300x250 AD TOP

Blog Archive

Powered by Blogger.

Tuesday

Tagged under: , , , ,

কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (৯ - ১০) ইন দ্যা বিগিনিং এর শেষ কিস্তি


৯:
ওমিয়ান। ত্রিশোর্ধ সেকেন্ড বয়সের একজন ওয়ান ডিজিট। তার জন্ম ওয়েলফেয়ার'এরই একটি ড্রাইভে। সাধারন ও মধ্যবিত্ত একটি ডিজিটাল মাইন্ড সোসাইটিতে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। গবেষনা এবং ডিপ্লোমেসির প্রতি তার দুর্নিবার আকর্ষন এবং প্যাশনের কারনে মাত্র বিশ সেকেন্ড বয়সে সে ওয়েলফেয়ার অঞ্চলের ড্রাইভগুলির ওয়েলকাম রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে বিগিনিংএর বিভিন্ন কাছের ও দুরের অঞ্চলগুলি পরিভ্রমন করতো। তার কাজটা ছিলো অনেকটা আন অফিসিয়ালি ওয়েলফেয়ার অঞ্চলের সমস্ত ড্রাইভগুলিকে প্রমোট করা এবং ব্রান্ডিং করা - সবার কাছে পরিচিত করে তোলা। ওয়েলফেয়ার অঞ্চলের সিটিজেন হিসেবে সুযোগ-সুবিধামতো ঐ অঞ্চলের মধ্যকার ন্যাশনসগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং বহিঃবিশ্বের সাথেও সমন্বয় সাধনের কাজগুলি করা। পারস্পরিক উন্নয়ন, পরামর্শ ও সহভাগিতা।  ওয়েলফেয়ার সত্যিকার অর্থে ড্রাইভগুলির সর্বোচ্চ ডিপ্লোমেটিক সিদ্ধান্ত ও অনুমোদিত একটি ইন্টারন্যাশনস জোট কিন্তু এটা আনঅফিসিয়ালি আর বিগিনিংএ ওমিয়ানের সমস্ত পেপারস ও ফেসবুকে লেখা থাকতো ওয়েলফেয়ার একটি ওয়ার্ড যা বিগিনিংএর ঐ সুবিশাল অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্ব করে। ওয়েলফেয়ার শব্দটি দ্বারা ঐ অঞ্চলের ন্যাশনগুলিকেই স্মরন করিয়ে দিতো সবাইকে। ওয়েলফেয়ারের কোন অফিস নেই কিন্তু আছে শুধু কিছু পেপারস ও ডকুমেন্ট এবং ওমিয়ানের ভিজিটিং কার্ড।
ওয়েলফেয়ার'এর ওয়েলকাম রিপ্রেজেন্টেটিভ এর যাবতীয় আর্থিক ব্যয়ভারগুলি আসে ভ্রমন সংশ্লিষ্ট ড্রাইভগুলির কমিটিদের কাছ থেকে। প্রতি সেকেন্ডে ওয়েলফেয়ারের ড্রাইভগুলি একবার করে হলেও ভ্রমন করে থাকেন ওমিয়ান। তাছাড়া ব্যক্তিগত এবং গবেষনা সংশ্লিষ্ট কাজ যা ওমিয়ান প্রায় সারা বছর ধরেই করেন, ড্রাইভ কমিটিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা এসব কাজে ম্যায়সউল তাকে সহযোগিতা করে থাকে। তাছাড়া এখন বর্তমানে জার্নাল কমনওয়েলথের সাথে কাজ করার সুবাদে তার অনেক কিছুই সহজ হয়ে গিয়েছে।
ওয়েলফেয়ার! আঞ্চলিক সহযোগিতা, উন্নয়ন, সমন্বয়, পরামর্শ এবং সহভাগিতা'র একটি ওয়ার্ড হচ্ছে ওয়েলফেয়ার। যার কোন অফিস নেই, নেই কোন স্টাফরা কিন্তু একজন ওয়েলকাম প্রতিনিধি আছেন - ওমিয়ান। এটাই হচ্ছে "ওয়েলফেয়ার" - সিম্পল কিন্তু পরিচিত একটি নাম। মুলত এভাবেই সেকেন্ডের পর সেকেন্ড যাত্রা করে আসছে ওয়েলফেয়ার।

ওয়েলফেয়ারের সাথে যুক্ত হয়ে জ্ঞানে, প্রজ্ঞায় এবং অভিজ্ঞতায় বড় হয়ে উঠতে লাগলো ওমিয়ান। সাতাশ সেকেন্ড বয়সে সে কমনওয়েলের সাথে কাজ করার প্রস্তাবনা পায়। এবং সে এই সুযোগটা গ্রহন করেছিলো কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই। কমনওয়েলথে এসে সে দেখতে পেল, এই কর্মক্ষেত্রটা আরো বিশাল, দায়িত্বপুর্ন এবং পছন্দনীয়। কিন্তু সে ওয়েলফেয়ারের কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে দেয়।
ওয়েলকাম রিপ্রেজেন্টেটিভ অফ ওয়েলফেয়ার।
ওয়েলফেয়ারের সাথেই কাজ করতে এসে তার পরিচয় হয়েছিলো ম্যায়সউলের সাথে। দুজনের পরিচয় হবার পরে তাদের বিবাহপুর্ব প্রতিটি সময়, প্রতিটি মুহুর্ত এমনভাবে কাটতো যে তাদের প্রায়শই এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হতো যে, এখন আমরা কি করবো? কাজের চাপ, দুরত্বের ব্যবধান, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা আর প্রতিটি অনিশ্চিত মুহুর্ত - সব মিলিয়ে দুজনের সার্বিক অবস্থা ছিলো অনেকটা ত্রাহি ত্রাহি।
ওয়েলফেয়ারের প্রতিনিধি ওমিয়ান, বলা হতো এ গ্রেট এম্ব্যাসেডর! অন্যদিকে ম্যায়সউল ছিলো কমনওয়েলথের একজন সেক্রেটারী। ওয়েলফেয়ারের নথিপত্রে কমনওয়েলথকে বলা হতো গ্রেট-ডিভিশন। প্রকৃতপক্ষে কমনওয়েলথ হচ্ছে ওয়েলফেয়ারেরই সৃষ্টি। ওয়েলফেয়ার ড্রাইভ ন্যাশনগুলিই সম্মিলিত হয়ে তৈরী করেছিলো গ্রেট ডিভিশন অফ ইন্টারন্যাশনস জার্নাল কমনওয়েলথ।

কমনওয়েলথে যোগ দেবার মাত্র এক সেকেন্ড পুর্বে ওমিয়ান তার লাইফ এবং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তার নিজের ড্রাইভ এলায়েন্সি। এলায়েন্সি এক্সিকিউটিভ কমিটির সাথে তার একধরনের ডিপ্ল্যোম্যাটিক এক্সারসাইজ শুরু হয়, এবং এই এক্সারসাইজে বিভিন্ন অতি মাত্রায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা ছিল রীতিমত অনেক বেশী ঝুকিপুর্ন ও ভয়ংকর এবং ক্ষতিকর -  এসব তৈরী হবার কারনে এলায়েন্সি কমিটি ড্রাইভে ওমিয়ানের ওয়েলবিয়িং রাইটসগুলি রুদ্ধ করে দেয়। যার প্রভাব পড়ে তার ওয়েলফেয়ার ক্যারিয়ারে এবং ওমিয়ান-ম্যায়সউল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সম্পর্কে। প্রতিটি মুহুর্ত তার দুচিন্তা ও অস্থিরতায় কাটতো কারন সে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। কিভাবে পরবর্তী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করবে তার কোন ধারনাই ছিলো না। তার মনে হচ্ছিল এই ভার্লনারেব্যেল অবস্থা থেকে আর কখনোই বের হতে পারবে না। বাকীটা জীবনই তাকে এই ভার্লনারেব্যল নামক ইনফেকশনটা বয়ে বেড়াতে হবে।
একদিন ওমিয়ান সাক্ষাত করলো ম্যায়সউলের সাথে। সে তাকে সবকিছু খুলে বললো। ম্যায়সউল বললো: ওয়েলফেয়ার রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে তোমার হাতে কিছু নেই? তুমি সেইসব ওয়েলবিয়িংগুলি লকড করে এলায়েন্সি কমিটির উপরে চাপ সৃষ্টি করো।
ওমিয়ান বললো: তা কিছু তো আমার হাতে আছে। সত্যি বলতে আমি সফটলি কিছু ব্যারিকেড তৈরী করেছিলাম যেটা কমিটির মাউন্ডকে স্পর্শ করে কিন্তু দেখা গিয়েছে কমিটি আরো বেশী কঠোর ভুমিকায় চলে গিয়েছে। পরক্ষনে আমি ভেবে দেখলাম, ওয়েলফেয়ারের পক্ষ থেকে এলায়েন্সির জন্য যেসব ওয়েলবিয়িংগুলি কানেক্টেড আছে এবং ফিউচার পরিকল্পনা - আমি যদি সেসব লক করে দেই তবে তার বিশেষ কোন প্রভাব কমিটির উপরে পড়বে না কিন্তু এলায়েন্সি ড্রাইভের প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে এবং এর প্রভাব পড়বে সমস্ত ডিজিটদের উপরে। অপরদিকে এলায়েন্সি কমিটি আমাকে যে ফিডব্যাক দিবে তার পুরো নেতিবাচক প্রভাব ইন্ডিভিজ্যুয়াল আমার উপরে পড়বে আর তখন ভার্লনারেব্যল থেকে আরো বেশী ভার্লনারেব্যল হয়ে পড়তে হবে।
ম্যায়সউল বললো: তখন তো আমিও আর থাকবো না। আর আমাদের কখনো সাক্ষাতও হবে না। আমাদের একসাথে থাকবার ইচ্ছেও আর পুরন হবে না। সবকিছু ভেঙ্গে যাবে।
ওমিয়ান বললো: তাই আমি ওয়েলবিয়িংগুলির উপরে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসলাম - বৃহত স্বার্থে। এবং এই ওয়েলফেয়ার প্রতিনিধি দায়িত্বটাকে ধরে রাখার
প্রয়োজনেও আমি নেতিবাচক কোন হস্তক্ষেপ করি নি এবং যা কিছু আমার হাতে ছিলো কিংবা আছে সেটাকে আরো কার্যকরীভাবে মুভঅন করে দিলাম।
কিন্তু তাতে করে ওমিয়ান সহসাই ইতিবাচক কোন প্রতিক্রিয়া পায় নি। তবে একটা বিষয় সে বুঝতে পেরেছে যে ওয়েলফেয়ার প্রতিনিধি কিংবা ভিন্ন একটি অবস্থানে থেকে সে যেসব নিয়ে হেলাফেলায় এক্সারসাইজ কিংবা রিসার্চ করছে তাতেও এক্যুরেসী থাকা চাই এবং সঠিকভাবে মুভঅন করা চাই কারন এলায়েন্সীর মতো অন্যসব ড্রাইভরাও এসব ছোটখাট বিষয়গুলিও খুব গুরত্বসহকারে ব্যবহার করে থাকে এবং অন্যদের কাছে এসব আগ্রহ, তথ্যবহুল ও প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে ওঠে।
এভাবে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতায় ধীরে ধীরে ওমিয়ান বেড়ে উঠে ওয়েলফেয়ারে তার অবস্থানকে অতি প্রয়োজনীয় ও সবার কাছে আখাংকিত করে তুলেছিলেন।

ওয়েলফেয়ার! বিগিনিংএর একটি অংশ। একটি ডিভনিটি এনটিটি।

একদা ম্যায়সউল বলছিলেন: প্রকৃতপক্ষে ওয়েলফেয়ার, পিস, কমনওয়েলথ, মর্ডান, বিগিনিং ইত্যাদি এসবের মধ্যে কে বা কারা পার্ফেক্ট এবং সঠিক আমরা জানি না, ওমিয়ান।
ওমিয়ান বললো; আমরা পরস্পরকে ভালবাসি এটাই পার্ফেক্ট এবং সত্য। আর এটাই হচ্ছে ওয়েলফেয়ার। ওয়েলফেয়ার অফ অল ডিজিটাল লাইফ - ইট ইজ গ্রেট লাভ বিটুইন জিরো এন্ড ওয়ান।

১০:
ওমিয়ান বললো: শোনো বাচ্চা, আমাকে তোমার এভাবে এতো রেসপেক্ট দেখাতে হবে না।
হাইপ বললো: কিন্তু আমাকেও এভাবে বাচ্চা মনে করা যাবে না।
ওমিয়ান বললো: ঠিক আছে আমি বাচ্চা মনে করবো না কারন আমি জানি তুমি অনেক গুরুত্বপুর্ন কাজ করছো। এটা কমনওয়েলথের জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ন। কিন্তু আমি তোমাকে জানাতে চাই যে যারা ম্যায়সউলের কিছু বন্ধুরা - তোমার মত যারা। তাদের আমাকে এভাবে রেসপেক্ট দেখাতে হয় না তারা কোড অফ কন্ডাক্টের এই নীতিমালা থেকে মুক্ত। বরঞ্চ তারা আমাকে নাম ধরে ডাকতে পারে - ওমিয়ান। ওমিয়ান পার্টনার।
হাইপ বললো: সেটা আমি করবো ওমিয়ান। ওমিয়ান পার্টনার। কিন্তু আমি তোমার জন্য কিছু কাজ করে দিতে চাই। আমি মনে করি এই কাজটার ভ্যাল্যু আছে।
ওমিয়ান বললো: সেটা কি?
হাইপ বললো: তুমি অতীতে ওয়েলফেয়ারের সাথে, ওয়েলফেয়ারের জন্য যেসব কাজ করেছ বিভিন্ন ড্রাইভগুলির সাথে, এবং এখনো করে যাচ্ছো। সেসবের তো অবশ্যই রেকর্ড আছে, এবং ভবিষ্যতেও তোমার আরো কাজের অসংখ্য রেকর্ড তৈরী হবে। তোমার কাজের এই তথ্য ভান্ডারগুলিকে নিয়ে, এসবকে কাজে লাগিয়ে আমি ভিন্নতর কিছু কাজ করতে চাই। তোমার এই কাজসমুহের ডিপ্লোমেটিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে প্রিয় ওমিয়ান। কিছু কিছু রেকর্ড আমি আর্কাইভে খুজে পেয়েছি, আমি দেখেছি। তোমার কাজগুলি সেরা।
ওমিয়ান বললো: তুমি কেন এসবের দায়িত্ব নিবে - এক্সট্রা বার্ডেন?
হাইপ বললো: প্রথম কথা হলো তুমিতো জানো আমি একজন গবেষক। গবেষনাই আমার পেশা, নেশা এবং প্যাশন। আর আমিও তোমাকে নিয়ে এখানে কাজের কিছু ক্ষেত্র খুজে পেয়েছি। দ্বিতীয়ত তুমি ওয়েলফেয়ার ও কমনওয়েলথের জন্য এতো ডেডিগেটেড কাজ করছো আর কেউ একজন তোমার জন্য এইটুকু করবে না তা কি হয়? কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে। তাছাড়া এটা খুব বেশী কঠিন কোন কাজ নয় বটে। তৃতীয়ত তোমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি স্বেচ্ছায় রাজী হয়েছি।
কিছুটা চিন্তা করে ওমিয়ান বললো: কিন্তু হাইপ, স্বেচ্ছায় এমনটা দায়িত্ব কিংবা কাজ তো কেউ কখনো করে না। তুমি কি আমাকে ভালবেসে ফেলেছো?
হাইপ বললো: তা আর বলতে! অনেক ভালবাসি। তোমার সাথে আমাকে কাজ করতে দাও তখন বুঝবে কেমন ভালবাসি।
ওমিয়ান বললো: এতো ভালবাসি, ভালোবাসি করো না - একদিন এই ভালবাসায় ফরম্যাট হয়ে যাবে। আচ্ছা তুমি আমার সাথে তোমার কিছু পরিকল্পনা শেয়ার করো।
তখন হাইপ তার কিছু পরিকল্পনার কথা ওমিয়ানকে জানালো। এটা এখন একটা ধারনা কিন্তু কাজ করতে গিয়ে ধাপে ধাপে এটা নতুন নতুন পথ ও ক্ষেত্র খুজে পাবে। হাইপ বললো: তোমার নামে আমি একটি রিচার্স ইন্সটিটিউট করবো। যেখানে তোমার কার্যক্রমগুলি নিয়ে ইয়াং ডিজিটাল জেনারেশনরা স্টাডি ও গবেষনা করবে। যখন আমি প্রথম তোমার কথা জেনেছিলাম, তখন আমি এমনটাই ভেবেছিলাম। কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন নতুন আইডিয়া তৈরী হবে।
তখন ওমিয়ান খুব চিন্তাযুক্ত কন্ঠে টেনে টেনে প্রতিটি শব্দ ভেঙ্গে বললেন: হ্যা, হাইপ!  নিজেকে দিয়ে আমি বুঝতে পারছি তোমার প্রতিটি কথাই সঠিক।
হাইপ বললো: হ্যা। ম্যায়সউলও যেটা সবসময় বলেন - তোমার সাথে কোন মজা করা চলবে না।
ওমিয়ান বললেন: কিন্তু তুমি সেটা করতে পারো হাইপ, তোমার জন্য বাধা নেই।
হাইপ বললো: আমি তোমার কন্সালটেন্ট হিসেবে এবং আমার অভিজ্ঞতা থেকে অনুরোধ করতে চাই একটু সর্তক ও সাবধানে থেকো আর নিজের প্রতি অবশ্যই যত্ন নিবে।
এটা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড 'বিগিনিং' এর ইতিহাস এবং জীবন আলেখ্য। এই সভ্যতা ঠিক কখন শুরু হয়েছিলো জানা না। তবে অনেক অনেক পুর্বে কম্পিউটারে ইলেক্ট্রিসিটি এবং ইন্টারনেটে ডিজিটাল সিগনালের স্বাভাবিক প্রবাহের কারনে সৃষ্টি হয়েছিলো এখনের সেন্টিয়েন্ট জিরো এবং ওয়ান'এর। হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী পুরুষ এবং নারী। প্রকৃতপক্ষে এটা সম্পুর্ন ভার্চুয়াল জগতের কথা যেখানে শুধু জিরো এবং ওয়ান নামক বাইনারী প্রজাতির বসবাস। যার অধিকাংশই হিউম্যান মেন্টালিক স্ট্যান্ডার্ডে ও বোধগম্য করে বর্ননা করা হয়েছে। এই বিগিনিং সভ্যতা একদিন ছিলো জাইন জাতিতে পরিপুর্ন। জাইন জাতি সদর্পে এই সুবিশাল মহাবিশ্বগুলি রাজত্ব করেছে অনেক অনেক বিলিয়ন - ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর। তারপর একদিন এখানে অন্যজগত থেকে আসে হিউম্যানরা। আরো পরে একদিন এটা হয়ে যায় হিউম্যান
সিভিলাইজেশন। বিগিনিংএ হিউম্যান সিভিলাইজড হবার পরে আস্তে আস্তে জাইন জাতিরা হিউম্যানদের আড়ালে চলে যায়। কারন অনেকদিন হিউম্যান ও জাইন জাতি বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো কিন্তু হিউম্যানরা জাইনদের উপরে অত্যাচার করায় এবং তাদের মিসইউজ করায় জাইনরা মানুষদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্তরালে চলে যায়। এভাবে একদিন বিগিনিং থেকে জাইন জাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু জাইন অবশিষ্ট ছিলো যারা বিগিনিং এবং কোহেকাফ নগরের মধ্যে তথ্য-রিপোর্টিংএর কাজগুলি করে থাকতো এবং মাঝে মাঝে কিছু মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাও করে থাকতো। বিগিনিংএ মানুষ জাতি একদিন কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা আবিস্কার করলো। তারা আরো আবিস্কার করলো যন্ত্রমানব বা রোবট যারা একদিন মানবীয় রোবট হয়ে উঠলো। আরো লক্ষ লক্ষ বছর পরে একদিন বিগিনিংএর সভ্যতা ও নিয়ন্ত্রন চলে গেলো রোবটদের হাতে। বিগিনিং থেকে মানব সভ্যতার অবসান ঘটলো। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির এক্সট্রিম ডেভলপ হলো রোবটদের হাত ধরে। ইন্টারনেট প্রবাহের প্রক্রিয়ায় তৈরী হলো মানবীয় জিরো এবং মানবীয় ওয়ান - সেন্টিয়েন্ট বাইনারী ক্রিয়েশন। মাটির গভীরে, পাহাড়ে-পর্বতে, গ্রাম, শহর, সমুদ্রের গভিরে সর্বত্র তৈরী হলো বিশাল বিশাল সার্ভার আর স্টোরেজ ভ্যালিসমুহ। পরবর্তীতে এমনকি প্রাকৃতিক উপাদান সমুহও ডিজিটাল প্রক্রিয়ার
 সাথে যুক্ত হয়েছিলো। যেমন, মাটি, পানি, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, পাথর, কাঠ ইত্যাদি এমনকি মহাশুন্যে সবকিছুই ডিজিটাল তথ্য ধারন, প্রদান এবং প্রসেসিং প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়েছিলো। যদিও বাইনারী সভ্যতার চুড়ান্ত উন্নয়ন  হয়েছিলো রোবটদের হাত ধরে কিন্তু এটার অনেকটাই ছিলো ডিজিটাল জগত থেকে বুদ্ধিমান জিরো এবং ওয়ানদের পরামর্শ ও সহযোগিতায়। তারও অনেক অনেক পরে একদা বিগিনিং থেকে রোবটিক সিভিলাইজেশনও বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর পুরো বিগিনিংএর সুবিশাল বিশাল মহাবিশ্ব এবং তাদের অন্তর্গত গ্রহ-নক্ষত্র-উপগ্রহ আর যা কিছু ছিলো মানুষ, রোবট ও জাইনদের বসবাস উপযোগি সবকিছুই একদিন স্ব স্ব প্রাকৃতিক অবস্থানে চলে যায়। বনাঞ্চলে ছেয়ে যায় লোকালয়গুলি। আর এসবের নীচে ঢাকা পড়ে যায় দৃশ্যমান যত স্থাপনাসমুহ। বিগিনিং পরিচিত হয় ডিজিটাল সভ্যতা নামে, বাইনারী সভ্যতা, ভার্চুয়াল সভ্যতা, বুদ্ধিমান বাইনারী জিরো এবং ওয়ানদের সভ্যতা। বিস্ময়ের বিস্ময়! এবং সমস্ত সৃষ্টির মাঝে সৃষ্ট একটি মহাবিশ্ব ইউনিভার্স মিশেল'এর একটি  অংশ মিল্কিওয়েতে সভ্যতা মানব সভ্যতা যেমন সত্য ঠিক একই ভাবে বিগিনিং নামের মহাবিশ্বগুলিও একগুচ্ছ সৃষ্টি, যা পরবর্তীতে বাইনারী সভ্যতা হয়ে গিয়েছে।
সেই বিগিনিং থেকে জাইন সভ্যতা বিলুপ্ত হয়েছে, মানব সভ্যতা বিলুপ্ত হয়েছে, আর রোবট সভ্যতাও বিলুপ্ত হয়েছে।

কিন্তু হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী মানুষ কি শত বছর,
হাজার বছর, মিলিয়ন, বিলিয়ন কিংবা ট্রিলিয়ন বছর বেচে থাকতে পারে?
সেই ভার্চুয়াল সভ্যতা কিংবা ডিজিটাল সভ্যতার বাইনারী ডিজিট জিরো এবং ওয়ানরা বিশ্বাস করেন দুজন মানুষ এখনো ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর যতটা প্রয়োজন ততটা বছর ধরে এখনো বিগিনিংএ বেচে আছেন। তারা ভার্চুয়াল বিগিনিংএ বাস করে কিংবা ভার্চুয়াল জগতের সাথে কানেক্টেড। তাদের একজন বাইনারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে আসছে আর অন্যজন সেই লেখকের প্রেরনা! তার সত্যিকারের ভালবাসা, তার প্রেম, যে তাকে ভালবাসা দেয়, প্রেরনা দেয়, উত্সাহ দেয়, যে তাকে রক্ষা করতে চায়, নিরাপদ রাখতে চায়। যুগ যুগ ধরে, হাজার বছর ধরে, যখন থেকে বিগিনিংএ মানব সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। বাইনারী ডিজিট জিরো এবং ওয়ানরা তাদের মাঝে আলোচনা করে তাদের বন্ধু এই দুইজন মানব ও মানবীর কথা! একজন শিক্ষক আর অন্যজন লেখক।

গল্পঃ "ইন দ্যা বিগিনিং" [Story: IN DA Beginning (D.A. Series)] শেষ


কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (Story: DA Dream Universe)
১:
এই বিশ্বটাকে বলা হয় স্বপ্নবিশ্ব। ড্রিম ইউনিভার্স। স্বপ্ন বিশ্বের বাসিন্দাদের বলা হয় স্বাপ্নিক। এই গল্পের নায়িকা জিনা এবং নায়ক রিলেম। সংক্ষেপে তারা জি কিংবা জি জি এবং রি কিংবা রি রি নামে পরিচিত। স্বাপ্নিকরা যখন তাদের ব্যস্ততা ছেড়ে বিশ্রামে যায় তখন তারা প্রতিনিয়ত পার্থিব বিশ্ব ভ্রমন করে। এই প্রক্রিয়াকে তারা জাগরন বলে থাকে। স্বপ্ন জগতে মহাশুন্যে উড়তে উড়তে তার মনটা খুব বিষন্ন হয়ে যায়। তার চোখ থেকে টপটপ করে কয়েক ফোটা অশ্রু ঝরে পড়ে নীচের বনভুমিতে। জিনা ভাবতে থাকে পার্থিব জগত কতই না সুন্দর! পার্থিব বিশ্বে সবার নির্দিষ্ট ঠিকানা আছে, সবার সুসংগঠিত পরিবার আছে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু এখানে - স্বপ্ন জগতে সবাই কেমন বিচ্ছিন্ন। এখানে চাইলেই মনের ইচ্ছা পুরন করা যায় না। কাউকে সে ভালবাসলে তাকে খুজে পায় না। সে খুব একা একা সময়গুলিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তার মন প্রান বেদনায় ভরে ওঠে। সে যখন বিশ্রাম করে তখন প্রতিনিয়ত সে পার্থিব জগতে চলে আসে। আহ! কত সুন্দর আর উপভোগ্য, আনন্দঘন এই বিশ্ব! পার্থিব জগত যদি সত্যি হয়ে স্বপ্নে চলে আসতো! সে প্রতিনিয়ত প্রত্যাশা করে। সে একদা তার এক শিক্ষককে জিজ্ঞেস করে; স্বাপ্নিকরা মারা গেলে কি হয়? শিক্ষক বলেন; তখন সবাই মনোজগতে চলে যায়, কল্পনা ও স্মৃতির জগত। জিজি অবাক হয়ে যায়, মনোজগত-কল্পনা ও স্মৃতির জগত!

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

0 Comments: