃ দাদু, আপনী কখনো পদোন্নতি চান নি সম্রাটের কাছে?
অস্টারফি বললেনঃ আমি সেটা চাই নি কারন তিনি আমাকে অনেক দিয়েছেন যা কিছু পদোন্নতিতে আমি মেটাতে পারতাম না। আমার অজান্তেই তিনি আমার পরিবার ও সন্তানদের শিক্ষা দেখ ভালের নির্দেশ দিয়েছেন।
এখন আমি অবসর নিতে চাই।

১১:
রাতের খাবার পর আবার আলোচনা শুরু হলো।
মানডোজা বললঃ দাদু, আপনী অনেক দুরে এন্ড্রোমিডাতে আপনার জম্নভুমি গিয়েছেন কিন্তু কখনো এম্পায়ার দেখার ইচ্ছে হয় নি কিংবা সম্রাটকে দেখবার?
অস্টারফি বললেনঃ প্রথমত, এম্পায়ারে যাবার তার প্রয়োজন হয় নি। দ্বিতীয়ত, সম্রাট হয়তো ভাবতে পারেন আমি আমার কাজকে যথেষ্ট ভালবাসতে পারছি না। আর তৃতীয়ত, সম্রাট সাধারনত বাইরের কারো সাথে দেখা করেন না,যারা এম্পায়ারের বিভিন্ন গ্রহ থেকে হাজার থেকে মিলিয়ন পারসেক পথ পাড়ি দিয়ে যেসব শাসকরা তার সাথে দেখা করতে আসে, শুধু মাত্র আনুষ্ঠানিকতা ও এম্পায়ারকে সুসংগঠিত রাখতে সম্রাট তাদের সাথে দেখা করেন তাছাড়া তার দেখা পাওয়া প্রায় অসাধ্য ব্যাপার।
সিহাম জানতে চাইলঃ আপনার কাছে কি অর্জিত এমন কোন জ্ঞান আছে যা আজ অব্দি কারো কাছে প্রকাশ করেন নি?
অনেক্ষন নিরবতার পরে বৃদ্ধ বললেনঃ হ্যা,আছে! মেডিসিন।
অস্টারফি কিছুটা হাফিয়ে উঠেছেন,তাকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি ভিতরে ভিতরে ঘামছেন। অস্থির হয়ে উঠছেন।
মানডোজা অস্টারফির কাছে গিয়ে বসল। হাত ধরে বললঃ দাদু!
বৃদ্ধ বললেনঃ মাই ডিয়ার্স! সেটা শুধু সম্রাটকেই বলা যায়!
মানডোজা বললঃ আমরা তো তোমারই অংশ দাদু।
অস্টারফি দুজনের মাথায় দুই হাত বুলিয়ে বললঃ সেটা যদি তোমাদের বলা যেত তবে তা শুধু মাত্র সম্রাটকে বলার মত গুরুত্বপুর্ন কি করে হয় বলো?
অস্টারফি বলে যাচ্ছেন।

১২:
আমার স্ত্রী হাশিন সেলান। সে ছিল আনিষা রিপাবলিকান আর্মির কর্নেল হেভেন রুথের মেয়ে। হাশিনের জম্নের পর তার বাবা মারা যাওয়ায় কর্নেল রুথ তারই সহকর্মী এক বিগ্রেডিয়ারকে বিয়ে করে হাশিনকে তার মামাদের কাছে রেখে চলে যায় স্পেস ফোর্সে। সে প্রায়ই তার মেয়েকে দেখতে আসতো। আর আমি ছিলাম একই গ্রামে একটি কমিউনিটি ইউনিভার্সিটির অনুজীব বিদ্যা বিভাগের ছাত্র। হাশিন পড়তো নন-ভারবাল কমিউনিকেশন এন্ড ইনভিজিবল সিগন্যাল বিষয়ে।
সে আমাকে প্রথম যে চিঠিটা লিখেছিল সেটা আমাকে তার ভালবাসায় আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিলঃ "কর্নেল রুথের মেয়ে লা হাশিন ডি কোবরা সেলান প্লাটা। আমার রাসুল,লুপাস সেলানের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা আর ভালবাসা ভরে প্রেম নিবেদন করছি যেন চিরদিন-আমরন-আজীবন ভালবাসার বন্ধনে একসাথে থাকবো এই প্রতিশ্রুতি।"
এর কিছুদিন বাদেই আচমকা আনিষাতে সামরিক বিপ্লব হয়,এক তরুন অফিসার ক্ষমতায় আসে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক কমিউনিটি বিশ্ববিদ্যাল অচল হয়ে যায়। আমরা গ্রামের নিভৃত পল্লীতে চলে যাই। সামরিক জান্তা আরো সুখি ও কার্যকরী আনিষা গড়ার ঘোষনা দেন। কিছুদিন আমাদের অবশ্য কষ্ট হয়েছিল কিন্তু জান্তা তার কথা রেখেছিলেন। সব বন্ধ প্রতিষ্ঠান আবার চালু হয় কিন্তু আমাদের আর পড়াশোনা করা হয় নি,চাকরীতে ঢুকে পড়ি দুজনই।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অস্টারফি বললেনঃতারপর তো এই কেরিয়ার।

১৩:
ইম্পেরিয়াল মাইক্রোফুডস রিসার্চ ডিভিশনের কোঅর্ডিনেটর রিহানা মানজার। সম্রাটের একজন ডিসিশন মেকার হিসেবেও সে পরিচিত, ইম্পরিয়াল প্যালেসের এই অফিসে যোগ দেবার পর এখনো তার সম্রাটকে দেখার সুযোগ হয় নি। অরিজিনাল প্যালেসটা দুইশত বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এবং এর এক্সেটেশন পার্টে আছে আরো শাখা উপশাখা অফিস ও বিভিন্ন ডিভিশনের হেড কোয়ার্টার। এর সাথে সংযুক্ত আছে নভোযান ল্যান্ড করার জন্য দুটি হ্যাঙ্গার ও টার্মিনাল। একটি সম্রাটের ব্যাক্তিগত অন্যটি দুর দুরান্তের গ্রহগুলি থেকে আগত সম্রাটের অতিথি ও বিভিন্ন সামরিক অফিসারদের জন্য ব্যবহার হয়।
রিহানার ডাক পড়লো সম্রাটের অফিসে।
বিশাল অফিসের সামনে বড় করে লেখা "অফিস অফ দ্যা এম্পেরর ইকরা কান হিজ হোলিনেস এন্ড ম্যাজেস্ট্রি"
গ্যালাক্সির বিলিয়ন বিলিয়ন জনগনের কাছে সম্রাট দেব তুল্য।
রিহানাকে যে কক্ষে বসতে দেয়া হয়েছে সেখানে কিছুক্ষন পর এক সুদর্শন বিশ-পচিশ বছরের তরুন প্রবেশ করল। রিহানা যেন খাবি খেল,ইনি সম্রাট! অসম্ভব! তবুও তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসলঃ সায়ার!
লোকটি একটি চেয়ারে বসে রিহানাকে বসতে ইশারা করে বললঃ আমি সম্রাট নই। আমাকে "সায়ন" সম্বোধন করতে পারেন।
-প্রিন্স সায়ন!
-সায়ন বললে প্রিন্স বলতে হয় না অফিসার। প্রিন্স বলা হয় রাজার পুত্রকে। আমি সম্রাটের পুত্র।
রিহানা বললঃ আপনার সাক্ষাত লাভ আমার সৌভাগ্য সায়ন।

১৪:
সায়ন বললেনঃ ইম্পরিয়াল এজেন্ট সিহাম নামটা কখনো শুনেছেন অফিসার? কিংডম অফ রাইন ইউনিয়ন,আপনার ন্যাটিভ।
রিহানার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। যদিও এই নামে আরো বহু মানুষ থাকতে পারে কিন্তু সে তার পরিচিত বলয়ের গন্ধ পাচ্ছে। অতীতকে সে বিষন্ন করে তুলতে চায় না। রিহানা জানে তার বন্ধু সিহাম অনেক মেধাবী ছাত্র ছিল,তার দ্বারা অনেক কিছুই সম্ভব। তার মেধা আর যোগ্যতাকে রিহানা এতটাই শ্রদ্ধা আর ভয়ও করতো যে সিহাম যদি বলতো আমি ইচ্ছে করলে সম্রাটের পালক পুত্র হিসেবে প্যালেসে আমার আবাস গড়তে পারি। সবাই হয়তো তাকে পাগল ঠাওরাবে কিন্তু রিহানা জানে সিহামের দ্বারা সেটাও সম্ভব।
-সিহাম! অস্ফুট স্বরে রিহানা বলল। নামটা আমার পরিচিত সায়ন কিন্তু এই নামে কোন ইম্পরিয়াল এজেন্টকে চিনি না। আমি খোজ নিয়ে দেখবো।
-এক বিশেষ গুরুত্বপুর্ন মিশন আছে তার হাতে। সে কখনো যদি আপনার সহযোগিতা চায় যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন এবং প্রয়োজন হলে আপনী আমার সাথে যোগাযোগ করার অনুমতি চাইতে পারেন।
রিহনা মানজার একটু একটু করে নিজের দুর্বলতা আর ক্ষুদ্রতা অনুভব করতে শুরু করল। সবকিছু মিথ্যে রিহানা মানজার! তোমার নিজের যোগ্যতা বলতে তেমন কিছু নেই,যে আত্মবিশ্বাসে তুমি এতদুর এসেছো! নিজেকে প্রশ্ন করে সে।
সায়ন বললেনঃ সিহাম বিবাহিত। তারা দুজনে যদি এম্পায়ারে আসে তবে জানবেন আমি তাদের দুজনের সাক্ষাত প্রার্থী।

১৫:
প্রফেশনাল ক্ষেত্রে কোন ইগো বা অক্ষমতা প্রকাশ করা যায় না রিহানা। নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করে সে।
রিহানার মনে পড়ে বেশ কয়েক বছর আগে মানডোজা নামে ইম্পরিয়াল এক এজেন্টকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার তার নিরাপত্তা ও দেখভালে নিয়োজিত থাকা টিমের পঞ্চাশজন সিনিয়র অফিসারকে মেরে ফেলা হয়েছিল। কারন মানডোজাকে অপহরন হয়েছিল। পরে অবশ্য সেই মেয়েটির কি হয়েছিল জানা যায় নি। ধারনা করা হয় অপহরনকারীরা তাকে দুরে কোথাও পাচার করে দেয় কিংবা তারা প্রফেশনাল বা নন-প্রফেশনাল যাই হোক, ঐ হত্যাকান্ডের সংবাদ পেয়ে মানডোজার কোন ক্ষতি করতে সাহস পায় নি এবং তাকে নিশ্চয়ই নিরাপদ কোথাও ছেড়ে দিয়েছে। মানডোজার কথা সাধারন জনগন না জানলেই গ্যালাক্সির বিলিয়ন বিলিয়ন জনগন এটা ভেবে আতংকিত হয়েছিল যে সামরিক বিপ্লব হয়ে যাবে কিনা!
ইম্পরিয়াল আইন অনেক কঠোর সম্রাট পরিবারে কারো নিরাপত্তায় বিঘ্নিত হয়ে কোন ক্ষতি হলে বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তবে তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইম্পরিয়াল গার্ড টিমের টপ লেভেলের পঞ্চাশজন অফিসার ও তাদের ফ্যামেলি মেম্বারসহ সবাই মৃত্যুবরন করবে। এমনটাই বলা আছে সিকিউরিটি কোডে।
সিহাম ইম্পেরিয়াল অতিথি হয়ে আসবে এবং সে জন্য তার প্যালেসে পরিচিত কাউকে প্রয়োজন আর সেই পরিচিত ব্যাক্তি রিহানা। একদিন সিহাম রিহানাকে একটা মেসেজ পাঠাল অস্টারফি-সম্রাট সাক্ষাত ব্যবস্থা করতে।

১৬:
ওমেগা সেঞ্চুরী এম্পায়ার!
গ্যালাক্সীর অল্পকিছু গ্রহ-নক্ষত্র বাদে প্রায় চার লক্ষ নক্ষত্ররাজী মন্ডল নিয়ে গঠিত মানব সভ্যতার ইতিহাসের এই সুবিশাল এম্পায়ারটি। মানুষের জীবন যাত্রার মান যেমন বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও উন্নতির চরম শিখরে পৌছেছে তেমনী অনেক আন্ডারপ্রিভিলাইজড গ্রহে এখনো নিম্ন ও সুবিধা বঞ্চিত জীবন ধারা বজায় আছে। ইম্পেরিয়াল নেভী ও আর্মি ছড়িয়ে আছে পুরো এম্পায়ার জুড়ে। প্রসাশনিক কাঠামোগুলি খুবই জটিল। তবে প্রতিটি বড় বড় ডিভিশনই কোন না কোনভাবে এসে যুক্ত হয়েছে সম্রাটের ইম্পেরিয়াল প্যালেসের সাথে। আসলে এম্পায়ার প্রতিটি গ্রহের শান্তি,উন্নতি আর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এসবকিছুর প্রতীক হলেন সম্রাট। সম্রাটের প্রভাব এই মানব সভ্যতার এতো গভীরে ভিত গেড়েছে যে তাকে ছাড়া কোন গ্রহ তাদের অস্থিত্ব কল্পনা করে না। বিগত পাচশত বছরে এম্পায়ার আগের যেকোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিটি ইউনিভার্সে ওমেগা সেঞ্চুরী এম্পায়ার পরিচিত মানব সভ্যতার সর্বোচ্চ উতকর্ষ হিসেবে।
লর্ড ইনাস এবং স্যার ইবাদ! অর্থনীতির দুই প্রফেসর বন্ধু। বিগত দুইশত বছর এম্পায়ারের ইতিহাসে যাদের নাম লেখা আছে মাইক্রোফিনান্সের জনক হিসেবে। এম্পায়ারের দরিদ্র গ্রহগুলির অর্থনীতি চাঙ্গা করায় তাদের অবদান আর সম্রাট রিমান জিমুবা প্রথম এর পৃষ্ঠপোষকতা অবিস্মরনীয়।

{চলবে........}

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

0 Comments: