Sunday

Tagged under: , , ,

কোহেকাফ নগরঃ স্বপ্নবিশ্ব (১৩ - ১৫)


১৩: 
প্যানারোমার সুউচ্চ আকাশের সীমানা হতে জিনা নেমে আসলো ভুমিতে কিশোরটির কাছে। 
কি নাম তোমার? জিনা প্রশ্ন করে। 
ওবিরিক! আমার নাম। কিশোর উত্তর দেয়। 
তুমি এখানে কি করে আসলে? জিনা জানতে চায়।
আমার বন্ধু মাইলেজকে খুজতে এখানে এসেছি কিছুক্ষন আগে। আমার কাছে তথ্য ছিলো সে এখানে আসবে। সে উত্তর দেয়। 
জিনা জানতে চায়, মাইলেজ! কে মাইলেজ? 
কিশোর জিনার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো, তুমি মাইলেজ। গতকাল জাগরনে তোমার সাথে পার্থিব বিশ্বে আমার কথা হয়েছিলো। তুমি বলেছিলে প্যানারোমার নীল বৃষ্টির মাঝে তোমাকে খুজে পাওয়া যাবে। মনে পড়ে? তুমি কি বলো নি মাইলেজ? 
কিছুটা আড়ষ্ট স্বরে জিনা বললো, হ্যা। বলেছিলাম। এখন মনে পড়েছে কিন্তু সে তো গতকাল নয় কিছুদিন আগে হবে হয়তো। 
ওবিরিক বললো, যাইহোক, তুমি তো আমার সেই বন্ধু। 
বেশ অবাক হলেও জিনা মনে মনে অনেক খুশিই হলো যে এই একাকী জীবনে বিশেষ করে প্যানারোমায় একজন বন্ধু পাওয়া গিয়েছে। কথা বলা ও সময় কাটানোর একজন সংগী পাওয়া গেল। 
প্রকৃতপক্ষে প্যানারোমার অতিপ্রাকৃতিক পরিবেশ এবং আঠারো হাজার জীববৈচিত্রের সম্মিলিত প্রয়াসে তারা ওবিরিককে সৃষ্টি করেছে তাদের সম্মিলিত মাইন্ড পাওয়ারের ক্রমাগত প্রচেষ্টায়। কারন মাইক্রোফরেস্টের সম্মিলিত অতি প্রাকৃতিক শক্তিরা জিনাকে এই ওবিরিকে উপহার দিয়েছে, প্যানারোমায় তাদের অথিতিকে। 
হায়, জিনা মাইলেজ!

প্যানারোমা তাদের অতিপ্রাকৃতিক শক্তি ও সম্মিলিত মাইন্ড ফোর্সের প্রচেষ্টায় ওবিরিককে সৃষ্টি করেছে শুন্য থেকে, তাদের মাইন্ড ও ন্যাচারাল পাওয়ার থেকে, যে বিশ্বাস করে সে অন্যসব স্বাপ্নিকদের মতোই সৃষ্টি এবং গতদিনেই সে জাগরনে মাইলেজকে বন্ধু হিসেবে পেয়েছে। 
ওবিরিক! এই সুবিশাল প্যানারোমায় অতি প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রেমময় সৃষ্টি মাইলেজের জন্য। 
মাইলেজ! জিনার নতুন নাম। প্যানারোমা তাকে এই নতুন নাম দিয়েছে। 
জিনার মস্তিস্কের ভেতরে নিউরনের গভীরে কেউ তাকে ডাকলো, মাইলেজ। 
নিঃশব্দে মাইলেজ উত্তর দেয়, কে কে? সে অবাক হয়। 
তার মস্তিস্কের ভেতরে উত্তর আসে, আমি প্যানারোমা মাইলেজ। ওবিরিককে ভালবেসো, তাকে দেখে রেখো। ওবিরিকের প্রাথমিক সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দায়িত্ব তোমার মাইলেজ। প্যানারোমায় তুমি অথিতি এবং প্যানারোমা তোমাদের প্রটেকশন দিবে এবং সব প্রয়োজন পুরন করবে। ওবিরিক তোমার ভালবাসা, তোমার জন্যই তাকে তৈরী করা হয়েছে। এতে আছে তোমাদের উভয়ের কল্যান এবং প্যানারোমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা। 

মাইলেজ তার হাত দুটি বাড়িয়ে দিলো ওবিরিকের দিকে। ওবিরিকের ঠোটে চুম্বন করে বললো, এসো আমার সাথে ওবিরিক। তোমাকে আমি ভালবাসা শেখাবো। তুমি কি জানো ভালোবাসা কি? 
প্যানারোমার আকাশে নক্ষত্রগুলির দিকে তাকিয়ে ওবিরিক ভাবতে থাকে এবং প্রশ্ন করে, ভালোবাসা! ভালোবাসা কি মাইলেজ?  

১৪: 
দায়েসগন! সুবিশাল বিস্তৃত প্যানারোমায় যাদের বসবাস। সভ্য ড্রিম ইউনিভার্সের স্বাপ্নিকরা কখনো দায়েসদের সম্পর্কে জানতে পারে নি, নামও শুনেনি। কিন্তু মাইলেজ আর ওবিরিক প্যানারোমায় এসে তাদের অস্তিত্ব খুজে পেল এবং কিছু দায়েসদের সাথে তাদের সাক্ষাত ও কথপোকথন হলো। দায়েসরা অদৃশ্য। তারা স্বেচ্ছায় দৃশ্যমান না হলে তাদের ধরা, ছোয়া কিংবা দেখা যায় না। প্যানারোমা হচ্ছে দায়েস জাতির আবাস ভুমি আর তাই হয়তো এখানে অন্যকোন সভ্যতা গড়ে ওঠে নি। দায়েসজাতির প্রধানকে বলা হয় এলডার। এলডার দায়েস। কিন্তু আদতে এলডার দায়েস বয়স্ক হতে হবে এমনটা নয়। তবে সাধারনত একজন এলডার দায়েস হতে হতে সে যথেষ্ট বয়স্ক হয়ে যায়। দায়েসদের মৃত্যু নেই। তারা অমর। দায়েসগন কখনো বৃদ্ধ হয় না! বয়সের ভারে ন্যুজ হয় না! দুঃখ-শোক কখনো তাদের স্পর্শ করে না! তারা সর্বত্র বিচরন করতে পারে! তারা তাদের ইচ্ছেমত সবকিছু করতে পারে প্যানারোমায়। প্যানারোমায় তারা সবকিছুর উপরে রাজত্ব করে! তারা চিরদিনই অমর হয়ে থাকবে! চির যৌবনা হয়ে থাকবে। পুর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিন, আসমান-জমিন সর্বক্ষেত্রে প্যানারোমা তাদের বিচরন! প্যানারোমা দায়েসদের আবাসভুমি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া মাইক্রো ফরস্টে মাইলেজ ও ওবিরিকের বসবাসউপযোগি একটি জাগরনের শহর নির্মান করে দিয়েছে ওরা। এই শহরের নাম দিয়েছে স্বপ্ন শহর। স্বপ্নের শহর। ড্রিম সিটি!  

১৫: 
দায়েসগন! ড্রিম ইউনিভার্সের সবচেয়ে আশ্চার্যতম ক্রিয়েশনের একটি। ওবিরিক ও মাইলেজের জীবনবৈচিত্র দায়েসদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। ওরা প্যানারোমাতে অন্যকারো উপস্থিতি কিংবা অস্তিত্ব বিশেষ করে এভাবে আশাই করে নি। কিন্তু দায়েসদের সাথে ওদের দেখা হয়েছে। তারপর অনেকদিন, অনেকবছর কেটে গিয়েছে কিন্তু দায়েসদের সাথে ওদের আর দেখা হয়নি কিন্তু ওরা আছে অদৃশ্য, ওদের সবকিছুর উপরে নিয়মিত দায়েসগন পর্যালোচনা করছে। এভাবে কেটে গিয়েছে বহুবছর। ওবিরিক এখন পরিপুর্ন যুবক। ড্রিমসিটি ভরপুর হয়ে আছে জাগরন সভ্যতার সব আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তিময় ছোয়ায়। বিশাল বিশাল ইমারত-অট্রালিকা আর নয়াভিরাম প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্য স্বপ্নের শহরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কিন্তু এই শহরের বাসিন্দা শুধু ওরা দুজন - ওবিরিক ও মাইলেজ। দায়েসদের সাথে ও আর সাক্ষাত হয়নি বিগত একহাজার বছরে কিন্তু দায়েসদের বার্তা ওরা গ্রহন করে থাকে। দায়েসদের সাথে কথা হয় প্রায়শই, মাঝে-মাঝে। 
ওবিরিক ও মাইলেজ হাতধরে হাটছে ক্রংক্রিটের রাস্তার উপর দিয়ে। রাস্তার দুপাশে ইট ও কাঠ দিয়ে দায়েসদের তৈরী করে দেওয়া ভাস্কর্যগুলি ওরা দেখছে। মাইলেজের স্তনদ্বয়ের উপরে এক টুকরো সাদা কাপড়ের ফালি আর কোমরের নিম্নাংশে লাল রংয়ের স্কাট এবং ওবিরিকের শরীরে চাপানো লম্বা একটি আলখাল্লা, কিং স্যুট!
এক টুকরো দমকা বাতাস ওদের শরীরের উপরে আছড়ে পড়লো। কিছুটা হিম, কিছুটা লুহাওয়া মাইলেজের উন্মুক্ত বুকে শিহরন জাগিয়ে তুললো আর ওবিরিকের পাতলা কাপড়ের আলখাল্লাকে দোলা দিয়ে গেল। সে বাতাস আবার ফিসফিস করে ওদের কানের কাছে ভাষার সঞ্চারন করলো। বাতাসের প্রবাহ ফিসফিস শব্দে অর্থবোধক ভাষার সৃষ্টি করলো যে ভাষা শুধু ওরাই বুঝতে পারে। 
ওবিরিক ও মাইলেজ। তোমরা কেমন আছো? 
সে বাতাসের প্রবাহ আর ফিসফিস শব্দ ওদের শিহরিত ও আবেগাপ্লুত করে তুললো। বাতাসের ভাষা তাদের বন্ধুত্বের কথা স্মরন করিয়ে দিলো দায়েসদের সাথে। 
হাই এলডার! ওদের মুখ থেকে অস্ফুত স্বরে বেরিয়ে এলো। আমরা খুশি হয়েছি। আমরা সুখি হাই এলডার। আপনাদের দেয়া বন্ধুত্বের এই উপহারের কোন বিনিময় আমরা দিতে অক্ষম কিন্তু আমাদের কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের সীমা নেই। 
বাতাসের প্রবাহ ফিসফিস হয়ে শো শো শব্দে ভাষার সঞ্চারন করলো; আজকে সন্ধ্যের পরে ডিন সমুদ্রের তীরে এসো। অনেক সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে তোমাদের সাথে আজ রাত্রি উপভোগ করবো। তোমাদের অনেক ভাল লাগবে। 
ওবিরিক বললো; ডিন সমুদ্র! সে তো অনেক দুরে! এটার কথা আমরা পড়েছি ড্রিম লাইব্রেরির বইগুলোতে। সেখানে আমরা কি করে যেতে পারি। আমাদের হালকা পালকের ডানা অতদুর আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারবে না, হাই এলডার! 
এলডার দায়েস বললেন; এলডার প্রাসাদের কর্মীরা এসে তোমাদের নিয়ে যাবে।

ডিন সমুদ্র! প্যানারোমার সবচেয়ে বড় এবং গভীর সমুদ্র। আজকে রাতে আর কোন বাতাসের সাথে ওবিরিক ও মাইলেজের কথপোকথন নয়। সরাসরি সাক্ষাত হবে ওদের দায়েসদের সাথে। বিশেষ করে এলডার দায়েস যাকে হাই এলডার সম্বোধন করা হয় তিনি নিজে দেখা দিবেন প্রায় একহাজার বছর পরে। আর প্যানারোমার সমস্ত দায়েসগন বাতাসের প্রবাহের মাঝে দেখতে পাবে ও শুনতে পাবে এলডার দায়েস এবং মাইলেজ ও ওবিরিকের সাক্ষাতকার। 

এ হাওয়া! এ বাতাস। সৃষ্টিত্বত্তের সবচেয়ে শক্তিশালী তিন প্রাকৃতিক সৃষ্টির একটি। 

আগুন! পানি! বাতাস। 

দায়েসগন এই বাতাসের দ্বারাই সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ধরা যায় না, ছোয়া যায় না। শুধু অনুভব করা যায়। 

এলডার দায়েস বললেন; তোমাদের একটি সুসংবাদ দিতে চাই ওবিরিক ও মাইলেজ। 
হাই এলডার! সমস্বরে ওরা উত্তর দিলো। 
এলডার বললেন; তোমাদের সাথে এই বন্ধুত্বকে আমি চিরস্থায়ী বন্ধনে আবদ্ধ করে দিতে চাই। 
অতঃপর তিনি বাতাসের মাঝে একজন কিশোর দায়েসের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে বললেন; সে এলডার দায়েস গোত্রের সন্তান। আর তোমাদের দুটো মেয়ে সন্তান হবে এবং তোমাদের কনিষ্ঠ মেয়ের সাথে দায়েস গোত্রের এই ছেলের বিয়ে হবে। এবং তারা নতুন একটি প্রজম্ন, নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতা গড়ে তুলবে। আর তোমাদের বড় মেয়ের মেয়ে সন্তানের জন্যও আছে আরো সুন্দর কিছু পরিকল্পনা। 
ওবিরিক ও মাইলেজ বললো; আমরা খুব আনন্দিত, মহামান্য এলডার! 


{চলবে} .........

“কোহেকাফ নগর ডিভাইন এলায়েন্স সিরিজ” লেখকঃ ড. রাইখ হাতাশি। 
“AudaCity Divine Alliance Series” by Dr. Raych Hatashe