একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না


১৭ জুলাই ২০১৭ সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দোতলা বাস নিয়ে উল্টো পথে যেতে না দেওয়ায় রাজধানীর বাংলামোটরে বাংলাদেশ পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট কায়সার হামিদকে মারধর করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। 

উক্ত দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করা হয় তবে তারা হয়তো হেসে হেসে এর দায় উড়িয়ে দিবেন। অবশ্যই একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভাল এজ্যুকেশন সার্ভিস দেবার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভাল মানুষ হিসেবেও তৈরী করবেন। আমি খুব সংকটে কিছু বিষয় তুলে ধরছি। প্রথমেই বলে রাখছি গতকাল পুলিশএর উপরে হামলার এই জাতীয় ঘটনাটি নতুন নয়, বাংলাদেশে অসংখ্যবার এমটি ঘটেছে। সুতরাং ভাল এজ্যুকেশন সার্ভিস দেবার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি নিম্নোক্ত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন প্রকার সেমিনার, কর্মশালা এবং আলোচনার আয়োজন করতে পারে এবং সমস্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবনে এই জাতীয় সেমিনার, কর্মশালা এবং আলোচনায় অংশগ্রহন নিশ্চিত হবে।
আমার আজকের সেশসটির শিরোনাম হচ্ছে “একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না”। দুর্ঘটনা বলতে শুধু রাস্তাঘাটে, আকাশে, নদীপথে কিংবা আগুন-পানি-বাতাসের দুর্ঘটনা নয়। কেরিয়ার কিংবা পেশাগত ও চাকরী জীবনে দুর্ঘটনা আসতে পারে। দুর্ঘটনা হতে পারে ব্যবসায়িক কিংবা শিক্ষা জীবনেও। কিন্তু আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে সেই দুর্ঘটনার মাত্রা যেন এমন বড় কিংবা ভয়াবহ না হয় যা আর কখনোই শুধরে নেয়া যাবে না এবং সেটা বাকী জীবনকে ধ্বংস করে দিবে। বাকী জীবন বেচে থাকা কিংবা না থাকার মাঝে কোন প্রভেদ থাকবে না। শুধু ব্যাক্তি জীবন নয়, বরঞ্চ আপনার এমন দুর্ঘটনা আপনার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকেও যন্ত্রনায় ভরিয়ে তুলতে পারে। 

(১) একটি বই মানে সেই বইটিতে লেখা থাকবে, একটি সংবাদপত্র মানে সেই সংবাদপত্রে সংবাদ থাকবে, মুদ্রার এপিঠ থাকলে তবে ওপিঠও থাকবে। সুতরাং একটি অপরাধ সংগঠিত হলে সেই অপরাধের শাস্তিও থাকবে। এটা ইনবিল্ট একটি সিস্টেম। শুধু একদিকের অস্তিত্ব হবে এমনটি হয় না। সতরাং কেউ কোন অপরাধ করে ফেলেছেন তবে সেই অপরাধের শাস্তি পাবার জন্যও শাররীক ও মানসিক ভাবে তৈরী হয়ে যান। এবং সেটা যদি ছোট অপরাধ হয় তবে শাস্তিও কম হবে এবং ভবিষ্যতে ভেবে চিন্তে চলুন। 

প্রশ্ন হতে পারে, আদালত বর্হিভুত শাস্তি কি হতে পারে?
এখনকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনেক উন্নত। সাধারনত বিভিন্ন সামাজিক সর্ম্পকের উয়েবসাইটগুলির মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই কত সহজে সফটওয়্যারগুলি মুখাবয় স্ক্যান করে সঠিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে দেয়। কিংবা সাধারন আপনার বহনকারী মোবাইল ফোনটি ট্র্যাক করেই আপনার লোকেশন দেখা যাচ্ছে প্রতিটি মুহুর্তে। 

(২) তাহলে প্রশ্ন হতে পারে, পুলিশ কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা এই জাতীয় অপরাধীদের নামে ফাইল ইস্যু করে থাকে যা তাদের স্থায়ী বসতবাড়ী সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনে সংরক্ষিত থাকে এবং প্রতিনিয়ত অপরাধ সংঘটনকারী ব্যাক্তির বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ট থানা ও গোয়েন্দাসংস্থার অফিসগুলিতে পাঠানো হয়ে থাকে। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ভাষায় এক বলা হয় “সার্ভিস রেকর্ড বুক (এসআরবি)” যাতে একজন ব্যাক্তির চাকরীতে যোগদানের পর থেকে প্রতিটি ভাল ও খারাপ কাজের খতিয়ান সংরক্ষন করা হয়ে থাকে, এবং এই এর ভিত্তিতে তার প্রেমোশন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নির্ভর করে থাকে। চাকরী জীবনে প্রত্যেকেই দু/একবার তাদের সার্ভিস রেকর্ড বুক (এসআরবি)টি দেখার সুযোগ পেয়ে থাকেন হয়তো।

নেভাল সার্ভিস রেকর্ড বুক এর উদাহরন টেনেছি কারন যখন এই জাতীয় ছাত্র+অপরাদীদের নামে কোন প্রকার ওয়ারেন্ট রেকর্ড ইস্যু হয়ে যায় তখন সেই রেকর্ড তার বাকী জীবনে আর কখনোই পিছু ছাড়ে না। সেটা কোন না কোন ভাবে থেকেই যায় যা প্রভাব ফেলে তার ব্যাক্তি, চাকুরী, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে।

ভাল কোন কাজের ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়ে থাকে। সুতরাং ভাল এজ্যুকেশন সার্ভিস দেবার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি নিম্নোক্ত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন প্রকার সেমিনার, কর্মশালা এবং আলোচনার আয়োজন করতে পারে এবং সমস্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবনে এই জাতীয় সেমিনার, কর্মশালা এবং আলোচনায় অংশগ্রহন নিশ্চিত হবে।
---
হাসানুজ্জামান তালুকদার (হাতাশি)
ইন্টারন্যাশনাল কন্সালটেন্ট
ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্টেটেট কোর্ট (এনসিএসসি)

Comments