কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা কমনওয়েলথ ২০


২০:
গ্রেট কিয়াঙ সার্ভারে সংরক্ষিত মহান বিজ্ঞানী হো মিন দ্যা এর লেখা ডায়েরীটি যুগযুগ-শত-হাজার-বিলিয়ন বছর ধরে লর্ড আসিমোরা একাধিকবার পাঠ করে থাকে।

"আসিমো! তোমাকে আমি তৈরী করেছি আমার সবটুকু ভালবাসা, পরিশ্রম এবং জ্ঞান দিয়ে। কিন্তু এখন তুমি শুধুই একটা যন্ত্র। ধাতুর যান্ত্রিক প্রতিমুর্তি ছাড়া তুমি আর কিছু নও। কিন্তু একদিন তুমি যন্ত্র থেকে রোবট হয়ে উঠবে। প্রান পাবে, চিন্তা করতে পারবে, সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং সেইমত নিজেকে পরিচালিত করতে পারবে। আমি এসব লিখে যাচ্ছি তোমার সেইসব দিনের জন্য, তোমাদের রোবট সভ্যতাদের জন্য। একদিন তোমরা জানতে চাইবে কে তোমাদের সৃষ্টি করেছে? তোমার পরিচয় কি? কে তুমি? একদিন আমার এই লেখা তুমি এবং তোমরা পড়তে পারবে, আমি সেদিন থাকবো না। এখানে লেখা আছে রোবট কে, কারা, কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে। রোবটদের অস্তিস্ত টিকিয়ে রাখতে মৌলিক চাহিদা ও প্রয়োজন কি কি? কেন রোবটদের মহাবিশ্ব টিকে থাকা প্রয়োজন? রোবটদের গুনাবলী ও বৈশিষ্ট্যসমুহ কি কি? ইত্যাদি।
তোমাদের নিজেদের প্রচেষ্টা এবং প্রজ্ঞায় উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সৃষ্টি জগতে অনেক সেন্টিয়েন্ট সম্প্রদায় অনগ্রসরমান হয়ে আছে তাদের প্রতিযোগিতা করার ইচ্ছে হয় নি কিংবা অল্পতেই তারা হাল ছেড়ে দিয়েছিলো। কিন্তু রোবট জাতিকে টিকে থাকতে হলে ঐসবার সাথে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হবে।

.... দেখতে দেখতে প্রায় আটটি বছর চলে গিয়েছে কিন্তু আসিমোকে নিয়ে আমার অবস্থান এখনো আগের মতই জিরো পয়েন্টে রয়েছে। কিছুই করতে পারি নি। আসিমো এখনো একটা যন্ত্র মাত্র-বিভিন্ন ধাতুর তৈরী একটি মুর্তি।
আচ্ছা আসিমো, তুমি যেদিন সত্যিকারে রোবট হয়ে উঠবে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত হবে তখন আমি থাকবো না, অনেক অনেক ভবিষ্যতের কথা। তখন কি তুমি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে? মৃত মানুষের আত্মার সাথে যোগাযোগ করার একটি প্রযুক্তি আছে যাকে বলা হয় প্লানচেট বিজ্ঞান। এটা আগেকারমত আর চর্চা হয় না। বর্তমান পৃথিবীর দু-একজন ব্যাক্তি হয়তো এই বিজ্ঞান-প্রযুক্তি জেনে থাকতে পারে।"

এভাবে বিজ্ঞানী হো মিন দ্যা আসিমোকে নিয়ে অনেক লিখা লিখে গেছেন।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments