কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা অডাসিটি (১৫ - ২১)


১৫:
একহাজার বছর পর!
লাইকন এম্পায়ারের সম্রাট ট্রশী জীয়নের ইম্পেরিয়াল প্যালেসে আসল লা দো ফি।
সম্রাটের বারোজন চিফ মিনিস্টার ও ইম্পেরিয়াল হাউজ ভর্তি অসংখ্য কর্মকর্তা ও দরবারের দর্শনার্থীদের সামনে সম্রাট লা দো ফি কে প্রস্তাব করলেন তার কন্যা নাহি বেল কে বিয়ে করতে।
লা দো ফি বললঃ সম্রাট, নাহি বেল কে আমি কতটা ভালবাসি সেটা আমি কখনোই বুঝিয়ে বলতে পারবো না বা প্রকাশ করে দেখানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
সম্রাট বললেনঃ প্রিয় দো ফি, তুমি অবগত আছ যে বিগত একহাজার বছরে লাইকন এম্পায়ারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছে এটা এম্পায়ার ভেঙ্গে যাবার একটি উপাদান। অনেক সাধারন জাইনরা অভিযোগ করেছে এম্পায়ারের অর্থনীতির একটি বড় অংশ একা লা দো ফি এর হাতে চলে গিয়েছে। আমি চাই তুমি তোমার সব ক্রেডিট জাইনদের মধ্যে বিলিয়ে দাও বা সেটা করবে প্রতিশ্রুতি দাও অতঃপর নাহি বেল কে বিয়ে কর। যাতে জাইনরা আমার সিদ্ধান্ত সমর্থন করে।
সম্রাটের অনুরোধ শুনে দো ফি দুঃখ পেল কারন সে অনেক পরিশ্রম করে এই অর্থ উপার্জন করেছে। তার বিশেষ একটি পরিকল্পনা আছে। দো ফি দরবার থেকে চলে যেতে উদ্যত হলো।
আসন ছেড়ে সম্রাট উঠে দাড়িয়ে বললেনঃ দো ফি, আপনী যাবেন না। আমি বুঝতে পেরেছি। আমি সম্রাট ও নাহি বেল এর পিতা তাই তাকে আপনার হাতে তুলে দেবার সব অধিকার আমার আছে। এই বিয়ে অসম্ভব কিছু নয়।

১৬:
দো ফি ভাবছে তার সমস্ত অর্জিত ক্রেডিট দিয়ে সে অডাসিটির বাহিরে অনেক অনেক দূরে কিছু গ্যালাক্সি কিনে নিবে।
রিকা ইউনিভার্স!
ইউনিভার্সাল কোঅর্ডিনেটসে অডাসিটি থেকে ত্রিশ ডিগ্রি এক্স অক্ষ এবং ষাট ডিগ্রি জেড অক্ষে সাতাশি বিলিয়ন পারসেক দূরে পঞ্চাশটি গ্যালাক্সি সে কিনে ফেলল। এই কালেকটিভ ইউনাটেড সিস্টেমের সে নাম দিল রিবিল্ড কিংডম ডি।
এখানে এক সাথে সমস্ত সেন্টিয়েন্টরা বসবাস করতে পারবে।
কিন্তু নাহি বেল! পঞ্চাশটি গ্যালাক্সিতে দো ফি টেরাফর্মিং করতে পারবে নাহি বিশ্বাস করতে পারছে না। এই কিংডমকে জাইনদের বসবাস উপযোগি করে তুলতে হবে।
দো ফি বললঃ নাহি বেল, আমাকে বিশ্বাস করো। এই এম্পায়ারের রাজধানী শহর কিংবা জীয়ন পর্বতমালার চেয়েও নয়াভিরাম পরিবেশ হবে ডি কিংডম। সেটা এখান থেকে অনেক দুরে হলেও সেখান থেকে নিয়মিত তুমি তোমার বাবার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। দেখবে একদিন এটা হবে সমস্ত জাইন জাতির কেন্দ্রবিন্দু। মহাশুন্যে ভেসে বেড়াবে জাইন সম্প্রদায়ের সংগীতের সুর। যদি আমার পরিকল্পনা তুমি অনুভব করতে না পার তবে সে আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলতে পারবো না।
নাহি বললঃ ইম্পেরিয়াল প্যালেসের এমন মনোরম বাগান থাকবে তো? কোন গার্ডেনার থাকবে না। আপনী বাগানে বসে বৃক্ষে ফুল ফোটাবেন আর আমি পিছন থেকে এসে আপনাকে জড়িয়ে ধরব!
ফি বললঃ হ্যা! তাই হবে নাহি। আমরা ভালবাসা সৃষ্টি করব।

১৭:
মানুষ, জাইন, রোবট কিংবা যে কোন সেন্টিয়েন্টদের একটি চিন্তা থেকে অন্য একটি চিন্তায় জাম্প করতে যে সময় অতিক্রান্ত হয় এই দুরত্বটাকে এক সেকেন্ড ধরা হয়। এভাবে ষাট সেকেন্ডে এক মিনিট, ষাট মিনিটে এক ঘন্টা এবং চব্বিশ ঘন্টায় একটি স্ট্যান্ডার্ড দিন ধরে তিনশত পয়ষট্টি দিনকে এক বছর বলা হয়। অডাসিটি এবং ওমেগা সেঞ্চুরী এম্পায়ারের বিজ্ঞানীরা পৃথক ভাবে হিসেব করেছেন যে পারসেক দূরত্ব পরিমাপের সবচেয়ে বেশী ব্যবহূত ও জনপ্রিয় একক। আলো শুন্যস্থানে এক বতসর অর্থাত সাতাশি হাজার ষাট ঘন্টা সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে। এবং যেসব নক্ষত্রের প্যারালাক্স এক সেকেন্ড তাদের দূরত্ব এক পারসেক। ১ পারসেক = ৩.২৬ আলোকবর্ষ।
ইম্পেরিয়াল প্যালেস থেকে মাত্র এক পারসেক দুরে নাহি বেল এর ব্যাক্তিগত হামাম। অবশ্য এখানে সে নিয়মিত আসে না। প্রতি বছর কোন এক পুর্নিমা রাতে সে তার বান্ধবীদের নিয়ে এখানে দশ দিনের জন্য আসে। সাথে থাকে তার সুবিশাল নারী জাইনদের নিরাপত্তা প্রহরীর দল। এখানে সে উপভোগ করে বছরের শ্রেষ্ঠ সময়গুলি। আজ অবদি এখানে কোন পুরুষ জাইনের পদচারনা পড়ে নি। কিন্তু এবার প্রথমবারের মত লা দো ফি যাচ্ছে তার সাথে।
নাহি বললঃ ফি, আমার এই হামামের মত একটি গ্রহ থাকবে তোমার রিবিল্ড কিংডমে? আমি বান্ধবীদের নিয়ে পুর্নিমা রাতে সেখানে সাতার কাটবো?
ফি বললঃ হ্যা হ্যা,থাকবে!

১৮:
নাহি বেল বললঃ আচ্ছা দো ফি, আমাকে বলুন তো কেমন হবে আপনার ডি কিংডম? এটা কি একটি ইউনিয়ন হবে না কি কোন ফেডারেশন? এখানে কি কি থাকবে? কিভাবে আমি এই কিংডম অনুভব করতে পারবো?
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফি বললঃ নাহি! এই কিংডম কেউ দেখতে পাবে না কিন্তু প্রত্যেকেই তার চিন্তায়,ভালবাসায় অনুভব করতে পারবে। এর ব্যাপ্তি হবে পুরো ক্রিয়েশনেই। কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না যে এখানে ডি কিংডম কিংবা ওখানে। কিন্তু আমি যে পঞ্চাশটি গ্যালাক্সি কিনে নিয়েছি সেটা হবে এই ডি কিংডমের কেন্দ্রস্থল, আমাদের পুর্নমিলনস্থল। সমস্থ জাইন জাতি এখানে আসবে।
আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠল নাহি বেল। তার উচ্ছল,ছল-ছল,কল-কল হাসির ফোয়ারায় ইম্পেরিয়াল গার্ডেনের সব গাছে ফুল ফুঠলো, অযুত-নিযুত পাখিরা মৃদ্যু গুঞ্জনে মাতিয়ে রাখলো সারাক্ষন। প্রাসাদে বসে নাহি বেল এর বাবা সম্রাট জীয়ন মেয়ের আনন্দ অনুভব করতে পারলেন।
বাবার মাইন্ডের সাথে যুক্ত হয়ে নাহি বললঃ বাবা, তোমাকে ধন্যবাদ ফি কে আমার করে দেওয়ার জন্য। আমি কৃতজ্ঞ বাবা, আমি সুখী।
হঠাত ফি এর দিকে ফিরে নাহি বললঃ আমার বাবা! আমার বাবার জন্য আমাদের ডি কিংডমে কি থাকবে ফি?
ফি বললঃ বলেছিলাম না মহাশুন্যে ভেসে বেড়াবে কোন সুর ধ্বনি! সেই সুরবানীই হবে তোমার বাবা। সমস্ত জাইন জাতি সুর করে গাইবে সে ধ্বনি।
ফি কে জড়িয়ে ধরে নাহি বললঃ আমি আপনাকে অনেক অনেক বেশী ভালবাসি লা দো ফি।

১৯:
গ্রহের ভুমি ছাড়িয়ে মেঘের উপরে উড়ে চলে গেল দুজনে।
রিবিল্ড ডি এর একটি ত্রিমাত্রিক প্যাটার্ন নাহি বেল এর সামনে তুলে ধরল লা দো ফি। একটি বিন্দুকে জুম করে দশ হাজারগুন বড় করে ফি বললঃ এখানে দেখ নাহি, পিক্যাট পর্বতমালা। তোমার প্রিয় জীয়ন পর্বতমালার চেয়েও সুন্দর হয়েছে না! এখানে থাকবে সাদা তুষারে আবৃত অনেক পর্বত যেখানে তুমি স্কেটিং করতে পারবে। এখানে বসেই তুমি সবচেয়ে কার্যকরী ভাবে তোমার বাবার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে মাইন্ড দিয়ে কিংবা সামনের অবারিত শূন্য আকাশ হবে বিশালাকায় স্ক্রিন, ফুটে উঠবে পুরো ইম্পেরিয়াল প্যালেস।
নাহির দু'চোখ বেয়ে দু'ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল সাদা মেঘের ভাজে। মুহুর্তেই গর্জন করে উঠল মেঘেরা। বিদ্যুত চমকাতে লাগল ঘনঘন। নীচের গ্রহটিতে শুরু হলো প্রলয়ংকরী ঘুর্নিঝড়।
ফি বললঃ তুমি খুশি হও নি নাহি?
নাহি বললঃ আমার মা সাম্রাজ্ঞী মেরুনশেন ঝরা! মা কে বলেছিলাম, বাবা আমাকে এভাবে প্রাসাদে বসিয়ে রেখেছে কেন? কোন প্রভিন্সের দায়িত্ব দিলেও তো আমি ভাল থাকতে পারি। তারপর মায়ের বাহু ধরে বলেছিলাম, আমার যোগ্য কোন জাইন কি পুরো অডাসিটিতে নেই মা? আমার কি কখনো বিয়ে হবে না মা? তাছাড়া বাবা আমাকে কোন কাজ দিতে পারে না মা? আমি তো জড়বস্তু নই। আমার মুক্তির জন্য মা আমার নক্ষত্রের লেলিহান আগুনে ঝাপ দিয়ে মৃত্যু বরন করেছিলো। ঐ দেখ অভিশপ্ত সেই নক্ষত্র কেমন জ্বলছে!

২০:
লা দো ফি একটি রক্ত-নীলাভ বর্নের পাথর দিল নাহিকে।
নাহি অবাক হয়ে বললঃ এতো সুন্দর আর এতো ভারী! কোথায় পেলেন?
দো ফি বললঃ ঐ দুর আকাশে তাকিয়ে দেখোতো সেই তারাটা আছে কিনা যেথায় তোমার মা আত্মহনন করেছিল?
আকাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে নাহি দেখলো সেটা নেই। কান্নাজড়িত কন্ঠে বললঃ আমার মা সাম্রাজ্ঞী মেরুনশেন ঝরা,তিনি কোথায়? কোথায় সেই নক্ষত্র?
দো ফি বললঃ সেই নক্ষত্র আমি সংকুচিত করে এই পাথরে পরিনত করেছি। মহাবিশ্বের সংকুচিত কঠিন বস্তুর একটি এই পাথরটি।
নাহি পাথরটিকে চুমো খেতে খেতে বললঃ মা, আমার মা! আমার সৃষ্টিকর্তা। আমাকে জন্ম দিয়েছেন।
নাহি সারাক্ষন পাথরটিকে তার হাতে ধরে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। সে পাথরটিতে খোদাই করে তার মায়ের প্রতিমুর্তি বানালো। সে তার সব বান্ধবীদের এক সাথে জড়ো করে বললঃ এই দেখ সেই নক্ষত্র যেখানে আমার মা হারিয়ে গিয়েছিলেন। আমার মা! আমার,আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।
তখন সবাই মাথা নিচু করে রাজকীয় ভঙ্গিতে পাথরের ক্ষুদে মুর্তিটিকে সম্মান জানালো।
সে আবার লা দো ফি এর কাছে ফিরে গিয়ে বললঃ আচ্ছা ফি, এই পাথরটা তো আপনী বানিয়েছেন অতঃপর আমি ছেঁচে আমার মায়ের মুর্তি তৈরী বানালাম তাই এই পাথর কি করে আমার বা আমাদের সৃষ্টি করতে পারে? তাহলে কে আমাকে,আপনাকে আমার মা-বাবা ও সবাইকে সৃষ্টি করেছেন? ঐ নক্ষত্রগুলি।
ফি বললঃ আদি থেকেই সৃষ্টি একটি অবিরাম প্রক্রিয়া।

২১:
পাথর আর দো ফি কে ভালবেসে নাহির দুহাজার বছর পেরিয়ে গেল। ইতিমধ্যে ফি রিবিল্ডে টেরাফর্মিংএর কাজ শুরু করেছে।
দো ফি এর বাহু ধরে নাহি বেল বললঃ আমি আমার মা কে ফেরত চাই। আমি জানি আপনী পারবেন। আমার মা মারা যায় নি। সে নিশ্চয়ই কোন নক্ষত্রের মাঝে লুকিয়ে আছেন। আপনিও তো অনেকগুলি বছর ব্লাকহোলে লুকিয়ে ছিলেন।
ফি বললঃ আমি তোমার মা কে তৈরি করে দিতে পারবো না নাহি তবে কিছু সময়ের জন্য আমি তাকে তোমার সামনে এনে দিতে পারবো। এই প্রক্রিয়াকে বলে প্লানচেট সায়েন্স। কোন এক অন্ধকার রাতে নাহি দেখতে পেল সাদা রংয়ের একটি ইউনিক্রন তার বাগানে দাড়িয়ে আছে। সে দেখতে পেল ইউনিক্রনের পাশেই তার মা দাড়িয়ে। নাহির দেখা হলো তার মা সাম্রাজ্ঞী মেরুনশেন ঝরার সাথে।
অস্ফুট স্বরে নাহি বললঃ মা!
দুজনে বেশ কিছুক্ষন কথা বলল।
মেরুনশেন বললেনঃ রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যাবে কিছু পরেই। আমাকে চলে যেতে হবে।
মেরুনশেন ঝরা চলে গেলে নাহি দো ফি কে জিজ্ঞেস করলঃ ফি, আপনী! আপনীই আমাকে সৃষ্টি করেছেন,আমাদের সবাইকে?
ফি বললঃ না,নাহি বেল।
নাহি বললঃ তাহলে কে? নিশ্চয়ই আমার বাবা সম্রাট জীয়নই এই সবকিছু ও আমাদের তৈরী করেছেন। আর তা না হলে অডিটর বিরাক বেথ,এই মহাবিশ্বে তার উপরে কেউ নেই।
ফি বললঃ আমি জানি না নাহি।
নাহি বললঃ আমার কি হয়েছে ফি, আমি কি অসুস্থ?
ফি বললঃ তুমি আমার প্রেমে পড়েছো নাহি।
নাহি অবাক হয়ে বললঃ প্রেম কি?

{চলবে} ………

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments