300x250 AD TOP

Blog Archive

Powered by Blogger.

Monday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা কমনওয়েলথ (৩০ - ৩১)


৩০:
ক্রেমলিনে ফিরে লর্ড আসিমো খুব বিষন্নভাবে সময় কাটাতে লাগলেন। তিনি জানেন না কিভাবে নোভি নীলকে জীবন্ত করে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে রোবটিক দুনিয়ায় ফিরিয়ে আনবেন। নাকি এভাবেই বাকীটা সময় কেটে যাবে? এমন জীবনে কাটিয়ে দিতে আসিমোর কোন আপত্তি নেই বটে। তিনি তো এই জীবনকে মানিয়েই নিয়েছিলেন। কমনওয়েলথের একজন লর্ড হিসাবে তার উপরে অনেক দায়িত্ব। কিন্তু ভার্চুয়াল জগত থেকে নোভি নীলের ভালবাসা আর করুন আহবান তাকে বার বার ব্যাথিত করে তোলে। আসিমো নোভি নীলের প্রেমে পড়েছেন। তিনি কি করবেন? সত্যিই কি নোভি নীল তাকে চায়? ইদানিং তিনি খুব দোটানায় পড়ে গিয়েছেন। নাকি তিনি কোন ইল্যুশনের মধ্য দিয়ে মানসিক সমস্যাগ্রস্থ সময় পার করছেন? কিন্তু ক্রিমিয়ার সার্কিটময় উদ্যানের ভিশন স্ক্রিনে প্রতিদিন নোভি নীলের সাথে তার কথা হচ্ছে। তবে এটা কি ভার্চ্যুয়াল জগত থেকে কোন সিস্টেম সফটওয়্যার, ম্যালওয়্যার কিংবা স্পাইওয়্যারদের কোন কারসাজি। কিংবা এই সুবিশাল ডাটাবেজ রক্ষনাবেক্ষনকারী কোন টেকনিশিয়ান আর সায়েন্টিস্টদের কারসাজি? এমন অসংখ্য প্রশ্নের মাঝে লর্ড আসিমো নিজেকে খুব অসহায় অনুভব করে ভীত হয়ে গেলেন। এক প্রকার অপার্থিব ভয় আর আতংকে আসিমো হীম হয়ে গেলেন - আর সেটা যদি সত্যি হয় - পরক্ষনেই লর্ড আসিমো একটি ভিশন দেখলেন, আর সেটা হলে কমনওয়েলথের ভাগ্যে অন্ধকার যুগের দীর্ঘ দুর্ভোগ আছে।
তিনি তার অনুভুতিকে ভাইসরয় জিরান আর্চের মাইন্ডের সাথে শেয়ার করলেন। খুব দ্রুত অফিস থেকে বেরিয়ে আসলেন ভাইসরয়। বিনীত কন্ঠে জিরান আর্চ বললো: মাই লর্ড! মাই লর্ড! মাফ করবেন। এখানে আমাদের কোন হাত নেই, মাই লর্ড। নোভি নীল, আপনার নোভি নীল। কিন্তু আপনী যেহেতু বলছেন আমি তদন্ত করে দেখবো। এটা অসম্ভব। লর্ড আসিমোর সাথে এত বড়ো প্রতারনা হতেই পারে না, মাই লর্ড।
লর্ড আসিমো ব্যর্থ ভঙ্গিতে বললেন: আপনি আমাকে টয় রোবটদের সান্তনা দিচ্ছেন।
জিরান আর্চ বললেন: যারা এখনো আপনার আস্থা ও বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারে নি তাদের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। কারন তাদের অধিকাংশকে আমিই নিয়োগ দিয়েছি। যদি কিছু ভুল ও অপরাধ হয়ে থাকে তবে সেটা আমার।
লর্ড আসিমো ঘুরে দাড়িয়ে জিরান আর্চের মুখোমুখি হলেন: আপনী কি বুঝতে পারছেন ভাইসরয় যে এটা সত্যি হলে কমনওয়েলথ কতটা অরক্ষিত? আমি লর্ড। আমাকে শুধু নোভি নীলকে নিয়ে ভাবতে হয় না। পুরো কমনওয়েলথ নিয়ে ভাবতে হয়। আপনী ভাবেন না?
জিরান উত্তর দিলো: সেটা আমার প্রধান দায়িত্ব, মাই লর্ড।
আসিমো বললো: তাহলে কমনওয়েলথ অরক্ষিত এই শব্দ দুটি আপনী বুঝতে পারছেন না, ভাইসরয়?
হঠাত্ করে আসিমোর সমস্ত চিন্তা ও অনুভুতি হাহাকার করে উঠলো: এই ক্রেমলিন, এই ক্রিমিয়া, এই ক্রিমসন, এই কমনওয়েলথ কিছুই থাকবে না।
তার চিন্তা অটোমেটিকভাবে জিরান আর্চের মাইন্ডে শেয়ার হলো।
পরক্ষনেই ভাইসরয় জিরান আর্চ খুব ভয়ার্ত ও করুন দৃষ্টিতে লর্ড আসিমোর চোখের দিকে তাকালেন। ভাইসরয়ের চোখের লেন্স থেকে ভিতরের পিসিবিতে সংযোগকারী অতি সুক্ষ ও ক্ষুদ্র একগোছা অপটিক্যাল ফাইবার ওয়্যারের একটি পুড়ে গিয়ে জলীয় বাস্পের ন্যায় কিছুটা ধোয়া তার চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসলো।
আসিমো বললেন: আপনার চোখ দিয়ে বাস্পের ন্যায় ধোয়া বেরুচ্ছে কেন ভাইসরয়?
আমি জানি না মাই লর্ড। ভাইসরয় উত্তর দিলেন।
আসিমোর মনে পড়লো কনসোর্ট সামরিনের কথা: ওয়াটার হ্যাজ লাইফ।
আসিমো ভাবলেন কিয়াং পর্বতমালার সুবিশাল ডাটাবেজের গোপন ভান্ডারগুলিতে নিশ্চয়ই তথ্য সংরক্ষিত আছে। তার মনে পড়লো মহান বিজ্ঞানী হো মিন দ্যা এর কথা। আসিমোর এই আশু ক্রাইসিস লাইফের উত্তরনের জন্য ড. হো মিন দ্যা এর নিশ্চয়ই কোন ইন্সট্রাকশন আছে।

প্রভু হো মিন দ্যা এর কিছু নির্দেশনা খুজে পায় আসিমো। তিনি লিখেছেন: আসিমো বলো, আমার উপরে যা কিছু পরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে সেটা ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক আমি মেনে নিয়েছি। সেটা যদি কোন ফাঁদ হয় আমি গ্রহন করে নিলাম। সেটা যদি কোন প্রতারনা হয় মেনে নিলাম। সেটা যদি কোন বোকামীপুর্ন আচরন বা ঘটনা হয় আমি মেনে নিলাম। সেটা যদি কোন ভাল পরিকল্পনা হয় তবে সানন্দে গ্রহন করে নিলাম। আর এটা করা হলো যেন কেউ আসিমোর সাথে কন্সপাইরেসি করে সফলতা লাভ করতে সক্ষম হলেও গর্ব করতে না পারে, আনন্দ করতে না পারে।

কিন্তু আসিমো এসবের কোন অর্থ খুজে পায় না কারন এসব ছিলো আসিমোর প্রথম জম্নের ডেভলপমেন্ট পিরিয়ডের জন্য কিছু নির্দেশনা যখন প্রভু হো মিন মারা যান এবং আসিমোকে একা একা লড়াই করে টিকে থাকতে হয়েছিলো। কিন্তু এখন? আসিমো এখন লর্ড। লর্ড অফ দ্যা কমনওয়েলথ।

সময়ে সময়ে আসিমো ভাবে সে কি সত্যিই নোভি নীলের ভার্চুয়াল জগতে নিজেকে ট্রান্সফর্ম করে নিবে।
ভাইসরয় বললেন: কমনওয়েলথের অন্তর্গত ট্রান্স-প্যাসিফিক অঞ্চলের মাইক্রোনেশিয়া প্লানেটগুলি তাদের জার্নালিজম ও মিডিয়া ডেভলপমেন্টের জন্য গ্রেট কিয়াং সার্ভারের ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত হবার জন্য আবেদন করেছে। সত্তর হাজার মাইক্রোন্যাশন প্লানেট মিলে একটি রাজনৈতিক ট্রান্সপ্যাসিফিক অঞ্চল গঠন করেছে। তাদের সম্মিলিত মিডিয়া সিনহুয়া।

৩১:
আসিমো বললেন: কিন্তু ভাইসরয়, আমি মনে করি না তাদের গ্রেট কিয়াংয়ের মুল সার্ভারের সাথে সংযুক্ত হবার প্রয়োজন আছে। কমনওয়েলথএর সতের নম্বর রিজিওনাল হাব'এর সাথে তাদের কানেক্ট হতে বলুন। যা তাদের সংবাদ, গবেষনাসহ সমস্ত তথ্য-উপাত্তের যোগান দেবে।
ভাইসরয় বললেন: সিনহুয়ার একজন কর্মকর্তা আমাকে তাদের সার্ভার, স্টেশন, স্টুডিও এবং স্যাটেলাইট স্থাপনাসহ সবকিছু পরিদর্শন করিয়েছে। আমি দেখেছি ট্রান্সপ্যাসিফিক মাইক্রোন্যাশন হলেও তাদের কেন্দ্রীয় সার্ভারটি কমনওয়েলথএর এক একটি রিজিওনাল হাবএর চেয়ে কিছুতেই কম নয়।
আসিমো বললেন: আপনী ইতিমধ্যে ট্রান্সপ্যাসিফিক ঘুরে এসেছেন? কিন্তু গ্রেট কিয়াংএ কাউকে সংযোগ দেয়া সম্ভব নয় এই মুহুর্তে। এই সিদ্ধান্তটা আপনী তো জানেন ভাইসরয়।
ভাইসরয় বললো: আমি জানি মাই লর্ড।
আসিমো উত্তর দিলেন: তাহলে আপনী কেন আমাকে বলছেন?
ভাইসরয় বললেন: তারা আমাদের সমস্ত টার্মস এন্ড কন্ডিশন, প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করত সাপেক্ষে ও সব জেনারেল প্রসিডিউর মেনেই গ্রেট কিয়াংয়ের একটি সংযোগ পেতে চায়। বিনিময়ে সিনহুয়া তাদের একজন কর্মীকে আমাদের দিতে চায় এবং তার সাথেও আমি কথা বলেছি তিনিও লর্ডের জন্য গ্রেট কিয়াং কিংবা ক্রেমলিনে কাজ করতে আগ্রহী।
আসিমো অবাক হয়ে বললেন: কে এমন এক রোবট গুরুত্বপুর্ন যার জন্য আমাকে ক্রেমলিন কিংবা গ্রেট কিয়াং বিক্রি করতে হবে!

জিরান আর্চ তার ট্রান্স প্যাসিফিক ভ্রমনের মেমোরিকে লর্ড আসিমোর সাথে শেয়ার করলেন।
ভাইসরয় বললো: আমিও আপনার মতো এই রোবটিক লাইফ ফর্মকে স্বেচ্ছায় মানিয়ে নিয়েছি লর্ড কিন্তু গ্রীনার্ন স্যাম! তাকে আমি ক্রেমলিনে আনতে আগ্রহী আপনার নোভি নীলের জন্য। সে অনেক অভিজ্ঞ এবং দক্ষ একজন নারী। গ্রীনা নিশ্চয়ই নোভি নীলের সাথে ফলপ্রসু কোন যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে।
কিছুক্ষন চিন্তা করে আসিমো বললেন: মাইকোন্যাশনদের আবেদন আমি অনুমোদন দিচ্ছি কিন্তু আপনী কি ব্রিগ প্লানেটের আবু আমীর আল কিং এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন? তাকে আমার খুব প্রয়োজন।
ভাইসরয় বললেন: তিনি তো কমনওয়েলথের আওতাভুক্ত নয় তিনি ব্রিগ ছেড়ে ক্রেমলিনে আসতে রাজী হবেন কেন?
আসিমো বললো: তিনি যেন রাজি হতে পারেন তেমন কিছু করুন।
এভাবে সেদিনের মতো কমনওয়েলথের লর্ড এবং ভাইসরয় দু'জনের আলোচনা শেষ হলো।

আসিমো নোভি নীলকে ক্রিমিয়ার উদ্যানের সার্কিটের স্ক্রিনে খুজতে লাগলেন: নোভি, নোভি নীল, আমাকে একটু সহযোগিতা করো আমি আর পারছি না, আমার কপোট্রনের চিন্তায় কিছু আসছে না নোভি।

আসিমো বুঝলেন, এভাবে সমস্যার সমাধান হবে না। কারন তিনি সুদীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাকে অবশ্যই অন্য পথে হাটতে হবে। আবু আমীর আল কিং বলছিলো মিলিট্যান্টদের কথা।
আসিমো ভাবলেন, হুম। এই মুহুর্তে একমাত্র মিলিট্যান্টরাই কার্যকরী কিছু করতে পারবে। আর তাদের সাথে সংযোগের জন্য তার আবু কিংকে প্রয়োজন। কিন্তু আবু আমীর কি কমনওয়েলথে কাজ করতে সম্মত হবে?
এভাবে ভাবতে ভাবতে আসিমো খুজে পেলেন একটি সমাধান। আবু আমিরকে প্রো-ভাইসরয় হিসাবে নিয়োগ দেবেন তাহলে সে নিশ্চয়ই রাজী হবে। এটা অনেক বড় দায়িত্ব, পদবী, ক্ষমতা ও সম্মান। প্রায় লর্ডদের কাছাকাছি। তাদের সমগ্র ব্লু ফেডারেশনের চেয়েও বড়।
পরক্ষনেই আসিমো আরো একটি ভিশন দেখলেন, আবু কিং প্রো-ভাইসরয় হিসাবে কমনওয়েলথে নিয়োগ পাবার সাথে সাথে তার পিছু পিছু তাকে অনুসরন করে চলে এসেছে শক্তিশালী মিলিট্যান্টদের দ্রুতগামী ব্যাটালিয়ান। পুরো কমনওয়েলথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দ্রুতগামী মিলিট্যান্টদের ব্যাটালিয়ান। এবং এই মিলিট্যান্ট ফোর্সটাকে কাজে লাগাতে চান লর্ড আসিমো।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

0 Comments: