কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব ১০


১০:
ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইনের ক্যাবিনেট হচ্ছে গ্রেট ওয়ার্ল্ড'এর আপার হাউজ। তাছাড়া কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার সেকেন্ডারী হাউজকে বলা হয় সেন্সর। ক্যাবিনেট এবং সেন্সর - এই দুইয়ে গ্রেট হাউজ। লেইন ফোর্থ নগরীর আট বর্গকিলোমিটার আয়তনে নির্মিত আটতলা বিশিষ্ট গ্রেট হাউজ। বলা হয়ে থাকে গ্রেট ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বড় অফিস হচ্ছে এই গ্রেট হাউজ যদিও আদতে এটা অফিস নয় বরঞ্চ অফিসের চেয়েও বড় কিছু ক্যাবিনেট ও সেন্সর। গ্রেট হাউজে নিয়মিত অফিস করেন ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন এবং তার হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভগন। ক্যাবিনেট কক্ষে একসাথে একহাজার ক্যাবিনেট মেম্বারসহ, অথিতি, সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অন্যান্যসহ একসাথে এর ধারন ক্ষমতা পাচহাজার। সেই সাথে এতে আছে অতি উন্নত বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং মেন্টাল ফোর্সের সুযোগ-সুবিধা।
ক্যাবিনেটের সবচেয়ে তরুন সদস্য রিলেম হার্টজ। গ্রেট কুইনের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রায় দুশো ক্যাবিনেট সদস্যরা এসেছেন, আরো এসেছেন সেন্সর মেম্বারগন ও অন্যান্য অতিথিবর্গ। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রিলেম হার্টজ ম্যাডাম লেডি গ্রেট কুইনের সামনে আসলো এবং একটি বই এনেছেন তিনি গ্রেট কুইনের জন্য।
রিলেম বললেন: ম্যাডাম লেডি, শুভ জন্মদিন। এই বইটা আপনার ভাল লাগবে আশা করছি।
গ্রেট কুইন বললেন: মাইবয়! আমার তরুন ক্যাবিনেট মেম্বার। কেমন আছো? তোমার সাথে এটা আমার দ্বিতীয় সাক্ষাত। অনেকদিন পার হয়ে গিয়েছে।
রিলেম বললেন: ইয়েস ম্যাডাম। দশ বছর। ক্যাবিনেট মেম্বার হিসেবে আমার অভিষেকের সময় আপনার সাথে সরাসরি এভাবে মুখোমুখি সাক্ষাত ও কথা হয়েছিলো।
গ্রেট কুইন বললেন: কিন্তু আমি ঠিকই তোমাকে মনে রেখেছি। তুমি খুশি হয়েছো নিশ্চয়।
রিলেম বললো: আমি খুব আনন্দিত।
গ্রেট কুইন বললেন: যাইহোক, আজকে কিছুক্ষন তোমার সাথে কথা বলা যাক। তোমার কথা শুনবো। বলো কাজকর্ম কেমন চলছে? যদিও প্রায়শই তোমার সংবাদ আমি খোজখবর নেই, আমার কাছে আসে।
রিলেম বললো: সমস্ত ক্যাবিনেট ও সেন্সর মেম্বারগন এমনকি গ্রেট হাউজের সমস্ত গ্রেট অফিসার ও কমিশনারদের নিজস্ব অফিস আছে কিন্তু আমি একজন ক্যাবিনেট মেম্বার হয়েও বিগত দশ বছরে এখনো নিজস্ব অফিস বরাদ্দ পাইনি। অথচ শত বছর ধরে হাউজের অনেক কক্ষ এখনো খালি পড়ে আছে।

পাশেই উপবিষ্ট ফার্স্ট মিনিস্টার মোজেজ ফোনার দিকে তাকালেন ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন: দশ বছর ধরে এটা কি ধরনের মজা হচ্ছে ফার্স্ট মিনিস্টার? তোমার কি গ্রেট ওয়ার্ল্ড হাউজে কাজ করবার ইচ্ছে আছে কিংবা নাই?
ফার্স্ট মিনিস্টার মোজেজ ফোনা বললেন: মাই লেডী, ইউর ভেনারেশন! মাফ করবেন। দশ বছর আগে এক ইনাগোরেশন অনুষ্ঠানে আপনী উনাকে মৌখিকভাবে ক্যাবিনেট মেম্বার হিসাবে অনুমোদন করেছিলেন তখন তার বয়স ছিলো মাত্র বিশ বছর আর তখন থেকে তিনি নিয়মিত ক্যাবিনেটের সমস্ত সেশনে অংশগ্রহন করে যাচ্ছেন। যদিও তাকে বাই পেপার্স কোন নিয়োগ দেয়া হয় নি কিংবা বেতন,ভাতা ও অন্যান্য বিলও ইস্যু করা হয় নি তবুও ক্যাবিনেটের বাজেটের ফাইভ পার্সেন্ট ওভারহেড থেকে তার বেতন, ভাতা, বিল ও অন্যান্যা পাওনা পরিশোধ করা হয়ে আসছে। যেহেতু তাকে অফিসিয়ালি কোন নিয়োগপত্র এখনো দেয়া হয়নি তাই অনেক সুবিধাই তাকে এখনো দেয়া হয়ে ওঠে নি।
গ্রেট কুইন বললেন: তাহলে ফার্স্ট মিনিস্টার, তুমি আমাকে বলো যে গ্রেট কুইনের মুখের কথা যদি প্রয়োগ করার মতো যথেষ্ট না হয়ে থাকে তাহলে তাকে কিভাবে বলতে হবে? কিংবা গ্রেট কুইনের কাছে যদি তার ক্যাবিনেট মেম্বার গুরুত্বপুর্ন ও প্রয়োজনীয় না হয় তবে সে আর কাকে নিয়ে কাজ করবে? বলো!
ফার্স্ট মিনিস্টার বললেন: ইউর লেডী, ক্যাবিনেট মেম্বারদের নিয়োগ পত্রে ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন স্বাক্ষর করেন।

গ্রেট কুইন বললেন: কিন্তু স্বাক্ষর করবার সেই পেপারটা কোথায়?
ফার্স্ট মিনিস্টার মোজেজ ফোনা তার স্যুটের ফাইল থেকে গ্রেট এমবেড সম্বলিত একটি পেপার বের করে গ্রেট কুইনের হাতে দিলেন।
ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন সেটাতে স্বাক্ষর করে দিলেন। বললেন: এটা তুমি দশবছর ধরে স্যুটের ভিতরে বয়ে বেড়াচ্ছো, এটাই বলবে তো? আমার পুর্বপুরুষদের ইতিহাস এবং আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে এসব কিন্তু শুভ লক্ষন নয় ফার্স্ট মিনিস্টার। গ্রেট ওয়ার্ল্ডের গায়ে কোন আচড় লাগলে তোমার ফার্স্ট মিনিস্টারশিপ থাকবে না, তোমার কোন পরিচয় খুজে পাওয়া যাবে না। অতীত থেকে শিক্ষা নিতে পারো না?
রিলেম হার্টজকে গ্রেট কুইন বললেন: ঠিক আছে তুমি যাও। আগামীকাল থেকে তোমার নিজস্ব অফিস কক্ষে তুমি বসতে পারবে, তোমার বাসা ও অন্যান্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আগামীকাল থেকেই নিশ্চিত করা হবে এবং আমি নিজেই সেটা নিশ্চিত করে তবেই সন্ধ্যের ক্যাবিনেট সেশনে যোগ দিবো এবং তোমাকে অফিসিয়ালী হাউজে পরিচয় করিয়ে দিতে বলবো এবং আমি এই বিষয়ে কথা বলবো। কারন একজন হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভের বিষয় আমার কাছে অনেক গুরুত্বপুর্ন।

প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত জন্মদিনের অনুষ্ঠান চললো। দুর-দুরান্ত থেকে আগত অসংখ্য অতিথিদের সাথে সাক্ষাত করলেন গ্রেট কুইন এবং অনেকের সাথে ব্যাক্তিগত ও প্রশাসনিক খোজ খবর নিলেন।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments