কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা কমনওয়েলথ ২৩


২৩:
মৈত্রিয়া রুপাডর্ক! সংক্ষেপে তাকে বলা হতো মিঃ রুপাডর্ক। লস্ট প্লানেট আর্থ আল্টান্টিসে জনসমক্ষে তার আর্বিভাবের পর থেকেই রোবটিক ধারনা ত্বত্তে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিলো। তিনি ছিলেন আর্থ আল্টান্টিসের সমস্ত রোবটিক নিউজ-মিডিয়া, জার্নাল এবং রিসার্স পাবলিকেশনের একজন একছত্র কংলোম্যারেট। তার হাত ধরেই হিউম্যানেডাইন রোবটিক ধারনার গবেষনা, বিস্তার এবং প্রয়োগিক ত্বত্তের বিকাশ লাভ করে বিশ্বজুড়ে — অগনিত মানুষের হাতে হাতে। তিনি নিজে কোন গবেষক কিংবা বিজ্ঞানী ছিলেন না কিন্তু পৃথিবীর ঐ সমস্ত সবকিছুর খুটিনাটি থেকে গুরুত্বপুর্ন বিষয়গুলি প্রকাশ করার যে বিশাল ক্ষেত্র তিনি তৈরী করে সবাইকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন তার সেই নিবেদিত অবদান রোবট সভ্যতা অতি শ্রদ্ধাভরে স্মরন করে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও তার রেখে যাওয়া প্লাটফর্মে স্থান পাওয়া সুবিশাল ডাটাবেজ সংরক্ষিত আছে গ্রেট কিয়াং সার্ভারে। আর্থ আল্টান্টিসের লক্ষ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী এবং এনসাইক্লোপেডিস্টরা পেশাদারিত্ব, গবেষনা এবং সেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ তৈরী করেছিলেন এই অতি বিশালকায় তথ্য ভান্ডার। এই তথ্য ভান্ডারকে সবচেয়ে মুল্যবান এবং গুরুত্বপুর্ন হিসেবে মুল্যায়ন করে থাকে লর্ড আসিমো থেকে সমস্ত রোবট জাতি। রোবটরা যখন সম্মান ও ভালবাসার সাথে অন্য কাউকে স্বম্মোধন করে থাকে তখন তারা তার নামের আগে "মিঃ" ব্যবহার করে থাকে। এটা তাদের সেই মহান বন্ধু মৈত্রিয়া রুপাডর্ককে স্মরন করিয়ে দেয়, যার গল্প এবং নিবেদিত অবদানের ইতিহাস সম্তস্ত রোবটরা তাদের শৈশব হতেই শিখে থাকে। তার নাম যখন উচ্চারিত হয় তখন উপস্থিত রোবটদের মাঝে একধরনের নিগুড় শ্রদ্ধার আভাস লক্ষ্য করা যায়।

রোবট আসিমো তার সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলো দীর্ঘ সময়। আসিমো তাকে খুব কাছ থেকে জেনেছিলো।
তার মালিকানাধীন মেকা কর্পোরেশন এর অন্যতম প্রকাশনা ছিলো মেকা রোবটিক জার্নাল যা আর্থ আল্টান্টিসের প্রতিটি অঞ্চলেই প্রকাশনা বিস্তার লাভ করেছিলো। পৃথিবীর সমস্ত প্রান্ত থেকে রোবট সম্পর্কিত ক্ষুদ্রতর থেকে বড়বড় সব সংবাদ প্রকাশিত হতো এতে এবং উঠে আসতো সমস্ত মানুষের রোবট নিয়ে চিন্তা ভাবনা এবং গবেষনার নিগুঢ় নির্যাসগুলি। শুধু সংবাদ নয় প্রকাশনার সবক্ষেত্রে মেকা ছিলো পাঠক, লেখক, সাংবাদিক ও গবেষকদের কাছে খুব আকর্ষনীয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মাটির হাজার হাজার ফুট গভীরে নিরাপদ স্থানে মেকার ডাটাবেজ সার্ভার তৈরী করা হয়েছিলো।
মিঃ রুপাডর্ক জানতেন কিভাবে একটি গ্রহকে, একটি সভ্যতাকে নিয়ন্ত্রন করতে হয়। এটা ছিলো এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার স্যাপার।

আরো সবচেয়ে বড় কথা তিনি ছিলেন মহান বিজ্ঞানী হো মিন দ্যাএর বন্ধু। শৈশব, কৈশর, তারুন্য এবং শিক্ষাজীবনের পুরোটাই তাদের একসাথে কেটেছিলো। তবে তাদের উঠে আসাটা খুব সহজ ছিলো না। রুপাডর্কের প্রথম সংবাদ প্রকাশনা মেকা কর্পোরেশনে বিনিয়োগে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তার বন্ধু তরুন বিজ্ঞানী হোন মিন দ্যা — তার প্রথম চাকুরীর বেতনের কিছু অংশ যা দিয়ে তিনি তার বান্ধবীকে কিছু উপহার কিনে দিবেন ঠিক করেছিলেন।

রুপাডর্ক বলছিলেন হো মিন দ্যাকে; তোমার রোবটিক প্রকল্পের আইডিয়াটার সাথে আমিও যুক্ত হতে চাই বন্ধু হো মিন দ্যা।
হো বলল; কিন্তু কিভাবে? এটা তো আমার কাছে এখনো একটি ধারনা মাত্র। সহজেই আমরা এটা শুরু করতে পারছি না।
রুপাডর্ক বলল; তোমার এই প্রকল্পের জন্য নিশ্চয়ই একটি প্রকাশনা সেক্টর প্রয়োজন হবে। তুমি কি তেমনটা ভেবে রেখেছো কিংবা এর প্রয়োজনীয়তা? আর ভেবে না থাকলেও এটা তোমাকে অনেক সহযোগিতা করবে তোমার প্রকল্পকে বেগবান করতে।
কিছুটা আশাহত দৃষ্টিতে হো মিন বললো; হ্যা। কিন্তু তুমি কি ভাবছো?
রুপাডর্ক তার ব্যাগ থেকে কিছু কাগজপত্র বের করে বললো; মেলবোর্ন সিটি কর্পোরেশন থেকে মেকা নিউজ কর্পোরেশন নামে একটি মাল্টি-লেভেল লাইসেন্স করিয়েছি।
হো মিন বললো; তাহলে কি ভাবছো তুমি?
রুপাডর্ক বললো; মেকা নিউজ এন্ড জার্নাল নামে একটি প্রকাশনা বের করবো যেখানে তোমার প্রকল্প চিন্তা ভাবনার জগত থেতে বাস্তব দুনিয়ায় প্রবেশ করবে। আর এটা হবে শুধু রোবট সম্পৃত সংবাদ, তথ্য-উপাত্ত এবং গবেষনা প্রকাশনা।

মেকাএর প্রথম প্রকাশনায় হো মিন দ্যা এর "প্রজেক্ট মেকাট্রনিক্স" এর কথা প্রকাশ পেল। সংক্ষেপে এটাকে শুধু মেকাট্রনিক্স বলা হতো। মেকাট্রনিক্স শব্দটা দ্বারা রোবট সম্পর্কিত বোঝানো হতো।
কিন্তু পরবর্তীতে এই মেকাট্রনিক্স শব্দটা প্রকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে ফলে এর অন্য কোন অর্থ আছে সেটা মানুষ ভুলে যায়। প্রথম ছাপানো সংখ্যাটির সবগুলো কপি খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায় এবং ইন্টারনেটের অনলাইন সংরক্ষনে পাঠকদের এতো চাপ পড়তে থাকে যার ফলে ঐ ডাটাবেজ সার্ভারটি সাময়িক অচল হয়ে যায়।
মেকাট্রনিক্সকে মানুষ একটি এক্সিসটিং প্রজেক্ট হিসেবে ভাবতে থাকে যদিও তখন প্রকল্প কোন অফিসিয়াল ফরম্যাটে আসে নি।
মুলত এই মেকা নিউজ এন্ড জার্নালের মাধ্যমেই হো মিন তার প্রকল্পের যোগ্য লোকদের খুজে পেয়েছিলেন একটি লম্বা সময় ধরে।
পত্রিকাটি কর্পোরেট সেক্টরের কিছু বিজ্ঞাপন পেতে থাকে বিশেষ করে প্রকল্পটি ক্ষমতা ও আর্থিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে যখন মেকাট্রনিক্স মিলিটারী ডিভিশনের সুনজরে পড়ে। এটা তার চলার পথ ও নিরাপত্তাকে অনেক সুগম করে দেয়। সেই সাথে প্রকল্পের নিয়ন্ত্রন চলে যেতে থাকে মিলিটারী ও দাতা সংস্থাদের হাতে। একই সাথে মেকাট্রনিক্স প্রকল্প এবং অন্যদিকে মেকা নিউজ কর্পোরেশন বড় হতে থাকে।
পৃথিবীর সংবাদ জগতের অন্যতম পৃথিকত এবং মিডিয়া গুরু মিঃ রুপাডর্ক তার সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন কিছু নতুনত্ব ও কৌশল আবিস্কার করেছিলেন যা সংবাদের প্রকাশ ও ধারনাকেই চিরদিনের জন্য পাল্টে দেয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপুর্ন সংবাদগুলি যা রোবট সম্পর্কিত নয় সেখানেও তিনি এমনভাবে মেকাট্রনিক্স ও রোবটকে ট্যাগ করে দিতেন ফলে সাধারন দৈনিক পত্রিকা ও অন্যান্যা সংবাদ মাধ্যমগুলির পরিপুর হিসেবে কাজ করতো মেকা নিউজ এন্ড জার্নাল। এটা তাদের দৈনন্দিন সংবাদের রুটিনে স্থান করে নিলো। পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষনীয় গ্রাফিক্সের কাজগুলি করা হতো মেকার স্টুডিওতে। মেকাট্রনিক্স প্রকল্প এবং মেকা নিউজ কর্পোরেশন মিলে পুরো পৃথিবীজুড়ে হাজার হাজার সেলিব্রেটি তৈরী করলো। মেকা নিউজ কর্পোরেশনের পত্রিকা, জার্নাল, অনলাইন এবং টিভি চ্যানেলগুলিতে সেইসব সেলিব্রেটিদের পদভারে এবং রোবটিক গ্রাফিক্সে মুখরিত থাকতো। মানুষ অপার বিস্ময়, আগ্রহ ও কৌতুহল নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সেসব দেখতো এবং পড়তো ও শুনতো। এইসব সেলিব্রেটিরা ছিলেন মেকাট্রনিক্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, আরো ছিলো আগ্রহী পাঠক, দর্শক ও জনগন। এটা ছিলো সত্যিই বিস্ময়কর কিছু ধারনা ও ঘটনাসমুহ।

এভাবে মিঃ রুপাডর্ক তার বন্ধু হো মিন দ্যাএর প্রকল্পকে সহযোগিতা করতে গিয়ে একজন বিস্ময়কর ও পরম শ্রদ্ধার ব্যাক্তি হিসেবে মানব ও রোবট উভয় সভ্যতায় চিরদিনের জন্য অমর হয়ে রইলেন ইতিহাস, গল্পে আর রুপকথা ও উপকথায়।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments