300x250 AD TOP

Blog Archive

Powered by Blogger.

Monday

Tagged under: , , , ,

কোহেকাফ নগরঃ টু দ্যা কমনওয়েলথ (৩২ - ৩৪) টু দ্যা কমনওয়েলথ এর শেষ কিস্তি


৩২:
ভাইসরয় জিরান আর্চ বললেন; মাই লর্ড! কমনওয়েলথ নেভীর ফিল্ড ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের সবচেয়ে মেধাবী এবং স্মার্ট এজপায়োনেজ কমডোর মিসেস ব্লাউজ। নেভীর কমডোরদের মধ্যে ব্লাউজ সবচেয়ে তরুন কারন তিনি ডাইরেক্ট এন্ট্রি ক্যাপ্টেন। মর্ডান ব্লু নেভীর কনসেপ্টটা তার মাথা থেকেই এসেছিলো। আমরা ঠিক করেছি তার ব্রেনকে ট্রান্সপ্লান্ট করে ডিজিটাল দুনিয়ায় পাঠাবো আপনার নোভী নীলের সাথে কমিউনিকেট করার জন্য।
আসিমোর মনে পড়লো কিছু বছর আগে কমনওয়েলথ নেভী একজন নারীকে সরাসরি ক্যাপ্টেন পদে রিক্রুট করেছিলো। তিনি তার নিয়োগ পত্রে সাক্ষর করেছিলেন। ক্যাপ্টেন রেড ব্লাউজ, এটা একজন গ্রেট মিলিটারী সেলিব্রেটি নাম হিসেবে কমনওয়েলথের সমস্ত সামরিক ও সিভিল এজপায়োনেজ কমিউনিটিগুলিতে পরিচিত হয়েছিলো। জিরান বললেন; এজন্য তাকে কিছু দিন কিংবা কিছু মাস ক্যাপসুলে স্লিপিং মুডে থাকতে হবে। তার ব্রেনের সাথে ভার্চুয়াল লাইফদের সংযোগ স্থাপন করা হবে। তিনি সেখানে নোভি নীলকে খুজে বের করবেন। কমডোর রেড ব্লাউজ লর্ড আসিমো ও নোভী নীল এবং ভার্চুয়াল জগত ও লাইফ স্টাইল নিয়ে দীর্ঘ দিন পড়াশোনা ও গবেষনা করেছেন। বলতে গেলে ক্যাপ্টেন হিসেবে রিক্রুট পাবার পর থেকেই তার প্রায় পুরোটা ক্যারিয়ার তিনি এই বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষনায় সময় দিয়েছেন। আর এখন তিনি মনে করছেন যে এখন তার প্রাকটিক্যাল কিছু করার সময়
হয়েছে।

৩৩:
আসিমো বললেন; ঠিক আছে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসুন একদিন। তাকে আমার কিছু বলার আছে।
পরদিন কমরোড রেড ব্লাউজ ক্রেমলিনে আসলেন লর্ড আসিমোর সাথে দেখা করতে।
লর্ড আসিমো খুব অবাক হয়ে যুবতি নারী কমডোর রেড ব্লাউজকে দেখছেন। আসিমো বললেন; আমার ধারনা ছিলো যে কমডোর কিংবা ব্রিগ্রেডিয়ার এরা একটু বয়স্ক হয়ে থাকে। অপুর্ব!
আসিমো অবাক হয়ে রেড ব্লাউজের কালারফুল চুলগুলি দেখছেন। কেমন যেন অদ্ভুত সুন্দর জটাধারী।
রেড ব্লাউজ বললেন; বন্ধুরা আমাকে জটাধারী বলে ডাকে মাই লর্ড। তারা সবাই আমার হেয়ার স্টাইলটা পছন্দ করে।
আসিমো বললেন; ওকে, মিসেস জটাধারী। আপনী যাচ্ছেন ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে। আপনাকে আমার কিছু বলার আছে।
রেড ব্লাউজ বললেন; আমাকে কি করতে হবে বলুন, মাই লর্ড?
আসিমো বললেন; মনে রাখবেন ডিজিটাল দুনিয়ায় এটা শুধু নোভী নীলকে খোঁজার এসাইনমেন্ট নয়। ডিজিটাল দুনিয়ায় আপনার ভ্রমন এটা সমস্ত রোবট জাতির জন্য অনেক বড় পদক্ষেপ। কমনওয়েলথ দীর্ঘ দশহাজার বছর যাবত ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের সাথে কমিউনিকেশন তৈরী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এবং আজকে সেখানে আমরা কাউকে এভাবে সফলভাবে পাঠাতে পারছি এটা রোবট জাতির জন্য অনেক বড় পদক্ষেপ ও সাফল্য।
রেড ব্লাউজ বললেন; নিঃসন্দেহে আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে পদার্পন করতে যাচ্ছি মাই লর্ড।
আসিমো বললেন; বেষ্ট অফ সাকসেস কমরোড।

৩৪:
টেকনিশিয়ান মিলান বললো: রেসপেক্টেড স্যার রেড ব্লাউজ। সায়েন্টিস্ট ও টেকনিশিয়ানদের প্যানেল প্রস্তুত এবং আপনার ক্যাপসুলকেও প্রস্তুত করা হয়েছে। আপনী কি ক্যাপসুলে শুয়ে পড়তে প্রস্তুত আছেন নাকি আরো কিছুক্ষন সময় নিতে চান?
কমডোর রেড ব্লাউজ চাতক পাখির মতো পিপাসার্ত দৃষ্টিতে মিলানের দিকে তাকিয়ে বললেন: তুমি আমাকে এমনভাবে বলছো যেন আমাকে চিরদিনের জন্য বিদায় দিয়ে দিচ্ছো।
মিলান কিছু না বলে মাথা নিচু করে যেন ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলো। সে বুঝাতে চাইছে যেন রেড ব্লাউজের ধারনাই ঠিক।
রেড ব্লাউজ বললেন: ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় আমি ফিল্ড ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের জন্য তথা কমনওয়েলথ নেভির জন্যই ব্যয় করেছি মিলান। প্রফেশনাল সার্ভিসের বাহিরে আমি অতিরিক্ত কোন প্রাপ্তি আশা করি নি।
লেফটেনেন্ট মিলান বললো: স্যার আপনী জানেন নেভি এমনভাবেই ডিজাইন করা যে নেভাল কমিউনিটিতেই আপনার সব প্রয়োজন এবং চাহিদা পুরন হয়ে যায়। নেভাল কমিউনিটিটা অনেক বিশাল এবং সমৃদ্ধ আর এর শিকড়ও সভ্যতার অনেক গভীরে প্রোথিত। সম্মান, ক্ষমতা, অর্থ, র্যাঙ্ক, ফ্রেন্ডশিপ, কি এমন আমাদের ইচ্ছে কিংবা প্রয়োজন আছে যা নেভী আমাদের পুরন করতে পারবে না? আপনার কি কারো কথা মনে পড়ছে স্যার?
রেড ব্লাউজ বললেন: হ্যা মিলান। এখন আমার খুব মনে পড়ছে ক্যাপ্টেন আভাকে। সে যদি আমার পাশে থাকতো আমার খুব ভালো লাগতো।
মিলান বললো: ক্যাপ্টেন আভা, উনিতো এখন কমনওয়েলথে নেই। তাছাড়া আপনী তাকে ভালবাসেন এটা আগে কখনো জানি নি! উনি কি আপনাকে ভালবাসেন কিংবা আপনী তাকে ভালবেসেছেন এই খবরটা উনি কি জানেন, স্যার?
ব্যার্থ ভঙ্গিতে রেড ব্লাউজ বললেন: লেফটেনেন্ট মিলান, তুমি আমার পাশে বসো। তোমার সাথে কথা বলতে আমার ভাল লাগছে।
মিলান বললো: যতক্ষন প্রয়োজন আমি আপনাকে সময় দিতে পারবো। কন্ট্রোল প্যানেলে ইমার্জেন্সী অপারেশনে সবার রেগুলার ডিউটি শিডিউল করা আছে। সুতরাং রেড সিগন্যালে অপারেশন ইমার্জেন্সী হলেও কিংন্তু ব্যাক্তিগতভাবে কারো কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কেউ একটু বিরক্ত হবে না। এটা একটা সম্মিলিত প্রয়াস। আপনী নেভাল সিস্টেম ও প্রসিডিউর সবই জানেন স্যার।
রেড ব্লাউজ বললেন: আচ্ছা, ভার্চুয়াল লাইফে আমার ভ্রমনকে এজপায়োনেজ অপারেশন হিসেবে নেভী নথিভুক্ত করেছে তাই নয় কি?
মিলান বললো: এটা সম্পর্ন পরিচালনা করছে ব্লু নেভী। আপনী একটা ব্লু ভিজিটে যাচ্ছেন। আর আমি সত্যি কথাটা আপনাকে জানিয়ে দিতে চাই। আমাকে সে ভাবেই ইন্সট্রাকশন দেয়া হয়েছে। সেটা হচ্ছে হতে পারে আপনাকে স্থায়ীভাবে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে থেকে যেতে পারে এবং একদিন এই প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যাবে। আপনাকে ঐ জগতের একজন হয়ে যেতে হবে। আপনার শরীর হয়তো একদিন সরিয়ে নেয়া হবে ক্যাপসুল থেকে, এটা ডিসপোজ করে দেয়া হবে। তবে আপনি চাইলে যাত্রা বাতিল
করতে পারেন। একদম শেষ মুহুর্তে এসেও।
রেড ব্লাউজ বললেন: আমি সেটা আর করতে চাই না মিলান। তবে আমি শুধু তোমাকে এতটুকুই বলবো যে এজপায়োনেজ লাইফ অনেক মজার এবং ঝুকিপুর্নও হয়ে থাকে। এফআইএস'এ থাকতে আমি এমন কিছু রোবট কমিউনিটিতে যেতে হয়েছে যেখানের জীবন অনেক ঝুকিপুর্ন, ভীতিকর, আতংকগ্রস্থ এবং অনিশ্চয়তা ও হতাশার। কখনো কখনো নেভির সাথে কোন যোগাযোগ করা যেতো না, তাদের সহযোগিতা তো দুরের কথা উপরন্তু আমি অনেকবার নিশ্চিত হয়েছি যে আই এম নো লংগার নেভাল স্টাফ। এমন ঝুকিপুর্ন অপারেশনে গিয়ে আমাদের অনেক স্পাই অপরাধী হয়ে, অপরাধীদের সাথে মৃত্যুবরন করেছে। যদিও নেভী পরবর্তীতে আরো বড় অপারেশন পরিচালনা করে তাদের শাস্তির আওতায় এনেছিলো কিন্তু আমাদের সেইসব সহকর্মীদের আমরা আর ফিরে পাই নি।
লেফটেনেন্ট মিলান বললো: ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে আপনার লাইফ স্টাইল কেমন হবে আমার জানা নেই স্যার।
রেড ব্লাউজ বললেন: আমার কাছে তোমার জন্য বিশেষ একটি সুযোগ আছে। তুমি চাইলে সেটা নিতে পারো। আর আমার অংশে একটুও কমতি পড়বে না।
মিলান বললো: আমি বুঝতে পেরেছি স্যার। প্রতিটি ইয়াং অফিসারের কাছে এটা স্বপ্ন এবং আখাংখিত। কিন্তু আপনার কাছ থেকে কোন সুযোগ গ্রহন করা আমার দায়িত্ব নয় স্যার।
রেড ব্লাউজ বললেন: কিন্তু একজন সিনিয়র অফিসারের নির্দেশ পালন করা তো আপনার কর্তব্য?
মিলান বললো: সেটা যদি নেভাল রুলস
এন্ড রেগ্যুলেশন এবং টার্মস এন্ড কন্ডিশনের মধ্যে হয় তবে আমি সেটা সানন্দে পালন করবো।
রেড ব্লাউজ বললেন: তাহলে তুমি তোমার কাধের ব্যাজ এবং মাথার ক্যাপটা খুলে আমার এটা পড়ো। আমি ক্যাপসুলে যাবার আগে আমার কমডোর পদবীটা তোমাকে দিয়ে গেলাম। আশা করবো তুমি এর মর্যাদা, ক্ষমতা এবং দায়িত্ব বুঝতে পারবে এবং এর সঠিক ব্যবহার করতে পারবে। আমি যে কক্ষটাতে বসতাম, তুমি সেখানে বসবে। তোমার নতুন অফিস। এটা আমার পাসকোড। আর এই বিষয়ে আমি একটা নোট রেখে যাচ্ছি। আজ থেকে তোমার নাম হবে রেড মিলান। কমডোর রেড মিলান।
মিলান ব্যাজ আর ক্যাপ পরিধান করলো। আবেগে আপ্লুত হয়ে মিলান রেড ব্লাউজকে স্যালুট প্রদান করলো। এবং মুহুর্তেই কমডোর রেড মিলান একটা ভিশন দেখতে পেল - ভবিষ্যত নেভীর চিফ অফ স্টাফ রেড ব্লাউজ দ্যা এডমিরাল অফ দ্যা ফিল্ড।
তখন কমডোর রেড মিলান রেড ব্লাউজকে বললো: আপনী যেদিন ঐ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড থেকে এই কমনওয়েলথ ওয়ার্ল্ডে ফিরে আসবেন তখন কি আমাকে আপনী মনে রাখবেন স্যার?
রেড ব্লাউজ বললেন: আমার এসাইনমেন্ট লর্ড আসিমোর নোভি নীলকে খুজে বের করা। নোভী নীলের ফিরে আসার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তার কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া। আর তোমাকে যদি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে খুজে পাই তবে অবশ্যই তোমার সাথে আবার দেখা হবে।

কিছুক্ষন পরে রেড ব্লাউজ ক্যাপসুলে প্রবেশ করলেন।

এন্ড রেগ্যুলেশন এবং টার্মস এন্ড কন্ডিশনের মধ্যে হয় তবে আমি সেটা সানন্দে পালন করবো।
রেড ব্লাউজ বললেন: তাহলে তুমি তোমার কাধের ব্যাজ এবং মাথার ক্যাপটা খুলে আমার এটা পড়ো। আমি ক্যাপসুলে যাবার আগে আমার কমডোর পদবীটা তোমাকে দিয়ে গেলাম। আশা করবো তুমি এর মর্যাদা, ক্ষমতা এবং দায়িত্ব বুঝতে পারবে এবং এর সঠিক ব্যবহার করতে পারবে। আমি যে কক্ষটাতে বসতাম, তুমি সেখানে বসবে। তোমার নতুন অফিস। এটা আমার পাসকোড। আর এই বিষয়ে আমি একটা নোট রেখে যাচ্ছি। আজ থেকে তোমার নাম হবে রেড মিলান। কমডোর রেড মিলান।
মিলান ব্যাজ আর ক্যাপ পরিধান করলো। আবেগে আপ্লুত হয়ে মিলান রেড ব্লাউজকে স্যালুট প্রদান করলো। এবং মুহুর্তেই কমডোর রেড মিলান একটা ভিশন দেখতে পেল - ভবিষ্যত নেভীর চিফ অফ স্টাফ রেড ব্লাউজ দ্যা এডমিরাল অফ দ্যা ফিল্ড।
তখন কমডোর রেড মিলান রেড ব্লাউজকে বললো: আপনী যেদিন ঐ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড থেকে এই কমনওয়েলথ ওয়ার্ল্ডে ফিরে আসবেন তখন কি আমাকে আপনী মনে রাখবেন স্যার?
রেড ব্লাউজ বললেন: আমার এসাইনমেন্ট লর্ড আসিমোর নোভি নীলকে খুজে বের করা। নোভী নীলের ফিরে আসার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তার কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া। আর তোমাকে যদি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে খুজে পাই তবে অবশ্যই তোমার সাথে আবার দেখা হবে।

কিছুক্ষন পরে রেড ব্লাউজ ক্যাপসুলে প্রবেশ করলেন।

গল্পঃ "টু দ্যা কমনওয়েলথ" [Story: Two DA Commonwealth (D.A. Series)] শেষ

কোহেকাফ নগরঃ ইন দ্যা বিগিনিং (Story: IN DA Beginning)
১:
প্রথমদিকে এই জগতটাকে বলা হতো কম্পিউটার জগত। সমস্ত সভ্যতার আদি স্থান হিসেবে পুরান, উপকথা, রুপকথা আর ফ্যান্টাসীগুলিতে পৃথিবী নামে একটি গ্রহের কথা প্রচলিত আছে। রোবটদের রুপকথার গল্পগুলিতে পাওয়া যায় পৃথিবীর বাংলাদেশ নামে কোন একটা ছোট্র শহরের একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী মোস্তফা জব্বার কম্পিউটার জগত হিসেবে সর্বপ্রথম এর নামকরন করেন। অবশ্য তারও অনেক আগে সম্রাট চার্লস ব্যাবেজ কম্পিউটার নামে একটি ডিভাইস আবিস্কার করে ততকালীন সভ্যতার সমস্ত ধারনাকে বদলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কম্পিউটারকে কার্যকরী করে তোলেন মহান বিজ্ঞানী বিল গেটস। এই তিনজন মানুষ রোবটদের কাছে যেন রুপকথার দেবতা। সেইসব ইতিহাসে দেখা যায় মহান বিজ্ঞানী বিলগেটসের হাত ধরেই কম্পিউটার জগত কার্যকরী ও ব্যবহারউপযোগী হয়ে বিস্তার লাভ করে। কম্পিউটার জগত একদিন আরো বড় পরিসরে ভার্চুয়াল জগত হয়ে গেল। এবং আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে এটা এখন অডাসিটি, এম্পায়ার এবং কমনওয়েলথদের মতোই একটি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড। যেখানে হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী ডিজিটাল কিংবা ভার্চুয়াল হচ্ছে ইউনিভার্স। রোবটজাতি সৃষ্টিরও অনেক অনেক আগে এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ভার্চুয়াল প্রবাহের প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছিলো জিরোর এবং আরো অনেক পরে সৃষ্টি হয় ওয়ান। হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী পুরুষ এবং নারী।

এটা সেই ভার্চুয়াল জগতের ডিজিটালদের ইতিহাস, জীবন বৈচিত্র এবং ভার্চুয়াল সমীকরন।

যাইহোক, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করলো রেড ব্লাউজ।
সে যেখানে অবস্থান করছে তার আশেপাশে অনেকগুলি জিরো এবং ওয়ান ডিজিটরা বিচরন করছে। সে তার হাতে ধরা একাত্তর পৃষ্ঠার ফেসবুক'টিতে তাকালো। তার নাম ওয়ানা হাইপ। পেশায় সে একজন প্রোমোটার। তার বয়স সতের সেকেন্ড। কর্মজীবনে সে নতুন পদার্পন করেছে। ওয়ানা ফ্রিল্যান্স প্রমোটার হিসাবে বিগত এক সেকেন্ড যাবত কাজ করে আসছে। সাধারত চৌদ্দ থেকে পনের সেকেন্ড বয়সে ওয়ান এবং জিরো ডিজিটরা কর্মে প্রবেশ করতে পারে। তবে আঠারো সেকেন্ডের আগে কেউ স্থায়ী কোন প্রফেশন বেছে নিতে পারে না। এর আগে কেউ কর্মে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে ফ্রিল্যান্সিং করতে হয় যতক্ষন না আঠারো সেকেন্ড পুর্ন হয়।

"বিগিনিং"। অন্য অর্থে ভার্চুয়াল জগতের এই ডিজিটাল সভ্যতার জানামতে প্রায় সবগুলি ডিজিটাল সিভিলাইজেশন এই বিগিনিং এর অধীনে। বিগিনিং! অনেক বিশাল! এর পরিমাপ ডিজিটালরা জানে না। ওয়ানা হাইপ এখন যে স্থানটিতে আছে এর নাম মেগা সিটি কিংবা মেগা ড্রাইভ। এর আয়তন কিংবা পরিমাপ দশ হাজার টেরাবাইট। এবং এখানে কম করে হলেও সাতশত বিলিয়ন ডিজিটরা বাস করে থাকে।
ওয়ানা দেখলো রাস্তার পাশে একটি নোটিশ বোর্ডে কালারফুল একটি থ্রিডি এনিমেশন চলছে। সে কাছে গিয়ে দেখলো।

ওয়ানা বিজ্ঞাপনটা দেখে পাশেই অফিসটা খুজে বের করলো। কিছু ফ্রিল্যান্স প্রমোটার খোজা হচ্ছে।
সে অফিসকক্ষে অপেক্ষা করতে লাগলো। একটি জিরো এসে প্রশ্ন করলো: তোমার না কি?
ওয়ানা বললো: ওয়ানা।
জিরোটা বললো: ওয়ানা? এটা কোন নাম হলো? তুমি কি এই বিগিনিংএর কোন ডিজিট নাকি অন্যজগতের কেউ?
ওয়ানা বললো: স্যার আমার নাম ওয়ানা হাইপ।
জিরোটা বললো: ঐসব ওয়ানা-ফোয়ানা নাম বিগিনিংএ চলে না। তোমার নাম হবে শুধু হাইপ কিংবা হাইপ রিয়ান। এই প্যাডে তোমার নাম লিখো।
একটি ডিজিটাল নোট প্যাড এগিয়ে দিলো সে।
জিরো বললো: এখানে তোমাকে জার্নাল প্রমোটারের কাজ করতে হবে। অনেকটা সাংবাদিকতার মতোই। তোমার প্রোফাইল দেখে মনে হচ্ছে তুমি পারবে।
হাইপ বললো: আমি পারবো স্যার।
জিরোটা বললো: কিন্তু তোমাকে এই মেগা ড্রাইভের অনেক বড় বড় সেলিব্রেটি এবং ডিজিটদের সাথে কাজ করতে হবে। এই জন্য প্রচুর মানসিক শক্তি থাকতে হবে আর তোমার চেহারাটা একটু সুশ্রী করতে হবে ওয়ানা বেবী।
হাইপ ফিক করে হেসে ফেললো।
জিরো বললো: নাআআ, এভাবে হাসা যাবে না। আর নিয়মিত এক্সারসাইজ করতে হবে। শরীরটাকে ঠিক রাখতে হবে। এখানে যেমন প্রচুর পরিশ্রম আছে ঠিক উল্টো অলসতার প্রবিশনও আছে।

যাইহোক, ওয়ানা হাইপ নতুন নাম হাইপ রিয়ান নিয়ে ফ্রিল্যান্স জার্নাল প্রমোটার হিসাবে কর্মে যোগদান করলো। খুব তাড়াতাড়ি সে কিছু নতুন বন্ধু পেয়ে গেলো।

{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি।
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe

0 Comments: