300x250 AD TOP

Blog Archive

Powered by Blogger.

Tuesday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (১ - ৩)

অনেক অতীত অতীত জগতের কথা। আমার পুর্বে অন্তত দশ লক্ষ পুর্বপুরুষ আগের ইতিহাস! যখন জাগতিক মহাবিশ্বগুলিতে হিউম্যান, জাইন এবং রোবট নামে তিনটি আল্ট্রাসুপার সেন্টিয়েন্ট সম্প্রদায় রাজত্ব করে আসছিল। বিজ্ঞান প্রযুক্তি, সর্ব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ক্ষমতার শীর্ষে পৌছে গিয়েছিলো তারা। এই ইতিহাস ভিত্তিক সিরিজে তিনটি আল্ট্রাসুপার সেন্টিয়েন্ট ছাড়াও আরো বেশ কিছু সেন্টিয়েন্ট সম্প্রদায় নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু এই কোহেকাফ নগর মুলত একটি ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ (দ্যা সিরিজ – DA Series) নামে পরিচিত যা মুলত জাইন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস এর গল্প মহাকাব্যিক ধাঁচে বর্ননা করা হয়েছে। কোহেকাফ নগর বা অডাসিটি (AudaCity) হচ্ছে জাইন সম্প্রদায়ের হার্ট- কেন্দ্রবিন্দু – তাদের মাদার ইউনিভার্স। এই কোহেকাফ নগর থেকেই জাইন জাতি সমস্ত মহাবিশ্বগুলিতে বিস্তার লাভ করেছিলো। এই সিরিজটি শুরু হয়েছে মানুষ সম্প্রদায় মহাবিশ্বের একটি এম্পায়ারের কিছু বর্ননা দিয়ে এবং ধীরে ধীরে সিরিজটি কোহেকাফ নগরের মধ্যে যাত্রা করে। মহাবিশ্বের সাহিত্য জগতের ইতিহাসে এ যাবতকাল পর্যন্ত যতগুলি সিরিজ, গল্প, উপন্যাস, মহাকাব্য এবং গবেষনা ইতিহাস লেখা হয়েছে তার মধ্যে এই কোহেকাফ নগর নামের ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজটি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত সাহিত্য ধারার মধ্যে ব্যতিক্রম। যাইহোক, দেখা গেল বিজ্ঞান প্রযুক্তি, সর্ব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ক্ষমতার শীর্ষ বলতে কিছু কিছু নেই। এটা একটা চলমান এবং ক্রমান্নোত উন্নতির একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আর তাই আমরা এখনো ক্রমাগত ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি এবং দিনদিন উন্নত থেকে উন্নতর হচ্ছি। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়, কোথায় আমাদের শেষ যাত্রা, কোথায় আমাদের থামতে হবে।।” -মিলিয়ান ইয়াম; অডিটরিয়াল এজেন্ট, বিজ্ঞানী, গবেষক, ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং চিফ রাইটার।


১:
এই বিশ্বটাকে বলা হয় স্বপ্নবিশ্ব। ড্রিম ইউনিভার্স। স্বপ্ন বিশ্বের বাসিন্দাদের বলা হয় স্বাপ্নিক। এই গল্পের নায়িকা জিনা এবং নায়ক রিলেম। সংক্ষেপে তারা জি কিংবা জি জি এবং রি কিংবা রি রি নামে পরিচিত। স্বাপ্নিকরা যখন তাদের ব্যস্ততা ছেড়ে বিশ্রামে যায় তখন তারা প্রতিনিয়ত পার্থিব বিশ্ব ভ্রমন করে। এই প্রক্রিয়াকে তারা জাগরন বলে থাকে। স্বপ্ন জগতে মহাশুন্যে উড়তে উড়তে তার মনটা খুব বিষন্ন হয়ে যায়। তার চোখ থেকে টপটপ করে কয়েক ফোটা অশ্রু ঝরে পড়ে নীচের বনভুমিতে। জিনা ভাবতে থাকে পার্থিব জগত কতই না সুন্দর! পার্থিব বিশ্বে সবার নির্দিষ্ট ঠিকানা আছে, সবার সুসংগঠিত পরিবার আছে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু এখানে - স্বপ্ন জগতে সবাই কেমন বিচ্ছিন্ন। এখানে চাইলেই মনের ইচ্ছা পুরন করা যায় না। কাউকে সে ভালবাসলে তাকে খুজে পায় না। সে খুব একা একা সময়গুলিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তার মন প্রান বেদনায় ভরে ওঠে। সে যখন বিশ্রাম করে তখন প্রতিনিয়ত সে পার্থিব জগতে চলে আসে। আহ! কত সুন্দর আর উপভোগ্য, আনন্দঘন এই বিশ্ব! পার্থিব জগত যদি সত্যি হয়ে স্বপ্নে চলে আসতো! সে প্রতিনিয়ত প্রত্যাশা করে। সে একদা তার এক শিক্ষককে জিজ্ঞেস করে; স্বাপ্নিকরা মারা গেলে কি হয়? শিক্ষক বলেন; তখন সবাই মনোজগতে চলে যায়, কল্পনা ও স্মৃতির জগত। জিজি অবাক হয়ে যায়, মনোজগত-কল্পনা ও স্মৃতির জগত!

২:
সীমাহীন পরিব্যাপ্তির এই ড্রিম ইউনিভার্স। এর সীমা-পরিসীমা যে কত বিশাল প্রকৃতপক্ষে আজ পর্যন্ত কেউ সেটা বের করতে পারে নি। এবং যতদুর পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সংযোজিত হয়েছে, সবখানেই কমবেশী স্বাপ্নিক সিভিলাইজেশনের উপস্থিতি কিংবা যাতায়াত আছে। এই বিশ্বের একটি স্বাপ্নিক সভ্যতা- রিপাবলিক দ্যুমা। এখানেই জম্ন ও বেড়ে ওঠা জিনার। রিপাবলিকের শাসন ব্যবস্থা থিফ সরকার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত। 'থিফিং' হচ্ছে রিপাবলিকের সম্মানিত ও ক্ষমতাসম্পন্ন পেশাগুলির অন্যতম। অন্যদিকে 'টিচিং' হচ্ছে নিকৃষ্ট ও অবহেলিত পেশাগুলির একটি। রিপাবলিকের প্রতিটি টিচারদের জীবনযাত্রা অতিশয় প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত কারন স্বাপ্নিকরা এই টিচিং পেশাগুলি সাধারন ঘৃনা করে থাকে তবে অনেকে অবশ্য তাদের অধিকার ও উন্নত জীবন যাত্রার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করে থাকে। জিনা হচ্ছে এমন একজন টিচার রাইটস একটিভিস্ট। একটি স্বাপ্নিকের জম্নের পরে তার শৈশবকাল থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এক বা একাধিক টিচারের প্রয়োজন হয়। টিচাররা স্বাপ্নিকদের মাইন্ড থেকে মেথরিং পদ্ধতিতে সমস্ত ময়লা, আবর্জনা ও দুর্গন্ধ পরিস্কার করে থাকেন। এই টিচার কিংবা শিক্ষকদের পরিচ্ছনতা কর্মী বলেও তাদের কিছুটা পুথিগতভাবে সম্মানিত করা হয়ে থাকে। রিপাবলিক শাসন ব্যবস্থার প্রধান হচ্ছেন ফাস্ট থিফ।

৩:
রিলেম! জিনার নায়ক। স্বপ্নবিশ্বে এখনো তাদের সরাসরি সাক্ষাত হয় নি। তবে জাগরনের পার্থিব জগতে প্রায়শই তার সাথে দেখা হয় জিনার। তারা একসাথে আড্ডা দেয়, ঘুরে বেড়ায়, হাত ধরে হাটে, লং ড্রাইভে যায় তাদের গাড়িতে চড়ে। কখনো কখনো লিভ টুগেদার করে অলস আর জ্যাম ধরা দিনগুলিকে প্রানচাঞ্চল্য করে তোলে। কিন্তু স্বপ্ন বিশ্বে ওরা এখনো কেউ কাউকে চেনে না। জিনা আর রিলেম অপরিচিত দুটি চরিত্র। রিলেম কাজ করে ব্যানসন নামে রিপাবলিকের সুখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানে। এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রকার আর্থ সামাজিক ব্যবসার পাশাপাশি পেডি ক্রপস নিয়ে গবেষনে এবং এন্টি রাইস প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করে থাকে। ব্যানসন গবেষনা করে দেখেছে যে ধান থেকে যে চাল উতপন্ন হয় সেটা রান্না করে যদি ভাত তৈরী করে স্বাপ্নিকরা খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে তবে তারা সহজেই মুটিয়ে যায়, বদ হজম সৃষ্টি হয় এবং প্রায় সাত হাজার রকমের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। তারা রান্না করা ভাতের সাথে অন্যান্য উপাদান ও খাদ্য যা স্বাপ্নিকরা ভাতের সাথে গ্রহন করে থাকে সেসব একসাথে করে একটি পাত্রে দুদিন রেখে দেখেছেন যে সেটা খুব দুর্গন্ধযুক্ত এবং রোগসৃষ্টিকারী জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং বিষক্রিয়া তৈরী করে। আর সেটা যদি কেউ খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে তবে খুব দ্রুতই সে মারা যাবে। তাই আইন করে রিপাবলিক দ্যুমাতে ধান থেকে উতপন্ন চাল
 থেকে মেডিসিন ও কিছু নির্দিষ্ট ড্রাইফুড ছাড়া ভাত রান্না করা কিংবা অন্যকাজে ব্যবহার করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। রিলেম দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন প্রফেশনাল। আর ব্যনসন এমন প্রফেশনালদের কাছে সর্বদা সহযোগিতা প্রতাশ্যা করে। রিলেমের প্রাত্যাহিক জীবন রিপাবলিক সরকার ব্যবস্থা দ্বারা খুব নিয়ন্ত্রিত ও পরিমার্জিত এবং একটি স্বাধীন ও সুখি জীবন ও কর্মক্ষেত্র সে উপভোগ করে থাকে। তবে ইদানিং সে অন্য কোথায় নিজেকে সরিয়ে নিতে চায়। রিপাবলিকের অন্যকোন শহরে কিংবা ড্রিম বিশ্বের অন্য কোন দ্যুমায়। হয়তো সেখানে তার সাথে দেখা হতে পারে জিনার সাথে। সে তার প্রফেশনটাও পরিবর্ত করতে চায় যদিও ব্যনসন খুবই প্রতিষ্ঠিত ও সুখ্যাত একটি কোম্পানী। তবে এই ধরনের যতগুলি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানী আছে সেখানে ব্যানসন ছাড়া প্রায় সবগুলিই কোন না কোনভাবে অপরিপুর্ন এবং সমস্যাগ্রস্থ। আর তাই রিলেম সম্পুর্ন নতুন একটি সেক্টরে প্রবেশ করতে চায়। সে অনেকদিন ব্যানসনের সুপার মডেল এবং ব্র্যান্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ ও গবেষক হিসেবে কাজ করেছে। সে দেখেছে যারা এন্টি রাইস ফুড প্রোডাক্টশন ও প্রমোশন নিয়ে কাজ করে থাকে তাদের সবার ফুড হ্যাবিটে বেশকিছু মিল রয়েছে এবং অন্য স্বাপ্নিকরাও অবশ্য ঐসব ফুডে অভ্যস্ত। কিন্তু এন্টি রাইস এক্টিভিস্টদের কমন কিছু ফুড হ্যাবিট আছে যা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।
রিলেমের জন্ম হয়েছিল ড্রিম ইউনিভার্সের তারকা যুগের নবম বছরের এগারতম মাসে। বার বছরে এক যুগ হিসেবে ড্রিমবিশ্বের ক্যালেন্ডার হিসেব করা হয়। এগারোতম মাসটি অবশ্য রিপাবলিকের জাতীয় আনন্দ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে বিগত দুই হাজার বছর যাবত। প্রতিযুগের নবম বছরের এগারো মাসে একুশ দিন ধরে চলে রিপাবলিকের আনন্দ উতসব। স্বাপ্নিকরা বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং হাস্য-রসাত্মক সৃজনশীলতার চর্চা করে একুশ দিন ধরে। তারা নিজেরাই স্বপ্রনোদিত হয়ে সৃজনশীল কর্মগুলি বুঝতে শেখে এবং চর্চা করে। এভাবে দেখতে দেখতে একুশটি দিন পার হয়ে অন্য একটি যুগের গর্ভে প্রবেশ করে ড্রিম। ড্রিম ইউনিভার্সে রিপাবলিকের সামাজিক ব্যবস্থাগুলি অনেক বিচ্ছিন্ন এবং মুক্ত আর পরস্পর থেকে অনেক অনেক দুরে একটি কমিউনিটিগুলির অবস্থান। পাহাড়ের পাদদেশ, কোল, চুড়া কিংবা নদী আর সাগরের তীরভুমি স্বাপ্নিকদের অবসরের জন্য বেশ প্রিয়। কিন্তু জিনার এসব খুব একটা ভাল লাগে না। সে মনোজগতে চলে যেতে চায়। কল্পনা ও স্মৃতির জগত যেটা স্বপ্নের চেয়েও বড়। সেখানে ইচ্ছেমতই সবকিছু হয়ে যায়। সে যা কিছু করতে চাইবে, হতে চাইবে আর প্রত্যাশা করবে সবকিছু খুব সহজেই সম্ভব মনোজগতে। কিন্তু জিনার আগে নিশ্চিত হতে হবে সত্যিই কি স্বাপ্নিকরা মারা গেলে মনোজগতে চলে যায়?

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

0 Comments: