300x250 AD TOP

Blog Archive

Powered by Blogger.

Monday

Tagged under: , , , ,

কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা অডাসিটি (২২ - ২৪)


২২: 
লা দো ফি এবং নাহি বেল বায়বীয় স্পেসশিপ থেকে মহাশুন্যে বেরিয়ে এসে তাদের স্বচ্ছ ডানা দুটি শূন্যে মেলে দিল।
দো ফি বললঃ এর পরে আর স্পেসশিপ যেতে পারে না। কারন কিছুদুর পরেই এই ইউনিভার্স শেষ হয়ে গেছে।
নাহি বললঃ এই মহাবিশ্বের ওপারে কি আছে ফি?
ফি উত্তর দিলঃ আমি জানি না নাহি। কারন ওপারে কেউ যেতে পারে না। ঐ দিক দিয়ে অন্য কোন মহাবিশ্বে যাওয়াও যায় না। মহাবিশ্বের ঐ সীমান্তে দাড়ালে দেখবে শুধু আলো আর আলো! ধু-ধু, রাশি-রাশি আলো। যতদুর দৃষ্টি যায় শুধু আলো। তুমি না দেখলে বুঝতে পারবে না আলো কত অসীম আর সুন্দর ঢেউ খেলানো তরঙ্গ হতে পারে!
অনেক্ষন উড়তে উড়তে অবশেষে দুজন অসীম আলোর সীমান্তে এসে দাড়ালো। এর পরে কেউ আর এগুতে পারে না। ফি বললঃ তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে না প্রেম কি? এই অপার আলোই হচ্ছে প্রেম। এই বহু রঙের আলোর উতস থেকেই আমরা জাইন জাতি সৃষ্টি হয়েছি। আমরা যে বৃক্ষে ফুল ফোটাই এটা প্রেম। যখন আমি তোমার হাত ধরি,তুমি আমার বাহু ধরে আমাকে ভালবাসার কথা বলো এটা প্রেম। আমরা যখন একে অপরের মাইন্ডের সাথে যুক্ত হয়ে হাসি-কান্না-দুঃখ-আনন্দ ভাগাভাগি করি এটাই প্রেম। প্রেম শ্বাশত সত্য,প্রেম সুন্দর! এই প্রেম সবাই কামনা করে। প্রেম হচ্ছে আলোর স্থিতিস্থাপক রুপ। আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরা আর দেহের মধ্যে যে উপাদান আছে তা হচ্ছে এই আলো। আর বিভিন্ন রঙের আলো বিক্রিয়া করে প্রেমানুভুতি হয়। 

২৩: 
নাহি জিজ্ঞেস করলঃ এই অপার আলোর ভুবনকে কি বলে ফি?
দো ফি বললঃ মহাশুন্য জগতে ব্লাকহোল কিংবা কৃষ্ণবিবর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু বা স্থান যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় কোন শক্তি বা কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ যেমন আলোও নয়। অন্তত এক হাজার বিলিয়ন নক্ষত্রের কোন গ্যালাক্সি যখন তার সমস্ত শক্তি ফুরিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থায় চলে আসে তখন একটি ব্লাকহোল তৈরী হয় এবং অধিকাংশ সময়ই ব্লাকহোলগুলি অন্যকোন সজীব গ্যালাক্সির অভ্যন্তরে সংকুচিত অবস্থায় জায়গা করে নেয়। তবে কখনো একটি বড় নক্ষত্রও ব্লাকহোলে পরিনত হতে পারে। আবার ধীরে ধীরে কালের আবর্তনে ব্লাকহোলরা নক্ষত্র জন্ম দিয়ে নতুন গ্যালাক্সি এমনকি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু এই আলোর ভুবন! এটা সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। তবে বিজ্ঞানী এনা ও'ম্যাল এর নামকরন করেন লাক্সরেক্স কারন এনা ও'ম্যালই সর্বপ্রথম এই লাক্সরেক্স এর অস্তিত্ব খুজে পান। এবং পরবর্তীতে দেখা গেছে যারাই এই লাক্সরেক্স নিয়ে গভীর গবেষনায় লিপ্ত হয়েছে তারা কোন না কোন ভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন কি অগনিত গ্যালাক্সিও ব্লাকহোল হয়ে গেছে, মহাশূন্যে অদৃশ্য হয়ে গেছে।
নাহি বেল খুব অবাক হয়ে লা দো ফি এর কথা শুনছে।
নাহি বললঃ আমরা দুজন কি কখনো ঐ আলোতে সাতার কাটতে পারবো? 

২৪: 
লাক্সরেক্স এর তীর নাহি বেল এর কোলে মাথা রেখে লা দো ফি ঘুমিয়ে পড়ল। নাহি বেল ভাবছে ফি এর কথা, প্রেম শ্বাসত সত্য সুন্দর! প্রেম অবিনশ্বর।
নাহি খুব সতর্কভাবে দো ফি এর মাইন্ডে প্রবেশ করে স্মৃতিগুলি ঘেটে ঘেটে দেখছে। হঠাত সে দেখতে পেল কিছু একটা ফি প্রোটেক্টেট করে রেখেছে। সেখানে সে প্রবেশ করতে পারছে না। অনেক কষ্টে নাহি কিছু ফিক্রোয়েন্সি ধরতে পারল, আআআআ নিনোনিন তাআআ, এভাবে অনেক্ষন চেষ্টার পর সে বিশেষ প্রিয় নামের খোজ পেল- আনতা হবা তামা লু। নাহি বিস্ময়ে বিস্মায়াভুত হয়ে গেল; কে এই আনতা হবা তামা লু?
দো ফি এর প্রেম, ভালবাসা, তার সারাজীবনের সাধনা আনতা হবা তামা লু।
নাহির দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে আর বলছেঃ বাবা! সম্রাট জীয়ন! তোমার ফি আমাকে ভালবাসে না! সে ভালবাসে হবাকে। আমি তোমার কাছে চলে আসবো বাবা। তোমার ঐ প্রাসাদেই বন্দী জীবন কাটিয়ে দেব বাকিটা।
বাবা সম্রাট জীয়নের ভাববানিতে নাহি উত্তর পেয়ে গেলঃ নাহি, ছোটবেলা থেকে আমি তোমাকে অনেক শিক্ষাই দিয়ে এসেছি। তার মধ্যে ছিল, তোমার বন্ধুর বন্ধুত্বকে কখনো পরীক্ষা করতে যেও না।
ফি তো কখনো প্রকাশ করে নি সে ছাড়া তার অন্যকোন ভালবাসার মানুষ আছে। কেন তুমি এতকিছু জানতে গিয়েছো?
নাহি বললঃ বাবা! আমার চেয়ে বেশী ভালবাসার কেউ তোমার আছে! তুমি ফিএর সুখের জন্য,তার নিরাপত্তার জন্য তাকে তুমি আমার করে দিয়েছো! 

{চলবে} ………

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

0 Comments: