Tuesday

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (৮ - ৯)


৮:
স্বপ্নবিশ্বে কিছু কিছু বিলিফের চর্চা করে থাকে স্বাপ্নিকরা এবং তার মধ্যে অধিক চর্চাকৃত একটি মতবাদ ও বিলিফ হচ্ছে চেঞ্জ বিলিফ। জীবনের কোন এক পর্যায়ে এসে স্বাপ্নিকরা নিজেদের পুর্ববর্তী জীবন এবং ধ্যান-ধারনার চেঞ্জ করে সম্পুর্ন নতুন একটি লাইফ স্টাইল গ্রহন করে থাকে। সাধারনত এডোলেসেন্ট কিংবা ইয়াং বয়সে এসে তারা চেঞ্জ হয়ে থাকে। সাধারন এই চেঞ্জ প্রক্রিয়া হয়ে থাকে অপরাধ জগতে প্রবেশ এবং সুনির্দিস্ট কিছু ক্রাইম করা এবং তার মধ্যদিয়ে প্রকৃতভাবে জীবনকে জানা। তারা সাধারন একাকী কিংবা দলবদ্ধভাবে কোন ক্রাইম যেমন কিলিং, ধর্ষন, রোবারি, কমিউনিটি কিংবা লার্জার সোসাইটি ব্লাকআউট এই জাতীয় ক্রাইমে অংশগ্রহন কর থাকে যেখানে ব্যাক্তিগতভাবে সবাই কোন না কোন পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে থাকে ও করতে হয় আর তবেই সে চেঞ্জ প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহন করে নিউ লাইফ স্টাইল গ্রহন করে নিজের নাম, পরিচয় কিংবা আইডেন্টিটির সাথে 'চেঞ্জড' শব্দটা বিলিফ অংশে লিখতে পারে যা তাকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, সরকারীভাবে রিকগনাইজড করে সমস্ত অধিকারগুলি নিশ্চিত করে। এই বিলিফের প্রতিটি স্বাপ্নিকদের চেঞ্জ হতে হয়। এটা তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপুর্ন একটি অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চর্চা ও সংস্কৃতি এবং বিলিফের অংশ। তোমার চেঞ্জ হবার সময় হয়েছে। তুমি কি চেঞ্জড? এমন বাক্য বহুল ব্যবহৃত এখানে। ইন্ট্রিগ্রেশন অফ লেভান্ত! ড্রিম ইউনিভার্সের একাধিক ওয়ার্ল্ড মিলে এই ইন্ট্রিগ্রেশন অফ লেভান্ত। এই সভ্যতাগুলি প্রায় পুরোটাই চেঞ্জ বিলিফের চর্চা করে থাকে। আর এখানেই এই বিলিফের আদি পটভুমি। মহান ওর্ক বাহাম এই চেঞ্জ বিলিফের প্রতিষ্ঠাতা। সারাজীবন অসংখ্য ক্রাইম করতে করতে অবশেষে মৃত্যুর কিছু যুগ আগে তিনি ক্রাইমকে একটি সভ্যতার চর্চা ও সংস্কৃতি এবং সর্বপরি একটি বিলিফের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে চেঞ্জ এর অবতারনা করেন। তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে হত্যা, একাধিক মেয়েদের ধর্ষন এবং আরো কিছু ক্রাইমের মধ্যদিয়ে চেঞ্ছড হয়ে জীবন গভীরভাবে জানতে পারেন এবং পুরোনো জীবন থেকে মুক্তি লাভ করে নতুন জীবনে প্রবেশ করে চেঞ্জ বিলিফ প্রতিষ্ঠা করেন। চেঞ্জ লাভের জন্য এই জাতীয় ক্রাইমগুলি খুব বেশী হয় না তবে এসব গ্রহন যোগ্য। আর সর্বপরি মুখের কথা কিংবা কোন কৌশল নয় বরঞ্ছ ইন্ট্রিগ্রেশন লেভান্তে চেঞ্জ এর জন্য সবাইকে প্রমান করে দেখাতে হয় যে সে চেঞ্জ হতে আগ্রহী এবং চেঞ্জড। এবং এজন্য অবশ্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে নিতে হয় কিংবা অনেকে হয়তো হঠাত করেই চেঞ্জ হয়ে যায়। কেউ হয়তো অন্য কারো চেঞ্জের ভাজে পড়ে যেতে চায় না কারন এটা অনেক যন্ত্রনা ও পীড়াদায়ক এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া আর সবাই এটা মেনে নিয়েছে এই শর্তে যে ড্রিম ইউনিভার্সে সেই লসটাকে দ্রুতই রিকভার করা হয়ে থাকে।

৯:
দ্যা ড্রিম ইউনিভার্সের অন্যতম সমৃদ্ধ একটি নগরী লেইন ফোর্থ হচ্ছে গ্রেট ওয়ার্ল্ড এর রাজধানী। স্বপ্ন বিশ্বের জিরো আওয়ার টাইম জোন এবং একান্ন ডিগ্রি উত্তর ও শুন্য ডিগ্রি পশ্চিম কোঅর্ডিনেটসে এই নগরীর অবস্থান। ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে অতি প্রাচীনকাল থেকেই গ্রেট ওয়ার্ল্ড একটি বিশ্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং লেইন ফোর্থ নগরী শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পুর্ব থেকেই সমৃদ্ধ ও উন্নত। এই ওয়ার্ল্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্বপ্নবিশ্বের অন্যান্য অংশের চেয়ে ভিন্নতর। ম্যাডাম লেডী গ্রেট কুইন হচ্ছেন গ্রেট ওয়ার্ল্ডের শাসক। সেই সাথে ম্যাডাম কুইন গ্রেট ওয়ার্ল্ডের সাথে সমস্ত সহযোগী, অংশীদার এবং জোটভুক্ত বিশ্বসমুহের প্রতীকি প্রধান। যদিও বর্তমানে ভিন্নধারার ও উন্নত স্বাপ্নিক সভ্যতার রাজনৈতিক চর্চা ও ব্যবস্থা পুর্বের চেয়ে অনেক উন্নত আর অনেক সহনশীল কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ম্যাডাম কুইনের শাসনামলে তার রাজনৈতিক সীমানা পুর্বের ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে স্বপ্ন বিশ্বের অনেক দুরদুরান্তে ও অধিক সংখ্যক বিশ্বে প্রসারিত হয়েছে। তবে আনুপাতিক হারে পুর্বেকার শাসকদের মতো ম্যাডাম কুইন বিলাস বহুল ও অত্যাধিক জাকজমকপুর্ন জীবন যাপন করেন না। তবে তার আছে কমবেশী প্রায় একহাজার সদস্যের একটি ক্যাবিনেট যা তার ক্ষমতা ও রাজনীতির মুল সোর্স। ক্যাবিনেট সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা, বিজনেস সেক্টরের প্রতিনিধি, সামরিক ও বেসামরিক উপদেষ্টা, গোয়েন্দা ও আইন শৃংখলা বাহিনীর পরামর্শক, লেখক, কবি, গবেষক, সমাজসেবক, ইত্যাদি যাদের স্ব স্ব অঞ্চল, কর্মক্ষেত্র ও সেক্টরের উপরে আছে অনেক গভীর প্রভাব, দক্ষতা, নিঃস্বার্থ অবদান এবং অনেক কঠোর ও অনুগত নিয়ন্ত্রন। গ্রেট ওয়ার্ল্ডের অঞ্চলসমুহের শাসকদের আনুগত্য এবং প্রতিকী প্রধান বিশ্বসমুহের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। সবকিছু মিলিয়ে গ্রেট ওয়ার্ল্ডকে অনেক শক্তিশালী, ক্ষমতাবান, উন্নত সভ্যতা ও ন্যায় পরায়ন করে তুলেছে। ম্যাডাম গ্রেট কুইন ও তার গ্রেট ওয়ার্ল্ডকে যতটা শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান মনে হয় প্রকৃতপক্ষে তারা উভয়ই তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান।  অনেকে মনে করে থাকে গ্রেট ওয়ার্ল্ডের অতীতের মতো স্বর্নালী যুগ হয়তো এখন আর নেই কারন সময় ও সভ্যতা বদলে গিয়েছে। কিন্তু এই ধারনাটা ভুল। ম্যাডাম কুইনের ফার্স্ট মিনিস্টার অতীতের সোনালী যুগকে স্মরন করছিলেন। ম্যাডাম কুইন এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন; এই ক্ষমতা তো এমন কিছু নয় যে সবাই দেখতে পাবে আর বলবে এইতো গ্রেট ওয়ার্ল্ডের ক্ষমতা ও বদনান্যতা! বরঞ্চ এটা প্রকাশ পেয়ে থাকে কথায় নয় কিন্তু কাজে, সবার উন্নত জীবন যাত্রার মানদন্ডে, চিন্তা ও অনুভবে।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe
Share:

0 comments: