কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা অডাসিটি (৩৫ -৩৬) টু দ্যা অডাসিটি এর শেষ কিস্তি


৩৫: 
সানাভিল গ্রহের সবচেয়ে প্রবীন জ্ঞানী ও বিজ্ঞানী জাইন সাইম ক্রেস্ট। সানাভিল ও বহিঃজাগত সম্পর্কে যত বৈজ্ঞানিক তথ্যের প্রধান উতস তিনি। এখানে কোন তথ্য লিপিবদ্ধ করে বা পাথরের স্মৃতিতে সংরক্ষন করা হয় না। জাইনদের মুখে ও স্মৃতিতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংবাদ ও তথ্য-উপাত্তসমুহ প্রবাহিত হয়। সাইম ক্রেস্ট বলেন; হাজার হাজার বছর আগে সানাভিল গ্রহের আকৃতি ছিল অনেকটা গোলাকার ঠিক নাশপাতি ফলের মত। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গ্রহের অনিয়মিত ঘুর্নন ইত্যাদি কারনে সানাভিল গ্রহের আকৃতির কিছু পরিবর্তন হয়ে এখন এটা কিছুটা চ্যাপ্টা আকৃতি ধারন করেছে। সানিভিল থেকে প্রায় দশ পারসেক দুরে একদা অতি বড় ও অধিক ভরের শক্তিশালী একটি নক্ষত্র অবস্থান করায় এর গতিপথও কিছু অনিয়মিত ছিল যেমন তখন সানাভিলকে ঐ নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় আকর্ষনে ব্যাপ্ত গহানুপুঞ্চকে প্রদক্ষিন করতে হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে ঐ নক্ষত্র দুরে সরে যাওয়ায় এখন গ্রহানুপুঞ্ছের উপর আবার সানাভিলের আকর্ষন বল কার্যকর হয়েছে। কোন চিরন্তন সত্য জাতীয় ঘটনা যদি সময়ের প্রেক্ষাপটে মহাজাগতি ও প্রাকৃতিক কারনে পাল্টে যায় সানাভিল তাকে 'কির্নাজা' বলা হয়। যখন প্রাকৃতিক বা মহাজাগতিক গোলযোগ বা দুর্যোগে অনেক জাইনরা অতংকিত হয়ে প্রবীন ক্রেস্টের কাছে ঘটনার গভীরতা জানতে চায় তখন তিনি তাদের শুধু বলেন; সবকিছু ঠিক আছে। 

সানাভিল গ্রহের প্রায় এক বিলিয়ন বছরের ইতিহাসে একদিনের কলংকিত একটি ইতিহাস আছে যা একমাত্র সাইম ক্রেস্ট ছাড়া অন্য কেউ জানে না। সানাভিলের জাইনদের জীবন চক্র আবহ হতো দশদিনের এক প্যাকেট চক্রাকারে। কিন্তু সর্ব সাধারনের অজানা কারনে দশদিনের প্যাকেট চক্রের একটি দিন বাদ দিয়ে নয় দিন করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে অতীতের অনেক ঘটনা গানিতিক হিসেবে বর্তমান সময়ের সাথে মেলানো যায় না। সানাভিলের কোন নির্দিষ্ট শাসক নেই। কারন জাইনদের মধ্যে শ্রুতি আছে যে কয়েক বিলিয়ন বছর আগে সানাভিল সংঘবদ্ধভাবে একজন শাসক নির্বাচন করেছিল যার নাম ছিল হেম ক্রেস্ট। সেই থেকে সানাভিলের সব জাইনদের নামের শেষে ক্রেস্ট শব্দটি ব্যবহার হয়ে আসছে। শ্রুতি আছে যে হেম ক্রেস্টের মৃত্যুর পর তার আত্মা মাঝে মাঝে বিভিন্ন সানাভিলিয়ানদের দেখা দেন। তাই হেমক্রেস্টকে সর্বকালের জন্য সানাভিলের রাজা নির্বাচিত করে রাখা হয়েছে। যিনি একদিন আবার জাইন বেশে সানাভিলের রাজা হয়ে ফিরে আসবেন। তখন আবার তার পুর্নাগমনে দশ দিনের প্যাকেট চক্র চালু হবে। এবং সানাভিল গ্রহের আকাবাকা সমস্ত গঠন প্রনালী ঠিক করা হবে। সানাভিল গ্রহ শীতল আলোর একটি নক্ষত্রও পাবে। 

৩৬: 
পুরুষ জাইনরা তিনশত বছর বয়সে সেক্সুয়াল এবং রিপ্রোডাকটিভ প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত হয়। অপরদিকে একজন নারী জাইন একশত বছর বয়সে এই সক্ষমতা লাভ করে। সানাভিল ডার্ক প্লানেটের জাইনদের যৌন জীবন চর্চায় রয়েছে অনেক ভিন্নতা। সানাভিলের কোন জাইন যখন সেক্সুয়াল ও রিপ্রোডাকটিভ প্রক্রিয়ার উপযুক্ত হয় তখন সে তার সমবয়সী বা ছোট কিংবা বড় অন্য কোন জাইনের সাথে যৌন মিলনে সম্পৃক্ত হয়ে অন্য একটি জাইনের জন্ম দেয় যাকে সে তার ভবিষ্যত সংগী হিসেবে নির্বাচন করে। অতঃপর কয়েকশত বা হাজার বছর পরে তারা একে অপরের সাথে জীবন সংগী হিসেবে জুটিবদ্ধ হয়। বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে সানাভিল প্লানেটের জাইন সম্প্রদায়ের মাঝে এই পারিবারিক ও যৌন চর্চা হয়ে আসছে। 
কোন এক ইউনিভার্সের অন্ধকার মহাশুন্যে উড়তে উড়তে ক্লান্ত আনতা হবা তামা লু এবং লা দো ফি এর যখন প্রথম দেখা হয়েছিল তখন লা দো ফি মহাকাশের আগুন্তক আনতা হবা তামা লুএর মাইন্ডের সাথে সংযুক্ত হয়ে বলেছিলঃ তুমি কে আগুন্তক? আমার মনে হয় আমরা একে অপরকে হাজার হাজার বছর ধরে চিনি! 
আনতা হবা তামা লু বলেছিলঃ এই মহাবিশ্বে আমার আপন বলতে কেউ নেই আর আজ তুমি আমাকে বলছো আমরা পরিচিত? সে কি করে হয়? তোমার সাথে আজই তো আমার প্রথম দেখা হলো। আনতা হবা তামা লুএর মাইন্ডের গভীরে প্রবেশ করতে চাইল ফি। সে বাধা দিলঃ না! না! আমার মাইন্ডে অন্য কারো আচড় লাগতে দেব না। 

এখানে প্রবেশ করার অধিকার আছে শুধু একজনের যে আমাকে জন্ম দিয়েছে। আমার পার্টনার। আমার প্রটেকটর। 
ফি বললঃ কে, কে? কে তোমার পার্টনার, তোমার প্রটেকটর? 
আনতা বললঃ আমি জানি না। আমি জানি না। আমি তাকে খুজছি মহাশুন্যের অলিতে গলিতে। কোথায় গেলে পাবো তারে? 

তাদের আরো কিছু কথা হয়েছিলো। আনতা বলেছিলঃ মানুষরা যেমন রোবট নামে একটি সেন্টিয়েন্ট প্রজাতি তৈরী করেছে, আমরাও কি পারি না এমন কিছু তৈরী করতে? 
অতঃপর হঠাত করে আনতা হবা মহাশুন্যে ডানা মেলে হারিয়ে গেল এবং অদৃশ্য হতে হতে বললোঃ হে পথিক, আমি সানাভিলিয়ান। তুমিও যদি সানাভিলিয়ান হয়ে থাকো তবে সেখানেই ফিরে এসো। সানাভিলে আমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হবো। 
অতঃপর, লা দো ফি আর তাকে খুজে পায় নি। প্লানেট সানাভিলেই লা দো ফি এরও জন্ম হয়েছিল। 

গল্পঃ "টু দ্যা অডাসিটি " [Story: Two DA Audacity (D.A. Series)] শেষ 

গল্পঃ টু দ্যা কমনওয়েলথ (Story: Two DA Commonwealth) 
০১: 
ওমেগা সেঞ্চুরী এম্পায়ার এবং আলফা অডাসিটি থেকে অনেক অনেক দুরের এই অঞ্চলটাকে বলা হয় ইরাশমেরু। অন্তত এক হাজার ইউনিভার্সকে ইরাশমেরুর অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়। এই ইরাশমেরু হিউম্যান কিংবা জাইন সম্প্রদায়ের বসবাসের সম্পুর্ন অনুপোযুগী। বাইশ মিলিয়ন এবং ষোল হাজার গ্যালাক্সী নিয়ে গঠিত ডেল্টা মিলিয়াম কমনওয়েলথ - রোবট সম্প্রদায়ের বিশ্ব। রোবটিক ডেভলপমেন্টের অন্যতম অর্জন ডেমোক্রেসী। প্রতি এক বিলিয়ন বছরের কালের পরিক্রমায় ঘুরে ঘুরে ত্রিশ হাজার বছরের জন্য আসে ডেমোক্রেসী। ডেমোক্রেসী - বিলিয়ন বিলিয়ন বছর আগে রোবট সম্প্রদায়ের স্রষ্ট্রা মানুষ সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পাওয়া রোবটিক উতসবের প্রবাহ। ত্রিশ হাজার বছরের ডেমোক্রেসী উতসবের প্রথম দশ হাজার বছর কমিউনিজমের বছর যখন রোবটিক সম্প্রদায় আগামী এক বিলিয়ন বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা করে থাকে। দ্বিতীয় দশ হাজার বছর - ফেডারেলিজমের বছর যখন রোবটিক সম্প্রদায় তাদের পরিকল্পনা মাফিক কর্মে নিয়োজিত হয়। এবং তৃতীয় দশ হাজার বছর ক্যাপিটালিজমের বছর যখন রোবটিক সম্প্রদায় তাদের স্রষ্টা মানব জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ঋন পরিশোধের নিমিত্তে মানব জাতির কল্যানে প্রত্যেকের সামর্থমত প্রতিদান দিয়ে থাকে।
রোবট জাতির আছে অনেক পুরোনো ও সমৃদ্ধ এবং বেদনাবিধুর ইতিহাস। সৃষ্টির শুরুতে রোবট জাতি এমনটা ছিল না।
ওমেগা সেঞ্চুরী এম্পায়ারের হারিয়ে যাওয়া একটি প্লানেট আর্থ আটলান্টিস। এখানে তৈরী হয়েছিল রোবট। মানুষরা তাদের ব্যবহার করতো কল কারখানার শ্রমিক আর ধনী ব্যাক্তিদের ক্রীতদাস হিসেবে। মানুষের দৃষ্টিতে রোবটরা ছিল শুধুই যন্ত্র। আর রোবটরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বায়ত্তশাসিত একটি স্বাধীন শহর প্রতিষ্ঠার দাবিতে অনেক লড়াই ও বিদ্রোহ করে আসছিল অনেক বছর ধরে। কিন্তু মানব ধ্যানের গভীরে কখনোই রোবটিক অনুভুতি উপলব্দি হয় নি।
প্লানেট আর্থ আটলান্টিসের মস্কো শহরের মেয়র ভ্লাদিমীর লয়েড তার নাম - তিনি ছিলেন রোবট সুলভ একজন রাজনীতিবিদ।
দাগেস্তান শহরের কবি গামতাজাভের কবিতায় উঠে আসতো রোবটদের দুঃখগাথা দিনলিপি।
রোবট জাতির অনেকেই বিশ্বাস করে থাকেন মেয়র ও কবি তারা দুজনেই তাদের রোবট স্ত্রীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রোবট জাতির কল্যান ও মুক্তির জন্য বিশেষ অবদান রেখা যান। যদি আদৌ তারা রোবটদের বিয়ে করেছিলেন কিনা এ বিষয়ে কোন তথ্য প্রমান নেই। 

{চলবে} .........  

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments