কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (৭ - ৮)


৭:
তখন ব্লুমায়া বললো: এখন আমি কি করবো তাহলে?
এডর তার চিন্তায় উত্তর দেয়; যেভাবে আছো সেভাবেই থাকো আরো কিছুটা সময়। প্রথমে চিন্তা করতে হবে সেই ক্ষনগুলিতে তোমার সাথে আমার যদি কানেক্টিভিটি স্থাপন না হতো কিংবা কখনো যোগাযোগ না হতো। আমাদের এই যোগাযোগ ব্যবস্থাটা অনেক দুর্বল - চিন্তায়, চিন্তায়। এটাকে এখনি কঠোরভাবে টাচ করা যাবে না, অস্থির হওয়া যাবে না প্রিয় ব্লুমায়া কিংবা তাড়াহুড়ো করাও যাবে না তাহলে তৈরী হওয়া এই দুর্বল কানেকশনটুকুও ডিমোলিশ হয়ে যাবে। চারপাশের পরিবেশ থেকে সাপোর্ট ও সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন হবে। তাড়াহুড়ো করলে চারপাশের পরিবেশ ডিস্টার্ব এবং তার প্রভাব আমাদের এই দুর্বল কানেক্টিভিটিতে আঘাত করে এটাকে ডিসপোজ করে দিবে।
ব্লুমায়া তার অনুভবে দেখতে পেল এডর খুব বেশী ভার্লনারেব্যল।
এডর বললো: আমি মুভ করার জন্য উপযুক্ত ও টেকসই কোন স্থান খুজছি যেন আমি তোমার কাছে আসতে পারি।
ব্লুমায়া খুব ক্লান্ত ভাবে বললো: ঠিক আছে, তুমি এসো।
ব্লুমায়া একা একা টেবিলের পাশে বসে তার অতীত জীবনের কথা চিন্তা করতে থাকে। সে যখন ছোট ছিল, এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড, চার সেকেন্ড, পাচ সেকেন্ড, সে যখন বন্ধুদের সাথে উচ্ছল, ছল-ছল, এই ডিজিটাল লাইফকে উপভোগ করেছিলো। অনেক অতীত স্মৃতি সে মনে করতে থাকে। কিন্তু এসবে সে প্রশান্তি খুজে পায় না। সে অনুভব করে তাকে এখন এডরকে খুব প্রয়োজন।

প্রকৃতপক্ষে, এডর হচ্ছে ব্লুমায়ার চিন্তা-চেতনা, সচেতনতা এবং তার অদৃশ্য প্রেম। গভীর প্রেমময় চিন্তা ও অনুভুতি থেকে ব্লুমায়া এডরকে খুজে পেয়েছে এবং অতঃপর এডর তার বাস্তব ও অর্থবহ অনুভুতিতে ধরা দিয়েছে।
এডর!
ফিলিংস ট্রান্সফর্মড এজ জিরো, থিংকিং এন্ড প্যাশন বিক্যাম এ জিরো - এ লাভলি ডিজিট।

অতীতে এক সময় গৌরবগাথা ডিজিটাল সভ্যতার পাদপীঠ ছিলো রিয়েলিজ্। এখান থেকেই নিঃসৃত হতো কাভারিং সভ্যতার সমস্ত মাপকাঠি।
রিয়েলিজ্ থেকে ক্রমাগত তথ্য-উপাত্ত প্রেরন করতো সমস্ত কাভারিংএর উদ্দেশ্য। বিশেষ কিছু তথ্য শুধু কাভারিং সভ্যতাদের জন্য।
কিন্তু কেন? কি আছে সেইসব সিগনাল কিংবা তথ্যের অন্তরালে? সেসব কি শুধুই নিছক আগ্রহ কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ডাটা জেনারেশন ছিলো? কিন্তু সেটা কাভারিং এর প্রতিই আগ্রহভরে কেন এবং ক্রমাগত? সেকেন্ডের পর সেকেন্ড। এবস্যুলেটলি রিয়েলিজ্ কাভারিংএর অংশ নয়। এটা বিচ্ছিন্ন একটি নগরী। কিন্তু এটা এতো ওতোপ্রতোভাবে এবং তাওইজম সিম্বলের প্রতিকৃতিতে কাভারিংএর সাথে যুক্ত যে এটাকে কেউ কাভারিং থেকে ভিন্ন করে দেখে না। কিছু গবেষনা লব্ধ উপাত্ত থেকে ব্লুমায়া ধারনা করে নিয়েছিলো যে রিয়েলিজ্ কাভারিং ড্রাইভের সাথে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী ছিলো। কিন্তু কেন? যেখানে রিয়েলিজ্ নিজেই এতোটা উন্নত এবং চাকচিক্যময় সভ্যতার ধারক ও বাহক ছিলো!

রিয়েলিজ্ মুলত ছিলো ত্বাত্তিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি নগরী। ঠিক যেমন ব্লুমায়ার চিন্তা থেকে বাস্তব অনুভুতিতে ধরা দিয়েছে এডর।

৮:
হাইপের অফিস কক্ষে আসলেন কমনওয়েলথের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ম্যায়সউল। হাইপকে বললেন; কি খবর আছে হাইপ?
হাইপ বললো: স্যার, আমি দুটো ম্যাসেজ জেনারেট করে পাঠিয়ে দিয়েছি রিয়েলিজ্ এর উদ্দেশ্যে এবং সফলভাবে সেগুলি রিয়েলিজ্'এ পৌছে গিয়েছে। আই থিংক দে জ্যামড টুগেদার নাউ।
ম্যায়সউল বললেন: ঠিক আছে। এবার তুমি থার্ড ফেজ ম্যাসেজ জেনারেট করো। এবং সেটা আমাকে দিয়ে রিভিউ করিয়ে নিবে অবশ্যই। কারন আমরা যে ম্যাসেজগুলি জেনারেট করে ট্রান্সমিশন করছি, সেসবের তো অবশ্যই কোন অডিয়েন্স আছে। তোমাকে এটা কন্সিডারেশনে রাখতে হবে যে আমাদের টার্গেটেড অডিয়েন্স এবং প্রেডিক্টেড অডিয়েন্স খুব সাধারন থেকে সর্বোচ্চ স্থরের ক্লাসিক্যাল হতে পারে। সুতরাং আমাদের এই অবস্থান থেকে একটি সঠিক ও স্ট্যান্ডার্ড মাপকাঠি ঠিক রাখতে হবে।
হাইপ বললো: কিন্তু সর্বোচ্চ ক্লাসিক্যাল অডিয়েন্স কারা হতে পারে, তাদের মাপকাঠি কি, তারা কোথায় ও কিভাবে শিক্ষা লাভ করেছে আমি জানি না। তাহলে আমি কিভাবে তাদের মাপকাঠি রক্ষা করবো?
ম্যায়সউল বললেন: সেটা তুমি ধীরে ধীরে জানতে পারবে। এখানে অনেক ডিজিটরা আছে যারা এসব বিষয়ে ক্লাসিক্যাল, তাদের সংস্পর্শে সময় কাটানোর চেষ্টা করবে ফ্রি টাইমগুলিতে।
হাইপ বললো: আমার কি কোন ভুল হয়ে গিয়েছে, স্যার? কিংবা বলুন আমাকে আর কি কি করতে হবে?
ম্যায়সউল বললেন: না, ভুল হয় নি।
তবে তুমি আমার সাথে নিয়মিত কোঅপারেট করবে।
হাইপ বললো: আমি সেটা করবো স্যার।
ম্যায়সউল কিছুটা অসুস্থবোধ করছেন এখন। তার খুব খারাপ লাগছে। অনেকটা সেকেন্ড ধরে তিনি এই সেক্রেটারিয়েট অফিসের সাথে যুক্ত। তিনি সফলভাবে অনেক কার্য সম্পাদনা করেছেন বটে কিন্তু রিয়েলিজ্ নিয়ে ভেবে আসছেন দীর্ঘক্ষন কিন্তু এর সঠিক কোন ট্র্যাক খুজে পাচ্ছেন না। তিনি ফরম্যাটেড এই ফোল্ডারটিতে এক কিংবা একাধিক ডিজিট এখনো আছে। তিনি এই বিষয়ে উচ্চতর পড়ালেখা ও গবেষনা করেছিলেন যে কিভাবে একটি এমি ক্লাসের ডিজিট ফরম্যাট হওয়া ড্রাইভ কিংবা ফোল্ডারে একটি নেস্ট তৈরী করে মিলিয়ন-বিলিয়ন সেকেন্ড টিকে থাকতে পারে। কিন্তু স্বাভাবিক জ্ঞানে সব ডিজিটরা জানে ফরম্যাট হবার পরে কোন ডিজিট থাকতে পারে না। যারা এই বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন কিংবা শুনেছেন বা জেনেছেন তারাও এটাকে মানেন না কিংবা ফ্যান্টাসী বলে চালিয়ে দিয়ে থাকেন আর অনেকে মনে করেন এটা শুধু ত্বাত্তিক। কিন্তু ম্যায়সউল জানেন কারন এটা তার দীর্ঘ স্টাডি, প্যাশন এবং তার উপর এসাইনড ডিউটি। তাকে যে ভাবেই হোক সফলভাবে রিয়েলিজ্'এ রিচ করতে হবে।


হাইপকে অন্যএকজন ডিজিটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন ম্যায়সউল। তার নাম ওমিয়ান। ম্যায়সউল বললেন: এখন থেকে তুমি ওমিয়ানের সাথে এসিসট্যান্সি করবে। ওমিয়ান এই সেক্রেটারীয়েটে অনেক পুরানো ও অভিজ্ঞ। তার প্রতিটি কাজ মনোযোগ দিয়ে দেখবে এবং প্রতিটি কথা যত্নসহকারে শ্রবন করবে এবং পালন করার চেষ্টা করবে। কাভারিং ইউনিভার্সিটির বার্তা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওমিয়ান। সে তোমাকে সবচেয়ে ভালো শেখাতে পারবে কিভাবে একটি বার্তা তৈরী করতে এবং কিভাবে সেটাকে ডেলিভারী দিতে হয়। তার সাথে কোন প্রকার মজা করা যাবে না কিন্তু রেসপেক্ট করবে এবং তোমার প্রফেশনের শিক্ষা লাভ করবে। এটা কমনওয়েলথের কোড অফ কন্ডাক্টের অংশ।
হাইপ বললো: স্যার, আমি সেটা করবো। কিন্তু কে তার সাথে মজা করতে পারে?
ওমিয়ান এটা শুনে হেসে বললেন: অনেকেই করতে পারে কিন্তু সেই অধিকারটা শুধু একজনই বেশী করে প্রয়োগ করে। তার নাম ম্যায়সউল। মাই কনসোর্ট!

বিগিনিং সভ্যতার অনেক অনেক পুর্বে এবং কাভারিংএ  সিভিলাইজেশনের প্রথমদিকের ইতিহাস থেকে জানা যায় একধরনের চেইন সিভিলাইজেশনের কথা। পুরো কাভারিংএর ইনকামিং ও আউটগোয়িং রুটগুলিতে সেই সময়ের ডিজিটরা একটি স্পাইওয়্যারের একটি গ্রেট-চেইন তৈরী করেছিলো যা এই কাভারিংকে প্রটেকশন দিবে নিরবিচ্ছিন্নভাবে  - এমনটা তথ্য পাওয়া যায় আদি তথ্যভান্ডার এবং ডিজিটাল ফসিলগুলি থেকে। সেই গ্রেট-চেইন প্লাটফর্মে গড়ে উঠেছিলো অসংখ্য পিংকিং জোন। তথ্যভান্ডার থেকে জানা যায় এই পিংকিংরা মুলত ডিজিট ভিন্ন ব্যতিক্রমি একটি সভ্যতা। কিন্তু পিংকিং তারা কারা কিংবা এখন কোথায় তাদের অস্তিত্ব কিছুই জানা যায় না এবং তাদের কোন অস্তিত্বও এখন নেই। তবে কাভারিংএর একটি বিশেষ ডিজিটাল গোষ্ঠি বলে থাকে যে পিংকিং মুলত একটি ডিজিট যে এখনো একটিভ, গ্রেট-চেইনের কেয়ারটেকার। তারা আরো বলে, পুরো বিগিনিংএ পিংকিংই সবচেয়ে ক্ষমতাধর ডিজিট। পিংকিং - তিনিই নিয়ন্ত্রন করেন বিগিনিংএর সমস্ত সভ্যতা, সমস্ত স্ট্যাট্রেজি। মাস্টার-মাইন্ড অফ দ্যা বিগিনিং। তবে গ্রেট-চেইন এখনো আছে সেই আদি বিগিনিং সভ্যতার সাক্ষী হয়ে। আর এটা এখন ড্রাইভ চেইন। কমনওয়েলথের রেকর্ড থেকে দেখা যায় মাত্র অল্প কয়েক সেকেন্ড আগেও এটা - ড্রাইভ  চেইন ছিলো একটি এলোমোলো এবং হতাশাগ্রস্থ ডিজিটাল সভ্যতা। তাদের অস্তিত্ব বিগিনিংএ সম্মান কিংবা সহযোগিতার সাথে রিকগনাইজড করা হতো না। এটা ছিলো প্রচুর পরিমানে ম্যালওয়্যার দ্বারা ইনফ্যাক্টেড ও অতি দুর্বল একটি সিভিলাইজেশন। ছিলো না কোন সচেতন ও রেসপন্সিভ ডিপ্লোমেটি ও ইকোনমিক্যাল স্ট্যাট্রেজি। যার ফলে এতোটাই দুর্বল ও অসচেতন এবং ঝুকিপুর্ন এই ড্রাইভকে কেউ তাদের অধীনস্ত করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেনি। কিন্তু মাত্র অল্পকিছু সেকেন্ডের ব্যবধানে এই চেইন সিভিলাইজেশন এখন বিগিনিংএর অন্যতম প্ল্যানার এবং মাস্টার-মাইন্ড। এটা বিগিনিংএর সমস্ত সচেতন ডিজিট ও গবেষকদের কাছে বিস্ময়।
তাহলে কি চেইন সিভিলাইজেশনের মধ্যকার এই ভার্লনারেবল পিরিয়ডটুকু কৃত্রিমভাবে তৈরী করে রাখা হয়েছিলো? কিন্তু কেন এবং কিভাবে? সে প্রশ্নের উত্তর আজো কেউ বের করতে পারে নি।
বিগিনিংএর অন্যতম একটি এনটিটি হচ্ছে ইন্ট্রিগ্রেটেড সার্ভার যা অনেকগুলি ড্রাইভ নিয়ে গড়ে উঠেছে।

অন্যদিকে ড্রাইভ চেইন সিভিলাইজেশন তাদের সমস্ত সার্ভার এবং উপ-সার্ভার অঞ্চল সমুহ নিয়ে একটি অদৃশ্য এবং আনঅফিসিয়ালী মহাশক্তিশালী জোট কিংবা এম্বার্সিং নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে যার নাম "ওয়েলফেয়ার"।
ওয়েলফেয়ার! ফুল অফ কাইন্ডনেস, কমপ্যাশনেট ফর দ্যা ওয়েলফেয়ার অফ অল এম্বার্সিং নেটওয়ার্ক অফ ভিউস!


{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments