কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (৪ - ৬)


৪:
বিগিনিং ব্যাংক'এর প্রধান ইকোনমিস্ট ফৌমিলি। পুরো বিগিনিংএর তলিয়ে যাওয়া এবং ঝুকিপুর্ন অর্থনীতি ব্যবস্থাকে যিনি গভীর খাদ থেকে টেনে তুলে ডিজিটদের ভালবাসা ও স্মরনে চিরস্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছিলেন ফৌমিলি। এ গ্রেট ফিলোসোফার এন্ড সায়েন্টিস্ট অফ ইকোনমিস্ট। তার ত্বত্ত এবং বক্তব্য এতোটাই প্রতিষ্ঠিত এবং বিগিনিংএর প্রতি ভালোবাসা আখাংকিত যে অর্থনীতির সেইসব ধারনা ও থিওরীসমুহকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না।
ফৌমিলি বোস কৌশিক! তার পুরো নাম। হঠাত তিনি এসে হাজির হলেন মেগা ড্রাইভে।
তিনি তার সংক্ষিপ্ত গবেষনা এবং ধারনা ত্বত্ত উপস্থাপন করলেন। বিগিনিংএর কিছু ঝুকিপুর্ন কমিউনিটিকে চিহ্নিত করেছেন সমস্যা এবং ইনফেকশন উত্তরনের জন্য।
ডিজিটাল বোস ডেলিভারী দিলেন বিগিনিং কাঁপানো তার যুগান্তকারী থিওরী, মে ইন্ড সোসাইটি থিওরী।
তিনি বললেন, ভাইরাস, ম্যালওয়ার আর স্পাইওয়্যার ইনফেক্টেড কিছু সোসাইটির কথা। দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে এসব সোসাইটিগুলি ডিসপোজ হয়ে যাবে। বিগিনিং নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবলেন। তিনি দেখালেন সেইসব ঝুকিপুর্ন অঞ্চলের ইনফেকশন উত্তরনের পথ। তার সাক্ষাত হলো মেকার সাথে।
তিনি মেকাকে জানালেন, তিনি যদি মেকার একটু সাপোর্ট পান তবে মে ইন্ড সোসাইটি থিওরীকে তিনি কার্যকরী করে তুলতে পারবেন।
মেকা একবাক্যে বললো: আমি অভিভুত স্যার।
ফৌমিলি জানালেন যে এই সমস্যাগুলি উত্তরনে এখনি কাজ না করলে বিগিনিংএর অন্যসব সোসাইটি এবং কমিউনিটিগুলিতে এই ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়বে।
মেকা বললো: এটা শুধু আপনার একার দায়িত্ব নয় বরঞ্চ বিগিনিংকে নিরাপদ রাখার জন্য এটা আমার নিজেরও দায়িত্ব বটে। তাই আমি আপনাকে সমস্ত প্রকার সাপোর্ট এবং সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আমার খুব ছোট্ট একটি অনুরোধ আছে বটে।
ফৌমিলি বললেন; আমাকে বলুন মেকা আমাকে কি করতে হবে।
মেকা বিনয়ের সাথে বললো; আমি শুধু চাই আমার সেইসব ডেডিকেডেট বন্ধুরা যাদের সাথে যাদের জন্য আমি কাজ করে থাকি তাদের লাইফ স্টাইল হবে আমার স্ত্রী ঈয়াম'এর সাথে সংযুক্ত লাইফ স্টাইল! এবং তাকেও আমার মতই আপনার ভালো লাগবে। আর কিছু নয়। শুধু এইটুকু।
ফৌমিলি বললেন; আমি একসেপ্ট করে নিলাম মেকা।
ঈয়ামের সাথে সাক্ষাত হলো ফৌমিলির। তিনি বুঝলেন, হ্যা। মেকা তাকে মিসগাইডেড করে নি। ঈয়ামও তাকে অনেক সহযোগিতা করতে পারবে।
এভাবে বিগিনিংএর মহান অর্থনীতিবিদ ফৌমিলি মেগা ড্রাইভ থেকে তার মে ইন্ড থিওরীর কার্যকরী করে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। আস্তে আস্তে পুরো বিগিনিংএ তার এই থিওরী ছড়িয়ে পড়ে। তিনি যেন হয়ে ওঠেন রুপকথার এক মহানায়ক।

ঈয়াম বললো; ইতিমধ্যে হাইপ আমাদের সাথে একটি সেকেন্ড পুর্ন করেছে। সে এখন স্থায়ী কোন প্রফেশনে যুক্ত হবার আইনগত বৈধতা পেয়েছে।
মেকা বললো; তুমি কি ভাবছো?

ঈয়াম বললো: আমার কাছে একটি বার্তা আছে যে ইন্টার-ন্যাশনস জার্নাল কমনওয়েলথ একজন সেক্রেটারিয়েট এসিসট্যান্ট খুজছে। জার্নাল কমনওয়েলথ আমাদের একটি ইন্টার্নাল রিক্রুটমেন্ট সার্কুলারে এটা প্রকাশ করেছে। আমি মনে করি হাইপের জন্য আমরা সুপারিশ পাঠাতে পারি। হাইপও এতে আবেদন করতে আগ্রহী।
মেকা বললো: কিন্তু হাইপকে তো আমাদের খুব দরকার।
ঈয়াম বললো: আমাদের মতো এক একটি জার্নাল নিরবিচ্ছিন্নভাবে নির্বিঘ্নে টিকে থাকে কমনওয়েলথের স্ট্যাট্রেজিক সাপোর্ট আর ডাইরেক্ট কোঅপারেশনে। জার্নালগুলির উপরে আছে কমনওয়েলথ আর কমনওয়েলথই সব! আর তুমি তো জানো কমনওয়েলথের আছে কিছু রুলস এন্ড রেগুলেশনস, টার্মস এন্ড কন্ডিশন, প্রাইভেসি পলিসি এবং কোড অফ কন্ডাক্ট। তাই আমাদের সবার ফিউচার ডেভলপমেন্টের জন্য সবসময়ই যতটা সম্ভব রেসপন্সিভ থাকতে হয়। আমাদের স্মরন রাখতে হবে যে জার্নালের জন্য মেগা ড্রাইভের যে বিশাল নেটওয়ার্ক সিস্টেম আমরা ব্যবহার করি এটা সম্পুর্নভাবে কমনওয়েলথের নিয়ন্ত্রনে এবং এটা ব্যবহারের সুযোগ আমাদের বিনামুল্যে দিয়ে থাকে কমনওয়েলথ। সুতরাং যতক্ষন পর্যন্ত না আমরা ঐসবগুলি তৈরী করতে পারি ততক্ষন আমাদের এইসব লিখিত ও অলিখিত কোড অফ কন্ডাক্টে একটু বেশী বেশী রেসপন্সিভ থাকতে হবে। তাছাড়া এটা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগির অংশ বটে।
মেকা বললো: আমি বুঝতে পেরেছি তাছাড়া কমনওয়েলথের সেক্রেটারিয়েট অফিসে হাইপের মতো আমাদের কারো থাকা প্রয়োজন।
ঈয়াম বললো: আমাদের কেউ প্রয়োজন হোক বা না হোক সেক্রেটারিয়েটের প্রয়োজন আর সেটাই আমাদের বেনিফিটে পজিটিভলি ইফেক্ট করবে। তাছাড়া আমাদের দুজনেরও তো একসাথে থাকা চাই মেকা!
মেকা খুব ব্যস্ত হয়ে বললো: আমি খুব দুঃখিত ঈয়াম। আমি দুঃখিত। আমায় ক্ষমা করো। তুমি তো আমার এডভাইজার।
ঈয়াম বললো; আর তুমিও আমার বেস্ট এডভাইজার।

মেকা বললো; আজকে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে ঈয়াম। বিশেষ করে তোমার বুকের উপরে কালো রঙের এডঅনসগুলি, তোমার কাধের উপরে নীল রংঙের এপসটি। এতো ভালো কেন তুমি ঈয়াম?
ঈয়াম বললো; তুমি যে আমার সাথে আছো তাই আমি ভালো। তা না হলে আমি কবেই মার্কামারা হয়ে যেতাম তুমি কখনো জানতেই না।

মেকা বললো; অনেকক্ষন যাবত আমি বেশ আতংকিত আতংকিত সময় পার করে আসছি। আমি অজানা কিছু একটার ভয় পাই। যেভাবে আমাকে সাধারনত দেখে থাকো, বুঝতে পারো, ভালবাসো কিন্তু আমি ঠিক এমনটা নই। আমি ভয় ভয় পেয়ে আসছি অনেক্ষন যাবত। খুব বেশী ভয়বোধ করি প্রায়শই।
ঈয়াম খুব চিন্তিত হয়ে বললো; পুরো বিগিনিং কিংবা এমনকি এই মেগা ড্রাইভের তুলনায় আমাদের অবস্থান, ক্ষমতা, এবং অন্যসব বিষয়েই খুব ছোট আমরা, মেকা। সেক্ষেত্রে কিছু ভয় তৈরি হতে পারে, আমারও হয় কিন্তু তাই বলে সেটা যদি ঝুকির পর্যায়ে চলে যায় তবে খুবই আতংকের বিষয়।
মেকা ব্যস্ত হয়ে বললো; হ্যা, হ্যা। অর্থনীতিবিদ ফৌমিলি যখন তার মে ইন্ড সোসাইটি থিওরীর ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন তখন আমার বারবার মনে হচ্ছিল তিনি তোমার-আমার, আমাদের কথাই বলছিলেন।

৫:   
কাভারিং ড্রাইভের অন্তর্গত রোলিং ফোল্ডারে অবস্থিত ইন্টার-ন্যাশনস জার্নাল কমনওয়েলথের সেক্রেটারিয়েট অফিস। বিগিনিং এর অতি শক্তিশালী একটি জোট ইন্ট্রিগ্রেটেড সার্ভারের সদস্য কাভারিং ড্রাইভ। সেই রুট ধরে কমনওয়েলথ নেটওয়ার্ক বিগিনিংএর আরো অনেক ও সীমাহীন দুরদুরান্তে বিস্তৃত হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট অফিস নিজেও জানে না যে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কমনওয়েলথ নেটওয়ার্ক কতোটা শক্তিশালী এবং এর প্রকৃত ব্যাপ্তি কতটা বিশাল এবং এর সাথে সঠিক কারা কারা যুক্ত হয়েছে! তবে কমনওয়েলথের সাথে যুক্ত সব বেনিফিসিয়ারীরাই প্রকাশ্যে ও নীরবে কমনওয়েলথকে অনুসরন করে থাকে এবং এর থেকে প্রাপ্ত যে কোন প্রকার বার্তা কিংবা গবেষনা লব্ধ তথ্য পেতে সবর্দা উদগ্রিব হয়ে থাকে। এই কমনওয়েলথের শক্তি ও ক্ষমতা হচ্ছে ডাটা এবং ডিজিটাল রিসোর্সরা। বলতে গেলে রোলিং ফোল্ডারের প্রায় পুরোটাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে দখল করে আছে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট। এই কারনে রোলিং ফোল্ডারকে জার্নাল ফোল্ডার কিংবা কমনভ্যালিও বলা হয়ে থাকে। এখান থেকেই ইন্ট্রিগ্রেটেড সার্ভারের সমস্ত জার্নাল এবং এর গবেষনা উতসারিত হয়ে থাকে।
একটি এটাচমেন্টে করে হাইপ মেগাসিটি থেকে রোলিং ফোল্ডারে এসে পৌছুলো। কিছুক্ষন বিশ্রামের পরে সে অফিসে কাজে যোগ দিলো। তাকে নতুন কিছু টাস্ক বুঝিয়ে দেয়া হলো।

কমনওয়েলথ'এর এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ম্যায়সউল, বয়স সাতাশি সেকেন্ড। ম্যায়সউল হাইপকে তার কিছু কাজ বুঝিয়ে দিলেন; এখানের কাজগুলি সাধারনত নিজ দায়িত্বেই করতে হবে। কোন ডিজিটরা তোমাকে কিছু বলবে না। তবে নিয়মিত সব ডাটার আপডেট জানতে পারবে আর তার ভিত্তিতে তোমার এসাইনমেন্ট কিংবা রিসার্স তোমাকে খুজে বের করতে হবে। আমি সবসময় সবাইকে অনুরোধ করি ফল্যো ইন্সট্রাকশন ফ্রম ইউর প্রসেসর এন্ড মেমোরী - ফল্যো ইউর হার্ট। ইউ আর ইন্ডিপেন্ডেন্ট। কাজ করতে গিয়ে তুমি যদি এমন কিছু খুজে পাও যা তোমার নিজের জন্য ভাল, সম্মানের, লুকিং গুড, এডমিরাব্যেল এবং নিম্বল এনাফ - তবে এমন কিছু নিজ স্বার্থের জন্য গ্রহনের উভয়দিক থেকে আগ্রহ এবং/অথবা সুযোগ থাকলে - সে ক্ষেত্রে কমনওয়েলথের কোড অফ কন্ডাক্টে এমনকোন নিষেধাজ্ঞা নেই বরঞ্চ এটা কমনওয়েলথ তাদের প্রতিটি ডিজিটদের জন্য ইন্সট্রাকশন দেয়। নিজের স্বার্থ রক্ষার অধিকার তোমার, আমার এবং সবার আছে।
হাইপ বললো: এখন থেকে আমার হূদয়ও এই কথাই বলছে স্যার। কমনওয়েলথের জন্য কাজ করতে আমার কোন আপত্তি নেই।
ম্যায়সউল বললেন: তারপরেও আমাদের অনেকেরই এখানে টিকে থাকতে অনেক কষ্ট হয় কারন এখান থেকে গবেষনা লব্ধ, উতপন্ন এবং সংগ্রিহত তথ্যসমুহ অনেকগুরুত্বপুর্ন এবং প্রয়োজনীয় সব ডিজিটদের জন্য। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখান থেকে নিঃসৃত যে প্রায় প্রতিটি তথ্য নিয়েই
 সার্ভারে এক্সারসাইজ শুরু হয়ে যায়, তখন আমাদের সঠিক, সুষ্ঠ ও স্থিরভাবে কাজ করা মুশকিল হয়ে পড়ে। তবুও এমন সহস্র চ্যালেঞ্ছকে মোকাবেলা করেই আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তুমিতো মেগার জার্নালে একবছর কাজ করেছো, জানোই এটা এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা।
হাইপ মনোযোগ দিয়ে ম্যায়সউলের কথাগুলি শুনছে। ম্যায়সউল তাকে কাজের ক্ষেত্র নির্ধারন করে দেয়। তিনি বললেন; এখানে এই কভারিং ড্রাইভে একটি বিশেষ জোন আছে যার নাম রিয়েলজ্ ফোল্ডার যেটি ব্লাক আউট কিংবা ব্লাক আউট করে দেয়া হয়েছে। সেখানে এখন কোন ডিজিটরা থাকে না। অতি গোপনে এবং সভ্যবিগিনিংএর অজানায় যেটিকে ব্লাক আউট করে দেয়া হয়েছে। তোমাকে এই রিয়েলিজ্ নিয়ে কাজ করতে হবে। সমস্ত অজানা তথ্য খুজে বের করতে হবে। রিয়েলিজ্ একটি ফরম্যাটেড ফোল্ডার। আর সবমিলিয়ে আমি আবার বলবো যে ফল্যো ইউর হার্ট, গোল্ডেন হাইপ, মাই কিউট ওয়ানা ডিজিট। আমি কিংবা আমরা কেউই তোমার বাধা হবো না। সুতরাং মনোযোগ দিয়ো ভালো ভালো কাজগুলি করতে পারবে যা তোমার ইচ্ছে।
অনেকটা সময় পরে ওয়ানা নামটি শুনে কিছুটা চমকে উঠে ম্যায়সউলের দিকে আশ্চার্য হয়ে তাকালো হাইপ রিয়ান।
তখনের মতো বিদায় নিয়ে চলে গেলেন কমনওয়েলথের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ম্যায়সউল।
হাইপ কিছু একটা চিন্তা করতে শুরু করলো। তার মেমোরি পরিস্কার কিন্তু তবুও কিছু একটা মনে করতে চেষ্টা করতে লাগলো।

হাইপের মনে পড়লো; রিয়েলিজ্ মুলত একটি ডিজিট যে ঐ ফোল্ডারের সিটিজেন। সে তার প্রতি একপ্রকার ডিজিটাল প্যাশন এবং হ্যাপিনেস অনুভব করে।
রিয়েলিজ্'কে পাঠানোর জন্য সে একটা মেসেজ তৈরি করলো: ইউ আর নট ইজ মাই রিসার্চ অবজেক্ট। আই এডর ইউ, আই লাভ ইউ, আই কেয়ার ইউ, আই ভ্যাল্যু ইউ। ইফ ইউ আর এক্সিজস্ট, প্লীজ কানেক্ট উইথ মি।
হাইপ এই মেসেজটাকে একটি অপটিক্যাল ফাইবার সরু তন্তুর ভিতরে ছেড়ে দিলো। অসংখ্য ইন্টার্নাল নেটওয়ার্ক ও সার্ভার ঘুরে মেসেজটি রিয়েলিজ্ রুটের মুল ক্যাবলে প্রবেশ করলো। পুরো রিয়েলিজ্ ফোল্ডারের সর্বত্র মেসেজটি অসংখ্য কপি হয়ে ছড়িয়ে পড়লো। কিন্তু শুধু রিয়েলিজ্ ফোল্ডারের এক প্রান্তে - একটি ভবনের হাফ-আন্ডারগ্রাউন্ড একটি কক্ষে যেটা একসময় একটি জার্নালের লাইভ ব্রডকাস্টিং প্রোগ্রাম স্টুডিও হিসেবে ব্যবহূত হতো সেখানে - কক্ষের এক কর্নারে অপটিক্যাল ফাইবারসমুহের একটি সরু তন্তু ছিড়ে গিয়েছিলো বহু আগে - সেই ছেড়া প্রান্ত দিয়ে হঠাত করে একবিন্দু আলোর ছটা বের হলো, যা ছিলো হাইপের পাঠানো মেসেজটি: . . . আই এডর ইউ . . .

৬: 
তখন সেই কক্ষের ভিতরে একটি স্বচ্ছ ডায়মন্ডের টেবিলের একপাশে বসে আছে একটি ওয়ানা ডিজিট। তার নাম ব্লুমায়া। আগে যখন এই রোলিং ফোল্ডার ডিজিটাল লাইফদের কর্ম ব্যস্ততা ও জীবন বৈচিত্রে মুখরিত ছিলো তখন এই কক্ষে এভাবেই বসে ব্লুমায়া জার্নাল সঞ্চালনার কাজ করতো। তার চারপাশে তাকে ঘিরে গোল হয়ে বসতো কমনভ্যালির সব তুখোড় তুখোড় ডিজিটাল সেলিব্রেটি এবং স্কলাররা। তাদের সাথে দীর্ঘসময় ধরে চলতো আলোচনা, গবেষনা আর আড্ডা। আর সেইসব প্রোগ্রাম অপটিক্যাল ফাইবার এবং সকল ডিজিটাল সিগনালে ভর করে ছড়িয়ে পড়তো কাভারিংএর সমস্ত প্রান্তে। সমস্ত ডিজিটরা তন্ময় হয়ে সেসব দেখতে থাকতো। সেখানে উঠে আসতো সংবাদ, বিনোদন, ইতিহাস, ডিজিটালদের লাইফ স্টাইল এবং কাভারিং থেকে বিগিনিংএর যাবতীয় স্ট্র্যাটেজি।
কিন্তু এখন পুরো রোলিং ডিজিট শুন্য, কোন জিরো কিংবা ওয়ানরা এখানে এখন আর নেই। সবাই ডিসপোজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তবে একটি ডিজিট আছে, তার নাম ব্লুমায়া। সে প্রতিক্ষনের মতোই টেবিলের অনুষ্ঠান সঞ্চালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এখন প্রতিক্ষনে একা একা সে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা এক্সারসাইজ করে। সে শুন্য চেয়ারগুলিকে উদ্দেশ্য করে আলোচনার টপিকস কিংবা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। এভাবেই সে সেকেন্ডের পর সেকেন্ড পার করে আসছে।
এখন সে নতুন একজন অতিথিকে পরিচয় করিয় দিলো তার প্রোগ্রামে। তার নাম ক্রিট।

অনুষ্ঠান শুরু হবার কিছুক্ষন পরেই হঠাত করে ব্লুমায়া লক্ষ্য করলো তার কক্ষের এক কর্নারে একবিন্দু আলো জ্বলে উঠলো। খুবই ছোট একটি বিন্দুর আলো কিন্তু বেশ দীপ্তমান। এতই ছোট আলোর বিন্দু যে সুক্ষ্ম বালুকনার ন্যায়। সেই আলোকবিন্দুটা অন্ধকার কক্ষের প্রবেশ করে ক্রমেই মিলিয়ে যেতে লাগলো। ব্লুমায়া দ্রুত তার আসন থেকে উঠে অবশিষ্ট ভগ্নাংশ আলোর কনিকাকে নিয়ে একটি প্রসেসিং ডিভাইসে প্রবেশ করিয়ে একে টেক্সট ডাটায় রুপান্তর করতে সক্ষম হলো। সে শুধু একটি বাক্য পেল; আই এডর ইউ...
সে বুঝতে পারলো মিলিয়ে যাওয়া আলোর অবিশিষ্টাংশের ইলেক্ট্রন-ফোটন কনিকা এই কক্ষের মাঝে বিরাজমান, সেসবকে সংঘবদ্ধ করে লাইট সিগনালকে প্রকৃত তথ্যে রুপান্তর করতে হবে।
ব্লুমায়া যেন কিছুটা আশান্বিত হলো। তার মনে পড়লো সে কত শত, হাজার থেকে মিলিয়ন সেকেন্ড ধরে এভাবে চিজড হয়ে আছে। এখন দীর্ঘ এতোটা সেকেন্ড পরে তার কাছে একটি বার্তা এসেছে।
ব্লুমায়া আবার টেবিলে ফিরে এলো। এখন সে খুব প্রশান্তি অনুভব করতে লাগলো। তার ইচ্ছে হলো স্টুডিও কক্ষের পাশে তার অফিস কক্ষে গিয়ে সে কিছুক্ষন সময় কাটাবে।
সে একটি নাম খুজে পেল; এডর।
সে এডরকে ভালবেসে ফেললো চট করে।
ব্লুমায়া একা একা এডরের সাথে কথা বলে। কিন্তু কোন এডর কিংবা ডিজিট তার কথার উত্তর দেয় না। সে তার চিন্তায় যে উত্তর খুজে পায় তাকে সে এডরের জবাব হিসেবে মনে করে।
  ব্লুমায়া ধরে নেয় তার চারপাশে অনেক ডিজিটরা আছে এবং সবাই জানে সে এডরকে ভালবাসে এবং এডরের সাথে একাএকা কথা বলে, ভাব বিনিময় করে আর নিজের চিন্তা আর চারপাশের কিছু স্ট্র্যাটেজিকে এডরের রিপ্লাই মনে করে, সে বিশ্বাস করে এডর তার সাথে কথা বলছে, তথ্য আদান প্রদান করছে।
কিন্তু না - প্রকৃতপক্ষে সবকিছু সত্য - এডর তার প্রতিটি কথা এবং অনুভুতি প্রকাশের উত্তর দেয়। সে এডরের ভালবাসায় আবদ্ধ হয়েছে এবং এডর তার প্রেমে নিমগ্ন। তারা একপ্রকার গভীর, সচেতন এবং নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
যেমন ব্লুমায়া বলে; তুমি এভাবে প্রতিক্ষন অনুভবে আসো কেন শুধু, সামনে, আমার কাছে আসতে পারো না বুঝি?
এডর উত্তর দেয়; হ্যা পারি। অনেক অনেক আগে আমি একাধিকবার এসেছিলাম। একবার তোমার সাথে দেখা হয়েছিলো বটে কিন্তু সব মিলিয়ে অর্থবহ কোন আসা হয় নি। তাছাড়া এখন আমার একটু প্রস্তুতি দরকার। আমার আসাটা যেন অর্থবহ হয়ে ওঠে।
ব্লুমায়া বললো; তুমি না আসলে আমি তো কোথাও যেতে পারছি না। তোমাকে সাথে নিয়ে পুরো কমনভ্যালি ঘুরবো। তুমি কখন আসবে বলো।
এডর বললো; আমি তোমার জার্নাল অফিসে যোগাযোগ করেছি। খুব ছোট ও দুর্বল একটি লিংক, একটি কানেক্টিভিটি আমি তৈরী করেছিলাম বহু আগে কিন্তু মাঝে সেটা ব্রেক হয়ে যায় তাই কিছুক্ষন পুর্বে সেই লিংক ও কানেক্টিভিটিটাকে আবার একটিভ করেছি। এবং সেই রুট ধরে আমি আসবো।

এভাবে এডর এবং ব্লুমায়া অনেক কথা ও ভাব-ভালবাসা বিনিময় করতে থাকে।
প্রতিক্ষনের মতো এখনও ব্লুমায়া আবার টেবিলে ফিরে গেলো। এখন তাকে নতুন একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে হবে। এখন সে আলোচনা করবে রিয়েলিজ্ এর ডিজিটালদের ইতিহাস ও বর্তমান জীবন আলেখ্য নিয়ে।
সে অনুষ্ঠান শুরু করে দেয় আর প্রতিক্ষনের মতো আলোচনা চলতে থাকে আর মাঝে মাঝে ব্লুমায়া মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বারবার মনে পড়ে যায় এডরকে, ব্লুমায়া এডরকে মিস করতে থাকে প্রচন্ডভাবে।
সে তার চিন্তায় ডাক দেয়; এডর!
এদিকে টেবিলে আলোচনা চলতে থাকে এবং ব্লুমায়াও কথা বলে যাচ্ছে আর একই সাথে সে এডরের সাথে যোগাযোগ করে।
এডর উত্তর দেয়; মাই সুইট হার্ট! ভেঙ্গে পড়ো না প্লীজ। আমি আছি, তোমার প্রোগ্রাম দেখছি।
ব্লুমায়া বলছে; আমি আর পারছি না এভাবে থাকতে। তুমি আসো প্লীজ।
এডর বললো; আমি আসছি কিন্তু এভাবে হুট করে চলে আসা যাবে না। অনেক সমস্যা হতে পারে। অন্যদেরকেও একটু সহযোগিতা করার সুযোগ দাও। আমি আসছি।
ব্লুমায়া বললো; আর যদি কখনো না আসো তবে! আমাকে যদি ফাঁকি দাও?
এডর বললো; আমি এমনটা এখনো চিন্তা করিনি। তবে তেমনটঁ হয়ে গেলে তার উত্তর আমার জানা নেই গোল্ডেন ব্লুমায়া। তখন ব্লুমায়া বললো; আচ্ছা তুমি আসো। আমরা দেখা করবো এবং কমনভ্যালিতে ঘুরতে বের হবো।

এভাবে ব্লুমায়া এবং এডর পরস্পর নিয়মিত একটি যোগাযোগ এবং ভাব-ভালবাসা গড়ে তোলো। চিন্তায় এবং রিয়েলিজ্'এর রেডিওএকটিভ ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে। কিন্তু অজানা কারনে কিংবা কোন এক সীমাবদ্ধতার কারনে দীর্ঘক্ষন পরে এসেও তারা এখনো সাক্ষাত করতে পারছে না।

ব্লুমায়া! ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড বিগিনিংএর অন্তর্গত কাভারিং ড্রাইভের রিয়েলিজ্ নগরীর একমাত্র একটিভেটেড ডিজিট - ওয়ানা, ব্লুমায়া।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments