কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা কমনওয়েলথ ২৬


২৬:
হাইনেস য়াজিমবেগের সাথে কথা বলার পর আসিমোর মনে পড়লো লস্ট প্লানেট আর্থ আল্টান্টিসের সার্ভার নেটওয়ার্ক প্রজেক্টের প্রিমিয়ার সায়েন্টিস্ট ড. জেডিএর কথা। ঠিক এমনই একটা ঘটনা ঘটেছিলো তার সাথে একদিন। পৃথিবীতে এইজাতীয় ঘটনাকে বলা হতো দ্বেজাভু। এমন কোন ঘটনা বা অনুভুতির অভিজ্ঞতা লাভ করা যা ঠিক অতীতে ঘটেছিলো।
ড. জেডি তাকে বলছিলেন; তুমি এখন যাও আসিমো, আমার মনটা ভালো নেই।
ড. জেডি যে ভবনে বাস করতেন তার নাম ছিলো শ্বেত প্রাসাদ। প্রিমিয়ার সায়েন্টিস্টের জন্য সরকার ও প্রজেক্ট থেকে তাকে দশ হাজার বর্গ মিটারের ওয়াল ঘেরা জায়গায় একটি সুবিশাল বাড়ি তাকে দেয়া হয়েছিলো। এখানেও তার একটি অফিস ছিলো। মাঝে মাঝে শ্বেত প্রাসাদের অফিসেও বসতেন। এখানে ছিলো ইনডোর ও আউটডোর দুটি সুইমিংপুল, দুটি খেলার মাঠ, একটি মনোরোম বাগান, একটি কৃত্রিম জঙ্গলও তৈরি করা হয়েছিলো যেখানে কিছু পশু-পাখি ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো এবং আরো ছিলো বিনোদনের জন্য নানা উপকরন, আর ছিলো আবাসিক ভবনে একঝাক কর্মী বাহিনী ও নিরাপত্তা রক্ষীর দল।
সেদিন বিকেলে আসিমো প্রথম গিয়েছিলো ড. জেডির আবাসিক ভবন শ্বেত প্রাসাদে।
-আমাকে বলুন ড. জেডি। আমি আপনার মন ভালো করে দেব। আপনার কি কারো জন্য হিংসে হচ্ছে কিংবা আপনী কি ভালবাসা-স্নেহের কাউকে মিস করছেন? আসিমো বলছিলো।
-না, আসিমো। কারো জন্য আমার হিংসে হচ্ছে না এবং তবে কাউকে কাউকে
মাঝে মাঝে মিস করি আসিমো। যেমন তোমাকেও মাঝে মাঝে খুব মিস করি। কিন্তু সেসব কারনে আমার মন খারাপ নয় আসিমো।
আসিমো বললো; আমাকে বলুন ড. জেডি, আমি চেষ্টা করে দেখবো।
ড. জেডি বললেন; আমার সার্ভার প্রজেক্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কিছু পাবলিক ইস্যুতে আইন প্রয়োগ করছে। কিন্তু সার্ভার নেটওয়ার্কতো কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়। জান্তা শাসন পিরিয়ড ছাড়া নিজেদের গন্ডীর বাহিরে পাবলিক ইস্যুতে মিলিটারী ডিভিশনও আইন প্রয়োগ করতে পারে না। আইন প্রয়োগের জন্য পুলিশ হচ্ছে প্রধান সংস্থা, তারপর আছে কিছু গোয়েন্দা সংস্থা, আদালত এবং আরো দু-একটা সংস্থা নির্দিষ্ট কিছু সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে অল্প কিছু বিষয়ের উপর আইন প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু প্রজেক্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক বিভিন্ন স্থানে কেন আইন প্রয়োগ করছে আমি জানি না! বিষয়টা আমি জানতামও না কিন্তু গতকাল একটি সংবাদে বিষয়টা আমার নজরে আসে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিও ভাবছে তারা হয়তো অনুমোদিত বা ক্ষমতা রাখে কিংবা তারা যে এটা করতে পারে না এটা তাদের মাথায় আসছে না। জনগন মেনে নিচ্ছে। এটা চলতে থাকলে নিশ্চয়ই প্রজেক্টের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াবে ভবিষ্যতে। কিন্তু আমি এটাকে নিয়ন্ত্রন করা কিংবা বন্ধ করার উপায় খুজে পাচ্ছি না। আমাকে সাহায্য করো আসিমো। আমার প্রজেক্ট উচ্ছন্নে যাচ্ছে। যত্রতত্র যার ইচ্ছে যেখানে সেখানে আইন
প্রয়োগ করছে।
আসিমো বললো; আপনী একজন কন্সালটেন্ট নিয়োগ দিন ড. জেডি। আপনার একজন সুপরামর্শক দরকার।
ড. জেডি বললেন; তুমিই তো আমার ভাল পরামর্শক হতে পার আসিমো।
আসিমো বললো; তা হয় না প্রিমিয়ার। প্রথমত আমি হিউম্যান বিহেবিহার ও সেন্টিমেন্ট অধিকাংশই বুঝতে পারি না এবং দ্বিতীয়ত একবড় এবং এতো গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বে একজন রোবটকে কেউ মেনে নেবে না। অনেক ষড়যন্ত্র হবে। তাই আমাকে নিয়ে আপনী বরঞ্চ অন্য কিছু ভাবুন।
ড. জেডি বললেন; ঠিক আছে তুমি এখন চলে যাও আসিমো। আমি ভেবে দেখছি কি করতে পারি তোমার জন্য।
সেদিন পুরো শ্বেত প্রাসাদ ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছিলো আসিমোর। আসিমোর দিনটা অনেক ভাল কেটেছিলো।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

Comments