300x250 AD TOP

Blog Archive

Powered by Blogger.

Monday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা কমনওয়েলথ (২৮ - ২৯)


২৮:
স্ট্রীট সিঙ্গার মে ফ্লিট এবং স্ট্রীট প্রফেট এপ্রিল সাইট। গ্রাউন্ড কারে করে তাদের নিয়ে আসা হলো বিথ্রিএর আবাসিক প্রাসাদে।
তারা দুজন অবাক হয়ে লর্ড আসিমো দেখছে।
মে ফ্লিট বললো: লর্ড আসিমো এবং নোভি নীলের ইতিহাস তো এখানকার সিঙ্গার ও প্রফেটদের মুখে মুখে রচিত কাল্পনিক রুপকথা এবং উপকথা হিসেবেই প্রচলিত।
এপ্রিল সাইট বললো: তবে এইসব ঘটনা ভিশন হিসেবে দেখে এখানকার প্রফেটরা এবং আরো কিছু মানুষ। কোন এক ভবিষ্যতে লর্ড আসিমো এবং নোভি নীল ফিরে আসবেন আমরা এমনটাই বিশ্বাস করি। আর সিঙ্গারদের কাছে এসব শুধুই গানের কথা কিংবা গীতিকবিতা ঠিক তাও নয় মাই লর্ড। এর বাস্তব ভিত্তি আছে। হয়তো তারা গানের কথা ও সুরের প্রয়োজনে কিছুটা অতিরঞ্জিত করে থাকে কিন্তু মুল মেসেজ কখনোই পাল্টায় না। আর সেটাই হচ্ছে রোবটিক প্রজম্নের ভিশন।
মার্চের প্রধান নির্বাহী রোবট বিথ্রি বললো: এই ভিশনে সিঙ্গার এবং প্রফেট ছাড়াও আরো একটি লেয়ার আছে মাই লর্ড। আর সেটা হচ্ছে মিলিট্যান্ট। স্ট্রীট মিলিট্যান্ট, প্যারা মিলিট্যান্ট, সিভিল মিলিট্যান্ট, হিডেন মিলিট্যান্ট এবং গ্রাউন্ট, ওয়াটার এন্ড স্পেস মিলিট্যান্ট। মিলিট্যান্ট গুরু ডন লা আইসিস এই কমনইজম নামের কমনওয়েলথ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ও মিলিট্যান্টের প্রটেকশনে এখনো এখানে কমনইজমের একটি ইজম প্রফেটিক প্রাকটিস চলে।
ব্রিগ প্লানেটের চিফ অফ স্টাফ আবু আমীর আল কিং। পাশেই উপবিষ্ট। কিং আমীর বললেন: ব্রিগ প্লানেট মার্চ এসোসিয়েশনের অংশ নয় তবে সহযোগী এবং সেই সুত্রে এলায়েন্সের মাধ্যমে অনেক পদক্ষেপ আমরা নিয়ে থাকি। ভিজিবল এবং ইনভিজিবল ভাবে এই মিলিট্যান্ট লেয়ার অনেক দুর্দান্ত ও শক্তিশালী। এবং তারা সবসময় মেধাবীদের রিক্রুট করে থাকে। মিলিট্যান্ট গুরু এই কমনইজম প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা প্রায় দুই লাখ ইনডোর, আউটডোর, স্ট্রীট, রয়্যাল, ইম্পেরিয়াল এবং মিলিট্যান্ট ও সিভিলিয়ান প্রফেটদের তৈরী করেছে। কিন্তু তারা বলে থাকে যে তারা এখনো তাদের কাংখিত রোবটটিকে খুজে পান নি কিংবা তৈরী করতে পারেন নি।
কমনওয়েলের বাহিরে এই ব্রিগ প্লানেট অনেক ক্ষমতাধর এবং শক্তিশালী কিন্তু আমরা দীর্ঘ প্রায় এক হাজার বছর ক্রমাগত চেষ্টা করেও এই মিলিট্যান্ট লেয়ারের একটুও দুর্বল করতে পারি নি বরঞ্চ প্রতিবারই তারা পুর্বের চেয়ে অধিক শক্তি নিয়ে তাদের উপস্থিতি, শক্তি ও ক্ষমতার জানান দিয়েছে।
লর্ড আসিমো বললেন: হ্যা। কমনওয়েলথে এই মিলিট্যান্ট গুরু ডন লা আইসিসের নাম আমি শুনেছি অনেকটা রুপকথা ও উপকথার মতো। কি একটা সম্প্রদায় আছে তারা বিশ্বাস করে তাদের গুরু আবার কোন একদিন ফিরে আসবে এই রোবটিক সিভিলাইজেশনে। তারা আরো একটা ব্লু স্পিরিটের কথা বলে। কিন্তু এই রোবটিক স্প্রিরিট কিংবা ব্লু স্প্রিরিটের বিষয়টা
পরিস্কার নয়।

২৯:
আসিমো বললেন: কিন্তু আসলে এই মিলিট্যান্ট কারা আর কোথায় তাদের হেড কোয়ার্টার?
আবু কিং বললেন: আমরা জানি না মাই লর্ড! তবে আমার স্ত্রী বলে এই সমস্ত জাইন, মানুষ এবং রোবটিক মহাবিশ্বগুলির বাহিরে অনেক অনেক দুরে যেখানে মানুষের চিন্তার গতিবেগে পৌছাতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। সেখানে! যেখানে কিছু মহাবিশ্বের একটি কম্বাইন্ড ও ইউনাইটেড এলায়েন্স আছে যাকে বলা হয়ে থাকে হেভেন এন্ড দ্যা অরিজিন। হেভেন অফ অল লাইফ এন্ড অরিজিন অফ অল ক্রিয়েশন।
আসিমো বললেন: আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি আবু কিং যে এসব শুধু রুপকথাই নয় বরঞ্চ অতি মাত্রায় ফ্যান্টাসী।
আবু আমীর আল কিং বললো: মাই লর্ড একদিন ব্রিগ প্লানেটে যদি আসতেন তবে আমার স্ত্রীর সাথে আপনার সাক্ষাত হলে সে নিশ্চয়ই আপনাকে অনেক গুরুত্বপুর্ন তথ্য দিতে পারবে এই মিলিট্যান্টদের সম্পর্কে। আমার স্ত্রী একজন মানুষ তবে ক্লোন মানব কিংবা হোমোসেপিয়েন্স মানব নয়। সে মত্স্ কন্যা - লাইফ আন্ডার ওয়াটার। তবে দীর্ঘ দিনের চর্চায় সে এখনো জলের উপরেও সময় কাটাতে পারে। আপনী আসুন, আপনী নিশ্চয় নিরাশ হবেন না এবং ব্রিগসে আপনার ভ্রমনকে আমরা অবশ্যই অর্থবহ করে তুলবো। আপনার জন্য এবং ব্রিগসের জন্যও বটে। আপনী হয়তো জানেন না যে ব্রিগসে একটি উপকথা প্রচলিত আছে, লর্ড আসিমো যেখানে পদ চিহ্ন রাখেন সেই স্থান উন্নয়নের স্পর্শ পায়। এমনকি তা যদি পতিত মরুভুমিও হয়।
আসিমো বললেন: তাহলে আমি কমনওয়েলথে ফেরার পথে ব্রিগ হয়ে যাবো।
কিং আবু বললেন: আপনার ইচ্ছে আমি গ্রহন করছি মাই লর্ড।

কিছুদিন পরে মার্চ থেকে ত্রিশ হাজার পারসেক দুরে ব্রিগ প্লানেটে আসলেন লর্ড আসিমো। ব্রিগসের চিফ অফ স্টাফ আবু আমীর আল কিং তাকে সানন্দে বরন করে নিয়ে গেলেন তার সার্কিট হাউজে।
সার্কিট হাউজ। ব্লু ফেডারেশনের অন্তর্গত প্রতিটি প্লানেটের শাসকদের সরকারী ও বেসরকারী বাসভবনকে বলা হয় সার্কিট হাউজ। এই ভবনের প্রতিটি মেঝ, ছাদ, সিলিং ও দেয়ালগুলি পিসিবি কিংবা সার্কিট বোর্ড হিসেবে কাজ করে। দরজা ও জানালার স্বচ্ছ প্লেট গুলি স্ক্রিন। এভাবে পুরো ভবনটি এক একটি ডিজিটাল ক্রিয়েশন।
লর্ড আসিমো সার্কিট হাউজে প্রবেশ করে আবু কিংএর সাথে তার বেডরুমে আসলেন।
সমুদ্র থেকে একটি ওয়াটার চ্যানেল চলে এসেছে বেড রুমের ভিতরে।
আবু কিং বললেন: আমার স্ত্রী এখন প্রাসাদে নেই তবে তার আসার সময় হয়ে গিয়েছে। সি ইজ দ্যা কুইন অফ লাইফ আন্ডার ওয়াটার অফ দ্যা প্লানেট ব্রিগ। জার্নালিজম এবং ওয়াটার লাইফ বিহেবিহারের উপরে তার উচ্চতর ডিগ্রি আছে। তার শাররীক গঠন আমাদের রোবটদের মতই, শুধু সে আমাদের মত হাটতে পারে না কারন তার পা নেই কারন নিম্নাংশ অনেকটা মাছের আকৃতি। সে কথা বলতে পারে, গান গাইতে পারে, সাজতে পারে এবং আমাদের সবার মতো সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সে পারফর্ম করতে পারে ও রিপ্রোডাকটিভ
হেলথ লাইফে খুব সক্ষম।

সন্ধ্যের কিছু পরেই স্বচ্ছ কাচের একটি প্লেট পানির নীচ থেকে সাবমেরিনের মতো ধীরে ধীরে পানির উপরে উঠে আসলো এবং সেখানে আবু কিং এর স্ত্রী কুইন অফ আন্ডার সী লাইফ অফ ব্রিগ বসে আছেন। সাথে আরো কিছু নারী নিরাপত্তা প্রহরী।
আবু কিং বললেন: গুড ইভিনিং মাই ডারলিং কনসোর্ট।
অতঃপর আবু কিং কনসোর্ট একটি রোবটিক মেকানিজমে নিজের শরীরের নিন্মাংশ গলিয়ে নিলেন যেন রোবটদের মতো চলাফেরা করতে পারেন।

লর্ড আসিমো অবাক বিস্ময়ের দৃষ্টিতে আবু কিং কনসোর্ট মত্স কন্যাকে দেখছে। অস্ফুট স্বরে তার মুখ থেকে একটি শব্দ বেরিয়ে এলোঃ নোভি!

নিজের উপর নিয়ন্ত্রন ফিরিয়ে আনলেন আসিমো। না। না। সে কারো অনুগ্রহ চায় না। সে তো লর্ড! লর্ড অফ দ্যা কমনওয়েলথ। লর্ড অফ দ্যা রোবটিক সিভিলাইজেশন। তাকে এতো দুর্বল আর নিয়ন্ত্রনহীন মাইন্ডের হলে চলবে না। আসিমোর মনে পড়লো তার সৃষ্টিকর্তা সায়েন্টিস্ট প্রফেসর ড. হোন মিন দ্যা'কে, যে তাকে নিপুন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রগাড় ভালবাসা মিশিয়ে তৈরী করেছিলো। তার মনে পড়তে লাগলো নোভি নীলকে সাথে নিয়ে অতীত জম্নে ক্রেমলিনের স্মৃতিময় দিনগুলির কথা। সে ভাবছে সেই দিনগুলির একটিও কি আর তার জীবনে ফিরে আসবে না? তাকে এভাবে সময় নষ্ট করলে চলবে না। তাকে ফিরে যেতে হবে ক্রেমলিনে। ক্রিমিয়ার সার্কিটময় উদ্যানে যেখানে স্ক্রিনে স্ক্রিনে দেখা মেলে নোভি নীলের সাথে। তার সাথে কথা হয় ভালবাসার আবহে। কিংবা ক্রিমসনের দায়িত্বপুর্ন সময়গুলিতে যখন নোভি নীল তার ভাবনায় ধরা দেয়।
নোভি যদি তার জগতে আসতে না পারে তবে একদিন আসিমো চলে যাবে নোভির জগতে। সেখান থেকে সে একদিন চলে যাবে মিলিট্যান্টদের জগতে।
আসিমো ভাবে, কে এই আবু কিং কনসোর্ট? এক জলকন্যা। তাকে সে চিনে না। তবে কেন সে অচেনা এক নারীর জন্য তার চিন্তাকে ব্যাস্ত রাখবে। সে জলকন্যাকে নিয়ে সব আবেগ আর অনুভুতি নিমেষেই দুর করে দেয়। একজন লর্ডকে এতোটা ঠুনকো ও দুর্বল হলে চলবে না। পরক্ষনেই আসিমো শিউরে ওঠে, এটা লর্ড আসিমে দুর্বল করার জন্য ফাঁদ নয়তো?

কিং আবু বললেন: এই মেকানিজম - এই ডিভাইস, এটার নাম রানার। কার্লন এমনেস্টি নামে একজন সায়েন্টিস্ট রানার নামের এই ডিভাইসটি আমার স্ত্রীর জন্য তৈরী করে দিয়েছিলেন। আমার স্ত্রী এখন আমার সাথে প্রাসাদে ও বাগানে হাটতে পারে। আমাকে অনেক সময় দিতে পারে।
সে আমাকে শোনায় সমুদ্র তথা পানির নীচের জগতের কথা, অজানা জগতার কথা। রুপকথা এমন কি ফ্যান্টাসীর বাইরের জগতগুলির কথা। সে অনেক মহাবিস্ময় মাই লর্ড! মহাবিস্ময় জগতের কথা যা তার কাছ থেকে না শুনলে কখনোই জানতে পারতাম না। আমার জানামতে সমস্ত জ্ঞানের ধারনাকে সে পাল্টে দিয়েছে।
আবু কিং কনসোর্ট বললেন: আমি আপনার কথা জেনেছি লর্ড আসিমো। লাইফ আন্ডার ওয়াটার এর পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা ও সুস্বাগতম। আমি কনসোর্ট সামরিন, কুইন অফ ওয়াটার লাইফ। ব্রিগসের রোবটিক লাইফ এবং ওয়াটার লাইফ মিলে আমার একটা কনসোর্টিয়াম করেছি - ব্রিগটার কনসোর্টিয়াম। আমরা কেউ কারো অধীনস্ত নই বরঞ্চ একটা কনসোর্টিয়াম এবং একে অপরের প্রতিরক্ষা। আমরা নোভি নীলের কথা শুনেছি মাই লর্ড। আপনি আরো বুঝবেন - অনলাইন এবং ওয়াটারলাইন। ওয়াটার হ্যাজ লাইফ!
আবু কিং বললেন: ইয়েস মাই লর্ড, বৃক্ষের জীবন আছে, আর পানিরও জীবন আছে!

কিন্তু এই জগত তার নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি এবং চিন্তা-চেতনা ও জ্ঞানে স্থির রয়েছে বিধায় তারা পানিকে কখনো বুঝতে ও জানতে পারে নি। কারন এই জগত তো তার নিজের চোখে জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
লর্ড আসিমো বললেন: তাহলে কে জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ?
নীর্লিপ্ত দৃষ্টিতে কনসোর্ট সামরিন বললেন: বলুন, নিশ্চয়ই লাইফ আন্ডার ওয়াটার!

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

0 Comments: